📄 ১৫ হিজরিতে হিমসের যুদ্ধ
সেনাপতি আবু উবায়দা পরাজিত রোমানদের তাড়া করে হিমস নিয়ে সেখানে তাদের অবরোধ করেন। পরে খালিদও গিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগ দিলে অবরোধ আরও কঠিন করেন তাঁরা। তখন প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ছিল। নগরবাসী এই আশায় ছিল যে, ঠান্ডায় অতিষ্ঠ হয়ে মুসলিমরা অবরোধ তুলে চলে যাবে; কিন্তু সাহাবিরা পরম ধৈর্য অবলম্বন করেন।
কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন, কতক রোমান ঠান্ডার কারণে ফিরে গিয়েছিল; কিন্তু সাহাবিদের কেউ স্থান ত্যাগ করেননি। ঠান্ডায় রোমানদের কারও কারও পা খসে পড়েছিল; অথচ তাদের পা ছিল মোজার মধ্যে। সাহাবিদের পায়ে জুতা ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁদের কারও পায়ে কোনো সমস্যা হয়নি। এমনকি কোনো আঙুলেও নয়। তাঁরা অবরোধ চালিয়েই যাচ্ছিলেন। এভাবে শীতকাল চলে যায়। এরপর তাঁরা অবরোধ আরও কঠিন করেন।
হিমসের সাধারণ জনগণ মুসলিমদের সঙ্গে সন্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল; কিন্তু তাদের বিশিষ্ট নাগরিকসমাজ তা গ্রহণ করেনি। তারা বলেছিল, 'আমরা সমঝোতায় যাব কেন, আমাদের সম্রাট তো আমাদের কাছেই অবস্থান করছেন!'
কথিত আছে, একদিন সাহাবিরা এমন জোরে তাকবিরধ্বনি দিয়েছিলেন যে, পুরো শহর থরথর করে কেঁপে ওঠে। কতক প্রাচীর ভেঙে পড়ে! এরপর আরেকবার যখন তাকবিরধ্বনি দিয়েছিলেন, তখন কতক ঘরবাড়িও ভেঙে পড়ে!
এবার তাদের সাধারণ নাগরিকরা বিশিষ্ট নাগরিকদের কাছে এসে বলে, 'আমাদের অবস্থা কি আপনারা অবগত নন? আমাদের পক্ষ থেকে আপনারা সন্ধি করছেন না কেন?' এরপর তারা সেসব শর্তে সন্ধি স্থাপন ও সমঝোতাচুক্তি সম্পাদন করে, যেসব শর্তে দামেশকের অধিবাসীরা সন্ধি করেছিল। তাতে ছিল, অর্ধেক ঘরবাড়ি মুসলিমদের দখলে যাবে। ভূমির খাজনা পরিশোধ করতে হবে এবং ধনী-গরিব অনুপাতে প্রত্যেককে জিজয়া-কর দিতে হবে।
বিধিমতো সেখান থেকে প্রাপ্ত গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ খলিফার দরবারে পাঠিয়ে দেন সেনাপতি আবু উবায়দা রা.। খুমুস ও বিজয়ের সংবাদসহ খলিফার কাছে পাঠানো হয় আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা.-কে। সেনাপতি আবু উবায়দা বহু সেনার জন্য সেখানে একটা সেনাক্যাম্প স্থাপন করেন। সেনাদের সঙ্গে বিলাল, মিকদাদসহ কয়েকজনকে কমান্ডারও নিযুক্ত করে দেন। আবু উবায়দা খলিফাকে জানান, ‘রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস জাজিরা অঞ্চলের পানি বন্ধ করে দিয়েছে।’ তিনি এ-ও জানান, ‘সম্রাট কখনো বাইরে বের হয়; আবার কখনো লুকিয়ে থাকে।’ তখন উমর রা. তাঁকে আপাতত ওই শহরে থাকার নির্দেশ দেন।৫০৮
টিকাঃ
৫০৮. প্রাগুক্ত: ৬২।
📄 কিন্নাসরিনের যুদ্ধ
হিমস জয়ের পর আবু উবায়দা রা. খালিদ রা.-কে ১৫ হিজরিতে কিন্নাসরিন অভিযানে পাঠান। তিনি সেখানে পৌঁছলে স্থানীয় অধিবাসী ও আরব-খ্রিষ্টানরা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে আসে। খালিদ তাদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড যুদ্ধ করে বহু লোককে হত্যা করেন। সেখানে যারা রোমান ছিল, তাদের সবাইকে হত্যা করা হয়। তাদের আমির ও সেনাপতি মিনাসও নিহত হয়। এরপর গ্রাম্য বেদুইনরা এসে আত্মসমর্পণপূর্বক ওজর পেশ করে বলে, ‘এই যুদ্ধে আমাদের কোনো সম্মতি ছিল না; বরং খ্রিষ্টানদের প্ররোচনায় তা সংঘটিত হয়েছে।’ সেনাপতি খালিদ তাদের ওজর গ্রহণ করে যুদ্ধ বন্ধ করে দেন। তারপর শহরে প্রবেশ করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।
খালিদ তাদের উদ্দেশে বলেন, 'তোমরা যদি আকাশেও থাকো, তবে মহান আল্লাহ তোমাদের কাছে আমাদের তুলে নেবেন; অথবা আমাদের কাছে তোমাদের নামিয়ে আনবেন।'
খালিদ সেখানেই থেকে যান। শেষপর্যন্ত পুরো কিন্নাসরিন মুসলিমদের অধিকারে আসে। এই যুদ্ধে খালিদের দূরদর্শিতা ও কৃতিত্বের সংবাদ খলিফা উমর অবগত হলে বলেন, 'মহান আল্লাহ আবু বকরের প্রতি দয়া করুন। তিনি মানুষ চেনায় আমার চেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন। আল্লাহর শপথ, কোনো দোষ কিংবা অপরাধের কারণে আমি খালিদকে বরখাস্ত করিনি; বরং আমি আশঙ্কা করেছিলাম, মানুষ তাঁর ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায় কি না। ৫০৯
টিকাঃ
৫০৯. তারিখুত তাবারি: ৪/৪২৭।
📄 বায়তুল মাকদিস অবরোধকারী নিয়ে মতভিন্নতা ও বিশ্লেষণ
ইতিহাসবিদ তাবারি বায়তুল মাকদিস অবরোধ-সংক্রান্ত কয়েকটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। এক বর্ণনামতে অবরোধ করেছিলেন আমর ইবনুল আস রা.। আরেক বর্ণনায় দেখা যায়, আবু উবায়দা রা. বায়তুল মাকদিস পৌঁছালে সেখানকার অধিবাসীরা সিরিয়ার অন্যান্য এলাকার মতো এখানেও সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে বলে, 'সন্ধি সম্পাদিত হবে উমরের হাতে।' আবু উবায়দা এই মর্মে উমরের কাছে চিঠি লেখেন। তারপর উমর রা. এ লক্ষ্যে মদিনায় আলি রা.-কে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে সহযোগী বাহিনী নিয়ে সিরিয়া অভিমুখে সফর করেন。
ইবনু আসির রাহ.-ও উপর্যুক্ত দুটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। উভয়টির সঙ্গে তাবারির বর্ণনার হুবহু মিল রয়েছে। ৫১০ তবে ওয়াকিদি রাহ. বায়তুল মাকদিস অবরোধ এবং সেই সময়কার উমরের পরামর্শ ও রোমীয় প্রতিরক্ষা-সেনাদের কথোপকথনকে আবু উবায়দার দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। তাঁর অভিমত হচ্ছে, আবু উবায়দা সাতজন সেনাপতির নেতৃত্বে ৩৫ হাজার মুজাহিদকে বায়তুল মাকদিস বিজয়ের উদ্দেশ্যে পাঠান। প্রত্যেক কমান্ডারের অধীনে ছিল ৫ হাজার করে সেনা। ওই কমান্ডারদের মধ্যে ছিলেন খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, ইয়াজিদ ইবনু আবি সুফিয়ান, শুরাহবিল ইবনু হাসানা, মিরকাল ইবনু হাশিম ইবনু আবি ওয়াক্কাস, মুসাইয়িব ইবনু নাজিয়া ফাজারি, কায়েস ইবনু হুবায়রা মুরাদি ও উরওয়া ইবনু মুহাল্লিল ইবনু ইয়াজিদ রা.। এই সাতজনকে সাত দিনে পাঠানো হয়। প্রত্যেক দিন একজন কমান্ডার তাঁর বাহিনী নিয়ে রওনা হতেন। মুসলিমবাহিনী ও মাকদিস শহরের নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে কয়েকদিন তুমুল যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর তিনিও সেখানে উপস্থিত হন। ৫১১
ওয়াকিদি আরও লেখেন, ইলিয়ার ৫১২ অধিবাসীরা আবু উবায়দার কাছে এসে সন্ধির মাধ্যমে শহরে প্রবেশের নিবেদন করে। তবে শর্ত হচ্ছে, সন্ধিটা আমিরুল মুমিনিন উমর ফারুকের মাধ্যমে কার্যকর করতে হবে।
এরপর তাবারি ও ইবনুল আসিরের বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়াকিদি বলেন, আবু উবায়দা খলিফা উমরের নামে চিঠিতে বিস্তারিত ঘটনা জানান। পরে খলিফা বায়তুল মাকদিস অভিমুখে রওনা হয়ে শহরের প্রাচীরে এসে নামেন। বায়তুল মাকদিসের পাদরি তাঁর কাছে এসে নিজের পরিচয় পেশ করে বলে, 'আল্লাহর শপথ, তিনি ওই লোক, যাঁর (বায়তুল মাকদিস বিজয়ের) গুণ আমরা আমাদের কিতাবে পেয়েছি। তিনিই আমাদের দেশকে বিজয় করবেন।'
উমরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সে তার জাতির কাছে গিয়ে পরিস্থিতির বাস্তবতা তুলে ধরে। সবাই খুশিমনে উমরের আনুগত্যে দৌড়াতে থাকে। যেহেতু দীর্ঘ অবরোধ তাদের দুর্বল করে রেখেছে, তাই প্রাচীরের সবকটা ফটক খুলে দেওয়া হয়। সবাই উমরের কাছে এসে তাঁর দায়িত্বে থাকার আকাঙ্ক্ষা পেশ করে এবং জিজয়া দিতে সম্মত হয়。
কিন্তু আমরা ওয়াকিদির বর্ণনাটা অযৌক্তিক মনে করি। কেননা, আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারি, যখন আমর ইবনুল আস বায়তুল মাকদিস অবরোধ করেন, তখন তাঁর অন্যান্য সাথি ইয়ারমুক, দামেশক ও ফিহলের মুসলিম কমান্ডার হিসেবে সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল বিজয়াভিযানে ব্যস্ত ছিলেন। যেমন আবু উবায়দা ও তাঁর সঙ্গে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ হিমস, হামা, কিন্নাসরিন ও হালব (আলেপ্পো) বিজয় করে সিরিয়ার উপকূলীয় দক্ষিণ পথ ধরে ইনতাকিয়া, লাজিকিয়া (লাতাকিয়া) ও আরকা বিজয় করেছেন। এদিকে ইয়াজিদ ইবনু আবি সুফিয়ান দক্ষিণে বৈরুত থেকে সায়দা পর্যন্ত এবং উত্তরে আসকালান থেকে সুর’ পর্যন্ত বিজয়পতাকা উড্ডীন করেছিলেন। ৫১৪
বালাজুরির এক বর্ণনামতে, রাফাহ বিজয়ের পর আমর ইবনুল আসই বায়তুল মাকদিস অবরোধ করেন। আবু উবায়দা রা. কিন্নাসরিন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা বিজয়ের পর ১৬ হিজরিতে সেখানে ওই সময় পৌঁছান, যখন আমর বায়তুল মাকদিস অবরোধ করে রেখেছিলেন।
ইলিয়াবাসী আবু উবায়দার কাছে সিরিয়ার সন্ধিভুক্ত অন্যান্য শহরের মতো সন্ধি ও নিরাপত্তার নিবেদন জানিয়ে বলে, 'সন্ধিটা সম্পাদিত হতে হবে উমর ইবনুল খাত্তাবের হাতে।' পরে আবু উবায়দা উমরের কাছে এ মর্মে চিঠি লেখেন, 'তিনি যেন দামেশকের জাবিয়ায় আসেন। পরে সেখান থেকে বায়তুল মাকদিসের উদ্দেশে রওনা হন। তথায় পৌঁছে সেখানকার অধিবাসীদের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি লেখেন। এভাবে ১৭ হিজরিতে বায়তুল মাকদিস বিজিত হয়। এরপর বালাজুরি লেখেন, 'বায়তুল মাকদিস বিজয়ের ব্যাপারে অন্যান্য সূত্রে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। ৫১৫
যাইহোক, ইতিহাসবিদদের বিভিন্ন বর্ণনা সামনে রেখে আমরা তাবারির প্রথম বর্ণনাটা প্রণিধানযোগ্য মনে করছি। যার সারমর্ম হচ্ছে, আমর ইবনুল আস বায়তুল মাকদিস অবরোধ করেছিলেন; আবু উবায়দা নন। গবেষণা দ্বারা আমি এই ফলাফলে পৌঁছেছি যে, হতে পারে আবু উবায়দা মুসলিমদের জেনারেল কমান্ডার হওয়ার সুবাদে বায়তুল মাকদিস বিজয়-সংক্রান্ত পরামর্শের উদ্দেশ্যে জাবিয়া গিয়ে আমিরুল মুমিনিন উমরের সঙ্গে মিলিত হন। কেননা, ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোতে এটা একটা প্রমাণিত বিষয় যে, জাবিয়া পৌঁছার পর সিরিয়ার সব বাহিনীর কমান্ডার নিয়ে মজলিশে শুরা ডাকার সময় ইয়াজিদের পর খলিফার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন আবু উবায়দা। যেই মজলিশে ইয়াজিদ, শুরাহবিল ও সিরিয়ার অন্যান্য সেনা-কমান্ডারের সামনে বায়তুল মাকদিসের অধিবাসীদের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি ও মাকদিস শহর অর্পণের আলোচনা হচ্ছিল, সেখানে আবু উবায়দাও উপস্থিত ছিলেন। অবশ্য সন্ধিচুক্তিতে তাঁর নাম সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়নি; যেমন সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন আমর ইবনুল আস, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, মুআবিয়া ইবনু আবি সুফিয়ান ও খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা.। এটা সন্ধিচুক্তির বক্তব্য দ্বারা স্পষ্ট। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, বায়তুল মাকদিস অবরোধকারী আবু উবায়দা নন; বরং আমর ইবনুল আস। (কেননা, আবু উবায়দার নেতৃত্বে অবরোধ হলে অবশ্যই তাঁর নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হতো।) ৫১৬
১. চুক্তিনামা
তাবারির বর্ণনা অনুযায়ী চুক্তিনামায় লিখিত ছিল :
পরম দয়ালু ও করুণাময় আল্লাহর নামে।
এই মর্মে ঘোষণা করা হচ্ছে যে, আল্লাহর বান্দা, ইমানদারদের সেনাপতি উমর জেরুসালেমের জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করছেন। নিশ্চয়তা দিচ্ছেন তাদের জান, মাল, গির্জা, আচার-অনুষ্ঠানাদির। মুসলিমরা তাদের গির্জা দখল কিংবা ধ্বংস করবে না। তাদের জীবন, সম্পদ, আবাসভূমি কিংবা ক্রুশ কোনোকিছুই ধ্বংস করা হবে না। জোর করে ধর্মান্তরিতও করা হবে না। এবং কোনো ইয়াহুদি তাদের সঙ্গে জেরুসালেমে বসবাস করবে না।
জেরুসালেমের অধিবাসীদের অন্যান্য শহরের মানুষের মতোই কর (ট্যাক্স) প্রদান করতে হবে এবং অবশ্যই বাইজেন্টাইনি ও লুটেরাদের বিতাড়িত করতে হবে। জেরুসালেমের যে-সকল অধিবাসী বাইজেন্টাইনদের সঙ্গে গির্জা ও ক্রুশ ছেড়ে নিজেদের সম্পত্তি নিয়ে চলে যেতে ইচ্ছুক, আশ্রয়স্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত তারা নিরাপত্তা পাবে। গ্রামের অধিবাসীরা চাইলে শহরে থেকে যেতে পারে; কিন্তু তাদের অবশ্যই শহরের অন্যান্য নাগরিকের মতো কর প্রদান করতে হবে। যে যার ইচ্ছামতো বাইজেন্টাইনদের সঙ্গে যেতে পারে; কিংবা আপন আপন পরিবার-পরিজনের কাছেও ফিরে যেতে পারে; আর ফসল কাটার আগে তাদের থেকে কিছুই নেওয়া হবে না।
যদি তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত জিজিয়া-কর প্রদান করে, তাহলে এই চুক্তির অধীন শর্তসমূহের ভিত্তিতে আল্লাহ, রাসুল, খলিফা ও মুসলিমদের ওপর কর্তব্য হচ্ছে, সেগুলো যথাযথভাবে রক্ষা করা। এই চুক্তিনামায় সাক্ষী হিসেবে আছেন খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, আমর ইবনুল আস, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ ও মুআবিয়া ইবনু আবি সুফিয়ান রা.। ১৫ হিজরিতে চুক্তিনামাটা লেখা হয়। ৫১৭
২. ওয়াসিলা ইবনু আসকার আত্মোৎসর্গী ভূমিকা
ওয়াসিলা ইবনুল আসকা রা. বলেন, 'দামেশকের ফটকসমূহের একটা ফটকের নাম জাবিয়া। সেখানে খুব শোরগোল শুনতে পাই। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখি, লড়াকু ঘোড়ার কাফেলা এদিক দিয়ে অতিক্রম করছে। সামনে অগ্রসরের সুযোগ তাদের দিয়ে দিই। পরে পেছন থেকে তাকবিরধ্বনি দিয়ে আক্রমণ করে বসি। তারা ভেবেছিল, হয়তো তাদের ঘেরাও করা হয়েছে, তাই তাদের কমান্ডারকে ছেড়ে তারা শহরের দিকে পালিয়ে যায়। আমি তীব্রবেগে বর্শা নিক্ষেপ করে কমান্ডারকে ঘোড়া থেকে ফেলে দিয়ে তার ঘোড়ায় চড়ে লাগাম হাতে নিই। এতে তার সাথিরা আমাকে একা দেখে পিছু নেয়। একজনকে আমার দিকে আসতে দেখে বর্শা ছুড়ে তাকে হত্যা করি। এরপর আরেকজন কাছে এলে তাকেও হত্যা করি। খালিদকে এই ঘটনা জানাতে ঘোড়া দৌড়িয়ে তাঁর কাছে পৌঁছে দেখি, রোমান জেনারেল কমান্ডার দামেশকবাসীর জন্য তাঁর কাছে নিরাপত্তার আবেদন করছে। ৫১৮
৩. ফিহল অভিযানের আগে রোমানদের কাছে মুআজের আলোচনা
ফিহলযুদ্ধের আগে মুসলিম ও রোমানদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরুর পর রোমানদের জেনারেল কমান্ডার একজন দূত পাঠাতে মুসলিমদের কাছে অনুরোধ করে, যাঁর মাধ্যমে মুসলিমদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও তাঁদের প্রত্যয় সম্পর্কে অবহিত হতে পারে। আবু উবায়দা রা. মুসলিমদের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য মুআজকে দূত বানিয়ে পাঠান।
রোমানরা মুআজকে অভ্যর্থনা জানাতে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সৌন্দর্য ও চাকচিক্য বর্ধনের জন্য উত্তম ব্যবস্থাপনা করে। চমকপ্রদ অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ময়াভিভূত করা দামি গালিচা ও পর্দা দ্বারা সভাস্থল সাজায়, যাতে মুআজ রা. নিজের উদ্দেশ্যের কথা ভুলে যান অথবা আর কিছু না হোক, অন্তত মানসিকভাবে প্রভাবিত হন। কিন্তু তিনি তাদের এই চাকচিক্যে মোটেই প্রভাবিত না হলে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়। তিনি বিনয় ও দুনিয়াবিমুখতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখিয়ে তাঁকে প্রভাবিত করার সব চেষ্টা-প্রচেষ্টা ধূলিসাৎ করে দেন। বলা যায়, রোমানদের বিরুদ্ধে তিনি এই সুযোগকে ভালোভাবে কাজে লাগান। সেটা এভাবে ছিল যে, মুআজ নিজের ঘোড়ার লাগাম নিজের হাতেই রাখেন। রোমান পরিচারকদের হাতে দিতে এ বলে অস্বীকার করেন যে, 'নিজেদের দুর্বলদের অধিকারবঞ্চিত করে যে গালিচা বা বিছানা দিয়ে সভাস্থল সাজিয়েছ, আমি তাতে বসব না।' এ কথা বলতে বলতে তিনি মাটিতে বসে পড়েন।
তারপর আবার বলতে শুরু করেন, 'আমি আল্লাহর বান্দাদের এক বান্দামাত্র। আল্লাহর সৃষ্টি মাটিতে বসি। আল্লাহপ্রদত্ত সম্পদ নিয়ে নিজের ভাইদের প্রতি জুলুম করি না।' তাদের মধ্যে আরও কিছু কথাবার্তা হয়। তারা মুআজের কাছে ইসলাম সম্পর্কে জানতে চায়। তিনি ইসলাম সম্পর্কে তাদের ধারণা দেন। তারা ঈসা আ. সম্পর্কে মুসলিমদের আকিদা জানতে চাইলে তিনি তিলাওয়াত করেন,
إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
নিশ্চয় ঈসার দৃষ্টান্ত আল্লাহর কাছে আদমের মতোই। আল্লাহ তাঁকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেন এবং তাঁকে আদেশ করেন, হয়ে যাও; আর তা হয়ে যায়। [সুরা আলে ইমরান: ৫৯]
আর মুসলিমদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে গিয়ে এই আয়াত তাদের পড়ে শোনান,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا قَاتِلُوا الَّذِيْنَ يَلُوْنَكُمْ مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيْكُمْ غِلْظَةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ﴾
হে ইমানদারগণ, সত্য অস্বীকারকারীদের যারা তোমাদের নিকটবর্তী, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখতে পায়। জেনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন। [সুরা তাওবা : ১২৩]
সব শুনে রোমানরা অবজ্ঞার সুরে বলে, 'পারস্যের বাদশাহ মারা যাওয়ায় তাদের ওপর তোমরা বিজয়ী হয়েছিলে; কিন্তু রোমানদের ওপর বিজয়ী হতে পারবে না। কারণ, তাদের বাদশাহ এখনো জীবিত। তার সেনাসংখ্যাও অসংখ্য।' এ কথা শুনে মুআজ দ্বিধাহীন চিত্তে বলেন, 'তোমাদের বাদশাহ যদি হিরাক্লিয়াস হয়ে থাকে, তবে আমাদের বাদশাহ আল্লাহ; আর আমাদের আমির আমাদেরই একজন। তিনি যদি কুরআনি হিদায়াত ও নববি শিক্ষার আলোকে আমাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করেন, তাহলে আমরা তাকে আমির মেনে থাকি। যদি তা থেকে দূরে থাকেন, তবে আমরা তাকে পদচ্যুত করি। তিনি আমাদের বাইরের কেউ নন। না অহংকার করেন; আর না নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষী।' এদিকে রোমানবাহিনীর সংখ্যাধিক্যের জবাবে তিনি তিলাওয়াত করেন,
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيْلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصُّبِرِينَ )
স্বল্পসংখ্যক লোকের একটা দল আল্লাহর হুকুমে একটা বিরাট দলের ওপর বিজয় লাভ করেছে। আল্লাহ সবরকারীদের সঙ্গী। [সুরা বাকারা: ২৪৯]
শেষমেশ যখন রোমানরা মুআজকে প্রভাবিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন মূল আলোচনায় ফিরে আসে এবং মুসলিমদের সঙ্গে এই শর্তে শান্তিচুক্তি করতে অনুরোধ করে যে, 'বালকা ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকা মুসলিমদের অধিকারে যাবে!' মুআজ তাদের সাবধান করে বলেন, 'আমাদের সামনে তিনটা বিষয় আছে। তন্মধ্যে যেকোনো একটা তোমাদের গ্রহণ করতে হবে-ইসলাম, জিজয়া প্রদান বা যুদ্ধ।'
এ কথা শুনে তারা অসন্তুষ্ট হয়ে বলে, 'যান; নিজের সাথিদের কাছে চলে যান। সেই দিন বেশি দূরে নয়, যখন আমরা আপনাদের অপদস্থ করব।' মুআজ বলেন, 'অপদস্থ করার কোনো সুযোগ পাবেন না। আমাদের শেষ সদস্য বেঁচে থাকা পর্যন্ত লড়ে যাবে বা আমরা আপনাদের অপদস্থ করে এখান থেকে বের করব।' এটুকু বলেই তিনি বেরিয়ে আসেন। ৫১৯
এভাবেই এই সাক্ষাতে মুআজের ব্যক্তিত্ব একজন রাজনীতিজ্ঞ, দক্ষ সেনা ও বিচক্ষণ দায়ি হিসেবে আবির্ভূত হয়, যিনি নিজের শত্রুদের আপত্তির মুখভাঙা জবাব দেন। তাদের দোষ এবং প্রজাদের ওপর জুলুমের কথা বলে তাদের ধর্ম থেকেই তার প্রতিকার পেশ করে ইসলামের দিকে আহ্বান করেন। তাঁর নিজের প্রভাবিত হওয়া তো দূরে থাক; বরং নির্ভীক চিত্তে তাদের কথার জবাব প্রদান করে উলটো তাদেরই প্রভাবিত করেন। আর সুস্পষ্টভাবে নিজের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কথা খুলে বলেন। শেষে মুসলিমশিবিরে ফিরে এসে নিজের আমিরের কাছে বিস্তারিত বর্ণনা করেন। ৫২০ সর্বকালের মহাসত্য হচ্ছে, যুদ্ধের আগে মুসলিমরা তাদের শত্রুদের ইসলামের দাওয়াত পেশ করত।
৪. আবু উবায়দার সহযোগিতায় উমরের বিরল যুদ্ধকৌশল
আবু উবায়দার দূত যখন উমরকে চিঠিটা দিয়ে সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানালেন, তখন খলিফা উমর রা. সাআদ ইবনু আবি ওয়াক্কাসের নামে একটা চিঠি লিখলেন,
যে দিন এই চিঠিটা পৌঁছবে, সে দিনই একটা বাহিনী কা'কা ইবনু আমরের নেতৃত্বে হিমসে পাঠিয়ে দেবে। সেখানে আবু উবায়দাকে শত্রুপক্ষ ঘিরে ফেলেছে।
উমর তাৎক্ষণিক যুদ্ধপরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বড় বড় শহরে জঙ্গি ঘোড়া প্রস্তুত রেখেছিলেন। কুফায়ও (যেখানে সাআদ রা. ছিলেন) ৪ হাজার ঘোড়া ছিল। সাআদ চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো দিয়ে মুজাহিদদের পাঠিয়ে দেন।
সাআদ ইবনু আবি ওয়াক্কাসের চিঠিতে উমর এটাও লিখেছিলেন, সুহাইল ইবনু আদির নেতৃত্বে একটা বাহিনী জাজিরার দিকে পাঠিয়ে দাও। এই শহরের লোকেরাই হিমসে হামলা করতে রোমানদের উদ্বুদ্ধ করেছে। এর আগে কারকিসিয়ার লোকেরা এ ব্যাপারে ভূমিকা রেখেছে। আরেকটা বাহিনী আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু ইতবানের নেতৃত্বে নাসিবাইনে (নুসাইবিন) হামলার জন্য পাঠিয়ে দাও।
সেখানকার অধিবাসীদেরও কারকিসিয়ার লোকেরা হামলার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। পরে হাররান ও রাহায় গিয়ে সেখানকার অধিবাসীদের বের করে দাও। আরেকটা বাহিনী ওয়ালিদ ইবনু উকবার নেতৃত্বে জাজিরার (খ্রিষ্টান) আরব বংশধর রাবিয়া ও তুনুখের দিকে পাঠাও; আর ইয়াজ ইবনু গানামকেও যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাও। যুদ্ধ লেগে গেলে অন্যান্য বাহিনী ইয়াজের অধীনে কাজ করবে।
উমরের পরিকল্পনামতো কা'কা রা. ৪ হাজার আরোহী নিয়ে হিমসের দিকে রওনা হন। ইয়াজ এবং অন্যান্য বাহিনীও আপন আপন গন্তব্যের দিকে রওনা হয়ে যায়। এদিকে আমিরুল মুমিনিন নিজেও আবু উবায়দাকে সহযোগিতার জন্য একটা বাহিনী নিয়ে রওনা করেন।
জাজিরাবাসী যারা হিমসে হামলা করতে রোমানদের উদ্বুদ্ধ করেছিল, তারা ইরাক থেকে মুসলিমবাহিনী আসার খবর পায়; কিন্তু এই বাহিনী তাদের শহরে হামলা করবে, নাকি হিমসে যাবে, সেটা তাদের জানা ছিল না। এ জন্য তারা নিজেদের শহর রক্ষার দিকে মনোযোগ দিয়ে রোমানদের সঙ্গ ছেড়ে দেয়। আবু উবায়দা যখন দেখেন জাজিরাবাসী রোমানদের সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে, তখন তিনি যুদ্ধ শুরুর ব্যাপারে খালিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। খালিদ এতে সম্মতি দেন। পরে মুসলিমরা জোরালোভাবে রোমানদের ওপর হামলা চালিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নেন। কা'কার নেতৃত্বে কুফার বাহিনী হিমসে পৌঁছে দেখে, তিন দিন আগেই যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে আমিরুল মুমিনিন তখন জাবিয়ায় পৌঁছেছিলেন।
হিমস থেকে আবু উবায়দা রা. চিঠিতে লেখেন, 'যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হয়েছি। যুদ্ধ শেষ হওয়ার তিন দিন পর কুফার বাহিনী আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এবার আমাদের প্রতি আপনার কী নির্দেশনা?' উমর জবাব পাঠান, 'তাঁদেরও (কুফাবাহিনী) গনিমতের সম্পদের অংশ দেবেন। কারণ, তাঁরা আপনাদের সাহায্যের জন্য এসেছে এবং তাঁদের আসার খবর পেয়ে শত্রুপক্ষ ভয় পেয়েছে।' এরপর উমর লেখেন, 'আল্লাহ কুফাবাসীকে উত্তম বদলা দান করুন। তাঁরা তাঁদের 'সীমানা রক্ষার জন্য যথেষ্ট এবং অন্য দেশের লোকদেরও সাহায্য করে। '৫২১
শত্রুদের ধাঁধায় ফেলতে এবং বিক্ষিপ্ত করে দিতে উমর রা. বিরল একটা যুদ্ধকৌশল অবলম্বন করেন। একদিকে কুফা থেকে শক্তিশালী একটা বাহিনী পাঠিয়ে দেন। অন্যদিকে নিজে একটা বাহিনী নিয়ে রওনা করেন। শত্রুদের মোকাবিলার জন্য এটা জরুরি ছিল। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, হিমসে হামলার জন্য যেসব শহর রোমানদের উদ্বুদ্ধ করছিল, উমর রা. তাদের ওপর হামলার জন্য বাহিনী পাঠিয়ে দেন। এতে ওই শহরগুলোর বাসিন্দারা নিজেদের রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে; রোমানদের আর সঙ্গ দিতে পারেনি। ফলে রোমানদের শক্তি অনেক কমে যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে তারা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। এটা ছিল উমরের বিরল যুদ্ধকৌশলের ফল। ৫২২
টিকাঃ
৫১০. হুরুবুল কুদুসি ফিত তারিখিল ইসলামি ওয়াল আরাবি, ড. ইয়াসিন সুওয়াইদ: ৪০।
৫১১. ফুতুহুশ শাম: ১/২১৩-২১৬।
৫১২. ইলিয়া : বর্তমান ফিলিস্তিনের রাজধানী জেরুসালেমের পূর্বনাম ইলিয়া। খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতকে ইসরায়েল ও জুদাহ অঞ্চলে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। তখন জুদাহ রাজ্যের রাজধানী হয় জেরুসালেম। এরপর ১৩১ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট হাদ্রিয়ান জেরুসালেমের নাম পরিবর্তন করে 'ইলিয়া কাপিতোলায়না' রাখেন। সেই থেকে আরবিতে এর নাম জেরুসালেমের নাম হয়ে যায় 'ইলিয়া'। -সংকলক।
৫১৩. লেবাননের একটা উপকূলবর্তী শহর। - সম্পাদক।
৫১৪. হুরুবুল কুদসি: ৪১-৪২।
৫১৫. ফুতুহুল বুলদান: ১/১৮৮-১৮৯।
৫১৬. হুরুবুল কুদসি: ৪১-৪২।
৫১৭. তারিখুত তাবারি: ৪/৪৩৬।
৫১৮. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৩/৩৮৬-৩৮৭; আত-তারিখুল ইসলামি: ১০/৩১৯।
৫১৯. আল-ইকতিফা: ৩/১৯৪।
৫২০. আল-আনসার ফিল আসরির রাশিদি: ২০৮।
৫২১. তারিখুত তাবারি: ৫/২৪-২৫।
৫২২. তারিখুল ইসলামি: ১১/১৩৭।