📄 সত্যের প্রতি জোর দেওয়া
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বজনবিদিত কোমলতা এবং দয়া কোনোভাবেই সত্যের প্রতি তার দুর্বলতা এবং শিথিলতা বোঝাত না। তিনি সত্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন। এতে কোনো প্রকার ছাড় দিতেন না এবং শিথিলতা করতেন না। এমনকি তার নিকটাত্মীয় এবং প্রিয় ব্যক্তিগণের ব্যাপারে হলেও তিনি এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতেন না।
আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে যে, মাখযুমি গোত্রের যে মহিলাটি চুরি করেছিল, তার বিষয়টি কুরাইশদের চিন্তিত করে তুলল। তারা বলল, ওই মহিলার ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কে কথা বলতে যাবে? তখন সবাই বলল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়ভাজন উসামা ইবনে যায়েদ রাযি. ব্যতীত আর কেউ এ দুঃসাহস করতে পারবে না। তাই উসামা রাযি. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বললেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি আল্লাহ তাআলার হদ তথা বিচারের ব্যাপারে সুপারিশ করছ?
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বলতে লাগলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা এ জন্যই ধ্বংস হয়েছে যে, যখন তাদের মধ্যে অভিজাত কেউ চুরি করত তখন তারা ক্ষমা করে দিত। আর তাদের মধ্য হতে দুর্বল কেউ চুরি করলে তার বিচার করত। আল্লাহর শপথ, যদি মুহাম্মদের মেয়ে ফাতেমাও চুরি করত তাহলে আমি তার হাত কর্তন করতাম।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগেও অপর এক ঘটনায় এই একই সাহাবির সাথে কঠোর আচরণ করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে উসামা ইবনে যায়েদ রাযি. হতে বর্ণিত আছে, এ হাদিসটি ইবনে আবি শায়বা থেকে বর্ণিত হয়েছে।
উসামা রাযি. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এক যুদ্ধে পাঠালেন। আমরা প্রত্যুষে জুহাইনা গোত্রের শাখা গোত্র আল-হুরাকার ওপর আক্রমণ করলাম। এ সময় আমি একজন লোককে ধরে ফেললাম, সে বলে উঠল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তবুও আমি তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করলাম। কিন্তু এ ঘটনার জন্য আমার মনে সংশয়ের উদ্রেক হলো। তাই আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সেই ঘটনা উল্লেখ করলাম।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে আর তুমি তাকে হত্যা করে ফেলেছ?
তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, সে তো অস্ত্রের আঘাতের ভয়ে এ কথা বলেছে!
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তার হৃদয় চিড়ে দেখতে পারলে না? তাহলে জেনে যেতে, সে সত্যি সত্যিই বলেছে কি না।
তিনি বারবার আমার কাছে এ কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। এমনকি আমি মনে মনে অনুশোচনা করতে লাগলাম, হায়, আমি যদি আজই ইসলাম গ্রহণ করতাম!
বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাযি. বললেন, আল্লাহর কসম, আমি কখনো কোনো মুসলিমকে এভাবে হত্যা করব না, যেভাবে এই ভুঁড়িওয়ালা অর্থাৎ উসামা হত্যা করেছে।
বর্ণনাকারী বলেন, তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, আল্লাহ তাআলা কি এ কথা বলেননি যে-
وَقْتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ ﴾
“তোমরা তাদের সাথে লড়াই করো যতক্ষণ পর্যন্ত ফিতনা দূরীভূত না হয় এবং দ্বীন সম্পূর্ণ আল্লাহর জন্য না হয়।" [সুরা আনফাল: ৩৯]
জবাবে সাদ রাযি. বললেন, আমরা লড়াই করেছি যাতে করে ফিতনা দূরীভূত হয়, কিন্তু তুমি এবং তোমার সাথিরা লড়াই করেছ যাতে করে ফিতনা সৃষ্টি হয়।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এ দুটি ঘটনা একই সাহাবির সাথে ঘটেছে। তিনি হলেন, উসামা ইবনে যায়েদ রাযি.। হয়তো এতে আল্লাহ তাআলারই কোনো উদ্দেশ্য ছিল। কেননা, উসামা রাযি. হিব্ব ইবনুল হিব্ব অর্থাৎ প্রিয়র ছেলে প্রিয় নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি নিজে ছিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন প্রিয় পাত্র এবং ছিলেন আরেক প্রিয় পাত্র সম্মানিত সাহাবি যায়েদ বিন হারেসা রাযি.-এর পুত্র। যিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আজাদকৃত গোলাম ছিলেন। পিতার সাথে গিয়ে স্বাধীন হওয়ার তুলনায় যিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোলাম হিসেবে থাকাকেই পছন্দ করেছিলেন। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আজাদ করে দিয়েছিলেন এবং কুরাইশের সামনে তাকে নিজের পুত্র বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর কুরআনে পালকপুত্রকে নিজের পুত্র হিসেবে অভিহিত করাকে নিষেধ করা হয়। যায়েদের এ অবস্থান তার পুত্র উসামার কাছে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। আর শুধু তার সাথেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কঠোরতার চিত্র দেখতে পাওয়া গভীর একটি অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে। এতে করে বোঝা যায় যে, ইসলাম কোনো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব অবলম্বন করে না এবং এতে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করে না। চাই তা প্রসিদ্ধ এবং বিরাট কোনো ব্যক্তিত্বের সাথেই হোক না কেন।
টিকাঃ
৪০ বুখারি, পরিচ্ছেদ: নবীগণ, অধ্যায় : أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَبَ الْكَهْفِ وَالرَّقِيمِ﴿ ]সুরা কাহাফ : ৯[ হাদিস নং ৩২৮৮। মুসলিম, পরিচ্ছেদ : হদ-সংক্রান্ত, অধ্যায় : অভিজাত এবং অন্যান্য চোরের হাত কাটা এবং হদ-সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশ করা থেকে নিষেধ করা, হাদিস নং: ১৬৮৮ ।
৪১ বুখারি, পরিচ্ছেদ: মাগাযি (যুদ্ধাভিযানসমূহ), অধ্যায়: উসামা রাযি.-কে জুহাইনা গোত্রের আল-হুরাকায় প্রেরণ, হাদিস নং ৪০২১। মুসলিম, পরিচ্ছেদ : ঈমান, অধ্যায়: কাফের কর্তৃক লাইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পর তাকে হত্যা করা হারাম হওয়া, হাদিস নং ৯৬। হাদিসটি তার বর্ণনা থেকেই চয়িত।
📄 গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করা এবং অনর্থক বিষয়ে প্রবেশ না করা
কখনো কখনো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কোনো মুসলিম আসত। সে এসে এমন প্রশ্ন করত, যা তার বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ কিছুই নয়। কখনো কখনো গুরুত্বহীন বিষয়েও তারা প্রশ্ন করে বসত। প্রশ্নকারী তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যেত এবং সে সম্পর্কে প্রশ্ন না করে অন্য ব্যাপারে প্রশ্ন করত। এমতাবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই ব্যক্তির জন্য গুরুত্ববহ হয় এমন বিষয়ের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করতেন এবং তার অনর্থক প্রশ্নের জবাব দেওয়া হতে বিরত থাকতেন। আনাস রাযি. হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রশ্ন করলেন, কিয়ামত কবে হবে?
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, তুমি তার জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?
লোকটি বলল, কিছুই না, তবে আমি আল্লাহ ও তার রাসুলকে ভালোবাসি।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যাকে ভালোবাসো কিয়ামতের দিন তার সাথেই থাকবে।
আনাস রাযি. বলেন, “তুমি যাকে ভালোবাসো কিয়ামতের দিন তার সাথেই থাকবে"-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথায় আমরা যতটা আনন্দিত হলাম, এর আগে কখনো এমন আনন্দিত হইনি।
কিয়ামতের প্রতিশ্রুত সময় হচ্ছে এমন গোপনীয় বিষয়, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত আর কেউ জানে না। তাই এ ব্যাপারে প্রশ্ন করে কোনো লাভ নেই। তবে একজন মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, কিয়ামতের দিনে হিসাবে উত্তীর্ণ হতে যা যা করা প্রয়োজন, তা নিয়ে ব্যস্ত থাকা।
অপর এক কথোপকথনে আমরা দেখতে পাই, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেক সাহাবিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করিয়ে দিয়েছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সাহাবি এবং সমস্ত জাতিকে আমানতের খেয়ানত করা থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন।
আবু হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মজলিশে উপস্থিত লোকদের সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় এক বেদুইন ব্যক্তির আগমন ঘটে। সে জিজ্ঞেস করে-কিয়ামত কবে হবে? কিন্তু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জবাব না দিয়ে কথা চালিয়ে যেতে থাকেন। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য হতে কেউ কেউ বলল, রাসুল তার কথা শুনেছেন এবং অপছন্দ করেছেন। আবার কেউ বলল, রাসুল তার কথা শুনতেই পাননি। অবশেষে তাদের সাথে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলাপ শেষ হলো。
এবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়?
লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল, এই তো আমি।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন আমানতের খেয়ানত করা হবে তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষা করতে পারো।
লোকটি বলল, খেয়ানত কীভাবে হবে?
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন কোনো কাজ অনুপযুক্ত ব্যক্তির হাতে সমর্পণ করা হবে তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষা করবে。
টিকাঃ
৪২ বুখারি, পরিচ্ছেদ সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়: উমর ইবনুল খাত্তাব আবি হাফস আল-কুরাশি আল-আদাওয়ির ত্যাগ-তিতিক্ষা, হাদিস নং ৩৪৮৫। মুসলিম, পরিচ্ছেদ: সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তা রক্ষা এবং শিষ্টাচার, অধ্যায়: মানুষ যাকে ভালোবাসে কিয়ামতের দিন তার সাথেই থাকবে, হাদিস নং ২৬৩৯।
📄 বিরক্তি দূরীকরণ এবং দৃষ্টি আকর্ষণের প্রতি আগ্রহী হওয়া
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে কথোপকথনকারীর দৃষ্টি আকর্ষণের উপায়গুলো গ্রহণ করতেন; যেন কথাগুলো তার আত্মায়, হৃদয়ে এবং মস্তিষ্কে গেঁথে যায়। মু'আয ইবনে জাবাল রাযি. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একবার আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনেই ছিলাম। বাহনের পশ্চাৎভাগ ব্যতীত তার মাঝে আর আমার মাঝে অন্য কোনো দূরত্ব ছিল না।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মু'আয ইবনে জাবাল।
আমি বললাম, আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসুল।
তারপর কিছুক্ষণ পথ চললেন। আবার বললেন, হে মু'আয ইবনে জাবাল।
আমি বললাম, আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসুল।
এরপর আরও কিছুক্ষণ পথ চলার পর আবারও ডাকলেন, হে মু'আয ইবনে জাবাল।
আমি বললাম, আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসুল।
তিনি এবার বললেন, তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার কী অধিকার?
তিনি বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসুলই ভালো জানেন।
তিনি বললেন, নিশ্চয়ই বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার অধিকার হচ্ছে, বান্দারা তার ইবাদত করবে এবং তার সাথে অন্য কোনো বস্তুকে শরিক করবে না।
এরপর কিছুক্ষণ পথ চললেন। তারপর ডাকলেন, হে মু'আয ইবনে জাবাল।
আমি বললাম, আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসুল।
তিনি বললেন, বান্দারা যদি আল্লাহর ইবাদত করে তাহলে আল্লাহ তাআলার ওপর তাদের কী অধিকার জানো?
তিনি বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসুলই ভালো জানেন।
তিনি বললেন, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন না।
এমনিভাবে আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরার সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিনের কথা, সেদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উটের ওপর বসলেন এবং এক ব্যক্তি লাগাম টেনে ধরল।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি জানো, আজ কোন দিন?
তারা বলল, আল্লাহ এবং তার রাসulই ভালো জানেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম, তিনি হয়তো এ দিনের অন্য কোনো নাম দেবেন।
তিনি বললেন, এটা কি নাহর তথা কুরবানির দিন নয়?
আমরা বললাম, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসul।
তিনি এবার বললেন, এটা কোন মাস?
আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসulই ভালো জানেন।
তিনি বললেন, এটা কি জিলহজ মাস নয়?
আমরা বললাম, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসul।
তারপর বললেন, এটা কোন শহর?
আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসulই ভালো জানেন।
বর্ণনাকারী বলেন, এমনকি আমরা মনে করলাম যে, রাসul সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাম পাল্টে রাখবেন।
তিনি বললেন, এটা কি পবিত্র মক্কা নগরী নয়?
আমরা বললাম, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসul।
তিনি বললেন, আজকের এই দিন, এই মাস এবং এই স্থান যেমন পবিত্র, তেমনিভাবে তোমাদের রক্ত, সম্পদ এবং সম্ভ্রমও তোমাদের জন্য পবিত্র। তাই উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিতকে জানিয়ে দেয়।
কখনো কখনো রাসul সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মস্তিষ্ককে উর্বর করার জন্য এই পদ্ধতি গ্রহণ করতেন এবং তার সাথে কথোপকথনকারীকে অনেক ভাবাতেন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. হতে বর্ণিত আছে,
একবার রাসul সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই বৃক্ষসমূহ হতে এমন একটি বৃক্ষ আছে যার পাতা কখনো পতিত হয় না, মুসলমানের দৃষ্টান্ত হচ্ছে সেই বৃক্ষের মতো। এবার আমাকে বলো সেই গাছ কোনটি?
লোকেরা বন-জঙ্গলের গাছের কথা বলতে লাগল। আমি ভাবলাম যে, সেটি হচ্ছে খেজুর গাছ।
আবদুল্লাহ বলেন, কিন্তু আমি উত্তর বলতে সংকোচবোধ করলাম।
সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসul, আমাদেরকে সে সম্পর্কে জানিয়ে দিন।
রাসul সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হচ্ছে খেজুর গাছ।
আবদুল্লাহ রাযি. বলেন, আমি আমার পিতাকে আমার এ ভাবনা সম্পর্কে জানালাম। তখন তিনি বললেন, এত এত চিন্তার বদলে তুমি যদি উত্তর দিয়ে দিতে তাহলে সেটাই আমার জন্য প্রিয় হতো。
টিকাঃ
৪৩ বুখারি, পরিচ্ছেদ: ইলম তথা জ্ঞান, অধ্যায়: কোনো ব্যক্তিকে অন্য বিষয়ে কথা বলার সময়ে প্রশ্ন করা হলে সে ব্যক্তি কথা শেষ করে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্পর্কিত, হাদিস নং ৫৯। মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৮৭১৪, সুনানুল কুবরা-বায়হাকি, হাদিস নং ২০১৫০।
৪৪ বুখারি, পরিচ্ছেদ: পোশাক, অধ্যায় এক ব্যক্তির পেছনে আরেকজনকে বসানো, হাদিস নং ৫৬২২। মুসলিম, পরিচ্ছেদ ঈমান, অধ্যায়: যে ব্যক্তি তাওহিদের ওপর থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সে যে নিশ্চিত রূপে জান্নাতে যাবে তার প্রমাণ, হাদিস নং ৩০, হাদিসের বাক্য তার বর্ণনা থেকেই চয়িত।
৪৫ বুখারি, পরিচ্ছেদ: হজ, অধ্যায় : মিনার দিনের খুতবা, হাদিস নং ১৬৫৪। মুসলিম, পরিচ্ছেদ: কাসামাহ, যোদ্ধা, কিসাস এবং রক্তপণ-সংক্রান্ত, অধ্যায়: রক্ত, সম্ভ্রম এবং সম্পদ হারাম হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ, হাদিস নং ১৬৭৯। হাদিসের বাক্য তার বর্ণনা থেকেই চয়িত।
📄 স্পষ্টতা এবং সংশয়হীনতা
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন স্পষ্টভাষী। তিনি তার আকিদা-বিশ্বাস এবং যার মাধ্যমে ইসলামের বিজয় হয়—এমন বিষয় প্রকাশে কোনো সংশয় এবং দ্বিধাবোধ করতেন না।
আদি ইবনে হাতিম রাযি. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যথাসময়ে নবুয়ত প্রদান করা হলো। তখন আমি তার চেয়ে বেশি আর কাউকে অপছন্দ করতাম না।
এরপরের দিনগুলো খুব দ্রুতই কেটে গেল। মক্কা বিজয় হলো। হাওয়াযিন গোত্র ইসলাম গ্রহণ করল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাযিরায়ে আরবে স্থাপিত মূর্তিগুলো ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন দল প্রেরণ করলেন। তারা মানুষের মন ও মস্তিষ্কে প্রভাব বিস্তার করল। এ সমস্ত অভিযানসমূহের মধ্য হতে একটি ছিল আলি রাযি.-এর অভিযান। তাকে তাঈ গোত্রের ফালস মূর্তি ধ্বংসকল্পে প্রেরণ করা হয়েছিল। তাঈ গোত্র তার বিরুদ্ধে প্রবল মোকাবিলায় দাঁড়িয়ে যায়। এরপর তাদের একটি দল পালিয়ে যায়। আদি ইবনে হাতিম তার স্ত্রী এবং সন্তানসন্ততি নিয়ে তাদের মিত্র শাম দেশে পালিয়ে যান। কিন্তু তার বোন সাফফানা বিনতে হাতিম মুসলমানদের হাতে বন্দী হন।
এ সময়েই মদিনায় সাফফানা এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে কথোপকথন হয়। এ কথোপকথনটি থেকে স্পষ্ট ভাবে জানা গেছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তিপণ ছাড়াই সাফফানার ওপর অনুগ্রহ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছেন।
এরপর সাফফানা তার ভাইকে তিরস্কারের উদ্দেশ্যে শামের দিকে রওনা হন। তাকে গিয়ে বলেন, তিনি এমন এক কাজ করেছেন যা তোমার পিতাও করতেন না। তুমি তার প্রতি আগ্রহী হয়ে অথবা তার ভয়ে ভীত হয়ে তার কাছে যাও।
আদি ইবনে হাতিম রাযি. বলেন, এরপর আমার অবস্থানের জায়গাটিকে আমার কাছে অপছন্দনীয় মনে হতে লাগল, এমনকি আমি যাকে ঘৃণা করে এসেছি, তারচেয়েও বেশি অপছন্দ করলাম।
এরপর বললাম, আমি অবশ্যই এই লোকটির কাছে যাব। আল্লাহর শপথ, যদি তিনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমি তার কথা শুনব। আর যদি তিনি মিথ্যা বলেন তাহলে তা আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
এরপর আদি মদিনায় আগমন করলেন। তিনি স্বীয় তাঈ গোত্রের একজন নেতা ছিলেন। তার পিতা হাতিম তাঈ দানশীলতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাই লোকেরা তার আগমনের কথা আলোচনা করতে লাগল। এরপর আদি ইবনে হাতিম রাযি. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আসলেন। এমতাবস্থায় আদি ইবনে হাতিম রাযি.-এর গলায় রূপার ক্রুশ ছিল। এ দেখে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেলাওয়াত করলেন-
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ
“তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের নেতৃবৃন্দ এবং যাজকদেরকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছে।” [সুরা তাওবাহ: ৩১]
আদি ইবনে হাতিম রাযি. বলেন, আমি বললাম, তারা তাদের উপাসনা করেনি।
তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তা ঠিক আছে। তবে নেতৃবৃন্দ এবং যাজকরা তাদের (খ্রিষ্টানদের) ওপর হালালকে হারাম বানিয়েছে, হারামকে হালাল বানিয়েছে আর তারা তাদের অনুসরণ করেছে। এর মাধ্যমে তাদেরই উপাসনা করা হলো।”
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন, হে আদি, তোমার কী মত? আল্লাহকে সবচেয়ে বড় ঘোষণা করা থেকে কোন বস্তু তোমাকে বারণ করছে? তুমি কি আল্লাহর চেয়ে বড় কিছু সম্পর্কে জানো? তাহলে কী তোমাকে বাধা দিচ্ছে? লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা থেকে কোন বস্তু তোমাকে ফিরিয়ে রাখছে? তাহলে তুমি কি আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপাস্য সম্পর্কে জানো?
এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আদি ইবনে হাতিম, ইসলাম গ্রহণ করো, শান্তি লাভ করবে।” এভাবে তিনবার বললেন।
আমি বললাম, আমি অপর এক ধর্ম মেনে চলি।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমার ধর্ম সম্পর্কে তোমার চেয়ে বেশি জানি।
আমি বললাম, কী আশ্চর্য, আপনি আমার ধর্ম সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জানেন?
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তুমি কি রুকুসিয়্যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে না? তুমি কি তোমার জাতির যুদ্ধলব্ধ অংশের এক চতুর্থাংশ আত্মসাৎ করোনি?
আমি বললাম, হ্যাঁ, তা করেছি।
তিনি বললেন, তোমার ধর্ম অনুযায়ী নিশ্চয়ই এটি বৈধ নয়।
আদি ইবনে হাতিম রাযি. বলেন, তিনি এ কথা বলার সাথে সাথেই আমি তার কাছে নতি স্বীকার করলাম।
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি ভেবেছ, তোমাকে কোন বিষয়টি ইসলাম গ্রহণে বাধা দিচ্ছে, তা আমি জানি না? জানি তুমি বলবে যে, এ ধর্মের অনুসরণকারী সকলে হচ্ছে দুর্বল, যাদের কোনো শক্তি নেই। আর আরবরা তাদের কোণঠাসা করে রেখেছে।
তুমি কি হিরাত শহর চেনো?
আমি বললাম, দেখিনি, তবে সেই শহর সম্পর্কে শুনেছি।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহ তাআলা এই ধর্মকে এমন পরিপূর্ণ করবেন যে, হিরাত থেকে এক অভিযাত্রী মহিলা সফরের উদ্দেশ্যে বের হবে এবং কারও সাহচর্য ছাড়াই বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে। আর অচিরেই আল্লাহ তাআলা কিসরা ইবনে হুরমুজের খনিসমূহ বিজিত করে দেবেন।
আমি বললাম, কিসরা ইবনে হুরমুজ!
তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিসরা ইবনে হুরমুজ। আর সম্পদের এতই প্রাচুর্য হবে যে কেউ তা গ্রহণ করতে চাইবে না।
পরবর্তী সময়ে আদি ইবনে হাতিম রাযি. বলেছেন, হিরাতের সেই অভিযাত্রী মহিলা কারও সাহচর্য ছাড়াই বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেছিল। আর যারা কিসরা ইবনে হুরমুজের খনিসমূহ বিজয় করেছে, আমি তাদের দলভুক্ত ছিলাম। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অচিরেই তৃতীয়টিও ঘটবে। কেননা, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বলে দিয়েছেন।
পারস্য তৎকালীন বিশ্বের বৃহত্তম একটি সাম্রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে আদি ইবনে হাতিম রাযি.-এর কাছে নির্দ্বিধায় ভবিষ্যদ্বাণী করে দিয়েছেন। কোনো কিছুই তাকে বাধা দিতে পারেনি। তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রত্যয়ী। অচিরেই যা ঘটবে, সে সম্পর্কে তিনি निःসংশয়ে বলে দিয়েছেন। কেননা তিনি প্রভুর প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে ছিলেন নিশ্চিন্ত।
টিকাঃ
৪৬ বুখারি, পরিচ্ছেদ: ইলম, অধ্যায়: জ্ঞানার্জনে লজ্জাবোধ করা, হাদিস নং ১৩১। মুসলিম, পরিচ্ছেদ: মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য এবং তাদের হুকুম, অধ্যায়: মুমিনের দৃষ্টান্ত খেজুর গাছের ন্যায়, হাদিস নং ২৮১১।
৪৭ ইবনে আসাকির রচিত তারিখে দিমাশক, তাহকিক আমর ইবনে গারামাহ আল-আমরাওয়ি, দারুল ফিকর, ১৪১৫ হিজরি/১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ, ৪০/৭৪। ইবনুল আসির রচিত উসদুল গাবাহ, ৩/৫০৪। ইমাম যাহাবি রচিত তারিখুল ইসলাম-ওফাইয়াতুল মাশাহিরি ওয়াল আ'লাম, তাহকিক : উমর আবদুস সালাম আত-তাদামুরি, দারুল কিতাবিল আরবি-বৈরুত, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৩ হিজরি/১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ, ২/৬৮৮, ৫/১৮৩।
৪৮ মুসনাদে আহমাদে বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত আকারে আছে, হাদিস নং ১৯৪০০। সহিহ ইবনে হিব্বান ৭২০৬। হায়সামি বলেন, আহমদ রহ. এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তার বর্ণনাকারীগণের প্রত্যেকেই সহিহের বর্ণনাকারী, তবে আব্বাদ ইবনে হুবাইশ ব্যতীত, তিনি একজন সাধারণ সিকাহ পর্যায়ের বর্ণনাকারী। দেখুন, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মামবাউল ফাওয়ায়েদ: ৫/৩৩৫।
৪৯ ইমাম তবারি রচিত তারিখুর রুসুলি ওয়াল মুলুক, ২/১৮৭। ইবনে কাসির রচিত আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ, ৪/১২৭। ইমাম যাহাবি রচিত তারিখুল ইসলাম, ২/৬৮৭।
৫০ মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১৯৩৯৭। শু'আইব আল-আরনাউত বলেছেন, এটি একটি হাসান পর্যায়ের সনদ। মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস নং ৮৫৮২, হাকিম বলেছেন, এই হাদিসটি শাইখাইনের শর্ত অনুযায়ী সহিহ, কিন্তু তারা বর্ণনা করেননি। সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৬৬৭৯। ইমাম বুখারি এ হাদিসের একটি অংশ বর্ণনা করেছেন, তা হচ্ছে আদিকে হিরাত এবং কাসরার খনি সম্পর্কে এবং সম্পদ ও সম্মানের প্রাচুর্যের সুসংবাদ সম্পর্কিত, অধ্যায়: নবুয়তের আলামত, হাদিস নং ৩৪০০।
৫১ তাফসিরে ইবনে কাসির, তাহকিক সামি ইবনে মুহাম্মদ সালামাহ, দারু তয়্যিবাহ, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪২০ হিজরি; ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪/১৩৫।
৫২ মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১৮২৮৬, শু'আইব আল-আরনাউত বলেছেন, হাদিসটির কিছু অংশ সহিহ তথা বিশুদ্ধ, তবে এই সনদটি হাসান পর্যায়ের। ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৬৬৭৯।