📘 খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা: 📄 মুসায়লিমাতুল কাজ্জাবকে হত্যা

📄 মুসায়লিমাতুল কাজ্জাবকে হত্যা


মুসলিমরা মুরতাদদের হত্যা করতে করতে একেবারে মুসায়লিমার নিকটবর্তী হয়ে যান। তার বাহিনীর শোচনীয় অবস্থা দেখে সে রাগে পাগলের মতো হয়ে একটা দেয়ালের ভাঙা অংশের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আত্মরক্ষার উপায় খুঁজছিল। শয়তান যখন তার ওপর সওয়ার হতো, তখন মুখ দিয়ে ফেনা বেরোতে থাকত। এ অবস্থায় উহুদযুদ্ধে হামজা রা.-কে শহিদকারী জুবায়ের ইবনু মুতয়িমের হাবশি গোলাম ওয়াহশি রা. মুসায়লিমাকে দেখতে পেয়ে ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে তাঁর সেই বিখ্যাত বর্শা ছুঁড়ে মারেন। বর্শাটা মুসায়লিমার বুকের একদিকে লেগে অপরদিকে বেরিয়ে যায়। এরপর দ্রুত আবু দুজানা সিমাক ইবনু খারশা তার দিকে অগ্রসর হন। তিনি তরবারি দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পাশের এক মহল থেকে এক মহিলা মুসায়লিমাকে হত্যার এই দৃশ্য দেখে চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে 'সৌন্দর্যের প্রতীক আমিরকে এক কৃষ্ণকায় গোলাম হত্যা করে ফেলেছে!'
যুদ্ধের ময়দান ও বাগান সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মুরতাদ নিহত হয়। এক বর্ণনামতে, এ সংখ্যা ছিল ২১ হাজার। আর শাহাদাতপিয়াসি মুসলিমের সংখ্যা ছিল ৬০০। অন্য এক বর্ণনায় শহিদের সংখ্যা ৫০০ ছিল বলে উল্লেখ হয়েছে (আল্লাহই ভালো জানেন)। শহিদদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় সাহাবিরাও ছিলেন।
এরপর খালিদ রা. নিহতদের পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে বের হন। মুজ্জাআ ইবনু মুরারা তাঁর পেছনে পেছনে শেকলবন্দি হয়ে চলছিল। তিনি তার মাধ্যমে নিহতদের মধ্যে মুসায়লিমার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চাচ্ছিলেন। রাজ্জাল ইবনু উনফুয়ার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খালিদ জিজ্ঞেস করেন, 'এ লোকটা কি মুসায়লিমা?' সে বলে, 'না, এ হচ্ছে রাজ্জাল ইবনু উনফুয়া। সে তার থেকে অনেক ভালো।' এরপর হলদেরাঙা চ্যাপ্টা নাকবিশিষ্ট লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে জিজ্ঞেস করেন, 'এ-ই নিশ্চয় তোমাদের নেতা? আল্লাহ এর আনুগত্যের কারণে তোমাদের ধ্বংস করেছেন।' এরপর খালিদ রা. অশ্বারোহী বাহিনীকে ইয়ামামার আশেপাশে ছড়িয়ে দেন, যেন তারা সেখানকার দুর্গসমূহ এবং সেগুলোর আশপাশ থেকে মালসামানা ও বন্দিদের নিয়ে আসেন。

টিকাঃ
২৫১ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৬/৩৩০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px