📄 ধর্ষণের শাস্তি কেন মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত
এরপর পবিত্র কুরআনে বলছে, যদি কোনো লোক কোনো মহিলাকে ধর্ষণ করে, এর শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। পশ্চিমারা বলবে, মৃত্যুদণ্ড......? ইসলাম একটা বর্বরসুলভ ধর্ম। কিন্তু আমি অনেক পশ্চিমাকে জিজ্ঞেস করেছি। ধরুন, আল্লাহ না করুন, কেউ একজন আপনার স্ত্রী অথবা মাকে অথবা বোনকে ধর্ষণ করে। আর আপনিই সেখানে বিচারক। ধর্ষককে আপনার সামনে নিয়ে আসা হলে আপনি তাকে কী শাস্তি দেবেন? বিশ্বাস করুন, তারা সবাই বলেছে, তারা সেই ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড দিবে।
কেউ কেউ এটাও বলেছে, তারা তাকে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়ে মারবে। তারা এমন বলে কেন? কেন এই দুমুখো নীতি? অন্য কারো স্ত্রী বা মাকে ধর্ষণ করা হলে বলে, ওহ! মৃত্যুদণ্ড একটা বর্বরসুলভ আইন। আর আপনার স্ত্রীকে ধর্ষণ করলে তাকে আপনারা মৃত্যুদণ্ড দিতে চান। কেন এই দুমুখো নীতি? মাত্র একজন লোক, এখন পর্যন্ত মাত্র একজন পশ্চিমাবাসী আমাকে অন্য রকম উত্তর দিয়েছেন। তিনি আমাকে বলেছেন যে, "প্রথমে যদি কেউ আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে তাহলে আমি তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিব। আর এরপর যদি আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে, তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিব।” ওখানে অনেক স্মার্ট লোক আছে যারা এভাবে উত্তর দেয়।
আমি তখন তাকে বললাম, ভাই তুমি কি আমেরিকার পরিসংখ্যান জানো, যেটা আমরা জানি? যদি কেউ ধর্ষণ করার কারণে দোষী সাব্যস্ত হয়, আমেরিকার সরকার বলে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। কিন্তু পরিসংখ্যান আমাদের বলে যে, ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীরা জেল খাটার পর যখন মুক্তি পায়, তাদের শতকরা ৯৫ জনই আবার ধর্ষণ করে। আমি সেই পশ্চিমাকে বলেছিলাম, যদি আপনি চান আপনার স্ত্রী আবার ধর্ষিতা হোক সেটা আপনার ব্যাপার। তাকে সাত বছর জেল দিয়ে আবার ধর্ষণ করার জন্য মুক্তি দেবেন? যদি আপনি চান আপনার স্ত্রী বারবার ধর্ষিতা হবে, তবে আপনি সেই আইন প্রয়োগ করুন। সে যখন এই পরিসংখ্যান শুনলো, তখন বলল, এই যদি অবস্থা হয়, তাহলে আমি প্রথমবারেই মৃত্যুদণ্ড দিব।
আজকের দিনে, আমেরিকায়, এফ.বি.আই এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯০ সালে এক লক্ষ দুই হাজার পাঁচশো পঞ্চান্নটি ধর্ষণের কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। আরো বলেছে যে, এ রিপোর্ট মোট ধর্ষণের ঘটনার মাত্র ১৬ ভাগ কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। তার মানে ১৯৯০ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৯ শত ৬৮টি। অর্থাৎ ১৯৯০ সালে গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৭ শত ৫৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯২-৯৩ সালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৯ শতেরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ প্রতি ১.৩ মিনিটে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে একটা। আমরা এখানে আছি প্রায় ১ ঘণ্টা। এ সময়ে ৪০টিরও বেশি ধর্ষণ হয়েছে আমেরিকায়।
আবারও বলছি যতগুলো ঘটনা ঘটছে, তার কেস রিপোর্ট করা হয়েছে ১৬%। যতগুলো কেস রিপোর্ট করা হয়েছে তার ১০% অ্যারেস্ট হয়েছে। তার মানে ধর্ষকদের মাত্র ১.৬% এরেস্ট হয়েছে। যারা অ্যারেস্ট হয়েছে তাদের ৫০% মুক্তি পেয়েছে বিচার হওয়ার আগেই বিনা বিচারে। অর্থাৎ মাত্র ০.৮ শতাংশ ধর্ষকের বিচার হয়েছে। এর অর্থ হলো, যদি একজন মানুষ ১২৫টি ধর্ষণ করে, তার অ্যারেস্ট এবং বিচার হওয়ার সম্ভাবনাও মাত্র ১%। ১২৫টি ধর্ষণ করলেন আর মাত্র একবার শাস্তি পেলেন। কেউ ১২৫টি ধর্ষণ করবে আর সরকার তাকে শাস্তি দেবে এর সম্ভাবনা ১%, বেশ সুন্দর খেলা। আর যাদের বিচার হয়, তাদের ৫০% শাস্তি পায় ১ বছরের কম কারাদণ্ড। আইনে সাত বছরের কারাদণ্ড থাকলেও জজ বলে যে, সে প্রথমবার ধর্ষণ করেছে, শাস্তি একটু কমই দিই। একটু নরম হই।
১২৫টি ধর্ষণ করলে সে একবার বিচারের সম্মুখীন হয়। আর জজ বলে একটু নরম হই। প্রথমবার ধর্ষণ করেছে। এটা হলো আমেরিকার এফবিআই এরই পরিসংখ্যান। আমার প্রশ্ন হলো, যদি আমেরিকায় ইসলামিক শরিয়া প্রয়োগ করা হয়, যখনই কোনো পুরুষ কোনো মহিলাকে দেখবে সে দৃষ্টি নিচু করবে, মহিলারা হিজাব পরবে। পুরো শরীর ঢাকা মুখ আর হাতের কব্জি বাদে। তারপরও যদি কেউ ধর্ষণ করে, তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। তাহলে আমেরিকায় ধর্ষণের হার কি বেড়ে যাবে? নাকি একই রকম থাকবে? নাকি কমবে? নিশ্চয়ই কমবে। এটাই কার্যকর আইন। আপনি ইসলামি শরিয়া প্রয়োগ করলে হাতে হাতে ফল পাবেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমি আগেও বলেছি, ইসলাম মানব জাতির সমস্যার সমাধান দেয়।
📄 পশ্চিমাদের ভয়াবহ মাদক সমস্যা
পশ্চিমা দেশগুলোর আরেকটা সমস্যা মাদক। এটা থেকে অন্যান্য সমস্যাও জন্ম নেয়। পবিত্র কুরআনে সূরা মায়েদার ৯০ নং আয়াতে সমাধান দিয়ে বলছে-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَنِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ .
অর্থ: হে মু'মিনগণ! মদপান ও জুয়া ঘৃণ্য বস্তু। মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ধারক তীর এগুলো শয়তানের কাজ, এগুলো বর্জন কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।
আল-কুরআন বলছে, মদপান, জুয়া, ভাগ্য গণনা এগুলো শয়তানের কাজ। এ কাজগুলো বর্জন কর যেন তোমরা সফল হও। মস্তিষ্কের একটা অংশ আছে যা আপনাকে অনুচিত কাজ করতে বাধা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আমার যদি এখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয়, মন বলবে এখানে করো না, টয়লেটে যাও। কারো সাথে অশ্রদ্ধার সাথে কথা বললে, মন বলবে, শ্রদ্ধার সাথে কথা বল। যখন আপনি মদপান করেন, মস্তিষ্কের এই অংশটা ঘুমিয়ে পড়ে অ্যালকোহলের জন্য। আর আপনি অনেক মদ্যপ পাবেন, যারা জামা-কাপড়েই প্রস্রাব করে। কথা বলে অশ্লীল ভাষায়। বাবা-মাকে অশ্রদ্ধা করে। সামনে কে আছে কেয়ার করে না। মুখে যা আসে তাই বলে।
কারণ, মস্তিষ্কের সজাগ অংশটা ঘুমিয়ে পড়ে। আর পরিসংখ্যান বলে, আমেরিকায় যে ধর্ষণ সংঘটিত হয় তার বেশির ভাগ, বেশিরভাগ মানে শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি ধর্ষণ সংঘটিত হয় একজন যখন মাতাল থাকে সেই অবস্থায়। হয় ধর্ষক মাতাল থাকে নতুবা দুর্বল জন, যে ধর্ষিতা হয় সে মাতাল থাকে। আর এর প্রায় সব ঘটনাই হল অজাচার। অজাচার মানে কি জানেন? অজাচার মানে নিকটাত্মীয়ের সাথে যৌনকর্ম। বাবা-মেয়ে, মা-ছেলে, ভাই-বোন। আর এটা তখনই হয় যখন মানুষ মাতাল থাকে। আর এমনকি এইডসের অন্যতম একটি কারণ হলো অ্যালকোহলিজম। এটা খুবই বিপদজনক একটা রোগ। কেউ কেউ হয়তো বলতে পারে আমরা তো সোস্যাল ড্রিংকার। মানে, এই মাঝে মাঝে একটু খাই। কিছু লোক বলে, ঠাণ্ডা দেশে যেহেতু অনেক ঠাণ্ডা, তাই এক পেগ খাই। আমি তাদের বলি তাহলে ফায়ার প্লেসের পাশে গিয়ে বসুন। আর খেতে যদি হয়, তাহলে মধু খান। এতে আপনি অ্যালকোহলের চেয়ে বেশি গরম হবেন। কোনো ধাক্কা পাবেন না যেটা বিয়ারে পাবেন।
কিছু পশ্চিমা লোক আমাকে বলে, দেখেন জাকির ভাই, ইসলাম গ্রহণে আপত্তি নেই; কিন্তু আমি অ্যালকোহল ছাড়তে পারবো না। কিছু কিছু লোক আছে যারা এমন অজুহাত দেবে ইসলাম গ্রহণ না করার জন্য। আমি বলেছিলাম, দেখেন, ধরুন, আমি আপনাকে অনুমতি দিলাম অ্যালকোহল গ্রহণ করার। আপনি মুসলিম হয়েও অ্যালকোহল গ্রহণ করতে পারবেন। তাহলে কি আপনি ইসলাম গ্রহণ করবেন? সে চুপ হয়ে গেল। শুধু এই একটি কারণেই ইসলাম গ্রহণ করছে না তা না, সমস্যা নেই ইসলাম গ্রহণে যদি মদপানই একমাত্র বাধা হয়। আমি আপনাকে সার্টিফিকেট দেবো কোনো সমস্যা নেই। ইসলামের অন্য কর্তব্যগুলো পালন করুন। আল্লাহ মানুষের ইসলাম গ্রহণ না করার অজুহাতগুলো দেখবেন না। তবে ইসলামে এ সমস্যার সমাধান আছে।
কেউ কেউ বলে, আমার বাবা একজন সোশ্যাল ড্রিংকার। অনেকদিন ধরেই ড্রিংক করছে। আমি তাদেরকে বলি, প্রত্যেক মদ্যপায়ী যদি তার ইন্টারভিউ নেন, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, কোনো মানুষই অ্যালকোহলিক মদ্যপ হওয়ার জন্য মদ পান শুরু করে না। শুরু করে একজন সোশ্যাল ড্রিংকার হিসেবে। আর অনেকেই শেষে মদ্যপ হয়ে যায়। সে হয়তো বলবে তার ইচ্ছেশক্তির খুব জোর। সপ্তাহে মাত্র এক পেগ বা দুই পেগ খান আর কখনো মাতাল হন না। আমি বলব যে, কোনো মানুষ, যদি সে সোশ্যাল ড্রিংকার হয়। অন্ততপক্ষে জীবনে একবার যদি কোনো অন্যায় করে যেমন ধর্ষণ অথবা অজাচার। সে ভদ্রলোক হয়ে থাকলে নিজেকে কি কোনো দিন ক্ষমা করতে পারবে? ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে তা আর পূরণীয় নয়। অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তার নিজের আর যে আক্রান্ত সে কখনো ভুলতে পারবে না। ধরুন, মাতাল অবস্থায় বাবা মেয়ের সাথে অজাচার করলো, সে কি কখনো নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে?
তাই আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ইবনে মাজাহ, খণ্ড ৩, হাদিস ৩৩৯২ নং এ বলেছেন-
"যেটা বেশি খেলে তুমি মাতাল হও, সেটা কম খাওয়াও নিষিদ্ধ, এখানে কোনো অজুহাত চলবে না।” নবী করীম ইবনে মাজাহ-এর খণ্ড তিন অধ্যায়-৩০, হাদীস-৩৩৭১-এ আরো বলেছেন, "মাদকদ্রব্য হচ্ছে অন্যান্য অন্যায়ের মূল।" এটা সব অন্যায়ের মূল। মাদক দ্রব্যের কারণেই আজ আমাদের সমাজে এতো অন্যায়। টিজ করা, ধর্ষণ, অসুখ অনেক কিছু। হাদীস নং ৩৩৮০-এ বলেছেন, "দশ প্রকার মানুষ হলো অভিশপ্ত। যেমন: ১. যারা অ্যালকোহল নিয়ে থাকে, ২. যারা অ্যালকোহল তৈরি করে, ৩. যারা অন্যের জন্য তৈরি করে, ৪. যারা এটা পান করে, ৫. যারা এটা বহন করে, ৬. যারা অন্যের জন্য বহন করে, ৭. যারা পরিবেশন করে, ৮. যারা এটা বিক্রি করে, ৯. যারা এই মদ বিক্রি থেকে লাভ করে এবং ১০. যারা অন্যের জন্য কেনে। এসব ধরনের মানুষের ওপর আল্লাহর অভিশাপ।"
আর অনেক অসুখ আছে যাতে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে যদি মাদকদ্রব্য নেয়-যেটা সম্পর্কে পশ্চিমা বিশ্বও জানে। এর ওপর আলোচনা করলে, শুধু অসুখের নামের লিস্ট করলেই দিন পেরিয়ে যাবে। আমি কয়েকটার নাম উল্লেখ করছি। খুব বিপজ্জনক একটা অসুখ হলো লিভার সিরোসিস। গলায় টিউমার, মাথায় ও ঘাড়ে টিউমার, পাকস্থলিতে, লিভারে টিউমার। ইসোফ্যাগাইটিস, গ্যাস্ট্রাইটিস, প্যানক্রিয়াটাইটিস, হেপাটাইটিস, কার্ডিও মায়াপ্যাথি, এনজাইনা, হাইপারটেনশন, আরথ্রো স্ক্লেরোসিস। এ সব অসুখই অ্যালকোহলের সাথে যুক্ত। মদের সাথে সম্পর্ক আছে স্ট্রোক, ফিট হওয়া, প্যারালাইসিস অ্যাপোপ্লেক্সির হতে পারে ওয়েরনিক-কোরসাকফ সিনড্রোম যার ফলে রোগী বর্তমানের কথা ভুলে যায় আর অতীতের কথা মনে পড়ে। হতে পারে থায়ামিন ডেফিশিয়েন্সি। প্যালাগ্রা, বেরিবেরি, ডেলিরিয়াম ট্রিমেনস, অপারেশনের পর ইনফেকশন। যখন সে মদ খাওয়া ছেড়ে দিতে চায় আর এরকম অবস্থায় খুব আধুনিক হাসপাতালেও সে মারা যেতে পারে।
বিভিন্ন এন্ডোক্রাইনাল সমস্যা যেমন মিক্সোডিমা, হাইপোথাইরয়েডিজম, কুশিং সিনড্রোম ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। হতে পারে ফলিক এসিড ডেফিশিয়েন্সি-যার সাথেই আছে ম্যাক্রোসাইটিক অ্যানিমিয়া। হতে পারে প্লেটলেট ডিসঅর্ডার, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া। সাধারণ ওষুধ যেমন ফ্লাজিল বা মেট্রোনিডাজল কাজ করবে না যদি সে নিয়মিত অ্যালকোহল পান করে। অ্যালকোহল পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ হতে পারে। এরকম সময়ে কফ ফুসফুসে চলে যেতে পারে। হতে পারে লাঙ অ্যাবসিসি, এমফিসেমা। মানুষ এসব রোগে মারাও যায়। অ্যালকোহল মহিলাদের আরো বেশি ক্ষতি করে। গর্ভবতী অবস্থায় অ্যালকোহল পান করলে হতে পারে অ্যালকোহল ফিটাল সিনড্রোম। এতে সন্তানেরও ক্ষতি হতে পারে। চর্মরোগ হতে পারে। অনেক অসুখ হতে পারে। আপনি এই অসুখগুলোর লিস্ট করবেন কয়েকদিন, আলোচনা করবেন কয়েক মাস। তবে, পশ্চিমা ডাক্তারগণ বলছে, অ্যালকোহলিজম একটা অসুখ, অ্যাডিকশন না।
আপনাদের যেমন টাইফয়েড হতে পারে, টিউবারকুলোসিস হতে পারে, আর আমরা সাধারণত অসুস্থ মানুষের প্রতি সহানুভূতি দেখাই। বেচারার টাইফয়েড হয়েছে, অসুখে পড়ে কষ্ট পাচ্ছে। ডাক্তাররাই জানাচ্ছে অ্যালকোহলিজম একটা অসুখ। আমি তাদের বলি, অ্যালকোহলিজম অসুখ হয়ে থাকলে এটাই একমাত্র অসুখ যা বোতলে বিক্রি হয়। এটাই একমাত্র অসুখ যা দিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার আয় করে পশ্চিমা সরকারগুলোর সাহায্যে। এটাই একমাত্র অসুখ যার বিজ্ঞাপন দেখানো হয় টেলিভিশনে, রেডিওতে। নিউজপেপারে আর ম্যাগাজিনে। এটাই একমাত্র অসুখ যার কারণে হাইওয়েতে এক্সিডেন্ট হয়। এটাই একমাত্র অসুখ যা পরিবার ধ্বংস করে দেয়। এটাই একমাত্র অসুখ যা ভাইরাস বা রোগ জীবাণুতে ছড়ায় না। এটা কোনো অসুখ না।
আল-কুরআনের সূরা মায়িদার ৯০ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَنِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ .
অর্থ : হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা, ভাগ্য নির্ধারক তীর (এসব অসুখ নয়) ঘৃণ্য এবং শয়তানের কাজ। সুতরাং এগুলো থেকে বিরত থাক। তবেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে।
আর ইসলামে সমাধানও আছে। আর সেটা হলো সালাতে। সালাত শুধু প্রার্থনাই নয়, প্রার্থনা মানে মুক্তির জন্য সাহায্যের আবেদন করা। সালাতে সাহায্য চাওয়ার পাশাপশি আমরা আল্লাহর নির্দেশনা চাই এবং তার প্রশংসা করি। এজন্য সালাতকে আমি বলি এক ধরনের প্রোগ্রামিং, এক ধরনের কন্ডিশনিং। কেউ যদি বলে, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? উত্তর প্রোগ্রামিং-এ যাচ্ছি। উত্তরটা ভালো শোনায় না সেজন্যে লোকে প্রার্থনাকে সালাত করে সালাতের পুরো অর্থ বোঝা যায় না। সালাতে আমাদের মনে করিয়ে দেয়া হয়। যখন ইমাম সূরা ফাতিহার পর বিভিন্ন আয়াত পাঠ করেন, তিনি সূরা বাকারার ১৮৮ নং আয়াত পড়তে পারেন যে, "তোমার সম্পদ বিচারকগণের নিকট পেশ করো না" অর্থাৎ ঘুষ দিয়ো না। সূরা মায়িদার ৯০ নং আয়াত পড়তে পারেন, মদ্যপান ও জুয়া শয়তানের কাজ। আমরা বার বার প্রোগ্রামড হচ্ছি। কারণ, পৃথিবী এমনভাবে প্রলুব্ধ করে তাতে করে হতে পারে আমরা বিপথে চলে গেলাম। সে জন্য আল্লাহ আমাদের সমাধান দিয়েছেন কীভাবে আমরা সুপথে থাকব।
📄 মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার
আজকের দিনে পশ্চিমা বিশ্ব সবচেয়ে বেশি ভয় পায় ইসলামকে। আপনি জানেন, কেন? কারণ, যে আনন্দ বিলাসের শীর্ষে তারা আছে, সব ক্ষতিকর জিনিসই তাদের সমাজে আছে। তারা ভয় পাচ্ছে যদি ইসলাম ছড়িয়ে যায়, এসব কিছুই বন্ধ হয়ে যাবে। অ্যালকোহল, মদ, চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। রেডিও, টেলিভিশন, ম্যাগাজিন, নিউজ পেপার সর্বত্র ইসলামের বিরুদ্ধে বলছে। ইসলামের নিন্দা করছে। কোথাও বোমা বিস্ফোরণ ঘটলে সেট অবশ্যই কোনো মুসলমান করেছে। মুসলমানরা মৌলবাদী আর সন্ত্রাসী। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বোম্বিং-এর সময়ও। নিউজপেপারের হেডিং ছিল- মধ্যপ্রাচ্যের ষড়যন্ত্র। কিছুদিন পর তারা জানতে পারল কাজটা একজন আমেরিকার সৈন্যের। কিন্তু এটা খবরের কাগজের মাঝখানে এসেছিল, হেডলাইন হয় নি।
মুসলমানরা মৌলবাদী এটা হেডলাইনে আসবে আর আসল কারণ ভেতরে। এরকম খবরও শুনে থাকবেন যে, পঞ্চাশ বছরের একজন মুসলমান ষোলো বছরের এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। ছোট করে লেখা যে অনুমতি নিয়ে। খবরের কাগজের হেডলাইন হবে এটা। কিন্তু যখন পঞ্চাশ বছরের অমুসলিম লোক ছয় বছরের একটা মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ খবরটা ছোট করে আসবে। কাগজের কোনো এক কোণায়। অনুমতি নিয়ে যদি বিয়ে করেন, মেয়ে, বাবা-মায়ের অনুমতি, তারপরও সেটা অন্যায়। তার মানে হলো পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা ইসলামের নিন্দা করে। মুসলমানরা মৌলবাদী, মুসলমানরা সন্ত্রাসী। ইসলাম মেয়েদেরকে ছোট করে দেখে, এসব। এর উত্তর আমি দিয়েছি আমার 'ইসলামে মেয়েদের অধিকার' ক্যাসেটে।
📄 পশ্চিমারা ফিরে আসছে ইসলামে
ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণার উপর যে লেকচার দিয়েছিলাম সেখানেও পাবেন। পশ্চিমা নেতারা সব সময় ইসলামের বিরুদ্ধে থাকলেও আলহামদুলিল্লাহ অনেক পশ্চিমাই ইসলাম গ্রহণ করছে। এই প্রশ্নটা ভুল হবে যদি বলেন, কেন পশ্চিমারা ইসলামের কাছে আসছে? পশ্চিমারা ইসলামের কাছে আসছে না তারা ইসলামের কাছে ফিরে আসছে। কারণ আমাদের মহানবী বলেছেন- كل مولود يولد على الفطرة "প্রত্যেক মানুষ দ্বীন-উল-ফিতর নিয়ে জন্মায়"। অর্থাৎ আল্লাহর ধর্ম, মুসলমান হয়ে জন্ম নেয়। পরবর্তীতে তার বাবা-মা আর আশেপাশের অন্যান্য লোকের প্রভাবে সে শুরু করে দেয় মূর্তিপূজা বা আগুন পূজা। তাই লোকে বলে 'কনভার্ট' আর আমি বলব 'রিভার্ট'। 'কনভার্ট' মানে এক পথ থেকে অন্য পথে যাওয়া। 'রিভার্ট' মানে আর সঠিক পথে ফিরে আসা।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,- "আমি তোমার ওপর অবতীর্ণ করেছি সত্যসহ কিতাব, মানবজাতির নির্দেশনার জন্য। শুধু মুসলমান, আরব বা পশ্চিমাদের নির্দেশনার জন্য না সমগ্র মানব জাতির জন্য।" মহানবী মুহাম্মদ শুধু আরবদের বা পশ্চিমাদের নবী নয়, তিনি সমগ্র বিশ্বজগতের নবী।
সূরা আল আম্বিয়ার ১০৭ নং আয়াতে আছে- وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَلَمِينَ .
অর্থ: আমি তোমাকে বিশ্বজগতের প্রতি কেবল রহমত রূপেই প্রেরণ করেছি। সূরা সাবায় ২৮ নং আয়াতে আছে- وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّাসِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ .
অর্থ: আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি সমগ্র মানবজাতির জন্য, তাদের প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।
তাই সঠিক আর নির্ভুল শব্দটা হবে রিভার্ট। সে জন্য আমি বলব পশ্চিমারা আসছে না, পশ্চিমারা ফিরে আসছে ইসলামের দিকে। ইসলাম শুধু পশ্চিমাদের জন্যও নয়। ইসলাম সমগ্র মানবজাতির জন্য। সূরা ইব্রাহীমের ১ নং আয়াতে আছে- الر كتب أَنْزَلْتُهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّোরِ .
অর্থ: আলিফ-লাম-রা। এ কিতাব তোমার ওপর অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি মানব জাতিকে বের করে আনতে পারো অন্ধকার থেকে আলোতে। পবিত্র কুরআনে সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে আছে- شَهَرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ .
অর্থ: রমজান মাসে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী রূপে। সমগ্র মানবজাতির পথের দিশারী রূপে।