📄 ডা. জাকির নায়েকের সংক্ষিপ্ত জীবনী
ডা. জাকির আব্দুল করিম নায়েক ১৯৬৫ সালের ১৫ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.বি.বি.এস ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে পেশায় একজন ডাক্তার হলেও ১৯৯১ সাল থেকে তিনি বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে ইসলাম প্রচারে একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করার ফলে চিকিৎসা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে কুরআন ও সহীহ্ হাদীসের আলোকে বৈজ্ঞানিক, গঠনমূলক যুক্তি ও অন্যান্য প্রমাণাদির মাধ্যমে তিনি ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে ব্যাখ্যা করার প্রয়াসী হন। এ সময়ে ইসলামের দাওয়াতের পাশাপাশি অমুসলিম ও অসচেতন মুসলিম বিশেষ করে শিক্ষিত মুসলিমদের মধ্য থেকে ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্তিপূর্ণ ধারণা ও বিশ্বাস দূরীকরণার্থে ভারতের মুম্বাইয়ে তিনি 'ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন' (আই.আর.এফ) নামক এক দাতব্য প্রতিষ্ঠান চালু করেন।
উল্লেখ্য যে, ইসলাম ও তুলনামূলক অন্যান্য ধর্মের ওপরে সমগ্র বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তথ্যাবলি ইসলামিক রিচার্স ফাউন্ডেশনের সংগ্রহে রয়েছে। পরবর্তীতে তাঁরই উদ্যোগে আই.আর.এফ 'এডুকেশনাল ট্রাস্ট' ও 'ইসলামিক ডিমেনসন' নামক দুটি সংস্থাও প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত। এজন্য আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল, ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক (বিশেষত তাদের নিজস্ব টিভি নেটওয়ার্ক 'Peace TV'), ইন্টারনেট এবং প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের কাছে এটি ইসলামের প্রকৃত রূপকে উপস্থাপনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গৌরবান্বিত আল-কুরআন ও সহীহ হাদীসের পাশাপাশি মানবীয় কারণ, যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সাপেক্ষে এটি প্রকৃত সত্য সম্পর্কে পৃথিবীর মানুষের বোধগম্যতা ও ইসলামের শিক্ষার শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করে।
ডা. জাকির মূলত ইসলামের দাঈ'র অনন্য দৃষ্টান্ত। 'ইসলামিক রিচার্স ফাউন্ডেশন' গঠন ও তার পরিচালনার কঠিন সংগ্রামের পেছনে তিনিই প্রধান তদারককারী। আধুনিক ভাবধারার এই পণ্ডিতের ইসলাম ও তুলনামূলক অন্যান্য ধর্মের বিশ্লেষণে বিশ্ববিখ্যাত সুবক্তা ও বিশিষ্ট লেখক হিসেবেও জুড়ি নেই। তাঁর বক্তব্যের পক্ষে ব্যাপকভাবে অক্ষরে অক্ষরে গৌরবান্বিত আল-কুরআন, সহীহ্ হাদীস ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে তথ্য ও প্রমাণপঞ্জি পৃষ্ঠা নম্বর, খণ্ড ইত্যাদিসহ উল্লেখ করার কারণে যে কেউ তাঁর বক্তব্য বা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করুক বা তাঁর এ পর্ব শ্রবণ করুক না কেন, সে বিস্মিত ও অভিভূত না হয়ে পারে না। জনসমক্ষে আলোচনার সুতীক্ষ্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য উত্তর প্রদানের জন্য তিনি সুপ্রসিদ্ধ।
অন্যান্য ধর্মের বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা (বিতর্ক) ও সংলাপের সময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় আল্লাহর রহমতে তিনি সফলতার সাথে বিজয়ী হয়েছেন। ২০০০ সালের ১ এপ্রিল আমেরিকার শিকাগো শহরের আই.সি.এন.এ.ই কনফারেন্সে 'বিজ্ঞানের আলোকে বাইবেল ও কুরআন' বিষয়ে এক আমেরিকান চিকিৎসক ও খ্রিস্টানধর্ম প্রচারক ডা. উইলিয়াম ক্যাম্পবেল-এর সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ডা. উইলিয়াম ক্যাম্পবেল হচ্ছেন সেই লেখক যিনি তিন বছর ধরে গবেষণা করার পর 'ইতিহাস ও বিজ্ঞানের আলোকে কুরআন ও বাইবেল' (১৯৯২ সালে ১ম সংস্করণ এবং ২০০০ সালে ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়) নামক দুটি গ্রন্থ লিখতে সমর্থ হন, যে বইটিকে তিনি ১৯৭৬ সালে ডা. মরিস বুকাইলির লেখা 'বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান' নামক বইটির উত্থাপিত অভিযোগগুলোর খণ্ডনকারী হিসেবে ধারণা করেন। শেখ আহমাদ দীদাত ১৯৯৪ সালে ডা. জাকির নায়েককে ইসলাম ও তুলনামূলক অন্যান্য ধর্ম বিষয়ে বিশ্ববিখ্যাত বক্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ২০০০ সালের মে মাসে দাওয়াহ্ ও তুলনামূলক অন্যান্য ধর্মের ওপর গবেষণার জন্য 'হে তরুণ! তুমি যা চার বছরে করেছ, তা করতে আমার চল্লিশ বছর ব্যয় হয়েছে- "My Son, what I could not do four years." আলহামদুলিল্লাহ' খোদাই করা একটি স্মারক প্রদান করেন।
জনসমক্ষে আলোচনার জন্য ডা. জাকির পোপ বেনেডিক্টকে চ্যালেঞ্জ করেন, যা সারা বিশ্ব অবলোকন করেছে। বেনেডিক্ট নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর বিরুদ্ধে অসম্মানজনক ও বিতর্কিত মন্তব্য করায় সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভ স্ফুলিঙ্গের মতো দাউদাউ করে জ্বলছিল। তাই মুসলিমদের এ উদ্বেগ নিবারণ করতে পোপ বিশটি ইসলামিক দেশ থেকে কূটনীতিকদেরকে রোমের দক্ষিণে তার গ্রীষ্মকালীন বাসভবনে আলোচনার জন্য আহ্বান জানায়। কিন্তু ডা. জাকির তাকে একটি প্রকাশ্য সংলাপের জন্য আহ্বান করে বলেন যে, 'ইসলাম সম্পর্কে তার এই বিতর্কিত মন্তব্যের ফলে মুসলিম বিশ্বব্যাপী যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা শান্ত করতে এটি যৎসামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। মূলত ইসলাম সম্পর্কে পোপের এ মন্তব্য পূর্বপরিকল্পিত। পোপ জার্মানির রিজেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে যা বলেছিলেন সে ব্যাপারে তিনি নিজেই ভালোভাবে অবগত। তাই মুসলিমদের প্রতি পোপের এ দুঃখ প্রকাশ করাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়ারই নামান্তর। পোপের উচিত ছিল গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি তার মন্তব্য তুলে নেয়া। দেখে মনে হয়, প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের পদাঙ্কই পোপ বেনেডিক্ট অনুসরণ করে চলছেন।
ডা. জাকির আরো বলেন, 'পোপ যদি সত্যিই সঠিক সংলাপের মধ্যদিয়ে এ উত্তেজনা শান্ত করতে প্রয়াসী হন, তাহলে তার উচিত হবে জনসমক্ষে একটি প্রকাশ্য বিতর্ক করা। বিশ্বব্যাপী সম্প্রচারের সুবিধা সম্বলিত আন্তর্জাতিক টিভি নেটওয়ার্কের ক্যামেরার সামনে পোপ বেনেডিক্ট-এর সঙ্গে আমি জনসমক্ষে প্রকাশ্য সংলাপ বা বিতর্কে অংশ নিতে দৃঢ়ভাবে ইচ্ছুক। এর ফলে সারা বিশ্বের ১ কোটি ৩০ লাখ মুসলমান ও ২ কোটি খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা সেই বিতর্ক অনুষ্ঠান দেখতে ও শুনতে পারবে। পোপের ইচ্ছেমতোই কুরআন ও বাইবেল-এর যেকোনো বিষয়ের ওপর সংলাপে বা বিতর্কে আমি রাজি। তাছাড়া এটা কেবল বিতর্ক অনুষ্ঠানই হবে না; বরং এখানে উপস্থিত ও অনুপস্থিত দর্শক-শ্রোতার জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বও থাকতে হবে। আর এটা পোপের ইচ্ছেমতো কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক হবে না, যেমনটা তার পূর্বসূরি দ্বিতীয় পোপ জন পল দক্ষিণ আফ্রিকান ইসলামি পণ্ডিত আহমেদ দীদাতের খোলামেলা সংলাপের আহ্বানে চেয়েছিলেন। শেখ দীদাতকে পোপ জন পল তার নিজের কক্ষে এসে বিতর্ক করতে বলেছিলেন।
একটি আন্তঃবিশ্বাসগত সংলাপ কেন রুদ্ধদ্বারের মধ্যে সংঘটিত হবে? উপরন্তু আমার জন্য যদি একটি ইটালিয়ান ভিসা সংগ্রহ করা হয় তাহলে মুসলমানদের প্রতিনিধি হিসেবে পোপের সাথে বিতর্ক করতে আমি রোম বা ভ্যাটিক্যানে নিজের খরচায়ও যেতে পারি। তবে একথা সবার মনে রাখতে হবে যে, 'মুসলমানদের নিজস্ব মিডিয়াই হচ্ছে ইসলামের ওপরে আক্রমণের জবাবে প্রচণ্ডভাবে আঘাত হানার উৎকৃষ্ট উপায়। দুর্ভাগ্যক্রমে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক মিডিয়া পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট। সুতরাং আমাদের যদি নিজস্ব মিডিয়া না থাকে তাহলে পশ্চিমারা সাদাকে কালো করে ফেলবে, দিনকে রাত করে ফেলবে, নায়ককে সন্ত্রাসী বানাবে আর সন্ত্রাসীকে বানাবে নায়ক।'
রিয়াদে অবস্থিত শ্রীলংকার দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত বহুসংখ্যক রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও শ্রীলংকার জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত 'ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা সম্পর্কিত ২০টি সাধারণ প্রশ্ন' শীর্ষক আলোচনা সভায় ডা. জাকির তাঁর বক্তব্যের শেষে এক ইন্টারনেট সাক্ষাৎকারে এ কথাগুলো বলেন। ষোড়শ পোপ বেনেডিক্ট যদি খ্রিস্টানধর্ম ও বাইবেলের ওপর কোনো বিশ্বাস না রাখেন, তাহলে তার কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়; বরং জনসমক্ষে একটা বড় আকারের খোলামেলা বিতর্কের মাধ্যমে ডা. জাকিরের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা উচিত। কিন্তু পোপের যদি খ্রিস্টানধর্ম ও বাইবেলের ওপর আত্মবিশ্বাস না থাকে অথবা তিনি যদি খ্রিস্টানধর্ম ও বাইবেলকে ততটুকু পরিমাণে বিশ্বাস না করেন যাতে বড় রকমের কোনো বিতর্কে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়; তাহলে মুসলমানদের অপেক্ষা করতে হবে যতক্ষণ না এই পোপ বেনেডিক্ট তার জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাসের পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে ডা. জাকিরের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে অথবা পদত্যাগ করার মাধ্যমে পরবর্তী পোপকে এ সুবর্ণ সুযোগের সদ্ব্যবহার করার নিশ্চয়তা দেন। অবশেষে যদি এ বিতর্ক পরিচালিত হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা ইসলাম সম্পর্কে সমগ্র বিশ্বের মানুষের ভুল ধারণা দূর করতে সক্ষম হব এবং সমগ্র বিশ্বের সম্মুখে ইসলামের সত্যতা ও খ্রিস্টান ধর্মের মিথ্যাচারিতা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যাবে।
মুসলমানদের সাথে সংলাপ করার জন্য পোপ বেনেডিক্ট অবশ্য প্রথমাবস্থায় তার আন্তরিক ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন; কিন্তু ডা. জাকিরের আহ্বানের পর থেকে এমন ভঙ্গিমা দেখাচ্ছেন যে, মনে হয় মুসলমানদের সাথে সংলাপের জন্য তিনি কখনো আহ্বানই জানান নি অথবা এ ধরনের কোনো কিছু সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। বিশ্বের অনেক মুসলমান পোপ বেনেডিক্ট-এর সাথে ডা. জাকির নায়েকের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে পশ্চিমা মিডিয়া যেমন বিভিন্ন জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল, পত্র-পত্রিকার অফিসে ই-মেইল করেছে; কিন্তু তারাও পোপের ভান করছে। তাই সমগ্র মুসলিম বিশ্বের আজ একটাই প্রশ্ন, ডা. জাকির নায়েকের চ্যালেঞ্জে সমগ্র পশ্চিমা মিডিয়া বিশেষ করে পোপ নিজেই কেন এখন নিশ্চুপ? ডা. জাকির সাধারণত লিখিত কোনো বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন না; বরং সর্বদা জনসমক্ষে বিতর্ক করেন। কারণ, এটা সবার জানা কথা যে, লিখিতভাবে কোনো বিতর্ক করলে তা কখনো শেষ হবার নয়; কিন্তু প্রকাশ্যে বিতর্ক করলে তা কার্যকরভাবে একটা ফলাফল বয়ে আনে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলস বিমানবন্দরের একটি ঘটনায় তাঁর দক্ষতা সম্পর্কে একটি উদাহরণ দেয়া যাক: ১১ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে অনেক বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে অধিকাংশ মুসলিম বিভিন্ন প্রশ্নের যথোপযুক্ত উত্তর দিতে না পারার জন্য অযথা হয়রানির শিকার হন। কিন্তু ইসলাম ও মানবতার প্রতি অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের 'ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইন্টারনেট ইউনিভার্সিটি' কর্তৃক দেয়া পুরস্কার গ্রহণ করতে ১২ অক্টোবর ডা. জাকির নায়েক যখন লসএঞ্জেলস বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তখন তাঁর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে কি-না তা জানতে ইমিগ্রেশন অফিসারের আচরণ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'আমার জন্য সেখানে কোনো সমস্যা ছিল না এবং তাদের সবার ব্যবহার ছিল মনোমুগ্ধকর।' কয়েকটি সৌদী সংবাদপত্র ডা. জাকির নায়েকের এ সাক্ষাৎকার নেয়ার পরবর্তী অনুসন্ধানে জানতে পারে যে, লসএঞ্জেলস বিমানবন্দরে অবতরণের পর ডা. জাকিরও তার দাড়ি এবং মাথার টুপির জন্য কাস্টম অফিসারদের দৃষ্টির আড়াল হতে পারেন নি। তাই সাথে সাথে তাঁকেও প্রশ্ন করার জন্য অনুসন্ধান করা শুরু করে।
যেমন: ১১ সেপ্টেম্বরের আক্রমণ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চেয়ে 'জিহাদ' শব্দটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তখন ডা. জাকির নায়েক বাইবেলের বিভিন্ন সংস্করণ, কুরআন, তালমুদ, তাওরাত (ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ), মহাভারত, ভগবত গীতাসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, জিহাদ শুধু ইসলামিক নয়; বরং বৈশ্বিক একটি বিষয়। এ কথা শুনে কাস্টম অফিসাররা উৎসাহী হয়ে আরো প্রশ্ন করেন। কিন্তু ওদিকে ডা. জাকির তাঁর মেধা, জ্ঞান ও যুক্তি দ্বারা উত্তর দেয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন। ইতোমধ্যে এক ঘণ্টা সময় পার হয়ে যায়। অন্যদিকে যেহেতু প্রশ্ন করার কারণে দীর্ঘ লাইনে লোকজন অপেক্ষা করছিল তাই ডা. জাকিরকে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হয়। যখন তিনি উঠে দাঁড়ান ও কক্ষটি ত্যাগ করেন তখন প্রায় ৭০ জন কাস্টম অফিসার তাদের নিজেদের ধর্ম ও ইসলাম সম্পর্কে জানতে তাঁর পিছে পিছে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে কাস্টম অফিসারগণ বলেন যে, তারা বিস্মিত হয়েছেন এবং তারা জীবনে কখনো এতো জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি দেখেন নি।
আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সাউথ আফ্রিকা, মৌরিতানিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড, ঘানা (দক্ষিণ আফ্রিকা) সহ আরো অনেক দেশে এ পর্যন্ত নয়শোরও বেশি বার জনসম্মুখে প্রকাশ্য আলোচনায় বিভিন্ন ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম, খ্রিস্টান ও হিন্দু ধর্মের ওপর তুলমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। উপরন্তু ভারতেও তিনি অসংখ্য বার বক্তব্য প্রদান করেছেন। যার অধিকাংশ অডিও এবং ভিডিও আকারে এবং ইদানিং বিভিন্ন ভাষায় গ্রন্থাকারে পাওয়া যায়। বিশ্বের একশোরও বেশি দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টিভি ও স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে ডা. জাকিরকে প্রতিনিয়ত দেখা যায়। তিনি প্রায় প্রতিনিয়তই সাক্ষাৎকারের জন্য আমন্ত্রিত হন। ভারতের মিডিয়া ছাড়াও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় রয়েছে তাঁর প্রভাব। ভারতীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা যেমন: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইনকিলাব, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য ডেইলি মিডডে, দ্য এশিয়ান এইজ ছাড়াও অন্যান্য পত্রিকা তাঁর অনেক বক্তব্য প্রকাশ করেছে। বাহরাইন ট্রিবিউন, রিয়াদ ডেইলি, গালফ টাইমস, কুয়েত টাইমসসহ আরো অন্যান্য সংবাদপত্রে ইংরেজি ছাড়াও বিভিন্ন ভাষায় ডা. জাকির নায়েক সম্পর্কে অনেক প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও তাঁর বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি সাধারণত ইংরেজিতে বক্তব্য দেন। তাঁর দর্শক-শ্রোতার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত, আর্মি জেনারেল, রাজনৈতিক নেতা, নামকরা খেলোয়াড়, ধর্মীয় পণ্ডিত, শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ মানুষ। তাঁর অধিকাংশ বক্তব্য ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নিজস্ব নেটওয়ার্ক 'Peace TV'- এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়। তাঁর বক্তব্যগুলোতে খুবই সাধারণ ভূমিকা রয়েছে এবং একজন আন্তর্জাতিক বক্তা হিসেবে তিনি তাঁর প্রায় সকল বক্তব্যে কুরআন ও সহীহ হাদীসের বাণীগুলো বিজ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেন। ফলে দর্শক ও শ্রোতারা সহজেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন। ধর্মগ্রন্থগুলো সম্পূর্ণরূপে মুখস্থ করার মতো অসাধারণ গুণটি তাঁর সম্পর্কে বিশেষভাবে লক্ষণীয় একটি বিষয়। মনে হয় কুরআন, বাইবেলের বিভিন্ন সংস্করণ, তালমুদ, তাওরাত (ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ), মহাভারত, ম্যানুসম্যারিটি, ভগবতগীতা ও বেদসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের হাজার হাজার পৃষ্ঠা সম্পূর্ণভাবে তাঁর মুখস্থ রয়েছে। তাছাড়াও বৈজ্ঞনিক ও গাণিতিক বিষয় এবং তত্ত্বে রয়েছে তাঁর পূর্ণ দখল। কেননা তিনি কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ করলে তার পৃষ্ঠা, অধ্যায় ও খণ্ডসহ উল্লেখ করেন।
📄 পশ্চিমারা কেন ইসলাম গ্রহণ করছে?
উপস্থাপক : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমানুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, আজকের এ মহতী সভায় আলোচনা অনুষ্ঠানে আপনাদের জানাচ্ছি সুস্বাগতম। বক্তব্য রাখবেন, ডা. জাকির আব্দুল করিম নায়েক। প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট, ইসলামি রিসার্চ ফাউন্ডেশন, মুম্বাই, ভারত। তিনি বিভিন্ন ধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলোর ওপর একজন চলমান কম্পিউটার। তাঁর মস্তিষ্ক এমনকি কম্পিউটারের চেয়ে দ্রুত কাজ করে। এখন আপনাদের সামনে আসছেন, ডা. জাকির নায়েক।
ডা. জাকির নায়েক : সম্মানিত চেয়ারম্যান, আমার গুরুজনেরা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত আমার ভাই ও বোনেরা, আপনাদেরকে ইসলামের রীতি অনুযায়ী স্বাগতম জানাচ্ছি আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমানুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু (আল্লাহর শান্তি, দয়া ও অনুগ্রহ আপনাদের সবার ওপর বর্ষিত হোক)।
এবার আসুন আলোচনা করি- পশ্চিমারা কেন ইসলাম গ্রহণ করছে।
📄 পশ্চিমাদের সমস্যার সমাধান দিতে পারে কেবল ইসলাম
আজকের কী আলোচনার বিষয় হলো- কেন পশ্চিমারা ইসলাম গ্রহণ করছে? আর যদি এর উত্তরটা দেয়া হয় মাত্র একটি বাক্যে, তা হলো- পশ্চিমারা ইসলাম গ্রহণ করছে কারণ, তাদের দৈনন্দিন জীবনের ভয়াবহ সমস্যাগুলোর সমাধান ইসলামে আছে। পাশ্চাত্যের মানুষ মনোযোগ দেয় শারীরিক শান্তির দিকে। অর্থাৎ ভোগ-বিলাসের দিকে। তাদের মনোযোগ শারীরিক শান্তি ও সুখের দিকে। পৃথিবীর অধিকাংশ ধর্মই মনোযোগ দেয় আত্মার উন্নতির দিকে। আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামে এ দুটোই আছে। ইসলাম শারীরিক সুখ-শান্তির পাশাপাশি আমাদের আত্মার উন্নতির দিকেও মনোযোগ দেয়। দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। 'ইসলাম' শব্দটি এসেছে 'সালাম' থেকে, যার অর্থ 'শান্তি'। এর আরো একটি অর্থ হলো- আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। অর্থাৎ, ইসলাম হলো নিজের ইচ্ছেকে আল্লাহ তাআলার কাছে সমর্পণ করে শান্তি অর্জন করা। পবিত্র আল-কুরআন হল- আল্লাহ প্রদত্ত আসমানি কিতাব। যা নাযিল হয়েছিল সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর ওপর। আল কুরআন জ্ঞানের আধার। অমনোযোগীদের প্রতি সতর্কবাণী। বিপথগামীদের জন্য পথ প্রদর্শক। নিপীড়িতদের সান্ত্বনার বাণী, আর হতাশাগ্রস্তদের আশার আলো।
একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো- পশ্চিমারা মুক্তমনের অধিকারী। তারা রক্ষণশীল নয়। পৃথিবীর অনেক দেশে যেমনটা আছে। আল্লাহর রহমতে আমি অনেক দেশ ভ্রমণ করেছি। মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করে, এসব বক্তৃতায় লোকজনের প্রতিক্রিয়া কী? আমাদের দায়িত্ব হলো আল্লাহ তাআলার বাণী প্রতিটি আশরাফুল মাকলুকাতের কাছে পৌঁছে দেয়া। তিনিই হেদায়াত করেন। আল্লাহ পবিত্র আল-কুরআনে সূরা গাশিয়াহর (২১-২২) নং আয়াতে বলেছেন-
فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ . لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُصَيْطِرٍ .
অর্থ: সে যা হোক, তুমি (হে নবী) উপদেশ দিতে থাকো কেননা তুমি তো একজন উপদেশ দানকারী মাত্র। তুমি তাদের কাজের নিয়ন্ত্রক নও।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমাজের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। প্রাচ্যের বিশেষ করে ভারতের একজন অমুসলিম যদি ইসলাম গ্রহণ করে, এটা পশ্চিমের পঞ্চাশ জন অমুসলিমের ইসলাম গ্রহণের সমান হবে। এর মানে এই নয় যে, একজন ভারতি পঞ্চাশ গুণ উপরে, এরকম নয়। যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো, প্রাচ্যের, বিশেষ করে ইন্ডিয়ার সমাজ হলো রক্ষণশীল ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। একজন মানুষ ইসলামকে ভালোবাসলেও পারিপার্শ্বিক সমাজকে ভয় পায়। সমাজ তাকে বয়কট করতে পারে। তার সামাজিক, অর্থনৈতিক সমস্যা হতে পারে। এমনকি জীবন বিপন্ন হতে পারে। সমাজের মানুষ খুবই সংকীর্ণ মনের এবং রক্ষণশীল। তাই তার পক্ষে ইসলাম গ্রহণ করা খুবই কঠিন। কিন্তু তাই বলে এটা আবার ইন্ডিয়ার অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণ না করার কোনো অজুহাত হতে পারে না। এজন্যই তারাই দায়ী থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যে এবং অন্যান্য দেশেও পশ্চিমারা আমার বক্তৃতা শুনেছেন। কয়েকটা লেকচারের পর কোনো কোনো সময় একটা বক্তৃতা শোনার পর ইসলামকে এতোই পছন্দ করেছে যে, সাথে সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছে। কিন্তু মুম্বাইতে এমনটা হয় নি। সেখানে বছরের পর বছর অনেকগুলো বক্তৃতার পর অবশেষে সত্যকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনেকে। ইসলাম গ্রহণ করার কারণ কিন্তু দাওয়াত দানকারী নয় বরং আল্লাহ তাআলাই হেদায়াত দেন। তাহলে প্রথম কারণটা হলো, পশ্চিমারা অনেক বেশি মুক্ত মনের। একই পরিবারে বাবা খ্রিস্টান হতে পারেন কিন্তু তার সন্তানেরা ইসলাম গ্রহণ করলে তিনি কিছু মনে করেন না। তারা একই সাথে বসবাস করে। কিন্তু ইন্ডিয়াতে এমনটা হয় না। ভারতে বাবা এক ধর্ম পালন করেন আর সন্তানেরা অন্য ধর্ম এরকম খুঁজে পাওয়া যায় না। এজন্যই বলছি যে, পশ্চিমারা মুক্ত মনের।
📄 আল-কুরআন বিজ্ঞানের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে
আরেকটা কারণ হলো- পশ্চিমারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত। আর বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের মতে, "ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু এবং বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ।" আর পশ্চিমারা মনে করেন, কোনো কিছুকে বিচার বিশ্লেষণ করার সবচেয়ে বড় মানদণ্ড হলো বিজ্ঞান। আলহামদুলিল্লাহ, পবিত্র আল-কুরআন অনেক জায়গায় বিজ্ঞানের কথা বলেছে। যদিও এটি কোনো বিষয় ভিত্তিক সাইন্সের ওপর কোনো গ্রন্থ নয়। আল-কুরআনে রয়েছে সাইন বা নিদর্শন বা চিহ্ন। ছয় হাজারেরও বেশি সাইন বা আয়াত রয়েছে আল-কুরআনে। যার মধ্যে হাজারেরও বেশি আয়াত বিজ্ঞানের কথা বলেছে।
আমার 'আল-কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান মানানসই নাকি বেমানান' অথবা 'আল-কুরআন ও বিজ্ঞানের বিরোধ এবং নিষ্পত্তি' বিষয়ক বক্তৃতাগুলোতে আমি প্রমাণ করেছিলাম যে, আল-কুরআন বিজ্ঞানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাহলে পশ্চিমাদের মানদণ্ড ব্যবহার করে আমরা প্রমাণ করতে পারি, আমাদের মানদণ্ড অর্থাৎ আল-কুরআন বিজ্ঞানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তারা আজ যা বলছে, আল-কুরআন সেটা বলেছে ১৪০০ বছর আগে। তারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত। আমরা যদি তাদের সাথে কথা বলি হিকমা দিয়ে, আলহামদুলিল্লাহ, তারা বুঝবে আল-কুরআন বিজ্ঞানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। আর তাদের মধ্যে অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করবে।
তৃতীয়ত, পশ্চিমের মানুষেরা যুক্তি দিয়ে বুঝতে চায়। তারা অন্ধের মতো কিছু মানতে চায় না। তারা যুক্তি দিয়ে বুঝবে, তদন্ত করবে তারপরই কোনো কিছু মেনে নেবে। তারা যুক্তিশীল, কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না। পবিত্র আল-কুরআনে সূরা নাহলের ১২৫ নং আয়াতে 'দাওয়াতের' ব্যাপারে যুক্তির কথা বলা হয়েছে এভাবে-
أدْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنَ .
অর্থ: তোমরা আল্লাহর পথের দিকে দাওয়াত দাও হিকমত ও উত্তম নসীহতের সাহায্যে। আর লোকদের সাথে বিতর্ক কর উত্তম পন্থায়।
আল-কুরআন যুক্তির কথা বলে। সূরা বাকারার ২৪২ নং আয়াতে বলা হয়েছে- كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللهُ لَكُمُ ايته لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ . অর্থ: এভাবে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য তার বিধানসমূহ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার। আল্লাহ চান মানুষ যেন আল-কুরআন বুঝতে পারে এবং তারপর মেনে নেয়।
সূরা ইব্রাহীমের ৫২ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন-
هُذَا بَلَغَ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهُ وَاحِدٌ وَلِيَذَّকَّরَ أُولُوا الأَلْبَابِ .
বস্তুত এ একটি পয়গাম (সংবাদ) যা মানুষের জন্য। আর পাঠানো হয়েছে এ জন্য যে, এ দ্বারা তাদেরকে সাবধান করে দেয়া হচ্ছে এবং তারা জেনে নেবে যে, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ শুধু একজন, আর বুদ্ধিমান লোকেরা এ ব্যাপারে সচেতন হবে।