📄 দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা
খারেজিদের একটি বড় দুর্বলতা—তারা কিতাব ও সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ। তাদের মন-মস্তিস্ক বিকারগ্রস্ত ও চিন্তা-গবেষণাশূন্য। শরয়ি ভাষ্যকে যথাযথ স্থান থেকে সরিয়ে অপাত্রে সন্নিবেশন তাদের অভ্যাস। এরই প্রেক্ষিতে ইবনে উমর রা. তাদেরকে আল্লাহ তাআলার 'নিকৃষ্ট সৃষ্টি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, 'তারা কাফেরদের সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াত মুমিনদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছে।’১২৯
তাঁর কাছে হারুরা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'এরা মুসলমানদের কাফের বলে থাকে। তাদের জান-মান বৈধ মনে করে। তাদের স্ত্রীদের ইদ্দতের সময় বিয়ে করে। বিবাহিত কোনো নারী তাদের কাছে এলে তাদের বিয়ে করা দোষের মনে করে না। আমার মতে, তারা সর্বাগ্রে হত্যার উপযোগী। '১০০
ইসলামি শরিয়তে তাদের অজ্ঞতার নিদর্শন এরচে বড় আর কী হতে পারে যে, তারা 'তাহকিম' তথা সালিশি-ব্যবস্থাকে কুফরির মতো গোনাহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে! সুতরাং তাদের আকিদামতে, যারা সালিশি ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলবে, তাদের জন্য প্রথমত নিজের কুফরির স্বীকারোক্তি দেওয়া ও পরে তওবা করা আবশ্যক।১০১
আলি রা.-এর কাছে তারা এটাই চেয়েছে। তিনি যেন প্রথমে নিজের কুফরির কথা স্বীকার করেন এবং পরে তা থেকে তওবা করেন। এ প্রেক্ষিতে আলি রা., তার সঙ্গী-সাথি ও আনসার-মুহাজির সাহাবিদেরকে অভিযুক্ত অপরাধী সাব্যস্ত করা এবং নিজেদের উত্তম ও নিরপরাধ মনে করা তাদের ভ্রষ্টতা ও অজ্ঞতার জ্বলন্ত প্রমাণ।১০২
তাদের নিকৃষ্টতম অজ্ঞতার আরেকটি দৃষ্টান্ত-তারা যখন আবদুল্লাহ ইবনে খাব্বাব ও তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীর সাক্ষাৎ পায়, তখন তারা আবদুল্লাহ ইবনে খাব্বাবকে কিছু প্রশ্ন করে। আলি ও উসমান রা. সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করে। তিনি তাঁদের উভয়ের প্রশংসা করলেন। এই সত্য প্রকাশের শাস্তিস্বরূপ তাঁকে ধমক ও মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়। শেষে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে দেয় এবং তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীর পেট চিড়ে হত্যা করা হয়।১০০
একদিকে তাদের অজ্ঞতার এই নিদর্শন, অন্যদিকে জিম্মি লোকের শূকর হত্যা করাকে পাপ জ্ঞান করে। পরে শূকরের মালিককে খুঁজে বের করে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়।১৩৪
তাদের এমন বোধ-বিবেচনাকে ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। কেমন তাদের বুদ্ধি-জ্ঞান! কোনো মুমিন-মুসলমানের কাছে কি মুসলমানের চেয়ে শূকরের মর্যাদা বেশি হতে পারে?১০০ কিন্তু কী-ই-বা আর বলা যেতে পারে! এরা তো অজ্ঞতার দাস। আত্মপূজা আর লেলিয়ে দেওয়া শয়তান তাদের পিছু ছাড়েনি।
হাফেজ ইবনে হাজার রাহ. বলেন, 'খারেজিরা যখন বিরোধী পক্ষকে কাফের বলে আখ্যায়িত করল, তখন তারা তাদের রক্ত বৈধ মনে করল এবং জিম্মিদের ছেড়ে দিলো। তারা বলল, আমরা তাদের সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব। অনুরূপভাবে মুশরিকদের বিরুদ্ধেও তারা লড়াই করেনি; বরং তাদের ছেড়ে مسلمانوں বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগল। এসব কর্মকাণ্ড অজ্ঞতার উপাসকদের নিদর্শন; যাদের হৃদয় ইলমের নুর দ্বারা আলোকিত নয়। ইলমের কোনো অংশই তারা পায়নি। তাদের অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতার জন্য এটুকু যথেষ্ট যে, তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয়নি। রাসুলকে তারা জালিম বলে আখ্যায়িত করেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের রক্ষা করুন।'১০৬
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন, 'তারা গণ্ডমূর্খ। অজ্ঞতার কারণেই তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে পৃথক হয়ে গেছে।'১০৭
এদ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায়, অজ্ঞতার কারণে ইসলামের সাথে সম্পর্কিত একটি দলের এমন অধঃপতন। অতএব, বোঝা গেল অজ্ঞতা একটি অনিরাময়যোগ্য ব্যাধি। রোগী নিজে ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ হচ্ছে, অথচ সে টেরই পাচ্ছে না যে, সে একজন রোগী। বরং সে তাতেই কল্যাণ কামনা করছে এবং ক্ষতির মুখে পড়ছে।১৩৮
টিকাঃ
১২৮ সহিহ বুখারি মাআল ফাতহ: ১/৯৩।
১২৯ মুহাম্মাদ আবদুল হাকিম প্রণীত জাহিরাতুল গুলু ফিদ্দিন: ১১৪।
১০০ আল ইতিসাম: ২/১৮৩, ১৮৪।
১০১ মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ: ১৫/৩১২; ইরওয়াউল গালিল: ৮/১১৮, ১১৯।
১০২ আসসাবি প্রণীত আল খাওয়ারিজ: ১৮৬।
১০০ তালবিসু ইবলিস: ৯৩।
১৩৪ আসসাবি প্রণীত আল খাওয়ারিজ: ১৮৭।
১০০ ফাতহুল বারি: ১২/২৮৫।
১০৬ ফাতহুল বারি: ১২/৩০১।
১০৭ মিনহাজুস সুন্নাহ: ৩/৪৬৪।
১৩৮ মুহাম্মাদ হাকিম তিরমিজি প্রণীত নাওয়াদিরুল উসুল: ৫৪; আসসাবি প্রণীত আল খাওয়ারিজ: ১৮৮।
📄 মুসলিম নেতার আনুগত্যের অস্বীকৃতি
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন,
'খারেজিদের ভ্রষ্টনীতির একটি হচ্ছে, তারা হেদায়াত ও ইসলামের ইমাম ও মুসলিম জামাতের ব্যাপারে বেইনসাফির আকিদা পোষণ করে থাকে। তারা পথভ্রষ্ট। এটা সুন্নাত হতে বিতাড়িত রাফেজি ও তাদের মতো অন্য পথভ্রষ্ট ফেরকা হতে উৎসারিত। উপরন্তু যে কাজকে তারা অন্যায় ও জুলম মনে করে, সেটা তারা কুফরি হিসেবে গণ্য করে। এরপর সেই কুফরির ক্ষেত্রে এমন বিধান আরোপ করে যা তাদের নিজেদেরই উদ্ভাবিত ও আবিষ্কৃত।'১৩৯
একই সাথে তারা মুসলিম জামাতের নেতার আনুগত্য ও অনুসরণের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। مسلمانوں ঐক্যে ফাটল ধরাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছে। আমিরুল মুমিনিন হজরত আলি রা.-এর সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তোলে। তারা তাঁর আনুগত্য হতে সম্পূর্ণরূপে বেরিয়ে যায়। স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে তারা আলি রা.-এর বিরুদ্ধাচরণ আরম্ভ করে।১৪০
মুসলিম নেতাদের প্রতি বিরুদ্ধাচরণের এই ধারা ও নিদর্শন ইতিহাসের প্রতিটি ধাপেই অব্যাহত থাকে। এ ধরনের কোনো ব্যাপারে কেউ যদি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তার সাথে তারা বিদ্বেষ পোষণ করতে থাকে। ছুঁড়ে ফেলে দেয় তার অভিমত। একপর্যায়ে দেখা যায়, তাদের ফেরকাতেই কয়েকটি শাখা-উপশাখা জন্ম নিতে আরম্ভ করে। একে অন্যকে কাফের আখ্যায়িত করে বেড়ায়। পরস্পরে খুনোখুনি, হাঙ্গামা ও বিদ্রোহ বৃদ্ধি পায় বহুগুনে।১৪১
টিকাঃ
১৩৯ আল ফাতাওয়া: ২৮/৪৯৭।
১৪০ আসসাবি প্রণীত আল খাওয়ারিজ: ১৯১।
১৪১ আসসাবি প্রণীত আল খাওয়ারিজ: ১৯২।
📄 পাপের কারণে কাফের ফতোয়া দেওয়া এবং মুসলিমদের রক্ত ও সম্পদ বৈধ মনে করা
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন, 'বেদআতি ও খারেজিদের আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে, এরা পাপীকে তাকফির তথা কাফের ঘোষণা করে। সেই তাকফিরের ভিত্তিতে مسلمانوں জান-মাল বৈধ মনে করে। তারা এই বিশ্বাস পোষণ করে যে, "দারুল ইসলাম" হচ্ছে "দারুল হারব"। আর তাদের নিজেদের আবাসস্থল হচ্ছে "দারুল ইমান"। অধিকাংশ রাফেজিও এই আকিদা লালন করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বেদআতের মূল। এ বিষয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সুন্নাতের ইজমা রয়েছে। অন্যভাবে বলা যায়, ক্ষমাযোগ্য ভুলকে গোনাহ মনে করা এবং গোনাহকে কুফরি আখ্যায়িত করাই এই বেদআতের মূল দর্শন।১৪২
খারেজিরা নিজেদের বিশেষ আকিদা ও চিন্তাধারার আলোকে মুসলিম জামাত হতে পৃথকভাবে বসবাস করে। তারা নিজেদের আকিদাকে আল্লাহর কাছে মুক্তিদাতা ধর্ম মনে করে। যারা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে, তাদের ধারণামতে তারা ধর্ম হতে বেরিয়ে গেছে। তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা ওয়াজিব। এমনকি তাদের কোনো কোনো উপদল এতটাই বাড়াবাড়ির শিকার যে, তারা নিজেদের বিরুদ্ধবাদীদের জান-মাল বৈধ মনে করে।১৪৩
এর একটি উপমা হচ্ছে আবদুল্লাহ ইবনে খাব্বাবের ঘটনা। তাদের বিপরীত মত লালন করার কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।১৪৪
আল্লামা ইবনে কাসির রাহ. বলেন,
'এসব লোক নিজেদের ধর্মবিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে নারী ও শিশুদের হত্যা করতে আরম্ভ করে। গর্ভবতী নারীর পেট ফেঁড়ে ফেলা বৈধ মনে করে। তাদের মতো অনাচার ও দুষ্কৃতি অন্য আর কেউ চালায়নি।'১৪৫
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন,
'প্রথম বেদআত তথা খারেজিদের বেদআতের উৎপত্তি হয় কুরআন না-বোঝার কারণে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআন এবং নিজেদের চিন্তাধারার সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি করতে চায়নি। তারা কুরআনকে ওই অর্থে ব্যবহার করেছে, যা তার মূল অর্থ নয়। এই অজ্ঞতার কারণে তারা ভেবেছে, গোনাহে পতিত ব্যক্তিকে কাফের আখ্যা দেওয়া ওয়াজিব। কেননা, নেককার ও মুত্তাকিরাই পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারে। তার মানে, যে ব্যক্তি নেককার ও মুত্তাকি হবে না সে কাফের। চিরদিন সে জাহান্নামে দগ্ধ হবে। এসব লোক উসমান রা. ও আলি রা. এবং তাঁদের উভয়ের সমর্থকদের ব্যাপারে বলত—এরা মুমিন নয়। কেননা, তাঁরা কুরআন ছাড়া অন্য বস্তুকে সালিশ বানিয়েছে। তাদের এই বেদআতের দুটি ভূমিকা ছিল :
১. যে ব্যক্তি ভুলে বা নিজের রায়ের মাধ্যমে কুরআনের বিরোধিতা করবে সে কাফের।
২. উসমান, আলি ও তাঁদের সমর্থকরা এ কারণে কাফের। (নাউজুবিল্লাহ)
সুতরাং গোনাহ ও ভুলের ভিত্তিতে ইমানদারকে কাফের আখ্যায়িত করা হতে বেঁচে থাকতে হবে। নিঃসন্দেহে এটা ছিল প্রথম প্রকাশ্য বেদআত। এই বেদআতে লিপ্ত ব্যক্তি; অর্থাৎ, খারেজিরা مسلمانوں কাফের আখ্যায়িত করেছে। তাদের জান-মাল লুণ্ঠন বৈধ ভেবেছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ও নিন্দার বিষয়ে বিভিন্ন গ্রন্থে বিশুদ্ধ হাদিস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত আছে।'১৪৬
টিকাঃ
১৪২ আল ফাতাওয়া: ১৯/৭৩।
১৪৩ মিনহাজুস সুন্নাহ: ৩/৬২।
১৪৪ আল বাগদাদি প্রণীত আল ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৫৭; আসসাবি প্রণীত আল খাওয়ারিজ: ১৯১।
১৪৫ আল বিদায়া ওয়াননিহায়া ৩/২৯৪।
১৪৬ আল ফাতাওয়া: ১৩/৩০, ৩১।
📄 রাসুল সা.-কে জালিম আখ্যায়িত করা
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন,
খারেজিরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে নিজেদেরকে স্বাধীন ভেবে নিয়েছে। তারা বলেছে, (নাউজুবিল্লাহ) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুলম করেছেন। নিজের সুন্নাতের ব্যাপারে ভ্রষ্টতার শিকার হয়েছেন। এই তথাকথিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য ও অনুসরণকে ওয়াজিব মনে করত না। বরং এই জালিমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কেবল ওই পরিমাণ সত্য মনে করত যতটুকু কুরআনে এসেছে। তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওইসব সুন্নাত, বিধানাবলি ও নির্দেশাবলি মান্য করা জরুরি মনে করত না; যেগুলো তাদের মতে কুরআনবিরোধী হিসেবে বিবেচ্য।
বর্তমানেও খারেজি ও বেদআতিদের অধিকাংশ তাদের পূর্বেকার খারেজিদের অনুসরণ করে থাকে। এই জালিমদের অভিমত-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে তাদের উক্তি ও অভিমতের বিরুদ্ধাচরণ করেন, তাহলে ওইসব ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করা যাবে না। বরং তারা সেটা নিজেদের প্রণীত প্রমাণের নিরিখে কার্যকর করবে, অথবা শরয়ি উদ্ধৃতিমূলক ভাষ্যকে রহিত করবে কিংবা পুনরায় হাদিস ও সুন্নাতকে নিজেদের মর্জি মোতাবেক ব্যাখ্যা করবে। কখনো সনদে আপত্তি তুলবে। কখনো ভাষ্যে দোষ দেখাবে। অথচ এরা মোটেই রাসুলের আনীত সুন্নাতমতে আমল করতে প্রস্তুত নয়। আর না প্রকৃতপক্ষে তারা কুরআনের অনুসরণ করছে।১৪৭
টিকাঃ
১৪৭ আল ফাতাওয়া: ১৯/৭৩।