📄 আলি রা.-এর খেলাফতকাল, তাঁর বয়স ও কবরের স্থান
খেলাফতকাল : খলিফা ইবনে খাইয়াতের ভাষ্য-হজরত আলি রা.-এর খেলাফতকাল ছিল ৪ বছর ৯ মাস ৬ দিন। কেউ কেউ ৩ দিন বা ১৪ দিনও বলেছেন। ৪ বছর ৯ মাস ৩ দিনের বর্ণনাটি অধিক যুক্তিসঙ্গত মনে হয়। কেননা, ৩৫ হিজরির জিলহজ মাসের ১৮ তারিখে তিনি খেলাফতের বায়আত নেন এবং ৪০ হিজরির রমজান মাসের ২১ তারিখে তিনি শাহাদতবরণ করেন। ২২৭
আমিরুল মুমিমিন হজরত আলি রা.-কে হাসান, হুসাইন ও আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. গোসল দেন। তিনটি কাপড়ে তাঁকে কাফন পরানো হয়। তাতে কামিস ছিল না। হাসান রা. চার তাকবিরের সাথে জানাজার নামাজ পড়ান। সনদবিহীন এক বর্ণনামতে নয় তাকবিরের কথা বলা হয়। ২২৮
কবরের স্থান: আমিরুল মুমিমিন হজরত আলি রা.-এর কবর কোথায়-এ ব্যাপারে বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। আল্লামা ইবনুল জাওজি রাহ. এ-সংক্রান্ত কয়েকটি বর্ণনা উদ্ধৃত করার পর বলেছেন, এসব বর্ণনার মধ্যে কোনটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। ২২৯
এ ব্যাপারে যেসব বর্ণনা পাওয়া যায়, তা হচ্ছে-
* ফজর নামাজ থেকে ফেরার পূর্বে হাসান ইবনে আলি রা. আমিরুল মুমিমিন হজরত আলি রা.-কে কিন্দার সাথে লাগোয়া একটি মাঠের জামে মসজিদের কাছে দাফন করেন। ২৩০
* আরেক বর্ণনায় এসেছে; কুফার প্রশাসনিক কার্যালয়ের সাথে সংযুক্ত জামে মসজিদের পাশে রাতের বেলা আমিরুল মুমিমিন হজরত আলি রা.-কে দাফন করা হয় এবং তাঁর কবর ঢেকে রাখা হয়। ২৩১
* অন্য বর্ণনামতে, আমিরুল মুমিমিন হজরত আলি রা.-এর ছেলে হাসান রা. তাঁকে মদিনায় স্থানান্তর করে সেখানে দাফন করেন। ২৩২
* আরেকটি বর্ণনায় দেখা যায়, কুফার নাজাফ এলাকায় যে কবরকে তাঁর প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়, সেটাই তাঁর কবর। কিন্তু কতেক পূর্ববর্তী ওলামায়ে কেরাম; যেমন: কুফার বিচারপতি শুরাইক বিন আবদুল্লাহ নাখয়ি (মৃত: ১৭৮ হিজরি) এবং মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান হাজরামি (মৃত: ২৯৭ হিজরি) এই উক্তি অস্বীকার করেন। ২০০
বাস্তবতা হচ্ছে, নাজাফে আলি রা.-এর স্মৃতিস্মারকের অস্তিত্ব উদ্ভাবন করেছে আব্বাসি শাসনামলের রাফেজি প্রশাসক বনুবুইয়া। শিয়া রাফেজিরা চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে নিজেদের অভ্যেসমতে এটা নির্মাণ করে এবং প্রচারণা চালায়। অথচ প্রায় সকল বিশ্লেষক এ ব্যাপারে একমত যে, এটা আলি রা.- এর কবর নয়; বরং মুগিরা ইবনে শুবাহ রা.-এর কবর।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন,
'নাজাফে যে আলি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে, সে ব্যাপারে ইতিহাসবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সেটা আলি রা.-এর কবর নয়; বরং মুগিরা ইবনে শুবাহ রা.-এর কবর। কেউই বলেননি এটা আলি রা.-এর কবর। আজ থেকে তিন শতাব্দী পূর্বে আহলে বাইত এমনকি শিয়াদের প্রাধান্য সত্ত্বেও এবং কুফায় তাদের শাসন-ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও কেউই ওখানে জিয়ারতের ইচ্ছা পোষণ করেনি। তবে আলি স্মৃতিস্তম্ভটি হজরত আলি রা.-এর ইনতেকালের ৩০০ বছর পর অনারব শাসক বনুবুইয়ার শাসনামলে নির্মিত হয়। ২৩৪
অন্যত্র তিনি লিখেন—
'আলি স্মৃতিস্তম্ভের ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের অভিমত হচ্ছে, সেটা তার কবর নয়; বরং সেটা মুগিরা ইবনে শুবাহ রা.-এর কবর বলে কথিত আছে। আলি রা.-এর ইনতেকালের ৩০০ বছর পর অনারব শাসক বনুবুইয়ার শাসনামলে এর অস্তিত্ব দেখা যায়। ২৩৫
আলি রা.-এর শাহাদতের সময় তাঁর বয়স: শাহাদতের সময় তাঁর বয়স কত ছিল—এ ব্যাপারে বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। কেউ বলেছেন ৫৩ বছর, কারও মতে ৬৫ বছর, আবার কেউ কেউ ৬৩ বছর বলেও অভিমত পোষণ করেছেন। সর্বশেষ উক্তিটি অধিক বিশুদ্ধ। ২৩৬
টিকাঃ
২২৭. আততারিখ: ১৯৯; বুখারি প্রণীত আততারিখল কাবির: ১/৯৯ (সনদ বিশুদ্ধ)।
২২৮. তাবাকাতে ইবনে সাআদ : ৩/৩৭; আলমুনতাজাম: ৫/১৭৫; তাবাকাতে ইবনে সাআদ : ৩/৩৩৭; আলমুনতাজাম: ৫/১৭৫।
২২৯. আলমুনতাজাম: ৫/১৭৮।
২৩০. তাবাকাতে ইবনে সা’আদ: ৩/৩৮; আবদুল হামিদ প্রণীত খিলাফাতু আলি বিন আবি তালিব: ৪৪১।
২৩১. আলমুনতাজাম: ৫/১৭৭; জাহাবি প্রণীত তারিখুল ইসলাম আহদিল খুলাফাইর রাশিদিন: ৬৫৪।
২৩২. তারিখে বাগদাদ: ১/১৩৮।
২০০. আবদুল হামিদ প্রণীত খিলাফাতু আলি বিন আবি তালিব: ৪৪১।
২৩৪.
২৩৫.
২৩৬.
📄 মুসলমানদের ওপর ভ্রান্ত ও বিকৃত ফেরকার কুপভাব
ইসলামি রাজ্যসমূহে ও মুসলিম সমাজে ভ্রান্ত ফেরকা ও বিকৃত দলের উদ্ভবের ফলে ওখানকার অধিবাসীদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়। ভ্রান্ত ফেরকাগুলো সেখানকার শান্তি-শৃঙ্খলাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করে মানুষের আকিদা-বিশ্বাসে। সেখানকার ভূখণ্ড ফিতনা-ফাসাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিষিয়ে তোলে। দীন থেকে বেরিয়ে যাওয়া খারেজিদের এই ছিল অবস্থা। আলি রা.-এর বিরুদ্ধে তারা বিদ্রোহ করেছে। তাঁকে কাফের বলেছে। একটু পূর্বেই গত হলো যে, এই দলটি আলি রা.-কে অতর্কিত শহিদ করে ফেলে। আবার এই হত্যাকাণ্ডও তারা এই বিশ্বাস নিয়ে ঘটিয়েছে যে, তারা এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে। অথচ এটা ছিল সম্পূর্ণরূপে তাদের মনগড়া মতবাদ ও শয়তানের আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। এর বিপরীতে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ ছিল না।
যাইহোক, পূর্বেকার আলোচনা দ্বারা বিষয়টি আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আলি রা.-এর শাহাদতের সবচে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল খারেজিরা। আমরা তাদের চিন্তাধারা ও মন-মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা পেয়ে গেছি। সুতরাং তাদের থেকে সাবধান হওয়া আমাদের গোটা মুসলিম জাতির উচিত। তাদের ভ্রান্ত চিন্তাধারা ও অসার মতাদর্শ খণ্ডনে ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামের পথে আহ্বানকারীদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক; যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। সুন্নাতের আলো উদ্ভাসিত হয়। বেদআতের মশাল নিভে যায়। খুবই উত্তম ও যথাযথ পন্থায় তাদের বিতাড়নের পাশাপাশি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাস সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করা এবং বেদআত ও বেদআতিদের শিকড় উপড়ে ফেলা দ্বারা মুসলিম সমাজের সভ্যতা ও সমৃদ্ধি আসবে। উম্মতের নানা প্রভেদকে একতার ছায়াতলে নিয়ে আসাও জরুরি। ইসলামের সুদীর্ঘ ইতিহাস সম্পর্কে যারা অবগত, তারা ভালো করে জানেন—যে শাসকশ্রেণিই সুন্নাতের ওপর অবিচল ছিলেন, কেবল তাঁরাই মুসলমানদের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে ঐক্যের প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে জিহাদ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। শিষ্টের লালন ও দুষ্টের দমন কার্যকর হয়েছে। প্রাচীন ও আধুনিক—সর্বযুগে তাঁদের মাধ্যমেই ইসলামের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পক্ষান্তরে যে রাজ্যব্যবস্থা বেদআতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, সেখানে মতানৈক্য, দ্বন্দ্ব, বিশৃঙ্খলা, হাঙ্গামা, অন্যায়-অবিচার ও বেদআতের পরিবেশই বিরাজ করেছে। মুসলমানদের ঐক্য টুকরো টুকরো হয়েছে। দ্রুতই তারা হারিয়ে গেছে ধ্বংসের অতলে। তাদের যুগ ফুরিয়ে গেছে।২৩৭
টিকাঃ
২৩৭. আবদুল হামিদ আসসাহিবানি প্রণীত সিয়ারুশ শুহাদা দুরুসুন ওয়া ইবার: ৭৭।
📄 হিংস্র খারেজিদের মনে প্রকৃত মুমিনদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ
হিংসুটে খারেজিদের মনে সত্যিকার মুমিনদের বিরুদ্ধে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও হিংসা কী পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল, তার বড় একটি প্রমাণ আবদুর রহমান ইবনে মুলজিমের ওই উক্তি: যেটা সে তার তরবারি সম্পর্কে বলেছিল। সে বলেছে, 'আমি এটা ১ হাজার দিরহাম দিয়ে ক্রয় করেছি। আরও ১ হাজার দিরহাম ব্যয় করে এটাকে বিষমিশ্রিত করেছি। গোটা শহরবাসীর ওপর যদি এর একটি আঘাত পতিত হয়, তবে কেউই প্রাণে বাঁচতে পারত না। '২৩৮
নিঃসন্দেহে তার এই উক্তি তাদের অন্তরে গেঁথে থাকা বিদ্বেষ সম্পর্কে আমাদের স্পষ্টভাবে জানান দেয়। এমন হিংসা-বিদ্বেষ তারা কেবল গোটা মুসলিম জাতির বিরুদ্ধেই নয়; বরং স্বয়ং আলি বিন আবি তালিব রা.-এর মতো ইসলামের মহান ব্যক্তির বিরুদ্ধেও লালন করত। অথচ আলি রা. ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও কোমল স্বভাবের মানুষ।
আমার ভাই, আল্লাহ তোমাদের হেফাজত করুন। এটাও একটু চিন্তা করে দেখুন, কীভাবে এই ভ্রান্ত মতবাদ এবং বিকৃত চিন্তা-চেতনা লালনকারীরা মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মুমিনদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, আর পৌত্তলিকদের ছেড়ে দিয়েছে। ২৩৯
টিকাঃ
২৩৮. তারিখে তাবারি: ৬/৬২।
২৩৯. আবদুল হামিদ আসসাহিবানি প্রণীত সিয়ারুশ শুহাদা দুরুসুন ওয়া ইবার : ৭৮।
📄 মন্দ পরিস্থিতির প্রভাব
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মন্দ পরিবেশ তার অভ্যন্তরে নিঃশ্বাস নেওয়া লোকদেরও গ্রাস করে। যদিও ওই পরিবেশে কিছু নীতিবান লোক থাক না কেন। আপনারা দেখে এসেছেন-ইবনে মুলজিম যখন শাবিব ইবনে বাজরার কাছে গিয়ে বলে, 'তুমি কি দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করতে চাও?' সে বলল, 'কীভাবে?' ইবনে মুলজিম বলল, 'আলিকে হত্যা করতে হবে।' শাবিব বলল, 'তোমার মা তোমাকে হাবিয়ে ফেলুক! তুমি তা এক বীভৎস কাজের পরিকল্পনা নিয়ে এসেছ। আচ্ছা, কীভাবে তাকে হত্যা করবে-বলো।' ইবনে মুলজিম বলল, 'আমি মসজিদে লুকিয়ে থাকব। তিনি যখন ফজরের নামাজে আসবেন তখন তাকে আঘাত হানব ও হত্যা করব। এরপর যদি বেঁচে যাই তাহলে তো অন্তরে তৃপ্তিবোধ করলাম ও প্রতিশোধ গ্রহণে সক্ষম হলাম। আর যদি মারা পড়ি তাহলে আল্লাহর কাছে যে প্রতিদান পাব, তা দুনিয়ার থেকে বহুগুণে উত্তম।' শাবিব বলল, 'তোমার সর্বনাশ হোক! যদি আলি ব্যতীত অন্য কেউ হতো তাহলে আমার কাছে সহজ' লাগত। তুমি তো জানো যে, আলি রা. হচ্ছেন প্রথম সময়ে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তাঁকে হত্যা করতে আমি অন্তরের সাড়া পাচ্ছি না।'
ইবন মুলজিম বলল, 'তোমার কি জানা নেই যে, নাহরাওয়ানে আলি আমাদের লোকদের হত্যা করেছেন?' শাবিব বলল, 'হ্যাঁ, তা করেছেন।' ইবনে মুলজিম বলল, 'তাহলে আমাদের যেসব ভাইদের তিনি হত্যা করেছেন তার পরিবর্তে আমরা তাকে হত্যা করব।' কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর শাবিব ইবনে মুলজিমের প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করল। ২৪০
হে আমার ভাই, আল্লাহ তোমাদের রক্ষা করুন। একটু চিন্তা করে দেখুন, ভ্রান্ত মতবাদ ও বিকৃত চিন্তাধারার ধারকেরা কীভাবে তাদের সঙ্গে চলাফেরাকারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। ইসলামে আলি রা.-এর ত্যাগ- তিতিক্ষা ও ইসলামে তাঁর অগ্রগামিতার মতো মর্যাদা ও বাস্তব কীর্তিমালা প্রত্যক্ষ সত্ত্বেও শাবিব ইবনে মুলজিমকে সঙ্গ দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। সে সন্তুষ্ট হতে না পারলে তাকে নাহরাওয়ানের যুদ্ধে নিহতদের দোহাই দিয়ে আলি রা.-এর বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেয়। একসময় তার ভেতর জেগে ওঠে প্রতিশোধস্পৃহা। শেষে তার উদ্দেশ্য সাধন হয়। শাবিব তার কথা মেনে নেয়। অথচ নাহরাওয়ানের যুদ্ধে নিহত খারেজিদের হত্যা করা কিছুতেই ভুল ছিল না; বরং তা ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। পরে শাবিব কী পেল? কেবল চিন্তার বিকৃতি, বদনামি আর অশুভ পরিণতি।
এই ঘটনা প্রত্যেক মুসলমানকে এই শিক্ষা দিয়ে থাকে যে, যারাই এ ধরনের বিকৃত চিন্তা, অসার খেয়াল ও ভ্রষ্ট আকিদা লালন করে তাকে বয়কট করা। তার সান্নিধ্য ত্যাগ করা। ওইসব হক্কানি ওলামায়ে কেরামের সান্নিধ্যে থাকা চাই; যারা হক সম্পর্কে সম্যক অবগত। এ লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের নির্দেশনা দিচ্ছেন। সুতরাং যে মুসলমান এই সরল পথে সন্তুষ্ট হতে পারবে না এবং ভ্রান্ত বিশ্বাসীদের সাহচর্য গ্রহণ করবে; অতিসত্ত্বর সে তিরষ্কৃত হবে। লাঞ্ছনার মুখে পড়বে। ২৪১ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا يَا وَيْلَتَى لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذُ فُلَانًا خَلِيلًا لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنسَانِ خَذُولا
'জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রাসুলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দুর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোঁকা দেয়।' -সূরা ফুরকান : আয়াত ২৯।
এই ছিল রব্বানি আলেম, আল্লাহর ভয়ে জীবন উৎসর্গকারী, তওবায় ডুবে থাকা হেদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা আলি বিন আবি তালিব রা.-এর শাহাদতের ঘটনা হতে প্রাপ্ত কিছু শিক্ষা, তাৎপর্য ও উপদেশ। যিনি আমাদের জন্য নেতৃত্বের একটি বরকতমণ্ডিত রাজপথ প্রতিষ্ঠা করে আমাদের সরল পথে তুলে এনেছেন। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি আমি ১১ শাওয়াল ১৪৩৫ হিজরি (৭ আগস্ট ২০১৪ খ্রি.) বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে লেখা শেষ করি। পরিশেষে গ্রন্থ রচনার কাজ শেষে আল্লাহর কাছে দুআ করি, আল্লাহ যেন আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কবুল করেন। এর দ্বারা তাঁর বান্দাদের উপকৃত করেন। নিজ দয়া- অনুগ্রহে এতে বরকত দান করেন।
مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكُ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ﴾
'আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকে রাখার কেউ নেই। আর তিনি যা আটকে রাখেন, তারপর তা ছাড়াবার কেউ নেই। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' -সুরা ফাতির: আয়াত ২।
পরম করুণাময় আল্লাহর দয়া-দাক্ষিণ্যতার প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে কম্পিত মনে দুআর হাত তুলছি। তিনিই অনুগ্রহকারী, সম্মানদাতা, সাহায্যকারী ও সুযোগদাতা। সর্বাবস্থায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তাঁর আসমাউল হুসনা ও উন্নত গুণাবলির সাহায্যে নিবেদন করে বলছি-'হে আল্লাহ, এই কাজ দ্বারা আমাকে আপনার সন্তুষ্টি সন্ধানকারী বানিয়ে দিন। আপনার বান্দাদের জন্য এটাকে উপকারী সাব্যস্ত করুন। প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে আমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এটাকে আমার নেকির পাল্লায় রাখুন। ক্ষুদ্র এই প্রচেষ্টা সম্পন্ন করার কাজে আমার যেসব প্রিয়ভাজন সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।'
পাঠক ভাইদের কাছেও আমার এই অনুরোধ থাকবে, দুআর সময় আপনাদের এই ভাইয়ের কথা ভুলবেন না।
﴿رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّلِحِينَ ﴾
'হে আমার রব, তুমি আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছ, তার জন্য আমাকে তোমার শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দাও। আর আমি যাতে এমন সৎকাজ করতে পারি, যা তুমি পছন্দ করো। আর তোমার অনুগ্রহে তুমি আমাকে তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো।' -সুরা নামাল: আয়াত ১৯।
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ و أُخِر دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
মহান রবের মাগফিরাত, রহমত ও সন্তুষ্টি কামনায়-
আলি মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ আসসাল্লাবি
টিকাঃ
২৪০. তারিখে তাবারি: ৬/৬২।
২৪১. আবদুল হামিদ আসসাহিবানি প্রণীত সিয়ারুশ শুহাদা দুরুসুন ওয়া ইবার: ৭৯।