📄 মুসায়লিমার ওপর খালিদের চড়াও হওয়া
আবু বকর রা. খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন— ‘আসাদ, গাতফান ও মালিক ইবনু নুবায়রাকে দেখে নেওয়ার পর ইয়ামামা অভিমুখে এগিয়ে যাবে।’ বিষয়টাতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করছিলেন। শারিক আল ফাজারি বলেন, বুজাখার যুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিল, আমিও তাঁদের সঙ্গে ছিলাম। এরপর আমি খলিফার কাছে গেলে তিনি আমাকে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের কাছে পাঠিয়ে দেন। আমার মাধ্যমে খালিদকে উদ্দেশ্য করে একটা চিঠি পাঠান, তাতে লেখা ছিল,
বার্তাবাহকের মাধ্যমে তোমার চিঠি আমার হস্তগত হয়েছে। এতে বুজাখার যুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয় ও সাহায্যের কথা উল্লেখ আছে। এ ছাড়া আসাদ ও গাতফানের সঙ্গে তুমি যে ব্যবহার করেছ, তারও উল্লেখ আছে। তুমি আরও উল্লেখ করেছ, ‘আমি ইয়ামামার অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছি’; এ ক্ষেত্রে আমার উপদেশ থাকবে, এক-অদ্বিতীয় আল্লাহর তাকওয়া বুকে ধারণ করবে। তোমার সঙ্গে যে-সকল মুসলিম আছেন, তাঁদের সঙ্গে পিতার মতো আচরণ করবে।
খালিদ, সাবধান, বনু মুগিরার অহংকার ও ঔদ্ধত্য থেকে বেঁচে থাকবে। আমি তোমার সম্পর্কে তাদের কথা গ্রহণ করিনি, যাদের কথা আমি কখনোই প্রত্যাখ্যান করতাম না। অতএব, তুমি যখন বনু হানিফার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে, তখন সাবধানতা অবলম্বন করবে। স্মরণ রাখবে, বনু হানিফার মতো শক্তিশালী কারও সঙ্গে এখনো তোমার মোকাবিলা হয়নি। এরা সবাই তোমার বিরোধী। এদের শাসনাধীন এলাকা বেশ প্রশস্ত। অতএব, সেখানে পৌঁছে বাহিনীর কমান্ড নিজের হাতে উঠিয়ে নেবে। ডান বাহুতে একজন আর বাম বাহুতে একজন নির্দিষ্ট করে রাখবে। আর অশ্বারোহীদের নেতৃত্বও ঠিক করে দেবে। তোমার সঙ্গে যে-সকল আনসার ও মুহাজির প্রবীণ সাহাবি আছেন, প্রতিনিয়ত তাঁদের পরামর্শ নেবে। তাঁদের মর্যাদাকে সম্মান জানাবে। পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ময়দানে নামবে। শত্রুবাহিনী যখন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাবে, তখনই তাদের ওপর হামলে পড়বে। তিরের মোকাবিলায় তির, বর্শার মোকাবিলায় বর্শা ও তরবারির মোকাবিলায় তরবারি ব্যবহার করবে। তরবারির জোরে তাদের বন্দিদের উঠিয়ে নেবে। হত্যার মাধ্যমে ভীতি ছড়িয়ে দেবে। তাদের আগুনে ঠেলে দেবে। আমার নির্দেশ অমান্য করবে না। ওয়াসসালামু আলাইকা।
চিঠিপ্রাপ্তির পর খালিদ রা. সেটা পাঠ করে বলেন, 'আমরা তাঁর কথা শুনেছি। এসব নির্দেশ অবশ্যই বাস্তবায়ন করব।'
খালিদ মুসলিমবাহিনীকে প্রস্তুত করে বনু হানিফার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য এগিয়ে যান। আনসারদের নেতা নিযুক্ত হন সাবিত ইবনু কায়েস ইবনু শাম্মাস। মুরতাদদের যাদের সঙ্গেই পথে সাক্ষাৎ হতো, তিনি তাদের শিক্ষণীয় শাস্তি দিতেন। এদিকে আবু বকর খালিদের পেছন দিকের নিরাপত্তার জন্য বড় একটা সশস্ত্র বাহিনী পাঠিয়ে দেন। ইয়ামামার যাযাবর অনেক গোত্রের পাশ দিয়ে খালিদবাহিনীকে পথ চলতে হয়। সেসব গোত্রের লোকেরা মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। পথ অতিক্রমকালে খালিদ তাদের মোকাবিলা করে পুনরায় ইসলামের দিকে নিয়ে আসেন। পথে সাজাহের বিক্ষিপ্ত বাহিনীর সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তাদেরও হত্যা করে সামনের দিকে এগিয়ে যান। এরপর ইয়ামামার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন。
টিকাঃ
২০৪ শারিক আল ফাজারি রা. একজন সাহাবি। তিনি আবু বকর ও খালিদ রা.-এর মধ্যে যুদ্ধবিষয়ক পত্র আদানপ্রদানের দায়িত্বে ছিলেন।
২৩৫ হুরুবুর রিদ্দাহ, শাওকি আবু খালিল: ৭৮।
২৩৬ মাজমুআতুল ওয়াসায়িকিস সিয়াসিয়া: ৩৪৮-৩৪৯; হুরুবুর রিদ্দাহ, শাওকি আবু খালিল: ৭৯।
২৩৭ হুরুবুর রিদ্দাহ, শাওকি আবু খালিল: ৭৯।
২৩৮ আস-সিদ্দিক আওয়ালুল খুলাফা: ১০৫।
📄 খালিদবাহিনীর মোকাবিলায় মুসায়লিমার সেনাবিন্যাস
মুসায়লিমাতুল কাজ্জাব খালিদের বাহিনীর আগমন সম্পর্কে অবহিত হলে ইয়ামামার আকরিবা এলাকায় বাহিনী প্রস্তুত করে। ইয়ামামাবাসী তখন দলে দলে তার কাছে জড়ো হয় এবং সে লোকজনকে খালিদের মোকাবিলায় উদ্দীপ্ত করে। মুসায়লিমা তার বাহিনীর ডান ও বামে যথাক্রমে মুহকাম ইbনু তুফায়েল ও রাজ্জাল ইবনু উনফুয়াকে সেনাপতি নিযুক্ত করে।
এদিকে খালিদ রা. ইকরিমা ও শুরাহবিলের সঙ্গে মিলিত হন। অগ্রবাহিনীতে ছিলেন শুরাহবিল ইবনু হাসানা; আর সেনাবাহিনীর ডান ও বাম বাহুতে ছিলেন যথাক্রমে জায়েদ ইবনুল খাত্তাব ও আবু হুজায়ফা ইবনু উতবা ইবনু রাবিআ。
টিকাঃ
২৩৯ হুরুবুর রিদ্দাহ, শাওকি আবু খালিল: ৮০।
📄 মুজ্জাআ ইবনু মুরারা হানাফির গ্রেপ্তারি
- ৪০ অথবা ৬০ জন অশ্বারোহীর একটা বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিল মুজ্জাআ ইবনু মুরারা হানাফি। পথিমধ্যে তাদের সঙ্গে খালিদের অগ্রবর্তী বাহিনীর অকস্মাৎ দেখা হয়ে যায়। মুজ্জাআর এই বাহিনী মূলত বনু তামিম ও বনু আমির থেকে প্রতিশোধ নিতে বেরিয়েছিল। পথে মুসলিমরা তাদের গ্রেপ্তার করে খালিদের দরবারে নিয়ে আসে। খালিদ তাদের বলেন, 'তোমরা কী বলো?' তারা উত্তর দেয়, 'আমরা বলি, একজন নবি তোমাদের থেকে আর একজন আমাদের থেকে!' এমন উত্তর শুনে তাদের সবাইকে তিনি হত্যা করেন。
অন্য বর্ণনামতে, খালিদ তাদের জিজ্ঞেস করেন, 'তোমরা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়েছ?' তারা বলে, 'আপনাদের উপস্থিতি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা ছিল না। আমরা তো বনু তামিম ও আমির থেকে প্রতিশোধ নিতে বেরিয়েছি।' খালিদ তাদের কথা বিশ্বাস করেননি। তিনি মুসায়লিমার গোয়েন্দা ভেবে তাদের সবাইকে হত্যা করে ফেলেন। যখন তাদের হত্যা করা হচ্ছিল, তখন তারা মুজ্জাআর দিকে ইশারা করে বলে, 'আপনি ইয়ামামাবাসীর সঙ্গে কল্যাণ বা অকল্যাণ যা-ই চান না কেন, এর জন্য আমাদের নেতা মুজ্জাআকে বাঁচিয়ে রাখুন।' তিনি তাদের কথামতো মুজ্জাআকে বাঁচিয়ে রেখে বাকিদের হত্যা করেন。
মুজ্জাআ ছিল বনু হানিফার সরদার। সে অভিজাত ও অনুসরণীয় ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত ছিল। এরপর খালিদ রা. যেখানেই অবস্থান করতেন, তাকে পাশে ডাকতেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে খাবার খেতেন, কথাবার্তা বলতেন। একদিন বলেন, 'মুসায়লিমা সম্পর্কে কিছু বলো! সে কি তোমাকে কিছু পড়ে শোনাত? তার কোনো কথা তোমার স্মরণ আছে?' মুজ্জাআ বলে, 'হ্যাঁ, অবশ্যই স্মরণ আছে।' এরপর সে মুসায়লিমার মুখে শোনা প্রাণোদ্দীপক কিছু কবিতা আবৃত্তি করে। খালিদ তখন নিজের এক হাত অন্য হাতের উপর মেরে বলতে থাকেন, 'মুসলিমরা, শোনো, সে কীভাবে কুরআনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।' এরপর বলেন, 'মুজ্জাআ, তুমি একজন সরদার ও বুদ্ধিমান লোক। অতএব, আগে আল্লাহর কালাম শোনো, এরপর দেখো আল্লাহর এই শত্রু কীভাবে তাঁর কালামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। পরে খালিদ তাঁকে 'সুরা আলা' তিলাওয়াত করে শোনান।
তিলাওয়াত শোনার পর মুজ্জাআ বলে, 'বাহরাইনের একব্যক্তি ছিল মুসায়লিমার কাতিব। মুসায়লিমা তাকে একেবারে ঘনিষ্ঠ বানিয়ে নিয়েছিল। অন্য কেউ তার এত ঘনিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সে একদিন আমাদের কাছে এসে বলে, “হে ইয়ামামাবাসী, তোমাদের ধ্বংস হোক। আল্লাহর শপথ, তোমাদের সাথি মিথ্যাবাদী। আমার ধারণা, এতে তোমরা আমাকে অপবাদ আরোপকারী বলবে না। তোমরা জানো তার কাছে আমার মর্যাদা কোথায়; কিন্তু আল্লাহর শপথ, সে তোমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলছে। তোমাদের কাছ থেকে অন্যায়ের ওপর বায়আত নিচ্ছে।””
খালিদ বলেন, 'এরপর এই বাহরাইনি লোকটা কী করল?' মুজ্জাআ বলে, 'তার কাছ থেকে পালিয়ে যায়।' খালিদ বলেন, 'এই মিথ্যাবাদীর আরও কিছু মিথ্যা বর্ণনা করো।' মুজ্জাআ তখন উদ্দীপনাময়ী তার আরও কিছু পঙ্ক্তি তুলে ধরে। এসব শুনে খালিদ তাকে জিজ্ঞেস করেন, 'তুমি কি এগুলো বিশ্বাস করো? এগুলোকে হক মনে করো?' সে উত্তর দেয়, 'এগুলো যদি আমাদের কাছে সত্য মনে না হতো, তাহলে কাল আপনার বিরুদ্ধে ১০ হাজার তরবারি জমায়েত হতো না।' খালিদ বলেন, 'তোমাদের মোকাবিলায় আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তিনিই তাঁর দীনকে বিজয়ী করবেন। তারা আমাদের বিরুদ্ধে নয়; আল্লাহর দীনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাঁর দীনকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে。
জবাবটি খালিদের দৃঢ় ইমান এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতার স্পষ্ট দলিল। আল্লাহর ওপর অটল ইমান এবং দীনের ব্যাপারে আল্লাহর সাহায্যের ওপর শর্তহীন নির্ভরতার এই গুণ দুটিই খালিদের ব্যক্তিত্বের মধ্যে সামরিক সক্ষমতা এবং নেতৃপর্যায়ের দক্ষতার জন্ম দিয়েছিল। বুজাখাযুদ্ধে তিনি দুটি তরবারি নিয়ে যুদ্ধ চালিয়েছিলেন। একপর্যায়ে উভয় তরবারি ভেঙে গিয়েছিল। তাঁর অন্তর ইমানে পরিপূর্ণ। আল্লাহর ওপর ছিল অগাধ আস্থা। যে কারণে তিনি নিজেকে শক্তিমান অনুভব করতেন। তাঁর অন্তর ছিল শত্রুদের থেকে ভয়শূন্য। আর শত্রুর অন্তর থাকত আল্লাহর ভীতিতে পরিপূর্ণ। এটিই ছিল বিজয় ও সাহায্য অর্জন এবং শত্রুকে ধ্বংস করার প্রথম কারণ。
টিকাঃ
২৪০ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৬/৩২৮।
২৪১ তারিখুত তাবারি: ৪/১০৬; আস-সিদ্দিক আওয়ালুল খুলাফা: ১০৫।
২৪২ হুরুবুর রিদ্দাহ, শাওকি আবু খালিল: ৮২।
📄 সম্মুখসমর বা সরাসরি যুদ্ধ
খালিদ রা. লড়াইয়ের আগে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানোর পরিকল্পনা নেন। সুতরাং জিয়াদ ইবনু লাবিদকে তাঁর একসময়ের বন্ধু ইয়ামামার সরদার মুহকাম ইবনু তুফায়েলকে নিজের দিকে টেনে আনতে পাঠিয়ে দেন। খালিদ বলেন, 'যদি তুমি মুহকামকে এমন কোনো জিনিস পাঠাও, যার মাধ্যমে তাকে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতে পারো, তাহলে ভালো।' জিয়াদ তাকে নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিগুলো লিখে পাঠান,
যদি অশ্বারোহী মুজাহিদরা বর্শাসহ ইয়ামামামায় প্রবেশ করে
তাহলে ইয়ামামায় অনিঃশেষ যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।
আল্লাহর শপথ, বর্শার অগ্রপ্রান্ত তোমাদের থেকে ফিরে থাকবে না
যতক্ষণ-না তোমারা কওমে আদ ও সামুদের মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
একইভাবে খালিদ আগেই ইসলামগ্রহণ করা উমায়ের ইবনু সালিহ ইয়াশকুরির দিকে দৃষ্টি দেন। তিনি ছিলেন ইমানে সুদৃঢ় এবং বিশ্বাসে পাক্কা; কিন্তু তিনি তাঁর ইমান গোপন রাখছিলেন। খালিদ তাঁকে বলেছিলেন, 'তুমি তোমার গোত্রের কাছে যাও।' উমায়ের তাদের কাছে গিয়ে বলেন, 'খালিদ মুহাজির ও আনসারদের নিয়ে তোমাদের কাছে এসে গেছেন। আমি তাঁদের এমন জাতি হিসেবে দেখেছি, তোমরা যদি ধৈর্যের মাধ্যমে তাঁদের ওপর বিজয়ী হতে চাও, তাহলে তাঁরা আল্লাহর সাহায্য নিয়ে তোমাদের ওপর বিজয়ী হবে। আর যদি সংখ্যার দিক দিয়ে বিজয়ী হতে চাও, তাহলে তাঁরা আল্লাহর সহায়তা নিয়ে তোমাদের ওপর বিজয়ী হবে। তোমরা ও তাঁরা কোনো অবস্থায়ই সমান নও। ইসলাম এখানে অবশ্যই পৌঁছবে। অবশ্যই শিরক বিদূরিত হবে। তাঁদের সঙ্গী সত্যিকার নবি আর তোমাদের সঙ্গী মিথ্যুক। তাঁদের সঙ্গে আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, তোমাদের সঙ্গে আছে কেবল অহংকার। এখনো তরবারি খাপে আছে, তির তৃণীরে আছে। তরবারি তার খাপ থেকে উন্মুক্ত হওয়ার আগে, তির তৃণীর থেকে বেরোনোর আগে বাস্তবতা স্বীকার করে নাও।'
এরপর খালিদ রা. সুমামা ইবনু উসালের সঙ্গে মিলিত হন। তিনিও তাঁর জাতির কাছে যান। তাদের আনুগত্যের দাওয়াত দেন। তাদের ভেতর থেকে যুদ্ধের পাগলামি বের করে দিতে বলেন, 'দুই নবি একত্রে থাকতে পারেন না। নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ-এর পর কোনো নবি নেই, তাঁর সঙ্গেও কোনো নবি নেই। আবু বকর তোমাদের কাছে এমন মানুষ পাঠিয়েছেন, যাঁকে তাঁর মা-বাবার রাখা নামে ডাকা হয় না; “সাইফুল্লাহ” ডাকা হয়। তাঁর সঙ্গে আছে অগণিত তরবারি। অতএব, তোমরা নিজেদের নিয়ে চিন্তা করো।'
খালিদ রা. সুদৃঢ় পরিকল্পনা করেন। তিনি শত্রুবাহিনীকে দুর্বল মনে করেননি। রণাঙ্গনে সর্বদা চৌকশ থাকতেন, যাতে কোনো অসতর্ক মুহূর্তে শত্রু আক্রমণ করে বসতে না পারে, নতুন কোনো চক্রান্ত আঁটতে না পারে। তাঁর অনন্য এক গুণ ছিল, নিজে বিশ্রাম না নিয়ে অন্যকে বিশ্রামের সুযোগ দিতেন। পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাতযাপন করতেন। তাঁর কাছে শত্রুর কোনো বিষয়ই অস্পষ্ট থাকত না।
টিকাঃ
২৪৩ হারকাতুর রিদ্দাহ, ড. আলি আতুম: ২১৮-২১৯。
২৪৪ আল-হারবুন নাফসিয়াহ, আহমাদ নাওফাল: ১৪৪-১৪৫。