📘 কাশফুশ শুবহাত > 📄 ইবাদতে আল্লাহর একত্বের প্রতিষ্ঠা

📄 ইবাদতে আল্লাহর একত্বের প্রতিষ্ঠা


প্রথমেই জেনে রাখা প্রয়োজন যে, তাওহীদের অর্থ ইবাদতকে পাক পবিত্র আল্লাহর জন্যই একক ভাবে সুনির্দিষ্ট করা। আর এটাই হচ্ছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূলগণের দ্বীন। যে দ্বীনসহ আল্লাহ তাঁদেরকে প্রেরণ করেছিলেন। সেই রাসূল-গণের প্রথম হচ্ছেন নূহ 'আলাইহিস্ সালাম। আল্লাহ্ তাঁকে তাঁর কাওমের নিকট সেই সময় পাঠালেন যখন তারা ওয়াদ্দ, সুওয়া', ইয়াগুস, ইয়া'উক ও নাস্র নামীর কতিপয় সৎ লোকের ব্যাপারে অতি মাত্রায় বাড়াবাড়ি করে চলেছিল। আর সর্ব শেষ রাসূল হচ্ছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম, যিনি ঐ সব নেক লোকদের মুর্তি ভেঙ্গে চুর্ণ বিচূর্ণ করেন। আল্লাহ তাঁকে এমন সব লোকের মধ্যে পাঠান যারা ইবাদত করত, হজ্জ করত, দান খয়রাত করত এবং আল্লাহকেও অধিক মাত্রায় স্মরণ করত। কিন্তু তারা কোনো কোনো সৃষ্ট ব্যক্তি ও বস্তুকে আল্লাহ্ এবং তাদের মাঝে মাধ্যম রূপে দাঁড় করাত। তারা বলত, তাদের মধ্যস্থতায় আমরা আল্লাহর নৈকট্য কামনা করি, আর আল্লাহর নিকট (আমাদের জন্য) তাদের সুপারিশ কামনা করি। তাদের এই নির্বাচিত মাধ্যমগুলো হচ্ছে: ফেরেশতা, ঈসা, মারইয়াম এবং মানুষের মধ্যে যাঁরা সৎকর্মশীল- আল্লাহ্ সালেহ বান্দা। অবস্থার এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ প্রেরণ করলেন মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের পূর্ব পুরুষ ইব্রাহীম আলাহিস্ সালাম এর দ্বীনকে তাদের জন্য নব প্রাণ শক্তিতে উজ্জীবিত করার জন্য। তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিলেন যে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের এই পথ এবং এই প্রত্যয় একমাত্র আল্লাহরই হক। এর কোনোটিই আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য কোনো ফেরেশতা এবং কোনো প্রেরিত রাসূলের জন্যও সিদ্ধ নয়। অপরাপর লোকেরা তো পরের কথা!

তা ছাড়া ঐ সব মুশরিকগণ সাক্ষ্য দিত যে, আল্লাহই একামাত্র সৃষ্টিকর্তা, সৃষ্টিতে তাঁর কোনো শরীক নেই। বস্তুত: তিনিই একমাত্র রেযেকদাতা, তিনি ছাড়া রেযেক দেওয়ার আর কেউ নেই। জীবনদাতাও একমাত্র তিনিই, আর কেউ মৃত্যু দিতে পারে না। বিশ্ব জগতের একমাত্র পরিচালকও তিনিই, আর কারোরই পরিচালনার ক্ষমতা নেই। সপ্ত আকাশ ও যা কিছু তাদের মধ্যে বিরাজমান এবং সপ্ত তবক যমীন ও যা কিছু তাদের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে সব কিছু তাঁরই অনুগত দাসানুদাস, সবই তাঁর ব্যবস্থাধীন এবং সব কিছুই তাঁরই প্রতাপে এবং তাঁরই আয়ত্তাধীনে নিয়ন্ত্রিত।

📘 কাশফুশ শুবহাত > 📄 তাওহীদে রবুবিয়াত বনাম তাওহীদ ফিল 'ইবাদত

📄 তাওহীদে রবুবিয়াত বনাম তাওহীদ ফিল 'ইবাদত


[রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সব মুশ্রিকের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তারা তাওহীদে রবুবিয়াত অর্থাৎ আল্লাহ যে মানুষের রব, প্রতিপালক ও প্রভু একথা স্বীকার করত কিন্তু এই স্বীকৃতি ইবাদতে শির্ক এর পর্যায় থেকে তাদেরকে বের করে আনতে পারে নি- আলোচ্য অধ্যায়ে তারই বিশদ বিবরণ রয়েছে]

যে সব কাফেরের সঙ্গে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধ করেছেন তারা তাওহীদে রবুরিয়তের সাক্ষ্য প্রদান করত-এই কথার প্রমাণ যদি তুমি চাও তবে নিম্ন লিখিত আল্লাহ্র বাণী পাঠ কর:

قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمَّن يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَرَ وَمَن يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَقِّ وَمَن يُدَبِّرُ الْأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ ﴾ [يونس: ٣١]

“বলুন, 'কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে জীবনোপকরণ সরবরাহ করেন অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন, জীবিতকে মৃত থেকে কে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত হতে কে বের করেন এবং সব বিষয় কে নিয়ন্ত্রণ করেন?' তখন তারা অবশ্যই বলবে, 'আল্লাহ্। সুতরাং বলুন, 'তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?' (সূরা ইউনুস : ৩১)

আল্লাহ তা'আলা আরও বলেছেন :

قُل لِمَنِ الْأَرْضُ وَمَن فِيهَا إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ * سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ * قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ * سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ ﴾ [المؤمنون: ٨٤، ٨٩]

“বলুন, 'যমীন এবং এতে যা কিছু আছে এগুলো (র মালিকানা) কার? যদি তোমরা জান (তবে বল)। অবশ্যই তারা বলবে, 'আল্লাহ্।' বলুন, 'তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?' বলুন, 'সাত আসমান ও মহা-'আরশের রব কে?' অবশ্যই তারা বলবে, 'আল্লাহ্। বলুন, 'তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না? বলুন, 'কার হাতে সমস্ত বস্তুর কর্তৃত্ব? যিনি আশ্রয় প্রদান করেন অথচ তাঁর বিপক্ষে কেউ কাউকে আশ্রয় দিতে পারে না, যদি তোমরা জান (তবে বল)। অবশ্যই তারা বলবে, 'আল্লাহ্।' বলুন, 'তাহলে কোথা থেকে তোমরা জাদুকৃত হচ্ছো? (সূরা মু'মেনুন : ৮৪-৮৯)। অনুরূপ আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

যখন এ সত্য স্বীকৃত হলো যে, তারা আল্লাহর রবুবিয়াতের গুণাবলীর স্বীকৃতি দিত, অথচ তাদের সেই ঈমান তাদেরকে সেই তাওহীদে প্রবেশ করায় নি -যার প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর তুমি এটাও অবগত হলে যে, যে তাওহীদকে তারা অস্বীকার করেছিল সেটা ছিল তাওহীদে ইবাদত (ইবাদতে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত করা)- আমাদের যুগের মুশরিকগণ যাকে 'ই'তেকাদ” বলে থাকে। তাদের ঐ "ই'তেকাদের” নমুনা ছিল এই যে, তারা আল্লাহকে দিবানিশি আহবান করত, আর তাদের অনেকেই আবার ফেরেশতাদেরকে এজন্য আহবান করত যে, ফেরেশতাগণ তাদের সৎ স্বভাব ও আল্লাহর নৈকট্যে অবস্থান হেতু তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে; অথবা তারা কোন পূণ্য স্মৃতি ব্যক্তি বা নবীকে ডাকতো যেমন 'লাত' বা ঈসা 'আলাইহিস্ সালাম।

টিকাঃ
১. রাসূলের যুগের আরবের মুশরিকদের।

📘 কাশফুশ শুবহাত > 📄 লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর প্রকৃত তাৎপর্য

📄 লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর প্রকৃত তাৎপর্য


[লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে তাওহীদে ইবাদত। বর্তমান যুগে ইসলামের দাবীদারগণের তুলনায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সময়ের কাফেরগণ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু-এর অর্থ বেশী ভাল জানতো। বক্ষমাণ অধ্যায়ে এ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হচ্ছে।]

কালেমা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর অর্থ ও তাৎপর্য বলতে যা বুঝায় তাই হচেছ তাওহীদে ইবাদত। আর বর্তমান যুগে ইসলামের দাবীদারগণের তুলনায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সময়ের কাফেরগণ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু-এর অর্থ বেশী ভাল জানতো। আর যখন তুমি বল, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বা আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তখন এ তাওহীদই তোমার কথার উদ্দেশ্য। কেননা, তাদের নিকট 'ইলাহ' হচ্ছেন সেই সত্তা যাকে এ সকল কাজে (বিপদাপদ, নযর নিয়ায, যবেহ, আশ্রয় ইত্যাদিতে) উদ্দেশ্য নেয়া হয়। চাই তা ফেরেশতা, নবী, ওলী, বৃক্ষ, কবর, জিন যা-ই হোক না কেন'। তখনকার কাফেরগণ এ (কালেমা দ্বারা) কখনও এটা উদ্দেশ্য নিত না যে, ইলাহ হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা, আহার দাতা, সব কিছুর ব্যাবস্থাপক বা পরিচালক। কেননা কাফেররা এটা জানত এবং স্বীকার করত যে, এই সব গুণাবলী অর্থাৎ সৃষ্টি করা, আহার দান এবং ব্যবস্থাপনা একমাত্র একক আল্লাহর জন্যই সুনির্দিষ্ট, আর কারোরই তা করবার ক্ষমতা নেই (এ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা আমরা পূর্বেই করেছি)। বরং আরবের তৎকালীন মুশরিকরা “ইলাহ” এর সেই অর্থই বুঝত যা আজ কালের মুশরিকগণ "সাইয়েদ” “মুর্শিদ” ইত্যাদি শব্দ দ্বারা বুঝে থাকে। এ ধরণের বিশ্বাসের সময়ই নবী করীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকটে কালেমায়ে তাওহীদের আহ্বান নিয়ে আগমন করেছিলেন, সেটা হচ্ছে “লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ”। আর এই কালেমার অর্থই হচ্ছে এর আসল উদ্দেশ্য, শুধুমাত্র এর শব্দগুলি উদ্দেশ্য নয়।

রাসূলের সময়ের অজ্ঞ কাফেররাও এ কথা জানত যে, এই কালেমা থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য ছিল: যাবতীয় সৃষ্ট বস্তু থেকে সম্পর্কচ্যুত হয়ে কেবলমাত্র আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরী করা। (কোনো সৃষ্টজীবের ইবাদত থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করা) তাঁকে ছেড়ে আর যাকে বা যে বস্তুকে উপাসনা করা হয় তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা এবং তা থেকে বিমুক্ত থাকা। কেননা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাফেরদের লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা বল: “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ”- 'আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো হক্ক মা'বুদ নেই', তখন তারা বলে উঠল,

أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ ) ) [ ص: ٥]

“এই লোকটি কি বহু উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করছে? এ তো ভারী এক আশচর্য্য ব্যাপার!” (সূরা সাদ : ৫)

যখন তুমি জানতে পারলে যে, অজ্ঞ-মূর্খ কাফেরগণও কালেমার অর্থ বুঝে নিয়েছিল, তখন এটা কত বড় আশ্চর্য্যের বিষয় যে, অজ্ঞ-মূর্খ কাফেরগণও কালেমার যে অর্থ বুঝতে পেরেছিল, ইসলামের (বর্তমান) দাবীদারগণ তাও বুঝে উঠতে সক্ষম হচ্ছে না ! বরং এরা মনে করছে কালেমার আক্ষরিক উচ্চারণই যথেষ্ট, তার প্রকৃত অর্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করে অন্তর দিয়ে প্রত্যয় পোষণ করার প্রয়োজন নেই।

বর্তমানকালের মুসলিম নামধারীদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান (বুদ্ধিজীবী কিংবা দার্শনিক) বলে পরিচিত, তারা এ কালেমার অর্থ করে থাকে যে, এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই, কোনো রুযীদাতা নেই এবং একমাত্র তিনিই সব কিছুর পরিচালক, তিনিই সব বিষয়ের ব্যবস্থাপক। (অথচ এ অর্থটি এ কালেমার সঠিক অর্থ নয়) তাহলে এটা সাব্যস্ত হচ্ছে যে এমন মুসলিম নামধারী লোকের মধ্যে কোনো মঙ্গল নেই যার চেয়ে (তৎকালীন আরবের) অজ্ঞ-মূর্খ কাফেরও কালেমা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র এর অর্থ বেশী জানত।

টিকাঃ
২. রাসূলের যুগের আরবের মুশরিকদের নিকট।
৩. অর্থাৎ ফেরেশতা, নবী, ওলী, বৃক্ষ, কবর, জিন যাদেরকেই ঐ সকল কাজে আহ্বান জানানো হয়, তারাই 'ইলাহ' হিসেবে স্বীকৃত হয়ে যাবে। এটা রাসূলের সময়কার আরবের মুশরিকরা ভালোভাবেই জানত।
৪. রাসূলের যুগের।

📘 কাশফুশ শুবহাত > 📄 তাওহীদের জ্ঞান লাভ আল্লাহর এক বিরাট নে'আমত

📄 তাওহীদের জ্ঞান লাভ আল্লাহর এক বিরাট নে'আমত


[একজন মুমিনের এটা জানা যে, তাওহীদ সম্পর্কে মু'মিনের জ্ঞান লাভ তার প্রতি আল্লাহর এমন এক নে'আমত যে জন্য আনন্দ প্রকাশ করা এবং এটা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয় থাকা তার অবশ্য কর্তব্য]

যা বর্ণিত হয়েছে (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর অর্থ হচ্ছে, ইবাদতে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা), যখন তুমি মন থেকে তা বুঝতে সক্ষম হলে। আরও বুঝতে পারলে আল্লাহর সাথে (কিভাবে) শির্ক (হয় সেটা) সম্পর্কে, যে শির্ক (এর পরিণতি) সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেছেন,

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاءُ ) ]116 ،النساء: ٤٨[

“নিশ্চয় আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে শরীক করার যে পাপ তা তিনি ক্ষমা করেন না, এ ছাড়া অন্য যে কোন পাপ তিনি যাকে ইচ্চা মাফ করে দিবেন।” (সূরা নেসা : ৪৮, ১১৬)

আর সে দ্বীনকেও জানতে পারলে, যে দ্বীন নিয়ে শুরু হতে শেষ পর্যন্ত রাসূলগণকে আল্লাহ প্রেরণ করেছেন এবং যে দ্বীন ছাড়া আল্লাহ অন্য কোন দ্বীনই কবুল করবেন না।

তাছাড়া অধিকাংশ মানুষের মধ্যে যেভাবে অজ্ঞতা-মূর্খতা ছেয়ে গেছে তাও সম্যক জানতে ও বুঝতে পারলে, তখন তুমি দু'টি উপকার লাভ করবে,

এক: আল্লাহর দয়া ও তাঁর রহমতের উপর খুশি হবে, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُواْ هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ ) [يونس: ٥٨]

“বল ! আল্লাহ এই যে ইন'আম এবং তাঁর এই যে রহমত (তোমরা পেয়েছ) এর জন্য সকলের উৎফুল্ল হওয়া উচিত, তারা যা পুঞ্জীভূত করে তা অপেক্ষা তা কতই না উত্তম।” (সূরা ইউনুস : ৫৮)

দুই : আর তোমার মধ্যে (তা) ভীষণ ভয়েরও উদ্রেক করবে। কারণ, যখন তুমি বুঝতে পারলে যে, মানুষ তার মুখ থেকে বের হওয়া কোনো একটি কথার জন্য কুফরি করে ফেলতে পারে। এমন কি যদিও সে উক্ত কথাটি অজ্ঞতা বশত বলে ফেলে তবুও; আর তার অজ্ঞতা ওযর হিসেবে বিবেচিত হবে না'। অথবা হতে পারে সে এ কথাটি বলেছে এমতাবস্থায় যে সে মনে করেছে যে এটা তাকে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য এনে দেবে, যেমন মুশরিকরা মনে করত; (কিন্তু সেটাও তাকে কুফরিতে নিপতিত করতে পারে)। বিশেষত: যখন কুরআনে বর্ণিত মুসা 'আলাইহিস সালামের ঘটনাটি আল্লাহ তা'আলা তোমার মনে উদয় করিয়ে দিবেন, যে ঘটনায় মূসার কওম সৎ ও জ্ঞানী গুণী হওয়া সত্ত্বেও বলেছিল :

اجْعَل لَّنَا إِلَيْهَا كَمَا لَهُمْ عَالِهَةٌ [الاعراف: ۱۳۸]

“আমাদের জন্যও একটি উপাস্য (মূর্তি) স্থির করে দিন, যেমন তাদের জন্য রয়েছে বহু উপাস্য মুর্তি!” (সূরা আ'রাফ : ১৩৮)। যখন এ ঘটনাটি উপলব্ধি করতে পারবে, তখন (কুফর, শির্কের) ভয় তোমার কাছে বৃহৎ হয়ে দেখা দিবে এবং এ জাতীয় বিষয় (কুফর, শির্ক) ও অনুরূপ বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য জন্য তোমার আগ্রহ বেড়ে যাবে।

টিকাঃ
৫. সঙ্গত কোনো কারণ ছাড়া অজ্ঞতা ওজর হিসেবে বিবেচিত হবে না। সঙ্গত কারণের মধ্যে রয়েছে, লোকালয়ে না থাকা, যেখানে কেউ তাকে এ ব্যাপারে সাবধান করার নেই সেখানে অবস্থান করা, দেশে মূর্খতা ছেয়ে যাওয়া। কিন্তু জানা-শুনার সুবিধা থাকা সত্বেও যদি অজ্ঞতার দোহাই দেওয়া হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ব্যাপারটি পরিবেশ ও পরিস্থিতি হিসেবে ভিন্ন হতে বাধ্য। [সম্পাদক]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00