📄 বিকৃতির স্বরূপ
সুরা বাকারা ও সুরা আ'রাফ এবং সুরা মায়িদায় রয়েছে-
وَجَعَلَ كُونُوا قَرَدَةً خَاسِنِينَ
'তোমরা ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও';
مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ
এবং আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে কতিপয় লোককে বানর ও শূকর বানিয়ে দিলেন। '৫৪
তো, এখানে মানুষের বানরে ও শূকরে রূপান্তরিত হওয়ার অর্থ কী? জমহুর উলামায়ে কেরামের মত এই যে, এর দ্বারা সত্যিকারের বিকৃতিই (আকৃতি বিকৃত করে দেয়াই) উদ্দেশ্য। প্রখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ বলেন, এর দ্বারা রূপক বা অভ্যন্তরীণ বিকৃতি উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, শাস্তিপ্রাপ্তরা সত্যিকার বানরের আকৃতিতে রূপান্তরিত হয় নি; বরং তাদের অন্তর রূপান্তরিত ও বিকৃত হয়েছিলো। তাঁর বক্তব্য এই-
قال: مسخت قلوبهم، ولم يمسخوا قردة، وإنما هو مثل ضربه الله { كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا } [الجمعة : 5] ... وهذا سند جيد عن مجاهد، وقول غريب خلاف الظاهر من السياق في هذا المقام وفي غيره,
মুজাহিদ রহ. বলেন, "তাদের অন্তরসমূহ বিকৃত হয়েছিলো; তারা সত্যিকারের বানরে পরিণত হয় নি। এটি মূলত একটি দৃষ্টান্ত, যা আল্লাহ বিবৃত করেছেন। যেমন কুরআনে রয়েছে 'তাদের দৃষ্টান্ত হলো পুস্তক বহনকারী গর্দভ!'৫৫ মুজাহিদের দিক থেকে এটি বিশুদ্ধ সনদ। এটি অভিনব বক্তব্য। এখানে ও অন্যান্য সুরায় এ-প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে, এই বক্তব্য তার বাহ্যিক অর্থের বিপরীত।"৫৬
জমহুর উলামায়ে কেরামের বিপরীতে মুজাহিদ রহ. একা এই বক্তব্য প্রদান করেছেন। তা ছাড়া তাঁর বক্তব্য কুরআনের প্রকাশ্য ভাবেরও বিপরীত। তা এ-কারণে যে, সুরা বাকারায় বিকৃতির ঘটনাকে উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে যে, এই শাস্তি যেমন নাফরমান ও অবাধ্য লোকদের কৃতকর্মের ফল প্রদানের জন্য জরুরি ছিলো, তেমনিভাবে তাতে এই হেকমত ও কল্যাণকামিতাও ছিলো, যেনো দেহমনকে অবশ-করে-দেয়া এই ঘটনা আশপাশের অধিবাসীদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপকরণ হয়ে যায়। যেমন: আল্লাহ তাআলার ইরশাদ করেছেন—
فَجَعَلْنَاهَا نَكَالًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ
আমি তা তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের শিক্ষাগ্রহণের জন্য দৃষ্টান্ত ও মুত্তাকিদের জন্য উপদেশ-স্বরূপ করেছি।” [সুরা বাকারা: আয়াত ৬৬]
সুতরাং, বিকৃতির এই শাস্তি যদি অন্তরের বিকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো, তবে আশপাশের অধিবাসীদের জন্য তা কেমন করে ভীত হওয়া ও উপদেশ গ্রহণের উপকরণ হবে? কারণ, অন্তরের বিকৃতির অর্থ তো এই যে, শাস্তিপ্রাপ্তরা হেদায়েত ও সৎপথ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টি তো অন্য মানুষের চোখে দৃশ্যমান ও অনুভূত হতে পারে না; বরং এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়, যাকে অন্য মানুষ ফল ও পরিণাম দর্শন বা অনেক অভিজ্ঞতা লাভের পরেই কেবল জানতে পারে। তা ছাড়া হেদায়েত কবুল না করা অথবা হেদায়েতকে অস্বীকার করার বিষয়টি তো কেবল ওই মুষ্টিমেয় লোকের জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং তা প্রত্যেক নবীর দাওয়াত ও তাবলিগের সময়ই ঘটতে থাকে। অতএব, যদি আসহাবে সাবত বা শনিবারঅলাদের ধারাবাহিক অবাধ্যতার ফলে তাদের অন্তরকে বিকৃত করে দেয়া হয়ে থাকে, অর্থাৎ, তাদের অন্তর থেকে সত্য গ্রহণের ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়া হয়ে থাকে, তবে তাতে এমন কোন্ বিশেষ বিষয়ের আবির্ভাব ঘটে যার কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরকে বিকৃত করার নির্দেশ ব্যক্ত করার জন্য كُونُوا قِرَدَةً خَاسِنِينَ 'তোমরা ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও' বাক্য ব্যবহার করেন?
তা ছাড়া এই বাক্য দ্বারা যদি কেবল অন্তরকে বিকৃত করে দেয়াই উদ্দেশ্য হতো, তবে অলঙ্কারশাস্ত্রের নিয়ম অনুসারে কেবল এতটুকু বলে দেয়াই যথেষ্ট ছিলো যে, كُونُوا قِرَدَةً 'তোমরা বানরের মতো হয়ে যাও'। অর্থাৎ, মানুষের দৃষ্টিতে বানর যেমন দুষ্ট ও ইতর প্রাণী, তেমনি তোমরাও। তোমাদের চেহারা মানুষেরই বটে, তবে তোমাদের অন্তরের নিকৃষ্টতা ও ইতরামি বানরের মতোই।
আর এখানে قِرَدَةً শব্দের বিশেষণ বলা হয়েছে خَاسِنِينَ অর্থাৎ, ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট। বানরের সঙ্গে এই বিশেষণ যোগ করার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন ছিলো না। তার কারণ হলো এই : যখন তাদের চেহারা বানরের আকৃতিতে বিকৃত হয়ে পরিবর্তিত হলো না, তখন এই ব্যাখ্যা সঠিক নয় যে, কেবল যদি বানর বলা হতো, তাহলে মনের মধ্যে একটি সন্দেহ জেগে ওঠার সম্ভাবনা ছিলো যে, কোনো কোনো পোষা বানর পালকের দৃষ্টিতে প্রিয় হয়ে থাকে, সুতরাং কাউকে ‘তাকে বানরের মতো মনে হয়' বলা নিন্দা প্রকাশের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তাই জরুরি হয়ে পড়েছে خَاسِنِينَ বা 'ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট' বিশেষণটি যোগ করে এ-কথা বলে দেয়া যে, তাদেরকে প্রিয় বানর নয়, বরং নিকৃষ্ট, ঘৃণিত ও হীন বানরে রূপান্তরিত করে দেয়া হয়েছে ছিলো।
উল্লিখিত ব্যাখ্যা (خَاسِنِينَ বা ‘ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট' বিশেষণটি যোগ করার প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা) তখনই সঠিক হতে পারে, যদি ওই মানুষগুলোকে সত্যিকারের বানরের আকৃতিতে বিকৃত করে দেয়া হয়ে থাকে। আর যেহেতু বানরের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে কোনো কোনো মানুষ বানর পোষে এবং বানরকে প্রিয় মনে করে, ফলে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরকে বানরের আকৃতিতে এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছে, যেনো দর্শকেরা তাদেরকে নিকৃষ্ট মনে করে এবং তাদের কাছে আসতে ঘৃণাবোধ করে।
মুজাহিদ রহ.-এর এ-কথা বলাও সঠিক নয় যে, মানুষের বানর হওয়া তেমনই একটি দৃষ্টান্ত যেমন আমল-না-কারী আলেমের জন্য দৃষ্টান্ত প্রদান করা হয়েছে : كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا তাদের দৃষ্টান্ত হলো পুস্ত ক বহনকারী গর্দভ!"৫৭ তাঁর এই উক্তি এ-কারণে সঠিক নয় যে, কুরআন মাজিদ যেসব স্থানে দৃষ্টান্ত পেশ করেছে সেখানে হয় তো তাকে مثل (দৃষ্টান্ত) বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: উল্লিখিত আয়াতের দৃষ্টান্ত, বা مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا 'তাদের দৃষ্টান্ত হলো ওই লোকের মতো যে আগুন প্রজ্জ্বলিত করেছে', মুনাফিকদের দৃষ্টান্ত, বা 'মশা বা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো বস্তুর উপমা'-এর মতো দৃষ্টান্ত; অথবা সেখানে এমন পরিষ্কার ও স্পষ্ট সংকেত বিদ্যমান থাকে, যা থেকে জানা যায় যে, ওখানে প্রকৃত বিষয়টিকে দৃষ্টান্তের আকারে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন:
خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ ৫৮
'আল্লাহ তাদের হৃদয় ও কানে মোহর লাগিয়ে দিলেন এবং তাদের চোখের ওপর আবরণ রয়েছে।' (সুরা বাকারা: আয়াত ৭।
এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, যেসব ব্যক্তি হেদায়েতকে হেদায়েত জেনেও গ্রহণ করে না, তারা কানে শোনে ঠিকই; কিন্তু সেদিকে মনোযোগ দেয় না। তারা সত্যকে চোখ দিয়ে দেখে ঠিকই; কিন্তু তা থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়। তারা তাদের জীবনকে বিরামহীনভাবে বক্রতা ও অবাধ্যতার ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখে। তাদের দৃষ্টান্ত এমন : যেনো আল্লাহ তাদের অন্তর ও কর্ণসমূহের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তাদের চোখের ওপর আচ্ছাদন রয়েছে। এখানে পরিষ্কার সংকেত বিদ্যমান যে, মক্কার মুশরিকদের কানের ওপর মোহর মারা হয় নি, তাদের অন্তরেও মোহর লাগানো হয় নি এবং তাদের চোখের ওপরও পর্দা ঝুলানো ছিলো না। সুতরাং আয়াতের উদ্দেশ্য এই: আল্লাহ তাআলার এই নীতি জারি আছে যে, যারা বোধশক্তি থাকা সত্ত্বেও নির্বোধ সেজে থাকে, শ্রবণকারী হওয়া সত্ত্বেও না শোনার ভান করে এবং চক্ষুষ্মান হওয়া সত্ত্বেও সত্যের ব্যাপারে অন্ধ সেজে থাকে এবং এই অবস্থার ওপর বাড়াবাড়ি ও সীমা লঙ্ঘন করে, তখন আল্লাহর কর্মফল প্রদানের নীতি এই যে, সত্যকে গ্রহণ করার জন্য আদি সৃষ্টিকালে তাদেরকে যে-বোধশক্তি, শ্রবণশক্তি ও দর্শনশক্তি দেয়া হয়েছিলো সেই শক্তির যোগ্যতা ছিনিয়ে নেয়া হয়। (ফলে তারা সত্যকে গ্রহণ করে না।)
কিন্তু আলোচ্য বিষয়ে كُونُوا قَرَدَةً خَاسئين 'তোমরা ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও' বাক্যে পরিষ্কার শব্দে দৃষ্টান্তও বলা হয় নি এবং এখানে এমন কোনে সঙ্কেতও নেই যার মাধ্যমে তাদের অভ্যন্তরীণ বিকৃতি বুঝা যায়। বরং خاسِنِينَ-কে قرَدَةً-এর বিশেষণ হিসেবে উল্লেখ করা এ-বিষয়টির সঙ্কেত যে, নিঃসন্দেহে তাদের 'আকৃতির সত্যিকারের বিকৃতি'ই এখানে উদ্দেশ্য।
এখানে আরো একটি বিষয় প্রণিধান পাওয়ার যোগ্য যে, আসহাবে সান্ত বা শনিবারঅলাদের ঘটনা যদি কেবল অভ্যন্তরীণ বিকৃতিই হয়ে থাকতো, তবে সে সম্পর্কে দৃষ্টান্ত পেশ করার ক্ষেত্রে বানর ও শূকরের মধ্য থেকে কোনো একটি জানোয়ারের উল্লেখই যথেষ্ট ছিলো এবং এ-দুটি জানোয়ারের মধ্যে নিকৃষ্টতা ও কদর্যতায় যেটিকে অধিকতর বিবেচনা করা হতো, দৃষ্টান্তের জন্য কেবল সেটিকেই উল্লেখ করা উচিত ছিলো। কিন্তু সে-রকম কিছু করা হয় নি। তা ছাড়া সুরা মায়িদায় বলা হয়েছে, আসহাবে সান্তের কতিপয়কে বানরে রূপান্তরিত করা হয়েছিলো, আর কতিপয়কে বিকৃত করা হয়েছিলো শূকরের আকৃতিতে।
وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ
'যাদের কতককে তিনি বানর ও কতককে শূকর করেছেন।৫৯
এইসব কার্যকারণের ফলেই ইবনে কাসির, ইবনে জারির, ইবনে হাইয়ান, ইবনে তাইমিয়া, ইমাম রাযি, শিহাবুদ্দিন মাহমুদ আল-আলুসি রহ.-এর মতো প্রাচীনকালের এবং পরবর্তীকালের উচ্চস্তরের মুফাস্সিরগণ মুজাহিদ রহ.-এর ব্যক্তিগত বক্তব্যকে কুরআন মাজিদের পূর্বাপর বর্ণনার বিপরীত সাব্যস্ত করে জমহুর উলামায়ে কেরামের মতকে সমর্থন করছেন এবং তাঁরা আসহাবে সান্ত-সম্পর্কিত আয়াতে আকৃতির প্রকৃত বিকৃতিকেই উদ্দেশ্য বলছেন। যেমন: আল্লামা ইবনে কাসির রহ. হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা., কাতাদাহ, রাবি বিন আনাস, আবুল বাকা, যাহ্হাক এবং জমহুর উলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করার পর লিখেছেন-
قلت والغرض من هذا السياق عن هؤلاء الأئمة بيان خلاف ما ذهب إليه مجاهد، رحمه الله من أن مسخهم إنما كان معنويا لا صوريا بل الصحيح أنه معنوي صوري، والله أعلم.
"আমি বলি, এখানে উলামায়ে কেরামের অভিমত উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো সেগুলোর সঙ্গে মুজাহিদ রহ.-এর এই-তাদের বিকৃতি ছিলো অর্থগত ও অভ্যন্তরীণ, আকৃতির পরিবর্তন নয়-বক্তব্যের বৈপরীত্য বর্ণনা করা: বরং সত্য হলো, অভ্যন্তরীণ ও আকৃতিগত-উভয় দিক থেকে বিকৃতি ঘটেছিলো।"৬০
আলোচ্য বিষয়ের উল্লিখিত দিকটি কুরআন ও হাদিসের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলো। বাকি থাকলো বিবেক ও যুক্তির দিকটি। এদিকে লক্ষ করেও সহজে বলা যায় যে, এমন বিকৃত হয়ে যাওয়া যুক্তির দিক থেকেও অসম্ভব নয়। তা এইজন্য যে, এ-ব্যাপারটি যদি বুদ্ধি ও জ্ঞানের দিক থেকে বিস্ময়কর বোধ হয়, তবে শুধু এতটুকু যে, একটি সত্তা কী করে অন্য সত্তায় রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে? কিন্তু সত্তার পরিবর্তনের ঘটনা প্রাচীন ও আধুনিক উভয় দার্শনিক ধারাতেই স্বীকৃত বিষয়গুলোর মধ্যে পরিগণিত হয়েছে। আর আধুনিক দর্শনের বিবর্তনবাদ (theory of evolution)-এর ভিত্তি ও বুনিয়াদ তো কেবল এ-বিষয়টিরই ওপর নির্ভরশীল যে, একটি সত্তার অন্য সত্তায় রূপান্তরিত হয়ে যাওয়া কেবল সম্ভবই নয়; বরং অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের জগতেও তা ঘটছে। বিবর্তনের পর্যায়ক্রমের বিবেচনায় একটি সত্তার অন্য সত্তাকে পরিগ্রহ করার ঘটনা অহরহই ঘটছে। সুতরাং, যদি একটি গরিলা বা শিম্পাঞ্জি জাতীয় বানর নিজের সত্তা থেকে পরিবর্তিত হয়ে মানবিক সত্তায় রূপান্তরিত হতে পারে, তবে মানুষের বানরের সত্তায় রূপান্তরিত হওয়া কী কারণে অসম্ভব বলে বিবেচিত হবে?
কেনো, তারা কি এটা দাবি করে না যে, প্রতিটি বস্তুর প্রতিক্রিয়া (reaction) সম্ভবও বটে, এবং বাস্তব ও দৃশ্যমানও বটে। সুতরাং, এই মূলনীতি অনুসারে যদি এটাও প্রমাণিত হয়ে যায় যে, যেভাবে একটি নিকৃষ্ট সত্তা উৎকৃষ্ট সত্তায় রূপান্তরিত হতে পারে, তেমনিভাবে কখনো কখনো বিশেষ পরিবেশ ও প্রতিকূল প্রভাবের ফলে উৎকৃষ্ট সত্তা নিকৃষ্ট সত্তায় পরিবর্তিত হতে পারে। তো, আধুনিক জ্ঞানীদের কাছে এই তত্ত্ব অস্বীকার করার কী দলিল আছে এবং এখানে প্রতিক্রিয়া (reaction) কেনো তার ক্রিয়া করতে পারবে না?
বর্তমান পৃথিবীতে একটি সত্তার অন্য সত্তায় রূপান্তরিত হওয়া কোনো দার্শনিক তত্ত্ব বা থিওরিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিদিন লাখ লাখ পরিমাণে ঘটে যাচ্ছে এবং চোখের সামনে দৃশ্যমান হচ্ছে। তা এভাবে যে, এ-বিষয়টি শত শত বছর ধরে জটিল সমস্যা হয়ে থেকে গেছে যে, মানব সৃষ্টির প্রথম বীজ (শুক্র) কী কী ধাপ অতিক্রম করে মানুষের আকার ধারণ করে। কুরআন মাজিদ এ-প্রসঙ্গে যেসব ধাপের কথা উল্লেখ করেছে, প্রাচীনকালের মুফাস্সিরগণ সে-ধাপগুলোর স্বরূপ বিশ্লেষণে হয় তো মোটামুটি ব্যাখ্যার মাধ্যমে কাজ চালিয়েছিলেন অথবা ওই যুগের জ্ঞানগত গবেষণা কুরআনের যতটুকু সহযোগিতা করছিলো সে-অনুযায়ী কিছু বিস্তারিত ব্যাখ্যা পেশ করেছিলেন।
কিন্তু এসবকিছু তত্ত্ব ও বাস্তব পরিণতিতে সীমাবদ্ধ ছিলো, এ-কারণে কুরআন মাজিদের বর্ণনাকৃত তত্ত্বের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ সামনে আসছিলো না। কিন্তু এখন এ-বিষয়টির ক্ষেত্রে জ্ঞানগত গবেষণা তাত্ত্বিক পর্যায় পেরিয়ে চাক্ষুষ দৃশ্যমানতার পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। মাতৃগর্ভে মানব শুক্রকীটের ওপর পূর্ণাঙ্গ মানুষের আকার ধারণ করা পর্যন্ত যে- ক্রমবিকাশ ও ক্রমবিবর্তন ঘটে তা বিজ্ঞান ও চিকিৎসা শাস্ত্রের আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে বিশুদ্ধভাবে জানা গেছে। আর এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, এ-বিষয়ে কুরআন মাজিদ শুক্র (نطفة), জমাট রক্ত (علقة) ৬১ এবং পিণ্ড (مضغة) এবং فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ এবং পিণ্ডকে পরিণত করি অস্থিপিঞ্জরে; তারপর পিঞ্জরকে ঢেকে দিই গোশত দ্বারা; অবশেষে তাকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে। '৬২-এর যে-বর্ণনা একজন উম্মি নবীর মারফত শুনিয়েছিলো, অক্ষরে অক্ষরে তা সঠিক প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রকৃত বিষয়টির বাস্ত বতার অনুকূল হয়েছে। ব্যাপারটি যেনো এমন : জ্ঞানগত গবেষণাকে শত শত বছর ধরে নিজের জায়গা থেকে ক্রমশ অগ্রসর হয়ে চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের পর্যায়ে পৌছে শেষ পর্যন্ত ওই জায়গাতেই থামতে হয়েছে যা কুরআন মাজিদ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছিলো। এভাবে জ্ঞানগত গবেষণাকে বার বার তার জায়গা থেকে সরে আসতে হয়েছে এবং যতক্ষণ না কুরআন মাজিদের বাস্তব জ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে নিয়েছে ততক্ষণ তা তার জায়গায় স্থির থাকতে পারে নি।
'ভ্রূণের জন্ম' বিষয়টি ক্রমবিকাশ ও ক্রমোন্নতির যেসব তত্ত্বের ওপর নির্ভরশীল থেকে চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের জগতে এসেছে তার সারমর্ম এই : শুক্র যখন আলাকা, পিণ্ড এবং এ-জাতীয় স্তরগুলো অতিক্রম করে, তখন তা তার প্রতিটি গৌণ স্তরে একটি বিশেষ সত্তার রূপ পরিগ্রহ করে এবং তারপর উচ্চ স্তরে পরিবর্তিত হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন সত্তার রূপ লাভ করে। এভাবে সত্তার পরিবর্তন ও বিবর্তন হয়ে থাকে। কিন্তু এসব পরিবর্তন ও বিবর্তন এক মাসের মধ্যেই এইরূপ হয়ে থাকে, যেনো এই প্রাথমিক সময়ে একজন মানুষের ভ্রূণও স্তর বা পর্যায়ক্রমের বিবেচনায় তেমনই হয়ে থাকে যেমন হয়ে থাকে উদ্ভিদের অঙ্কুর বা কোনো মাছের ভ্রূণ বা কোনো চতুষ্পদ জন্তুর ভ্রূণ বা কোনো বানরের ভ্রূণ; আর প্রাথমিক সময়ের শেষ ভাগে তা (মানুষের ভ্রূণ) বানরের উন্নত প্রজাতি গরিলা এবং শিম্পাঞ্জির ভ্রূণের অবিকল সদৃশ হয়ে থাকে।
তারপর দ্বিতীয় মাসের শুরুতে উপরিউক্ত যাবতীয় উদ্ভিদ ও প্রাণী জাতীয় স্তরসমূহের মধ্যে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়। গতকাল পর্যন্ত যে-ভ্রূণ প্রাণীসমূহের উন্নততর ভ্রূণের সদৃশ ছিলো, অকস্মাৎ তা মানবিক সত্তায় পরিবর্তিত হতে শুরু করে এবং ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ 'অবশেষে তাকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে'-এর দৃশ্যমানতা প্রকাশ করে এবং ঘোষণা করে-
فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
'সুতরাং সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান!'
তারপর পুরো সাত মাস পর্যন্ত ওই মানব-ভ্রূণে আল্লাহর কুদরত বিভিন্ন ধরনের নকশা অঙ্কন করতে থাকে এবং, মনুষ্য-কাঠামোকে পূর্ণাঙ্গ মানুষরূপে গড়ে তোলে। মানব-ভ্রূণে সত্তার যে-পরিবর্তন ও বিবর্তন ঘটে এবং তা যে গৌণ সত্তা পরিত্যাগ করে উন্নত সত্তাকে পরিগ্রহ করে, (এ-ক্ষেত্রে) যদি কখনো কখনো আল্লাহর কুদরত কল্যাণকামিতার ভিত্তিতে خَلْقًا آخر বা 'অন্য এক সৃষ্টিরূপে'-এর পূর্ণ প্রকাশ করে না করে, তখন আপনি শুনবেন, অমুক ব্যক্তির এমন বাচ্চা জন্ম নিয়েছে যা বলদ বা বানর বা বন-মানুষের সদৃশ; বরং কোনো কোনো সময় হুবহু ওইসব প্রাণীরই আকৃতির বাচ্চা অস্তিত্বের জগতে চলে আসে। এ-বিষয়টি এ-কথার দলিল যে, কুদরতের কারিগর মানব-ভ্রূণকে এইজন্য অসম্পূর্ণ রেখে দিয়েছেন এবং তার সত্তাকে পূর্ণ মানুষের আকৃতিতে পরিবর্তিত করেন নি, যাতে শিক্ষাগ্রহণ কারী চক্ষুসমূহ তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং মহান প্রতিপালকের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে— 'তিনি আমাদেরকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ বানিয়েছেন এবং জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা দান করে সকল সৃষ্টির মধ্যে বিশিষ্ট ও সম্মানিত করেছেন। অন্যথায়, প্রতিপালক যদি চাইতেন, তবে আমরা মাতৃজরায়ুতে ওই রকমই (অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ) থেকে যেতাম।' তা ছাড়া, যাতে এই বাস্তবতার প্রতিও মনোযোগ আকর্ষিত হয় যে, স্বয়ং মানুষের ভ্রূণও কী কী সত্তা থেকে ক্রমশ পরিবর্তিত হয়ে মানব-রূপ লাভ করেছে, আর তবেই না সে মানব হিসেবে অভিহিত হওয়ার যোগ্য হয়েছে।
সুতরাং, যদি সত্তার পরিবর্তনের এই প্রদর্শন দিন-রাত বিশ্বনিখিলের জলভাগ ও স্থলভাগে ক্রিয়াশীল থাকে, তবে যদি মানুষ সম্পর্কে এ-বিষয়টি প্রমাণিত হয় যে, বিশেষ অবস্থা ও প্রভাবসমূহ তার মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া (reaction) সৃষ্টি করে দিয়েছে যে, সে মানুষের আকৃতি ও চেহারা-যা ছিলো তার সৃষ্টির সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত বিবর্তন-ত্যাগ করে তার সৃষ্টির পেছনের দিকে ওই স্তরে পরিবর্তিত হয়ে গেছে যা পশুর আকৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাহলে জ্ঞান ও দর্শনের কোন্ তত্ত্বটি তা খণ্ডন করতে পারবে?
যাইহোক। কোনো সত্তার ভিন্ন সত্তার রূপ পরিগ্রহ করা জ্ঞান ও যুক্তির দিক থেকে কোনো অসম্ভব বিষয় নয়, যা (যে-প্রশ্নটি) আসহাবে সান্তের আকৃতি বিকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে উত্থাপিত হতে পারে। আসলে ব্যাপার এই যে, এমন ঘটনা ঘটেছিলো কি-না তা যুক্তি ও জ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং তা ইতিহাস ও সহিহ রেওয়ায়েতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আর যখন কুরআন মাজিদের নির্ভুল ও নিশ্চিত জ্ঞান এই ঘটনাকে পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেছে এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল উলামায়ে কেরাম এই ঘটনার তাফসিরে 'আকৃতির প্রকৃত বিকৃতি' স্বীকার করে আসছেন, তখন কেবল এ-কারণে যে, আমরা সাধারণভাবে এ-ধরনের ঘটনা দেখতে পাই না, এ-সত্যকে অস্বীকার বা অবিশ্বাস করা যাবে না। কেননা, কোনো বস্তুকে দেখতে না পাওয়া বা তা দৃষ্টিগোচর না হওয়ার দ্বারা এটা অবধারিত হয় না যে, বাস্তবে ওই বস্তুটির অস্তিত্ব নেই বা হতে পারে না।
এতদ্ভিন্ন বিখ্যাত চিকিৎসক ও চিকিৎসাশাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ জনাব যাকারিয়া রাযি কুষ্ঠরোগের (leprosy) আলোচনা করে এর বিভিন্ন প্রকারের কথা বলেছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও ভয়ঙ্কর প্রকার এটিকে বলেছেন যে, শরীরে বিষ ছড়িয়ে গিয়ে রক্ত এতটাই নষ্ট হয়ে যায় যে তা ধমনী ও শিরাগুলোর মধ্যে সঙ্কোচন সৃষ্টি করে দেয়। আর এর ফলে রোগীর দেহ একটি ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট বানরের মতো দৃশ্যমান হতে থাকে। এই পর্যায়ে পৌছে ব্যাধি চিকিৎসাহীন হয়ে পড়ে।
যাকারিয়া রাযি এটাও বলেছেন যে, কুষ্ঠরোগ সম্পর্কিত এই গবেষণা তাঁর ব্যক্তিগত অনুসন্ধানের ফল নয়; গ্রিক চিকিৎসকগণ ও চিকিৎসাশাস্ত্রের প্রাচীন বিশেষজ্ঞগণ এ-বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এ-কারণে আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, বনি ইসরাইলের ওই দলটির ওপর আল্লাহ তাআলার আযাব নাযিল হলো এভাবে যে, একদিকে তো তাদের অন্তর বিকৃত হয়ে মনুষ্য-অন্তরের বৈশিষ্ট্যাবলি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে তাদের দেহকে নিকৃষ্টতম কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত করে এতটাই খারাপ করে দেয়া হয়েছে যে তা বানর ও শূকরের আকৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে গেছে।
كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ
'তোমরা ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও।'
আর সম্ভবত এ-কারণেই সহিহ হাদিসসমূহে এ-কথা বলা হয়েছে যে, যে-সম্প্রদায়ের লোকদের আকৃতি পশুর আকৃতিতে বিকৃত হয়ে গিয়েছিলো তারা তিন দিনের বেশি জীবিত থাকে নি। অর্থাৎ, আকৃতি বিকৃতির শাস্তি তাদের অভ্যন্তর ও বাহ্যিক আকৃতিকে এতটাই বিনষ্ট করে দিয়েছিলো যে, তারা আর জীবিত থাকতে পারে নি; অচিরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এখানে এই সন্দেহের উদ্রেক হওয়া উচিত নয় যে, যদি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকে রূপান্তর মেনে নেয়া হয় তবে হিন্দু মতাদর্শের 'পুনর্জন্মবাদ' অবধারিত হয়ে পড়ে। অথচ তা বাতিল ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। এই ধরনের সন্দেহের উদ্রেক হওয়া এ-কারণে সঠিক নয় যে, পুনর্জন্মবাদের ক্ষেত্রে আত্মা এক দেহপিঞ্জর পরিত্যাগ করে অন্য দেহপিঞ্জরে চলে যায় এবং মানুষের ভালো ও মন্দ কৃতকর্মের ফল হিসেবে আত্মা বা জীবনের স্থানান্তরের এই ধারা অনাদি কাল থেকে অনন্ত কাল পর্যন্ত এভাবেই চালু আছে এবং চালু থাকবে। কিন্তু আকৃতি বিকৃত হওয়ার বেলায় আত্মাও বদলায় না, দেহপিঞ্জরও বদলায় না। বরং ওই দেহ বা দেহপিঞ্জরই এক অবস্থা ও সত্তা থেকে ভিন্ন সত্তা ও অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। অন্যান্য মৃত মানুষের মতো তাদেরকেও প্রকৃত মালিকের সামনে কৃতকর্মের জবাব দেয়ার জন্য আলমে বরযখে সোপর্দ করা হয়। ৬৩
টিকাঃ
৫২. তাফসিরে ইবনে কাসির, সুরা মায়িদা।
৫৩. সুরা বাকারা: আয়াত ৬৫ এবং সুরা আ'রাফ: আয়াত ১৬৬।
৫৪. সুরা মায়িদা: আয়াত ৬০।
৫৫. আহলে কিতাবদের তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করা তারপর সে-অনুযায়ী আমল না করার দৃষ্টান্ত গাধার পিঠে কিতাবের বোঝা চাপানোর মতো। [সুরা জুমআ: আয়াত ৫]
৫৬. তাফসিরে ইবনে কাসির, সুরা বাকারা।
৫৭. আহলে কিতাবদের তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করা তারপর সে-অনুযায়ী আমল না করার দৃষ্টান্ত গাধার পিঠে কিতাবের বোঝা চাপানোর মতো।
৫৮. সুরা বাকারা : আয়াত ১৭।
৫৯. সুরা মায়িদা: আয়াত ৬০।
৬০. তাফসিরে ইবনে কাসির, সুরা মায়িদা।
৬১. "علقة শব্দের অর্থ সংযুক্ত, ঝুলন্ত, রক্ত, রক্তপিণ্ড ইত্যাদি। মুফাস্সিরগণ এর অর্থ করেছেন রক্তপিণ্ড। কিন্তু আধুনিক জীববিজ্ঞানিগণ মাতৃগর্ভে মানব ভ্রূণের ক্রমবিকাশের বর্ণনায় বলেন যে, পুরুষের শুক্র ও নারীর ডিম্বাণু মিলিত হয়ে মাতৃগর্ভে যে-ভ্রূণের সৃষ্টি হয় তা গর্ভধারণের পঞ্চম বা ষষ্ঠ দিবসে জরায়ুর গায়ে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে এবং এই সম্পৃক্তি সংঘটিত না হলে গর্ভাধান স্থায়ী হয় না। এই কারণে বর্তমানে আলাকা শব্দের অনুবাদ করা হয়, 'এমন কিছু যা লেগে থাকে'।
৬২. সূরা মুমিনুন : আয়াত ১৪।
৬৩. মুসনাদে আহমদ।