📄 তুলায়হার ইসলামগ্রহণ
তুলায়হা ইসলামগ্রহণ করেছিল। এরপর উমর রা. খলিফা মনোনীত হলে সে তাঁর হাতে বায়আতের জন্য মদিনায় উপস্থিত হয়। উমর বলেন, 'তুমি তো উক্কাশা ইবনু মিহসান ও সাবিত ইবনু আকরামের হত্যাকারী। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে কখনো পছন্দ করতে পারি না।' তুলায়হা বলে, 'আমিরুল মুমিনিন, আপনি আমাকে এমন দুই ব্যক্তির নামে অপরাধী সাব্যস্ত করেছেন, আল্লাহ আমার হাতে যাঁদের বিশাল মর্যাদা দান করেছেন। তাঁদের তিনি লজ্জিত ও অপমানিত করেননি।' এ কথা শুনে উমর রা. তার বায়আত নেন। এরপর বলেন, 'হে প্রতারিত ব্যক্তি, তোমার জ্যোতিষবাদের কিছু কি বাকি রয়েছে?' তুলায়হা বলে, 'কামারের চুলার একটা অথবা দুটো ফুঁক!'
এরপর তুলায়হা তাঁর গোত্রের কাছে চলে যান। সেখানে কিছুদিন বসবাসের পর ইরাক গিয়ে স্থায়ী হন। তাঁর ইসলামগ্রহণ ছিল অন্তর থেকে। এ ক্ষেত্রে তাঁকে সমালোচনায় বিদ্ধ করা যাবে না। তুলায়হা তাঁর দুর্বলতার ওপর লজ্জিত ও মর্মাহত হয়ে বলেছিলেন,
উক্কাশা ও সাবিত; এরপর মাবাদের মৃত্যুর ওপর আমি বড়ই লজ্জিত। উভয়কে হত্যার চেয়ে আমার বড় অপরাধ ছিল স্বেচ্ছায় জেনেবুঝে ইসলাম থেকে প্রত্যাবৃত্ত হওয়া। বিপদ অনেকই গেছে, এর মধ্যে ছিল দেশান্তরিত হওয়া। আমি তো বরাবরই দেশান্তরী জীবন কাটিয়েছি। সিদ্দিক কি আমার ফিরে আসাকে গ্রহণ করে নেবেন? তিনি কি বায়আতের জন্য তাঁর হাতটি আমার দিকে মেলে ধরবেন? ভ্রান্তির পর আমি কালিমায়ে শাহাদাতের সাক্ষ্য দিচ্ছি এই সাক্ষ্যে আমি নিশ্চিত যে, আমি মুলহিদ নই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মানুষের রবই আমার রব আমি লাঞ্ছিত আর মুহাম্মাদের দীনই সঠিক。
টিকাঃ
১৬৫ প্রাগুক্ত: ৯/৫৯; তারিখুত তাবারি: ৪/৮১।
১৬৬ দিওয়ানুর রিদ্দাহ, ড. আলি আতুম: ৮৬।