📄 বহুবিবাহের মাধ্যমে কি পুরুষ নিজেকে পরীক্ষায় ফেলে?
প্রশ্ন ১: প্রশ্নকারিনী মহিলা: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কুরআনে খুব স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, বহুবিবাহ করলে স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে হবে। যদিও এটা খুব কঠিন। তাই যে পুরুষ একাধিক বিয়ে করছেন তিনি আসলে নিজেকেই পরীক্ষায় ফেলেছেন। অন্যদিকে আপনি যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন তাতে মনে হয় বহুবিবাহ-ই একমাত্র সমাধান। এখন আমার ধারণা যে পুরুষ একাধিক বিয়ে করছেন তিনি আসলে নিজেকেই পরীক্ষায় ফেলছেন। এ ব্যাপারে আপনি কিছু বলেন।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: বোন, আপনি বেশ সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। আপনি ঠিকই বলেছেন যে, যে পুরুষ একাধিক বিয়ে করছে, সে আসলে নিজেকেই পরীক্ষায় ফেলছে। আর আমরা আসলে সবাই এখানে পরীক্ষা দিতেই এসেছি। আর আপনি ভাবতে পারেন যে, আমরাতো কম পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারি। মানুষ আসলে বোকা, তাই বেশি পরীক্ষা দিতে চায়। যদি পরীক্ষায় ফেল করেন, তাহলে আপনার সমস্যা হবে। কিন্তু যদি পাস করেন, তাহলে আপনি পুরস্কারও পাবেন। কারণ ইসলামে বহু বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে মেয়েদের রক্ষা করার জন্য। আর সেজন্য আমাদের রাসূল বলেছেন যে, 'সেই ব্যক্তিই উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে ভালো।' একাধিক স্ত্রী থাকলে ন্যায়বিচার করা খুব কঠিন। আমি পরিসংখ্যানে বলেছি, পৃথিবীতে মহিলার সংখ্যা বেশি। তবে আমি অনুপাতটা বলি নি। প্রতি হাজার পুরুষের জন্য পৃথিবীতে মহিলা রয়েছে এক হাজার পাঁচ জন। তার অর্থ প্রতি দুশো জনে একজন একাধিক বিয়ে করতে পারবেন। অনুপাতটা এরকম না যে প্রতি ১ জনে ৪ জন। মাত্র অর্ধেক পার্সেন্ট বেশি। আর এটাই বহুবিবাহ অনুমোদনের একটা কারণ। অন্য আরো কারণ আছে। অনেকের শারীরিক চাহিদা বেশি থাকে। যেটা সে বাজারে গিয়ে পছন্দ করে রক্ষিতা কিনতে পারে অথবা একাধিক বিয়ে করতে পারে।
এভাবে সে দুজনের উপকার করছে। নিজের উপকার করছে আর যে মহিলার নিরাপত্তা দরকার তারও উপকার করছে। ইসলাম সবার উপরেই সুবিচার করে। সবাইকে একটার বেশি বিয়ে করাতে বাধ্য করছে না। কিন্তু যদি বিয়ে করে ন্যায়বিচার করতে পারেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ পুরস্কার পাবেন। আর যদি না পারেন এটা কোন ফরয না যে অবশ্যই করতে হবে। এমনকি মুস্তাহাবও না। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।
প্রশ্ন ১: প্রশ্নকারিনী মহিলা: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। কুরআনে খুব স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, বহুবিবাহ করলে স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে হবে। যদিও এটা খুব কঠিন। তাই যে পুরুষ একাধিক বিয়ে করছেন তিনি আসলে নিজেকেই পরীক্ষায় ফেলেছেন। অন্যদিকে আপনি যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন তাতে মনে হয় বহুবিবাহ-ই একমাত্র সমাধান। এখন আমার ধারণা যে পুরুষ একাধিক বিয়ে করছেন তিনি আসলে নিজেকেই পরীক্ষায় ফেলছেন। এ ব্যাপারে আপনি কিছু বলেন।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: বোন, আপনি বেশ সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। আপনি ঠিকই বলেছেন যে, যে পুরুষ একাধিক বিয়ে করছে, সে আসলে নিজেকেই পরীক্ষায় ফেলছে। আর আমরা আসলে সবাই এখানে পরীক্ষা দিতেই এসেছি। আর আপনি ভাবতে পারেন যে, আমরাতো কম পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারি। মানুষ আসলে বোকা, তাই বেশি পরীক্ষা দিতে চায়। যদি পরীক্ষায় ফেল করেন, তাহলে আপনার সমস্যা হবে। কিন্তু যদি পাস করেন, তাহলে আপনি পুরস্কারও পাবেন। কারণ ইসলামে বহু বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে মেয়েদের রক্ষা করার জন্য। আর সেজন্য আমাদের রাসূল বলেছেন যে, 'সেই ব্যক্তিই উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে ভালো।' একাধিক স্ত্রী থাকলে ন্যায়বিচার করা খুব কঠিন। আমি পরিসংখ্যানে বলেছি, পৃথিবীতে মহিলার সংখ্যা বেশি। তবে আমি অনুপাতটা বলি নি। প্রতি হাজার পুরুষের জন্য পৃথিবীতে মহিলা রয়েছে এক হাজার পাঁচ জন। তার অর্থ প্রতি দুশো জনে একজন একাধিক বিয়ে করতে পারবেন। অনুপাতটা এরকম না যে প্রতি ১ জনে ৪ জন। মাত্র অর্ধেক পার্সেন্ট বেশি। আর এটাই বহুবিবাহ অনুমোদনের একটা কারণ। অন্য আরো কারণ আছে। অনেকের শারীরিক চাহিদা বেশি থাকে। যেটা সে বাজারে গিয়ে পছন্দ করে রক্ষিতা কিনতে পারে অথবা একাধিক বিয়ে করতে পারে।
এভাবে সে দুজনের উপকার করছে। নিজের উপকার করছে আর যে মহিলার নিরাপত্তা দরকার তারও উপকার করছে। ইসলাম সবার উপরেই সুবিচার করে। সবাইকে একটার বেশি বিয়ে করাতে বাধ্য করছে না। কিন্তু যদি বিয়ে করে ন্যায়বিচার করতে পারেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ পুরস্কার পাবেন। আর যদি না পারেন এটা কোন ফরয না যে অবশ্যই করতে হবে। এমনকি মুস্তাহাবও না। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।
📄 ডা. জাকির নায়েককে তাঁর পিতা-মাতা কিভাবে মানুষ করেছেন?
প্রশ্ন ২: আমার নাম ফরিদা। এতোক্ষণ আপনার লেকচার শুনছিলাম যা খুব ভালো লাগছিল। আমি আপনাকে প্রশ্নটা এই জন্য করছি যে, আমি একজন মা। আমার সন্তানদের বড় করতে হবে। আপনি পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলেন, ডাক্তারি পাস করেছেন। আর এখন পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ইসলামের ওপর লেকচার দিচ্ছেন। আপনার বাবা-মা আপনাকে কিভাবে বড়ো করেছিলেন? আপনি এ ব্যাপারে কিছু বলবেন যাতে আমার মতো মায়েরা উপকৃত হতে পারে।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: আপনি আমার লেকচার শুনেছেন। জানেন যে, আমি একজন ডাক্তার। আল্লাহর পর এই পৃথিবীতে কাউকে যদি ধন্যবাদ দিতে হয়, তিনি আমার মা। তবে আমার বাবা, স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সবাইও দাওয়ায় নিয়োজিত। লোকে আমাকে প্রশ্ন করে, আপনার পরিবারের সবাই একই রকম! এটাতো দারুণ 'ফ্যামিলি প্ল্যানিং'। আমি বলি যে, আমি বাবা-মায়ের পঞ্চম সন্তান। তারা যদি 'ফ্যামিলি প্ল্যানিং' করতেন তাহলে আমি এখানে থাকতাম না। ভেবেছিলাম উনি প্রশ্নটা দিয়ে এমন কিছু বুঝাচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ সে রকম ছিল না। লোকে ভাবে বেশি ছেলেমেয়ে থাকা ভাল না। তবে এটা ভাল হতেও পারে। এটা নির্ভর করে কিভাবে তাদের বড় করেছেন, মানুষ করছেন।
আমার বাবা-মা আমাকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়েছেন। তারা কখনো জোর করেন নি যে, এটা মানো, ধর্ম মানো। তবে তারা সব সময় কুরআন ও সুন্নত মেনে চলেছেন। মানুষ তার বাবা-মায়ের কাছ থেকেই শেখে। তবে সব সময় এমনটা হয় না। আমরা ইতিহাস থেকে জানি নবীদের সন্তানেরাও কুপথে গিয়েছিল। এটা আসলে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছে ছাড়া হয় না। কারণ সূরা আলে ইমরানের ১৬০ নং আয়াতে আছে,
إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللهُ فَلَا غَلِبَ لَكُمْ وَإِنْ يَخْذُلُكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِي يَنْصُرُكُمْ مِنْ بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ .
অর্থ: আল্লাহ সাহায্য করলে কেউ তোমাদের হারাতে পারবে না। যদি আল্লাহ সাহায্য না করেন, তাহলে তিনি ছাড়া কে এমন আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে? তাই মুমিনদের উচিত আল্লাহরই ওপর নির্ভর করা।
আমার বাবা-মা আল্লাহর ওপর নির্ভর করেছেন। তারা আমাকে ডাক্তার বানানোর জন্য অনেক টাকা খরচ করেছেন। তারা চাইতেন আমি যেন ক্রিস বার্নাডের মতো হই। ক্রিস বার্নাড দক্ষিণ আফ্রিকার ডাক্তার যে প্রথম হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট অপারেশন করেছিল। মা তার সাথে দেখাও করেছিলেন। আমিও এই পেশাটা বেছে নিয়েছিলাম। কারণ, মানুষের সেবা করার জন্য ডাক্তারি সবচেয়ে ভালো পেশাগুলোর একটা। তাই আমি ডাক্তার হয়েছিলাম। আমার বাবাও একজন ডাক্তার ছিলেন। পরবর্তীতে শেখ আহমদ দীদাতের উৎসাহে আমি ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করলাম। তখন আবিষ্কার করলাম যে, আমার রোগীদের শারীরিক অসুখের বদলে আধ্যাত্মিক অসুখ সারিয়ে অনেক বেশি তৃপ্তি পাচ্ছি।
পৃথিবীতে হাজার হাজার ডাক্তার রয়েছেন, যারা বিনা মূল্যে চিকিৎসা করছেন। আমিও তাদের মতোই হব। তাই ঠিক করলাম ডাক্তারি ছেড়ে দিয়ে ইসলামের দিকে আহ্বানকারী হব। তখন আমার বাবা-মা আমাকে সমর্থন করেছেন। তারা বলতে পারতেন, তোমার পিছনে আমরা এতো টাকা খরচ করেছি, আমাদের অনেক আশা ছিল ইত্যাদি। আমার বাবা-মা আমাকে বলেছেন, কোনো সমস্যা নেই। এটাই আল্লাহর পথ। আমার মাকে প্রশ্ন করেছিলাম, তুমি কি চাও আমি শেখ আহমদ দীদাতের মতো হই, নাকি ক্রিস বার্নাড হই? তিনি বলেছিলেন আমি চাই তুমি এক সঙ্গে দুটোই হও। তবে এখন তিনি বলেন, আহমদ দীদাতের মত একজন দা'য়ীর জন্য আমি হাজার ক্রিস বার্নাড ছাড়তে পারি।
দাওয়ার ক্ষেত্রে ফ্যামিলির সমর্থন খুব বেশি দরকার। সন্তানকে কিভাবে বড় করত হবে এ ব্যাপারে জানতে পারবেন আমার লেকচার "শিশুর জন্য ইসলাম”। শিশুর সেরা শিক্ষক হল তার মা। আর প্রথমে যে বইটা বাবা-মায়ের উচিত সন্তানকে দেয়া, সেটা হলো কুরআন। যা জীবনের প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তার সঙ্গী থাকবে। আমার বাবা-মা আরবি ভাষার গুরুত্ব বুঝেছিলেন। আরবি ভাষা জানা থাকলে পবিত্র কুরআন সহজে বুঝা যায়। আপনার সন্তানকে আরবি ভাষা শেখালে সে সহজেই পবিত্র কুরআন পড়তে পারবে। কেউ যদি আল্লাহর পথে চেষ্টা করে আল্লাহ তাকে পথ দেখান।
সূরা আনকাবুতের ৬৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন- وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِيْنَ .
অর্থ: যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সাথে থাকেন।
তাই আপনি আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে যান। ঠিক পথে সংগ্রাম করে যান। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সাহায্য করবেন। তাই প্রথমে দরকার আল্লাহর উপর বিশ্বাস, দ্বিতীয়টা হলো সংগ্রাম, আর তৃতীয়টা হলো কৌশল। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।
প্রশ্ন ২: আমার নাম ফরিদা। এতোক্ষণ আপনার লেকচার শুনছিলাম যা খুব ভালো লাগছিল। আমি আপনাকে প্রশ্নটা এই জন্য করছি যে, আমি একজন মা। আমার সন্তানদের বড় করতে হবে। আপনি পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলেন, ডাক্তারি পাস করেছেন। আর এখন পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ইসলামের ওপর লেকচার দিচ্ছেন। আপনার বাবা-মা আপনাকে কিভাবে বড়ো করেছিলেন? আপনি এ ব্যাপারে কিছু বলবেন যাতে আমার মতো মায়েরা উপকৃত হতে পারে।
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: আপনি আমার লেকচার শুনেছেন। জানেন যে, আমি একজন ডাক্তার। আল্লাহর পর এই পৃথিবীতে কাউকে যদি ধন্যবাদ দিতে হয়, তিনি আমার মা। তবে আমার বাবা, স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সবাইও দাওয়ায় নিয়োজিত। লোকে আমাকে প্রশ্ন করে, আপনার পরিবারের সবাই একই রকম! এটাতো দারুণ 'ফ্যামিলি প্ল্যানিং'। আমি বলি যে, আমি বাবা-মায়ের পঞ্চম সন্তান। তারা যদি 'ফ্যামিলি প্ল্যানিং' করতেন তাহলে আমি এখানে থাকতাম না। ভেবেছিলাম উনি প্রশ্নটা দিয়ে এমন কিছু বুঝাচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ সে রকম ছিল না। লোকে ভাবে বেশি ছেলেমেয়ে থাকা ভাল না। তবে এটা ভাল হতেও পারে। এটা নির্ভর করে কিভাবে তাদের বড় করেছেন, মানুষ করছেন।
আমার বাবা-মা আমাকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়েছেন। তারা কখনো জোর করেন নি যে, এটা মানো, ধর্ম মানো। তবে তারা সব সময় কুরআন ও সুন্নত মেনে চলেছেন। মানুষ তার বাবা-মায়ের কাছ থেকেই শেখে। তবে সব সময় এমনটা হয় না। আমরা ইতিহাস থেকে জানি নবীদের সন্তানেরাও কুপথে গিয়েছিল। এটা আসলে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছে ছাড়া হয় না। কারণ সূরা আলে ইমরানের ১৬০ নং আয়াতে আছে,
إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللهُ فَلَا غَلِبَ لَكُمْ وَإِنْ يَخْذُلُكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِي يَنْصُرُكُمْ مِنْ بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ .
অর্থ: আল্লাহ সাহায্য করলে কেউ তোমাদের হারাতে পারবে না। যদি আল্লাহ সাহায্য না করেন, তাহলে তিনি ছাড়া কে এমন আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে? তাই মুমিনদের উচিত আল্লাহরই ওপর নির্ভর করা।
আমার বাবা-মা আল্লাহর ওপর নির্ভর করেছেন। তারা আমাকে ডাক্তার বানানোর জন্য অনেক টাকা খরচ করেছেন। তারা চাইতেন আমি যেন ক্রিস বার্নাডের মতো হই। ক্রিস বার্নাড দক্ষিণ আফ্রিকার ডাক্তার যে প্রথম হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট অপারেশন করেছিল। মা তার সাথে দেখাও করেছিলেন। আমিও এই পেশাটা বেছে নিয়েছিলাম। কারণ, মানুষের সেবা করার জন্য ডাক্তারি সবচেয়ে ভালো পেশাগুলোর একটা। তাই আমি ডাক্তার হয়েছিলাম। আমার বাবাও একজন ডাক্তার ছিলেন। পরবর্তীতে শেখ আহমদ দীদাতের উৎসাহে আমি ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করলাম। তখন আবিষ্কার করলাম যে, আমার রোগীদের শারীরিক অসুখের বদলে আধ্যাত্মিক অসুখ সারিয়ে অনেক বেশি তৃপ্তি পাচ্ছি।
পৃথিবীতে হাজার হাজার ডাক্তার রয়েছেন, যারা বিনা মূল্যে চিকিৎসা করছেন। আমিও তাদের মতোই হব। তাই ঠিক করলাম ডাক্তারি ছেড়ে দিয়ে ইসলামের দিকে আহ্বানকারী হব। তখন আমার বাবা-মা আমাকে সমর্থন করেছেন। তারা বলতে পারতেন, তোমার পিছনে আমরা এতো টাকা খরচ করেছি, আমাদের অনেক আশা ছিল ইত্যাদি। আমার বাবা-মা আমাকে বলেছেন, কোনো সমস্যা নেই। এটাই আল্লাহর পথ। আমার মাকে প্রশ্ন করেছিলাম, তুমি কি চাও আমি শেখ আহমদ দীদাতের মতো হই, নাকি ক্রিস বার্নাড হই? তিনি বলেছিলেন আমি চাই তুমি এক সঙ্গে দুটোই হও। তবে এখন তিনি বলেন, আহমদ দীদাতের মত একজন দা'য়ীর জন্য আমি হাজার ক্রিস বার্নাড ছাড়তে পারি।
দাওয়ার ক্ষেত্রে ফ্যামিলির সমর্থন খুব বেশি দরকার। সন্তানকে কিভাবে বড় করত হবে এ ব্যাপারে জানতে পারবেন আমার লেকচার "শিশুর জন্য ইসলাম”। শিশুর সেরা শিক্ষক হল তার মা। আর প্রথমে যে বইটা বাবা-মায়ের উচিত সন্তানকে দেয়া, সেটা হলো কুরআন। যা জীবনের প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তার সঙ্গী থাকবে। আমার বাবা-মা আরবি ভাষার গুরুত্ব বুঝেছিলেন। আরবি ভাষা জানা থাকলে পবিত্র কুরআন সহজে বুঝা যায়। আপনার সন্তানকে আরবি ভাষা শেখালে সে সহজেই পবিত্র কুরআন পড়তে পারবে। কেউ যদি আল্লাহর পথে চেষ্টা করে আল্লাহ তাকে পথ দেখান।
সূরা আনকাবুতের ৬৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন- وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِيْنَ .
অর্থ: যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সাথে থাকেন।
তাই আপনি আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে যান। ঠিক পথে সংগ্রাম করে যান। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সাহায্য করবেন। তাই প্রথমে দরকার আল্লাহর উপর বিশ্বাস, দ্বিতীয়টা হলো সংগ্রাম, আর তৃতীয়টা হলো কৌশল। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।
📄 মহিলাদের সংখ্যা বেশি : সমাধান বহুবিবাহ
প্রশ্ন ৩ (পুরুষ): শুভ সন্ধ্যা। আমার প্রশ্নটাও বহুবিবাহের ওপর। ইসলামে যাকাতের মতো সুন্দর ব্যবস্থা আছে। এখন পৃথিবীতে মহিলাদের সংখ্যা বেশি। এর সমাধানের জন্য যাকাতের মতো কোনো ব্যবস্থার প্রচলন করা যায় কিনা?
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: ভাই আপনি প্রশ্ন করেছেন যে, ইসলামে যাকাতের ব্যবস্থা আছে যা দারিদ্র্য আর অপরাধ কমায়। বহুবিবাহের ক্ষেত্রেও এমন ব্যবস্থা নেই কেন? ব্যবস্থা আছে। যাকাতের ক্ষেত্রে ধনীরা দরিদ্রদের সাথে সম্পত্তি শেয়ার করেন। আর বহুবিবাহের ক্ষেত্রে স্ত্রীরা স্বামীকে শেয়ার করেন। আলহামদুলিল্লাহ। যাকাত আর বহুবিবাহের মধ্যে একটা মিল রয়েছে। এভাবে আগে কখনো ভেবে দেখিনি। আপনার প্রশ্নই আমাকে দেখাল। তাই, এই প্রশ্ন-উত্তর সেশনটা আমার বেশ পছন্দ। যত বেশি প্রশ্ন আসে, আমার উত্তর তত বেশি উন্নত হয়। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেন। মানুষ যত বেশি প্রশ্ন করে, আমার মাথা ততই খোলে। যাকাতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সম্পদ দরিদ্রদের সাথে শেয়ার করা হয়। আর মহিলারা স্বামীকে শেয়ার করছেন এতে অন্য মহিলাদেরও রক্ষা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন ৩ (পুরুষ): শুভ সন্ধ্যা। আমার প্রশ্নটাও বহুবিবাহের ওপর। ইসলামে যাকাতের মতো সুন্দর ব্যবস্থা আছে। এখন পৃথিবীতে মহিলাদের সংখ্যা বেশি। এর সমাধানের জন্য যাকাতের মতো কোনো ব্যবস্থার প্রচলন করা যায় কিনা?
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: ভাই আপনি প্রশ্ন করেছেন যে, ইসলামে যাকাতের ব্যবস্থা আছে যা দারিদ্র্য আর অপরাধ কমায়। বহুবিবাহের ক্ষেত্রেও এমন ব্যবস্থা নেই কেন? ব্যবস্থা আছে। যাকাতের ক্ষেত্রে ধনীরা দরিদ্রদের সাথে সম্পত্তি শেয়ার করেন। আর বহুবিবাহের ক্ষেত্রে স্ত্রীরা স্বামীকে শেয়ার করেন। আলহামদুলিল্লাহ। যাকাত আর বহুবিবাহের মধ্যে একটা মিল রয়েছে। এভাবে আগে কখনো ভেবে দেখিনি। আপনার প্রশ্নই আমাকে দেখাল। তাই, এই প্রশ্ন-উত্তর সেশনটা আমার বেশ পছন্দ। যত বেশি প্রশ্ন আসে, আমার উত্তর তত বেশি উন্নত হয়। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেন। মানুষ যত বেশি প্রশ্ন করে, আমার মাথা ততই খোলে। যাকাতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সম্পদ দরিদ্রদের সাথে শেয়ার করা হয়। আর মহিলারা স্বামীকে শেয়ার করছেন এতে অন্য মহিলাদেরও রক্ষা করা হচ্ছে।
📄 অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আগ্রহী হওয়ার কারণ
প্রশ্ন ৪ (মহিলা): আসসালামু আলাইকুম। পশ্চিমারা একেবারে নিয়মিতভাবে ইসলামের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। আর কিছু কিছু মুসলমানের ব্যবহার একেবারেই ইসলামিক নয়। তারপরও অমুসলিমরা কেন ইসলাম ও কুরআন সম্পর্কে জানতে চায়? এর কারণ কি কোনো মুসলমানের ব্যবহার? নাকি পশ্চিমা দেশগুলোতে কোনো দাইয়ীর আমন্ত্রণ? অথবা এখানে কি আল্লাহর দেয়া হিদায়ার পাশাপাশি অন্য কারণও আছে?
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: আপনি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন যে, মিডিয়া পশ্চিমারা সব সময় ইসলামের বিরুদ্ধে। তারপরও কেন পশ্চিমারা (আলহামদুলিল্লাহ) ইসলাম গ্রহণ করছে। হিদায়া হচ্ছে সবচেয়ে বড় কারণ। এখন এটা কি দা'য়িদের কারণে হচ্ছে নাকি মুসলমানদের ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করছে? নাকি কারণটা অন্য কিছু। আমার মনে হয় না যে, আজকের মুসলমানদের দেখে পশ্চিমারা ইসলাম গ্রহণ করবে। ইউসুফ ইসলাম (খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণকারী বিখ্যাত সঙ্গীত তারকা, নাম ক্যাটস্ স্টিফেন।) বলেছিলেন, কোনো মুসলমানের সাথে দেখা হওয়ার আগে কুরআন পড়ে ভালই করেছিলেন। ওদের আগে দেখলে আমি কখনোই ইসলাম গ্রহণ করতাম না। এটা তার নিজের মতামত। হয়তো তিনি যে মুসলমানদের দেখেছিলেন, তারা অতোটা ভাল ছিল না।
কিন্তু পৃথিবীতে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন শুধু মুসলমানদের ব্যবহার দেখে। সেজন্য, আমি আমার লেকচারে বলি, ইসলাম ধর্ম ভাল কথা বলে; কিন্তু কিছু লোক ঠকাচ্ছে, ঘুষ দিচ্ছে, খারাপ কাজ করছে। এই ক্ষেত্রে আমি বলি যে, প্রত্যেক সমাজেই কিছু কুলাঙ্গার থাকে। এখন, মিডিয়া এই কুলাঙ্গারগুলোকে সবার সামনে দেখাচ্ছে আর বলছে যে, মুসলমানরা এ রকম। বুঝাতে চায়, প্রত্যেক মুসলমানই খারাপ। তারা নিজেদের স্বার্থে এগুলো করছে। আমি তাদের বলি, (আলহামদুলিল্লাহ) মুসলমানরা ধর্মীয়ভাবে মদ পান করে না। মদ্যপান এখানে নিষিদ্ধ। মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি দান-খয়রাত করে।
পশ্চিমা মিডিয়া কুলাঙ্গারদের তুলে ধরে বলছে, এরাই মুসলমান। আমি একটা উদাহরণ দেব। ধরেন আপনি মার্সিডিজ বেঞ্জের নতুন মডেলের গাড়ি কিনতে গেছেন। আপনি গাড়িটা কেমন ভালো তা জানার জন্য একজন ড্রাইভারকে চালাতে দিলেন। ড্রাইভার অদক্ষ হওয়ার কারণে গাড়িটা এক্সিডেন্ট করল, কাকে দোষ দিবেন? গাড়িকে নাকি ড্রাইভারকে? নিশ্চয়ই ড্রাইভারকে দিবেন। গাড়িটাকে বিচার করতে হলে দেখতে হবে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, ব্যবস্থাগুলো কতটা ভালো, কেমন তেল লাগে, স্পিড কেমন, যন্ত্রপাতির মান কেমন ইত্যাদি। তাই ইসলামকে বিচার করতে চাইলে, বিচার করুন পবিত্র কুরআন আর সহীহ হাদীস দিয়ে। গাড়িটা কত ভালো, সেটা দেখতে চাইলে একজন ভালো ড্রাইভারকে গাড়িতে বসান। যদি ইসলামকে বিচার করতে চান এর অনুসারীদের দিয়ে তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলমান হযরত মুহাম্মদ ﷺ-কে বিচার করুন। বিচার যদি করতে চান, মূল গ্রন্থ দিয়ে বিচার করুন।
যদিত্ত মিডিয়া ইসলামের বিপক্ষে। আপনারা পাবেন সালমান রুশদীর মতো মানুষ যে 'স্যাটানিক ভার্সেস' বইটা লিখেছে। যারা বইটা পড়েছেন তারা জানেন। যদিও সে ওই বইতে নবী করীম তাঁর স্ত্রীগণকে ছোট করেছে, (নাউযুবিল্লাহ)। তবুও অনেক লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে তার ওই বইয়ের জন্য। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি শয়তানকে তার নিজের কাজে লাগাতে পারেন। অনেক লোকজন এটা নিয়ে গবেষণা শুরু করে দেখল যে, সে ভুল করেছে। তারা যখন মুহাম্মদ (স)-এর ওপর গবেষণা করল, (আলহামদুলিল্লাহ) তাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করল। পশ্চিমারা ইসলামের যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করে, সেটা হল ইসলামে মেয়েদের অধিকার। এ ব্যাপারে আমি লেকচার দিয়েছি, "ইসলামে মেয়েদের অধিকার : আধুনিক নাকি সেকেলে?” ভুল ধারণাগুলো কী কী?
পশ্চিমাদের মধ্যে পুরুষের চাইতে অনেক বেশি মহিলা মুসলমান হচ্ছে। কেন জানেন? কারণ তারা গবেষণা করে। অনেকে গবেষণা করে ইসলামের বিরুদ্ধে বলার জন্য। যেমন- গ্যারি মিলার। তিনি পরবর্তীতে মুসলমান হয়ে হলেন "আহাদ ওমর।” তিনি পবিত্র কুরআনকে ভুল প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছিলেন, পারেন নি, পরে ইসলাম গ্রহণ করেন। এমন অনেকেই ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। আল্লাহ একেক জনকে একেক উপায়ে হেদায়েত দান করেন। কেউ হয়তো মুসলমানদের দেখেই ইসলাম গ্রহণ করছেন। কেউ ইসলামকে আক্রমণ করছে তারপর মুসলমান হচ্ছেন। এর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলেন, হযরত ওমর (রা)। এক সময় তিনি ছিলেন ইসলামের বড় শত্রু। রাসূল তাঁর হেদায়াতের দোআ করেন। আর তাই, (আলহামদুলিল্লাহ) একেক জায়গায় একেক কারণ।
দাইয়ীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বলি। আমরা মুসলমানেরা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছি না। ইসলাম এমন একটা ধর্ম যেটা প্রচার করতে হয়। সূরা আলে-ইমরানের ১১০ নং আয়াতে আছে-
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ أَمَنَ أَهْلُ الْكِتٰبِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَاكْثَرُهُمُ الْفَسِقُونَ .
অর্থ: তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দান কর, অসৎ কাজের নিষেধ কর এবং আল্লাহকে বিশ্বাস কর। কিতাবিগণ যদি ঈমান আনত তবে তাদের জন্য ভালো হতো। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মুমিন রয়েছে কিন্তু অধিকাংশ সত্যত্যাগী।
আমাদের শ্রেষ্ঠ উম্মত বলেছেন। কারণ, আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত দা'য়ী হওয়া। ফুল টাইম দা'য়ী না হলেও পার্ট টাইম দা'য়ী হওয়া উচিত। আমাদের মাঝে কতজন ফুল টাইম দা'য়ী আছেন? অল্প কয়েকজন। এটা মুসলিম উম্মাহর জন্য লজ্জার ব্যাপার। তবে আল্লাহ প্রতিজ্ঞা করেছেন, সূরা আস সাফ : আয়াত ৯, সূরা আত তাওবা : আয়াত ৩৩, এবং সূরা আল ফাতহ-এর ২৮ নং আয়াতে-
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدين كله .
অর্থ: তিনি রাসূলকে হেদায়েত সহ পাঠিয়েছেন ইসলামকে অন্য সব মতাদর্শের উপর বিজয়ী করতে।
আমরা কাজ করি বা না করি তাতে আল্লাহর কিছু যায় আসে না। আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিচ্ছেন কাজ করে কিছু পুরস্কার পাওয়ার। পৃথিবীটাকে আরো সুন্দর করার। বিশ্বাস করুন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি না। মুসলমানদের সবারই উচিত দ্বীনের প্রচার প্রসারে নিয়োজিত থাকা। ৬০,০০০ খ্রিস্টান মিশনারীরা ফুলটাইম পুরো পৃথিবীতে ধর্ম প্রচার করছে। আর তাদের সাহায্য করছে আরো হাজার হাজার মানুষ। কতজন মুসলমান দা'য়ী আছেন সার্বক্ষণিক? সূরা মুহাম্মদের ৩৮ নং আয়াতে আছে-
وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لاَ يَكونُوا أَمْثَالَكُمْ .
অর্থ: যদি তোমরা বিমুখ হও আল্লাহ অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করবেন এবং তারা তোমাদের মতো হবে না।
আমরা তো ভাবি পশ্চিমারা খারাপ। আল্লাহ হয়তো আমাদের সরিয়ে তাদেরকেই দায়িত্ব দেবেন-যদি আমরা দায়িত্ব পালন না করি। দা'য়ীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় আমরা অনেক পেছনে আছি, এমনকি পাস মার্কেরও নিচে। কিছু লোক অবশ্য (আলহামদুলিল্লাহ) দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এ সংখ্যা অনেক কম। যদি আমরা কুরআনের অনুসরণ করি, তাহলে আরো অনেক মুসলমান দাওয়ায় যোগ দেবেন।
প্রশ্ন ৪ (মহিলা): আসসালামু আলাইকুম। পশ্চিমারা একেবারে নিয়মিতভাবে ইসলামের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। আর কিছু কিছু মুসলমানের ব্যবহার একেবারেই ইসলামিক নয়। তারপরও অমুসলিমরা কেন ইসলাম ও কুরআন সম্পর্কে জানতে চায়? এর কারণ কি কোনো মুসলমানের ব্যবহার? নাকি পশ্চিমা দেশগুলোতে কোনো দাইয়ীর আমন্ত্রণ? অথবা এখানে কি আল্লাহর দেয়া হিদায়ার পাশাপাশি অন্য কারণও আছে?
উত্তর: ডা. জাকির নায়েক: আপনি খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন যে, মিডিয়া পশ্চিমারা সব সময় ইসলামের বিরুদ্ধে। তারপরও কেন পশ্চিমারা (আলহামদুলিল্লাহ) ইসলাম গ্রহণ করছে। হিদায়া হচ্ছে সবচেয়ে বড় কারণ। এখন এটা কি দা'য়িদের কারণে হচ্ছে নাকি মুসলমানদের ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করছে? নাকি কারণটা অন্য কিছু। আমার মনে হয় না যে, আজকের মুসলমানদের দেখে পশ্চিমারা ইসলাম গ্রহণ করবে। ইউসুফ ইসলাম (খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণকারী বিখ্যাত সঙ্গীত তারকা, নাম ক্যাটস্ স্টিফেন।) বলেছিলেন, কোনো মুসলমানের সাথে দেখা হওয়ার আগে কুরআন পড়ে ভালই করেছিলেন। ওদের আগে দেখলে আমি কখনোই ইসলাম গ্রহণ করতাম না। এটা তার নিজের মতামত। হয়তো তিনি যে মুসলমানদের দেখেছিলেন, তারা অতোটা ভাল ছিল না।
কিন্তু পৃথিবীতে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন শুধু মুসলমানদের ব্যবহার দেখে। সেজন্য, আমি আমার লেকচারে বলি, ইসলাম ধর্ম ভাল কথা বলে; কিন্তু কিছু লোক ঠকাচ্ছে, ঘুষ দিচ্ছে, খারাপ কাজ করছে। এই ক্ষেত্রে আমি বলি যে, প্রত্যেক সমাজেই কিছু কুলাঙ্গার থাকে। এখন, মিডিয়া এই কুলাঙ্গারগুলোকে সবার সামনে দেখাচ্ছে আর বলছে যে, মুসলমানরা এ রকম। বুঝাতে চায়, প্রত্যেক মুসলমানই খারাপ। তারা নিজেদের স্বার্থে এগুলো করছে। আমি তাদের বলি, (আলহামদুলিল্লাহ) মুসলমানরা ধর্মীয়ভাবে মদ পান করে না। মদ্যপান এখানে নিষিদ্ধ। মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি দান-খয়রাত করে।
পশ্চিমা মিডিয়া কুলাঙ্গারদের তুলে ধরে বলছে, এরাই মুসলমান। আমি একটা উদাহরণ দেব। ধরেন আপনি মার্সিডিজ বেঞ্জের নতুন মডেলের গাড়ি কিনতে গেছেন। আপনি গাড়িটা কেমন ভালো তা জানার জন্য একজন ড্রাইভারকে চালাতে দিলেন। ড্রাইভার অদক্ষ হওয়ার কারণে গাড়িটা এক্সিডেন্ট করল, কাকে দোষ দিবেন? গাড়িকে নাকি ড্রাইভারকে? নিশ্চয়ই ড্রাইভারকে দিবেন। গাড়িটাকে বিচার করতে হলে দেখতে হবে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, ব্যবস্থাগুলো কতটা ভালো, কেমন তেল লাগে, স্পিড কেমন, যন্ত্রপাতির মান কেমন ইত্যাদি। তাই ইসলামকে বিচার করতে চাইলে, বিচার করুন পবিত্র কুরআন আর সহীহ হাদীস দিয়ে। গাড়িটা কত ভালো, সেটা দেখতে চাইলে একজন ভালো ড্রাইভারকে গাড়িতে বসান। যদি ইসলামকে বিচার করতে চান এর অনুসারীদের দিয়ে তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলমান হযরত মুহাম্মদ ﷺ-কে বিচার করুন। বিচার যদি করতে চান, মূল গ্রন্থ দিয়ে বিচার করুন।
যদিত্ত মিডিয়া ইসলামের বিপক্ষে। আপনারা পাবেন সালমান রুশদীর মতো মানুষ যে 'স্যাটানিক ভার্সেস' বইটা লিখেছে। যারা বইটা পড়েছেন তারা জানেন। যদিও সে ওই বইতে নবী করীম তাঁর স্ত্রীগণকে ছোট করেছে, (নাউযুবিল্লাহ)। তবুও অনেক লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে তার ওই বইয়ের জন্য। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি শয়তানকে তার নিজের কাজে লাগাতে পারেন। অনেক লোকজন এটা নিয়ে গবেষণা শুরু করে দেখল যে, সে ভুল করেছে। তারা যখন মুহাম্মদ (স)-এর ওপর গবেষণা করল, (আলহামদুলিল্লাহ) তাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করল। পশ্চিমারা ইসলামের যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করে, সেটা হল ইসলামে মেয়েদের অধিকার। এ ব্যাপারে আমি লেকচার দিয়েছি, "ইসলামে মেয়েদের অধিকার : আধুনিক নাকি সেকেলে?” ভুল ধারণাগুলো কী কী?
পশ্চিমাদের মধ্যে পুরুষের চাইতে অনেক বেশি মহিলা মুসলমান হচ্ছে। কেন জানেন? কারণ তারা গবেষণা করে। অনেকে গবেষণা করে ইসলামের বিরুদ্ধে বলার জন্য। যেমন- গ্যারি মিলার। তিনি পরবর্তীতে মুসলমান হয়ে হলেন "আহাদ ওমর।” তিনি পবিত্র কুরআনকে ভুল প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছিলেন, পারেন নি, পরে ইসলাম গ্রহণ করেন। এমন অনেকেই ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। আল্লাহ একেক জনকে একেক উপায়ে হেদায়েত দান করেন। কেউ হয়তো মুসলমানদের দেখেই ইসলাম গ্রহণ করছেন। কেউ ইসলামকে আক্রমণ করছে তারপর মুসলমান হচ্ছেন। এর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হলেন, হযরত ওমর (রা)। এক সময় তিনি ছিলেন ইসলামের বড় শত্রু। রাসূল তাঁর হেদায়াতের দোআ করেন। আর তাই, (আলহামদুলিল্লাহ) একেক জায়গায় একেক কারণ।
দাইয়ীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বলি। আমরা মুসলমানেরা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছি না। ইসলাম এমন একটা ধর্ম যেটা প্রচার করতে হয়। সূরা আলে-ইমরানের ১১০ নং আয়াতে আছে-
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ أَمَنَ أَهْلُ الْكِتٰبِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَاكْثَرُهُمُ الْفَسِقُونَ .
অর্থ: তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দান কর, অসৎ কাজের নিষেধ কর এবং আল্লাহকে বিশ্বাস কর। কিতাবিগণ যদি ঈমান আনত তবে তাদের জন্য ভালো হতো। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মুমিন রয়েছে কিন্তু অধিকাংশ সত্যত্যাগী।
আমাদের শ্রেষ্ঠ উম্মত বলেছেন। কারণ, আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত দা'য়ী হওয়া। ফুল টাইম দা'য়ী না হলেও পার্ট টাইম দা'য়ী হওয়া উচিত। আমাদের মাঝে কতজন ফুল টাইম দা'য়ী আছেন? অল্প কয়েকজন। এটা মুসলিম উম্মাহর জন্য লজ্জার ব্যাপার। তবে আল্লাহ প্রতিজ্ঞা করেছেন, সূরা আস সাফ : আয়াত ৯, সূরা আত তাওবা : আয়াত ৩৩, এবং সূরা আল ফাতহ-এর ২৮ নং আয়াতে-
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدين كله .
অর্থ: তিনি রাসূলকে হেদায়েত সহ পাঠিয়েছেন ইসলামকে অন্য সব মতাদর্শের উপর বিজয়ী করতে।
আমরা কাজ করি বা না করি তাতে আল্লাহর কিছু যায় আসে না। আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিচ্ছেন কাজ করে কিছু পুরস্কার পাওয়ার। পৃথিবীটাকে আরো সুন্দর করার। বিশ্বাস করুন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি না। মুসলমানদের সবারই উচিত দ্বীনের প্রচার প্রসারে নিয়োজিত থাকা। ৬০,০০০ খ্রিস্টান মিশনারীরা ফুলটাইম পুরো পৃথিবীতে ধর্ম প্রচার করছে। আর তাদের সাহায্য করছে আরো হাজার হাজার মানুষ। কতজন মুসলমান দা'য়ী আছেন সার্বক্ষণিক? সূরা মুহাম্মদের ৩৮ নং আয়াতে আছে-
وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لاَ يَكونُوا أَمْثَالَكُمْ .
অর্থ: যদি তোমরা বিমুখ হও আল্লাহ অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করবেন এবং তারা তোমাদের মতো হবে না।
আমরা তো ভাবি পশ্চিমারা খারাপ। আল্লাহ হয়তো আমাদের সরিয়ে তাদেরকেই দায়িত্ব দেবেন-যদি আমরা দায়িত্ব পালন না করি। দা'য়ীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় আমরা অনেক পেছনে আছি, এমনকি পাস মার্কেরও নিচে। কিছু লোক অবশ্য (আলহামদুলিল্লাহ) দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এ সংখ্যা অনেক কম। যদি আমরা কুরআনের অনুসরণ করি, তাহলে আরো অনেক মুসলমান দাওয়ায় যোগ দেবেন।