📄 পশ্চিমাদের সমালোচনা করা কি ঠিক?
প্রশ্ন ১২ (মহিলা): আমি একজন কনভার্টেট মুসলমান। মুসলমান হওয়ার আগে ইসলাম সম্পর্কে আমার খুব খারাপ ধারণা ছিল। এর কারণ, আমি যে মুসলমানদের দেখেছিলাম, তারা ভাল ছিল না। ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম। কিন্তু সব সময় অন্য ধর্মের সমালোচনা করা কি ঠিক? মানে আমি বলতে চাচ্ছি এভাবে কথা বলাটা ঠিক না। পশ্চিমাদের এতো বেশি সমালোচনা করা যেমন- ধর্ষণের কথা বলেছেন, মুসলিম দেশেও সেটা হয়, মধ্যপ্রাচ্যেও হয়। হয়তো এতো বেশি রিপোর্ট করা হয় না। কিন্তু এখানেও হয়। তাহলে পশ্চিমাদের ওপর এতো বেশি আক্রমণ কেন? আপনি বললেন যে, অমুসলিমরা বলে যে, ইসলাম মহিলাদের ছোট করে দেখে। কুরআনে অনেক কথাই বলা হয়েছে পুরুষ আর মহিলাদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু পুরুষদের যেগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো সবাই এড়িয়ে যায় আর মহিলাদের জন্য যা বলা হয়েছে সেগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
আপনি একটু আগে বললেন, গুণী স্বামী এবং স্ত্রীর কথা। কিন্তু যখন বিভিন্ন বই পড়ি সেখানে লেখা থাকে কেবল গুণবতী স্ত্রীর কথা। আর শুধুই বলা হচ্ছে মহিলাদের কি কি করা উচিত। এমনটা কেন করা হচ্ছে? আমরা এরকম করি বলেই অনেক সময় অমুসলিমদের বোঝানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বইগুলোতে কিভাবে ভালো স্ত্রী হওয়া যায় সে কথা লিখার পাশাপাশি কিভাবে একজন ভাল স্বামী হওয়া যায় সে কথাও কেন লেখা হয় না? এখানে উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, রাসূল নিজে স্ত্রীদের গৃহস্থালীর বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতেন। সব জায়গায় সব কিছুতেই কেবল মহিলাদের কথা বলা হচ্ছে। যেমন, মহিলাদের এটা করা উচিত, এটা করা উচিত নয়। ইসলাম ধর্ম একথাই বলছে। আর এভাবে অমুসলিমদের দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: বোন, আপনি খুবই সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। তিনি রিভার্ট হয়েছেন এজন্য তাকে জানাই অভিনন্দন। তিনি বলছিলেন কিভাবে পশ্চিমাদের সাথে ব্যবহার করা উচিত, কথা বলা উচিত। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় "কেন পশ্চিমারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন", বিষয় এইটা না যে, পশ্চিমাদের কিভাবে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে?" তাদের মুসলমান হওয়ার কারণ বলছি। আর বলার ক্ষেত্রে কোদালটাকে কোদালই বলছি।
আর বোন, আপনি ঠিকই বলেছেন, অন্য ধর্মের সমালোচনা করা উচিত না। কারণ, পবিত্র কুরআনের সূরা আল আনআমের ১০৮ নং আয়াতে আছে,
وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهُ عَدُوَّا بِغَيْرِ عِلْمٍ .
অর্থ: আল্লাহকে ব্যতীত যাদেরকে তারা ডাকে, তাদেরকে গালি দিও না। কেননা, অজ্ঞান বশত তারা সীমা লংঘন করে আল্লাহকেও গালি দিতে পারে।
আপনি বলেছেন যে, আমি পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা করছি। বোন, সমালোচনা করা মানে আমি যেটা বলব যে, কোন প্রমাণ ছাড়া বলা। আমি যা বলছি তা আমেরিকারই পরিসংখ্যান। তাহলে আমাকে দোষ দিচ্ছেন কেন? সমালোচনা করা মানে কোন একটা পয়েন্ট ধরে সেটাকে নিয়ে প্যাঁচানো আর এটা পশ্চিমারাই বেশি করে। পশ্চিমারা খুব গর্বিত যে, তারা খুব স্পষ্টবাদী। তারা বলে যে, আমরা সাহসী, সত্যবাদী। আলহামদুলিল্লাহ, আর আমিও সত্যবাদী। তারা মিডিয়াতে দেখায় যে, মেয়েদের ছোট করে দেখা হয় আর আমি এফ. বি. আই.-এর রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি। ধর্ষণের যে পরিসংখ্যান আমি দিয়েছি, সেটা কোন মুসলমান নয়, পশ্চিমারাই লিখেছে। তাই তারা বলতে পারবে না যে, জাকির সমালোচনা করছে। আর এজন্য আমি ব্যবহার করেছি আমার হিকমা।
আপনি বললেন, ধর্ষণের ঘটনা অন্যান্য দেশেও ঘটছে; কিন্তু রিপোর্ট করা হচ্ছে না। আমি আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না। ধর্ষণ খুব বেশি হয় পশ্চিমা বিশ্বে; কিন্তু ওখানেই রিপোর্ট করা হয় না। কারণ, এটা ওখানে এতই সাধারণ যে রিপোর্টই করা হয় না। খবরের কাগজে খুব ছোট করে লেখা থাকে। অন্য কোনো দেশে ধর্ষণ হলে হেডলাইনে আসবে। আমি বলছি না যে এখানে ধর্ষণ হয় না। ধর্ষণ পুরো পৃথিবীতেই হয়। সবচেয়ে কম ধর্ষণ হয় মুসলিম দেশগুলোতে। যেসব দেশে ইসলামিক শরিয়া নেই, সেখানে হয়। পৃথিবীতে সবচেয়ে কম ধর্ষণ হয় সৌদি আরবে। সবচেয়ে কম। সেখানেও ধর্ষণ হয়। কারণ সেখানেও কুলাঙ্গার থাকে। সবচেয়ে কম ডাকাতির ঘটনা ঘটে সৌদি আরবে। অনেক মুসলিম দেশ আছে যারা ইসলাম অনুসরণ করে না, তারা হলো নকল মুসলমান। এসব দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে খবরের কাগজের হেডলাইন হয়। কারণ এটা একটা কলঙ্কিত ঘটনা। আর আমেরিকায় এটা হলো দৈনন্দিন জীবন। যেমন একজন রোগী বলল তার যৌনরোগ আছে, ডাক্তার বলল যে তারও আছে। তারা নির্লজ্জ সুতরাং অবাক হওয়ার কিছুই নেই। বোন, আমি যেহেতু সত্যি কথা বলছি, সেহেতু আমাকে বলতে হবেই। আমি ভদ্র ভাষায় বলেছি 'জনগণের সম্পত্তি' গনিকা কিন্তু এটাইতো সত্যি। লোকে সমালোচনা মনে করলেও কোদালকে আমি কোদালই বলব। পশ্চিমারা (আলহামদুলিল্লাহ) এ রকম স্পষ্ট কথাই পছন্দ করে।
আপনি যদি খ্রিস্টানদেরকে বলেন, তোমরা শিরক কর না। এসব থামাও। এটা তোমাদের জন্য ভালো। একথা আপনি যত ভদ্রভাবে বলেন, সে কষ্ট পাবেই। কোন মানুষকে মিথ্যা হতে মুক্ত করতে চাইলে সে কষ্ট পাবেই। আপনি যদি খুব ভদ্রভাবেও কোন খ্রিস্টানকে জিজ্ঞেস করেন, 'কেন তুমি যীশু খ্রিস্টের পূজা কর?” তারপরও সে কষ্ট পাবে। এমন তো নয় যে আমি তাদের অপমান করার জন্যই এভাবে বলছি। আমি এখানে শুধু তাদেরই পরিসংখ্যান দিয়েছি। এই হল আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর।
আপনার তৃতীয় প্রশ্নটা হলো কেন মুসলমান পণ্ডিতরা শুধু মহিলাদের কথা বলে পুরুষদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে কিছু বলে না কেন? বোন, আমার "ইসলামে মেয়েদের অধিকার" ক্যাসেটটি আপনার দেখা উচিত। আমার লেকচার শুনে লোকজন প্রশ্ন করেছিল আমি কখন 'ইসলামে পুরুষের অধিকার' নিয়ে বলব। আমি আমার ক্যাসেটে বলেছি স্ত্রীর সাথে স্বামীর কিভাবে ব্যবহার করা উচিত। এমনকি আজকেও আমি যখন হিজাবের কথা বলছিলাম, তখন ঠিক সেই কথাটাই বলেছি যা আপনি বলেছেন। সাধারণ মুসলমান বক্তারা মেয়েদের হিজাবের কথা বলে। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন প্রথমে পুরুষের হিজাবের কথা। আপনি যদি ইসলামের নিরপেক্ষ পথ দেখতে চান, আমার ভিডিও ক্যাসেটগুলো দেখতে পারেন। সেখানে আপনি দেখতে পাবেন, একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে কি রকম ব্যবহার করবে, তার দায়িত্ব ও কর্তব্য কি সেসব কথা। অনেক পুরুষই আমার এ রকম কথা পছন্দ করে নি।
বোন, আমি আগেও বলেছি যে, ইসলাম পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে সাম্যবাদে বিশ্বাস করে। তবে সাম্যবাদ মানে অভিন্নতা নয়। পুরুষ-মহিলা সমান কিন্তু তারা একই রকম নয়। আমি আমার লেকচারে মহিলাদের আধ্যাত্মিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আইনগত ও শিক্ষার অধিকারের কথা বলেছি। পশ্চিমা বিশ্ব যে মানব সভ্যতার কথা বলে সেটা ছদ্মাবরণ মাত্র। শরীরকে শোষণ করা, সম্মানের অবমাননা এবং আত্মাকে বঞ্চিত করা ছাড়া আর কিছুই করে না তারা। মহিলাদের অধিকারের কথা বলে তাদেরকে উপপত্নীর, রক্ষিতার স্তরে নামিয়ে দিচ্ছে তারা। তারা পরিণত হচ্ছে আনন্দ, পিয়াসী আর সেক্স ব্যবসায়ীদের হাতের খেলনায়। আর্ট এবং কালচারের রঙ্গীন জগতের মাধ্যমে তাদেরকে প্রলোভিত ও অপব্যবহার করছে।
পুরুষ ও মহিলা মানুষ হিসেবে সমান। কিন্তু তাদের দৈহিক ও মানসিক গঠন আলাদা। পুরুষরা মহিলাদের সব কাজ করতে পারে না। মহিলারাও পুরুষদের সব কাজ করতে পারে না। আমি এখন থেকে সন্তান ধারণ ও জন্মদান করতে পারব না।
قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ صَحَابَتِي؟ قَالَ أَمَّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَمَّكَ ، قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَمُّكَ ، قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ أَبُوكَ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ أُمَّكَ ثُمَّ أُمَّكَ ثُمَّ أَمُّكَ ثُمَّ أَبَاكَ ثُمَّ أَدْنَاكَ فَأَدْنَاكَ .
(বুখারী ও মুসলিম) অর্থ: একলোক নবীজির কাছে এসে বলল, পৃথিবীতে আমার ভালোবাসা ও সাহচর্য সবচেয়ে বেশি কার প্রাপ্য? নবীজি বললেন, তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার? তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার। তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার? তিনি বললেন, তোমার পিতার। তারপর নিকট আত্মীয়, তারপর পর্যায়ক্রমে।
তার মানে চারভাগের তিনভাগ ভালোবাসা আর সাহচর্যের দাবিদার মা আর এক ভাগ মাত্র পিতার। এখন আমি বলতে পারব না যে, মাকে এত বেশি অধিকার দেয়া হচ্ছে কেন, আমিও সন্তানের জন্ম দেব। ধরুন, একটা ক্লাসে দুইজন ছাত্র আছে, "A" আর "B"। তারা দুজনেই ১০০ নাম্বারের মধ্যে ৮০ নাম্বার পেয়ে যৌথভাবে প্রথম হলো। প্রশ্নের পেপারে ১০টি প্রশ্ন ছিল যার প্রত্যেকটিতে ১০ নাম্বার। এখন, এক নাম্বার প্রশ্নের উত্তরে যার নাম "A" সে ১০ এর মধ্যে ৯ পেয়েছে। আর "B" পেয়েছে ১০-এ ৭। তাহলে ১ নাম্বার প্রশ্নে "A" "B" এর চেয়ে ভাল। ২নং প্রশ্নে "A" ১০ই পেল ৭ আর "B" পেল ১০-এর মধ্যে ৯। তাহলে ২ নং প্রশ্নের "B" "A" এর চেয়ে ভাল। বাকি ৮টি প্রশ্নের উত্তরে দুজনই ১০-এ ৮ পেল। সব মিলিয়ে দুজনেই ১০০-তে পেয়েছে ৮০। তবে ১ নং প্রশ্নে "A" "B" এর চেয়েও ভাল। আবার ২নং প্রশ্নে "B" "A" এর চেয়েও ভালো। এমনিভাবে, পুরুষ আর মহিলা সমান; কিন্তু তারা একই রকম নয়। ধরুন, আমার বাড়িতে ডাকাত আসল ডাকাতি করার জন্য। আমি বলব না যে, পুরুষ আর মহিলা সমান। আমি আমার স্ত্রী আর বোনকে বলব না গিয়ে মারামারি করতে।
সূরা নেসার ৩৫ নং আয়াতে আছে- الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ .
অর্থ: পুরুষরা মহিলাদের নেতা (তত্ত্বাবধায়ক)।
শক্তির দিক থেকে পুরুষ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। অর্থাৎ কিছু কিছু ব্যাপারে পুরুষ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। আর কিছু কিছু ব্যাপারে মহিলারা সুবিধাজনক অবস্থানে। সব মিলিয়ে পুরুষ-মহিলা সমান। "স্বামীর কর্তব্য" নিয়ে ইসলামিক কোন বই নেই। ইনশাআল্লাহ, আপনি রিসার্চ করে বক্তব্য দেবেন। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন। আপনি যেহেতু রিভার্ট হয়েছেন, আপনি বক্তব্য দিলে সেটার প্রভাব ভালমতো পড়বে। আমি অনুরোধ করব আমার ক্যাসেটগুলো দেখেন। আপনার ধারণা বদলাবে। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।
প্রশ্ন ১২ (মহিলা): আমি একজন কনভার্টেট মুসলমান। মুসলমান হওয়ার আগে ইসলাম সম্পর্কে আমার খুব খারাপ ধারণা ছিল। এর কারণ, আমি যে মুসলমানদের দেখেছিলাম, তারা ভাল ছিল না। ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম। কিন্তু সব সময় অন্য ধর্মের সমালোচনা করা কি ঠিক? মানে আমি বলতে চাচ্ছি এভাবে কথা বলাটা ঠিক না। পশ্চিমাদের এতো বেশি সমালোচনা করা যেমন- ধর্ষণের কথা বলেছেন, মুসলিম দেশেও সেটা হয়, মধ্যপ্রাচ্যেও হয়। হয়তো এতো বেশি রিপোর্ট করা হয় না। কিন্তু এখানেও হয়। তাহলে পশ্চিমাদের ওপর এতো বেশি আক্রমণ কেন? আপনি বললেন যে, অমুসলিমরা বলে যে, ইসলাম মহিলাদের ছোট করে দেখে। কুরআনে অনেক কথাই বলা হয়েছে পুরুষ আর মহিলাদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু পুরুষদের যেগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো সবাই এড়িয়ে যায় আর মহিলাদের জন্য যা বলা হয়েছে সেগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
আপনি একটু আগে বললেন, গুণী স্বামী এবং স্ত্রীর কথা। কিন্তু যখন বিভিন্ন বই পড়ি সেখানে লেখা থাকে কেবল গুণবতী স্ত্রীর কথা। আর শুধুই বলা হচ্ছে মহিলাদের কি কি করা উচিত। এমনটা কেন করা হচ্ছে? আমরা এরকম করি বলেই অনেক সময় অমুসলিমদের বোঝানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বইগুলোতে কিভাবে ভালো স্ত্রী হওয়া যায় সে কথা লিখার পাশাপাশি কিভাবে একজন ভাল স্বামী হওয়া যায় সে কথাও কেন লেখা হয় না? এখানে উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, রাসূল নিজে স্ত্রীদের গৃহস্থালীর বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতেন। সব জায়গায় সব কিছুতেই কেবল মহিলাদের কথা বলা হচ্ছে। যেমন, মহিলাদের এটা করা উচিত, এটা করা উচিত নয়। ইসলাম ধর্ম একথাই বলছে। আর এভাবে অমুসলিমদের দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: বোন, আপনি খুবই সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। তিনি রিভার্ট হয়েছেন এজন্য তাকে জানাই অভিনন্দন। তিনি বলছিলেন কিভাবে পশ্চিমাদের সাথে ব্যবহার করা উচিত, কথা বলা উচিত। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় "কেন পশ্চিমারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন", বিষয় এইটা না যে, পশ্চিমাদের কিভাবে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে?" তাদের মুসলমান হওয়ার কারণ বলছি। আর বলার ক্ষেত্রে কোদালটাকে কোদালই বলছি।
আর বোন, আপনি ঠিকই বলেছেন, অন্য ধর্মের সমালোচনা করা উচিত না। কারণ, পবিত্র কুরআনের সূরা আল আনআমের ১০৮ নং আয়াতে আছে,
وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهُ عَدُوَّا بِغَيْرِ عِلْمٍ .
অর্থ: আল্লাহকে ব্যতীত যাদেরকে তারা ডাকে, তাদেরকে গালি দিও না। কেননা, অজ্ঞান বশত তারা সীমা লংঘন করে আল্লাহকেও গালি দিতে পারে।
আপনি বলেছেন যে, আমি পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা করছি। বোন, সমালোচনা করা মানে আমি যেটা বলব যে, কোন প্রমাণ ছাড়া বলা। আমি যা বলছি তা আমেরিকারই পরিসংখ্যান। তাহলে আমাকে দোষ দিচ্ছেন কেন? সমালোচনা করা মানে কোন একটা পয়েন্ট ধরে সেটাকে নিয়ে প্যাঁচানো আর এটা পশ্চিমারাই বেশি করে। পশ্চিমারা খুব গর্বিত যে, তারা খুব স্পষ্টবাদী। তারা বলে যে, আমরা সাহসী, সত্যবাদী। আলহামদুলিল্লাহ, আর আমিও সত্যবাদী। তারা মিডিয়াতে দেখায় যে, মেয়েদের ছোট করে দেখা হয় আর আমি এফ. বি. আই.-এর রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি। ধর্ষণের যে পরিসংখ্যান আমি দিয়েছি, সেটা কোন মুসলমান নয়, পশ্চিমারাই লিখেছে। তাই তারা বলতে পারবে না যে, জাকির সমালোচনা করছে। আর এজন্য আমি ব্যবহার করেছি আমার হিকমা।
আপনি বললেন, ধর্ষণের ঘটনা অন্যান্য দেশেও ঘটছে; কিন্তু রিপোর্ট করা হচ্ছে না। আমি আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না। ধর্ষণ খুব বেশি হয় পশ্চিমা বিশ্বে; কিন্তু ওখানেই রিপোর্ট করা হয় না। কারণ, এটা ওখানে এতই সাধারণ যে রিপোর্টই করা হয় না। খবরের কাগজে খুব ছোট করে লেখা থাকে। অন্য কোনো দেশে ধর্ষণ হলে হেডলাইনে আসবে। আমি বলছি না যে এখানে ধর্ষণ হয় না। ধর্ষণ পুরো পৃথিবীতেই হয়। সবচেয়ে কম ধর্ষণ হয় মুসলিম দেশগুলোতে। যেসব দেশে ইসলামিক শরিয়া নেই, সেখানে হয়। পৃথিবীতে সবচেয়ে কম ধর্ষণ হয় সৌদি আরবে। সবচেয়ে কম। সেখানেও ধর্ষণ হয়। কারণ সেখানেও কুলাঙ্গার থাকে। সবচেয়ে কম ডাকাতির ঘটনা ঘটে সৌদি আরবে। অনেক মুসলিম দেশ আছে যারা ইসলাম অনুসরণ করে না, তারা হলো নকল মুসলমান। এসব দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে খবরের কাগজের হেডলাইন হয়। কারণ এটা একটা কলঙ্কিত ঘটনা। আর আমেরিকায় এটা হলো দৈনন্দিন জীবন। যেমন একজন রোগী বলল তার যৌনরোগ আছে, ডাক্তার বলল যে তারও আছে। তারা নির্লজ্জ সুতরাং অবাক হওয়ার কিছুই নেই। বোন, আমি যেহেতু সত্যি কথা বলছি, সেহেতু আমাকে বলতে হবেই। আমি ভদ্র ভাষায় বলেছি 'জনগণের সম্পত্তি' গনিকা কিন্তু এটাইতো সত্যি। লোকে সমালোচনা মনে করলেও কোদালকে আমি কোদালই বলব। পশ্চিমারা (আলহামদুলিল্লাহ) এ রকম স্পষ্ট কথাই পছন্দ করে।
আপনি যদি খ্রিস্টানদেরকে বলেন, তোমরা শিরক কর না। এসব থামাও। এটা তোমাদের জন্য ভালো। একথা আপনি যত ভদ্রভাবে বলেন, সে কষ্ট পাবেই। কোন মানুষকে মিথ্যা হতে মুক্ত করতে চাইলে সে কষ্ট পাবেই। আপনি যদি খুব ভদ্রভাবেও কোন খ্রিস্টানকে জিজ্ঞেস করেন, 'কেন তুমি যীশু খ্রিস্টের পূজা কর?” তারপরও সে কষ্ট পাবে। এমন তো নয় যে আমি তাদের অপমান করার জন্যই এভাবে বলছি। আমি এখানে শুধু তাদেরই পরিসংখ্যান দিয়েছি। এই হল আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর।
আপনার তৃতীয় প্রশ্নটা হলো কেন মুসলমান পণ্ডিতরা শুধু মহিলাদের কথা বলে পুরুষদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে কিছু বলে না কেন? বোন, আমার "ইসলামে মেয়েদের অধিকার" ক্যাসেটটি আপনার দেখা উচিত। আমার লেকচার শুনে লোকজন প্রশ্ন করেছিল আমি কখন 'ইসলামে পুরুষের অধিকার' নিয়ে বলব। আমি আমার ক্যাসেটে বলেছি স্ত্রীর সাথে স্বামীর কিভাবে ব্যবহার করা উচিত। এমনকি আজকেও আমি যখন হিজাবের কথা বলছিলাম, তখন ঠিক সেই কথাটাই বলেছি যা আপনি বলেছেন। সাধারণ মুসলমান বক্তারা মেয়েদের হিজাবের কথা বলে। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন প্রথমে পুরুষের হিজাবের কথা। আপনি যদি ইসলামের নিরপেক্ষ পথ দেখতে চান, আমার ভিডিও ক্যাসেটগুলো দেখতে পারেন। সেখানে আপনি দেখতে পাবেন, একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে কি রকম ব্যবহার করবে, তার দায়িত্ব ও কর্তব্য কি সেসব কথা। অনেক পুরুষই আমার এ রকম কথা পছন্দ করে নি।
বোন, আমি আগেও বলেছি যে, ইসলাম পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে সাম্যবাদে বিশ্বাস করে। তবে সাম্যবাদ মানে অভিন্নতা নয়। পুরুষ-মহিলা সমান কিন্তু তারা একই রকম নয়। আমি আমার লেকচারে মহিলাদের আধ্যাত্মিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আইনগত ও শিক্ষার অধিকারের কথা বলেছি। পশ্চিমা বিশ্ব যে মানব সভ্যতার কথা বলে সেটা ছদ্মাবরণ মাত্র। শরীরকে শোষণ করা, সম্মানের অবমাননা এবং আত্মাকে বঞ্চিত করা ছাড়া আর কিছুই করে না তারা। মহিলাদের অধিকারের কথা বলে তাদেরকে উপপত্নীর, রক্ষিতার স্তরে নামিয়ে দিচ্ছে তারা। তারা পরিণত হচ্ছে আনন্দ, পিয়াসী আর সেক্স ব্যবসায়ীদের হাতের খেলনায়। আর্ট এবং কালচারের রঙ্গীন জগতের মাধ্যমে তাদেরকে প্রলোভিত ও অপব্যবহার করছে।
পুরুষ ও মহিলা মানুষ হিসেবে সমান। কিন্তু তাদের দৈহিক ও মানসিক গঠন আলাদা। পুরুষরা মহিলাদের সব কাজ করতে পারে না। মহিলারাও পুরুষদের সব কাজ করতে পারে না। আমি এখন থেকে সন্তান ধারণ ও জন্মদান করতে পারব না।
قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ صَحَابَتِي؟ قَالَ أَمَّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَمَّكَ ، قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَمُّكَ ، قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ أَبُوكَ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ أُمَّكَ ثُمَّ أُمَّكَ ثُمَّ أَمُّكَ ثُمَّ أَبَاكَ ثُمَّ أَدْنَاكَ فَأَدْنَاكَ .
(বুখারী ও মুসলিম) অর্থ: একলোক নবীজির কাছে এসে বলল, পৃথিবীতে আমার ভালোবাসা ও সাহচর্য সবচেয়ে বেশি কার প্রাপ্য? নবীজি বললেন, তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার? তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার। তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার? তিনি বললেন, তোমার পিতার। তারপর নিকট আত্মীয়, তারপর পর্যায়ক্রমে।
তার মানে চারভাগের তিনভাগ ভালোবাসা আর সাহচর্যের দাবিদার মা আর এক ভাগ মাত্র পিতার। এখন আমি বলতে পারব না যে, মাকে এত বেশি অধিকার দেয়া হচ্ছে কেন, আমিও সন্তানের জন্ম দেব। ধরুন, একটা ক্লাসে দুইজন ছাত্র আছে, "A" আর "B"। তারা দুজনেই ১০০ নাম্বারের মধ্যে ৮০ নাম্বার পেয়ে যৌথভাবে প্রথম হলো। প্রশ্নের পেপারে ১০টি প্রশ্ন ছিল যার প্রত্যেকটিতে ১০ নাম্বার। এখন, এক নাম্বার প্রশ্নের উত্তরে যার নাম "A" সে ১০ এর মধ্যে ৯ পেয়েছে। আর "B" পেয়েছে ১০-এ ৭। তাহলে ১ নাম্বার প্রশ্নে "A" "B" এর চেয়ে ভাল। ২নং প্রশ্নে "A" ১০ই পেল ৭ আর "B" পেল ১০-এর মধ্যে ৯। তাহলে ২ নং প্রশ্নের "B" "A" এর চেয়ে ভাল। বাকি ৮টি প্রশ্নের উত্তরে দুজনই ১০-এ ৮ পেল। সব মিলিয়ে দুজনেই ১০০-তে পেয়েছে ৮০। তবে ১ নং প্রশ্নে "A" "B" এর চেয়েও ভাল। আবার ২নং প্রশ্নে "B" "A" এর চেয়েও ভালো। এমনিভাবে, পুরুষ আর মহিলা সমান; কিন্তু তারা একই রকম নয়। ধরুন, আমার বাড়িতে ডাকাত আসল ডাকাতি করার জন্য। আমি বলব না যে, পুরুষ আর মহিলা সমান। আমি আমার স্ত্রী আর বোনকে বলব না গিয়ে মারামারি করতে।
সূরা নেসার ৩৫ নং আয়াতে আছে- الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ .
অর্থ: পুরুষরা মহিলাদের নেতা (তত্ত্বাবধায়ক)।
শক্তির দিক থেকে পুরুষ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। অর্থাৎ কিছু কিছু ব্যাপারে পুরুষ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। আর কিছু কিছু ব্যাপারে মহিলারা সুবিধাজনক অবস্থানে। সব মিলিয়ে পুরুষ-মহিলা সমান। "স্বামীর কর্তব্য" নিয়ে ইসলামিক কোন বই নেই। ইনশাআল্লাহ, আপনি রিসার্চ করে বক্তব্য দেবেন। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন। আপনি যেহেতু রিভার্ট হয়েছেন, আপনি বক্তব্য দিলে সেটার প্রভাব ভালমতো পড়বে। আমি অনুরোধ করব আমার ক্যাসেটগুলো দেখেন। আপনার ধারণা বদলাবে। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।
📄 নেতাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দেয়া উচিত
প্রশ্ন: আস্সালামু আলাইকুম। আগের দিনের ইতিহাস বলে যে, আমরা টার্গেট করতাম কাফের নেতাদেরকে। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মুসলমান। আমার মনে হয়, মুসলিম উম্মার জন্য এখন একটা নেতৃত্বের প্রয়োজন। এখন কি আমাদের উচিত নয়, বিভিন্ন দেশের নেতাদের টার্গেট করে দাওয়াতী কাজ করা?
ডা. জাকির নায়েক: আপনি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। ইসলাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আমাদের কোন নেতা নেই। বিভিন্ন দেশের মুসলিম নেতাদের টার্গেট করা উচিত কি-না। হ্যাঁ উচিত। এমনকি ভিন্ন ধর্মের নেতাদেরও টার্গেট করা উচিত। আমাদের একজন নেতা প্রয়োজন। ইসলাম নেতৃত্বে বিশ্বাস করে। খিলাফতের আমিরের আনুগত্যের নির্দেশ দেয় ইসলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের খিলাফতের বিলুপ্তি ঘটে সর্বশেষ তুরস্কে। আবার খিলাফত কায়েম করা উচিত। আমাদের একজন খলিফা থাকা উচিত। সারা বিশ্বে অনেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন নতুন করে খিলাফতকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আল্লাহ তাদের সাফল্য দান করুন। দোয়া করি মুসলিম উম্মার মধ্য থেকে একজন নেতা আসুক। নেতৃত্ব থাকলে আমরা অনেক কিছুই করতে পারব। তাই আমাদেরকে ভাল নেতা খুঁজে বের করতে হবে। আজকের দিনে মুসলিম দেশগুলোর অধিকাংশ নেতারাই কুরআন সুন্নাহ মেনে চলেন না। যখনই কোন ইসলামি নেতৃত্ব আসে, অমুসলিমরা তাকে ছোট করার চেষ্টা করে। তারা তাদের কাজ করছে। আমাদেরকে আমাদের যোগ্য ইসলামি নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে হবে।
উপস্থাপক: ধন্যবাদ ডা. জাকির নায়েককে তার জ্ঞানগর্ভ আলোচনার জন্য। ইসলামের প্রসারের জন্য আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো আমরা জানতে পারলাম। আমরা তাকে করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
প্রশ্ন: আস্সালামু আলাইকুম। আগের দিনের ইতিহাস বলে যে, আমরা টার্গেট করতাম কাফের নেতাদেরকে। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মুসলমান। আমার মনে হয়, মুসলিম উম্মার জন্য এখন একটা নেতৃত্বের প্রয়োজন। এখন কি আমাদের উচিত নয়, বিভিন্ন দেশের নেতাদের টার্গেট করে দাওয়াতী কাজ করা?
ডা. জাকির নায়েক: আপনি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। ইসলাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আমাদের কোন নেতা নেই। বিভিন্ন দেশের মুসলিম নেতাদের টার্গেট করা উচিত কি-না। হ্যাঁ উচিত। এমনকি ভিন্ন ধর্মের নেতাদেরও টার্গেট করা উচিত। আমাদের একজন নেতা প্রয়োজন। ইসলাম নেতৃত্বে বিশ্বাস করে। খিলাফতের আমিরের আনুগত্যের নির্দেশ দেয় ইসলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের খিলাফতের বিলুপ্তি ঘটে সর্বশেষ তুরস্কে। আবার খিলাফত কায়েম করা উচিত। আমাদের একজন খলিফা থাকা উচিত। সারা বিশ্বে অনেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন নতুন করে খিলাফতকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আল্লাহ তাদের সাফল্য দান করুন। দোয়া করি মুসলিম উম্মার মধ্য থেকে একজন নেতা আসুক। নেতৃত্ব থাকলে আমরা অনেক কিছুই করতে পারব। তাই আমাদেরকে ভাল নেতা খুঁজে বের করতে হবে। আজকের দিনে মুসলিম দেশগুলোর অধিকাংশ নেতারাই কুরআন সুন্নাহ মেনে চলেন না। যখনই কোন ইসলামি নেতৃত্ব আসে, অমুসলিমরা তাকে ছোট করার চেষ্টা করে। তারা তাদের কাজ করছে। আমাদেরকে আমাদের যোগ্য ইসলামি নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে হবে।
উপস্থাপক: ধন্যবাদ ডা. জাকির নায়েককে তার জ্ঞানগর্ভ আলোচনার জন্য। ইসলামের প্রসারের জন্য আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো আমরা জানতে পারলাম। আমরা তাকে করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
📄 বিশ্ব জুড়ে ইসলাম আজ গতিময়
ইসলাম প্রকৃতির ধর্ম (Natural religion), মানুষের স্বভাবধর্ম। প্রতিটি শিশু এই প্রকৃতির ধর্ম নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। বস্তুত জনৈক পাশ্চাত্য সমালোচকের ভাষায় সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানের ধর্ম- The religion of commonsecne.
"ইসলামই সর্বাপেক্ষা বাস্তব ধর্ম। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্নমুখী জটিল সমস্যার সমাধানের একমাত্র নিখুঁত উপায় হচ্ছে ইসলাম। ইসলামই একমাত্র সেই সহজ সরল পুণ্য পন্থা- যে পথে এই ধূলির ধরায় বেহেশতী সুখ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।” -লেডী ইভলিন কোবাল্ট, লন্ডন
"ইসলামই একমাত্র ধর্ম বা বিশ্বজনীন ধর্মরূপে গণ্য হতে পারে।" জর্জবার্নাড শ'
আবির্ভাবের প্রথম লগ্ন থেকেই মহান ধর্ম ইসলাম তার সত্য ও ন্যায়ের শাশ্বত সৌন্দর্যের আলোকে পথ দেখিয়ে চলেছে সমগ্র মানব জাতিকে। মানুষের মধ্যে যারা প্রকৃত জ্ঞানী ও অনুসন্ধানী, কেবল তারাই খুঁজে পেয়েছেন সত্যের ও শান্তির সন্ধান, খুঁজে পেয়েছেন একমাত্র প্রতিপালক আল্লাহকে এবং জেনেছেন নিজের চিরস্থায়ী গন্তব্যের আসল ঠিকানা।
অত্যাধুনিক কম্পিউটার চালিত যান্ত্রিক সভ্যতার এ যুগে মানুষ আজ কঠিনতম বাস্তবতার শিকার। সবাই চায় সচ্ছলতা, চায় শান্তি। বস্তুত মানুষ আত্মিক শান্তির পিয়াসী এবং বেঁচে থাকার জন্য এটা অপরিহার্য। মহান আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলাম ই অনন্ত শান্তির বাণীই প্রচার করছে। তাইতো শাশ্বত ধর্ম ইসলামের অনিন্দ্যসুন্দর আদর্শে মুগ্ধ হয়ে মানুষ যুগ যুগ ধরে ইসলামধর্ম গ্রহণ করে আসছে। ইংল্যান্ডের জগৎবিখ্যাত দার্শনিক জর্জ বার্নাড শ' ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন-
"I have prophesied about the faith of Muhammad that it would be acceptable to the Europ of tomorrow as it is beginning to be accepted to the Europ to today." (Genuine Islam, vol-1. 1936)
অর্থাৎ, “আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, মুহাম্মদ ﷺ-এর ধর্ম ইসলাম আগামী দিনের ইউরোপবাসীদের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে। ইতোমধ্যেই আজকের ইউরোপবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করেছে।"
জর্জ বার্নাডশ' আরো বলেছিলেন- "England on particular and the rest of the western would in general are bound to embrace Islam." অর্থাৎ, "সমগ্র পাশ্চাত্যজগৎ বিশেষ করে ইংল্যান্ড ইসলাম গ্রহণ না করে থাকতে পারবে না।"
বর্তমান বিশ্ব, বিশেষত খ্রিস্টবাদের প্রাণকেন্দ্র ইউরোপ ও আমেরিকার দিকে তাকালে আমরা জর্জ বার্নাড শ'-এর এই ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতা দেখতে পাবো। সত্য আর শান্তির অন্বেষায় পাগলপারা হয়ে মানুষ আজ ছুটে আসছে ইসলামের দিকে, আশ্রয় নিচ্ছে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। জার্মানি ও ফ্রান্সের মত ইসলাম বিদ্বেষী দেশে আজ মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তর জাতি। খোদ আমেরিকায় মুসলিম জনসংখ্যা আজ এক কোটির উপরে।
১০ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ ইং তারিখে ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত পত্রিকা "লস এঞ্জেলস টাইমস” পাশ্চাত্যে মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে একটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ইসলাম অন্যান্য ধর্মের তুলনায় সর্বাধিক দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে কমপক্ষে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে। মুসলমানদের সংখ্যা মার্কিন ইহুদিদের ছাড়িয়ে যাবে এবং খ্রিস্টান ধর্মের পর ইসলামই হবে আমেরিকার সর্ববৃহৎ ধর্ম।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত কোনো কোনো মুসলিম পক্ষ লস এঞ্জেলস টাইমস-এ প্রকাশিত এ জরিপের যথার্থতার ব্যাপারে সংশয় ব্যক্ত করেছে। তাদের দাবি, এ জরিপে মুসলমানদের সংখ্যা কম করে দেখানো হয়েছে। আসলে এখনি মুসলমানদের প্রকৃত সংখ্যা ইহুদিদের চাইতে বেশি। তার পরেও যদি লস এঞ্জেলস টাইমস-এর এ প্রতিবেদনটিকেই সঠিক বলে ধরে নেয়া যায় তবুও একথা পরিষ্কার যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে গতিতে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে চলেছে তা-ই পাশ্চাত্য সাংবাদিকতাকে হতচকিত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এরই ফলে গত ২৫ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রত্যেকটি অঞ্চলে বিশাল বিশাল মসজিদ নির্মিত হয়েছে। শিশু-কিশোরদের দ্বীনী শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষা কেন্দ্র। বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের সংখ্যাও ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
ইসলামের যৌক্তিকতা, সরলতা, পাপের প্রলোভনের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা, রোগ ও অশুচিতা, ক্ষতিকারক পানাহার, অন্ধ বিশ্বাস ও অবাস্তববাদিতা থেকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষমতা, মনকে আল্লাহভীরু করে ইবাদতের দিকে মনোযোগ এনে মানসিক শান্তি প্রদানের ক্ষমতা- এক কথায় ইসলামের সৌন্দর্য আজ ভোগবিলাসী বস্তুতান্ত্রিক অশান্ত ও অপরিতৃপ্ত বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করছে, তাদেরকে আকর্ষণ করছে ইসলামের দিকে।
USA Today পত্রিকার ২৭ জানুয়ারি, ১৯৯৪ ইং সংখ্যার ভাষ্য- "ইসলাম আমেরিকার জোয়ারের টানের মত প্রবল শক্তিতে কাছে টেনে নিচ্ছে। আমেরিকানরা এই সর্বজনীন বিশ্বধর্মের প্রতি ক্রমশই ঝুঁকে পড়ছে।”
লন্ডনের দৈনিক 'টাইমস' তার ৯ নভেম্বর, ১৯৯৩ ইং সংখ্যায় ব্রিটেনে ইসলামের বিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল। তার শিরোনাম ছিল- "ব্রিটিশ মহিলারা ইসলাম গ্রহণ করছে কেন?" নিবন্ধটিতে উপশিরোনাম দেয়া হয়েছিল "পাশ্চাত্য প্রচার মাধ্যমগুলোর বৈরি আচরণ সত্ত্বেও ইসলাম পাশ্চাত্য মানসকে জয় করে চলেছে।" নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে- 'ইদানীং যে বিপুল সংখ্যায় ব্রিটেনবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করছে, তার কোন দৃষ্টান্ত অতীতে আর দেখা যায়নি।”
লন্ডন টাইমস লিখেছে, পাশ্চাত্য প্রচার মাধ্যমগুলো যদিও মুসলমানদের ব্যাপারে বরাবরই নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরে, তা সত্ত্বেও ব্রিটিশ অধিবাসীদের মাঝে ইসলাম গ্রহণের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। আরও মজার ব্যাপার হল এই যে, এসব ব্রিটিশ নওমুসলিমদের বেশির ভাগই মহিলা। পত্র-পত্রিকার খবর অনুসারে মার্কিন নও মুসলিমদের মধ্যেও পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যা চারগুণ বেশি। পত্রিকার মতে- "It is even more ironic that most Brirish converts should be women, given the widespread view in the west that Islam treats women poorly."
অর্থাৎ, “এটা আরও দুঃখজনক বিষয় যে, অধিকাংশ ব্রিটিশ নও-মুসলিমই মহিলা অথচ এ মতবাদ গোটা পাশ্চাত্যে বিস্তৃত যে, ইসলাম মহিলাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে।"
পাশ্চাত্যে ইসলাম বিস্তারের এই দ্রুতগতির কারণ সম্পর্কেও পত্রিকাটি বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছে। এর মতে- যখন থেকে সালমান রুশদীর ব্যাপারে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, তখন থেকেই মানুষের মাঝে ইসলাম নিয়ে গবেষণা করার একটা প্রেরণা সৃষ্টি হয়। অপরদিকে উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং বসনিয়ার মুসলমানদের দুরাবস্থাও মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টির একটা কারণ হয়। তা ছাড়া পাশ্চাত্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশুনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণেও অনেকে মুসলমান হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ প্রচার মাধ্যমগুলো ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে লাগামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে প্রত্যেকটি ইসলামি বিষয়কেই মন্দ বলার যে নীতি অবলম্বন করা হয়েছে অনেকের মনে তারও একটি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে তারা ইসলামের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। পত্রিকাটি লিখেছে-
"Westerns despairing of the own society rising crime; family breakdown, drugs and alcoholism have come to admire the disepline and security of Islam."
অর্থাৎ, “পাশ্চাত্যের লোকেরা নিজেরাই নিজেদের সমাজের প্রতি নিরাশ হয়ে পড়ছে। তাতে ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতা, পারিবারিক ব্যবস্থা ধ্বংস, মদ্যপান ও মাদকাসক্তি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। শেষ পর্যন্ত তারা ইসলাম প্রবর্তিত নিয়মশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছে।"
ইসলাম প্রকৃতির ধর্ম (Natural religion), মানুষের স্বভাবধর্ম। প্রতিটি শিশু এই প্রকৃতির ধর্ম নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। বস্তুত জনৈক পাশ্চাত্য সমালোচকের ভাষায় সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানের ধর্ম- The religion of commonsecne.
"ইসলামই সর্বাপেক্ষা বাস্তব ধর্ম। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্নমুখী জটিল সমস্যার সমাধানের একমাত্র নিখুঁত উপায় হচ্ছে ইসলাম। ইসলামই একমাত্র সেই সহজ সরল পুণ্য পন্থা- যে পথে এই ধূলির ধরায় বেহেশতী সুখ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।” -লেডী ইভলিন কোবাল্ট, লন্ডন
"ইসলামই একমাত্র ধর্ম বা বিশ্বজনীন ধর্মরূপে গণ্য হতে পারে।" জর্জবার্নাড শ'
আবির্ভাবের প্রথম লগ্ন থেকেই মহান ধর্ম ইসলাম তার সত্য ও ন্যায়ের শাশ্বত সৌন্দর্যের আলোকে পথ দেখিয়ে চলেছে সমগ্র মানব জাতিকে। মানুষের মধ্যে যারা প্রকৃত জ্ঞানী ও অনুসন্ধানী, কেবল তারাই খুঁজে পেয়েছেন সত্যের ও শান্তির সন্ধান, খুঁজে পেয়েছেন একমাত্র প্রতিপালক আল্লাহকে এবং জেনেছেন নিজের চিরস্থায়ী গন্তব্যের আসল ঠিকানা।
অত্যাধুনিক কম্পিউটার চালিত যান্ত্রিক সভ্যতার এ যুগে মানুষ আজ কঠিনতম বাস্তবতার শিকার। সবাই চায় সচ্ছলতা, চায় শান্তি। বস্তুত মানুষ আত্মিক শান্তির পিয়াসী এবং বেঁচে থাকার জন্য এটা অপরিহার্য। মহান আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলাম ই অনন্ত শান্তির বাণীই প্রচার করছে। তাইতো শাশ্বত ধর্ম ইসলামের অনিন্দ্যসুন্দর আদর্শে মুগ্ধ হয়ে মানুষ যুগ যুগ ধরে ইসলামধর্ম গ্রহণ করে আসছে। ইংল্যান্ডের জগৎবিখ্যাত দার্শনিক জর্জ বার্নাড শ' ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন-
"I have prophesied about the faith of Muhammad that it would be acceptable to the Europ of tomorrow as it is beginning to be accepted to the Europ to today." (Genuine Islam, vol-1. 1936)
অর্থাৎ, “আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, মুহাম্মদ ﷺ-এর ধর্ম ইসলাম আগামী দিনের ইউরোপবাসীদের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে। ইতোমধ্যেই আজকের ইউরোপবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করেছে।"
জর্জ বার্নাডশ' আরো বলেছিলেন- "England on particular and the rest of the western would in general are bound to embrace Islam." অর্থাৎ, "সমগ্র পাশ্চাত্যজগৎ বিশেষ করে ইংল্যান্ড ইসলাম গ্রহণ না করে থাকতে পারবে না।"
বর্তমান বিশ্ব, বিশেষত খ্রিস্টবাদের প্রাণকেন্দ্র ইউরোপ ও আমেরিকার দিকে তাকালে আমরা জর্জ বার্নাড শ'-এর এই ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতা দেখতে পাবো। সত্য আর শান্তির অন্বেষায় পাগলপারা হয়ে মানুষ আজ ছুটে আসছে ইসলামের দিকে, আশ্রয় নিচ্ছে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। জার্মানি ও ফ্রান্সের মত ইসলাম বিদ্বেষী দেশে আজ মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তর জাতি। খোদ আমেরিকায় মুসলিম জনসংখ্যা আজ এক কোটির উপরে।
১০ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ ইং তারিখে ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত পত্রিকা "লস এঞ্জেলস টাইমস” পাশ্চাত্যে মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে একটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ইসলাম অন্যান্য ধর্মের তুলনায় সর্বাধিক দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে কমপক্ষে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে। মুসলমানদের সংখ্যা মার্কিন ইহুদিদের ছাড়িয়ে যাবে এবং খ্রিস্টান ধর্মের পর ইসলামই হবে আমেরিকার সর্ববৃহৎ ধর্ম।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত কোনো কোনো মুসলিম পক্ষ লস এঞ্জেলস টাইমস-এ প্রকাশিত এ জরিপের যথার্থতার ব্যাপারে সংশয় ব্যক্ত করেছে। তাদের দাবি, এ জরিপে মুসলমানদের সংখ্যা কম করে দেখানো হয়েছে। আসলে এখনি মুসলমানদের প্রকৃত সংখ্যা ইহুদিদের চাইতে বেশি। তার পরেও যদি লস এঞ্জেলস টাইমস-এর এ প্রতিবেদনটিকেই সঠিক বলে ধরে নেয়া যায় তবুও একথা পরিষ্কার যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে গতিতে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে চলেছে তা-ই পাশ্চাত্য সাংবাদিকতাকে হতচকিত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এরই ফলে গত ২৫ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রত্যেকটি অঞ্চলে বিশাল বিশাল মসজিদ নির্মিত হয়েছে। শিশু-কিশোরদের দ্বীনী শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষা কেন্দ্র। বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের সংখ্যাও ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
ইসলামের যৌক্তিকতা, সরলতা, পাপের প্রলোভনের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা, রোগ ও অশুচিতা, ক্ষতিকারক পানাহার, অন্ধ বিশ্বাস ও অবাস্তববাদিতা থেকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষমতা, মনকে আল্লাহভীরু করে ইবাদতের দিকে মনোযোগ এনে মানসিক শান্তি প্রদানের ক্ষমতা- এক কথায় ইসলামের সৌন্দর্য আজ ভোগবিলাসী বস্তুতান্ত্রিক অশান্ত ও অপরিতৃপ্ত বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করছে, তাদেরকে আকর্ষণ করছে ইসলামের দিকে।
USA Today পত্রিকার ২৭ জানুয়ারি, ১৯৯৪ ইং সংখ্যার ভাষ্য- "ইসলাম আমেরিকার জোয়ারের টানের মত প্রবল শক্তিতে কাছে টেনে নিচ্ছে। আমেরিকানরা এই সর্বজনীন বিশ্বধর্মের প্রতি ক্রমশই ঝুঁকে পড়ছে।”
লন্ডনের দৈনিক 'টাইমস' তার ৯ নভেম্বর, ১৯৯৩ ইং সংখ্যায় ব্রিটেনে ইসলামের বিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল। তার শিরোনাম ছিল- "ব্রিটিশ মহিলারা ইসলাম গ্রহণ করছে কেন?" নিবন্ধটিতে উপশিরোনাম দেয়া হয়েছিল "পাশ্চাত্য প্রচার মাধ্যমগুলোর বৈরি আচরণ সত্ত্বেও ইসলাম পাশ্চাত্য মানসকে জয় করে চলেছে।" নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে- 'ইদানীং যে বিপুল সংখ্যায় ব্রিটেনবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করছে, তার কোন দৃষ্টান্ত অতীতে আর দেখা যায়নি।”
লন্ডন টাইমস লিখেছে, পাশ্চাত্য প্রচার মাধ্যমগুলো যদিও মুসলমানদের ব্যাপারে বরাবরই নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরে, তা সত্ত্বেও ব্রিটিশ অধিবাসীদের মাঝে ইসলাম গ্রহণের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। আরও মজার ব্যাপার হল এই যে, এসব ব্রিটিশ নওমুসলিমদের বেশির ভাগই মহিলা। পত্র-পত্রিকার খবর অনুসারে মার্কিন নও মুসলিমদের মধ্যেও পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের সংখ্যা চারগুণ বেশি। পত্রিকার মতে- "It is even more ironic that most Brirish converts should be women, given the widespread view in the west that Islam treats women poorly."
অর্থাৎ, “এটা আরও দুঃখজনক বিষয় যে, অধিকাংশ ব্রিটিশ নও-মুসলিমই মহিলা অথচ এ মতবাদ গোটা পাশ্চাত্যে বিস্তৃত যে, ইসলাম মহিলাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে।"
পাশ্চাত্যে ইসলাম বিস্তারের এই দ্রুতগতির কারণ সম্পর্কেও পত্রিকাটি বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছে। এর মতে- যখন থেকে সালমান রুশদীর ব্যাপারে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, তখন থেকেই মানুষের মাঝে ইসলাম নিয়ে গবেষণা করার একটা প্রেরণা সৃষ্টি হয়। অপরদিকে উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং বসনিয়ার মুসলমানদের দুরাবস্থাও মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টির একটা কারণ হয়। তা ছাড়া পাশ্চাত্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশুনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণেও অনেকে মুসলমান হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ প্রচার মাধ্যমগুলো ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে লাগামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে প্রত্যেকটি ইসলামি বিষয়কেই মন্দ বলার যে নীতি অবলম্বন করা হয়েছে অনেকের মনে তারও একটি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে তারা ইসলামের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। পত্রিকাটি লিখেছে-
"Westerns despairing of the own society rising crime; family breakdown, drugs and alcoholism have come to admire the disepline and security of Islam."
অর্থাৎ, “পাশ্চাত্যের লোকেরা নিজেরাই নিজেদের সমাজের প্রতি নিরাশ হয়ে পড়ছে। তাতে ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতা, পারিবারিক ব্যবস্থা ধ্বংস, মদ্যপান ও মাদকাসক্তি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। শেষ পর্যন্ত তারা ইসলাম প্রবর্তিত নিয়মশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছে।"
📄 এঁরা কীসের লোভে বা ভয়ে মুসলমান হচ্ছেন?
বর্তমানে বিভিন্ন ধর্ম থেকে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করছেন, তারা কোন লোভে পড়ে, অত্যাচারিত হয়ে, অস্ত্রের ভয়ে বা ঝোঁকের মাথায় এটা করছেন না। বরং ব্যাপক অধ্যয়ন, গবেষণা, পর্যালোচনার পর ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করছেন। সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী অধিকাংশ নও-মুসলিমই সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি-রাষ্ট্রপ্রধান, ডক্টর, খেলোয়াড়, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ, ইঞ্জিনিয়ার, ধনকুবের জমিদার, সাংবাদিক বা কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এমনকি খ্রিস্টধর্মের ধারকবাহক অনেক বিখ্যাত পাদ্রীও বর্তমানে ইসলাম গ্রহণ করছেন। আমরা এখানে সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কয়েকজন ব্যক্তির নাম নিচে তুলে দিলাম যারা অস্ত্রের মুখে, লোভে পড়ে, অত্যাচারিত হয়ে বা ঝোঁকের মাথায় নয়, বরং বহু পড়ালেখা, চিন্তা গবেষণার পর ইসলামের সত্যতা প্রমাণ সাপেক্ষে মুসলমান হয়েছেন।
* তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ারের (তাঞ্জানিয়া)
* বিশ্বখ্যাত পপ সংগীত তারকা ক্যাট্স স্টিভেনস (ইংল্যান্ড)
* আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক ড. রোজার গারোদী (ফ্রান্স)
* শীর্ষস্থানীয় হিন্দু ধর্মগুরু ড. শিবশক্তিস্বরূপজী (ভারত)
* সুইডিস রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ কুনুত (সুইডেন)
* শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক বিজ্ঞানী ড. আর্থার জে. এলিসন (ব্রিটেন)
* প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ ও জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. ওলফ্রেড হকম্যান (জার্মানি)
* আমেরিকান বিশেষজ্ঞ ডা. যায়েদ ভ্যানকভ (আমেরিকা)
* কর্নেল এলবার্ট রেমস এলসি (ব্রিটেন)
* জেনারেল আনাতোলি আন্দ্রোপভ (রাশিয়া)
* আল-কুরআনের প্রখ্যাত অনুবাদক মার্মাডিউক পিকথল
* উচ্চ শিক্ষিত গোঁড়া ক্যাথলিক জে. এল. সি. ভান বীটেম (হল্যান্ড)
* গবেষক ও ধর্মপ্রচারক গ্যারী মিলার (কানাডা)
* প্রাক্তন হিন্দু পণ্ডিত হানওয়ারী লাল (পাঞ্জাব)
* মার্কিন মহাশূন্য বিজ্ঞানী জেমস আরউইন (আমেরিকা)
* যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জন এলিসন
* ক্যাথলিক পাদ্রী মাইকেল লেলং (ফ্রান্স)
* প্রখ্যাত দার্শনিক ও অধ্যাপক ইভা দ্য ভিদ্রে মেয়েরোভিন (ফ্রান্স)
* প্রখ্যাত পুস্তক প্রকাশক মাইকেল কডকীভিচ (ফ্রান্স)
* প্রভাবশালী পাদ্রী ইলাম কার্কিস (ইরিত্রিয়া)
* প্রখ্যাত বাস্কেটবল খেলোয়াড় ক্রিস জ্যাকসন (আমেরিকা)
* লর্ড হেডলী স্যার রোল্যান্ড জর্জ অ্যালানসন (ইংল্যান্ড)
* প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. মরিস বুকাইল (ফ্রান্স)
* বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও গ্রন্থকার ড. হামিদ মার্কাস (জার্মানী)
* ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. কোতাকী (জাপান)
* সমাজবিজ্ঞানী উইস ল জেজিরস্কি (পোল্যান্ড)
* নৃতত্ত্বের অধ্যাপক ড. রউফ ফ্রিহার গন ইরেনফেল (অস্ট্রিয়া)
* ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মেজর আব্দুল্লাহ বেটারসবি (ইংল্যান্ড)
* টেক্সাসের মেয়র চার্লস এডোয়ার্ড জেনকীনস (আমেরিকা)
* বিশ্ব হেভিওয়েট রেসলিং চ্যাম্পিয়ন এনটনি এনোকী (জাপান)
* প্রখ্যাত পাদ্রী ড. দীলু সানতোষ (ফিলিপাইন)
* ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ওলাদ্যো লর্জ ওয়েলসন (ডেনমার্ক)
* অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান ওমায়া (আমেরিকা)
* প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও গ্রন্থকার লিওপোল্ড উইস (পোল্যান্ড)
* প্রখ্যাত খ্রিস্টধর্ম প্রচারক ফাদার মার্টিন জন মাইপ পল (তাঞ্জানিয়া)
* প্রখ্যাত সমাজকর্মী টমাস ইরভিং (কানাডা)
* হিন্দু জমিদার শ্রী প্রতাপ চন্দ্র সেন (বাংলাদেশ)
* প্রখ্যাত দাওয়াতকর্মী জিয়ন ডাকলিন (কোরিয়া)
* বিশিষ্ট ধর্মপ্রচারক লি হোচা (চিন)
* প্রখ্যাত ইংরেজ লেখক এ. কেইন, (ইংল্যান্ড)
* ইংলিশ মুসলিম মিশনের প্রেসিডেন্ট জন ওয়েবস্টার (ইংল্যান্ড)
* বিখ্যাত কবি ও গ্রন্থকার রোল্যান্ড স্লোলিং (আমেরিকা)
* বিপ্লবী কবি লেয়ন জেমস (নিউ জার্সি)
* বিশিষ্ট পাদ্রী ও গোত্রপতি মিঃ আবুবকর কোশো (নাইজেরিয়া)
* প্রাক্তন খ্রিস্টধর্ম প্রচারক রেভালেন্ড পল (উগান্ডা)
* প্রখ্যাত গ্রন্থকার ও সংগঠন সুদর্শন ভট্টাচার্য (বাংলাদেশ)
* বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গ্রন্থকার সুরেন্দ্রনাথ রায় (বাংলাদেশ)
* আমেরিকান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার রাসেল ওয়েব (আমেরিকা)
* শব্দবিজ্ঞানী প্রফেসর হারুন মোস্তফা লিয়ন (ইংল্যান্ড)
* প্রফেসর রেভারেন্ড ডেভিড বেঞ্জামিন কেলদানী (ইরান)
* প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও নাট্যকার আব্দুল্লাহ আদিয়ার (ভারত)
* অধ্যাপক মাখনলাল ধর (বাংলাদেশ)
* বিখ্যাত গ্রন্থকার উইলিয়াম বার্চেল পিকার্ড (ইংল্যান্ড)
* বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ ও ধর্মপ্রচারক মোহাম্মদ আমান হবম (জার্মানি)
* মানব জাতিতত্ত্ব বিশারদ মোহাম্মদ সুলাইমান তাকীউচী (জাপান)
* রাষ্ট্রনায়ক স্যার জালালউদ্দীন লডার ক্রনটন (ইংল্যান্ড)
* অধ্যাপক ড. জুলিয়াস জার্মানাস পি. ডি (হাঙ্গেরী)
* চন্দ্র বিজয়ী নীল আর্মস্ট্রং (আমেরিকা)
* নৃতত্ত্ববিদ প্রফেসার আর. এল. মেল্লামা (হল্যান্ড)
* ড. রামদাস পি. এইচ. ডি.
* অধ্যাপিকা ড. বারবারা নেলসন (ইংল্যান্ড)
* অধ্যাপক ড. যিয়াউর রহমান আযমী পি.এইচ (ভারত)
* প্রিন্সেস জাবিদ এস. বানু (ভারত)
* অধ্যাপক ব্ল্যাঙ্কিন শিপ (আমেরিকা)
* ডা. মীর্জা দেহলীন (আমেরিকা)
* ধনকুবের লর্ড ওয়ার্সলে (লন্ডন)
* প্রফেসর ইয়াকুব জাকী (ব্রিটেন)
* ডা. হিরু ফুজী মাসু (জাপান)
* কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার ডেভিড মার্ক প্যাডকক (ব্রিটেন)
* ডাঃ শওকী ফুতাফী (জাপান)
* ডাক ও তার মন্ত্রী জোশিরো কুমিয়ামা (জাপান)
* মনোবিজ্ঞানী ইব্রাহীম জোরার্ড (আমেরিকা)
* বিশ্ব হেভিওয়েট মুষ্টিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন ড. ক্যাসিয়াস ক্লে (আমেরিকা)
* ওকীং স্পিরিচুয়ালিস্ট চার্চের প্রেসিডেন্ট জর্জ ফাউসার (ইংল্যান্ড)
* এডভোকেট কে. এল. গউবা বার এট. ল. (ভারত)
* কর্নেল ডোনাল্ড এস. রকওয়েল (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
* ড. মালিক রাম (ভারত)
* প্রখ্যাত ধর্মপ্রচারক শায়খ আহমদ দীদাত (দক্ষিণ আফ্রিকা)
* শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক শ্রী দুর্গাপ্রসাদ দেশমুখ (ভারত)
* রাজকুমার শ্রী বিশ্বেশ্বর রায় চৌধুরী (বাংলাদেশ)
* বিশ্ব হেভিওয়েট মুষ্টিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন মাইক টাইসন (আমেরিকা)
* প্রখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা ম্যালকম এক্স (আমেরিকা)
* ব্ল্যাক পান্থার পার্টির নেতা এইচ. র্যাপ ব্রাউন (আমেরিকা)
* আফ্রিকা ও পশ্চিম এশীয় খ্রিস্টান মিশনারী সংস্থার প্রধান পাদ্রী ইসহাক
* আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ পুত্র কার্নস মুনএম (আর্জেন্টিনা)
* প্রখ্যাত আর্চ-বিশপ হাজী আবুবকর (তানজানিয়া)
* লেবার পার্টির বিশিষ্ট নেতা জন স্ট্রাস্কাট (ইংল্যান্ড)
* ডা. মারিয়া (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
* পাঁচটি ভাষার পারদর্শী সাংবাদিক মিত্রসূতারো ইয়ামাওকা (জাপান)
* বিখ্যাত ব্যবসায়ী বুম্পাচিরো আরিজা (জাপান)
* উচ্চ শিক্ষিত ইংরেজ মিসেস সানথা (গ্রেট ব্রিটেন)
* মার্কিন যুবতী বার্টন ক্যালী (আমেরিকা)
* বিশ্ব চার্চ পরিষদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব
* মসিয়ে ফ্রেডারিন ডোলামার্ক (দক্ষিণ আফ্রিকা)
* কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার মিঃ আব্দুর রহিম মারটিনি
* রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইসা ম্যানুয়েল ম্যাকলালেদ (ফিলিপাইন)
* শীর্ষস্থানীয় খ্রিস্টান পাদ্রী ইসা (বুলগেরিয়া)
* সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্ক এ্যান্টিনিও ওটার্স (আমেরিকা)
* সাবেক খ্রিস্টান, ধর্মযাজক মিঃ সাঈদ ফাকাদ (ইথিওপিয়া)
* উচ্চ শিক্ষিত খ্রিস্টধর্ম প্রচারক সালেহ আল সুলায়মান (ম্যানিলা)
* সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অধ্যাপক হেনরী স্প্রোগ (ফ্রান্স)
স্থানাভাবে এখানে সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী মাত্র কয়েকজন মনীষীর কেবল নাম পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হল।
বর্তমানে বিভিন্ন ধর্ম থেকে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করছেন, তারা কোন লোভে পড়ে, অত্যাচারিত হয়ে, অস্ত্রের ভয়ে বা ঝোঁকের মাথায় এটা করছেন না। বরং ব্যাপক অধ্যয়ন, গবেষণা, পর্যালোচনার পর ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করছেন। সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী অধিকাংশ নও-মুসলিমই সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি-রাষ্ট্রপ্রধান, ডক্টর, খেলোয়াড়, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ, ইঞ্জিনিয়ার, ধনকুবের জমিদার, সাংবাদিক বা কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এমনকি খ্রিস্টধর্মের ধারকবাহক অনেক বিখ্যাত পাদ্রীও বর্তমানে ইসলাম গ্রহণ করছেন। আমরা এখানে সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কয়েকজন ব্যক্তির নাম নিচে তুলে দিলাম যারা অস্ত্রের মুখে, লোভে পড়ে, অত্যাচারিত হয়ে বা ঝোঁকের মাথায় নয়, বরং বহু পড়ালেখা, চিন্তা গবেষণার পর ইসলামের সত্যতা প্রমাণ সাপেক্ষে মুসলমান হয়েছেন।
* তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ারের (তাঞ্জানিয়া)
* বিশ্বখ্যাত পপ সংগীত তারকা ক্যাট্স স্টিভেনস (ইংল্যান্ড)
* আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক ড. রোজার গারোদী (ফ্রান্স)
* শীর্ষস্থানীয় হিন্দু ধর্মগুরু ড. শিবশক্তিস্বরূপজী (ভারত)
* সুইডিস রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ কুনুত (সুইডেন)
* শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক বিজ্ঞানী ড. আর্থার জে. এলিসন (ব্রিটেন)
* প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ ও জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. ওলফ্রেড হকম্যান (জার্মানি)
* আমেরিকান বিশেষজ্ঞ ডা. যায়েদ ভ্যানকভ (আমেরিকা)
* কর্নেল এলবার্ট রেমস এলসি (ব্রিটেন)
* জেনারেল আনাতোলি আন্দ্রোপভ (রাশিয়া)
* আল-কুরআনের প্রখ্যাত অনুবাদক মার্মাডিউক পিকথল
* উচ্চ শিক্ষিত গোঁড়া ক্যাথলিক জে. এল. সি. ভান বীটেম (হল্যান্ড)
* গবেষক ও ধর্মপ্রচারক গ্যারী মিলার (কানাডা)
* প্রাক্তন হিন্দু পণ্ডিত হানওয়ারী লাল (পাঞ্জাব)
* মার্কিন মহাশূন্য বিজ্ঞানী জেমস আরউইন (আমেরিকা)
* যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জন এলিসন
* ক্যাথলিক পাদ্রী মাইকেল লেলং (ফ্রান্স)
* প্রখ্যাত দার্শনিক ও অধ্যাপক ইভা দ্য ভিদ্রে মেয়েরোভিন (ফ্রান্স)
* প্রখ্যাত পুস্তক প্রকাশক মাইকেল কডকীভিচ (ফ্রান্স)
* প্রভাবশালী পাদ্রী ইলাম কার্কিস (ইরিত্রিয়া)
* প্রখ্যাত বাস্কেটবল খেলোয়াড় ক্রিস জ্যাকসন (আমেরিকা)
* লর্ড হেডলী স্যার রোল্যান্ড জর্জ অ্যালানসন (ইংল্যান্ড)
* প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. মরিস বুকাইল (ফ্রান্স)
* বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও গ্রন্থকার ড. হামিদ মার্কাস (জার্মানী)
* ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. কোতাকী (জাপান)
* সমাজবিজ্ঞানী উইস ল জেজিরস্কি (পোল্যান্ড)
* নৃতত্ত্বের অধ্যাপক ড. রউফ ফ্রিহার গন ইরেনফেল (অস্ট্রিয়া)
* ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মেজর আব্দুল্লাহ বেটারসবি (ইংল্যান্ড)
* টেক্সাসের মেয়র চার্লস এডোয়ার্ড জেনকীনস (আমেরিকা)
* বিশ্ব হেভিওয়েট রেসলিং চ্যাম্পিয়ন এনটনি এনোকী (জাপান)
* প্রখ্যাত পাদ্রী ড. দীলু সানতোষ (ফিলিপাইন)
* ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ওলাদ্যো লর্জ ওয়েলসন (ডেনমার্ক)
* অধ্যাপক ড. আইয়ুব খান ওমায়া (আমেরিকা)
* প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও গ্রন্থকার লিওপোল্ড উইস (পোল্যান্ড)
* প্রখ্যাত খ্রিস্টধর্ম প্রচারক ফাদার মার্টিন জন মাইপ পল (তাঞ্জানিয়া)
* প্রখ্যাত সমাজকর্মী টমাস ইরভিং (কানাডা)
* হিন্দু জমিদার শ্রী প্রতাপ চন্দ্র সেন (বাংলাদেশ)
* প্রখ্যাত দাওয়াতকর্মী জিয়ন ডাকলিন (কোরিয়া)
* বিশিষ্ট ধর্মপ্রচারক লি হোচা (চিন)
* প্রখ্যাত ইংরেজ লেখক এ. কেইন, (ইংল্যান্ড)
* ইংলিশ মুসলিম মিশনের প্রেসিডেন্ট জন ওয়েবস্টার (ইংল্যান্ড)
* বিখ্যাত কবি ও গ্রন্থকার রোল্যান্ড স্লোলিং (আমেরিকা)
* বিপ্লবী কবি লেয়ন জেমস (নিউ জার্সি)
* বিশিষ্ট পাদ্রী ও গোত্রপতি মিঃ আবুবকর কোশো (নাইজেরিয়া)
* প্রাক্তন খ্রিস্টধর্ম প্রচারক রেভালেন্ড পল (উগান্ডা)
* প্রখ্যাত গ্রন্থকার ও সংগঠন সুদর্শন ভট্টাচার্য (বাংলাদেশ)
* বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গ্রন্থকার সুরেন্দ্রনাথ রায় (বাংলাদেশ)
* আমেরিকান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার রাসেল ওয়েব (আমেরিকা)
* শব্দবিজ্ঞানী প্রফেসর হারুন মোস্তফা লিয়ন (ইংল্যান্ড)
* প্রফেসর রেভারেন্ড ডেভিড বেঞ্জামিন কেলদানী (ইরান)
* প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও নাট্যকার আব্দুল্লাহ আদিয়ার (ভারত)
* অধ্যাপক মাখনলাল ধর (বাংলাদেশ)
* বিখ্যাত গ্রন্থকার উইলিয়াম বার্চেল পিকার্ড (ইংল্যান্ড)
* বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ ও ধর্মপ্রচারক মোহাম্মদ আমান হবম (জার্মানি)
* মানব জাতিতত্ত্ব বিশারদ মোহাম্মদ সুলাইমান তাকীউচী (জাপান)
* রাষ্ট্রনায়ক স্যার জালালউদ্দীন লডার ক্রনটন (ইংল্যান্ড)
* অধ্যাপক ড. জুলিয়াস জার্মানাস পি. ডি (হাঙ্গেরী)
* চন্দ্র বিজয়ী নীল আর্মস্ট্রং (আমেরিকা)
* নৃতত্ত্ববিদ প্রফেসার আর. এল. মেল্লামা (হল্যান্ড)
* ড. রামদাস পি. এইচ. ডি.
* অধ্যাপিকা ড. বারবারা নেলসন (ইংল্যান্ড)
* অধ্যাপক ড. যিয়াউর রহমান আযমী পি.এইচ (ভারত)
* প্রিন্সেস জাবিদ এস. বানু (ভারত)
* অধ্যাপক ব্ল্যাঙ্কিন শিপ (আমেরিকা)
* ডা. মীর্জা দেহলীন (আমেরিকা)
* ধনকুবের লর্ড ওয়ার্সলে (লন্ডন)
* প্রফেসর ইয়াকুব জাকী (ব্রিটেন)
* ডা. হিরু ফুজী মাসু (জাপান)
* কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার ডেভিড মার্ক প্যাডকক (ব্রিটেন)
* ডাঃ শওকী ফুতাফী (জাপান)
* ডাক ও তার মন্ত্রী জোশিরো কুমিয়ামা (জাপান)
* মনোবিজ্ঞানী ইব্রাহীম জোরার্ড (আমেরিকা)
* বিশ্ব হেভিওয়েট মুষ্টিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন ড. ক্যাসিয়াস ক্লে (আমেরিকা)
* ওকীং স্পিরিচুয়ালিস্ট চার্চের প্রেসিডেন্ট জর্জ ফাউসার (ইংল্যান্ড)
* এডভোকেট কে. এল. গউবা বার এট. ল. (ভারত)
* কর্নেল ডোনাল্ড এস. রকওয়েল (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
* ড. মালিক রাম (ভারত)
* প্রখ্যাত ধর্মপ্রচারক শায়খ আহমদ দীদাত (দক্ষিণ আফ্রিকা)
* শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক শ্রী দুর্গাপ্রসাদ দেশমুখ (ভারত)
* রাজকুমার শ্রী বিশ্বেশ্বর রায় চৌধুরী (বাংলাদেশ)
* বিশ্ব হেভিওয়েট মুষ্টিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন মাইক টাইসন (আমেরিকা)
* প্রখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নেতা ম্যালকম এক্স (আমেরিকা)
* ব্ল্যাক পান্থার পার্টির নেতা এইচ. র্যাপ ব্রাউন (আমেরিকা)
* আফ্রিকা ও পশ্চিম এশীয় খ্রিস্টান মিশনারী সংস্থার প্রধান পাদ্রী ইসহাক
* আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ পুত্র কার্নস মুনএম (আর্জেন্টিনা)
* প্রখ্যাত আর্চ-বিশপ হাজী আবুবকর (তানজানিয়া)
* লেবার পার্টির বিশিষ্ট নেতা জন স্ট্রাস্কাট (ইংল্যান্ড)
* ডা. মারিয়া (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
* পাঁচটি ভাষার পারদর্শী সাংবাদিক মিত্রসূতারো ইয়ামাওকা (জাপান)
* বিখ্যাত ব্যবসায়ী বুম্পাচিরো আরিজা (জাপান)
* উচ্চ শিক্ষিত ইংরেজ মিসেস সানথা (গ্রেট ব্রিটেন)
* মার্কিন যুবতী বার্টন ক্যালী (আমেরিকা)
* বিশ্ব চার্চ পরিষদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব
* মসিয়ে ফ্রেডারিন ডোলামার্ক (দক্ষিণ আফ্রিকা)
* কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার মিঃ আব্দুর রহিম মারটিনি
* রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইসা ম্যানুয়েল ম্যাকলালেদ (ফিলিপাইন)
* শীর্ষস্থানীয় খ্রিস্টান পাদ্রী ইসা (বুলগেরিয়া)
* সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্ক এ্যান্টিনিও ওটার্স (আমেরিকা)
* সাবেক খ্রিস্টান, ধর্মযাজক মিঃ সাঈদ ফাকাদ (ইথিওপিয়া)
* উচ্চ শিক্ষিত খ্রিস্টধর্ম প্রচারক সালেহ আল সুলায়মান (ম্যানিলা)
* সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অধ্যাপক হেনরী স্প্রোগ (ফ্রান্স)
স্থানাভাবে এখানে সাম্প্রতিককালে ইসলাম গ্রহণকারী মাত্র কয়েকজন মনীষীর কেবল নাম পাঠকদের খেদমতে পেশ করা হল।