📘 কেন ইসলাম গ্রহণ করছে পশ্চিমারা 📄 পশ্চিমাদের অবাধ যৌনার : সমাধান ইসলাম

📄 পশ্চিমাদের অবাধ যৌনার : সমাধান ইসলাম


পশ্চিমা বিশ্বের আরেকটা সমস্যা হলো ব্যভিচার, অবাধ যৌনাচার। পবিত্র কুরআনের বনী ইসরাঈলের ৩২ নং আয়াতে আছে-

وَلَا تَقْرَبُو الزَّنِّي إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلاً .

অর্থ: ব্যভিচারের কাছেও যেও না, কারণ এটা অশ্লীল এবং মন্দ আচরণ।

ব্যভিচার ক্ষতিকর ও অন্যান্য ক্ষতিকর জিনিসেরও পথ খুলে দেয়। তাই বলে ইসলামে সন্যাসব্রত বা চিরকুমার থাকার নিয়ম নেই। ইসলামে বিয়ে করা বাধ্যতামূলক। হযরত মুহাম্মদ (স) বলেছেন, (সহীহ বুখারী ৭ নং খণ্ড, কিতাবুল্লাহ, ৩ নং হাদিস-এ)-

অর্থ: "হে যুবক ও যুবতীরা! যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য আছে, তাদের বিয়ে করা উচিত। যে বিয়ে করে, সে দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে।"

দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করা বলতে তিনি বুঝিয়েছেন। বিয়ে আপনাকে অবাধ যৌনাচার, সমকামিতা, ব্যভিচার ইত্যাদি পাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে। কেবল বিয়ে করলেই স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব থাকবে। আর ইসলামে এই দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূরা নিসার ২১ নং আয়াতে আছে-

وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا

অর্থ: প্রকাশ্য পাপাচার হওয়া সত্ত্বেও তোমরা এটা কি করে গ্রহণ করবে? অথচ তোমরা একে অন্যের সাথে অবাধ মেলামেশা করছো? সূরা রূমের ২১ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَمِنْ أَيْتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِليتها وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَتِ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ .

অর্থ: তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে এটাও (একটি) যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের নিকট পরম প্রশান্তি লাভ করতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহৃদয়তার সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এতে বিপুল নিদর্শন রয়েছে সে লোকদের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে।

📘 কেন ইসলাম গ্রহণ করছে পশ্চিমারা 📄 মহিলার সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে বেশি

📄 মহিলার সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে বেশি


আজকের দিনে পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তাদের অতিরিক্ত মহিলা জনসংখ্যা। প্রাচ্যে এমনটি হয় নি। তার কারণ হলো মেয়ে শিশুর ভ্রুণ চিহ্নিত করে হত্যা করা। এ খারাপ চর্চাটি বন্ধ হলে প্রাচ্যেও এই সমস্যা দেখা দেবে। পবিত্র কুরআন এ সমস্যারও সমাধান দিয়েছে। সূরা নিসার ৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلُثَ وَرُبَعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةٌ .

অর্থ: তোমাদের পছন্দ মতো মেয়েকে বিয়ে কর দুজন, তিনজন বা চারজনকে। তবে যদি ন্যায়বিচার করতে না পার তবে মাত্র একজনকে বিয়ে কর।

সূরার ১২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَلَنْ تَসْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَسِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ .

অর্থ: এটা অসম্ভব যে, তোমরা সব স্ত্রীকেই সমানভাবে দেখবে। তাদের কারো উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না।

এখানে আল-কুরআন বুঝাতে চাচ্ছে যে, এটা অসম্ভব সব স্ত্রীকে সমানভাবে ভালোবাসা। এমনকি একজন মা তার সন্তানদের ভালোবাসে। কিন্তু কোনো মা'ই বলবে না যে, আমি আমার সন্তানদের একই রকম ভালোবাসি। কম-বেশি হবেই। তবে সব মিলিয়ে কোনো অবিচার হবে না। তাই স্ত্রীদের অন্য সব ব্যাপারে যেমন টাকা-পয়সা, সময় ইত্যাদির ব্যাপারে ন্যায় বিচার করতে হবে। এক স্ত্রীকে বাড়ি কিনে দিলে অন্য স্ত্রীও যেন বাড়ি পায়। অনেকে মনে করে একাধিক বিয়ে করা ইসলামে বাধ্যতামূলক। এটি সম্পূর্ণ ভুল। ইসলামে পাঁচ প্রকার কাজের কথা বলা হয়েছে। ১. 'ফরজ' যার অর্থ হলো বাধ্যতামূলক, ২. 'মুস্তাহাব' বা উৎসাহ দেয়া হয়েছে, ৩. 'মুবাহ' অর্থাৎ ঐচ্ছিক, ৪. 'মাকরূহ' বা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে আর ৫. 'হারাম' অর্থাৎ নিষিদ্ধ।

একাধিক বিয়ে করার ব্যাপারটা হলো ঐচ্ছিক। তাহলে আসুন আমরা দেখি যে, কেন আল কুরআনে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়া হলো।

পুরুষ ও নারীকে সমান অনুপাতে বানানো হয়েছে। তবে এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে যদি কোনো চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করেন, তিনি বলবেন যে, মেয়ে শিশুরা ছেলে শিশুদের চেয়ে ভালোভাবে রোগ-জীবাণু প্রতিরোধ করতে পারে। তাই মেয়ে শিশুর চেয়ে ছেলে শিশু বেশি মারা যায়। দুর্ঘটনা, ধূমপান, যুদ্ধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি মারা যায়। আর তাই এখন পৃথিবীতে পুরুষদের চেয়ে নারীদের সংখ্যা বেশি। কেবল কয়েকটি দেশে, যেমন ভারতে পুরুষদের সংখ্যা নারীদের চেয়ে বেশি। এর কারণ অভিশপ্ত যৌতুক প্রথার কারণে জন্মের পূর্বে আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে মেয়ে শিশুর ভ্রূণ চিহ্নিত করে প্রত্যেক দিন তিন হাজারেরও বেশি মহিলার গর্ভপাত ঘটানো হয় কেবল ভারতেই। যখন তারা বুঝতে পারে যে সন্তানটা মেয়ে। অর্থাৎ বছরে দশ লক্ষের বেশি মহিলার গর্ভপাত ঘটানো হয় শুধু ভারতে। এ মেয়ে হত্যা বন্ধ হলে ভারতসহ আরো কয়েকটি দেশে নারীদের সংখ্যা পুরুষদের ছাড়িয়ে যাবে।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু আমেরিকাতেই নারীরা সংখ্যায় ছেলেদের চেয়ে ৭৮ লক্ষ জন বেশি। শুধু নিউ ইয়র্কেই ১০ লক্ষ জন নারী বেশি পুরুষদের চেয়ে। নিউ ইয়র্কের অধিবাসীদের এক-তৃতীয়াংশ হল 'গে', 'গে' মানে হলো সমকামী। তার মানে পুরুষরা সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয় পুরুষকে। আমেরিকায় আড়াই কোটির বেশি পুরুষ হলো 'গে'। এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক বিরাট সমস্যা। ইংল্যান্ডে মেয়েদের সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে ৪০ লক্ষ জন বেশি। জার্মানিতে ৬০ লক্ষ জন এবং রাশিয়াতে ৯০ লক্ষ জন নারী জনসংখ্যা বেশি পুরুষদের চেয়ে। আল্লাহ তাআলাই জানেন পুরো পৃথিবীতে নারীদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে কতজন বেশি।

ধরুন, আমি পশ্চিমাদের দর্শন মেনে নিলাম যে, একজন লোক কেবল একটাই বিয়ে করতে পারবে। ধরেন, আমেরিকায় প্রত্যেক পুরুষ একটি করে মেয়েকে বিয়ে করল। তারপরও তিন কোটি নারী থাকবে যারা জীবন সঙ্গী পাবে না। বাকিরা তাহলে কী করবে? তাদের জন্য পথ খোলা থাকে একটা, তারা হয় এমন পুরুষদের বিয়ে করবে, যাদের স্ত্রী আছে। অথবা তারা হতে পারে জনগণের সম্পত্তি (গনিকা বা বেশ্যা)।

আপনারা হয়তো বলবেন জনগণের সম্পত্তি? ডা. জাকির এতো খারাপ শব্দ ব্যবহার করেছে? আমি বলব সবচেয়ে ভালো যে শব্দটি ব্যবহার করা যায়, তাহলো জনগণের সম্পত্তি। আমি একজন ইসলাম প্রচারকারী হওয়ার কারণে অন্য শব্দ ব্যবহার করতে পারছি না। জনগণের সম্পত্তি হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আর যে কোনো ভদ্র মহিলা বলবেন, তিনি প্রথমটিই বেছে নেবেন। সবার সম্পত্তি হওয়ার চেয়ে এমন একজনকে বিয়ে করা ভালো যার স্ত্রী আছে। আপনারা জানেন, পশ্চিমা বিশ্বে মানুষ রক্ষিতা রাখে। এটি খুবই সাধারণ। আমেরিকায় গড়ে একজন মানুষের আটজন যৌনসঙ্গী থাকে। কাউকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত সে তার জীবনসঙ্গী। কারো হয়তো কম। দুজন বা একজন। তবে গড়ে আটজন জীবনসঙ্গী থাকে একজনকে বিয়ে করে সংসার পাতার আগ পর্যন্ত। রক্ষিতা রাখলে কোনো দায়িত্ব থাকে না। আপনি একজন, দশজন, বিশজন যা খুশি রাখেন। সমস্যা নেই। কিন্তু যদি মহিলা রক্ষিতা হয়, তার কোনো সম্মান থাকে না। সে ছোট হয়ে যায়। যদি রক্ষিতাকে সেই মহিলার সাথে তুলনা করেন যে, মহিলা কোনো লোকের দ্বিতীয় স্ত্রী, তবে দেখবেন সে সম্মান পায়, সবাই শ্রদ্ধা করে। তার আইনসঙ্গত অধিকারও থাকে। আমরা ইসলামে মহিলাদের উপযুক্ত সম্মান দিই। রক্ষিতার কোন সামাজিক সম্মান নেই।

📘 কেন ইসলাম গ্রহণ করছে পশ্চিমারা 📄 সমস্যার বাস্তবসম্মত ও কার্যকরী সমাধান

📄 সমস্যার বাস্তবসম্মত ও কার্যকরী সমাধান


ইসলামে মানব জাতির সব সমস্যার সমাধান আছে। আপনি যদি ভালোভাবে দেখেন, বেশির ভাগ ধর্মই ভালো কথা বলে। ডাকাতি করো না, ঠকিয়েও না ইত্যাদি। ইসলামও একই কথা বলে। তবে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের মধ্যে পার্থক্য হল- ইসলাম ঐ কথাগুলো বলার পাশাপাশি আপনাকে পথ দেখাবে কীভাবে সেগুলো বর্জন করা যায়।

উদাহরণস্বরূপ, সব প্রধান ধর্ম বলে যে, কোনো মানুষের ডাকাতি করা উচিত না। আমেরিকার সংবিধানে আছে, কোনো নাগরিকের ডাকাতি করা উচিত নয়। তার প্রতিকারের জন্য বিধান থাকলেও তা খুব সামান্য।

ইসলামও বলে, আপনি ডাকাতি করবেন না। তবে ইসলামের কাছে কিছু বাস্তব সমাধান আছে। ইসলাম দেখায় কীভাবে সেই অবস্থা অর্জন করবেন, যেখানে মানুষ ডাকাতি করবে না। ইসলাম ধর্মে যাকাতের ব্যবস্থা আছে। সেই ধনী লোকদের জন্য যাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আছে। ৮৫ গ্রাম স্বর্ণের আড়াই শতাংশ দান করবে প্রতি চান্দ্র বছরে। যদি প্রত্যেকে ধনী লোক যাকাত দেয়, পৃথিবীতে দারিদ্র বলে কিছুই থাকবে না। পবিত্র কুরআনে সূরা মায়েদার ৩৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا

অর্থ: যে কোনো পুরুষ চোর এবং নারী চোর, তাদের হাত কেটে দাও। এটা তাদের কৃতকর্মের ফল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আদর্শ দণ্ড। পশ্চিমারা বলবে, হাত কেটে ফেলা এটা বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা। তারা মনে করে, সৌদি আরবে, যেখানে এই আইন প্রচলিত আছে, সেখানে প্রতি দুজনের মধ্যে একজনের হাত কাটা। আমি সৌদি আরবে বেশ কয়েকবার গিয়েছি। আমি এমন একজন মানুষকেও দেখি নি যার হাত কাটা।

অবশ্য খুব সামান্য কিছু লোক থাকবে, যারা এ শাস্তি পেয়েছে। তবে পশ্চিমারা যে রকম মনে করে আর প্রচার করে, ব্যাপারটা তেমন মোটেই না। তারা বলে, যদি কেউ ডাকাতি করে, আর যদি তার হাত কেটে ফেলা হয়, তার পরিবারের কী হবে? তার সন্তানের কী হবে? এটা খুব নিষ্ঠুর কাজ। আমি বলব ইসলামই সে ব্যবস্থা করবে। যদি কারো সমস্যা থাকে। ইসলামি সরকার তার পরিবারের দেখাশোনা করবে। প্রশ্ন হচ্ছে, কতজন মানুষের হাত কাটা হবে? আইনের কারণে কেউ ডাকাতির সাহসই পাবে না। তাহলে শাস্তিটা দেয়া হবে কাকে? অন্যায়ই যেখানে থাকবে না, সেখানে শাস্তি প্রয়োগ করার কথাই কেন আসবে?

আমেরিকা বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর একটি। আপনি কি জানেন আমেরিকায় অপরাধের হারও বেশি? আমার প্রশ্ন হল, আমেরিকায় যদি ইসলামি শরিয়ার প্রচলন করা হয় যেখানে সব ধনী লোক যাকাত দেবে। এরপরও কেউ চুরি করলে তার হাত কেটে ফেলা হবে শাস্তি হিসেবে। এতে করে কি আমেরিকায় সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতির হার বেড়ে যাবে? একই রকম থাকবে? নাকি কমে যাবে? আর এটাই কার্যকর আইন। ইসলামি শরিয়া প্রয়োগ করলে তার ফলও পাওয়া যাবে। সে জন্যই বলেছিলাম, ইসলাম ভালো কথা বলার পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়নের পথও দেখায়।

আর এ কারণেই পশ্চিমাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করছে। আপনাকে একটি উদাহরণ দিই, বেশির ভাগ দর্শন, ধর্ম এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সংবিধানও বলে যে, আপনি মহিলাদের উত্যক্ত করবেন না, তাদের ধর্ষণ করবেন না। ইসলামও একই কথা বলে। তবে ইসলাম আপনাকে পথ দেখায় কীভাবে এ অবস্থা অর্জন করবেন। যেখানে লোকজন মেয়েদের উত্যক্ত করবে না অথবা মেয়েদের ধর্ষণ করবে না।

📘 কেন ইসলাম গ্রহণ করছে পশ্চিমারা 📄 পর্দা পুরুষ-মহিলা উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য

📄 পর্দা পুরুষ-মহিলা উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য


ইসলামে পর্দা হিসেবে হিজাবের বিধান রয়েছে। সাধারণত ইসলামি বক্তারা সব সময় মহিলাদের হিজাবের কথা বলে। কিন্তু আল্লাহ পবিত্র কুরআনে প্রথমে বলেছেন পুরুষের হিজাবের কথা, তারপর নারীদের হিজাব। সূরা নূরের ৩০ নং আয়াতে আছে-

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ .

অর্থ: মুমিনদেরকে বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে হেফাযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে।

যখনই কোনো পুরুষ কোনো মহিলার দিকে তাকাবে, যদি তার মনে কোনো খারাপ চিন্তা আসে, আল-কুরআন বলছে যে, তার দৃষ্টি নিচু করবে। আমার একজন বন্ধু একটা মেয়ের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই, তুমি কী করছ? ইসলাম এটার অনুমোদন দেয় না। সে আমাকে বলল, রাসূল বলেছেন, “প্রথম দৃষ্টিটার অনুমতি আছে, দ্বিতীয় দৃষ্টি নিষিদ্ধ।” আমি আমার প্রথম দৃষ্টির অর্ধেকও পূরণ করি নি। আমাদের নবী করীম কি বুঝিয়েছেন যে, প্রথম দৃষ্টির অনুমতি আছে, দ্বিতীয় দৃষ্টি নিষিদ্ধ? এর মানে এই না যে, আপনি একজন মহিলার দিকে তাকাবেন আর দশ মিনিট ধরে তাকিয়ে থাকবেন। চোখের পলক না ফেলে। আমাদের নবী করীম যা বলেছেন তা হলো, যদি কোনো মহিলার দিকে হঠাৎ করে নজর পড়ে গেল, তৎক্ষণাত দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন এবং তার দিকে আর দ্বিতীয়বার স্বেচ্ছায় তাকাবেন না।

এর পরের আয়াত অর্থাৎ সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতে আছে-

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّبِعِينَ غَيْرِ أُولِي الإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ التِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَتِ النِّسَاءِ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُখْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ .

অর্থ: হে নবী, মুমিন স্ত্রীলোকদের বলেন, তারা যেন নিজেদের চোখকে নিম্নগামী রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাযত করে ও নিজেদের সাজ-সজ্জা না দেখায়। কেবল সেসব জিনিস ছাড়া যা আপনা হতে প্রকাশিত হয়ে পড়ে এবং নিজেদের বক্ষদেশের ওপর ওড়নার আঁচল ফেলে রাখে। আর নিজেদের সাজ-সজ্জা প্রকাশ করবে না; কিন্তু কেবল এ লোকদের সামনে, তাদের স্বামী, পিতা, স্বামীদের পিতা, নিজেদের পুত্র, স্বামীদের পুত্র, নিজেদের ভাই, ভাইদের পুত্র, বোনদের পুত্র, নিজেদের মেলামেশার স্ত্রীলোক, নিজেদের দাসী, সেসব অধীনস্থ পুরুষ যাদের অন্য কোনো রকম গরয নেই। আর সেসব বালক যারা স্ত্রীলোকদের গোপন বিষয়াদি সম্পর্কে এখনো ওয়াকিফহাল হয় নি। তারা নিজেদের পা জমিনের ওপর মেরে চলাফেরা করবে না, এভাবে যে, নিজেদের যে সৌন্দর্য তারা গোপন করে রেখেছে লোকেরা তা জানতে পারে। হে মুমিন লোকেরা! তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর নিকট তওবা কর, আশা করা যায় তোমরা কল্যাণ লাভ করবে।

হিজাবের নিয়ম-কানুন আল-কুরআন ও সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। প্রধানত নিয়ম ছয়টি।
১. পুরুষের জন্য নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকতে হবে। মেয়েদের জন্য মুখ আর হাতের কব্জি ব্যতীত সমস্ত শরীর ঢাকতে হবে। অন্য পাঁচটি নিয়ম পুরুষ ও মহিলার জন্য একই।
২. তারা যে পোশাক পরবে সেটা এ রকম আঁটসাঁট হবে না যে, তাদের দেহের গঠন বোঝা যাবে।
৩. পোশাক এমন স্বচ্ছ হবে না, যাতে ভেতর দিকে দেখা যায়।
৪. পোশাক এরকম আকর্ষণীয় হবে না যা বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করে।
৫. এ পোশাক এমন হবে না, যা অবিশ্বসীদের মতো, যেমন: খ্রিস্টানদের মতো ক্রস পরতে পারবে না। আর
৬. এমন পোশাক পরা যাবে না, যা বিপরীত লিঙ্গের পোশাকের মতো।
হিজাব বলতে শুধু পোশাক বোঝায় না। মানুষের আচরণ, ব্যবহার, দৃষ্টিভঙ্গি এমনকি অভিপ্রায়কেও বুঝায়। পোশাকের পাশাপাশি চোখ, মন, চিন্তা এমনকি হৃদয়েরও হিজাব থাকবে।

সূরা আহজাবের ৫৯ নং আয়াতে মেয়েদের হিজাবের কারণের কথা বলা হয়েছে-

يٰأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنٰتِكَ وَنِسَآءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيْبِهِنَّ ذٰلِكَ أَدْنٰى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ

অর্থ: হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীগণকে ও মুমিন নারীগণকে বলো, তারা যেন নিজেদের ওপর চাদরের আঁচল ঝুলিয়ে দেয়। ফলে তাদেরকে চিনতে পারা যাবে এবং উত্যক্ত করা হবে না।

ধরুন, কুয়ালামপুরের রাস্তায় দুজন সহদর বোন হাঁটছে। একজন ইসলামিক হিজাব পরে আছে- পুরো শরীর ঢাকা শুধু মুখ ও হাতের কব্জি বাদে। আর অন্য বোনটি পোশাক পরে আছে আধুনিক স্টাইলে স্কার্ট আর মিনি। তারা দু'জনেই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। রাস্তায় বখাটে মাস্তান দাঁড়িয়ে আছে উত্যক্ত করার জন্য, শিকারের আশায়। এবার বলুন বোনদের মধ্যে কোনো বোনকে সে উত্যক্ত করবে? এটাই স্বাভাবিক যে, সে মিনি স্কার্ট পরা মেয়েটাকে উত্যক্ত করবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px