📘 কেন ইসলাম গ্রহণ করছে পশ্চিমারা 📄 ফলসিফিকেশন টেস্ট

📄 ফলসিফিকেশন টেস্ট


কুরআন বলছে, তারা বুঝে শুনে বিশ্বাস করুক। আর আলহামদুলিল্লাহ, পশ্চিমের অধিকাংশ লোক বুঝে শুনে কাজ করে এবং তারা প্রশ্ন করে থাকে। প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তারা সেটা মানবে না। কুরআনের মধ্যেও প্রশ্ন-উত্তর আছে। আপনি কুরআন পড়লে দেখবেন, সেখানে 'তায়ালু' বা 'তারা প্রশ্ন করে' আছে ৩৩২ বার। আবার ৩৩২ বার বলা হয়েছে 'কুল' বা বল। পশ্চিমারা মদ আর জুয়া নিয়ে প্রশ্ন করে কুরআন তার উত্তর দিচ্ছে। কুরআন বুদ্ধিমান মানুষকে সন্তুষ্ট করে।

আজকের দিনের বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের মানুষ খুবই ব্যস্ত থাকে। সব সময় নতুন দার্শনিক তত্ত্ব আর নতুন জিনিস আসছে। সব কিছু পরীক্ষা করার সময় আমাদের হাতে নেই। এখন আপনি যদি নতুন কোনো ফিলসফি কিংবা থিউরি নিয়ে আসেন, তাহলে তারা দেখবে যে, এটাকে ভুল প্রমাণ করা যায় কি-না। এটাকে বলে “ফলসিফিকেশন টেস্ট।" পশ্চিমারা ফলসিফিকেশন টেস্টে বিশ্বাস করে। প্রতিদিন মানুষ হাজার হাজার থিউরি আনছে। সবকিছু পরীক্ষা করার সময় কোথায়। যদি কোনোভাবে থিউরিকে ভুল প্রমাণ করা যায়, তাহলে সেটাকে আমরা ভুল বলব। যদি ভুল প্রমাণ করতে না পারি তাহলে মেনে নেব। এ কারণেই আইনস্টাইন যখন "থিউরি অব রিলেটিভিটি" বা আপেক্ষিকতা তত্ত্ব আবিষ্কার করলেন, তখন বলেছিলেন, আমার থিউরি ভুল প্রমাণ করতে পারলে মানতে হবে না। তাই ছয় বছর ধরে তারা পরীক্ষা করল এবং মেনে নিল। আর স্বাভাবিকভাবেই তিনি নোবেল পুরস্কার পেলেন।

কুরআনই একমাত্র ধর্মগ্রন্থ আর ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে 'ফলসিফিকেশন টেস্ট' আছে। আর আমি অনেক ফলসিফিকেশন টেস্টের কথা বলছি "কুরআন কি আল্লাহর বাণী" নামের ক্যাসেটে। আমি তার মধ্য থেকে একটি বলব যেটা পশ্চিমাদেরও সন্তুষ্ট করবে। পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ৮২ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا .

অর্থ: তবে কি তারা কুরআন সম্বন্ধে অনুধাবন করে না? যদি কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে আসত, তাহলে সেখানে অনেক অসামঞ্জস্য থাকত।

তাই কুরআনকে ভুল প্রমাণ করতে চাইলে শুধুমাত্র একটা অসামঞ্জস্য খুঁজে বের করুন। কোন অসামঞ্জস্য বের না করা পর্যন্ত কুরআন ভুল প্রমাণিত হবে না। পরস্পর বিরোধী কিছু বের করুন, কুরআন ভুল প্রমাণিত হবে। কুরআনেই ফলসিফিকেশন টেস্ট আছে। বিভিন্ন সময়ে কুরআনের ফলসিফিকেশন টেস্ট হয়েছে। তবে আজকের দিনে এই টেস্টটা আরো যথার্থ। কারণ এটা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। আগের সময় ছিল সাহিত্য, কবিতার যুগ সে সময় অন্যরকম ফলসিফিকেশন টেস্ট ছিল।

ইসলাম সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ভুলের যে অভিযোগগুলো এসেছে সেগুলো মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনি যদি বিজ্ঞান সম্পর্কে জানেন, ফ্রান্সিস বেকন বলেছিলেন, "বিজ্ঞান সম্পর্কে অল্প জানলে আপনি হবেন নাস্তিক; কিন্তু বিজ্ঞান সম্পর্কে অনেক জানলে আপনি হবেন ঈশ্বরে বিশ্বাসী।" এ কারণেই আজকে পশ্চিমা বিশ্ব সৃষ্টিকর্তার প্রচলিত ধারণার বিরোধিতা করছে; কিন্তু তারা স্রষ্টার বিরোধিতা করছে না।

আগেও বলেছিলাম পশ্চিমাদের সমস্যার সমাধান ইসলামে আছে। আমাদের হাতে সব সমস্যা ও তার সমাধান ব্যাখ্যা করার সময় নেই। আমরা কয়েকটি সমস্যার কথা বলব এবং তার সমাধান নিয়ে আলোচনা করব। আমি বলেছিলাম পশ্চিমা বিশ্ব বস্তুবাদের ভেতর ডুবে আছে। এটা একটা বস্তুবাদী পৃথিবী। যেখানে শারীরিক সুখ শান্তির দিকে বেশি নজর দেয়া হয়।

📘 কেন ইসলাম গ্রহণ করছে পশ্চিমারা 📄 বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও শ্রদ্ধাবোধহীনতার সমস্যা

📄 বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও শ্রদ্ধাবোধহীনতার সমস্যা


এছাড়াও পশ্চিমা বিশ্বকে লক্ষ করলে দেখবেন যে, লোকজন বিশেষ করে বাচ্চারা, বাবা-মা'কে শ্রদ্ধা করে না। প্রাচ্যের চেয়ে পশ্চিমা বিশ্বে এ ব্যাপারটা বেশি দেখা যায়। আধুনিক বিশ্বে আপনি দেখবেন 'স্পেশাল শিশু নির্যাতন সেল'। পশ্চিমা বিশ্বে, আমেরিকা ও অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশে। ছেলে-মেয়েরা পুলিশকে ফোন করতে পারেন, স্পেশাল শিশু নির্যাতন সেলে। তারা বাবা-মাকেও হুমকি দিতে পারে। বাবা-মাকে বলতে পারে সাবধান হয়ে যাও, নয়তো পুলিশে ফোন করব।

ইসলামে সবাইকে ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার দেয়া হয়েছে। সন্তানের অধিকার আছে ইসলামে যা সর্বোচ্চ। স্বভাবতই শিশুদেরকে রক্ষা করতে হবে। তবে রক্ষার নামে এখন যেটা হয়, সন্তানেরা, বাবা মাকে হুমকি দেয়। অনেক জায়গায় আল-কুরআন বলেছে যে, বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করা উচিত। সূরা লুকমান-এর ১৪ নং আয়াতে, সূরা আল আহকাফ-এর ১৫ নং আয়াতে, সূরা আল আনআমের ১৫১ নং আয়াতে ... অনেক জায়গায়। তবে বিশেষ করে আল-কুরআনে সূরা বনী ইসরাঈলের ২৩ ও ২৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكিবَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلُهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أَن وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا ، وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيْنِي صَغِيرًا .

অর্থ: আল্লাহ তোমাকে আদেশ দিচ্ছেন, আমাকে ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করো না। আর তোমার বাবা-মার প্রতি সদয় হও। যদি তাদের মধ্যে কেউ অথবা দুজনই বৃদ্ধ হয়ে তোমার কাছে পৌঁছে, তাদের অবজ্ঞা করে কোনো কথা বলো না। এমনকি 'উহ' শব্দটিও বলো না; বরং তাদের সাথে বিনয় ও সম্মানের সাথে ব্যবহার কর এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর যে, হে আল্লাহ; তুমি তাদের দয়া কর যেভাবে তারা আমাদের ছোটবেলায় লালন-পালন করেছেন।

পশ্চিমা বিশ্বে বাবা-মা যখন বৃদ্ধ হয়ে যায়; তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ইসলামে বৃদ্ধাশ্রম বলতে কিছু নেই। বয়স্ক লোকদের দেখাশোনা করা সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের দায়িত্ব। তাদেরকে সম্মান করতে হবে, ভালোবাসতে হবে এবং সহানুভূতিশীল হতে হবে।

📘 কেন ইসলাম গ্রহণ করছে পশ্চিমারা 📄 পশ্চিমাদের অবাধ যৌনার : সমাধান ইসলাম

📄 পশ্চিমাদের অবাধ যৌনার : সমাধান ইসলাম


পশ্চিমা বিশ্বের আরেকটা সমস্যা হলো ব্যভিচার, অবাধ যৌনাচার। পবিত্র কুরআনের বনী ইসরাঈলের ৩২ নং আয়াতে আছে-

وَلَا تَقْرَبُو الزَّنِّي إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلاً .

অর্থ: ব্যভিচারের কাছেও যেও না, কারণ এটা অশ্লীল এবং মন্দ আচরণ।

ব্যভিচার ক্ষতিকর ও অন্যান্য ক্ষতিকর জিনিসেরও পথ খুলে দেয়। তাই বলে ইসলামে সন্যাসব্রত বা চিরকুমার থাকার নিয়ম নেই। ইসলামে বিয়ে করা বাধ্যতামূলক। হযরত মুহাম্মদ (স) বলেছেন, (সহীহ বুখারী ৭ নং খণ্ড, কিতাবুল্লাহ, ৩ নং হাদিস-এ)-

অর্থ: "হে যুবক ও যুবতীরা! যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য আছে, তাদের বিয়ে করা উচিত। যে বিয়ে করে, সে দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে।"

দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করা বলতে তিনি বুঝিয়েছেন। বিয়ে আপনাকে অবাধ যৌনাচার, সমকামিতা, ব্যভিচার ইত্যাদি পাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে। কেবল বিয়ে করলেই স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব থাকবে। আর ইসলামে এই দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূরা নিসার ২১ নং আয়াতে আছে-

وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا

অর্থ: প্রকাশ্য পাপাচার হওয়া সত্ত্বেও তোমরা এটা কি করে গ্রহণ করবে? অথচ তোমরা একে অন্যের সাথে অবাধ মেলামেশা করছো? সূরা রূমের ২১ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَمِنْ أَيْتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِليتها وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَتِ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ .

অর্থ: তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে এটাও (একটি) যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের নিকট পরম প্রশান্তি লাভ করতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহৃদয়তার সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এতে বিপুল নিদর্শন রয়েছে সে লোকদের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে।

📘 কেন ইসলাম গ্রহণ করছে পশ্চিমারা 📄 মহিলার সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে বেশি

📄 মহিলার সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে বেশি


আজকের দিনে পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তাদের অতিরিক্ত মহিলা জনসংখ্যা। প্রাচ্যে এমনটি হয় নি। তার কারণ হলো মেয়ে শিশুর ভ্রুণ চিহ্নিত করে হত্যা করা। এ খারাপ চর্চাটি বন্ধ হলে প্রাচ্যেও এই সমস্যা দেখা দেবে। পবিত্র কুরআন এ সমস্যারও সমাধান দিয়েছে। সূরা নিসার ৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلُثَ وَرُبَعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةٌ .

অর্থ: তোমাদের পছন্দ মতো মেয়েকে বিয়ে কর দুজন, তিনজন বা চারজনকে। তবে যদি ন্যায়বিচার করতে না পার তবে মাত্র একজনকে বিয়ে কর।

সূরার ১২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَلَنْ تَসْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَسِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ .

অর্থ: এটা অসম্ভব যে, তোমরা সব স্ত্রীকেই সমানভাবে দেখবে। তাদের কারো উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না।

এখানে আল-কুরআন বুঝাতে চাচ্ছে যে, এটা অসম্ভব সব স্ত্রীকে সমানভাবে ভালোবাসা। এমনকি একজন মা তার সন্তানদের ভালোবাসে। কিন্তু কোনো মা'ই বলবে না যে, আমি আমার সন্তানদের একই রকম ভালোবাসি। কম-বেশি হবেই। তবে সব মিলিয়ে কোনো অবিচার হবে না। তাই স্ত্রীদের অন্য সব ব্যাপারে যেমন টাকা-পয়সা, সময় ইত্যাদির ব্যাপারে ন্যায় বিচার করতে হবে। এক স্ত্রীকে বাড়ি কিনে দিলে অন্য স্ত্রীও যেন বাড়ি পায়। অনেকে মনে করে একাধিক বিয়ে করা ইসলামে বাধ্যতামূলক। এটি সম্পূর্ণ ভুল। ইসলামে পাঁচ প্রকার কাজের কথা বলা হয়েছে। ১. 'ফরজ' যার অর্থ হলো বাধ্যতামূলক, ২. 'মুস্তাহাব' বা উৎসাহ দেয়া হয়েছে, ৩. 'মুবাহ' অর্থাৎ ঐচ্ছিক, ৪. 'মাকরূহ' বা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে আর ৫. 'হারাম' অর্থাৎ নিষিদ্ধ।

একাধিক বিয়ে করার ব্যাপারটা হলো ঐচ্ছিক। তাহলে আসুন আমরা দেখি যে, কেন আল কুরআনে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেয়া হলো।

পুরুষ ও নারীকে সমান অনুপাতে বানানো হয়েছে। তবে এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে যদি কোনো চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করেন, তিনি বলবেন যে, মেয়ে শিশুরা ছেলে শিশুদের চেয়ে ভালোভাবে রোগ-জীবাণু প্রতিরোধ করতে পারে। তাই মেয়ে শিশুর চেয়ে ছেলে শিশু বেশি মারা যায়। দুর্ঘটনা, ধূমপান, যুদ্ধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি মারা যায়। আর তাই এখন পৃথিবীতে পুরুষদের চেয়ে নারীদের সংখ্যা বেশি। কেবল কয়েকটি দেশে, যেমন ভারতে পুরুষদের সংখ্যা নারীদের চেয়ে বেশি। এর কারণ অভিশপ্ত যৌতুক প্রথার কারণে জন্মের পূর্বে আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে মেয়ে শিশুর ভ্রূণ চিহ্নিত করে প্রত্যেক দিন তিন হাজারেরও বেশি মহিলার গর্ভপাত ঘটানো হয় কেবল ভারতেই। যখন তারা বুঝতে পারে যে সন্তানটা মেয়ে। অর্থাৎ বছরে দশ লক্ষের বেশি মহিলার গর্ভপাত ঘটানো হয় শুধু ভারতে। এ মেয়ে হত্যা বন্ধ হলে ভারতসহ আরো কয়েকটি দেশে নারীদের সংখ্যা পুরুষদের ছাড়িয়ে যাবে।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু আমেরিকাতেই নারীরা সংখ্যায় ছেলেদের চেয়ে ৭৮ লক্ষ জন বেশি। শুধু নিউ ইয়র্কেই ১০ লক্ষ জন নারী বেশি পুরুষদের চেয়ে। নিউ ইয়র্কের অধিবাসীদের এক-তৃতীয়াংশ হল 'গে', 'গে' মানে হলো সমকামী। তার মানে পুরুষরা সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয় পুরুষকে। আমেরিকায় আড়াই কোটির বেশি পুরুষ হলো 'গে'। এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক বিরাট সমস্যা। ইংল্যান্ডে মেয়েদের সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে ৪০ লক্ষ জন বেশি। জার্মানিতে ৬০ লক্ষ জন এবং রাশিয়াতে ৯০ লক্ষ জন নারী জনসংখ্যা বেশি পুরুষদের চেয়ে। আল্লাহ তাআলাই জানেন পুরো পৃথিবীতে নারীদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে কতজন বেশি।

ধরুন, আমি পশ্চিমাদের দর্শন মেনে নিলাম যে, একজন লোক কেবল একটাই বিয়ে করতে পারবে। ধরেন, আমেরিকায় প্রত্যেক পুরুষ একটি করে মেয়েকে বিয়ে করল। তারপরও তিন কোটি নারী থাকবে যারা জীবন সঙ্গী পাবে না। বাকিরা তাহলে কী করবে? তাদের জন্য পথ খোলা থাকে একটা, তারা হয় এমন পুরুষদের বিয়ে করবে, যাদের স্ত্রী আছে। অথবা তারা হতে পারে জনগণের সম্পত্তি (গনিকা বা বেশ্যা)।

আপনারা হয়তো বলবেন জনগণের সম্পত্তি? ডা. জাকির এতো খারাপ শব্দ ব্যবহার করেছে? আমি বলব সবচেয়ে ভালো যে শব্দটি ব্যবহার করা যায়, তাহলো জনগণের সম্পত্তি। আমি একজন ইসলাম প্রচারকারী হওয়ার কারণে অন্য শব্দ ব্যবহার করতে পারছি না। জনগণের সম্পত্তি হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আর যে কোনো ভদ্র মহিলা বলবেন, তিনি প্রথমটিই বেছে নেবেন। সবার সম্পত্তি হওয়ার চেয়ে এমন একজনকে বিয়ে করা ভালো যার স্ত্রী আছে। আপনারা জানেন, পশ্চিমা বিশ্বে মানুষ রক্ষিতা রাখে। এটি খুবই সাধারণ। আমেরিকায় গড়ে একজন মানুষের আটজন যৌনসঙ্গী থাকে। কাউকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত সে তার জীবনসঙ্গী। কারো হয়তো কম। দুজন বা একজন। তবে গড়ে আটজন জীবনসঙ্গী থাকে একজনকে বিয়ে করে সংসার পাতার আগ পর্যন্ত। রক্ষিতা রাখলে কোনো দায়িত্ব থাকে না। আপনি একজন, দশজন, বিশজন যা খুশি রাখেন। সমস্যা নেই। কিন্তু যদি মহিলা রক্ষিতা হয়, তার কোনো সম্মান থাকে না। সে ছোট হয়ে যায়। যদি রক্ষিতাকে সেই মহিলার সাথে তুলনা করেন যে, মহিলা কোনো লোকের দ্বিতীয় স্ত্রী, তবে দেখবেন সে সম্মান পায়, সবাই শ্রদ্ধা করে। তার আইনসঙ্গত অধিকারও থাকে। আমরা ইসলামে মহিলাদের উপযুক্ত সম্মান দিই। রক্ষিতার কোন সামাজিক সম্মান নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px