📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 মরুপথে খালিদবাহিনীর বিস্ময়কর যাত্রা

📄 মরুপথে খালিদবাহিনীর বিস্ময়কর যাত্রা


এরপর মুসলিমবাহিনী কারাকির থেকে ওই পথ ধরে এগোতে থাকেন। কারাকির ছিল মরুভূমির কাছাকাছি ইরাকের শেষ শহর। এখান থেকে পথটা প্রথমে শামের সুবা বস্তিতে গিয়ে পৌঁছায়। দুই বস্তির মধ্যখানে দূরত্ব ছিল পাঁচ রাতের সমান। মুসলিমবাহিনী দিনে বিশ্রাম নিত এবং রাতে পথ চলত। খালিদ অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর রাফি ইবনু উমায়েরের ওপর আস্থা স্থাপন করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি তারকারাজির গতিপথ সম্পর্কে অভিজ্ঞ মিহরাজ মুহারিবিকেও সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাঁরা কেবল রাত আর ভোরেই সফর করতেন। দুপুরে মুরুভূমি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থেমে যেতেন, যাতে এক দিনে দুই মনজিল পরিমাণ পথ অতিক্রম করতে পারেন।
এদিকে সেনাপতি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা. তাঁর বাহিনীকে পায়ে না হেঁটে বাহনে চড়ে পথচলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে বাহিনীর শারীরিক সক্ষমতা ঠিক থাকে এবং শামে পৌঁছার আগেই ক্লান্ত হয়ে না পড়ে। যাত্রাপথে তাঁরা যেখানেই অবস্থান করতেন, সেখানে দুয়েকটা করে উট জবাই করে এগুলোর পেটের ভেতর সিবা পর্যন্ত অঞ্চল বেশ দুর্গম ছিল। তবে রাস্তাটা শাম যেতে অন্যান্য পথের চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল। খালিদ তাঁর বাহিনীর সামনে এই দুর্গম পথ নির্বাচনের কারণ খুলে বলেন। তিনি বলছিলেন, 'এ পথ ধরে এগোলে দ্রুত ও গোপনীয়তার সঙ্গে সেখানে পৌঁছা সম্ভব হবে।'
রাফি ইবনু উমায়ের খালিদের কাছে আগে থেকেই বড় বড় ২০টা উট প্রস্তুত রাখতে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর এ দাবি পূরণ করা হলে রাফি কয়েকদিন যাবৎ উটগুলোকে একফোঁটা পানিও পান করতে দেননি। যখন উটগুলো পিপাসায় অস্থির হয়ে ওঠে, তখন খুব পরিতৃপ্ত করে পানি পান করান। উটগুলো পানিতে পেট ভরে নেয়। এরপর উটগুলো যাতে তাদের পেটের ভেতরকার পানি পান করতে না পারে, এ জন্য সেগুলোর ঠোঁট কেটে মুখে মুখোশ পরিয়ে নেন। সব শেষে খালিদকে বলেন, 'এবার রওনা হতে পারেন। ঘোড়াগুলোর ওপর মালসামানা উঠিয়ে নিন। রাস্তায় যেখানেই অবস্থান করবেন, সেখানে এই উট থেকেই একটা একটা করে জবাই করে পানি বের করা হবে।'

টিকাঃ
350 আস-সিদ্দিক আওয়ালুল খুলাফা : ১৬৯-১৭০।
354 প্রাগুক্ত: ১৭১।
355 আল-হারবুন নাসফিয়া, ড. আহমাদ নাওফাল: ২/১৫৫。

এরপর মুসলিমবাহিনী কারাকির থেকে ওই পথ ধরে এগোতে থাকেন। কারাকির ছিল মরুভূমির কাছাকাছি ইরাকের শেষ শহর। এখান থেকে পথটা প্রথমে শামের সুবা বস্তিতে গিয়ে পৌঁছায়। দুই বস্তির মধ্যখানে দূরত্ব ছিল পাঁচ রাতের সমান। মুসলিমবাহিনী দিনে বিশ্রাম নিত এবং রাতে পথ চলত। খালিদ অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর রাফি ইবনু উমায়েরের ওপর আস্থা স্থাপন করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি তারকারাজির গতিপথ সম্পর্কে অভিজ্ঞ মিহরাজ মুহারিবিকেও সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাঁরা কেবল রাত আর ভোরেই সফর করতেন। দুপুরে মুরুভূমি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থেমে যেতেন, যাতে এক দিনে দুই মনজিল পরিমাণ পথ অতিক্রম করতে পারেন।
এদিকেকার পানি ঘোড়াগুলোকে পান করাতেন; আর নিজেদের সঙ্গে করে নেওয়া পানি নিজেরা পান করতেন।
পঞ্চম দিন পানি নিঃশেষ হয়ে গেলে খালিদ সঙ্গী-সাথিদের পিপাসার ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে রাফিকে বলেন, 'এই সংকটের সমাধান কী?' রাফিকে তখন চোখ-ওঠা রোগে পেয়ে বসেছিল। তিনি লোকজনকে বলেন, 'আপনারা এখানে ছোট হলেও একটা আওসাজগাছ খুঁজে বের করুন।' অনেক খোজাখুঁজির পর এর একটা ছোট্ট ডাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। রাফি তাদের ওই জায়গা খননের নির্দেশ দেন। কিছুটা খনন করতেই আল্লাহর অনুগ্রহে পানির ফোয়ারা বেরিয়ে আসে। বাহিনীর লোকজন তখন পরিতৃপ্ত হয়ে পানি পান করেন। এরপর খালিদ রা. বাহিনীকে নিয়ে নিরাপদে লক্ষ্যে পৌঁছে যান।
এই সফরে কতিপয় আরব খালিদকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, 'যদি ভোর হওয়া পর্যন্ত তোমরা অমুক গাছ পর্যন্ত পৌঁছতে পারো, তাহলে মুক্তি পেয়ে যাবে, অন্যথায় তোমাদের ধ্বংস অনিবার্য।' খালিদ রা. তাঁর বাহিনীকে নিয়ে তীব্রবেগে এগিয়ে যান এবং ভোর হওয়ার আগেই সেখানে পৌঁছে যান। তখন তিনি বলে ওঠেন,
عند الصباح يحمد القوم السرى (রাতের পথিকদের সকালে প্রশংসা করা হয়।)
এ কথাটা প্রথমে খালিদ রা.-ই বলেছিলেন। এরপর এটা আরবি ভাষার বহুল ব্যবহৃত প্রবাদে পরিণত হয়ে যায়। এই সফর সম্পর্কে একজন কতই-না সুন্দর বলেছেন,
রাফি সম্পর্কে কী বলব, কীভাবে তিনি কারাকির থেকে সিবার পথ পেয়ে গেলেন।
পাঁচ দিনের অব্যাহত যাত্রায় যখন সেনারা কেঁদে উঠেছিল
আমার ধারণা; আগে কোনো মানুষ এই মরু পাড়ি দেয়নি।
এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, খালিদের মতো অভিজ্ঞ কমান্ডার শঙ্কার কোনো পরোয়া করতেন না। তবে সেনাপতি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা. তাঁর বাহিনীকে পায়ে না হেঁটে বাহনে চড়ে পথচলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে বাহিনীর শারীরিক সক্ষমতা ঠিক থাকে এবং শামে পৌঁছার আগেই ক্লান্ত হয়ে না পড়ে। যাত্রাপথে তাঁরা যেখানেই অবস্থান করতেন, সেখানে দুয়েকটা করে উট জবাই করে এগুলোর পেটের ভেতরকার পানি ঘোড়াগুলোকে পান করাতেন; আর নিজেদের সঙ্গে করে নেওয়া পানি নিজেরা পান করতেন।
পঞ্চম দিন পানি নিঃশেষ হয়ে গেলে খালিদ সঙ্গী-সাথিদের পিপাসার ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে রাফিকে বলেন, 'এই সংকটের সমাধান কী?' রাফিকে তখন চোখ-ওঠা রোগে পেয়ে বসেছিল। তিনি লোকজনকে বলেন, 'আপনারা এখানে ছোট হলেও একটা আওসাজগাছ খুঁজে বের করুন।' অনেক খোজাখুঁজির পর এর একটা ছোট্ট ডাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। রাফি তাদের ওই জায়গা খননের নির্দেশ দেন। কিছুটা খনন করতেই আল্লাহর অনুগ্রহে পানির ফোয়ারা বেরিয়ে আসে। বাহিনীর লোকজন তখন পরিতৃপ্ত হয়ে পানি পান করেন। এরপর খালিদ রা. বাহিনীকে নিয়ে নিরাপদে লক্ষ্যে পৌঁছে যান।
এই সফরে কতিপয় আরব খালিদকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, 'যদি ভোর হওয়া পর্যন্ত তোমরা অমুক গাছ পর্যন্ত পৌঁছতে পারো, তাহলে মুক্তি পেয়ে যাবে, অন্যথায় তোমাদের ধ্বংস অনিবার্য।' খালিদ রা. তাঁর বাহিনীকে নিয়ে তীব্রবেগে এগিয়ে যান এবং ভোর হওয়ার আগেই সেখানে পৌঁছে যান। তখন তিনি বলে ওঠেন,
عند الصباح يحمد القوم السرى (রাতের পথিকদের সকালে প্রশংসা করা হয়।)
এ কথাটা প্রথমে খালিদ রা.-ই বলেছিলেন। এরপর এটা আরবি ভাষার বহুল ব্যবহৃত প্রবাদে পরিণত হয়ে যায়। এই সফর সম্পর্কে একজন কতই-না সুন্দর বলেছেন,
রাফি সম্পর্কে কী বলব, কীভাবে তিনি কারাকির থেকে সিবার পথ পেয়ে গেলেন।
পাঁচ দিনের অব্যাহত যাত্রায় যখন সেনারা কেঁদে উঠেছিল
আমার ধারণা; আগে কোনো মানুষ এই মরু পাড়ি দেয়নি।
মরুভূমি পাড়ি দিতে পানির ব্যবস্থাপনার জন্য যা যা করার দরকার, সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং লক্ষ্যে পৌঁছতে সফল হন।
যাত্রার পঞ্চম দিনে খালিদ রা. সিবায় গিয়ে উপনীত হন। এটা ছিল শাম এলাকার প্রথম বস্তি। তাঁরা তখন রোমানবাহিনীর পেছন দিকে ছিলেন। মাত্র পাঁচ দিনের ভেতর বিস্ময়কর সব বিপদে ঠাসা এই কঠিন মুরুভূমি পাড়ি দেওয়া ছিল সম্পূর্ণ অলৌকিক ব্যাপার; কিন্তু খালিদের ইমানি দৃঢ়তা ও সংকল্পের সামনে সকল বাধা পরাজিত হতে বাধ্য হয়। দুর্গম বিপৎসংকুল পথও তাঁর জন্য হয়ে ওঠে মসৃণ。

টিকাঃ
কারাকির- এটি সামাওয়াহ বস্তিতে কালব ঝরনার পাশে অবস্থিত। আর 'সিবা' হচ্ছে সামাওয়াহ বস্তির বাহরা ঝরনার পাশে অবস্থিত। আল-মুজাম, ইয়াকুত: ৩/২৮১, ৪/৩১৭。
১ মনজিলের দূরত্ব হচ্ছে ১৬ মাইল সমান。
আবু বাকরিনিস সিদ্দিক রা., খালিদ আল জুনাবি ও নাজার আল হাদিসি:এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, খালিদের মতো অভিজ্ঞ কমান্ডার শঙ্কার কোনো পরোয়া করতেন না। তবে মরুভূমি পাড়ি দিতে পানির ব্যবস্থাপনার জন্য যা যা করার দরকার, সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং লক্ষ্যে পৌঁছতে সফল হন।

টিকাঃ
কারাকির- এটি সামাওয়াহ বস্তিতে কালব ঝরনার পাশে অবস্থিত। আর 'সিবা' হচ্ছে সামাওয়াহ বস্তির বাহরা ঝরনার পাশে অবস্থিত। আল-মুজাম, ইয়াকুত: ৩/২৮১, ৪/৩১৭।
১ মনজিলের দূরত্ব হচ্ছে ১৬ মাইল সমান。

📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 শামে খালিদের বাহিনী

📄 শামে খালিদের বাহিনী


যাত্রার পঞ্চম দিনে খালিদ রা. সিবায় গিয়ে উপনীত হন। এটা ছিল শাম এলাকার প্রথম বস্তি। তাঁরা তখন রোমানবাহিনীর পেছন দিকে ছিলেন। মাত্র পাঁচ দিনের ভেতর বিস্ময়কর সব বিপদে ঠাসা এই কঠিন মুরুভূমি পাড়ি দেওয়া ছিল সম্পূর্ণ অলৌকিক ব্যাপার; কিন্তু খালিদের ইমানি দৃঢ়তা ও সংকল্পের সামনে সকল বাধা পরাজিত হতে বাধ্য হয়। দুর্গম বিপৎসংকুল পথও তাঁর জন্য হয়ে ওঠে মসৃণ。
খালিদ রা. শামের প্রথম সীমান্ত আদাকে পৌঁছে সেখানে হামলা চালান। জায়গাটা অবরোধ করে সন্ধির মাধ্যমে স্বাধীন করেন। এরপর পালমিরার দিকে এগিয়ে যান। সেখানকার লোকজন দুর্গবন্দি হয়ে পড়ে। তারা নিরাপত্তা কামনা করলে তাদের সঙ্গেও সন্ধি করেন। পালমিরা থেকে বেরিয়ে কারইয়াতাইন পৌঁছান এবং সেখানে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেন। কারইয়াতাইন বিজয় শেষে হাওয়ারিন অভিমুখে এগিয়ে যান। পরে সানিয়া নামক এলাকায় পৌঁছে সেখানে ‘উকাব’ পতাকা উত্তোলন করেন। এ পতাকাটি ছিল নবিজির তৈরি। এরই সূত্রে পরবর্তীকালে এই জায়গার নাম হয় ‘সানিয়াতুল উকাব’
এর পর যখন আজরা হয়ে পথ অতিক্রম করেন, তখন এই এলাকাও পদানত করে গাসসানিদের কাছ থেকে প্রচুর গনিমত অর্জন করেন। এভাবে একের পর এক এলাকা জয় করে অবশেষে দামেশকের পূর্বদিক হয়ে বসরায় যুদ্ধরত সাহাবিদের কাছে পৌঁছে যান। বসরার শাসক ৬৮。
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/৭
মারিকাতুল ইয়ারমুক, আল লিওয়া খালিল সায়িদ- আবু বাকরিনিস সিদ্দিক, খালিদ আল জুনাবি: ৬৮。

খালিদ রা. শামের প্রথম সীমান্ত আদাকে পৌঁছে সেখানে হামলা চালান। জায়গাটা অবরোধ করে সন্ধির মাধ্যমে স্বাধীন করেন। এরপর পালমিরার দিকে এগিয়ে যান। সেখানকার লোকজন দুর্গবন্দি হয়ে পড়ে। তারা নিরাপত্তা কামনা করলে তাদের সঙ্গেও সন্ধি করেন। পালমিরা থেকে বেরিয়ে কারইয়াতাইন পৌঁছান এবং সেখানে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেন। কারইয়াতাইন বিজয় শেষে হাওয়ারিন অভিমুখে এগিয়ে যান। পরে সানিয়া নামক এলাকায় পৌঁছে সেখানে ‘উকাব’ পতাকা উত্তোলন করেন। এ পতাকাটি ছিল নবিজির তৈরি। এরই সূত্রে পরবর্তীকালে এই জায়গার নাম হয় ‘সানিয়াতুল উকাব’
এর পর যখন আজরা হয়ে পথ অতিক্রম করেন, তখন এই এলাকাও পদানত করে গাসসানিদের কাছ থেকে প্রচুর গনিমত অর্জন করেন। এভাবে একের পর এক এলাকা জয় করে অবশেষে দামেশকের পূর্বদিক হয়ে বসরায় যুদ্ধরত সাহাবিদের কাছে পৌঁছে যান। বসরার শাসক তখন সন্ধি করে শহরটা মুসলিমদের হাতে ছেড়ে দেয়। আলহামদুলিল্লাহ, এটাই ছিল শামের প্রথম সেই শহর, যা মুসলিমরা জয় করেছিলেন।
খালিদ রা. বিলাল ইবনু হারিস মুজানির মাধ্যমে গাসসান থেকে লাভ করা গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ খলিফার দরবারে পাঠিয়ে দেন। এরপর আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ, মিরসাদ এবং শুরাহবিল রা.-দের সঙ্গে মিলে রোমানবাহিনী কর্তৃক তাড়িয়ে ফেরা আমর ইবনুল আসের কাছে পৌঁছে যান। এর ফলেই সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক আজনাদায়নযুদ্ধ。

টিকাঃ
৩৬১ আবু বাকরিনিস সিদ্দিক রা., খালিদ আল জুনাবি ও নাজার আল হাদিসি: ৬৮。
৩৬২ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/৬-৭。

📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: > 📄 দুর্গম মরুপথ পাড়ি দেওয়া খালিদের বীরত্বের প্রমাণ

📄 দুর্গম মরুপথ পাড়ি দেওয়া খালিদের বীরত্বের প্রমাণ


খালিদ রা. কেবল মুসলিমবাহিনীর সহায়তার উদ্দেশ্যেই অন্তহীন বিপদ মোকাবিলা করে অত্যন্ত দ্রুত এবং আচমকা শামে এসে পৌঁছান; অথচ তখনকার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই দুর্গম মরুভূমি পাড়ি দেওয়া ছিল প্রায় অলৌকিক ব্যাপার।
মাহমুদ শিত খাত্তাব বলেন, খালিদ রা. কর্তৃক অত্যন্ত দ্রুতগতি ও গোপনীয়তার সঙ্গে বিপৎসংকুল মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার নজির আমি সামরিক ইতিহাসে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাইনি। আমি বুঝি না, হ্যানিবল ও নেপোলিয়নের আল্পস পর্বত পাড়ি দেওয়া, একইভাবে নেপোলিয়নের সিনাই মরুভূমি অতিক্রম করা, আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইংরেজ সেনাবাহিনীর সিনাই পাড়ি দেওয়া খালিদ কর্তৃক শামের মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার মোকাবিলায় কী গুরুত্ব রাখতে পারে? এটা তো স্বতঃসিদ্ধ ব্যাপার যে, মরুভূমির চেয়ে পাহাড়ি এলাকা পাড়ি দেওয়া অতি সহজ। কেননা, সেখানে পদে পদে জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ পানির উপস্থিতি থাকে প্রচুর। আর শামের মরুভূমির সঙ্গে তো সিনাই মরুভূমির কোনো তুলনাই চলে না। সিনাইয়ের জায়গায় জায়গায় পানির প্রচুর উৎস বিদ্যমান। এ ছাড়া সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জনবসতিও অনেক।
খালিদ কর্তৃক ওই মরুভূমি পাড়ি দিয়ে শাম পৌঁছার বাস্তবতা রোমানদের কাছে এক অলৌকিক কাজ মনে হচ্ছিল। তারা কিছুতেই যেন এই ধাঁধার সমাধান খুঁজে পাচ্ছিল না। বিষয়টি ভাবতেই বিস্ময়ে থ হয়ে যাচ্ছিল。
এ জন্যই ইরাক ও শামের মধ্যবর্তী যেসব শহর-বস্তির পাশ দিয়ে তিনি পথ অতিক্রম করছিলেন, সেগুলো শক্ত কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই পদানত হয়। সেসব এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের থেকেই আত্মসমর্পণ করে নিচ্ছিল। এই মুহূর্তে এদিক থেকে মুসলিমদের এত বড় বিশাল একটা বাহিনী আসতে পারে, এটা তারা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারছিল না。
ইতিহাসের সর্বকালের সফল সেনানায়করা খালিদের সামরিক দক্ষতা দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। দ্য ন্যাশন ইন দ্য আর্মস (The Nation in Arms) গ্রন্থের প্রণেতা জার্মানির প্রখ্যাত জেনারেল ফন ডার গোল্টজ (Freiherr von der Goltz) এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জার্মান-তুর্কি যৌথবাহিনীর এক সেনাকমান্ডার বলেন, 'খালিদ হচ্ছেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমার উসতাজ।

টিকাঃ
৩৬০ কাদাতু ফাতহিল ইরাক ওয়াল জাজিরা: ১৯৩; আল-হারবুন নাফসিয়াহ: ২/১৬৩。
৩৬৪ আল-হারবুন নাফসিয়াহ, ড. আহমাদ নাওফাল: ২/১৬২。
১৩৬৫ মাআরিকু খালিদিবনিল ওয়ালিদ জিদ্দাল ফুরুসি: ১৬৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00