📄 অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আগ্রহী হওয়ার কারণ
প্রশ্ন ৪ (মহিলা): আসসালামু আলাইকুম। পশ্চিমারা একেবারে নিয়মিতভাবে ইসলামের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। আর কিছু কিছু মুসলমানের ব্যবহার একেবারেই ইসলামিক নয়। তারপরও অমুসলিমরা কেন ইসলাম ও কুরআন সম্পর্কে জানতে চায়? এর কারণ কি কোনো মুসলমানের ব্যবহার? নাকি পশ্চিমা দেশগুলোতে কোনো দাইয়ীর আমন্ত্রণ? অথবা এখানে কি আল্লাহর দেয়া হিদায়ার পাশাপাশি অন্য কারণও আছে?
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: আপনি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন যে, মিডিয়া পশ্চিমারা সব সময় ইসলামের বিরুদ্ধে। তারপরও কেন পশ্চিমারা (আলহামদুলিল্লাহ) ইসলাম গ্রহণ করছে। হিদায়া হচ্ছে সবচেয়ে বড় কারণ। এখন এটা কি দা'য়িদের কারণে হচ্ছে নাকি মুসলমানদের ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করছে? নাকি কারণটা অন্য কিছু। আমার মনে হয় না যে, আজকের মুসলমানদের দেখে পশ্চিমারা ইসলাম গ্রহণ করবে। ইউসুফ ইসলাম (খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণকারী বিখ্যাত সঙ্গীত তারকা, নাম ক্যাটস্ স্টিফেন।) বলেছিলেন, কোনো মুসলমানের সাথে দেখা হওয়ার আগে কুরআন পড়ে ভালই করেছিলেন। ওদের আগে দেখলে আমি কখনোই ইসলাম গ্রহণ করতাম না। এটা তার নিজের মতামত। হয়তো তিনি যে মুসলমানদের দেখেছিলেন, তারা অতোটা ভাল ছিল না।
কিন্তু পৃথিবীতে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন শুধু মুসলমানদের ব্যবহার দেখে। সেজন্য, আমি আমার লেকচারে বলি, ইসলাম ধর্ম ভাল কথা বলে; কিন্তু কিছু লোক ঠকাচ্ছে, ঘুষ দিচ্ছে, খারাপ কাজ করছে। এই ক্ষেত্রে আমি বলি যে, প্রত্যেক সমাজেই কিছু কুলাঙ্গার থাকে। এখন, মিডিয়া এই কুলাঙ্গারগুলোকে সবার সামনে দেখাচ্ছে আর বলছে যে, মুসলমানরা এ রকম। বুঝাতে চায়, প্রত্যেক মুসলমানই খারাপ। তারা নিজেদের স্বার্থে এগুলো করছে। আমি তাদের বলি, (আলহামদুলিল্লাহ) মুসলমানরা ধর্মীয়ভাবে মদ পান করে না। মদ্যপান এখানে নিষিদ্ধ। মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি দান-খয়রাত করে।
পশ্চিমা মিডিয়া কুলাঙ্গারদের তুলে ধরে বলছে, এরাই মুসলমান। আমি একটা উদাহরণ দেব। ধরেন আপনি মার্সিডিজ বেঞ্জের নতুন মডেলের গাড়ি কিনতে গেছেন। আপনি গাড়িটা কেমন ভালো তা জানার জন্য একজন ড্রাইভারকে চালাতে দিলেন। ড্রাইভার অদক্ষ হওয়ার কারণে গাড়িটা এক্সিডেন্ট করল, কাকে দোষ দিবেন? গাড়িকে নাকি ড্রাইভারকে? নিশ্চয়ই ড্রাইভারকে দিবেন। গাড়িটাকে বিচার করতে হলে দেখতে হবে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, ব্যবস্থাগুলো কতটা ভালো, কেমন তেল লাগে, স্পিড কেমন, যন্ত্রপাতির মান কেমন ইত্যাদি। তাই ইসলামকে বিচার করতে চাইলে, বিচার করুন পবিত্র কুরআন আর সহীহ হাদীস দিয়ে। গাড়িটা কত ভালো, সেটা দেখতে চাইলে একজন ভালো ড্রাইভারকে গাড়িতে বসান। যদি ইসলামকে বিচার করতে চান এর অনুসারীদের দিয়ে তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলমান হযরত মুহাম্মদ ﷺ-কে বিচার করুন। বিচার যদি করতে চান, মূল গ্রন্থ দিয়ে বিচার করুন।
যদিত্ত মিডিয়া ইসলামের বিপক্ষে। আপনারা পাবেন সালমান রুশদীর মতো মানুষ যে 'স্যাটানিক ভার্সেস' বইটা লিখেছে। যারা বইটা পড়েছেন তারা জানেন। যদিও সে ওই বইতে নবী করীম তাঁর স্ত্রীগণকে ছোট করেছে, (নাউযুবিল্লাহ)। তবুও অনেক লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে তার ওই বইয়ের জন্য। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি শয়তানকে তার নিজের কাজে লাগাতে পারেন। অনেক লোকজন এটা নিয়ে গবেষণা শুরু করে দেখল যে, সে ভুল করেছে। তারা যখন মুহাম্মদ (স)-এর ওপর গবেষণা করল, (আলহামদুলিল্লাহ) তাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করল। পশ্চিমারা ইসলামের যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করে, সেটা হল ইসলামে মেয়েদের অধিকার। এ ব্যাপারে আমি লেকচার দিয়েছি, "ইসলামে মেয়েদের অধিকার : আধুনিক নাকি সেকেলে?” ভুল ধারণাগুলো কী কী?
পশ্চিমাদের মধ্যে পুরুষের চাইতে অনেক বেশি মহিলা মুসলমান হচ্ছে। কেন জানেন? কারণ তারা গবেষণা করে। অনেকে গবেষণা করে ইসলামের বিরুদ্ধে বলার জন্য। যেমন- গ্যারি মিলার। তিনি পরবর্তীতে মুসলমান হয়ে হলেন "আহাদ ওমর।” তিনি পবিত্র কুরআনকে ভুল প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছিলেন, পারেন নি, পরে ইসলাম গ্রহণ করেন। এমন অনেকেই ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। আল্লাহ একেক জনকে একেক উপায়ে হেদায়েত দান করেন। কেউ হয়তো মুসলমানদের দেখেই ইসলাম গ্রহণ করছেন। কেউ ইসলামকে আক্রমণ করছে তারপর মুসলমান হচ্ছেন। এর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলেন, হযরত ওমর (রা)। এক সময় তিনি ছিলেন ইসলামের বড় শত্রু। রাসূল তাঁর হেদায়াতের দোআ করেন। আর তাই, (আলহামদুলিল্লাহ) একেক জায়গায় একেক কারণ।
দাইয়ীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বলি। আমরা মুসলমানেরা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছি না। ইসলাম এমন একটা ধর্ম যেটা প্রচার করতে হয়। সূরা আলে-ইমরানের ১১০ নং আয়াতে আছে-
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ أَمَنَ أَهْلُ الْكِتٰبِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَاكْثَرُهُمُ الْفَسِقُونَ .
অর্থ: তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দান কর, অসৎ কাজের নিষেধ কর এবং আল্লাহকে বিশ্বাস কর। কিতাবিগণ যদি ঈমান আনত তবে তাদের জন্য ভালো হতো। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মুমিন রয়েছে কিন্তু অধিকাংশ সত্যত্যাগী।
আমাদের শ্রেষ্ঠ উম্মত বলেছেন। কারণ, আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত দা'য়ী হওয়া। ফুল টাইম দা'য়ী না হলেও পার্ট টাইম দা'য়ী হওয়া উচিত। আমাদের মাঝে কতজন ফুল টাইম দা'য়ী আছেন? অল্প কয়েকজন। এটা মুসলিম উম্মাহর জন্য লজ্জার ব্যাপার। তবে আল্লাহ প্রতিজ্ঞা করেছেন, সূরা আস সাফ : আয়াত ৯, সূরা আত তাওবা : আয়াত ৩৩, এবং সূরা আল ফাতহ-এর ২৮ নং আয়াতে-
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدين كله .
অর্থ: তিনি রাসূলকে হেদায়েত সহ পাঠিয়েছেন ইসলামকে অন্য সব মতাদর্শের উপর বিজয়ী করতে।
আমরা কাজ করি বা না করি তাতে আল্লাহর কিছু যায় আসে না। আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিচ্ছেন কাজ করে কিছু পুরস্কার পাওয়ার। পৃথিবীটাকে আরো সুন্দর করার। বিশ্বাস করুন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি না। মুসলমানদের সবারই উচিত দ্বীনের প্রচার প্রসারে নিয়োজিত থাকা। ৬০,০০০ খ্রিস্টান মিশনারীরা ফুলটাইম পুরো পৃথিবীতে ধর্ম প্রচার করছে। আর তাদের সাহায্য করছে আরো হাজার হাজার মানুষ। কতজন মুসলমান দা'য়ী আছেন সার্বক্ষণিক? সূরা মুহাম্মদের ৩৮ নং আয়াতে আছে-
وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لاَ يَكونُوا أَمْثَالَكُمْ .
অর্থ: যদি তোমরা বিমুখ হও আল্লাহ অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করবেন এবং তারা তোমাদের মতো হবে না।
আমরা তো ভাবি পশ্চিমারা খারাপ। আল্লাহ হয়তো আমাদের সরিয়ে তাদেরকেই দায়িত্ব দেবেন-যদি আমরা দায়িত্ব পালন না করি। দা'য়ীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় আমরা অনেক পেছনে আছি, এমনকি পাস মার্কেরও নিচে। কিছু লোক অবশ্য (আলহামদুলিল্লাহ) দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এ সংখ্যা অনেক কম। যদি আমরা কুরআনের অনুসরণ করি, তাহলে আরো অনেক মুসলমান দাওয়ায় যোগ দেবেন।
প্রশ্ন ৪ (মহিলা): আসসালামু আলাইকুম। পশ্চিমারা একেবারে নিয়মিতভাবে ইসলামের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। আর কিছু কিছু মুসলমানের ব্যবহার একেবারেই ইসলামিক নয়। তারপরও অমুসলিমরা কেন ইসলাম ও কুরআন সম্পর্কে জানতে চায়? এর কারণ কি কোনো মুসলমানের ব্যবহার? নাকি পশ্চিমা দেশগুলোতে কোনো দাইয়ীর আমন্ত্রণ? অথবা এখানে কি আল্লাহর দেয়া হিদায়ার পাশাপাশি অন্য কারণও আছে?
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: আপনি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন যে, মিডিয়া পশ্চিমারা সব সময় ইসলামের বিরুদ্ধে। তারপরও কেন পশ্চিমারা (আলহামদুলিল্লাহ) ইসলাম গ্রহণ করছে। হিদায়া হচ্ছে সবচেয়ে বড় কারণ। এখন এটা কি দা'য়িদের কারণে হচ্ছে নাকি মুসলমানদের ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করছে? নাকি কারণটা অন্য কিছু। আমার মনে হয় না যে, আজকের মুসলমানদের দেখে পশ্চিমারা ইসলাম গ্রহণ করবে। ইউসুফ ইসলাম (খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণকারী বিখ্যাত সঙ্গীত তারকা, নাম ক্যাটস্ স্টিফেন।) বলেছিলেন, কোনো মুসলমানের সাথে দেখা হওয়ার আগে কুরআন পড়ে ভালই করেছিলেন। ওদের আগে দেখলে আমি কখনোই ইসলাম গ্রহণ করতাম না। এটা তার নিজের মতামত। হয়তো তিনি যে মুসলমানদের দেখেছিলেন, তারা অতোটা ভাল ছিল না।
কিন্তু পৃথিবীতে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন শুধু মুসলমানদের ব্যবহার দেখে। সেজন্য, আমি আমার লেকচারে বলি, ইসলাম ধর্ম ভাল কথা বলে; কিন্তু কিছু লোক ঠকাচ্ছে, ঘুষ দিচ্ছে, খারাপ কাজ করছে। এই ক্ষেত্রে আমি বলি যে, প্রত্যেক সমাজেই কিছু কুলাঙ্গার থাকে। এখন, মিডিয়া এই কুলাঙ্গারগুলোকে সবার সামনে দেখাচ্ছে আর বলছে যে, মুসলমানরা এ রকম। বুঝাতে চায়, প্রত্যেক মুসলমানই খারাপ। তারা নিজেদের স্বার্থে এগুলো করছে। আমি তাদের বলি, (আলহামদুলিল্লাহ) মুসলমানরা ধর্মীয়ভাবে মদ পান করে না। মদ্যপান এখানে নিষিদ্ধ। মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি দান-খয়রাত করে।
পশ্চিমা মিডিয়া কুলাঙ্গারদের তুলে ধরে বলছে, এরাই মুসলমান। আমি একটা উদাহরণ দেব। ধরেন আপনি মার্সিডিজ বেঞ্জের নতুন মডেলের গাড়ি কিনতে গেছেন। আপনি গাড়িটা কেমন ভালো তা জানার জন্য একজন ড্রাইভারকে চালাতে দিলেন। ড্রাইভার অদক্ষ হওয়ার কারণে গাড়িটা এক্সিডেন্ট করল, কাকে দোষ দিবেন? গাড়িকে নাকি ড্রাইভারকে? নিশ্চয়ই ড্রাইভারকে দিবেন। গাড়িটাকে বিচার করতে হলে দেখতে হবে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, ব্যবস্থাগুলো কতটা ভালো, কেমন তেল লাগে, স্পিড কেমন, যন্ত্রপাতির মান কেমন ইত্যাদি। তাই ইসলামকে বিচার করতে চাইলে, বিচার করুন পবিত্র কুরআন আর সহীহ হাদীস দিয়ে। গাড়িটা কত ভালো, সেটা দেখতে চাইলে একজন ভালো ড্রাইভারকে গাড়িতে বসান। যদি ইসলামকে বিচার করতে চান এর অনুসারীদের দিয়ে তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলমান হযরত মুহাম্মদ ﷺ-কে বিচার করুন। বিচার যদি করতে চান, মূল গ্রন্থ দিয়ে বিচার করুন।
যদিত্ত মিডিয়া ইসলামের বিপক্ষে। আপনারা পাবেন সালমান রুশদীর মতো মানুষ যে 'স্যাটানিক ভার্সেস' বইটা লিখেছে। যারা বইটা পড়েছেন তারা জানেন। যদিও সে ওই বইতে নবী করীম তাঁর স্ত্রীগণকে ছোট করেছে, (নাউযুবিল্লাহ)। তবুও অনেক লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে তার ওই বইয়ের জন্য। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি শয়তানকে তার নিজের কাজে লাগাতে পারেন। অনেক লোকজন এটা নিয়ে গবেষণা শুরু করে দেখল যে, সে ভুল করেছে। তারা যখন মুহাম্মদ (স)-এর ওপর গবেষণা করল, (আলহামদুলিল্লাহ) তাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করল। পশ্চিমারা ইসলামের যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করে, সেটা হল ইসলামে মেয়েদের অধিকার। এ ব্যাপারে আমি লেকচার দিয়েছি, "ইসলামে মেয়েদের অধিকার : আধুনিক নাকি সেকেলে?” ভুল ধারণাগুলো কী কী?
পশ্চিমাদের মধ্যে পুরুষের চাইতে অনেক বেশি মহিলা মুসলমান হচ্ছে। কেন জানেন? কারণ তারা গবেষণা করে। অনেকে গবেষণা করে ইসলামের বিরুদ্ধে বলার জন্য। যেমন- গ্যারি মিলার। তিনি পরবর্তীতে মুসলমান হয়ে হলেন "আহাদ ওমর।” তিনি পবিত্র কুরআনকে ভুল প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছিলেন, পারেন নি, পরে ইসলাম গ্রহণ করেন। এমন অনেকেই ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। আল্লাহ একেক জনকে একেক উপায়ে হেদায়েত দান করেন। কেউ হয়তো মুসলমানদের দেখেই ইসলাম গ্রহণ করছেন। কেউ ইসলামকে আক্রমণ করছে তারপর মুসলমান হচ্ছেন। এর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলেন, হযরত ওমর (রা)। এক সময় তিনি ছিলেন ইসলামের বড় শত্রু। রাসূল তাঁর হেদায়াতের দোআ করেন। আর তাই, (আলহামদুলিল্লাহ) একেক জায়গায় একেক কারণ।
দাইয়ীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বলি। আমরা মুসলমানেরা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছি না। ইসলাম এমন একটা ধর্ম যেটা প্রচার করতে হয়। সূরা আলে-ইমরানের ১১০ নং আয়াতে আছে-
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ أَمَنَ أَهْلُ الْكِتٰبِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَاكْثَرُهُمُ الْفَسِقُونَ .
অর্থ: তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দান কর, অসৎ কাজের নিষেধ কর এবং আল্লাহকে বিশ্বাস কর। কিতাবিগণ যদি ঈমান আনত তবে তাদের জন্য ভালো হতো। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মুমিন রয়েছে কিন্তু অধিকাংশ সত্যত্যাগী।
আমাদের শ্রেষ্ঠ উম্মত বলেছেন। কারণ, আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত দা'য়ী হওয়া। ফুল টাইম দা'য়ী না হলেও পার্ট টাইম দা'য়ী হওয়া উচিত। আমাদের মাঝে কতজন ফুল টাইম দা'য়ী আছেন? অল্প কয়েকজন। এটা মুসলিম উম্মাহর জন্য লজ্জার ব্যাপার। তবে আল্লাহ প্রতিজ্ঞা করেছেন, সূরা আস সাফ : আয়াত ৯, সূরা আত তাওবা : আয়াত ৩৩, এবং সূরা আল ফাতহ-এর ২৮ নং আয়াতে-
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدين كله .
অর্থ: তিনি রাসূলকে হেদায়েত সহ পাঠিয়েছেন ইসলামকে অন্য সব মতাদর্শের উপর বিজয়ী করতে।
আমরা কাজ করি বা না করি তাতে আল্লাহর কিছু যায় আসে না। আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিচ্ছেন কাজ করে কিছু পুরস্কার পাওয়ার। পৃথিবীটাকে আরো সুন্দর করার। বিশ্বাস করুন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি না। মুসলমানদের সবারই উচিত দ্বীনের প্রচার প্রসারে নিয়োজিত থাকা। ৬০,০০০ খ্রিস্টান মিশনারীরা ফুলটাইম পুরো পৃথিবীতে ধর্ম প্রচার করছে। আর তাদের সাহায্য করছে আরো হাজার হাজার মানুষ। কতজন মুসলমান দা'য়ী আছেন সার্বক্ষণিক? সূরা মুহাম্মদের ৩৮ নং আয়াতে আছে-
وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لاَ يَكونُوا أَمْثَالَكُمْ .
অর্থ: যদি তোমরা বিমুখ হও আল্লাহ অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করবেন এবং তারা তোমাদের মতো হবে না।
আমরা তো ভাবি পশ্চিমারা খারাপ। আল্লাহ হয়তো আমাদের সরিয়ে তাদেরকেই দায়িত্ব দেবেন-যদি আমরা দায়িত্ব পালন না করি। দা'য়ীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় আমরা অনেক পেছনে আছি, এমনকি পাস মার্কেরও নিচে। কিছু লোক অবশ্য (আলহামদুলিল্লাহ) দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এ সংখ্যা অনেক কম। যদি আমরা কুরআনের অনুসরণ করি, তাহলে আরো অনেক মুসলমান দাওয়ায় যোগ দেবেন।
📄 ধর্মগ্রন্থে অবিশ্বাসীদের বোঝানোর পদ্ধতি
প্রশ্ন ৬ (পুরুষ): ডা. জাকির নায়েক, আপনার জ্ঞানগর্ভ ও তথ্যবহুল লেকচারের জন্য ধন্যবাদ। অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা মুসলমানরা কি ভূমিকা পালন করছি? আমার দ্বিতীয় প্রশ্নটা হলো, যখন দেখি যে, পশ্চিমাদের কেউ কেউ কোনো ধর্মগ্রন্থে বিশ্বাস করে না। ফলে এদেরকে ইসলামের কথা বুঝাতে খুব সমস্যা হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে কী করা উচিত? আরব আমিরাতে আপনার লেকচারে আপনি বলেছিলেন যে, ভারতে কিছু লোক আছে যারা নিজেদেরকে আল্লাহ্ বলে দাবি করে। ধর্মগ্রন্থ ছাড়াই তারা বিভিন্ন বাণী দিচ্ছে আমাদের কাছে। কারণ তারা ঈশ্বর। এসব ঈশ্বরকে আপনি কিভাবে বিশ্বাস করবেন?
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: ভাই, আপনি তিনটি প্রশ্ন করেছেন। প্রথমটা হলো ইসলামের প্রসারে মুসলমানেরা কী ভূমিকা পালন করছেন। যখন বলেছি যে, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি না, তার মানে এই না যে আমরা কোন কাজই করছি না। পশ্চিমা বিশ্বে বেশ কিছু ভালো অর্গানাইজেশন যেমন: ইস্না, ইন্না কাজ করে যাচ্ছে। পুরো মুসলিম উম্মার এই কাজগুলো করা উচিত। আমি পশ্চিমে বেশ কয়েকবার গিয়েছি। ভাই ইউসুফ ইসলামের খুব সুন্দর একটি স্কুল আছে। সেরা ইসলামি স্কুলগুলোর একটা। এই প্রচেষ্টাগুলো যথেষ্ট নয়। আরো অনেককে আসতে হবে।
দ্বিতীয় প্রশ্নে আসি- যারা ধর্মগ্রন্থে বিশ্বাস করে না, কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না। তারা হল নাস্তিক। খ্রিস্টানরা বাইবেলে বিশ্বাস করে, হিন্দুরা বেদে বিশ্বাস করে। তাই ধর্মগ্রন্থ নিয়ে তাদের সাথে কথা বলা যায়। কিন্তু একজন নাস্তিককে বোঝাবেন কিভাবে। আজ বিকেলে আমার লেকচারের সময় বলেছিলাম মূল চাবিকাঠির কথা। সূরা আলে ইমরানের ৬৪নং আয়াতে আছে-
تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٌ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ .
অর্থ: আসো সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই। দাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো "আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই কথায় আসো।" নাস্তিকের সাথে কী মিল আছে? আমি নাস্তিকের সাথে দেখা হলে তাকে অভিনন্দন জানাই। কারণ, মানুষ খ্রিস্টান হয় যেহেতু তার বাবা খ্রিস্টান। কিংবা হিন্দু কারণ বাবা হিন্দু। অনেকে আবার মুসলমান কারণ তার বাবা মুসলমান। এই নাস্তিক লোকটা হিন্দুর ঘরে জন্মালে হয়তো ভাববে যে, এক দেবতা আরেক দেবতার সাথে যুদ্ধ করছে, স্ত্রীকে অপহরণ করা হচ্ছে আর দেবতা তাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে যাচ্ছে। তাহলে আমি বিপদে পড়লে এই দেবতা আমাকে কিভাবে সাহায্য করবে? অথবা খ্রিস্টান হলে ভাবছে, দেবতাকে ক্রুশে ঝুলিয়ে মারা হচ্ছে আর তাহলে তাকে কিভাবে বিশ্বাস করব? তাই সে এরকম কোন ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না। আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। কারণ, সে কালেমার প্রথম অংশটা বলে ফেলেছে যে, "লা ইলাহা" কোনো ঈশ্বর নেই।
আমাকে পরের অংশটা বলতে হবে "ইল্লাল্লাহু” বা আল্লাহ ছাড়া। হিন্দু বা খ্রিস্টানকে আগে বুঝাতে হয় যে, তারা যে ঈশ্বরের পূজা করে তা ভুল। তারপর তাকে বুঝাতে হয় আল্লাহর কথা। আর নাস্তিকের ক্ষেত্রে আমার অর্ধেক কাজ হয়ে গেছে। সে ইতোমধ্যে বিশ্বাস করে যে, কোনো 'ঈশ্বর' নেই। এখন আমাকে প্রমাণ করতে হবে 'ইল্লাল্লাহ'। আর এ ব্যাপারে আমার লেকচার পাবেন বিভিন্ন ক্যাসেটে "কুরআন কি আল্লাহর বাণী? কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান নিয়ে কিছু কথা।” আমি এখানে সংক্ষেপে কিছু বলছি। আমি তাকে বলব, ধরেন আপনার হাতে একটা যন্ত্র আছে যা পৃথিবীর কোনো মানুষ দেখে নি। সেটা প্রথমেই আপনার সামনে আনা হল। সবার আগে বলতে পারবে এই যন্ত্রটা কিভাবে কাজ করে? নিশ্চয়ই এর প্রস্তুতকারী কিংবা সৃষ্টিকর্তা যে লোক যন্ত্রটা বানিয়েছে।
সে নাস্তিক যে উত্তরই দিক প্রস্তুতকারী, সৃষ্টিকর্তা, ম্যানুফ্যাকচারার, প্রডিউসার সব মোটামুটি একই কথা। এখন তাকে প্রশ্ন করেন, এই বিশ্বজগৎ কোথা থেকে এলো? সে বলবে, আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, একদম প্রথমে ছিল প্রাইমারি নেবুলা তারপর থেকে সব আলাদা হতে লাগল। তারপর বিগ ব্যাঙের মাধ্যমে (মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে) সৃষ্টি হলো গ্যালাক্সি, গ্রহ, নক্ষত্র তথা এই বিশ্বজগৎ। এটা বিগ ব্যাঙ থিওরি। আমি তাকে বলব, এই কথা তো ১৪০০ বছর আগে কুরআনেই বলা হয়েছে। সূরা আল-আম্বিয়ায়ের ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا
অর্থ: অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে। অতঃপর আমি তাদের পৃথক করে দিলাম।
অথচ এই বিগব্যাঙ থিউরি বিজ্ঞান জেনেছে একশত বছর আগে। কুরআন এই কথা বলে ১৪০০ বছর আগে। সে হয়তো বলবে এসব হঠাৎ করে মিলে গেছে। আচ্ছা মানলাম এরপর আসি বিশ্বজগৎ সৃষ্টির আগে এখানকার সব বস্তু কি অবস্থায় ছিল? সে বলবে 'সবকিছু গ্যাস'। আপনি তাকে বলবেন পবিত্র কুরআন বলছে 'সেখানে ছিল ধূম্রপুঞ্জ বিশেষ'। যদি সে বিজ্ঞান জেনে থাকে, তাহলে সে জানবে যে গ্যাসকে আরো ভালোভাবে বলা যায় ধোঁয়া। যদি তাকে বলেন, পৃথিবীর আকার কেমন? সে বিজ্ঞান জানলে আপনাকে বলবে ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সিস ড্রেক নামে এক নাবিক সমুদ্রপথে পৃথিবী ঘুরে আসেন। পৃথিবী বর্তুলাকার। আপনি তাকে বলবেন। পবিত্র কুরআনে সূরা নাযিয়াতের ৩০ নং আয়াতে আছে-
وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا .
অর্থ: এরপর তিনি পৃথিবীকে বানালেন ডিম্বাকৃতি।
আপনি তাকে বলবেন যে, কুরআন বলেছে পৃথিবী বলের মতো গোল নয় এটি বর্তুলাকার। আল-কুরআন একথা বলেছে ১৪০০ বছর আগে। এরপর আসি চাঁদের আলো সম্পর্কে- সে বলবে যে, চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, সূর্য থেকে ধার করা। আমি স্কুলে পড়েছিলাম যে সূর্য তার স্থানে স্থির থাকে। নিজের চারপাশে ঘোরে না। সূরা আল-আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াতে আছে,
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يسبحون
অর্থ : আল্লাহই রাত এবং দিন সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন সূর্য ও চন্দ্র যাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।
কুরআন বলেছে যে, সূর্য তার কক্ষপথে বিচরণ করে। আমি স্কুলে এটা শিখিনি। শিখেছি, সূর্য স্থির হয়ে থাকে। সে তখন বলবে, কিছুদিন আগে বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে সূর্য নিজের চারপাশে ঘোরে। পঁচিশ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে। কুরআন কিভাবে একথা বলতে পারল? কুরআন এভাবে বলেছে বায়োলজির কথা। জীব জগতের সৃষ্টি হয়েছে পানি থেকে। পানি চক্র অর্থাৎ কিভাবে পানি উপরে ওঠে, মেঘ হয় এবং তা থেকে বৃষ্টি হয় সেই কথাও বলেছে কুরআন। কুরআন বলেছে নোনা পানি আর মিষ্টি পানির কথা। একথা আছে সূরা আল ফুরকান-এর ৫৩ নং আয়াতে এবং সূরা আর রহমানের ১৯ ও ২০ নং আয়াতে।
مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِينِ - بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لا يَبْغِينِ .
অর্থ: তিনি দুই দরিয়াকে প্রবাহিত করেছেন। একটি মিষ্টি অপরটি লোনা উভয়ের মধ্যে রেখে দিয়েছেন অন্তরায়।
কুরআন জুওলজির কথা বলেছে। এটা আছে সূরা নাবা'র ৬ ও ৭ নং আয়াতে।
الَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ مِهْدًا ، وَالْجِبَالَ أَوْتَادًا .
অর্থ: আমি কি ভূমিকে শয্যা এবং পর্বতমালাকে পেরেক স্বরূপ করি নি?
এসব কথা কি ১৪০০ বছর আগে একজন অশিক্ষিত মানুষ বলতে পারে? এখানে একটা উত্তরই সে দিতে পারে- সব কিছুই হঠাৎ করে মিলে গেছে। এই হলো 'থিউরি অব প্রবাবিলিটি' বা 'সম্ভাবনার সূত্র'। হঠাৎ করে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা। ধরুন, আমি একটা পয়সা টস করলাম, আমি যদি আন্দাজ করে মেলাতে চাই, তার সম্ভাবনা দুই ভাগের এক ভাগ। হেডও হতে পারে আবার টেইলও পড়তে পারে। যদি পয়সাটা দুইবার টস করি, দুবারই ঠিক বলব তার সম্ভাবনা অর্ধেক গুণ অর্ধেক সমান চারভাগের একভাগ অর্থাৎ ২৫%। তিনবার টস করলে তিনবারই ঠিক বলব তার সম্ভাবনা অর্ধেক গুণ অর্ধেক গুণ অর্ধেক সমান আটভাগের একভাগ অর্থাৎ ১২.৫%।
এভাবে 'প্রবাবিলিটি থিউরি' দিয়ে যদি কুরআনকে দেখেন যে, পৃথিবীর কতগুলো আকারের কথা একজন মানুষ চিন্তা করতে পারে? একজন মানুষ ৩০ টার বেশি আকার চিন্তা করতে পারে। যেমন- বর্গাকার, চতুর্ভুজ, চ্যাপ্টা, আয়তকার, ত্রিভুজ, বর্তুলাকার ইত্যাদি। এখন পৃথিবীর আকার কি হবে তা আন্দাজে মিলিয়ে ফেলবে তার সম্ভাবনা ৩০ ভাগের একভাগ। চাঁদের আলো নিজস্ব নাকি ধার করা তা কেউ আন্দাজে বললে তা ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা দুভাগের ১ ভাগ। তাহলে পৃথিবীর আকার এবং চাঁদের আলো এই দুটোই ঠিকমতো বলার সম্ভাবনা হল ৬০ ভাগের ১ ভাগ। জীবজগৎ কোথা হতে সৃষ্টি হয়েছে একথা আন্দাজে বলতে গেলে যে লোক মরুভূমিতে থাকে সে প্রথমেই চিন্তা করবে বালির কথা।
এছাড়া হতে পারে অন্য কোন বস্তু যেমন, অ্যালুমিনিয়াম, আয়রন, পাথর, গ্যাস, কাঠ, বালি, মাটি এরকম ১০,০০০টি জিনিসের কথা মানুষ ভাবতে পারে, যা দিয়ে জীব জগৎ তৈরি হয়েছে। এখানে আন্দাজে বললে তা ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা ১০,০০০ ভাগের ১ ভাগ। এই তিনটি উত্তরই ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বা ছয় লক্ষ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ .০০০১৭%। এরকম কুরআন হাজার কথা বলে বিজ্ঞান সম্পর্কে যার সবই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। আর ম্যাথমেটিকস আমাদের বলে যে, যদি পশ্চাৎটা শূন্য দশমিকের পর থাকে, সেটার অর্থ আসলে শূন্য। তাহলে কুরআনের সবকিছু আন্দাজে বলা হয়েছে তার সম্ভাবনা শূন্য। তাহলে কে এই কথাগুলো বলতে পারে? তিনি বলতে পারেন, যিনি এই বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা। এই সৃষ্টিকর্তাই আমরা আল্লাহ!
আমি এখানে সংক্ষেপে বললাম। বিস্তারিত জানতে চাইলে আমার ভিডিও ক্যাসেট দেখুন। কুরআন কি আল্লাহর বাণী? অনেকভাবে প্রমাণ করা যায় যে, আল-কুরআন আল্লাহর বাণী। তৃতীয় প্রশ্নটা হলো যে একজন মানুষ আল্লাহকে কিভাবে বোঝাবে যে, সে ভুল পথে চলছে? মনে করুন, কেউ আপনাকে বলল, এটা সোনার অলংকার, তোমার কাছে বিক্রি করব। ২৫ ক্যারেট সোনা। আপনি তখন সেটা কিনে ফেলবেন? নাকি পরীক্ষা করে দেখবেন কথাটা সত্যি কিনা? আপনি স্বর্ণকারের কাছে যাবেন, সে কষ্টি পাথরে ঘষবে তারপর সে রং মিলাবে। যদি সে ২৪ ক্যারেটের সাথে মিলে যায় তাহলে বলবে ২৪ ক্যারেট। যদি ২২ ক্যারেটের সাথে মিলে যায় তাহলে ২২ অথবা ১৮ ক্যারেটর সাথে মিলে গেলে ১৮ ক্যারেট বলবে। আবার এটা সোনা নাও হতে পারে। কারণ, চকচক করলেই সোনা হয় না।
তাহলে রজনীশের উদাহরণ দিলাম। ধরুন, রজনীশ নিজেকে আল্লাহ্ বলে। তাকে সূরা ইখলাস দিয়ে পরীক্ষা করুন। রজনীশ এখনো অদ্বিতীয়? সে কি অমুখাপেক্ষী? কারো ওপর নির্ভরশীল নয়? অথবা, অন্য যে কেউ যে নিজেকে আল্লাহ্ বলে দাবি করে। হতে পারে যীশুখ্রিস্ট, রাম-লক্ষণ যে কাউকে পরীক্ষা করতে পারেন। আমি কারো ঈশ্বরকে ছোট করতে চাই না। যেমন- পবিত্র কুরআনের সূরা আনআমের ১০৮ নং আয়াতে আছে-
وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدُمًا بِغَيْرِ عِلْمٍ .
অর্থ: আল্লাহকে ছাড়া যাদেরকে তারা ডাকে তাদেরকে গালি দিও না। কেননা তারা সীমা লংঘন করে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিবে।
তাহলে এই লোকগুলো যারা নিজেদেরকে আল্লাহ্ বলে দাবি করে তাদের সূরা ইখলাসের কষ্টি পাথরে পরীক্ষা করবেন, তাহলেই প্রমাণ করতে পারবেন তারা আল্লাহ্ নয়। আর যদি আল্লাহ্ না হয়; তাহলে তো ধর্মগ্রন্থের কথাই আসছে না।
প্রশ্ন ৬ (পুরুষ): ডা. জাকির নায়েক, আপনার জ্ঞানগর্ভ ও তথ্যবহুল লেকচারের জন্য ধন্যবাদ। অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা মুসলমানরা কি ভূমিকা পালন করছি? আমার দ্বিতীয় প্রশ্নটা হলো, যখন দেখি যে, পশ্চিমাদের কেউ কেউ কোনো ধর্মগ্রন্থে বিশ্বাস করে না। ফলে এদেরকে ইসলামের কথা বুঝাতে খুব সমস্যা হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে কী করা উচিত? আরব আমিরাতে আপনার লেকচারে আপনি বলেছিলেন যে, ভারতে কিছু লোক আছে যারা নিজেদেরকে আল্লাহ্ বলে দাবি করে। ধর্মগ্রন্থ ছাড়াই তারা বিভিন্ন বাণী দিচ্ছে আমাদের কাছে। কারণ তারা ঈশ্বর। এসব ঈশ্বরকে আপনি কিভাবে বিশ্বাস করবেন?
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: ভাই, আপনি তিনটি প্রশ্ন করেছেন। প্রথমটা হলো ইসলামের প্রসারে মুসলমানেরা কী ভূমিকা পালন করছেন। যখন বলেছি যে, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি না, তার মানে এই না যে আমরা কোন কাজই করছি না। পশ্চিমা বিশ্বে বেশ কিছু ভালো অর্গানাইজেশন যেমন: ইস্না, ইন্না কাজ করে যাচ্ছে। পুরো মুসলিম উম্মার এই কাজগুলো করা উচিত। আমি পশ্চিমে বেশ কয়েকবার গিয়েছি। ভাই ইউসুফ ইসলামের খুব সুন্দর একটি স্কুল আছে। সেরা ইসলামি স্কুলগুলোর একটা। এই প্রচেষ্টাগুলো যথেষ্ট নয়। আরো অনেককে আসতে হবে।
দ্বিতীয় প্রশ্নে আসি- যারা ধর্মগ্রন্থে বিশ্বাস করে না, কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না। তারা হল নাস্তিক। খ্রিস্টানরা বাইবেলে বিশ্বাস করে, হিন্দুরা বেদে বিশ্বাস করে। তাই ধর্মগ্রন্থ নিয়ে তাদের সাথে কথা বলা যায়। কিন্তু একজন নাস্তিককে বোঝাবেন কিভাবে। আজ বিকেলে আমার লেকচারের সময় বলেছিলাম মূল চাবিকাঠির কথা। সূরা আলে ইমরানের ৬৪নং আয়াতে আছে-
تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٌ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ .
অর্থ: আসো সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই। দাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো "আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই কথায় আসো।" নাস্তিকের সাথে কী মিল আছে? আমি নাস্তিকের সাথে দেখা হলে তাকে অভিনন্দন জানাই। কারণ, মানুষ খ্রিস্টান হয় যেহেতু তার বাবা খ্রিস্টান। কিংবা হিন্দু কারণ বাবা হিন্দু। অনেকে আবার মুসলমান কারণ তার বাবা মুসলমান। এই নাস্তিক লোকটা হিন্দুর ঘরে জন্মালে হয়তো ভাববে যে, এক দেবতা আরেক দেবতার সাথে যুদ্ধ করছে, স্ত্রীকে অপহরণ করা হচ্ছে আর দেবতা তাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে যাচ্ছে। তাহলে আমি বিপদে পড়লে এই দেবতা আমাকে কিভাবে সাহায্য করবে? অথবা খ্রিস্টান হলে ভাবছে, দেবতাকে ক্রুশে ঝুলিয়ে মারা হচ্ছে আর তাহলে তাকে কিভাবে বিশ্বাস করব? তাই সে এরকম কোন ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না। আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। কারণ, সে কালেমার প্রথম অংশটা বলে ফেলেছে যে, "লা ইলাহা" কোনো ঈশ্বর নেই।
আমাকে পরের অংশটা বলতে হবে "ইল্লাল্লাহু” বা আল্লাহ ছাড়া। হিন্দু বা খ্রিস্টানকে আগে বুঝাতে হয় যে, তারা যে ঈশ্বরের পূজা করে তা ভুল। তারপর তাকে বুঝাতে হয় আল্লাহর কথা। আর নাস্তিকের ক্ষেত্রে আমার অর্ধেক কাজ হয়ে গেছে। সে ইতোমধ্যে বিশ্বাস করে যে, কোনো 'ঈশ্বর' নেই। এখন আমাকে প্রমাণ করতে হবে 'ইল্লাল্লাহ'। আর এ ব্যাপারে আমার লেকচার পাবেন বিভিন্ন ক্যাসেটে "কুরআন কি আল্লাহর বাণী? কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান নিয়ে কিছু কথা।” আমি এখানে সংক্ষেপে কিছু বলছি। আমি তাকে বলব, ধরেন আপনার হাতে একটা যন্ত্র আছে যা পৃথিবীর কোনো মানুষ দেখে নি। সেটা প্রথমেই আপনার সামনে আনা হল। সবার আগে বলতে পারবে এই যন্ত্রটা কিভাবে কাজ করে? নিশ্চয়ই এর প্রস্তুতকারী কিংবা সৃষ্টিকর্তা যে লোক যন্ত্রটা বানিয়েছে।
সে নাস্তিক যে উত্তরই দিক প্রস্তুতকারী, সৃষ্টিকর্তা, ম্যানুফ্যাকচারার, প্রডিউসার সব মোটামুটি একই কথা। এখন তাকে প্রশ্ন করেন, এই বিশ্বজগৎ কোথা থেকে এলো? সে বলবে, আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, একদম প্রথমে ছিল প্রাইমারি নেবুলা তারপর থেকে সব আলাদা হতে লাগল। তারপর বিগ ব্যাঙের মাধ্যমে (মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে) সৃষ্টি হলো গ্যালাক্সি, গ্রহ, নক্ষত্র তথা এই বিশ্বজগৎ। এটা বিগ ব্যাঙ থিওরি। আমি তাকে বলব, এই কথা তো ১৪০০ বছর আগে কুরআনেই বলা হয়েছে। সূরা আল-আম্বিয়ায়ের ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا
অর্থ: অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে। অতঃপর আমি তাদের পৃথক করে দিলাম।
অথচ এই বিগব্যাঙ থিউরি বিজ্ঞান জেনেছে একশত বছর আগে। কুরআন এই কথা বলে ১৪০০ বছর আগে। সে হয়তো বলবে এসব হঠাৎ করে মিলে গেছে। আচ্ছা মানলাম এরপর আসি বিশ্বজগৎ সৃষ্টির আগে এখানকার সব বস্তু কি অবস্থায় ছিল? সে বলবে 'সবকিছু গ্যাস'। আপনি তাকে বলবেন পবিত্র কুরআন বলছে 'সেখানে ছিল ধূম্রপুঞ্জ বিশেষ'। যদি সে বিজ্ঞান জেনে থাকে, তাহলে সে জানবে যে গ্যাসকে আরো ভালোভাবে বলা যায় ধোঁয়া। যদি তাকে বলেন, পৃথিবীর আকার কেমন? সে বিজ্ঞান জানলে আপনাকে বলবে ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সিস ড্রেক নামে এক নাবিক সমুদ্রপথে পৃথিবী ঘুরে আসেন। পৃথিবী বর্তুলাকার। আপনি তাকে বলবেন। পবিত্র কুরআনে সূরা নাযিয়াতের ৩০ নং আয়াতে আছে-
وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا .
অর্থ: এরপর তিনি পৃথিবীকে বানালেন ডিম্বাকৃতি।
আপনি তাকে বলবেন যে, কুরআন বলেছে পৃথিবী বলের মতো গোল নয় এটি বর্তুলাকার। আল-কুরআন একথা বলেছে ১৪০০ বছর আগে। এরপর আসি চাঁদের আলো সম্পর্কে- সে বলবে যে, চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, সূর্য থেকে ধার করা। আমি স্কুলে পড়েছিলাম যে সূর্য তার স্থানে স্থির থাকে। নিজের চারপাশে ঘোরে না। সূরা আল-আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াতে আছে,
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يسبحون
অর্থ : আল্লাহই রাত এবং দিন সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন সূর্য ও চন্দ্র যাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।
কুরআন বলেছে যে, সূর্য তার কক্ষপথে বিচরণ করে। আমি স্কুলে এটা শিখিনি। শিখেছি, সূর্য স্থির হয়ে থাকে। সে তখন বলবে, কিছুদিন আগে বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে সূর্য নিজের চারপাশে ঘোরে। পঁচিশ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে। কুরআন কিভাবে একথা বলতে পারল? কুরআন এভাবে বলেছে বায়োলজির কথা। জীব জগতের সৃষ্টি হয়েছে পানি থেকে। পানি চক্র অর্থাৎ কিভাবে পানি উপরে ওঠে, মেঘ হয় এবং তা থেকে বৃষ্টি হয় সেই কথাও বলেছে কুরআন। কুরআন বলেছে নোনা পানি আর মিষ্টি পানির কথা। একথা আছে সূরা আল ফুরকান-এর ৫৩ নং আয়াতে এবং সূরা আর রহমানের ১৯ ও ২০ নং আয়াতে।
مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِينِ - بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لا يَبْغِينِ .
অর্থ: তিনি দুই দরিয়াকে প্রবাহিত করেছেন। একটি মিষ্টি অপরটি লোনা উভয়ের মধ্যে রেখে দিয়েছেন অন্তরায়।
কুরআন জুওলজির কথা বলেছে। এটা আছে সূরা নাবা'র ৬ ও ৭ নং আয়াতে।
الَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ مِهْدًا ، وَالْجِبَالَ أَوْتَادًا .
অর্থ: আমি কি ভূমিকে শয্যা এবং পর্বতমালাকে পেরেক স্বরূপ করি নি?
এসব কথা কি ১৪০০ বছর আগে একজন অশিক্ষিত মানুষ বলতে পারে? এখানে একটা উত্তরই সে দিতে পারে- সব কিছুই হঠাৎ করে মিলে গেছে। এই হলো 'থিউরি অব প্রবাবিলিটি' বা 'সম্ভাবনার সূত্র'। হঠাৎ করে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা। ধরুন, আমি একটা পয়সা টস করলাম, আমি যদি আন্দাজ করে মেলাতে চাই, তার সম্ভাবনা দুই ভাগের এক ভাগ। হেডও হতে পারে আবার টেইলও পড়তে পারে। যদি পয়সাটা দুইবার টস করি, দুবারই ঠিক বলব তার সম্ভাবনা অর্ধেক গুণ অর্ধেক সমান চারভাগের একভাগ অর্থাৎ ২৫%। তিনবার টস করলে তিনবারই ঠিক বলব তার সম্ভাবনা অর্ধেক গুণ অর্ধেক গুণ অর্ধেক সমান আটভাগের একভাগ অর্থাৎ ১২.৫%।
এভাবে 'প্রবাবিলিটি থিউরি' দিয়ে যদি কুরআনকে দেখেন যে, পৃথিবীর কতগুলো আকারের কথা একজন মানুষ চিন্তা করতে পারে? একজন মানুষ ৩০ টার বেশি আকার চিন্তা করতে পারে। যেমন- বর্গাকার, চতুর্ভুজ, চ্যাপ্টা, আয়তকার, ত্রিভুজ, বর্তুলাকার ইত্যাদি। এখন পৃথিবীর আকার কি হবে তা আন্দাজে মিলিয়ে ফেলবে তার সম্ভাবনা ৩০ ভাগের একভাগ। চাঁদের আলো নিজস্ব নাকি ধার করা তা কেউ আন্দাজে বললে তা ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা দুভাগের ১ ভাগ। তাহলে পৃথিবীর আকার এবং চাঁদের আলো এই দুটোই ঠিকমতো বলার সম্ভাবনা হল ৬০ ভাগের ১ ভাগ। জীবজগৎ কোথা হতে সৃষ্টি হয়েছে একথা আন্দাজে বলতে গেলে যে লোক মরুভূমিতে থাকে সে প্রথমেই চিন্তা করবে বালির কথা।
এছাড়া হতে পারে অন্য কোন বস্তু যেমন, অ্যালুমিনিয়াম, আয়রন, পাথর, গ্যাস, কাঠ, বালি, মাটি এরকম ১০,০০০টি জিনিসের কথা মানুষ ভাবতে পারে, যা দিয়ে জীব জগৎ তৈরি হয়েছে। এখানে আন্দাজে বললে তা ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা ১০,০০০ ভাগের ১ ভাগ। এই তিনটি উত্তরই ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বা ছয় লক্ষ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ .০০০১৭%। এরকম কুরআন হাজার কথা বলে বিজ্ঞান সম্পর্কে যার সবই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। আর ম্যাথমেটিকস আমাদের বলে যে, যদি পশ্চাৎটা শূন্য দশমিকের পর থাকে, সেটার অর্থ আসলে শূন্য। তাহলে কুরআনের সবকিছু আন্দাজে বলা হয়েছে তার সম্ভাবনা শূন্য। তাহলে কে এই কথাগুলো বলতে পারে? তিনি বলতে পারেন, যিনি এই বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা। এই সৃষ্টিকর্তাই আমরা আল্লাহ!
আমি এখানে সংক্ষেপে বললাম। বিস্তারিত জানতে চাইলে আমার ভিডিও ক্যাসেট দেখুন। কুরআন কি আল্লাহর বাণী? অনেকভাবে প্রমাণ করা যায় যে, আল-কুরআন আল্লাহর বাণী। তৃতীয় প্রশ্নটা হলো যে একজন মানুষ আল্লাহকে কিভাবে বোঝাবে যে, সে ভুল পথে চলছে? মনে করুন, কেউ আপনাকে বলল, এটা সোনার অলংকার, তোমার কাছে বিক্রি করব। ২৫ ক্যারেট সোনা। আপনি তখন সেটা কিনে ফেলবেন? নাকি পরীক্ষা করে দেখবেন কথাটা সত্যি কিনা? আপনি স্বর্ণকারের কাছে যাবেন, সে কষ্টি পাথরে ঘষবে তারপর সে রং মিলাবে। যদি সে ২৪ ক্যারেটের সাথে মিলে যায় তাহলে বলবে ২৪ ক্যারেট। যদি ২২ ক্যারেটের সাথে মিলে যায় তাহলে ২২ অথবা ১৮ ক্যারেটর সাথে মিলে গেলে ১৮ ক্যারেট বলবে। আবার এটা সোনা নাও হতে পারে। কারণ, চকচক করলেই সোনা হয় না।
তাহলে রজনীশের উদাহরণ দিলাম। ধরুন, রজনীশ নিজেকে আল্লাহ্ বলে। তাকে সূরা ইখলাস দিয়ে পরীক্ষা করুন। রজনীশ এখনো অদ্বিতীয়? সে কি অমুখাপেক্ষী? কারো ওপর নির্ভরশীল নয়? অথবা, অন্য যে কেউ যে নিজেকে আল্লাহ্ বলে দাবি করে। হতে পারে যীশুখ্রিস্ট, রাম-লক্ষণ যে কাউকে পরীক্ষা করতে পারেন। আমি কারো ঈশ্বরকে ছোট করতে চাই না। যেমন- পবিত্র কুরআনের সূরা আনআমের ১০৮ নং আয়াতে আছে-
وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدُمًا بِغَيْرِ عِلْمٍ .
অর্থ: আল্লাহকে ছাড়া যাদেরকে তারা ডাকে তাদেরকে গালি দিও না। কেননা তারা সীমা লংঘন করে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিবে।
তাহলে এই লোকগুলো যারা নিজেদেরকে আল্লাহ্ বলে দাবি করে তাদের সূরা ইখলাসের কষ্টি পাথরে পরীক্ষা করবেন, তাহলেই প্রমাণ করতে পারবেন তারা আল্লাহ্ নয়। আর যদি আল্লাহ্ না হয়; তাহলে তো ধর্মগ্রন্থের কথাই আসছে না।
📄 কেবল বিয়ে করলেই দীনের অর্ধেক পূরণ হয় না
প্রশ্ন ৮ : আস্সালামু আলাইকুম। আপনি একটি হাদীস বলেছেন যে, "বিয়ে অর্ধেক দ্বীন পূরণ করে।" বিয়ে করলেই কি অর্ধেক দ্বীন পূরণ হবে? নাকি বিয়ের পুরো প্রক্রিয়া যেমন-কিভাবে বিয়ে করলেন, স্বামী বা স্ত্রীর সাথে ব্যবহার, দায়িত্ব পালন ইত্যাদি সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: বোন আপনি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। আমি আগেও বলেছি 'বিয়ে অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে' কথার দ্বারা মহানবী বুঝিয়েছেন যে, বিয়ে আপনাকে অবাধ যৌনাচার ও ব্যভিচার থেকে রক্ষা করে। বিয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমাদের প্রিয়নবী বলেছেন যখন বিয়ে করবে, তুমি সাধারণত চারটা বিষয় দেখবে। সম্পদ, সৌন্দর্য, আভিজাত্য আর সদগুণ। মানুষ বিয়ে করার সময় প্রথম সৌন্দর্য দেখে তারপর সম্পদ এরপর আভিজাত্য এবং সর্বশেষ দেখে সদগুণ। মহানবী বলেছেন, এই চারটার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সদগুণ।
কিভাবে বিয়ে করবেন? রাসূল বলেছেন, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিয়ে হলো যেখানে সবচেয়ে কম খরচ হয়। তাই অপচয় করা যাবে না। জীবন সঙ্গী বেছে নেয়া, বিয়ে করা, সন্তানদের বড় করা এসবই সুন্নাহ মেনে করতে হবে। বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত হবেন। এমন হবে না যে, বিয়ের পর আপনি ব্যভিচারে লিপ্ত হবেন। মহানবী বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে ভালো।
সূরা নিসা'র ১৯নং আয়াতে আছে- وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَ يَجْعَلَ اللهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا .
অর্থ: তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করবে, তোমরা যদি তাদের অপছন্দ কর তবে এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তাতে কল্যাণ রেখেছেন অথচ তোমরা তাদেরকেই অপছন্দ করছ।
প্রাচ্যের দেশগুলোতে যেমন ভারতের পুরুষরা স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক নেয়। ইসলামে আপনি দেবেন দেনমোহর। বিয়ে করলে আপনাকে একজন ভালো স্বামী হতে হবে, সন্তান সন্তুতি হলে আপনাকে ভালো মা কিংবা বাবা হতে হবে। এ রকম বিয়ের সাথে সম্পর্কিত সব দায়িত্ব ও কর্তব্য যখন আপনি পালন করবেন, তখন আপনার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ হবে। আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন।
প্রশ্ন ৮ : আস্সালামু আলাইকুম। আপনি একটি হাদীস বলেছেন যে, "বিয়ে অর্ধেক দ্বীন পূরণ করে।" বিয়ে করলেই কি অর্ধেক দ্বীন পূরণ হবে? নাকি বিয়ের পুরো প্রক্রিয়া যেমন-কিভাবে বিয়ে করলেন, স্বামী বা স্ত্রীর সাথে ব্যবহার, দায়িত্ব পালন ইত্যাদি সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: বোন আপনি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। আমি আগেও বলেছি 'বিয়ে অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে' কথার দ্বারা মহানবী বুঝিয়েছেন যে, বিয়ে আপনাকে অবাধ যৌনাচার ও ব্যভিচার থেকে রক্ষা করে। বিয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমাদের প্রিয়নবী বলেছেন যখন বিয়ে করবে, তুমি সাধারণত চারটা বিষয় দেখবে। সম্পদ, সৌন্দর্য, আভিজাত্য আর সদগুণ। মানুষ বিয়ে করার সময় প্রথম সৌন্দর্য দেখে তারপর সম্পদ এরপর আভিজাত্য এবং সর্বশেষ দেখে সদগুণ। মহানবী বলেছেন, এই চারটার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সদগুণ।
কিভাবে বিয়ে করবেন? রাসূল বলেছেন, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিয়ে হলো যেখানে সবচেয়ে কম খরচ হয়। তাই অপচয় করা যাবে না। জীবন সঙ্গী বেছে নেয়া, বিয়ে করা, সন্তানদের বড় করা এসবই সুন্নাহ মেনে করতে হবে। বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত হবেন। এমন হবে না যে, বিয়ের পর আপনি ব্যভিচারে লিপ্ত হবেন। মহানবী বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে ভালো।
সূরা নিসা'র ১৯নং আয়াতে আছে- وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَ يَجْعَلَ اللهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا .
অর্থ: তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করবে, তোমরা যদি তাদের অপছন্দ কর তবে এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তাতে কল্যাণ রেখেছেন অথচ তোমরা তাদেরকেই অপছন্দ করছ।
প্রাচ্যের দেশগুলোতে যেমন ভারতের পুরুষরা স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক নেয়। ইসলামে আপনি দেবেন দেনমোহর। বিয়ে করলে আপনাকে একজন ভালো স্বামী হতে হবে, সন্তান সন্তুতি হলে আপনাকে ভালো মা কিংবা বাবা হতে হবে। এ রকম বিয়ের সাথে সম্পর্কিত সব দায়িত্ব ও কর্তব্য যখন আপনি পালন করবেন, তখন আপনার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ হবে। আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন।
📄 পশ্চিমা নেতারা ইসলামকে ভয় পায়
প্রশ্ন ৯ : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমানুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ডা. জাকির, আমি আসলে এ ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার করতে চাই। আপনি বলেছেন, পশ্চিমা নেতারা ইসলামকে ভয় পায়। আপনি দেখবেন, এমনকি জাহেলিয়াতের যুগেও তাদের বিভিন্ন নেতারা ইসলামকে ভয় পেত না। সে জন্যই তারা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। তারা যেটা ভয় পেয়েছিল সেটা হলো ইসলাম গ্রহণ করলে তাদেরকে বদলাতে হবে। আর পৃথিবীর অধিকাংশ নেতাই পরিবর্তন মেনে নিতে পারে না। আর আমার মতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো তাদেরকে একেবারে সাধারণ মুসলমান হয়ে চলাফেরা করতে হবে। হোক সেটা আমেরিকায় বা অন্য কোথাও।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: ভাই আপনি বলেছেন যে, জাহিলিয়াতের নেতারা ইসলামকে ভয় পেত না। দুঃখিত ভাই আমি আপনার সাথে একমত হতে পারছি না। সে সময়ের বড় বড় নেতারা ইসলামকে প্রচণ্ড ভয় পেত। তারা একমাত্র যে জিনিসটাকে ভয় পেত তাহলো ইসলাম। আর এজন্যই তারা নবীজিকে বলেছিল, আমরা তোমাকে রাজা বানাব, সবচেয়ে ধনী লোক বানিয়ে দেব, যদি তুমি ইসলাম প্রচার করা বন্ধ করে দাও। মহানবী উত্তরে বলেছিলেন, আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্র এনে দিলেও আমি ইসলামের এই দাওয়াত প্রচার থেকে বিরত থাকব না।
পরবর্তীতে (আলহামদুলিল্লাহ) সত্যেরই জয় হলো। তখন তারা মুসলমান হয়েছে। এজন্যই কুরআন বলছে প্রথমে গোত্রের নেতাদের বোঝাও। যদি তারা মুসলমান হয়, অনেকেই তাদের অনুসরণ করবে। সেজন্যই আমি বলব, পশ্চিমা বিশ্বে ও বেশির ভাগ নেতাই ইসলামকে ভয় পায়। অবশ্য সবাই না, ভাল কিছু লোক আছে। যেমন ব্রুনো চার্লস বেশ কিছু ভালো কথা বলেছেন। তার নিয়ত আল্লাহই ভাল জানেন। ইংল্যান্ডের বেশ কিছু মন্ত্রী ইসলাম সম্পর্কে ভালো কথা বলেছেন।
আপনি বলেছেন মুসলমান হওয়া তাদের জন্য খুব সহজ। ব্যাপারটা আসলে মোটেও সহজ না, ভাই। সেই সময়ে আবু সুফিয়ান আর অন্যান্য নেতারা অনেক ধনী ছিল। তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে, কে তাদের কুর্নিশ করবে? ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সব মানুষ সমান। ফলে, তাদের সাথে কোলাকোলি করতে হবে। জীবনটাই পুরো বদলে যাবে। নেতারা ভয় পেয়েছিল যে তারা যে বিলাসিতা আর স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে ছিল সে সবই ছাড়তে হবে শুধু ইসলামের কারণে। আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করেছিলেন। তারা পৃথিবীর বদলে আল্লাহর কাছে আখিরাতে প্রাসাদ চেয়েছিল। আর এ ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো উদাহরণটা হলো বিবি আসিয়ার। তিনি ছিলেন ফেরাউনের স্ত্রী। সূরা তাহরীমের ১১ নং আয়াতে আছে-
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لي عِنْدَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِنْ فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ .
অর্থ : আল্লাহ মুমিনদের জন্য ফিরাউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন, যে প্রার্থনা করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! তোমার সন্নিধানে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং আমাকে উদ্ধার কর ফিরাউন ও তার দুষ্কৃতি এবং যালিম সম্প্রদায় হতে।
তিনি ছিলেন সে সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ফেরাউনের স্ত্রী। তারপরও তিনি আল্লাহর কাছে দোআ করেছেন। তাই (আলহামদুলিল্লাহ) আল্লাহ যখন হিদায়াত দান করে, তখন সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, সে ইসলাম গ্রহণ করে আখিরাতের জন্য।
প্রশ্ন ৯ : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমানুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ডা. জাকির, আমি আসলে এ ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার করতে চাই। আপনি বলেছেন, পশ্চিমা নেতারা ইসলামকে ভয় পায়। আপনি দেখবেন, এমনকি জাহেলিয়াতের যুগেও তাদের বিভিন্ন নেতারা ইসলামকে ভয় পেত না। সে জন্যই তারা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। তারা যেটা ভয় পেয়েছিল সেটা হলো ইসলাম গ্রহণ করলে তাদেরকে বদলাতে হবে। আর পৃথিবীর অধিকাংশ নেতাই পরিবর্তন মেনে নিতে পারে না। আর আমার মতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো তাদেরকে একেবারে সাধারণ মুসলমান হয়ে চলাফেরা করতে হবে। হোক সেটা আমেরিকায় বা অন্য কোথাও।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: ভাই আপনি বলেছেন যে, জাহিলিয়াতের নেতারা ইসলামকে ভয় পেত না। দুঃখিত ভাই আমি আপনার সাথে একমত হতে পারছি না। সে সময়ের বড় বড় নেতারা ইসলামকে প্রচণ্ড ভয় পেত। তারা একমাত্র যে জিনিসটাকে ভয় পেত তাহলো ইসলাম। আর এজন্যই তারা নবীজিকে বলেছিল, আমরা তোমাকে রাজা বানাব, সবচেয়ে ধনী লোক বানিয়ে দেব, যদি তুমি ইসলাম প্রচার করা বন্ধ করে দাও। মহানবী উত্তরে বলেছিলেন, আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্র এনে দিলেও আমি ইসলামের এই দাওয়াত প্রচার থেকে বিরত থাকব না।
পরবর্তীতে (আলহামদুলিল্লাহ) সত্যেরই জয় হলো। তখন তারা মুসলমান হয়েছে। এজন্যই কুরআন বলছে প্রথমে গোত্রের নেতাদের বোঝাও। যদি তারা মুসলমান হয়, অনেকেই তাদের অনুসরণ করবে। সেজন্যই আমি বলব, পশ্চিমা বিশ্বে ও বেশির ভাগ নেতাই ইসলামকে ভয় পায়। অবশ্য সবাই না, ভাল কিছু লোক আছে। যেমন ব্রুনো চার্লস বেশ কিছু ভালো কথা বলেছেন। তার নিয়ত আল্লাহই ভাল জানেন। ইংল্যান্ডের বেশ কিছু মন্ত্রী ইসলাম সম্পর্কে ভালো কথা বলেছেন।
আপনি বলেছেন মুসলমান হওয়া তাদের জন্য খুব সহজ। ব্যাপারটা আসলে মোটেও সহজ না, ভাই। সেই সময়ে আবু সুফিয়ান আর অন্যান্য নেতারা অনেক ধনী ছিল। তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে, কে তাদের কুর্নিশ করবে? ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সব মানুষ সমান। ফলে, তাদের সাথে কোলাকোলি করতে হবে। জীবনটাই পুরো বদলে যাবে। নেতারা ভয় পেয়েছিল যে তারা যে বিলাসিতা আর স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে ছিল সে সবই ছাড়তে হবে শুধু ইসলামের কারণে। আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করেছিলেন। তারা পৃথিবীর বদলে আল্লাহর কাছে আখিরাতে প্রাসাদ চেয়েছিল। আর এ ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো উদাহরণটা হলো বিবি আসিয়ার। তিনি ছিলেন ফেরাউনের স্ত্রী। সূরা তাহরীমের ১১ নং আয়াতে আছে-
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لي عِنْدَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِنْ فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ .
অর্থ : আল্লাহ মুমিনদের জন্য ফিরাউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন, যে প্রার্থনা করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! তোমার সন্নিধানে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং আমাকে উদ্ধার কর ফিরাউন ও তার দুষ্কৃতি এবং যালিম সম্প্রদায় হতে।
তিনি ছিলেন সে সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ফেরাউনের স্ত্রী। তারপরও তিনি আল্লাহর কাছে দোআ করেছেন। তাই (আলহামদুলিল্লাহ) আল্লাহ যখন হিদায়াত দান করে, তখন সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, সে ইসলাম গ্রহণ করে আখিরাতের জন্য।