📄 দুর্গম মরুপথ পাড়ি দেওয়া খালিদের বীরত্বের প্রমাণ
খালিদ রা. কেবল মুসলিমবাহিনীর সহায়তার উদ্দেশ্যেই অন্তহীন বিপদ মোকাবিলা করে অত্যন্ত দ্রুত এবং আচমকা শামে এসে পৌঁছান; অথচ তখনকার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই দুর্গম মরুভূমি পাড়ি দেওয়া ছিল প্রায় অলৌকিক ব্যাপার।
মাহমুদ শিত খাত্তাব বলেন, খালিদ রা. কর্তৃক অত্যন্ত দ্রুতগতি ও গোপনীয়তার সঙ্গে বিপৎসংকুল মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার নজির আমি সামরিক ইতিহাসে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাইনি। আমি বুঝি না, হ্যানিবল ও নেপোলিয়নের আল্পস পর্বত পাড়ি দেওয়া, একইভাবে নেপোলিয়নের সিনাই মরুভূমি অতিক্রম করা, আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইংরেজ সেনাবাহিনীর সিনাই পাড়ি দেওয়া খালিদ কর্তৃক শামের মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার মোকাবিলায় কী গুরুত্ব রাখতে পারে? এটা তো স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপার যে, মরুভূমির চেয়ে পাহাড়ি এলাকা পাড়ি দেওয়া অতি সহজ। কেননা, সেখানে পদে পদে জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ পানির উপস্থিতি থাকে প্রচুর। আর শামের মরুভূমির সঙ্গে তো সিনাই মরুভূমির কোনো তুলনাই চলে না। সিনাইয়ের জায়গায় জায়গায় পানির প্রচুর উৎস বিদ্যমান। এ ছাড়া সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জনবসতিও অনেক।
খালিদ কর্তৃক ওই মরুভূমি পাড়ি দিয়ে শাম পৌঁছার বাস্তবতা রোমানদের কাছে এক অলৌকিক কাজ মনে হচ্ছিল। তারা কিছুতেই যেন এই ধাঁধার সমাধান খুঁজে পাচ্ছিল না। বিষয়টি ভাবতেই বিস্ময়ে থ হয়ে যাচ্ছিল。
এ জন্যই ইরাক ও শামের মধ্যবর্তী যেসব শহর-বস্তির পাশ দিয়ে তিনি পথ অতিক্রম করছিলেন, সেগুলো শক্ত কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই পদানত হয়। সেসব এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের থেকেই আত্মসমর্পণ করে নিচ্ছিল। এই মুহূর্তে এদিক থেকে মুসলিমদের এত বড় বিশাল একটা বাহিনী আসতে পারে, এটা তারা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারছিল না。
ইতিহাসের সর্বকালের সফল সেনানায়করা খালিদের সামরিক দক্ষতা দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। দ্য ন্যাশন ইন দ্য আর্মস (The Nation in Arms) গ্রন্থের প্রণেতা জার্মানির প্রখ্যাত জেনারেল ফন ডার গোল্টজ (Freiherr von der Goltz) এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জার্মান-তুর্কি যৌথবাহিনীর এক সেনাকমান্ডার বলেন, 'খালিদ হচ্ছেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমার উসতাজ।
টিকাঃ
৩৬০ কাদাতু ফাতহিল ইরাক ওয়াল জাজিরা: ১৯৩; আল-হারবুন নাফসিয়াহ: ২/১৬৩。
৩৬৪ আল-হারবুন নাফসিয়াহ, ড. আহমাদ নাওফাল: ২/১৬২。
১৩৬৫ মাআরিকু খালিদিবনিল ওয়ালিদ জিদ্দাল ফুরুসি: ১৬৭।