📘 খারেজী উৎপত্তি চিন্তাধারা ও ক্রমবিকাশ > 📄 অন্যের ওপর বাড়াবাড়ি ও উগ্রপন্থা

📄 অন্যের ওপর বাড়াবাড়ি ও উগ্রপন্থা


বর্তমান সময়ে উগ্রপন্থার একটি নিদর্শন হচ্ছে, অহেতুক অন্যের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এটা এতটাই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেন অন্যের ব্যাপারে কঠোরতা ও কড়াকড়িই প্রত্যাশিত; হৃদতা-নম্রতা নয়। কতেক যুবকের ভেতর কঠোরতা ও উগ্রপন্থার প্রতি ঝোঁক একধরনের অভ্যাস হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। কেবল কথা নয়, কাজেও তারা এমনটি দেখিয়ে যাচ্ছে। ফলে রক্ত ঝরছে নিরপরাধ মানুষের। ধ্বংস হচ্ছে জনবসতি। এর মন্দ পরিণতি কেবল উগ্রপন্থীদেরই নয়; বরং গোটা উম্মতকেই পোহাতে হচ্ছে। সুতরাং এটা বেশ ভাবনার বিষয় যে, যুবকেরা কোথা হতে এবং কেন এই উগ্রপন্থার আশ্রয় নিল? পরিস্থিতি ও পর্যবেক্ষণ দ্বারা অনুমিত হচ্ছে, এর পেছনে বেশ কিছু মৌলিক ও তাৎপর্যবহ নিয়ামক শক্তি কাজ করছে। সংক্ষেপে তা এভাবে বলা যায়:
**পরীক্ষা ও দুর্দশা**
দীনের দাওয়াতে নিবেদিতপ্রাণ যুবকদের উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার একটি কারণ হচ্ছে, এ পথে তাদের নানা ধরনের বিপদ ও পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক দুঃখ-কষ্ট তারা সহ্য করছে। প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা উগ্রপন্থা দ্বারা এর জবাব দিচ্ছে। একপর্যায়ে এটাই তাদের আরেক স্বভাবে পরিণত হয়ে যায়।
**দাওয়াত ও তাবলিগের মূলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞতা**
দাওয়াত ও তাবলিগ দ্বারা আমার উদ্দেশ্য—সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা। এটা গোটা উম্মতের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। সুতরাং যারা এ পদে অধিষ্টিত তাঁদের দূরদৃষ্টি ও ফিকহ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে; যাতে তাঁরা সহজে উম্মতের স্বার্থ সামনে রাখতে পারে এবং মন্দ প্রবণতা রুখতে পারে। এ ছাড়া আরও কিছু বিষয় তাঁদের জেনে রাখা আবশ্যক। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে, এই দায়িত্ব কখনো অন্তর দ্বারা, কখনো মুখ দ্বারা, কখনো মুখ ও হাত দ্বারা পালন করা ওয়াজিব। এই জায়গাটায় অনেকে ভুল করে বসে। অসহিষ্ণুতা, অজ্ঞতা ও মূর্খতার কারণে কেবল হাত বা মুখ দ্বারা এই দায়িত্ব পালন করতে চায়। কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়—এটা সে দেখে না। এখন কোনটা পালনযোগ্য, কোনটা নয়—এসবের সে ধার ধারে না। ব্যস, এ পথে সে নিজের জবান চালায় এবং হাত চালায়, আর বিশ্বাস করে—সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করছে। অথচ সে আনুগত্য করছে না; বরং শরিয়তের সীমারেখা ভেঙে দিচ্ছে।১৬৭
অনুরূপভাবে যাকে উদ্দেশ করে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তার অবস্থা ও গ্রহণক্ষমতার প্রতিও লক্ষ রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে যাঁরা কাজ করে থাকেন তাদের প্রতি আমার পরামর্শ—সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের জন্য 'সিরাতুল মুতাকিম' তথা ভারসাম্যপূর্ণ সঠিক-সরল পথ গ্রহণ করবেন। চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌছার এটাই সবচে নিকটতম পন্থা। তদ্রূপ এ পথে নম্রতা ও কোমলতা অবলম্বন, সহিষ্ণু মনোভাব ও বিপদে ধৈর্যধারণও আবশ্যক। এ কাজের দায়িত্বশীলগণ যদি ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু না হন, তবে গড়ার চেয়ে ভাঙার প্রবণতাই সৃষ্টি হবে বেশি। মোটকথা, এ কাজে তিনটি বিষয় অতীব গুরুত্বপূর্ণ। যথা: ইলম, নম্রতা ও ধৈর্যশীলতা। অর্থাৎ, দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পূর্বে সহিষ্ণুতা, দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পর নম্রতা এবং ময়দানে অবতরণের পর তাতে ধৈর্যধারণ।
কাজি আবু ইয়ালা রাহ. বলেন, 'সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ তথা আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ ওই ব্যক্তি পালন করবে, যে বুঝতে পারে যে, আমি কী বলছি এবং কী কাজ থেকে বারণ করা হচ্ছে—সেটাও আমি জানি। '১৬৮
এই হচ্ছে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ-সংক্রান্ত কিছু জ্ঞাতব্য বিষয়। এসব বিষয় জানা না-থাকার কারণে এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এসবের তোয়াক্কা না করার ফলে মানুষ উগ্রপন্থা ও বাড়াবাড়ির পথে এগিয়ে যায়।
আমাদের কতেক যুবক দাওয়াত, ওয়াজ ও তাবলিগের ময়দানে মানুষকে আত্মশুদ্ধির কথা বলতে গিয়ে এবং শরিয়তবিরোধী কাজ থেকে বাধা দিতে গিয়ে বাড়াবাড়ি ও কঠোরতা অবলম্বন করে থাকে। তারা মনে করে কঠোরতাই মন্দ কাজ উপড়ে ফেলবে; ফলে দীনের কাজ গতিশীল হবে। তাদের দৃষ্টি হতে কোমলপন্থা অদৃশ্য হয়ে আছে। অথচ এটা ছিল এই সফরের মূল পাথেয়। এর সমুদয় পথ যখন রুদ্ধ হয়ে যাবে, কেবল তখনই দ্বিতীয় পন্থা হাতে নেওয়া যেতে পারে। কেননা, এই নীতি বেশ কার্যকর ও প্রভাবক।
কঠোরতা দ্বারা সাধারণত ঘৃণা জন্ম নেয়। প্রতিপক্ষকে ক্রুদ্ধ করে তোলে। আশ্চর্যের বিষয়; উগ্র চিন্তা লালনকারী যুবকেরা এটারই পার্থক্য করতে পারে না যে, কে ইলমের ভিত্তিতে আমাদের বিরোধিতা করছে, আর কে অজ্ঞতার ভিত্তিতে। কারা বেদআতের দিকে ডাকছে, আর কারা ধোঁকার বশবর্তী হয়ে ভ্রষ্ট-পথে আত্মবলিদান দিচ্ছে! কোন পথ সর্বসম্মত আর কোন পথ মতানৈক্যপূর্ণ।
এসব অজ্ঞ যুবকদের মধ্যে একটি ঘৃণিত বিষয় এমনও দেখা যাচ্ছে যে, মাতা-পিতার সাথে তারা খুবই স্পর্ধার ও অপছন্দনীয় আচরণ করে। তাদের দৃষ্টিতে যেন এদের মান-মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি লক্ষ রাখার কোনো মানে নেই। না তাদের সে সাহায্য করে, না সেবা। তারা ভুলে যায়—অন্যদের তুলনায় এদের উভয়ের রয়েছে পৃথক পৃথক মান-মর্যাদা। যে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ তারা আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে, তা তাদেরই ফসল।
আমার আলোচনার উদ্দেশ্য এটা নয় যে, তাদের সন্তুষ্ট করার নিমিত্তে পাপে নিমজ্জিত হতে হবে, কিংবা ধর্মীয় কার্যক্রম ও দাওয়াতি কমসূচি থেকে হাত গুটিয়ে রাখতে হবে। না, কখনো নয়; বরং আমরা চাই তাঁদের সাথে যেন আমাদের আচরণ হয় শিষ্ট, শান্ত ও কোমল। সামাজিকভাবে তাঁদের প্রতি হৃদ্যতা যেন অটুট থাকে। তাঁদের অসঙ্গত কর্মকাণ্ডে ধৈর্যধারণ করতে হবে; তাঁরা যেন দায়ির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ পান। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهُنَّا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَى أَن تَشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تَطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعُ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
'আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু-বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরিক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহাবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করব।' -সুরা লুকমান: আয়াত ১৪-১৫।
আমি আরও দেখেছি, আমাদের কতেক মুবাল্লিগ ভাই এমন লোকদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন না যারা ভালোর পাশাপাশি কিছু মন্দ কাজেও লিপ্ত। তাদের মতে এসব লোক সেবা, উপকার ও কোনো প্রকার ভালো বিষয় পাবার উপযুক্ত নয়। আমাদের এই যুবক ভাইয়েরা শত্রুতা-মিত্রতার মর্ম ও তার সীমারেখা সম্পর্কে অবগত নন। ফলে বন্ধুত্ব ও মহব্বতের ওপর শত্রুতা ও ঘৃণা প্রাধান্য বিস্তার করে। তারা ভুলে যায়, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা ইসলামি দাওয়াতের অন্যতম উপাদান। কেননা, এটা বাস্তব ও দৃশ্যমান কাজ। কথার মোকাবিলায় এর দ্বারা অন্তর প্রভাবিত হয় বেশি।
তারা জানে না সামাজিক লেনদেন ও আচার-আচরণে আমাদের ক্রুদ্ধ স্বভাব ও অসহায়তাপূর্ণ ভূমিকা উদ্দীষ্ট ব্যক্তির হৃদয়ে বক্রতা ও হেয়ালিপনা সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে ইসলামের শত্রুরা এটা ব্যবহার করে তাদেরকে বিকৃত চিন্তার মানুষদের সারিতে ফেলে দেয়।
অনুরূপভাবে কঠোরতাপ্রবণ ও উগ্রপন্থীদের আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে, অতি উৎসাহী এসব যুবকের অদূরদর্শী কঠোরতা অনেক সময় কথার গণ্ডি অতিক্রম করে হত্যা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। তারা আলেমদের রক্তাক্ত করে। নিরপরাধ প্রহরীদের রক্ত ভাসায়। রক্তাক্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন অনেক নাগরিককে। শেষে এটা জেনে অবাক হওয়ার কিছু থাকে না যে, এরা কখনো কখনো পরস্পরই লড়াইয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ে। একে অন্যের বিরুদ্ধে মুখ ও হাত চালায়।
আমার এ কথায় আশ্চর্যের কিছু নেই। আপনি আল্লাহর কিতাব, রাসুলের সুন্নাত ও সালফে সালেহিনের মতাদর্শ পরিপন্থী ফেরকাগুলোর ইতিহাস অনুসন্ধান করলে এসব ঘটনা দেখতে পাবেন। এই পথভ্রষ্ট সম্প্রদায় পরস্পর রক্তারক্তিতে লিপ্ত। একে অন্যকে পথভ্রষ্ট বলে বেড়ায়। একে অন্যকে কাফের বলে। এসব দেখে আমাদের আশ্চর্য হবার কিছু নেই। আখেরি নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতাদর্শ ও হেদায়াত ছেড়ে দিলে এমনই পরিণতি হয়ে থাকে।
দাওয়াত, ওয়াজ ও তাবলিগ এবং মানুষের ব্যাপারে কঠোরতা ও কড়াকড়ি সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে পরিষ্কার। আল্লাহ তাআলা মুসা আ. ও তাঁর ভাই হারুন আ.-কে নির্দেশ দিয়ে বলেন,
وَاذْهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيْنَا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى 'তোমরা উভয়ে ফেরাউনের কাছে যাও, সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে। অতঃপর তোমরা তাকে নম্র-কথা বলো, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে।' -সুরা তাহা: আয়াত ৪৩-৪৪।
এই হচ্ছে ফেরাউনের মতো জালেমকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য মুসা আ. ও তাঁর ভাই হারুন আ.-এর প্রতি আমাদের প্রতিপালকের দিকনির্দেশনা। অর্থাৎ, হকের দাওয়াত দিতে হবে কোমলভাবে, নম্র ভাষায়। কেননা, এই নীতিতে দাওয়াত গ্রহণ করতে মন-মানসিকতা দ্রুত প্রস্তুত হয়। মনে আল্লাহর ভয় তৈরি হয়। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّذِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ) 'সমান নয় ভালো ও মন্দ। জবাবে তা-ই বলুন যা উৎকৃষ্ট। তখন দেখবেন আপনার সাথে যে ব্যক্তির শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু। এ চরিত্র তারাই লাভ করে, যারা সবর করে এবং এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয়, যারা অত্যন্ত ভাগ্যবান।' -সুরা হা-মিম: আয়াত ৩৪-৩৫।
দাওয়াত ও তাবলিগের সদস্যরা এ পথে দুঃখ-দুর্দশার মুখে পড়তে পারেন। বরং নিশ্চিতভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েও থাকেন। তাই নিজের ভেতর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার অনুশীলন জরুরি। আবেগের কাছে পরাজিত হওয়া যাবে না। মানুষকে ক্ষমা করতে শিখতে হবে। হজরত লুকমান আ. তাঁর ছেলেকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন, আল্লাহ তাআলা তা উল্লেখ করে বলেছেন,
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ
'হে বৎস, সালাত কায়েম করো, সৎকাজে আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ করো এবং বিপদাপদে সবর করো। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।' -সুরা লুকমান : আয়াত ১৭।
দাওয়াতি কাজের প্রত্যেক সদস্যের উচিত, তাঁরা যেন দাওয়াতের ক্ষেত্রে তার শ্রোতার আবেগ নিয়ে খেলা না করে এবং তাঁর ওপর কঠোরতা চাপিয়ে না দেয়। বরং সবধরনের অন্যায় কথাবার্তা ও গালমন্দ হতে দূরে থাকা চাই। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلاَ تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدُوًّا بِغَيْرِ عِلْمٍ 'তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না; যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে মন্দ বলবে।' -সুরা আনআম: আয়াত ১০৮।
দাওয়াত, ওয়াজ ও তাবলিগের ময়দানে নম্রতা ও কোমলতাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং উগ্রতা ও কঠোরতা থেকে দূরে থাকা-সংক্রান্ত বহু হাদিস রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِنَّ الرِّفْقَ لا يَكُونُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ، وَلَا يُنْزَعُ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ 'যার ভেতর নম্রতা থাকে সেটা তার অলংকার। আর নম্রতা ফুরিয়ে গেলে সেটা তার দোষ হিসেবে সাব্যস্ত হয়।' ১৬৯
অতএব, নম্রতা ও কোমলতাই দাওয়াত ও তাবলিগের প্রাণ। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, কঠোরতা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বরং প্রয়োজন সাপেক্ষে কঠোরতারও ব্যবহার হওয়া চাই। তবে তা হতে হবে যথাযথ স্থানে এবং সর্বশেষ পরিস্থিতিতে-যখন ধৈর্য ও নম্রতার সমুদয় উপাদান অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাঁরাই সাহায্যপ্রাপ্ত যাঁদেরকে আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করেছেন এবং আত্মম্ভরিতা হতে রক্ষা করেছেন। ১৭০

টিকাঃ
১৬৭ আল ফাতাওয়া: ৮/২৭, ১২৮।
১৬৮ আল ফাতাওয়া: ৮/২৭, ১২৮।
১৬৯ মুসনাদে আহমাদ: ৪/৩৬২।
১৭০ জাহিরাতুল গুলু ফিদ্দিন: ২৩১-২৩৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00