📄 বনু হারিস ইবনু কা‘আবের বিরুদ্ধে খালিদের যাত্রা
বনু হারিস ইবনু কাব নাজরানে থাকত। তখন পর্যন্ত তাদের গোত্রের কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। রাসুল দশম হিজরির রবিউল আউয়াল অথবা জুমাদাল উলায় খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে এই নির্দেশ দিয়ে পাঠান যে, তিনি তাদের পরপর তিনবার ইসলামের দিকে আহ্বান করবেন। যদি তারা সাড়া দেয়, তাহলে তা মেনে নেবেন; অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন। খালিদ রা. সেখানে গিয়ে তাদের ইসলামের দাওয়াত দিতে চারদিকে অশ্বারোহী পাঠান। বনু হারিস তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে ইসলামগ্রহণ করলে তিনি রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের মধ্যে অবস্থান করেন এবং তাঁদের ইসলাম, কিতাবুল্লাহ ও রাসুলের সুন্নাহ শিক্ষা দেন। এরপর রাসুলের কাছে গোত্রবাসীর ইসলামগ্রহণ এবং তাঁদের মধ্যে অবস্থান করার সংবাদ জানিয়ে চিঠি লিখলে রাসুল তাঁকে গোত্রবাসীর পক্ষ থেকে একটা প্রতিনিধিদল নিয়ে মদিনায় ফিরে আসতে বলেন। নবিজির নির্দেশ অনুযায়ী গোত্রের প্রতিনিধিদল নিয়ে মদিনায় রওনা হন খালিদ।
মদিনায় রওনা হওয়ার আগে কায়েস ইবনু হুসাইন রা.-কে তাঁদের নেতা মনোনীত করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের দীনি শিক্ষা প্রদান ও রাসুলের সুন্নাহ শেখাতে আমর ইবনু হাজম রা.-কে শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়।
অন্য বর্ণনায় আছে, রাসুল খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের পরিবর্তে আলি রা.-কে সেখানে পাঠিয়েছিলেন। পথিমধ্যে যখন তিনি হামাদান গোত্রে পৌঁছান, তখন তাঁদের সামনে রাসুলের চিঠি পাঠ করলে তাঁরা সবাই ইসলামগ্রহণ করে। আলি রা. রাসুলের কাছে তাঁদের ইসলামগ্রহণের কথা জানিয়ে চিঠি লিখলে তিনি তা পাঠে আনন্দিত হন এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। এরপর মাথা উঠিয়ে বলেন, 'হামাদানের ওপর শান্তি বর্ষুক! হামাদানের ওপর শান্তি বর্ষক!'
দক্ষিণাঞ্চল তথা ইয়ামেনবাসী ইসলাম গ্রহণ করুক—রাসুল তা মনেপ্রাণে প্রত্যাশা করতেন। তাঁর চাওয়ামতো দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করলে ইয়ামেন থেকে একের পর এক প্রতিনিধিদল মদিনায় আসতে শুরু করে। এ থেকে এটাও স্পষ্ট হয় যে, ইয়ামেন অভিমুখী বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের কার্যক্রম প্রায় একই সময়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালিত হয়েছিল। রাসুলের প্রতিনিধিদল মূলত শান্তিপূর্ণভাবে ইসলামি দাওয়াতের প্রতি মনোনিবেশ করত। আর এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়েই প্রথমে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ এবং পরে আলি ইবনু আবি তালিবকে পাঠানো হয়েছিল।
টিকাঃ
১১০. সিরাতু ইবনি হিশام: ৪/২৫০。
১১১. আল-ফিকহুস সিয়াসি লিল-ওসায়িকিন নাবাবিয়া: ২৩১。