📄 কেবল বিয়ে করলেই দীনের অর্ধেক পূরণ হয় না
প্রশ্ন ৮ : আস্সালামু আলাইকুম। আপনি একটি হাদীস বলেছেন যে, "বিয়ে অর্ধেক দ্বীন পূরণ করে।" বিয়ে করলেই কি অর্ধেক দ্বীন পূরণ হবে? নাকি বিয়ের পুরো প্রক্রিয়া যেমন-কিভাবে বিয়ে করলেন, স্বামী বা স্ত্রীর সাথে ব্যবহার, দায়িত্ব পালন ইত্যাদি সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: বোন আপনি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। আমি আগেও বলেছি 'বিয়ে অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে' কথার দ্বারা মহানবী বুঝিয়েছেন যে, বিয়ে আপনাকে অবাধ যৌনাচার ও ব্যভিচার থেকে রক্ষা করে। বিয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমাদের প্রিয়নবী বলেছেন যখন বিয়ে করবে, তুমি সাধারণত চারটা বিষয় দেখবে। সম্পদ, সৌন্দর্য, আভিজাত্য আর সদগুণ। মানুষ বিয়ে করার সময় প্রথম সৌন্দর্য দেখে তারপর সম্পদ এরপর আভিজাত্য এবং সর্বশেষ দেখে সদগুণ। মহানবী বলেছেন, এই চারটার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সদগুণ।
কিভাবে বিয়ে করবেন? রাসূল বলেছেন, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিয়ে হলো যেখানে সবচেয়ে কম খরচ হয়। তাই অপচয় করা যাবে না। জীবন সঙ্গী বেছে নেয়া, বিয়ে করা, সন্তানদের বড় করা এসবই সুন্নাহ মেনে করতে হবে। বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত হবেন। এমন হবে না যে, বিয়ের পর আপনি ব্যভিচারে লিপ্ত হবেন। মহানবী বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে ভালো।
সূরা নিসা'র ১৯নং আয়াতে আছে- وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَ يَجْعَلَ اللهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا .
অর্থ: তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করবে, তোমরা যদি তাদের অপছন্দ কর তবে এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তাতে কল্যাণ রেখেছেন অথচ তোমরা তাদেরকেই অপছন্দ করছ।
প্রাচ্যের দেশগুলোতে যেমন ভারতের পুরুষরা স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক নেয়। ইসলামে আপনি দেবেন দেনমোহর। বিয়ে করলে আপনাকে একজন ভালো স্বামী হতে হবে, সন্তান সন্তুতি হলে আপনাকে ভালো মা কিংবা বাবা হতে হবে। এ রকম বিয়ের সাথে সম্পর্কিত সব দায়িত্ব ও কর্তব্য যখন আপনি পালন করবেন, তখন আপনার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ হবে। আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন।
প্রশ্ন ৮ : আস্সালামু আলাইকুম। আপনি একটি হাদীস বলেছেন যে, "বিয়ে অর্ধেক দ্বীন পূরণ করে।" বিয়ে করলেই কি অর্ধেক দ্বীন পূরণ হবে? নাকি বিয়ের পুরো প্রক্রিয়া যেমন-কিভাবে বিয়ে করলেন, স্বামী বা স্ত্রীর সাথে ব্যবহার, দায়িত্ব পালন ইত্যাদি সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: বোন আপনি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। আমি আগেও বলেছি 'বিয়ে অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে' কথার দ্বারা মহানবী বুঝিয়েছেন যে, বিয়ে আপনাকে অবাধ যৌনাচার ও ব্যভিচার থেকে রক্ষা করে। বিয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমাদের প্রিয়নবী বলেছেন যখন বিয়ে করবে, তুমি সাধারণত চারটা বিষয় দেখবে। সম্পদ, সৌন্দর্য, আভিজাত্য আর সদগুণ। মানুষ বিয়ে করার সময় প্রথম সৌন্দর্য দেখে তারপর সম্পদ এরপর আভিজাত্য এবং সর্বশেষ দেখে সদগুণ। মহানবী বলেছেন, এই চারটার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সদগুণ।
কিভাবে বিয়ে করবেন? রাসূল বলেছেন, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিয়ে হলো যেখানে সবচেয়ে কম খরচ হয়। তাই অপচয় করা যাবে না। জীবন সঙ্গী বেছে নেয়া, বিয়ে করা, সন্তানদের বড় করা এসবই সুন্নাহ মেনে করতে হবে। বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত হবেন। এমন হবে না যে, বিয়ের পর আপনি ব্যভিচারে লিপ্ত হবেন। মহানবী বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে ভালো।
সূরা নিসা'র ১৯নং আয়াতে আছে- وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَ يَجْعَلَ اللهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا .
অর্থ: তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করবে, তোমরা যদি তাদের অপছন্দ কর তবে এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তাতে কল্যাণ রেখেছেন অথচ তোমরা তাদেরকেই অপছন্দ করছ।
প্রাচ্যের দেশগুলোতে যেমন ভারতের পুরুষরা স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক নেয়। ইসলামে আপনি দেবেন দেনমোহর। বিয়ে করলে আপনাকে একজন ভালো স্বামী হতে হবে, সন্তান সন্তুতি হলে আপনাকে ভালো মা কিংবা বাবা হতে হবে। এ রকম বিয়ের সাথে সম্পর্কিত সব দায়িত্ব ও কর্তব্য যখন আপনি পালন করবেন, তখন আপনার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ হবে। আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন।
📄 পশ্চিমা নেতারা ইসলামকে ভয় পায়
প্রশ্ন ৯ : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমানুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ডা. জাকির, আমি আসলে এ ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার করতে চাই। আপনি বলেছেন, পশ্চিমা নেতারা ইসলামকে ভয় পায়। আপনি দেখবেন, এমনকি জাহেলিয়াতের যুগেও তাদের বিভিন্ন নেতারা ইসলামকে ভয় পেত না। সে জন্যই তারা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। তারা যেটা ভয় পেয়েছিল সেটা হলো ইসলাম গ্রহণ করলে তাদেরকে বদলাতে হবে। আর পৃথিবীর অধিকাংশ নেতাই পরিবর্তন মেনে নিতে পারে না। আর আমার মতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো তাদেরকে একেবারে সাধারণ মুসলমান হয়ে চলাফেরা করতে হবে। হোক সেটা আমেরিকায় বা অন্য কোথাও।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: ভাই আপনি বলেছেন যে, জাহিলিয়াতের নেতারা ইসলামকে ভয় পেত না। দুঃখিত ভাই আমি আপনার সাথে একমত হতে পারছি না। সে সময়ের বড় বড় নেতারা ইসলামকে প্রচণ্ড ভয় পেত। তারা একমাত্র যে জিনিসটাকে ভয় পেত তাহলো ইসলাম। আর এজন্যই তারা নবীজিকে বলেছিল, আমরা তোমাকে রাজা বানাব, সবচেয়ে ধনী লোক বানিয়ে দেব, যদি তুমি ইসলাম প্রচার করা বন্ধ করে দাও। মহানবী উত্তরে বলেছিলেন, আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্র এনে দিলেও আমি ইসলামের এই দাওয়াত প্রচার থেকে বিরত থাকব না।
পরবর্তীতে (আলহামদুলিল্লাহ) সত্যেরই জয় হলো। তখন তারা মুসলমান হয়েছে। এজন্যই কুরআন বলছে প্রথমে গোত্রের নেতাদের বোঝাও। যদি তারা মুসলমান হয়, অনেকেই তাদের অনুসরণ করবে। সেজন্যই আমি বলব, পশ্চিমা বিশ্বে ও বেশির ভাগ নেতাই ইসলামকে ভয় পায়। অবশ্য সবাই না, ভাল কিছু লোক আছে। যেমন ব্রুনো চার্লস বেশ কিছু ভালো কথা বলেছেন। তার নিয়ত আল্লাহই ভাল জানেন। ইংল্যান্ডের বেশ কিছু মন্ত্রী ইসলাম সম্পর্কে ভালো কথা বলেছেন।
আপনি বলেছেন মুসলমান হওয়া তাদের জন্য খুব সহজ। ব্যাপারটা আসলে মোটেও সহজ না, ভাই। সেই সময়ে আবু সুফিয়ান আর অন্যান্য নেতারা অনেক ধনী ছিল। তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে, কে তাদের কুর্নিশ করবে? ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সব মানুষ সমান। ফলে, তাদের সাথে কোলাকোলি করতে হবে। জীবনটাই পুরো বদলে যাবে। নেতারা ভয় পেয়েছিল যে তারা যে বিলাসিতা আর স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে ছিল সে সবই ছাড়তে হবে শুধু ইসলামের কারণে। আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করেছিলেন। তারা পৃথিবীর বদলে আল্লাহর কাছে আখিরাতে প্রাসাদ চেয়েছিল। আর এ ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো উদাহরণটা হলো বিবি আসিয়ার। তিনি ছিলেন ফেরাউনের স্ত্রী। সূরা তাহরীমের ১১ নং আয়াতে আছে-
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لي عِنْدَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِنْ فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ .
অর্থ : আল্লাহ মুমিনদের জন্য ফিরাউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন, যে প্রার্থনা করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! তোমার সন্নিধানে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং আমাকে উদ্ধার কর ফিরাউন ও তার দুষ্কৃতি এবং যালিম সম্প্রদায় হতে।
তিনি ছিলেন সে সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ফেরাউনের স্ত্রী। তারপরও তিনি আল্লাহর কাছে দোআ করেছেন। তাই (আলহামদুলিল্লাহ) আল্লাহ যখন হিদায়াত দান করে, তখন সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, সে ইসলাম গ্রহণ করে আখিরাতের জন্য।
প্রশ্ন ৯ : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমানুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ডা. জাকির, আমি আসলে এ ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার করতে চাই। আপনি বলেছেন, পশ্চিমা নেতারা ইসলামকে ভয় পায়। আপনি দেখবেন, এমনকি জাহেলিয়াতের যুগেও তাদের বিভিন্ন নেতারা ইসলামকে ভয় পেত না। সে জন্যই তারা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। তারা যেটা ভয় পেয়েছিল সেটা হলো ইসলাম গ্রহণ করলে তাদেরকে বদলাতে হবে। আর পৃথিবীর অধিকাংশ নেতাই পরিবর্তন মেনে নিতে পারে না। আর আমার মতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো তাদেরকে একেবারে সাধারণ মুসলমান হয়ে চলাফেরা করতে হবে। হোক সেটা আমেরিকায় বা অন্য কোথাও।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: ভাই আপনি বলেছেন যে, জাহিলিয়াতের নেতারা ইসলামকে ভয় পেত না। দুঃখিত ভাই আমি আপনার সাথে একমত হতে পারছি না। সে সময়ের বড় বড় নেতারা ইসলামকে প্রচণ্ড ভয় পেত। তারা একমাত্র যে জিনিসটাকে ভয় পেত তাহলো ইসলাম। আর এজন্যই তারা নবীজিকে বলেছিল, আমরা তোমাকে রাজা বানাব, সবচেয়ে ধনী লোক বানিয়ে দেব, যদি তুমি ইসলাম প্রচার করা বন্ধ করে দাও। মহানবী উত্তরে বলেছিলেন, আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্র এনে দিলেও আমি ইসলামের এই দাওয়াত প্রচার থেকে বিরত থাকব না।
পরবর্তীতে (আলহামদুলিল্লাহ) সত্যেরই জয় হলো। তখন তারা মুসলমান হয়েছে। এজন্যই কুরআন বলছে প্রথমে গোত্রের নেতাদের বোঝাও। যদি তারা মুসলমান হয়, অনেকেই তাদের অনুসরণ করবে। সেজন্যই আমি বলব, পশ্চিমা বিশ্বে ও বেশির ভাগ নেতাই ইসলামকে ভয় পায়। অবশ্য সবাই না, ভাল কিছু লোক আছে। যেমন ব্রুনো চার্লস বেশ কিছু ভালো কথা বলেছেন। তার নিয়ত আল্লাহই ভাল জানেন। ইংল্যান্ডের বেশ কিছু মন্ত্রী ইসলাম সম্পর্কে ভালো কথা বলেছেন।
আপনি বলেছেন মুসলমান হওয়া তাদের জন্য খুব সহজ। ব্যাপারটা আসলে মোটেও সহজ না, ভাই। সেই সময়ে আবু সুফিয়ান আর অন্যান্য নেতারা অনেক ধনী ছিল। তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে, কে তাদের কুর্নিশ করবে? ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সব মানুষ সমান। ফলে, তাদের সাথে কোলাকোলি করতে হবে। জীবনটাই পুরো বদলে যাবে। নেতারা ভয় পেয়েছিল যে তারা যে বিলাসিতা আর স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে ছিল সে সবই ছাড়তে হবে শুধু ইসলামের কারণে। আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করেছিলেন। তারা পৃথিবীর বদলে আল্লাহর কাছে আখিরাতে প্রাসাদ চেয়েছিল। আর এ ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো উদাহরণটা হলো বিবি আসিয়ার। তিনি ছিলেন ফেরাউনের স্ত্রী। সূরা তাহরীমের ১১ নং আয়াতে আছে-
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لي عِنْدَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِنْ فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ .
অর্থ : আল্লাহ মুমিনদের জন্য ফিরাউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন, যে প্রার্থনা করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! তোমার সন্নিধানে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং আমাকে উদ্ধার কর ফিরাউন ও তার দুষ্কৃতি এবং যালিম সম্প্রদায় হতে।
তিনি ছিলেন সে সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ফেরাউনের স্ত্রী। তারপরও তিনি আল্লাহর কাছে দোআ করেছেন। তাই (আলহামদুলিল্লাহ) আল্লাহ যখন হিদায়াত দান করে, তখন সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, সে ইসলাম গ্রহণ করে আখিরাতের জন্য।
📄 আকিকা ছেলের জন্য দুটি আর মেয়ের জন্য একটি কেন?
প্রশ্ন ১০ (মহিলা): আমরা আল-কুরআন পড়ে জেনেছি যে, পুরুষ আর মহিলা আল্লাহর কাছে সমান। আমাদের মহানবী ﷺ-এর হাদীসেও আছে যে, বাবার চেয়ে মা'র অধিকার বেশি। কিন্তু আকিকার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, মেয়ের জন্য দেয়া হয় একটি বকরি কুরবানি আর ছেলের জন্য দুটো। বোঝানো হচ্ছে যে, ছেলেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: আপনার প্রশ্নটা হলো, অধিকারের সময় কেন ছেলের জন্য দুটো বকরি আর মেয়ের একটা বকরি কুরবানি দেয়া হয়। বোন, অনেক সহীহ হাদীসে আছে, ছেলের জন্য একটা বকরিও কোরবানি দেয়া যায়। এটি এমন নয় যে, ছেলের জন্য দুটি কুরবানি দেয়া উচিত। ইসলামে পুরুষ মানুষই রোজগার করে। পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব পুরুষের ওপর। মেয়েদের বিয়ে দেয়ার দায়িত্ব বাবার অথবা ভাইয়ের। বিয়ের পর তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানসহ সব দায়িত্ব স্বামীর আর সন্তানের। সে অর্থনৈতিক দায়মুক্ত। সবাই তাকে রক্ষা করছে, (আলহামদু লিল্লাহ)।
এটা আমি বলছি আমার যুক্তি দিয়ে-এটাই যে আসল কারণ তা না-ও হতে পারে। আল্লাহই ভাল জানেন কেন ছেলের জন্য দুটি বকরি। তাই একজন মানুষ ছেলে হলে বেশি টাকা খরচ করতে চায়। এটা হতে পারে একটা কারণ। আল্লাহই ভালো জানেন। তবে বাধ্যতামূলকভাবে দুটি কোরবানি কোনো সহীহ হাদীসে নেই। সহীহ হাদীস বলছে হয় একটি নয়তো দুটি। আর মেয়ের ক্ষেত্রে একটা বকরি কোন সমস্যা নয়, আপনি ইচ্ছে করলে আরো বেশি কুরবানি দিতে পারেন। আল্লাহ তায়ালা ও আমাদের প্রিয়নবী সে সুযোগ রেখেছেন। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।
প্রশ্ন ১০ (মহিলা): আমরা আল-কুরআন পড়ে জেনেছি যে, পুরুষ আর মহিলা আল্লাহর কাছে সমান। আমাদের মহানবী ﷺ-এর হাদীসেও আছে যে, বাবার চেয়ে মা'র অধিকার বেশি। কিন্তু আকিকার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, মেয়ের জন্য দেয়া হয় একটি বকরি কুরবানি আর ছেলের জন্য দুটো। বোঝানো হচ্ছে যে, ছেলেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: আপনার প্রশ্নটা হলো, অধিকারের সময় কেন ছেলের জন্য দুটো বকরি আর মেয়ের একটা বকরি কুরবানি দেয়া হয়। বোন, অনেক সহীহ হাদীসে আছে, ছেলের জন্য একটা বকরিও কোরবানি দেয়া যায়। এটি এমন নয় যে, ছেলের জন্য দুটি কুরবানি দেয়া উচিত। ইসলামে পুরুষ মানুষই রোজগার করে। পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব পুরুষের ওপর। মেয়েদের বিয়ে দেয়ার দায়িত্ব বাবার অথবা ভাইয়ের। বিয়ের পর তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানসহ সব দায়িত্ব স্বামীর আর সন্তানের। সে অর্থনৈতিক দায়মুক্ত। সবাই তাকে রক্ষা করছে, (আলহামদু লিল্লাহ)।
এটা আমি বলছি আমার যুক্তি দিয়ে-এটাই যে আসল কারণ তা না-ও হতে পারে। আল্লাহই ভাল জানেন কেন ছেলের জন্য দুটি বকরি। তাই একজন মানুষ ছেলে হলে বেশি টাকা খরচ করতে চায়। এটা হতে পারে একটা কারণ। আল্লাহই ভালো জানেন। তবে বাধ্যতামূলকভাবে দুটি কোরবানি কোনো সহীহ হাদীসে নেই। সহীহ হাদীস বলছে হয় একটি নয়তো দুটি। আর মেয়ের ক্ষেত্রে একটা বকরি কোন সমস্যা নয়, আপনি ইচ্ছে করলে আরো বেশি কুরবানি দিতে পারেন। আল্লাহ তায়ালা ও আমাদের প্রিয়নবী সে সুযোগ রেখেছেন। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।
📄 পশ্চিমাদের সমালোচনা করা কি ঠিক?
প্রশ্ন ১২ (মহিলা): আমি একজন কনভার্টেট মুসলমান। মুসলমান হওয়ার আগে ইসলাম সম্পর্কে আমার খুব খারাপ ধারণা ছিল। এর কারণ, আমি যে মুসলমানদের দেখেছিলাম, তারা ভাল ছিল না। ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম। কিন্তু সব সময় অন্য ধর্মের সমালোচনা করা কি ঠিক? মানে আমি বলতে চাচ্ছি এভাবে কথা বলাটা ঠিক না। পশ্চিমাদের এতো বেশি সমালোচনা করা যেমন- ধর্ষণের কথা বলেছেন, মুসলিম দেশেও সেটা হয়, মধ্যপ্রাচ্যেও হয়। হয়তো এতো বেশি রিপোর্ট করা হয় না। কিন্তু এখানেও হয়। তাহলে পশ্চিমাদের ওপর এতো বেশি আক্রমণ কেন? আপনি বললেন যে, অমুসলিমরা বলে যে, ইসলাম মহিলাদের ছোট করে দেখে। কুরআনে অনেক কথাই বলা হয়েছে পুরুষ আর মহিলাদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু পুরুষদের যেগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো সবাই এড়িয়ে যায় আর মহিলাদের জন্য যা বলা হয়েছে সেগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
আপনি একটু আগে বললেন, গুণী স্বামী এবং স্ত্রীর কথা। কিন্তু যখন বিভিন্ন বই পড়ি সেখানে লেখা থাকে কেবল গুণবতী স্ত্রীর কথা। আর শুধুই বলা হচ্ছে মহিলাদের কি কি করা উচিত। এমনটা কেন করা হচ্ছে? আমরা এরকম করি বলেই অনেক সময় অমুসলিমদের বোঝানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বইগুলোতে কিভাবে ভালো স্ত্রী হওয়া যায় সে কথা লিখার পাশাপাশি কিভাবে একজন ভাল স্বামী হওয়া যায় সে কথাও কেন লেখা হয় না? এখানে উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, রাসূল নিজে স্ত্রীদের গৃহস্থালীর বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতেন। সব জায়গায় সব কিছুতেই কেবল মহিলাদের কথা বলা হচ্ছে। যেমন, মহিলাদের এটা করা উচিত, এটা করা উচিত নয়। ইসলাম ধর্ম একথাই বলছে। আর এভাবে অমুসলিমদের দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: বোন, আপনি খুবই সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। তিনি রিভার্ট হয়েছেন এজন্য তাকে জানাই অভিনন্দন। তিনি বলছিলেন কিভাবে পশ্চিমাদের সাথে ব্যবহার করা উচিত, কথা বলা উচিত। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় "কেন পশ্চিমারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন", বিষয় এইটা না যে, পশ্চিমাদের কিভাবে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে?" তাদের মুসলমান হওয়ার কারণ বলছি। আর বলার ক্ষেত্রে কোদালটাকে কোদালই বলছি।
আর বোন, আপনি ঠিকই বলেছেন, অন্য ধর্মের সমালোচনা করা উচিত না। কারণ, পবিত্র কুরআনের সূরা আল আনআমের ১০৮ নং আয়াতে আছে,
وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهُ عَدُوَّا بِغَيْرِ عِلْمٍ .
অর্থ: আল্লাহকে ব্যতীত যাদেরকে তারা ডাকে, তাদেরকে গালি দিও না। কেননা, অজ্ঞান বশত তারা সীমা লংঘন করে আল্লাহকেও গালি দিতে পারে।
আপনি বলেছেন যে, আমি পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা করছি। বোন, সমালোচনা করা মানে আমি যেটা বলব যে, কোন প্রমাণ ছাড়া বলা। আমি যা বলছি তা আমেরিকারই পরিসংখ্যান। তাহলে আমাকে দোষ দিচ্ছেন কেন? সমালোচনা করা মানে কোন একটা পয়েন্ট ধরে সেটাকে নিয়ে প্যাঁচানো আর এটা পশ্চিমারাই বেশি করে। পশ্চিমারা খুব গর্বিত যে, তারা খুব স্পষ্টবাদী। তারা বলে যে, আমরা সাহসী, সত্যবাদী। আলহামদুলিল্লাহ, আর আমিও সত্যবাদী। তারা মিডিয়াতে দেখায় যে, মেয়েদের ছোট করে দেখা হয় আর আমি এফ. বি. আই.-এর রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি। ধর্ষণের যে পরিসংখ্যান আমি দিয়েছি, সেটা কোন মুসলমান নয়, পশ্চিমারাই লিখেছে। তাই তারা বলতে পারবে না যে, জাকির সমালোচনা করছে। আর এজন্য আমি ব্যবহার করেছি আমার হিকমা।
আপনি বললেন, ধর্ষণের ঘটনা অন্যান্য দেশেও ঘটছে; কিন্তু রিপোর্ট করা হচ্ছে না। আমি আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না। ধর্ষণ খুব বেশি হয় পশ্চিমা বিশ্বে; কিন্তু ওখানেই রিপোর্ট করা হয় না। কারণ, এটা ওখানে এতই সাধারণ যে রিপোর্টই করা হয় না। খবরের কাগজে খুব ছোট করে লেখা থাকে। অন্য কোনো দেশে ধর্ষণ হলে হেডলাইনে আসবে। আমি বলছি না যে এখানে ধর্ষণ হয় না। ধর্ষণ পুরো পৃথিবীতেই হয়। সবচেয়ে কম ধর্ষণ হয় মুসলিম দেশগুলোতে। যেসব দেশে ইসলামিক শরিয়া নেই, সেখানে হয়। পৃথিবীতে সবচেয়ে কম ধর্ষণ হয় সৌদি আরবে। সবচেয়ে কম। সেখানেও ধর্ষণ হয়। কারণ সেখানেও কুলাঙ্গার থাকে। সবচেয়ে কম ডাকাতির ঘটনা ঘটে সৌদি আরবে। অনেক মুসলিম দেশ আছে যারা ইসলাম অনুসরণ করে না, তারা হলো নকল মুসলমান। এসব দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে খবরের কাগজের হেডলাইন হয়। কারণ এটা একটা কলঙ্কিত ঘটনা। আর আমেরিকায় এটা হলো দৈনন্দিন জীবন। যেমন একজন রোগী বলল তার যৌনরোগ আছে, ডাক্তার বলল যে তারও আছে। তারা নির্লজ্জ সুতরাং অবাক হওয়ার কিছুই নেই। বোন, আমি যেহেতু সত্যি কথা বলছি, সেহেতু আমাকে বলতে হবেই। আমি ভদ্র ভাষায় বলেছি 'জনগণের সম্পত্তি' গনিকা কিন্তু এটাইতো সত্যি। লোকে সমালোচনা মনে করলেও কোদালকে আমি কোদালই বলব। পশ্চিমারা (আলহামদুলিল্লাহ) এ রকম স্পষ্ট কথাই পছন্দ করে।
আপনি যদি খ্রিস্টানদেরকে বলেন, তোমরা শিরক কর না। এসব থামাও। এটা তোমাদের জন্য ভালো। একথা আপনি যত ভদ্রভাবে বলেন, সে কষ্ট পাবেই। কোন মানুষকে মিথ্যা হতে মুক্ত করতে চাইলে সে কষ্ট পাবেই। আপনি যদি খুব ভদ্রভাবেও কোন খ্রিস্টানকে জিজ্ঞেস করেন, 'কেন তুমি যীশু খ্রিস্টের পূজা কর?” তারপরও সে কষ্ট পাবে। এমন তো নয় যে আমি তাদের অপমান করার জন্যই এভাবে বলছি। আমি এখানে শুধু তাদেরই পরিসংখ্যান দিয়েছি। এই হল আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর।
আপনার তৃতীয় প্রশ্নটা হলো কেন মুসলমান পণ্ডিতরা শুধু মহিলাদের কথা বলে পুরুষদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে কিছু বলে না কেন? বোন, আমার "ইসলামে মেয়েদের অধিকার" ক্যাসেটটি আপনার দেখা উচিত। আমার লেকচার শুনে লোকজন প্রশ্ন করেছিল আমি কখন 'ইসলামে পুরুষের অধিকার' নিয়ে বলব। আমি আমার ক্যাসেটে বলেছি স্ত্রীর সাথে স্বামীর কিভাবে ব্যবহার করা উচিত। এমনকি আজকেও আমি যখন হিজাবের কথা বলছিলাম, তখন ঠিক সেই কথাটাই বলেছি যা আপনি বলেছেন। সাধারণ মুসলমান বক্তারা মেয়েদের হিজাবের কথা বলে। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন প্রথমে পুরুষের হিজাবের কথা। আপনি যদি ইসলামের নিরপেক্ষ পথ দেখতে চান, আমার ভিডিও ক্যাসেটগুলো দেখতে পারেন। সেখানে আপনি দেখতে পাবেন, একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে কি রকম ব্যবহার করবে, তার দায়িত্ব ও কর্তব্য কি সেসব কথা। অনেক পুরুষই আমার এ রকম কথা পছন্দ করে নি।
বোন, আমি আগেও বলেছি যে, ইসলাম পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে সাম্যবাদে বিশ্বাস করে। তবে সাম্যবাদ মানে অভিন্নতা নয়। পুরুষ-মহিলা সমান কিন্তু তারা একই রকম নয়। আমি আমার লেকচারে মহিলাদের আধ্যাত্মিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আইনগত ও শিক্ষার অধিকারের কথা বলেছি। পশ্চিমা বিশ্ব যে মানব সভ্যতার কথা বলে সেটা ছদ্মাবরণ মাত্র। শরীরকে শোষণ করা, সম্মানের অবমাননা এবং আত্মাকে বঞ্চিত করা ছাড়া আর কিছুই করে না তারা। মহিলাদের অধিকারের কথা বলে তাদেরকে উপপত্নীর, রক্ষিতার স্তরে নামিয়ে দিচ্ছে তারা। তারা পরিণত হচ্ছে আনন্দ, পিয়াসী আর সেক্স ব্যবসায়ীদের হাতের খেলনায়। আর্ট এবং কালচারের রঙ্গীন জগতের মাধ্যমে তাদেরকে প্রলোভিত ও অপব্যবহার করছে।
পুরুষ ও মহিলা মানুষ হিসেবে সমান। কিন্তু তাদের দৈহিক ও মানসিক গঠন আলাদা। পুরুষরা মহিলাদের সব কাজ করতে পারে না। মহিলারাও পুরুষদের সব কাজ করতে পারে না। আমি এখন থেকে সন্তান ধারণ ও জন্মদান করতে পারব না।
قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ صَحَابَتِي؟ قَالَ أَمَّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَمَّكَ ، قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَمُّكَ ، قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ أَبُوكَ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ أُمَّكَ ثُمَّ أُمَّكَ ثُمَّ أَمُّكَ ثُمَّ أَبَاكَ ثُمَّ أَدْنَاكَ فَأَدْنَاكَ .
(বুখারী ও মুসলিম) অর্থ: একলোক নবীজির কাছে এসে বলল, পৃথিবীতে আমার ভালোবাসা ও সাহচর্য সবচেয়ে বেশি কার প্রাপ্য? নবীজি বললেন, তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার? তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার। তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার? তিনি বললেন, তোমার পিতার। তারপর নিকট আত্মীয়, তারপর পর্যায়ক্রমে।
তার মানে চারভাগের তিনভাগ ভালোবাসা আর সাহচর্যের দাবিদার মা আর এক ভাগ মাত্র পিতার। এখন আমি বলতে পারব না যে, মাকে এত বেশি অধিকার দেয়া হচ্ছে কেন, আমিও সন্তানের জন্ম দেব। ধরুন, একটা ক্লাসে দুইজন ছাত্র আছে, "A" আর "B"। তারা দুজনেই ১০০ নাম্বারের মধ্যে ৮০ নাম্বার পেয়ে যৌথভাবে প্রথম হলো। প্রশ্নের পেপারে ১০টি প্রশ্ন ছিল যার প্রত্যেকটিতে ১০ নাম্বার। এখন, এক নাম্বার প্রশ্নের উত্তরে যার নাম "A" সে ১০ এর মধ্যে ৯ পেয়েছে। আর "B" পেয়েছে ১০-এ ৭। তাহলে ১ নাম্বার প্রশ্নে "A" "B" এর চেয়ে ভাল। ২নং প্রশ্নে "A" ১০ই পেল ৭ আর "B" পেল ১০-এর মধ্যে ৯। তাহলে ২ নং প্রশ্নের "B" "A" এর চেয়ে ভাল। বাকি ৮টি প্রশ্নের উত্তরে দুজনই ১০-এ ৮ পেল। সব মিলিয়ে দুজনেই ১০০-তে পেয়েছে ৮০। তবে ১ নং প্রশ্নে "A" "B" এর চেয়েও ভাল। আবার ২নং প্রশ্নে "B" "A" এর চেয়েও ভালো। এমনিভাবে, পুরুষ আর মহিলা সমান; কিন্তু তারা একই রকম নয়। ধরুন, আমার বাড়িতে ডাকাত আসল ডাকাতি করার জন্য। আমি বলব না যে, পুরুষ আর মহিলা সমান। আমি আমার স্ত্রী আর বোনকে বলব না গিয়ে মারামারি করতে।
সূরা নেসার ৩৫ নং আয়াতে আছে- الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ .
অর্থ: পুরুষরা মহিলাদের নেতা (তত্ত্বাবধায়ক)।
শক্তির দিক থেকে পুরুষ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। অর্থাৎ কিছু কিছু ব্যাপারে পুরুষ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। আর কিছু কিছু ব্যাপারে মহিলারা সুবিধাজনক অবস্থানে। সব মিলিয়ে পুরুষ-মহিলা সমান। "স্বামীর কর্তব্য" নিয়ে ইসলামিক কোন বই নেই। ইনশাআল্লাহ, আপনি রিসার্চ করে বক্তব্য দেবেন। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন। আপনি যেহেতু রিভার্ট হয়েছেন, আপনি বক্তব্য দিলে সেটার প্রভাব ভালমতো পড়বে। আমি অনুরোধ করব আমার ক্যাসেটগুলো দেখেন। আপনার ধারণা বদলাবে। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।
প্রশ্ন ১২ (মহিলা): আমি একজন কনভার্টেট মুসলমান। মুসলমান হওয়ার আগে ইসলাম সম্পর্কে আমার খুব খারাপ ধারণা ছিল। এর কারণ, আমি যে মুসলমানদের দেখেছিলাম, তারা ভাল ছিল না। ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম। কিন্তু সব সময় অন্য ধর্মের সমালোচনা করা কি ঠিক? মানে আমি বলতে চাচ্ছি এভাবে কথা বলাটা ঠিক না। পশ্চিমাদের এতো বেশি সমালোচনা করা যেমন- ধর্ষণের কথা বলেছেন, মুসলিম দেশেও সেটা হয়, মধ্যপ্রাচ্যেও হয়। হয়তো এতো বেশি রিপোর্ট করা হয় না। কিন্তু এখানেও হয়। তাহলে পশ্চিমাদের ওপর এতো বেশি আক্রমণ কেন? আপনি বললেন যে, অমুসলিমরা বলে যে, ইসলাম মহিলাদের ছোট করে দেখে। কুরআনে অনেক কথাই বলা হয়েছে পুরুষ আর মহিলাদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু পুরুষদের যেগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো সবাই এড়িয়ে যায় আর মহিলাদের জন্য যা বলা হয়েছে সেগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
আপনি একটু আগে বললেন, গুণী স্বামী এবং স্ত্রীর কথা। কিন্তু যখন বিভিন্ন বই পড়ি সেখানে লেখা থাকে কেবল গুণবতী স্ত্রীর কথা। আর শুধুই বলা হচ্ছে মহিলাদের কি কি করা উচিত। এমনটা কেন করা হচ্ছে? আমরা এরকম করি বলেই অনেক সময় অমুসলিমদের বোঝানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বইগুলোতে কিভাবে ভালো স্ত্রী হওয়া যায় সে কথা লিখার পাশাপাশি কিভাবে একজন ভাল স্বামী হওয়া যায় সে কথাও কেন লেখা হয় না? এখানে উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, রাসূল নিজে স্ত্রীদের গৃহস্থালীর বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতেন। সব জায়গায় সব কিছুতেই কেবল মহিলাদের কথা বলা হচ্ছে। যেমন, মহিলাদের এটা করা উচিত, এটা করা উচিত নয়। ইসলাম ধর্ম একথাই বলছে। আর এভাবে অমুসলিমদের দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: বোন, আপনি খুবই সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। তিনি রিভার্ট হয়েছেন এজন্য তাকে জানাই অভিনন্দন। তিনি বলছিলেন কিভাবে পশ্চিমাদের সাথে ব্যবহার করা উচিত, কথা বলা উচিত। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় "কেন পশ্চিমারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন", বিষয় এইটা না যে, পশ্চিমাদের কিভাবে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে?" তাদের মুসলমান হওয়ার কারণ বলছি। আর বলার ক্ষেত্রে কোদালটাকে কোদালই বলছি।
আর বোন, আপনি ঠিকই বলেছেন, অন্য ধর্মের সমালোচনা করা উচিত না। কারণ, পবিত্র কুরআনের সূরা আল আনআমের ১০৮ নং আয়াতে আছে,
وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهُ عَدُوَّا بِغَيْرِ عِلْمٍ .
অর্থ: আল্লাহকে ব্যতীত যাদেরকে তারা ডাকে, তাদেরকে গালি দিও না। কেননা, অজ্ঞান বশত তারা সীমা লংঘন করে আল্লাহকেও গালি দিতে পারে।
আপনি বলেছেন যে, আমি পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা করছি। বোন, সমালোচনা করা মানে আমি যেটা বলব যে, কোন প্রমাণ ছাড়া বলা। আমি যা বলছি তা আমেরিকারই পরিসংখ্যান। তাহলে আমাকে দোষ দিচ্ছেন কেন? সমালোচনা করা মানে কোন একটা পয়েন্ট ধরে সেটাকে নিয়ে প্যাঁচানো আর এটা পশ্চিমারাই বেশি করে। পশ্চিমারা খুব গর্বিত যে, তারা খুব স্পষ্টবাদী। তারা বলে যে, আমরা সাহসী, সত্যবাদী। আলহামদুলিল্লাহ, আর আমিও সত্যবাদী। তারা মিডিয়াতে দেখায় যে, মেয়েদের ছোট করে দেখা হয় আর আমি এফ. বি. আই.-এর রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি। ধর্ষণের যে পরিসংখ্যান আমি দিয়েছি, সেটা কোন মুসলমান নয়, পশ্চিমারাই লিখেছে। তাই তারা বলতে পারবে না যে, জাকির সমালোচনা করছে। আর এজন্য আমি ব্যবহার করেছি আমার হিকমা।
আপনি বললেন, ধর্ষণের ঘটনা অন্যান্য দেশেও ঘটছে; কিন্তু রিপোর্ট করা হচ্ছে না। আমি আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না। ধর্ষণ খুব বেশি হয় পশ্চিমা বিশ্বে; কিন্তু ওখানেই রিপোর্ট করা হয় না। কারণ, এটা ওখানে এতই সাধারণ যে রিপোর্টই করা হয় না। খবরের কাগজে খুব ছোট করে লেখা থাকে। অন্য কোনো দেশে ধর্ষণ হলে হেডলাইনে আসবে। আমি বলছি না যে এখানে ধর্ষণ হয় না। ধর্ষণ পুরো পৃথিবীতেই হয়। সবচেয়ে কম ধর্ষণ হয় মুসলিম দেশগুলোতে। যেসব দেশে ইসলামিক শরিয়া নেই, সেখানে হয়। পৃথিবীতে সবচেয়ে কম ধর্ষণ হয় সৌদি আরবে। সবচেয়ে কম। সেখানেও ধর্ষণ হয়। কারণ সেখানেও কুলাঙ্গার থাকে। সবচেয়ে কম ডাকাতির ঘটনা ঘটে সৌদি আরবে। অনেক মুসলিম দেশ আছে যারা ইসলাম অনুসরণ করে না, তারা হলো নকল মুসলমান। এসব দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে খবরের কাগজের হেডলাইন হয়। কারণ এটা একটা কলঙ্কিত ঘটনা। আর আমেরিকায় এটা হলো দৈনন্দিন জীবন। যেমন একজন রোগী বলল তার যৌনরোগ আছে, ডাক্তার বলল যে তারও আছে। তারা নির্লজ্জ সুতরাং অবাক হওয়ার কিছুই নেই। বোন, আমি যেহেতু সত্যি কথা বলছি, সেহেতু আমাকে বলতে হবেই। আমি ভদ্র ভাষায় বলেছি 'জনগণের সম্পত্তি' গনিকা কিন্তু এটাইতো সত্যি। লোকে সমালোচনা মনে করলেও কোদালকে আমি কোদালই বলব। পশ্চিমারা (আলহামদুলিল্লাহ) এ রকম স্পষ্ট কথাই পছন্দ করে।
আপনি যদি খ্রিস্টানদেরকে বলেন, তোমরা শিরক কর না। এসব থামাও। এটা তোমাদের জন্য ভালো। একথা আপনি যত ভদ্রভাবে বলেন, সে কষ্ট পাবেই। কোন মানুষকে মিথ্যা হতে মুক্ত করতে চাইলে সে কষ্ট পাবেই। আপনি যদি খুব ভদ্রভাবেও কোন খ্রিস্টানকে জিজ্ঞেস করেন, 'কেন তুমি যীশু খ্রিস্টের পূজা কর?” তারপরও সে কষ্ট পাবে। এমন তো নয় যে আমি তাদের অপমান করার জন্যই এভাবে বলছি। আমি এখানে শুধু তাদেরই পরিসংখ্যান দিয়েছি। এই হল আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর।
আপনার তৃতীয় প্রশ্নটা হলো কেন মুসলমান পণ্ডিতরা শুধু মহিলাদের কথা বলে পুরুষদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে কিছু বলে না কেন? বোন, আমার "ইসলামে মেয়েদের অধিকার" ক্যাসেটটি আপনার দেখা উচিত। আমার লেকচার শুনে লোকজন প্রশ্ন করেছিল আমি কখন 'ইসলামে পুরুষের অধিকার' নিয়ে বলব। আমি আমার ক্যাসেটে বলেছি স্ত্রীর সাথে স্বামীর কিভাবে ব্যবহার করা উচিত। এমনকি আজকেও আমি যখন হিজাবের কথা বলছিলাম, তখন ঠিক সেই কথাটাই বলেছি যা আপনি বলেছেন। সাধারণ মুসলমান বক্তারা মেয়েদের হিজাবের কথা বলে। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন প্রথমে পুরুষের হিজাবের কথা। আপনি যদি ইসলামের নিরপেক্ষ পথ দেখতে চান, আমার ভিডিও ক্যাসেটগুলো দেখতে পারেন। সেখানে আপনি দেখতে পাবেন, একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে কি রকম ব্যবহার করবে, তার দায়িত্ব ও কর্তব্য কি সেসব কথা। অনেক পুরুষই আমার এ রকম কথা পছন্দ করে নি।
বোন, আমি আগেও বলেছি যে, ইসলাম পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে সাম্যবাদে বিশ্বাস করে। তবে সাম্যবাদ মানে অভিন্নতা নয়। পুরুষ-মহিলা সমান কিন্তু তারা একই রকম নয়। আমি আমার লেকচারে মহিলাদের আধ্যাত্মিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আইনগত ও শিক্ষার অধিকারের কথা বলেছি। পশ্চিমা বিশ্ব যে মানব সভ্যতার কথা বলে সেটা ছদ্মাবরণ মাত্র। শরীরকে শোষণ করা, সম্মানের অবমাননা এবং আত্মাকে বঞ্চিত করা ছাড়া আর কিছুই করে না তারা। মহিলাদের অধিকারের কথা বলে তাদেরকে উপপত্নীর, রক্ষিতার স্তরে নামিয়ে দিচ্ছে তারা। তারা পরিণত হচ্ছে আনন্দ, পিয়াসী আর সেক্স ব্যবসায়ীদের হাতের খেলনায়। আর্ট এবং কালচারের রঙ্গীন জগতের মাধ্যমে তাদেরকে প্রলোভিত ও অপব্যবহার করছে।
পুরুষ ও মহিলা মানুষ হিসেবে সমান। কিন্তু তাদের দৈহিক ও মানসিক গঠন আলাদা। পুরুষরা মহিলাদের সব কাজ করতে পারে না। মহিলারাও পুরুষদের সব কাজ করতে পারে না। আমি এখন থেকে সন্তান ধারণ ও জন্মদান করতে পারব না।
قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ صَحَابَتِي؟ قَالَ أَمَّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَمَّكَ ، قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ أَمُّكَ ، قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ أَبُوكَ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ أُمَّكَ ثُمَّ أُمَّكَ ثُمَّ أَمُّكَ ثُمَّ أَبَاكَ ثُمَّ أَدْنَاكَ فَأَدْنَاكَ .
(বুখারী ও মুসলিম) অর্থ: একলোক নবীজির কাছে এসে বলল, পৃথিবীতে আমার ভালোবাসা ও সাহচর্য সবচেয়ে বেশি কার প্রাপ্য? নবীজি বললেন, তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার? তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার। তোমার মা'র। লোকটি বলল, এরপর কার? তিনি বললেন, তোমার পিতার। তারপর নিকট আত্মীয়, তারপর পর্যায়ক্রমে।
তার মানে চারভাগের তিনভাগ ভালোবাসা আর সাহচর্যের দাবিদার মা আর এক ভাগ মাত্র পিতার। এখন আমি বলতে পারব না যে, মাকে এত বেশি অধিকার দেয়া হচ্ছে কেন, আমিও সন্তানের জন্ম দেব। ধরুন, একটা ক্লাসে দুইজন ছাত্র আছে, "A" আর "B"। তারা দুজনেই ১০০ নাম্বারের মধ্যে ৮০ নাম্বার পেয়ে যৌথভাবে প্রথম হলো। প্রশ্নের পেপারে ১০টি প্রশ্ন ছিল যার প্রত্যেকটিতে ১০ নাম্বার। এখন, এক নাম্বার প্রশ্নের উত্তরে যার নাম "A" সে ১০ এর মধ্যে ৯ পেয়েছে। আর "B" পেয়েছে ১০-এ ৭। তাহলে ১ নাম্বার প্রশ্নে "A" "B" এর চেয়ে ভাল। ২নং প্রশ্নে "A" ১০ই পেল ৭ আর "B" পেল ১০-এর মধ্যে ৯। তাহলে ২ নং প্রশ্নের "B" "A" এর চেয়ে ভাল। বাকি ৮টি প্রশ্নের উত্তরে দুজনই ১০-এ ৮ পেল। সব মিলিয়ে দুজনেই ১০০-তে পেয়েছে ৮০। তবে ১ নং প্রশ্নে "A" "B" এর চেয়েও ভাল। আবার ২নং প্রশ্নে "B" "A" এর চেয়েও ভালো। এমনিভাবে, পুরুষ আর মহিলা সমান; কিন্তু তারা একই রকম নয়। ধরুন, আমার বাড়িতে ডাকাত আসল ডাকাতি করার জন্য। আমি বলব না যে, পুরুষ আর মহিলা সমান। আমি আমার স্ত্রী আর বোনকে বলব না গিয়ে মারামারি করতে।
সূরা নেসার ৩৫ নং আয়াতে আছে- الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ .
অর্থ: পুরুষরা মহিলাদের নেতা (তত্ত্বাবধায়ক)।
শক্তির দিক থেকে পুরুষ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। অর্থাৎ কিছু কিছু ব্যাপারে পুরুষ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। আর কিছু কিছু ব্যাপারে মহিলারা সুবিধাজনক অবস্থানে। সব মিলিয়ে পুরুষ-মহিলা সমান। "স্বামীর কর্তব্য" নিয়ে ইসলামিক কোন বই নেই। ইনশাআল্লাহ, আপনি রিসার্চ করে বক্তব্য দেবেন। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন। আপনি যেহেতু রিভার্ট হয়েছেন, আপনি বক্তব্য দিলে সেটার প্রভাব ভালমতো পড়বে। আমি অনুরোধ করব আমার ক্যাসেটগুলো দেখেন। আপনার ধারণা বদলাবে। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।