📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 শিক্ষা ও উপদেশ

📄 শিক্ষা ও উপদেশ


এক.
এই দুনিয়া কর্মের স্থান, বিনিময় প্রাপ্তির স্থান নয়। তবু আল্লাহ তাআলা কোনো কোনো সময় অপরাধীদেরকে এই দুনিয়াতেই তাদের কৃতকর্মের পরিণাম ভোগ করান। তাদেরকে এমনভাবে পাকড়াও করেন যে, তাদের নিজেদেরকে এবং সমসাময়িক ব্যক্তিদেরও স্বীকার করতে হয় যে, এটা তাদের অপরাধ ও পাচারেরই শাস্তি। তাদের ঐতিহাসিক জীবন পরবর্তী মানুষের জন্য শিক্ষা ও উপদেশ লাভের উপকরণে পরিণত হয়।
বিশেষ করে, অহঙ্কার ও অত্যাচার—এই দুটি ভয়ঙ্কর ও গুরুতর অপরাধ; বরং এ-দুটি যাবতীয় গর্হিত কাজের মূল। ফলে অহঙ্কারী ও অত্যাচারীকে আখেরাতের শাস্তি ছাড়াও দুনিয়াতেও অবশ্যই তার অপকর্মের কিছু-না-কিছু পরিণাম ভোগ করতেই হয়। পার্থক্য কেবল এই যে, ব্যক্তিগত অহঙ্কার ও অত্যাচারের পরিণাম ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। আর জাতিগত ও সমষ্টিগত অহঙ্কার ও অত্যাচারের পরিণাম জাতিগত ও সমষ্টিগত জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে। এ-কারণে প্রথমটির সময়সীমা এতটা দীর্ঘ হয় না; কিন্তু দ্বিতীয়টার ক্ষেত্রে সময়সীমা কখনো কখনো এতটা দীর্ঘ হয়ে থাকে যে, পরিণাম ভোগরত সম্প্রদায় বা জাতি নৈরাশ্যের সীমায় পৌঁছে যায়। তার দৃষ্টি থেকে এই বিন্দুটি দূরে সরে যায় যে, জাতি ও সম্প্রদায়ের উন্নতি ও অবনতি, সম্মান ও অসম্মান এবং সফলতা ও ব্যর্থতার আয়ুষ্কাল ব্যক্তিবিশেষের আয়ুষ্কালের মতো হয় না। বরং তা অনেক দীর্ঘ হয়ে থাকে। তারপরও কোনে কোনো ক্ষেত্রে উপদেশ ও শিক্ষা লাভের বিষয়টিকে স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই সময়সীমাকে সংক্ষিপ্তও করে দেয়া হয়। যেমন: ইহুদিদের আলোচনায় ইতিহাসের ঘটনাবলি ও অবস্থাসমূহ এ-কথার জীবন্ত ও চিরন্তন সাক্ষী এবং হাজার উপদেশ ও শিক্ষা লাভের উপযোগী।
দুই.
সত্যকে অবিশ্বাসকারী ও মিথ্যার পূজারী সম্প্রদায়গুলো যদি উপদেশ ও জ্ঞান লাভের জন্য দুনিয়াতে কোনো ধরনের শাস্তি দেয়া হয় বা আল্লাহ আযাব তাদেরকে পাকড়াও করে, তবে তার অর্থ এই নয় যে, আখেরাতের শাস্তিকে তাদের থেকে মওকুফ করা হবে। বরং তা যথাযথ বহাল থাকে এবং যথাসময়ে বাস্তব রূপ নেয়।
তিন.
আল্লাহ তাআলা যখন কোনো সম্প্রদায়কে তাদের অসৎ কার্যকলাপ, অন্যায়, অত্যাচার ও অশান্তি সৃষ্টির জন্য আযাবের মধ্যে নিপতিত করতে এবং কর্মফলের নীতিকে তাদের ওপর বাস্তবায়িত করতে চান, তবে আল্লাহ তাআলার এই নীতি প্রচলিত আছে যে, তিনি মানুষের অপকর্মের পরে তৎক্ষণাৎই এমন শাস্তি দেন না; বরং এক দীর্ঘকাল তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। সরলপথ প্রদর্শক ও নবীগণের মাধ্যমে তাদেরকে ভালো কাজের উৎসাহ প্রদান এবং ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে হেদায়েতের পথে আনয়নের সব ধরনের সুযোগ দিয়ে থাকেন। যাতে আল্লাহর দলিল ও প্রমাণ সব দিক থেকে পূর্ণ হয়ে যায়। এর পরেও যদি তাদের অবাধ্যতা, বিদ্রোহ, অনাচার ও অত্যাচার এবং শত্রুতার ধারা আগের মতোই অব্যাহত থাকে, তবে তাঁর কঠোর পাকড়াও অকস্মাৎ অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যে, তাদের কৃতকর্মের পরিণাম ভোগ করা ব্যতীত আর কোনো উপায়ই থাকে না। তাদের সামনে আল্লাহ তাআলার এই ফরমান দৃশ্যমানতার আকারে প্রকাশিত হয়-
وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيِّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ
'অত্যাচারীরা সত্বরই জানতে পারবে তারা কোথায় প্রত্যাবর্তন করবে।'১৪৭

টিকাঃ
**১৪৫. সুরা ইবরাহিম: আয়াত ২০।
**১৪৬. সুরা হাশর: আয়াত ২。
**১৪৭. সুরা শুআরা: আয়াত ২২৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00