📘 কেমন ছিল প্রিয়নবীর আলাপচারিতা > 📄 শিক্ষাপ্রদান

📄 শিক্ষাপ্রদান


কথোপকথনকে যারা শিক্ষাপ্রদানের জন্য ব্যবহার করেছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যিনি তার উম্মতের জন্য সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে সুন্দর শিক্ষক ছিলেন। বরং তিনি সমস্ত মানবজাতির জন্য শিক্ষকস্বরূপ ছিলেন। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষণীয় কথোপকথনের ঘটনা অগণিত। যার কয়েকটি ঘটনা নিম্নরূপ :
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. কর্তৃক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবিগণের সাথে বসলেন। তখন তিনি সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি জানো, মুফলিস (দেওলিয়া, অসহায়, নিঃস্ব) কে?
তারা বললেন, আমাদের মাঝে মুফলিস তথা অসহায় হচ্ছে, যার কোনো দিরহাম এবং সহায়-সম্বল নেই।
তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব হচ্ছে তারা, যারা কিয়ামত দিবসে নামাজ, রোজা এবং জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। তবে এর সাথে সাথে কাউকে গালি দেওয়া, কারও নামে অপবাদ দেওয়া, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা, কারও রক্তপাত করা অথবা কাউকে আঘাত করার মতো অপরাধ নিয়েও উপস্থিত হবে। ফলে নিপীড়কের নেকি পীড়িতকে দিয়ে দেওয়া হবে। যদি তার অপরাধের হিসাব শেষ হওয়ার পূর্বেই তার নেকি নিঃশেষ হয়ে যায় তাহলে পীড়িতের অপরাধ তার কাঁধে চাপানো হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

টিকাঃ
৬ মুসলিম, পরিচ্ছেদ: সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তা রক্ষা এবং শিষ্টাচার, অধ্যায়: অত্যাচার হারাম হওয়া, হাদিস নং ২৫৮১। তিরমিযি, হাদিস নং ২৪১৮। মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৮০১৬। ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৪৪১১, সহিহ ইবনে হিব্বান বিতারতিবি ইবনি বালবান, তাহকিক :

📘 কেমন ছিল প্রিয়নবীর আলাপচারিতা > 📄 সন্দেহ দূরীকরণ

📄 সন্দেহ দূরীকরণ


যেমনিভাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথোপকথনের মাধ্যমে লোকদেরকে সঠিক শিক্ষা প্রদান করতেন, তেমনিভাবে তাদেরকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ানো সন্দেহ-সংশয়গুলোকেও দূরীভূত করতেন। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কয়েকজন সাহাবি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বললেন, আমাদের অন্তরে এমন অনেক কুপ্রবৃত্তি সৃষ্টি হয়, যা প্রকাশ করাকে আমরা বেশ কঠিন মনে করি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা কি আসলেই তা উপলব্ধি করেছ?”
তারা বললেন, “জি, হ্যাঁ।”
তিনি বললেন, “এটিই ঈমানের স্পষ্ট নিদর্শন।”
এখানে আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেলাম যে, তিনি ওই সকল সাহাবায়ে কেরামের ভয়কে নির্বাপিত করছেন, যাদের কাছে শয়তান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা সম্পর্কে বিভিন্ন সংশয় নিয়ে আসে। আর তাদের নিকটে বর্ণনা করেছেন যে, খাঁটি ঈমানের গুণাবলি তাদের মাঝে থাকার কারণেই এমনটি হয়েছে।
এমনিভাবে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত আছে যে, এক লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে কাফিরদেরকে তাদের চেহারায় ভর করিয়ে কীভাবে সমবেত করবেন?”
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যিনি তাকে পৃথিবীতে দু-পায়ের উপর ভর করিয়ে চালিয়েছেন তিনি কি তাকে কিয়ামত দিবসে চেহারায় ভর করিয়ে চালিত করতে সক্ষম নন?”
কাতাদাহ বললেন, “অবশ্যই, আমার প্রভুর বড়ত্বের শপথ।"
এই ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে কাফিরদেরকে তাদের চেহারায় ভর করিয়ে চালিত করার বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তিনি নিজেকে প্রশ্ন করছিলেন, কাফেররা কি তাদের দুই পায়ে ভর করে চলতে সক্ষম নয়? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বুঝিয়ে দিলেন যে, এই ব্যাপারটি আল্লাহ তাআলার ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত; মানুষের ক্ষমতার সাথে নয়।

টikaḥ
৭ মুসলিম, পরিচ্ছেদ: সদ্‌ব্যবহার, আত্মীয়তা রক্ষা এবং শিষ্টাচার, অধ্যায়: ক্রোধের সময় আত্মনিয়ন্ত্রণের মর্যাদা এবং যে সকল বস্তুর মাধ্যমে ক্রোধ দূরীভূত হয় সে সম্পর্কিত, হাদিস নং ২৬০৮। আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৭৭৯, তাহকিক মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আবদুল হামিদ, দারুল ফিকর। ইবনে হিব্বان, হাদিস নং ২৯৫০। মুসনাদে আবু ইয়া'লা, হাদিস নং ৫১৬২, তাহকিক : হুসাইন সুলাইম আসাদ, দারুল মামুন লিততোরাস-দামেশক, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি/১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ। ইমাম বায়হাকি রচিত শু'আবুল ঈমান, হাদিসের তাহকিক, নছ সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং হাদিসের তাখরিজ করেছেন ড. আবদুল আলি আবদুল হামিদ হামেদ, মাকতাবাতুর রুশদ-মুম্বাই, ভারত, প্রথম সংস্করণ, ১৪২৩ হিজরি; ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ, হাদিস নং ৮২৭৩।
৮ মুসলিম, পরিচ্ছেদ: ঈমান, অধ্যায় ঈমানের ক্ষেত্রে সংশয় পোষণ এবং যারা সংশয়ের স্বীকারোক্তি প্রদান করে সে সম্পর্কিত, হাদিস নং ১৩২।
৯ বুখারি, পরিচ্ছেদ: রিকাক, অধ্যায়: হাশর কীভাবে হবে সে সম্পর্কিত, হাদিস নং ৬১৫৮। মুসলিম, পরিচ্ছেদ: মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য এবং হুকুম, অধ্যায়: কাফেরদের চেহারায় ভর করিয়ে কীভাবে সমবেত করা হবে? এ সম্পর্কিত, হাদিস নং ২৮০৬। আর হাদিসের বাক্য এই সনদ থেকে চয়িত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00