📄 শামে খালিদের বাহিনী
যাত্রার পঞ্চম দিনে খালিদ রা. সিবায় গিয়ে উপনীত হন। এটা ছিল শাম এলাকার প্রথম বস্তি। তাঁরা তখন রোমানবাহিনীর পেছন দিকে ছিলেন। মাত্র পাঁচ দিনের ভেতর বিস্ময়কর সব বিপদে ঠাসা এই কঠিন মুরুভূমি পাড়ি দেওয়া ছিল সম্পূর্ণ অলৌকিক ব্যাপার; কিন্তু খালিদের ইমানি দৃঢ়তা ও সংকল্পের সামনে সকল বাধা পরাজিত হতে বাধ্য হয়। দুর্গম বিপৎসংকুল পথও তাঁর জন্য হয়ে ওঠে মসৃণ。
খালিদ রা. শামের প্রথম সীমান্ত আদাকে পৌঁছে সেখানে হামলা চালান। জায়গাটা অবরোধ করে সন্ধির মাধ্যমে স্বাধীন করেন। এরপর পালমিরার দিকে এগিয়ে যান। সেখানকার লোকজন দুর্গবন্দি হয়ে পড়ে। তারা নিরাপত্তা কামনা করলে তাদের সঙ্গেও সন্ধি করেন। পালমিরা থেকে বেরিয়ে কারইয়াতাইন পৌঁছান এবং সেখানে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেন। কারইয়াতাইন বিজয় শেষে হাওয়ারিন অভিমুখে এগিয়ে যান। পরে সানিয়া নামক এলাকায় পৌঁছে সেখানে ‘উকাব’ পতাকা উত্তোলন করেন। এ পতাকাটি ছিল নবিজির তৈরি। এরই সূত্রে পরবর্তীকালে এই জায়গার নাম হয় ‘সানিয়াতুল উকাব’
এর পর যখন আজরা হয়ে পথ অতিক্রম করেন, তখন এই এলাকাও পদানত করে গাসসানিদের কাছ থেকে প্রচুর গনিমত অর্জন করেন। এভাবে একের পর এক এলাকা জয় করে অবশেষে দামেশকের পূর্বদিক হয়ে বসরায় যুদ্ধরত সাহাবিদের কাছে পৌঁছে যান। বসরার শাসক ৬৮。
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/৭
মারিকাতুল ইয়ারমুক, আল লিওয়া খালিল সায়িদ- আবু বাকরিনিস সিদ্দিক, খালিদ আল জুনাবি: ৬৮。
খালিদ রা. শামের প্রথম সীমান্ত আদাকে পৌঁছে সেখানে হামলা চালান। জায়গাটা অবরোধ করে সন্ধির মাধ্যমে স্বাধীন করেন। এরপর পালমিরার দিকে এগিয়ে যান। সেখানকার লোকজন দুর্গবন্দি হয়ে পড়ে। তারা নিরাপত্তা কামনা করলে তাদের সঙ্গেও সন্ধি করেন। পালমিরা থেকে বেরিয়ে কারইয়াতাইন পৌঁছান এবং সেখানে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেন। কারইয়াতাইন বিজয় শেষে হাওয়ারিন অভিমুখে এগিয়ে যান। পরে সানিয়া নামক এলাকায় পৌঁছে সেখানে ‘উকাব’ পতাকা উত্তোলন করেন। এ পতাকাটি ছিল নবিজির তৈরি। এরই সূত্রে পরবর্তীকালে এই জায়গার নাম হয় ‘সানিয়াতুল উকাব’
এর পর যখন আজরা হয়ে পথ অতিক্রম করেন, তখন এই এলাকাও পদানত করে গাসসানিদের কাছ থেকে প্রচুর গনিমত অর্জন করেন। এভাবে একের পর এক এলাকা জয় করে অবশেষে দামেশকের পূর্বদিক হয়ে বসরায় যুদ্ধরত সাহাবিদের কাছে পৌঁছে যান। বসরার শাসক তখন সন্ধি করে শহরটা মুসলিমদের হাতে ছেড়ে দেয়। আলহামদুলিল্লাহ, এটাই ছিল শামের প্রথম সেই শহর, যা মুসলিমরা জয় করেছিলেন।
খালিদ রা. বিলাল ইবনু হারিস মুজানির মাধ্যমে গাসসান থেকে লাভ করা গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ খলিফার দরবারে পাঠিয়ে দেন। এরপর আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ, মিরসাদ এবং শুরাহবিল রা.-দের সঙ্গে মিলে রোমানবাহিনী কর্তৃক তাড়িয়ে ফেরা আমর ইবনুল আসের কাছে পৌঁছে যান। এর ফলেই সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক আজনাদায়নযুদ্ধ。
টিকাঃ
৩৬১ আবু বাকরিনিস সিদ্দিক রা., খালিদ আল জুনাবি ও নাজার আল হাদিসি: ৬৮。
৩৬২ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/৬-৭。
📄 দুর্গম মরুপথ পাড়ি দেওয়া খালিদের বীরত্বের প্রমাণ
খালিদ রা. কেবল মুসলিমবাহিনীর সহায়তার উদ্দেশ্যেই অন্তহীন বিপদ মোকাবিলা করে অত্যন্ত দ্রুত এবং আচমকা শামে এসে পৌঁছান; অথচ তখনকার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই দুর্গম মরুভূমি পাড়ি দেওয়া ছিল প্রায় অলৌকিক ব্যাপার।
মাহমুদ শিত খাত্তাব বলেন, খালিদ রা. কর্তৃক অত্যন্ত দ্রুতগতি ও গোপনীয়তার সঙ্গে বিপৎসংকুল মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার নজির আমি সামরিক ইতিহাসে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাইনি। আমি বুঝি না, হ্যানিবল ও নেপোলিয়নের আল্পস পর্বত পাড়ি দেওয়া, একইভাবে নেপোলিয়নের সিনাই মরুভূমি অতিক্রম করা, আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইংরেজ সেনাবাহিনীর সিনাই পাড়ি দেওয়া খালিদ কর্তৃক শামের মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার মোকাবিলায় কী গুরুত্ব রাখতে পারে? এটা তো স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপার যে, মরুভূমির চেয়ে পাহাড়ি এলাকা পাড়ি দেওয়া অতি সহজ। কেননা, সেখানে পদে পদে জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ পানির উপস্থিতি থাকে প্রচুর। আর শামের মরুভূমির সঙ্গে তো সিনাই মরুভূমির কোনো তুলনাই চলে না। সিনাইয়ের জায়গায় জায়গায় পানির প্রচুর উৎস বিদ্যমান। এ ছাড়া সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জনবসতিও অনেক।
খালিদ কর্তৃক ওই মরুভূমি পাড়ি দিয়ে শাম পৌঁছার বাস্তবতা রোমানদের কাছে এক অলৌকিক কাজ মনে হচ্ছিল। তারা কিছুতেই যেন এই ধাঁধার সমাধান খুঁজে পাচ্ছিল না। বিষয়টি ভাবতেই বিস্ময়ে থ হয়ে যাচ্ছিল。
এ জন্যই ইরাক ও শামের মধ্যবর্তী যেসব শহর-বস্তির পাশ দিয়ে তিনি পথ অতিক্রম করছিলেন, সেগুলো শক্ত কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই পদানত হয়। সেসব এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের থেকেই আত্মসমর্পণ করে নিচ্ছিল। এই মুহূর্তে এদিক থেকে মুসলিমদের এত বড় বিশাল একটা বাহিনী আসতে পারে, এটা তারা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারছিল না。
ইতিহাসের সর্বকালের সফল সেনানায়করা খালিদের সামরিক দক্ষতা দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। দ্য ন্যাশন ইন দ্য আর্মস (The Nation in Arms) গ্রন্থের প্রণেতা জার্মানির প্রখ্যাত জেনারেল ফন ডার গোল্টজ (Freiherr von der Goltz) এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জার্মান-তুর্কি যৌথবাহিনীর এক সেনাকমান্ডার বলেন, 'খালিদ হচ্ছেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমার উসতাজ।
টিকাঃ
৩৬০ কাদাতু ফাতহিল ইরাক ওয়াল জাজিরা: ১৯৩; আল-হারবুন নাফসিয়াহ: ২/১৬৩。
৩৬৪ আল-হারবুন নাফসিয়াহ, ড. আহমাদ নাওফাল: ২/১৬২。
১৩৬৫ মাআরিকু খালিদিবনিল ওয়ালিদ জিদ্দাল ফুরুসি: ১৬৭।