📄 এঁরা কীসের লোভে বা ভয়ে মুসলমান হচ্ছেন?
বর্তমানে বিভিন্ন ধর্ম থেকে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করছেন, তারা কোন লোভে পড়ে, অত্যাচারিত হয়ে, অস্ত্রের ভয়ে বা ঝোঁকের মাথায় এটা করছেন না। বরং ব্যাপক অধ্যয়ন, গবেষণা, পর্যালোচনার পর ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করছেন। সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী অধিকাংশ নও-মুসলিমই সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি-রাষ্ট্রপ্রধান, ডক্টর, খেলোয়াড়, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ, ইঞ্জিনিয়ার, ধনকুবের জমিদার, সাংবাদিক বা কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এমনকি খ্রিস্টধর্মের ধারকবাহক অনেক বিখ্যাত পাদ্রীও বর্তমানে ইসলাম গ্রহণ করছেন। আমরা এখানে সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কয়েকজন ব্যক্তির নাম নিচে তুলে দিলাম যারা অস্ত্রের মুখে, লোভে পড়ে, অত্যাচারিত হয়ে বা ঝোঁকের মাথায় নয়, বরং বহু পড়ালেখা, চিন্তা গবেষণার পর ইসলামের সত্যতা প্রমাণ সাপেক্ষে মুসলমান হয়েছেন।
* তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ারের (তাঞ্জানিয়া)
* বিশ্বখ্যাত পপ সংগীত তারকা ক্যাট্স স্টিভেনস (ইংল্যান্ড)
* আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক ড. রোজার গারোদী (ফ্রান্স)
* শীর্ষস্থানীয় হিন্দু ধর্মগুরু ড. শিবশক্তিস্বরূপজী (ভারত)
* সুইডিস রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ কুনুত (সুইডেন)
* শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক বিজ্ঞানী ড. আর্থার জে. এলিসন (ব্রিটেন)
* প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ ও জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. ওলফ্রেড হকম্যান (জার্মানি)
* আমেরিকান বিশেষজ্ঞ ডা. যায়েদ ভ্যানকভ (আমেরিকা)
* কর্নেল এলবার্ট রেমস এলসি (ব্রিটেন)
* জেনারেল আনাতোলি আন্দ্রোপভ (রাশিয়া)
* আল-কুরআনের প্রখ্যাত অনুবাদক মার্মাডিউক পিকথল
* উচ্চ শিক্ষিত গোঁড়া ক্যাথলিক জে. এল. সি. ভান বীটেম (হল্যান্ড)
* গবেষক ও ধর্মপ্রচারক গ্যারী মিলার (কানাডা)
* প্রাক্তন হিন্দু পণ্ডিত হানওয়ারী লাল (পাঞ্জাব)
* মার্কিন মহাশূন্য বিজ্ঞানী জেমস আরউইন (আমেরিকা)
* যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জন এলিসন
* ক্যাথলিক পাদ্রী মাইকেল লেলং (ফ্রান্স)
* প্রখ্যাত দার্শনিক ও অধ্যাপক ইভা দ্য ভিদ্রে মেয়েরোভিন (ফ্রান্স)
* প্রখ্যাত পুস্তক প্রকাশক মাইকেল কডকীভিচ (ফ্রান্স)
* প্রভাবশালী পাদ্রী ইলাম কার্কিস (ইরিত্রিয়া)
* প্রখ্যাত বাস্কেটবল খেলোয়াড় ক্রিস জ্যাকসন (আমেরিকা)
* লর্ড হেডলী স্যার রোল্যান্ড জর্জ অ্যালানসন (ইংল্যান্ড)
* প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. মরিস বুকাইল (ফ্রান্স)
* বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও গ্রন্থকার ড. হামিদ মার্কাস (জার্মানী)
* ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. কোতাকী (জাপান)
* সমাজবিজ্ঞানী উইস ল জেজিরস্কি (পোল্যান্ড)
* নৃতত্ত্বের অধ্যাপক ড. রউফ ফ্রিহার গন ইরেনফেল (অস্ট্রিয়া)
* ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মেজর আব্দুল্লাহ বেটারসবি (ইংল্যান্ড)
* টেক্সাসের মেয়র চার্লস এডোয়ার্ড জেনকীনস (আমেরিকা)
* বিশ্ব হেভিওয়েট রেসলিং চ্যাম্পিয়ন এনটনি এনোকী (জাপান)
* প্রখ্যাত পাদ্রী ড. দীলু সানতোষ (ফিলিপাইন)
* ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ওলাদ্যো লর্জ ওয়েলসন (ডেনমার্ক)
* অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান ওমায়া (আমেরিকা)
* প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও গ্রন্থকার লিওপোল্ড উইস (পোল্যান্ড)
* প্রখ্যাত খ্রিস্টধর্ম প্রচারক ফাদার মার্টিন জন মাইপ পল (তাঞ্জানিয়া)
* প্রখ্যাত সমাজকর্মী টমাস ইরভিং (কানাডা)
* হিন্দু জমিদার শ্রী প্রতাপ চন্দ্র সেন (বাংলাদেশ)
* প্রখ্যাত দাওয়াতকর্মী জিয়ন ডাকলিন (কোরিয়া)
* বিশিষ্ট ধর্মপ্রচারক লি হোচা (চিন)
* প্রখ্যাত ইংরেজ লেখক এ. কেইন, (ইংল্যান্ড)
* ইংলিশ মুসলিম মিশনের প্রেসিডেন্ট জন ওয়েবস্টার (ইংল্যান্ড)
* বিখ্যাত কবি ও গ্রন্থকার রোল্যান্ড স্লোলিং (আমেরিকা)
* বিপ্লবী কবি লেয়ন জেমস (নিউ জার্সি)
* বিশিষ্ট পাদ্রী ও গোত্রপতি মিঃ আবুবকর কোশো (নাইজেরিয়া)
* প্রাক্তন খ্রিস্টধর্ম প্রচারক রেভালেন্ড পল (উগান্ডা)
* প্রখ্যাত গ্রন্থকার ও সংগঠন সুদর্শন ভট্টাচার্য (বাংলাদেশ)
* বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গ্রন্থকার সুরেন্দ্রনাথ রায় (বাংলাদেশ)
* আমেরিকান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার রাসেল ওয়েব (আমেরিকা)
* শব্দবিজ্ঞানী প্রফেসর হারুন মোস্তফা লিয়ন (ইংল্যান্ড)
* প্রফেসর রেভারেন্ড ডেভিড বেঞ্জামিন কেলদানী (ইরান)
* প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও নাট্যকার আব্দুল্লাহ আদিয়ার (ভারত)
* অধ্যাপক মাখনলাল ধর (বাংলাদেশ)
* বিখ্যাত গ্রন্থকার উইলিয়াম বার্চেল পিকার্ড (ইংল্যান্ড)
* বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ ও ধর্মপ্রচারক মোহাম্মদ আমান হবম (জার্মানি)
* মানব জাতিতত্ত্ব বিশারদ মোহাম্মদ সুলাইমান তাকীউচী (জাপান)
* রাষ্ট্রনায়ক স্যার জালালউদ্দীন লডার ক্রনটন (ইংল্যান্ড)
* অধ্যাপক ড. জুলিয়াস জার্মানাস পি. ডি (হাঙ্গেরী)
* চন্দ্র বিজয়ী নীল আর্মস্ট্রং (আমেরিকা)
* নৃতত্ত্ববিদ প্রফেসার আর. এল. মেল্লামা (হল্যান্ড)
* ড. রামদাস পি. এইচ. ডি.
* অধ্যাপিকা ড. বারবারা নেলসন (ইংল্যান্ড)
* অধ্যাপক ড. যিয়াউর রহমান আযমী পি.এইচ (ভারত)
* প্রিন্সেস জাবিদ এস. বানু (ভারত)
* অধ্যাপক ব্ল্যাঙ্কিন শিপ (আমেরিকা)
* ডা. মীর্জা দেহলীন (আমেরিকা)
* ধনকুবের লর্ড ওয়ার্সলে (লন্ডন)
* প্রফেসর ইয়াকুব জাকী (ব্রিটেন)
* ডা. হিরু ফুজী মাসু (জাপান)
* কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার ডেভিড মার্ক প্যাডকক (ব্রিটেন)
* ডাঃ শওকী ফুতাফী (জাপান)
* ডাক ও তার মন্ত্রী জোশিরো কুমিয়ামা (জাপান)
* মনোবিজ্ঞানী ইব্রাহীম জোরার্ড (আমেরিকা)
* বিশ্ব হেভিওয়েট মুষ্টিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন ড. ক্যাসিয়াস ক্লে (আমেরিকা)
* ওকীং স্পিরিচুয়ালিস্ট চার্চের প্রেসিডেন্ট জর্জ ফাউসার (ইংল্যান্ড)
* এডভোকেট কে. এল. গউবা বার এট. ল. (ভারত)
* কর্নেল ডোনাল্ড এস. রকওয়েল (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
* ড. মালিক রাম (ভারত)
* প্রখ্যাত ধর্মপ্রচারক শায়খ আহমদ দীদাত (দক্ষিণ আফ্রিকা)
* শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক শ্রী দুর্গাপ্রসাদ দেশমুখ (ভারত)
* রাজকুমার শ্রী বিশ্বেশ্বর রায় চৌধুরী (বাংলাদেশ)
* বিশ্ব হেভিওয়েট মুষ্টিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন মাইক টাইসন (আমেরিকা)
* প্রখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা ম্যালকম এক্স (আমেরিকা)
* ব্ল্যাক পান্থার পার্টির নেতা এইচ. র্যাপ ব্রাউন (আমেরিকা)
* আফ্রিকা ও পশ্চিম এশীয় খ্রিস্টান মিশনারী সংস্থার প্রধান পাদ্রী ইসহাক
* আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ পুত্র কার্নস মুনএম (আর্জেন্টিনা)
* প্রখ্যাত আর্চ-বিশপ হাজী আবুবকর (তানজানিয়া)
* লেবার পার্টির বিশিষ্ট নেতা জন স্ট্রাস্কাট (ইংল্যান্ড)
* ডা. মারিয়া (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
* পাঁচটি ভাষার পারদর্শী সাংবাদিক মিত্রসূতারো ইয়ামাওকা (জাপান)
* বিখ্যাত ব্যবসায়ী বুম্পাচিরো আরিজা (জাপান)
* উচ্চ শিক্ষিত ইংরেজ মিসেস সানথা (গ্রেট ব্রিটেন)
* মার্কিন যুবতী বার্টন ক্যালী (আমেরিকা)
* বিশ্ব চার্চ পরিষদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব
* মসিয়ে ফ্রেডারিন ডোলামার্ক (দক্ষিণ আফ্রিকা)
* কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার মিঃ আব্দুর রহিম মারটিনি
* রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইসা ম্যানুয়েল ম্যাকলালেদ (ফিলিপাইন)
* শীর্ষস্থানীয় খ্রিস্টান পাদ্রী ইসা (বুলগেরিয়া)
* সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্ক এ্যান্টিনিও ওটার্স (আমেরিকা)
* সাবেক খ্রিস্টান, ধর্মযাজক মিঃ সাঈদ ফাকাদ (ইথিওপিয়া)
* উচ্চ শিক্ষিত খ্রিস্টধর্ম প্রচারক সালেহ আল সুলায়মান (ম্যানিলা)
* সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অধ্যাপক হেনরী স্প্রোগ (ফ্রান্স)
স্থানাভাবে এখানে সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী মাত্র কয়েকজন মনীষীর কেবল নাম পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হল।
বর্তমানে বিভিন্ন ধর্ম থেকে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করছেন, তারা কোন লোভে পড়ে, অত্যাচারিত হয়ে, অস্ত্রের ভয়ে বা ঝোঁকের মাথায় এটা করছেন না। বরং ব্যাপক অধ্যয়ন, গবেষণা, পর্যালোচনার পর ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করছেন। সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী অধিকাংশ নও-মুসলিমই সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি-রাষ্ট্রপ্রধান, ডক্টর, খেলোয়াড়, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ, ইঞ্জিনিয়ার, ধনকুবের জমিদার, সাংবাদিক বা কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এমনকি খ্রিস্টধর্মের ধারকবাহক অনেক বিখ্যাত পাদ্রীও বর্তমানে ইসলাম গ্রহণ করছেন। আমরা এখানে সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কয়েকজন ব্যক্তির নাম নিচে তুলে দিলাম যারা অস্ত্রের মুখে, লোভে পড়ে, অত্যাচারিত হয়ে বা ঝোঁকের মাথায় নয়, বরং বহু পড়ালেখা, চিন্তা গবেষণার পর ইসলামের সত্যতা প্রমাণ সাপেক্ষে মুসলমান হয়েছেন।
* তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ারের (তাঞ্জানিয়া)
* বিশ্বখ্যাত পপ সংগীত তারকা ক্যাট্স স্টিভেনস (ইংল্যান্ড)
* আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক ড. রোজার গারোদী (ফ্রান্স)
* শীর্ষস্থানীয় হিন্দু ধর্মগুরু ড. শিবশক্তিস্বরূপজী (ভারত)
* সুইডিস রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ কুনুত (সুইডেন)
* শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক বিজ্ঞানী ড. আর্থার জে. এলিসন (ব্রিটেন)
* প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ ও জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. ওলফ্রেড হকম্যান (জার্মানি)
* আমেরিকান বিশেষজ্ঞ ডা. যায়েদ ভ্যানকভ (আমেরিকা)
* কর্নেল এলবার্ট রেমস এলসি (ব্রিটেন)
* জেনারেল আনাতোলি আন্দ্রোপভ (রাশিয়া)
* আল-কুরআনের প্রখ্যাত অনুবাদক মার্মাডিউক পিকথল
* উচ্চ শিক্ষিত গোঁড়া ক্যাথলিক জে. এল. সি. ভান বীটেম (হল্যান্ড)
* গবেষক ও ধর্মপ্রচারক গ্যারী মিলার (কানাডা)
* প্রাক্তন হিন্দু পণ্ডিত হানওয়ারী লাল (পাঞ্জাব)
* মার্কিন মহাশূন্য বিজ্ঞানী জেমস আরউইন (আমেরিকা)
* যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জন এলিসন
* ক্যাথলিক পাদ্রী মাইকেল লেলং (ফ্রান্স)
* প্রখ্যাত দার্শনিক ও অধ্যাপক ইভা দ্য ভিদ্রে মেয়েরোভিন (ফ্রান্স)
* প্রখ্যাত পুস্তক প্রকাশক মাইকেল কডকীভিচ (ফ্রান্স)
* প্রভাবশালী পাদ্রী ইলাম কার্কিস (ইরিত্রিয়া)
* প্রখ্যাত বাস্কেটবল খেলোয়াড় ক্রিস জ্যাকসন (আমেরিকা)
* লর্ড হেডলী স্যার রোল্যান্ড জর্জ অ্যালানসন (ইংল্যান্ড)
* প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. মরিস বুকাইল (ফ্রান্স)
* বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও গ্রন্থকার ড. হামিদ মার্কাস (জার্মানী)
* ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. কোতাকী (জাপান)
* সমাজবিজ্ঞানী উইস ল জেজিরস্কি (পোল্যান্ড)
* নৃতত্ত্বের অধ্যাপক ড. রউফ ফ্রিহার গন ইরেনফেল (অস্ট্রিয়া)
* ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মেজর আব্দুল্লাহ বেটারসবি (ইংল্যান্ড)
* টেক্সাসের মেয়র চার্লস এডোয়ার্ড জেনকীনস (আমেরিকা)
* বিশ্ব হেভিওয়েট রেসলিং চ্যাম্পিয়ন এনটনি এনোকী (জাপান)
* প্রখ্যাত পাদ্রী ড. দীলু সানতোষ (ফিলিপাইন)
* ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ওলাদ্যো লর্জ ওয়েলসন (ডেনমার্ক)
* অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান ওমায়া (আমেরিকা)
* প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও গ্রন্থকার লিওপোল্ড উইস (পোল্যান্ড)
* প্রখ্যাত খ্রিস্টধর্ম প্রচারক ফাদার মার্টিন জন মাইপ পল (তাঞ্জানিয়া)
* প্রখ্যাত সমাজকর্মী টমাস ইরভিং (কানাডা)
* হিন্দু জমিদার শ্রী প্রতাপ চন্দ্র সেন (বাংলাদেশ)
* প্রখ্যাত দাওয়াতকর্মী জিয়ন ডাকলিন (কোরিয়া)
* বিশিষ্ট ধর্মপ্রচারক লি হোচা (চিন)
* প্রখ্যাত ইংরেজ লেখক এ. কেইন, (ইংল্যান্ড)
* ইংলিশ মুসলিম মিশনের প্রেসিডেন্ট জন ওয়েবস্টার (ইংল্যান্ড)
* বিখ্যাত কবি ও গ্রন্থকার রোল্যান্ড স্লোলিং (আমেরিকা)
* বিপ্লবী কবি লেয়ন জেমস (নিউ জার্সি)
* বিশিষ্ট পাদ্রী ও গোত্রপতি মিঃ আবুবকর কোশো (নাইজেরিয়া)
* প্রাক্তন খ্রিস্টধর্ম প্রচারক রেভালেন্ড পল (উগান্ডা)
* প্রখ্যাত গ্রন্থকার ও সংগঠন সুদর্শন ভট্টাচার্য (বাংলাদেশ)
* বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গ্রন্থকার সুরেন্দ্রনাথ রায় (বাংলাদেশ)
* আমেরিকান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার রাসেল ওয়েব (আমেরিকা)
* শব্দবিজ্ঞানী প্রফেসর হারুন মোস্তফা লিয়ন (ইংল্যান্ড)
* প্রফেসর রেভারেন্ড ডেভিড বেঞ্জামিন কেলদানী (ইরান)
* প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও নাট্যকার আব্দুল্লাহ আদিয়ার (ভারত)
* অধ্যাপক মাখনলাল ধর (বাংলাদেশ)
* বিখ্যাত গ্রন্থকার উইলিয়াম বার্চেল পিকার্ড (ইংল্যান্ড)
* বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ ও ধর্মপ্রচারক মোহাম্মদ আমান হবম (জার্মানি)
* মানব জাতিতত্ত্ব বিশারদ মোহাম্মদ সুলাইমান তাকীউচী (জাপান)
* রাষ্ট্রনায়ক স্যার জালালউদ্দীন লডার ক্রনটন (ইংল্যান্ড)
* অধ্যাপক ড. জুলিয়াস জার্মানাস পি. ডি (হাঙ্গেরী)
* চন্দ্র বিজয়ী নীল আর্মস্ট্রং (আমেরিকা)
* নৃতত্ত্ববিদ প্রফেসার আর. এল. মেল্লামা (হল্যান্ড)
* ড. রামদাস পি. এইচ. ডি.
* অধ্যাপিকা ড. বারবারা নেলসন (ইংল্যান্ড)
* অধ্যাপক ড. যিয়াউর রহমান আযমী পি.এইচ (ভারত)
* প্রিন্সেস জাবিদ এস. বানু (ভারত)
* অধ্যাপক ব্ল্যাঙ্কিন শিপ (আমেরিকা)
* ডা. মীর্জা দেহলীন (আমেরিকা)
* ধনকুবের লর্ড ওয়ার্সলে (লন্ডন)
* প্রফেসর ইয়াকুব জাকী (ব্রিটেন)
* ডা. হিরু ফুজী মাসু (জাপান)
* কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার ডেভিড মার্ক প্যাডকক (ব্রিটেন)
* ডাঃ শওকী ফুতাফী (জাপান)
* ডাক ও তার মন্ত্রী জোশিরো কুমিয়ামা (জাপান)
* মনোবিজ্ঞানী ইব্রাহীম জোরার্ড (আমেরিকা)
* বিশ্ব হেভিওয়েট মুষ্টিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন ড. ক্যাসিয়াস ক্লে (আমেরিকা)
* ওকীং স্পিরিচুয়ালিস্ট চার্চের প্রেসিডেন্ট জর্জ ফাউসার (ইংল্যান্ড)
* এডভোকেট কে. এল. গউবা বার এট. ল. (ভারত)
* কর্নেল ডোনাল্ড এস. রকওয়েল (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
* ড. মালিক রাম (ভারত)
* প্রখ্যাত ধর্মপ্রচারক শায়খ আহমদ দীদাত (দক্ষিণ আফ্রিকা)
* শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক শ্রী দুর্গাপ্রসাদ দেশমুখ (ভারত)
* রাজকুমার শ্রী বিশ্বেশ্বর রায় চৌধুরী (বাংলাদেশ)
* বিশ্ব হেভিওয়েট মুষ্টিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন মাইক টাইসন (আমেরিকা)
* প্রখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা ম্যালকম এক্স (আমেরিকা)
* ব্ল্যাক পান্থার পার্টির নেতা এইচ. র্যাপ ব্রাউন (আমেরিকা)
* আফ্রিকা ও পশ্চিম এশীয় খ্রিস্টান মিশনারী সংস্থার প্রধান পাদ্রী ইসহাক
* আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ পুত্র কার্নস মুনএম (আর্জেন্টিনা)
* প্রখ্যাত আর্চ-বিশপ হাজী আবুবকর (তানজানিয়া)
* লেবার পার্টির বিশিষ্ট নেতা জন স্ট্রাস্কাট (ইংল্যান্ড)
* ডা. মারিয়া (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
* পাঁচটি ভাষার পারদর্শী সাংবাদিক মিত্রসূতারো ইয়ামাওকা (জাপান)
* বিখ্যাত ব্যবসায়ী বুম্পাচিরো আরিজা (জাপান)
* উচ্চ শিক্ষিত ইংরেজ মিসেস সানথা (গ্রেট ব্রিটেন)
* মার্কিন যুবতী বার্টন ক্যালী (আমেরিকা)
* বিশ্ব চার্চ পরিষদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব
* মসিয়ে ফ্রেডারিন ডোলামার্ক (দক্ষিণ আফ্রিকা)
* কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার মিঃ আব্দুর রহিম মারটিনি
* রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইসা ম্যানুয়েল ম্যাকলালেদ (ফিলিপাইন)
* শীর্ষস্থানীয় খ্রিস্টান পাদ্রী ইসা (বুলগেরিয়া)
* সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্ক এ্যান্টিনিও ওটার্স (আমেরিকা)
* সাবেক খ্রিস্টান, ধর্মযাজক মিঃ সাঈদ ফাকাদ (ইথিওপিয়া)
* উচ্চ শিক্ষিত খ্রিস্টধর্ম প্রচারক সালেহ আল সুলায়মান (ম্যানিলা)
* সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অধ্যাপক হেনরী স্প্রোগ (ফ্রান্স)
স্থানাভাবে এখানে সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী মাত্র কয়েকজন মনীষীর কেবল নাম পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হল।
📄 অমুসলিমদের সাথে নবীজি ﷺ-এর ব্যবহার
রাহমাতুললিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ ﷺ মুসলমানদের সাথে যেমন ভাল ব্যবহার করতেন, তেমনি ভাল ব্যবহার করতেন অমুসলিমদের সাথেও। যে সব কাফির ক্রমাগত বিশ বছর তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও নির্মম অত্যাচার চালিয়েছিল, পরবর্তীতে সেই কাফিররাই যখন পরাজিত অপরাধী হিসেবে তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল, তখন তিনি তাদেরকে কৃতকর্মের শাস্তি দান তো দূরের কথা, তাদের অতীত অপকর্ম সম্পর্কে একটি কথাও তাদেরকে জিজ্ঞেস করেননি। অথচ তারা তখনো কুফরীতেই লিপ্ত ছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকেই ছিল খুনী, সন্ত্রাসী ও নিরপরাধ মুসলমানদের ওপর নির্যাতনকারী। নিচে এ সম্পর্কিত কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হল।
আবু জাহল-এর ছেলের সঙ্গে
ইসলামের অন্যতম শত্রু আবু জাহলের ছেলের নাম ছিল ইকরামা। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে সেও তার পিতার মতই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ঘোরতর শত্রু ছিল। মক্কা বিজয়ের সময় সে সেখান থেকে পালিয়ে ইয়ামামায় চলে যায়। কিন্তু তার স্ত্রী ইতিপূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। সে ইয়ামামা গিয়ে স্বামীকে অভয় দেয় এবং তাকে ইসলামে দীক্ষিত করে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে হাজির করে। ইকরামার আগমনে প্রিয়নবী আনন্দের আতিশয্যে উঠে দাঁড়িয়ে এমন দ্রুতবেগে তার দিকে ধাবিত হন যে, তাঁর চাদরটি তখন কাঁধ থেকে খসে পড়ে মাটিতে গড়াচ্ছিল। তিনি এই বলে ইকরামাকে সাদর সম্ভাষণ জানান, 'হে প্রবাসী আরোহী! তোমার আগমন শুভ হোক।"
আবু সুফিয়ান-এর সঙ্গে
বদর যুদ্ধ থেকে শুরু করে মক্কা বিজয় পর্যন্ত অধিকাংশ যুদ্ধেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে আবু সুফিয়ান ছিল সক্রিয়। কিন্তু মক্কা বিজয়কালে সে মুসলমানদের হাতে বন্দি হলে পর হযরত আব্বাস (রা) তাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দরবারে এনে হাজির করেন। তখন রাহমাতুললিল আলামীন তার সঙ্গে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ করেন। যদিও হযরত ওমর (রা) আবু সুফিয়ানের অতীত অপরাধের শাস্তিস্বরূপ তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে নিবৃত্ত করে আবু সুফিয়ানকে পূর্ণ নিরাপত্তা দান করেন এবং তার গৃহকে মক্কার কাফিরদের 'নিরাপদ আশ্রয়' বলে ঘোষণা করেন এবং বলেন, যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের আশ্রয় নেবে তার অপরাধই ক্ষমা করে দেয়া হবে।
এক গুপ্তচর
ফুরাত ইবনে হাইয়ান নামক এক ব্যক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করত। আবু সুফিয়ান তাকে এই কাজে নিযুক্ত করেছিল। সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিরুদ্ধে কবিতা আবৃত্তি করে বেড়াতো। একদা সে মুসলমানদের হাতে ধরা পড়লে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন। সাহাবীরা এই আদেশ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে রওনা হন। পথে আনসারদের একটি বসতি অতিক্রম করার সময় ফুরাত উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করে বললো, আমি একজন মুসলিম। তখন জনৈক আনসারী এসে রাসূলুল্লাহকে ঐ সংবাদ দিলে তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যাদের ঈমানের বিষয়টি আমি তাদের উপরই ছেড়ে দিয়েছি এবং ফুরাত ইবনে হাইয়ান তাদেরই একজন।”
মক্কার মুয়াযযিন হলেন মাহজুরা
মক্কা বিজয়ের সময় হযরত বিলাল (রা) যখন কা'বার নিকটবর্তী পর্বত-শৃঙ্গে দাঁড়িয়ে আযান দিচ্ছিলেন, তখন আবু মাহজুরাসহ কতিপয় কাফির যুবক ব্যঙ্গ করে হযরত বিলালের আযান নকল করছিল। আবু মাহজুরা ছিল সুললিত কণ্ঠের অধিকারী। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কানে তার আওয়াজ পৌঁছামাত্র তিনি ঐ যুবকদের ডেকে পাঠালেন। সকলে হাযির হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে সেই ব্যক্তি যার কণ্ঠস্বর আমি এইমাত্র শুনতে পেলাম? তারা তখন মাহজুরার দিকে ইঙ্গিত করল। এবার রাসূলুল্লাহ ﷺ আবু মাহজুরা ব্যতীত অপর সকলকে ছেড়ে দিলেন।
পরবর্তীতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে হযরত আবু মাহজুরা (রা) বলতেন, একে একে সবাই চলে যাওয়ার পর যখন আমি একাকী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন আমার নিশ্চিত ধারণা হয়েছিল যে, তিনি বরং আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দেবেন। কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হল। তিনি বরং আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন 'আযান দাও'। আমি অনিচ্ছা সত্ত্বেও আযান দিলাম। আমার আযান শেষ হলে পর তিনি সস্নেহে আমার মাথায়, ললাটে এবং বক্ষ থেকে নাভি পর্যন্ত একবার হাত বুলিয়ে নিয়ে দু'আ করলেন, "হে আল্লাহ্ একে বরকত দান করুন।"
হযরত আবু মাহজুরা (রা) বলেন, "ইতিপূর্বে আমার অন্তরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা ছিল। কিন্তু তাঁর পবিত্র হাতের পরশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার সেই ঘৃণা এক অনুপম ভালবাসায় রূপান্তরিত হল। এ সময় আমি নিজেই তাঁর খিদমতে নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে মক্কার মুয়াযযিন নিয়োগ করুন।" আল্লাহর রাসূল তখন বললেন, "হ্যাঁ আমি তোমাকে মক্কার মুয়াযযিন নিয়োগ করলাম।"
পরে বিষয়টি সম্পর্কে আমি মক্কার আমিরকে অবহিত করে নিয়মিত আযান দিতে লাগলাম এবং মক্কাতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করলাম। অতঃপর আমি আমার জীবনের দীর্ঘ সময় এই খিদমতেই নিয়োজিত ছিলাম। হযরত আবু মাহজুরা হিজরি ৫৯ সালে মক্কাতেই ওফাতপ্রাপ্ত হন।
সুমামা ইবনে আসাল
মক্কা বিজয়ের পর একে একে আরবের সব গোত্রই দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল। যে গোত্রটি সর্বশেষ অবস্থায়ও ইসলাম গ্রহণ করল না, তারা হানীফা গোত্র। নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার মুসায়লামা কাযযাবও ছিল ঐ গোত্রভুক্ত। সুমামা ইবনে আসাল ছিল ঐ গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। ঘটনাক্রমে সে মুসলমানদের হাতে বন্দি হয় এবং তাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দরবারে এনে হাযির করা হয়। রাসূলুল্লাহ তাকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন।
পরের দিন রাসূলুল্লাহ মসজিদে গমন করে সুমামার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সে জবাব দিল, "হে মুহাম্মদ! তুমি যদি আমাকে হত্যা কর তবে একজন খুনীকেই হত্যা করবে, আর যদি আমার প্রতি অনুগ্রহ কর, তবে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ওপরই তোমার অনুগ্রহ করা হবে। পক্ষান্তরে আমার মুক্তির জন্য যদি কোন বিনিময় দাবি কর, তাহলে তা করতে পার। আমি তোমার দাবি অবশ্যই পূরণ করব।” রাসূলুল্লাহ তখন তার কথার কোন জবাব না দিয়ে নীরবে সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। দ্বিতীয় দিনেও উভয়ের মধ্যে ঐ একই ধরনের কথা হল। তৃতীয় দিনেও যখন সুমামা ঐ একই কথা বলল, তখন রাসূলুল্লাহ তার বাঁধন খুলে দিয়ে তাঁকে মুক্ত করে দেয়ার নির্দেশ দেন। সুমামার ওপর এই অপ্রত্যাশিত করুণার এমনি প্রভাব পড়ল যে, মুক্ত হওয়ার পর সে নিকটবর্তী একটি বৃক্ষের আড়ালে গিয়ে গোসল করল এবং মসজিদে নববীতে ফিরে কালিমা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করল। অতঃপর সে পিয়ারা নবী করীম ﷺ-এর খিদমতে হাযির হয়ে নিবেদন করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! এতদিন দুনিয়াতে আপনিই আমার কাছে সব চাইতে ঘৃণ্য ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু আজ আমার কাছে আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় ব্যক্তি আর কেউ নেই। এতদিন আমার কাছে আপনার ধর্মই ছিল সব চেয়ে নিকৃষ্ট ধর্ম, কিন্তু আজ তা আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয় ধর্ম। এতদিন আপনার শহরটি আমার কাছে সব চেয়ে অপ্রিয় জনপদ, কিন্তু আজ তা আমার কাছে সব চেয়ে প্রিয় জনপদ।
ঐ সময় মক্কার যাবতীয় খাদ্যশস্য আমদানি হত ইয়ামামা শহর থেকে। আর সুমামা ইবনে আসাল ছিলেন তখন ইয়ামামার নগরপতি। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি মক্কায় গেলে সেখানকার কুরাইশরা তাকে স্বধর্ম ত্যাগের কারণে ধিক্কার দিতে থাকে। তাদের ঐ আচরণে সুমামা অত্যন্ত আঘাত পান এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করেন, "আল্লাহ্র শপথ! এখন থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনুমতি ব্যতীত গমের একটি দানাও ইয়ামামা থেকে মক্কায় রফতানি করা হবে না।" অতঃপর সত্যি সত্যি তিনি মক্কায় শস্য রফতানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন। এই পরিস্থিতিতে মক্কায় ভয়াবহ খাদ্য সংকট দেখা দেয়। মক্কাবাসীরা কিছুতেই এই সংকটের কোন সমাধান করতে পারছিল না। অবশেষে বাধ্য হয়ে তারা এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শরণাপন্ন হয়। মক্কার অধিবাসীদের খাদ্য সংকটের সংবাদে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অন্তরে করুণার উদ্রেক হয় এবং তিনি হযরত সুমামাকে বলে পাঠান, এই খাদ্য অবরোধ উঠিয়ে নাও। পিয়ারা নবীর ঐ নির্দেশ পাওয়ার পর সুমামা পুনরায় মক্কায় খাদ্য রফতানি শুরু করেন।
মুনাফিকদের প্রতি উদারতা
আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল সারাটা জীবনই মুনাফিকীতে লিপ্ত ছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করার কোনো সুযোগই সে হাতছাড়া করত না। কুরাইশ কাফিরদের সঙ্গে এ ব্যাপারে তার গোপন পত্রালাপও চলত। আর তারই জের হিসেবে ওহুদ যুদ্ধের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সে তার বিপুল সংখ্যক অনুসারীসহ মুসলমানদের পক্ষ ত্যাগ করে মদিনায় ফিরে এসেছিল। হযরত আয়েশা (রা)-এর বিরুদ্ধে দুর্নাম রটনায় এই মুনাফিকই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল।
মুসলমানদের বিরুদ্ধে উক্ত মুনাফিক নেতার এতসব শত্রুতা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ ﷺ সর্বদা তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেছেন। এই দুরাচারী যখন মৃত্যু ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় তখন তার খোঁজখবর নেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে নিবেদন করেছিল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার অন্তিম বাসনা, আপনার পরিধেয় একটি জামা আমাকে দান করুন, যেন তাতে জড়িয়ে আমাকে দাফন করা হয়। আরো একটি অন্তিম বাসনা, আপনি স্বয়ং আমার জানাযা পড়াবেন।
আল্লাহর রাসূল মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ বিন উবাই-এর সকল বাসনাই পূরণ করেছিলেন। অথচ তার অতীত কার্যকলাপ উল্লেখ করে হযরত উমর (রা) রাসূলুল্লাহ-কে তার জানাযা হতে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। হযরত উমর (রা)-এর অনুরোধের জবাবে রাসূলুল্লাহ বলেছিলেন, "আমাকে যদি এ কথা বলা হত যে, আব্দুল্লাহ বিন উবাই-এর জন্য সত্তর বার মাগফিরাতের দু'আ করলে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে, তাহলে আমি তার চেয়েও অধিক কিছু করতাম।"
মুনাফিক সম্প্রদায় রাসূলুল্লাহ-এর এই উদারতা দেখে অবাক বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের এতসব অন্যায় আচরণ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ-এর এই সদয় আচরণের ফল এই দাঁড়িয়েছিল যে, অতঃপর তারা নিজেদের কৃত অপরাধের জন্য তওবা করে প্রকৃত অর্থেই মুসলমান হয়ে গিয়েছিল।
হযরত আবু যর গিফারী (রা)
হযরত আবু যর গিফারী (রা) নিজের কুফরী সময়কালীন এক ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, মদিনায় একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আতিথ্য গ্রহণ করেছিলাম। রাতে তাঁর ঘরের সব বকরির দুধ একাই পান করে ফেললাম। ফলে এই রাতে নবী করীম পরিবারের সকলকে অভুক্ত থাকতে হয়েছিল।
হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর মা
হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর মা ছিলেন কাফির। তিনি আপন ছেলের সঙ্গেই মদিনায় বসবাস করতেন এবং আপন অজ্ঞতার কারণে রাসূলুল্লাহ সম্পর্কে নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য করতেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা) পিয়ারা নবী করীম ﷺ-এর খিদমতে এসে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপন মাতার এই দুরাচারের কথা বর্ণনা করেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ তা শুনে রাগান্বিত হওয়ার পরিবর্তে বরং তার হিদায়াতের জন্য আল্লাহ্র দরবারে দু'আ করেন।
এক কাফিরের আতিথেয়তা
অনুরূপ অপর এক ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেছিলেন, “এক রাতে জনৈক কাফির রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আতিথ্য গ্রহণ করল। তিনি একটি বকরির দুধ এনে তার সামনে হাযির করলেন। সে ওটা পান করে আরো দুধ চাইল। তিনি আরেকটি বকরির দুধ নিয়ে এলেন। কিন্তু তাতেও সে তৃপ্ত হল না। আরো দুধ চাইল। এভাবে একে একে ঘরের সাতটি বকরির সমুদয় দুধ সে পান করে তবে ক্ষান্ত হল।"
মূলত সে উদ্দেশ্যেমূলকভাবেই এরূপ করছিল। রাসূলুল্লাহ তাঁর কুমতলব টের পাচ্ছিলেন। তবুও তিনি আপন উদারতার কারণে তাকে কিছুই বলেন নি। এর ফল হল এই যে, ইসলামের নবীর এই অনুপম উদারতায় মুগ্ধ হয়ে সে আল্লাহ্র দ্বীন গ্রহণ করে ধন্য হল।
সাধারণ ক্ষমা
মক্কার কুরাইশরা সত্যের পথ প্রদর্শক মহানবী ﷺ-কে যেভাবে কষ্ট দিয়েছে তা কারো অজানা নেই। এই জালিমরা মহানবী-এর ওপর প্রস্তর নিক্ষেপ করেছে। নানাবিধ গালিগালাজ করেছে। চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রেখেছে। পরিশেষে মহানবী এই জালিমদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আল্লাহ্র নির্দেশে স্বীয় জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মদিনা শরীফে এসে ইসলাম প্রচারের নতুন কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। সেখানেও মহানবীকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেয়া হয়নি। তারা মদিনার উপরও বার বার আক্রমণ চালাল। এই সব যুদ্ধে মহানবী ﷺ-এর বহু বন্ধু ও প্রিয়জন শহীদ হয়েছেন। মক্কায় যাঁরা ইসলাম প্রচারে সহযোগী ছিলেন তাঁদের ওপরে নানাবিধ জুলুম-অত্যাচার করা হয়েছে।
যেদিন মহানবী বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করলেন সেদিন মক্কার পাপিষ্ঠ কুরাইশ নেতৃবৃন্দকে অপরাধীরূপে মহানবী-এর সম্মুখে উপস্থিত করা হয়েছিল। যারা মহানবী ﷺ-কে নানাবিধ গালিগালাজ করেছিল এবং ইসলামকে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করবার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। হযরত বিলাল (রা)-এর গলায় রশি লাগিয়ে যারা রাস্তায় রাস্তায় টেনেছিল, যারা ইসলাম ও ইসলামের আহ্বায়ককে নানাবিধ ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, যারা বক্তৃতার সময় মহানবী-এর ওপর পাথর নিক্ষেপ করে তাঁর পবিত্র জুতা রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছিল, তারা সকলেই অপরাধীর মধ্যে শামিল ছিল। সমস্ত অপরাধীই তখন ভয়ে ছিল কম্পমান। তারা নিজ নিজ অতীত কর্মের কথা স্মরণ করে লজ্জিত ছিল। মহানবী না হয়ে অন্য কোন বিজয়ী সেনাপতি হলে ইসলামের ঘৃণিত এসব শত্রুকে হত্যা করতে দ্বিধা করত না। তিনি হয়ত বা কাউকেও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতেন, কাউকে হয়ত বা অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে মারতেন পরাজিত শত্রুর ওপর বিজয়ীদের নির্মম ও ধ্বংসের কাহিনীর ভুরি ভুরি প্রমাণ বিদ্যমান। কিন্তু মক্কাবিজয়ী মহানবী প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তিনি ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাবার কোন ফরমান জারি করেননি, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেবার কোন নির্দেশ দেননি। প্রতিশোধ গ্রহণ করবার জন্য হত্যা করেননি তাদের শিশুদের; বরং সকলের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেন। দয়ালু নবীর পক্ষ হতে ফরমান জারি হল-'তোমরা আজ সকলে নিরপরাধ। তোমরা সকলে মুক্ত। তোমরা নিজ নিজ গৃহে চলে যাও।'
সেনাবাহিনীর প্রতি নির্দেশ জারি করলেন, সাবধান! যে লোক অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করবে, তাকে হত্যা করবে না। যে লোক কা'বা ঘরের মধ্যে অথবা আবু সুফিয়ান ও হাকীম বিন হাযমের ঘরে প্রবেশ করবে, তাদেরকেও হত্যা করবে না। পলায়নপর ব্যক্তিদের পশ্চাদ্ধাবন করবে না। আহত ও বন্দিদেরকেও হত্যা করবে না। পুনরায় আল্লাহ্র সত্যনবী সমস্ত অপরাধীর প্রতি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন এবং সকলের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করে বললেন: 'লা তাসরীবা আলাইকুমুল ইয়াওমা ইযহাবু ফাআনতুমুত তুলাকাউ'- তোমরা আজ সকলে নিরপরাধ, তোমরা আজ মুক্ত, তোমরা নিজ নিজ ঘরে চলে যাও।
এক ইহুদির জানাযা
নবী করীম ﷺ এর কাছ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তা' দেখে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁকে বলা হল- ইয়া রাসূলুল্লাহ এতো এক ইহুদির লাশ। তিনি বললেন, কেন ইহুদি কী মানুষ নয়? ইসলামে তো মানুষ মাত্রেরই একটা মান ও মর্যাদা আছে।
মসজিদে ইহুদির পেশাব
হযরত নবীপাক ﷺ এবং তাঁর খলিফাগণ তাঁদের মহান জীবনের প্রতি পদক্ষেপ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে সব অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে তার দ্বিতীয় কোন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। একবার এক ইহুদি মসজিদে ঢুকে পেশাব শুরু করল। সাহাবায়ে কেরাম (রা) তাকে বাধা দিতে উদ্যত হলেন। হুজুর তাঁদেরকে থামিয়ে দিয়ে বললেন- 'ওকে বাধা দিও না, পেশাব করতে দাও। তা'না হলে যে ওর পেশাবের রোগ হয়ে যাবে।' পেশাব করা শেষ হলে হুজুর ইহুদিকে আদর করে কাছে ডেকে বুঝিয়ে বললেন- 'এটা আমাদের মসজিদ। এখানে আল্লাহ্ ইবাদত করা হয়। এখানে পেশাব করতে নেই।' হুজুরে পাক ﷺ-এর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ইহুদি মুসলমান হয়ে গেল।
বিধর্মী মেহমানের পায়খানা পরিষ্কার
আরেকবার এক বিধর্মী হুজুর ﷺ-এর মেহমান হল। হুজুর খুব যত্ন সহকারে তার মেহমানদারি করলেন। রাতের বেলা লোকটি বিছানায় পায়খানা করে রেখে পালিয়ে গেল। পরদিন হুজুর নিজ হাতে সব কাপড়গুলো ধুলেন। একটুও বিরক্ত হলেন না।
'আল্লাহ' শব্দে দাসুর-এর হাত থেকে তরবারি পড়ে গেল
মহানবী একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এই সুযোগে দাসুর নামে একজন শত্রু তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। শোরগোল করে সে মহানবী-কে ঘুম থেকে জাগাল। মহানবীর ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর ওপর উদ্যত। ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠল, 'এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?' মহানবী ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, 'আল্লাহ্!' শত্রু দাসুর মহানবীর এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের 'আল্লাহ্' শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি। মহানবী তার তরবারি তুলে নিয়ে বললেন, 'এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে দাসুর?' সে উত্তর দিল, 'কেউ নেই রক্ষা করার।' মহানবী বললেন, 'না, তোমাকেও আল্লাহ্ই রক্ষা করবেন।' এই বলে মহানবী তাঁকে তার তরবারি ফেরত দিলেন এবং চলে যেতে বললেন। বিস্মিত দাসুর তরবারি হাতে চলে চলে যেতে গিয়েও পারল না। ফিরে এসে মহানবীর হাতে হাত রেখে পাঠ করল 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।'
সমাপ্ত
রাহমাতুললিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ ﷺ মুসলমানদের সাথে যেমন ভাল ব্যবহার করতেন, তেমনি ভাল ব্যবহার করতেন অমুসলিমদের সাথেও। যে সব কাফির ক্রমাগত বিশ বছর তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও নির্মম অত্যাচার চালিয়েছিল, পরবর্তীতে সেই কাফিররাই যখন পরাজিত অপরাধী হিসেবে তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল, তখন তিনি তাদেরকে কৃতকর্মের শাস্তি দান তো দূরের কথা, তাদের অতীত অপকর্ম সম্পর্কে একটি কথাও তাদেরকে জিজ্ঞেস করেননি। অথচ তারা তখনো কুফরীতেই লিপ্ত ছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকেই ছিল খুনী, সন্ত্রাসী ও নিরপরাধ মুসলমানদের ওপর নির্যাতনকারী। নিচে এ সম্পর্কিত কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হল।
আবু জাহল-এর ছেলের সঙ্গে
ইসলামের অন্যতম শত্রু আবু জাহলের ছেলের নাম ছিল ইকরামা। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে সেও তার পিতার মতই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ঘোরতর শত্রু ছিল। মক্কা বিজয়ের সময় সে সেখান থেকে পালিয়ে ইয়ামামায় চলে যায়। কিন্তু তার স্ত্রী ইতিপূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। সে ইয়ামামা গিয়ে স্বামীকে অভয় দেয় এবং তাকে ইসলামে দীক্ষিত করে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে হাজির করে। ইকরামার আগমনে প্রিয়নবী আনন্দের আতিশয্যে উঠে দাঁড়িয়ে এমন দ্রুতবেগে তার দিকে ধাবিত হন যে, তাঁর চাদরটি তখন কাঁধ থেকে খসে পড়ে মাটিতে গড়াচ্ছিল। তিনি এই বলে ইকরামাকে সাদর সম্ভাষণ জানান, 'হে প্রবাসী আরোহী! তোমার আগমন শুভ হোক।"
আবু সুফিয়ান-এর সঙ্গে
বদর যুদ্ধ থেকে শুরু করে মক্কা বিজয় পর্যন্ত অধিকাংশ যুদ্ধেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে আবু সুফিয়ান ছিল সক্রিয়। কিন্তু মক্কা বিজয়কালে সে মুসলমানদের হাতে বন্দি হলে পর হযরত আব্বাস (রা) তাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দরবারে এনে হাজির করেন। তখন রাহমাতুললিল আলামীন তার সঙ্গে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ করেন। যদিও হযরত ওমর (রা) আবু সুফিয়ানের অতীত অপরাধের শাস্তিস্বরূপ তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে নিবৃত্ত করে আবু সুফিয়ানকে পূর্ণ নিরাপত্তা দান করেন এবং তার গৃহকে মক্কার কাফিরদের 'নিরাপদ আশ্রয়' বলে ঘোষণা করেন এবং বলেন, যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের আশ্রয় নেবে তার অপরাধই ক্ষমা করে দেয়া হবে।
এক গুপ্তচর
ফুরাত ইবনে হাইয়ান নামক এক ব্যক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করত। আবু সুফিয়ান তাকে এই কাজে নিযুক্ত করেছিল। সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিরুদ্ধে কবিতা আবৃত্তি করে বেড়াতো। একদা সে মুসলমানদের হাতে ধরা পড়লে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেন। সাহাবীরা এই আদেশ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে রওনা হন। পথে আনসারদের একটি বসতি অতিক্রম করার সময় ফুরাত উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করে বললো, আমি একজন মুসলিম। তখন জনৈক আনসারী এসে রাসূলুল্লাহকে ঐ সংবাদ দিলে তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যাদের ঈমানের বিষয়টি আমি তাদের উপরই ছেড়ে দিয়েছি এবং ফুরাত ইবনে হাইয়ান তাদেরই একজন।”
মক্কার মুয়াযযিন হলেন মাহজুরা
মক্কা বিজয়ের সময় হযরত বিলাল (রা) যখন কা'বার নিকটবর্তী পর্বত-শৃঙ্গে দাঁড়িয়ে আযান দিচ্ছিলেন, তখন আবু মাহজুরাসহ কতিপয় কাফির যুবক ব্যঙ্গ করে হযরত বিলালের আযান নকল করছিল। আবু মাহজুরা ছিল সুললিত কণ্ঠের অধিকারী। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কানে তার আওয়াজ পৌঁছামাত্র তিনি ঐ যুবকদের ডেকে পাঠালেন। সকলে হাযির হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে সেই ব্যক্তি যার কণ্ঠস্বর আমি এইমাত্র শুনতে পেলাম? তারা তখন মাহজুরার দিকে ইঙ্গিত করল। এবার রাসূলুল্লাহ ﷺ আবু মাহজুরা ব্যতীত অপর সকলকে ছেড়ে দিলেন।
পরবর্তীতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে হযরত আবু মাহজুরা (রা) বলতেন, একে একে সবাই চলে যাওয়ার পর যখন আমি একাকী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন আমার নিশ্চিত ধারণা হয়েছিল যে, তিনি বরং আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দেবেন। কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হল। তিনি বরং আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন 'আযান দাও'। আমি অনিচ্ছা সত্ত্বেও আযান দিলাম। আমার আযান শেষ হলে পর তিনি সস্নেহে আমার মাথায়, ললাটে এবং বক্ষ থেকে নাভি পর্যন্ত একবার হাত বুলিয়ে নিয়ে দু'আ করলেন, "হে আল্লাহ্ একে বরকত দান করুন।"
হযরত আবু মাহজুরা (রা) বলেন, "ইতিপূর্বে আমার অন্তরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা ছিল। কিন্তু তাঁর পবিত্র হাতের পরশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার সেই ঘৃণা এক অনুপম ভালবাসায় রূপান্তরিত হল। এ সময় আমি নিজেই তাঁর খিদমতে নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে মক্কার মুয়াযযিন নিয়োগ করুন।" আল্লাহর রাসূল তখন বললেন, "হ্যাঁ আমি তোমাকে মক্কার মুয়াযযিন নিয়োগ করলাম।"
পরে বিষয়টি সম্পর্কে আমি মক্কার আমিরকে অবহিত করে নিয়মিত আযান দিতে লাগলাম এবং মক্কাতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করলাম। অতঃপর আমি আমার জীবনের দীর্ঘ সময় এই খিদমতেই নিয়োজিত ছিলাম। হযরত আবু মাহজুরা হিজরি ৫৯ সালে মক্কাতেই ওফাতপ্রাপ্ত হন।
সুমামা ইবনে আসাল
মক্কা বিজয়ের পর একে একে আরবের সব গোত্রই দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল। যে গোত্রটি সর্বশেষ অবস্থায়ও ইসলাম গ্রহণ করল না, তারা হানীফা গোত্র। নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার মুসায়লামা কাযযাবও ছিল ঐ গোত্রভুক্ত। সুমামা ইবনে আসাল ছিল ঐ গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। ঘটনাক্রমে সে মুসলমানদের হাতে বন্দি হয় এবং তাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দরবারে এনে হাযির করা হয়। রাসূলুল্লাহ তাকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন।
পরের দিন রাসূলুল্লাহ মসজিদে গমন করে সুমামার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সে জবাব দিল, "হে মুহাম্মদ! তুমি যদি আমাকে হত্যা কর তবে একজন খুনীকেই হত্যা করবে, আর যদি আমার প্রতি অনুগ্রহ কর, তবে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ওপরই তোমার অনুগ্রহ করা হবে। পক্ষান্তরে আমার মুক্তির জন্য যদি কোন বিনিময় দাবি কর, তাহলে তা করতে পার। আমি তোমার দাবি অবশ্যই পূরণ করব।” রাসূলুল্লাহ তখন তার কথার কোন জবাব না দিয়ে নীরবে সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। দ্বিতীয় দিনেও উভয়ের মধ্যে ঐ একই ধরনের কথা হল। তৃতীয় দিনেও যখন সুমামা ঐ একই কথা বলল, তখন রাসূলুল্লাহ তার বাঁধন খুলে দিয়ে তাঁকে মুক্ত করে দেয়ার নির্দেশ দেন। সুমামার ওপর এই অপ্রত্যাশিত করুণার এমনি প্রভাব পড়ল যে, মুক্ত হওয়ার পর সে নিকটবর্তী একটি বৃক্ষের আড়ালে গিয়ে গোসল করল এবং মসজিদে নববীতে ফিরে কালিমা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করল। অতঃপর সে পিয়ারা নবী করীম ﷺ-এর খিদমতে হাযির হয়ে নিবেদন করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! এতদিন দুনিয়াতে আপনিই আমার কাছে সব চাইতে ঘৃণ্য ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু আজ আমার কাছে আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় ব্যক্তি আর কেউ নেই। এতদিন আমার কাছে আপনার ধর্মই ছিল সব চেয়ে নিকৃষ্ট ধর্ম, কিন্তু আজ তা আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয় ধর্ম। এতদিন আপনার শহরটি আমার কাছে সব চেয়ে অপ্রিয় জনপদ, কিন্তু আজ তা আমার কাছে সব চেয়ে প্রিয় জনপদ।
ঐ সময় মক্কার যাবতীয় খাদ্যশস্য আমদানি হত ইয়ামামা শহর থেকে। আর সুমামা ইবনে আসাল ছিলেন তখন ইয়ামামার নগরপতি। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি মক্কায় গেলে সেখানকার কুরাইশরা তাকে স্বধর্ম ত্যাগের কারণে ধিক্কার দিতে থাকে। তাদের ঐ আচরণে সুমামা অত্যন্ত আঘাত পান এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করেন, "আল্লাহ্র শপথ! এখন থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনুমতি ব্যতীত গমের একটি দানাও ইয়ামামা থেকে মক্কায় রফতানি করা হবে না।" অতঃপর সত্যি সত্যি তিনি মক্কায় শস্য রফতানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন। এই পরিস্থিতিতে মক্কায় ভয়াবহ খাদ্য সংকট দেখা দেয়। মক্কাবাসীরা কিছুতেই এই সংকটের কোন সমাধান করতে পারছিল না। অবশেষে বাধ্য হয়ে তারা এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শরণাপন্ন হয়। মক্কার অধিবাসীদের খাদ্য সংকটের সংবাদে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অন্তরে করুণার উদ্রেক হয় এবং তিনি হযরত সুমামাকে বলে পাঠান, এই খাদ্য অবরোধ উঠিয়ে নাও। পিয়ারা নবীর ঐ নির্দেশ পাওয়ার পর সুমামা পুনরায় মক্কায় খাদ্য রফতানি শুরু করেন।
মুনাফিকদের প্রতি উদারতা
আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল সারাটা জীবনই মুনাফিকীতে লিপ্ত ছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করার কোনো সুযোগই সে হাতছাড়া করত না। কুরাইশ কাফিরদের সঙ্গে এ ব্যাপারে তার গোপন পত্রালাপও চলত। আর তারই জের হিসেবে ওহুদ যুদ্ধের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সে তার বিপুল সংখ্যক অনুসারীসহ মুসলমানদের পক্ষ ত্যাগ করে মদিনায় ফিরে এসেছিল। হযরত আয়েশা (রা)-এর বিরুদ্ধে দুর্নাম রটনায় এই মুনাফিকই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল।
মুসলমানদের বিরুদ্ধে উক্ত মুনাফিক নেতার এতসব শত্রুতা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ ﷺ সর্বদা তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেছেন। এই দুরাচারী যখন মৃত্যু ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় তখন তার খোঁজখবর নেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে নিবেদন করেছিল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার অন্তিম বাসনা, আপনার পরিধেয় একটি জামা আমাকে দান করুন, যেন তাতে জড়িয়ে আমাকে দাফন করা হয়। আরো একটি অন্তিম বাসনা, আপনি স্বয়ং আমার জানাযা পড়াবেন।
আল্লাহর রাসূল মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ বিন উবাই-এর সকল বাসনাই পূরণ করেছিলেন। অথচ তার অতীত কার্যকলাপ উল্লেখ করে হযরত উমর (রা) রাসূলুল্লাহ-কে তার জানাযা হতে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। হযরত উমর (রা)-এর অনুরোধের জবাবে রাসূলুল্লাহ বলেছিলেন, "আমাকে যদি এ কথা বলা হত যে, আব্দুল্লাহ বিন উবাই-এর জন্য সত্তর বার মাগফিরাতের দু'আ করলে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে, তাহলে আমি তার চেয়েও অধিক কিছু করতাম।"
মুনাফিক সম্প্রদায় রাসূলুল্লাহ-এর এই উদারতা দেখে অবাক বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের এতসব অন্যায় আচরণ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ-এর এই সদয় আচরণের ফল এই দাঁড়িয়েছিল যে, অতঃপর তারা নিজেদের কৃত অপরাধের জন্য তওবা করে প্রকৃত অর্থেই মুসলমান হয়ে গিয়েছিল।
হযরত আবু যর গিফারী (রা)
হযরত আবু যর গিফারী (রা) নিজের কুফরী সময়কালীন এক ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, মদিনায় একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আতিথ্য গ্রহণ করেছিলাম। রাতে তাঁর ঘরের সব বকরির দুধ একাই পান করে ফেললাম। ফলে এই রাতে নবী করীম পরিবারের সকলকে অভুক্ত থাকতে হয়েছিল।
হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর মা
হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর মা ছিলেন কাফির। তিনি আপন ছেলের সঙ্গেই মদিনায় বসবাস করতেন এবং আপন অজ্ঞতার কারণে রাসূলুল্লাহ সম্পর্কে নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য করতেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা) পিয়ারা নবী করীম ﷺ-এর খিদমতে এসে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপন মাতার এই দুরাচারের কথা বর্ণনা করেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ তা শুনে রাগান্বিত হওয়ার পরিবর্তে বরং তার হিদায়াতের জন্য আল্লাহ্র দরবারে দু'আ করেন।
এক কাফিরের আতিথেয়তা
অনুরূপ অপর এক ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেছিলেন, “এক রাতে জনৈক কাফির রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আতিথ্য গ্রহণ করল। তিনি একটি বকরির দুধ এনে তার সামনে হাযির করলেন। সে ওটা পান করে আরো দুধ চাইল। তিনি আরেকটি বকরির দুধ নিয়ে এলেন। কিন্তু তাতেও সে তৃপ্ত হল না। আরো দুধ চাইল। এভাবে একে একে ঘরের সাতটি বকরির সমুদয় দুধ সে পান করে তবে ক্ষান্ত হল।"
মূলত সে উদ্দেশ্যেমূলকভাবেই এরূপ করছিল। রাসূলুল্লাহ তাঁর কুমতলব টের পাচ্ছিলেন। তবুও তিনি আপন উদারতার কারণে তাকে কিছুই বলেন নি। এর ফল হল এই যে, ইসলামের নবীর এই অনুপম উদারতায় মুগ্ধ হয়ে সে আল্লাহ্র দ্বীন গ্রহণ করে ধন্য হল।
সাধারণ ক্ষমা
মক্কার কুরাইশরা সত্যের পথ প্রদর্শক মহানবী ﷺ-কে যেভাবে কষ্ট দিয়েছে তা কারো অজানা নেই। এই জালিমরা মহানবী-এর ওপর প্রস্তর নিক্ষেপ করেছে। নানাবিধ গালিগালাজ করেছে। চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রেখেছে। পরিশেষে মহানবী এই জালিমদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আল্লাহ্র নির্দেশে স্বীয় জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মদিনা শরীফে এসে ইসলাম প্রচারের নতুন কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। সেখানেও মহানবীকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেয়া হয়নি। তারা মদিনার উপরও বার বার আক্রমণ চালাল। এই সব যুদ্ধে মহানবী ﷺ-এর বহু বন্ধু ও প্রিয়জন শহীদ হয়েছেন। মক্কায় যাঁরা ইসলাম প্রচারে সহযোগী ছিলেন তাঁদের ওপরে নানাবিধ জুলুম-অত্যাচার করা হয়েছে।
যেদিন মহানবী বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করলেন সেদিন মক্কার পাপিষ্ঠ কুরাইশ নেতৃবৃন্দকে অপরাধীরূপে মহানবী-এর সম্মুখে উপস্থিত করা হয়েছিল। যারা মহানবী ﷺ-কে নানাবিধ গালিগালাজ করেছিল এবং ইসলামকে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করবার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। হযরত বিলাল (রা)-এর গলায় রশি লাগিয়ে যারা রাস্তায় রাস্তায় টেনেছিল, যারা ইসলাম ও ইসলামের আহ্বায়ককে নানাবিধ ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, যারা বক্তৃতার সময় মহানবী-এর ওপর পাথর নিক্ষেপ করে তাঁর পবিত্র জুতা রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছিল, তারা সকলেই অপরাধীর মধ্যে শামিল ছিল। সমস্ত অপরাধীই তখন ভয়ে ছিল কম্পমান। তারা নিজ নিজ অতীত কর্মের কথা স্মরণ করে লজ্জিত ছিল। মহানবী না হয়ে অন্য কোন বিজয়ী সেনাপতি হলে ইসলামের ঘৃণিত এসব শত্রুকে হত্যা করতে দ্বিধা করত না। তিনি হয়ত বা কাউকেও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতেন, কাউকে হয়ত বা অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে মারতেন পরাজিত শত্রুর ওপর বিজয়ীদের নির্মম ও ধ্বংসের কাহিনীর ভুরি ভুরি প্রমাণ বিদ্যমান। কিন্তু মক্কাবিজয়ী মহানবী প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তিনি ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাবার কোন ফরমান জারি করেননি, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেবার কোন নির্দেশ দেননি। প্রতিশোধ গ্রহণ করবার জন্য হত্যা করেননি তাদের শিশুদের; বরং সকলের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেন। দয়ালু নবীর পক্ষ হতে ফরমান জারি হল-'তোমরা আজ সকলে নিরপরাধ। তোমরা সকলে মুক্ত। তোমরা নিজ নিজ গৃহে চলে যাও।'
সেনাবাহিনীর প্রতি নির্দেশ জারি করলেন, সাবধান! যে লোক অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করবে, তাকে হত্যা করবে না। যে লোক কা'বা ঘরের মধ্যে অথবা আবু সুফিয়ান ও হাকীম বিন হাযমের ঘরে প্রবেশ করবে, তাদেরকেও হত্যা করবে না। পলায়নপর ব্যক্তিদের পশ্চাদ্ধাবন করবে না। আহত ও বন্দিদেরকেও হত্যা করবে না। পুনরায় আল্লাহ্র সত্যনবী সমস্ত অপরাধীর প্রতি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন এবং সকলের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করে বললেন: 'লা তাসরীবা আলাইকুমুল ইয়াওমা ইযহাবু ফাআনতুমুত তুলাকাউ'- তোমরা আজ সকলে নিরপরাধ, তোমরা আজ মুক্ত, তোমরা নিজ নিজ ঘরে চলে যাও।
এক ইহুদির জানাযা
নবী করীম ﷺ এর কাছ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তা' দেখে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁকে বলা হল- ইয়া রাসূলুল্লাহ এতো এক ইহুদির লাশ। তিনি বললেন, কেন ইহুদি কী মানুষ নয়? ইসলামে তো মানুষ মাত্রেরই একটা মান ও মর্যাদা আছে।
মসজিদে ইহুদির পেশাব
হযরত নবীপাক ﷺ এবং তাঁর খলিফাগণ তাঁদের মহান জীবনের প্রতি পদক্ষেপ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে সব অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে তার দ্বিতীয় কোন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। একবার এক ইহুদি মসজিদে ঢুকে পেশাব শুরু করল। সাহাবায়ে কেরাম (রা) তাকে বাধা দিতে উদ্যত হলেন। হুজুর তাঁদেরকে থামিয়ে দিয়ে বললেন- 'ওকে বাধা দিও না, পেশাব করতে দাও। তা'না হলে যে ওর পেশাবের রোগ হয়ে যাবে।' পেশাব করা শেষ হলে হুজুর ইহুদিকে আদর করে কাছে ডেকে বুঝিয়ে বললেন- 'এটা আমাদের মসজিদ। এখানে আল্লাহ্ ইবাদত করা হয়। এখানে পেশাব করতে নেই।' হুজুরে পাক ﷺ-এর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ইহুদি মুসলমান হয়ে গেল।
বিধর্মী মেহমানের পায়খানা পরিষ্কার
আরেকবার এক বিধর্মী হুজুর ﷺ-এর মেহমান হল। হুজুর খুব যত্ন সহকারে তার মেহমানদারি করলেন। রাতের বেলা লোকটি বিছানায় পায়খানা করে রেখে পালিয়ে গেল। পরদিন হুজুর নিজ হাতে সব কাপড়গুলো ধুলেন। একটুও বিরক্ত হলেন না।
'আল্লাহ' শব্দে দাসুর-এর হাত থেকে তরবারি পড়ে গেল
মহানবী একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এই সুযোগে দাসুর নামে একজন শত্রু তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। শোরগোল করে সে মহানবী-কে ঘুম থেকে জাগাল। মহানবীর ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর ওপর উদ্যত। ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠল, 'এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?' মহানবী ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, 'আল্লাহ্!' শত্রু দাসুর মহানবীর এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের 'আল্লাহ্' শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি। মহানবী তার তরবারি তুলে নিয়ে বললেন, 'এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে দাসুর?' সে উত্তর দিল, 'কেউ নেই রক্ষা করার।' মহানবী বললেন, 'না, তোমাকেও আল্লাহ্ই রক্ষা করবেন।' এই বলে মহানবী তাঁকে তার তরবারি ফেরত দিলেন এবং চলে যেতে বললেন। বিস্মিত দাসুর তরবারি হাতে চলে চলে যেতে গিয়েও পারল না। ফিরে এসে মহানবীর হাতে হাত রেখে পাঠ করল 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।'
সমাপ্ত