📄 ঘটনাটির কাল
শাহ আবদুল কাদির রহ. (নাওওয়ারাহু মারকাদাহু) এবং তাঁর অনুসরণে অন্য কয়েকজন মুফাস্সির বলেন, এই ঘটনা হযরত দাউদ আ.-এর যুগে ঘটেছিলো। কিন্তু ইবনে জারির, ইবনে কাসির, ইবনে হাইয়ান ও ইমাম রাযি রহ.-এর মতো উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মুফাস্সিরগণের বর্ণনারীতি এবং কুরআন মাজিদের বর্ণনাশৈলী থেকে উল্লিখিত উক্তিটি সঠিক বলে মনে হয় না। কেননা, কুরআন মাজিদ সুরা আ'রাফে এই ঘটনা কিছুটা বিস্ত ারিতভাবে বর্ণনা করেছে। ওখানে বলা হয়েছে যে, এই ঘটনা ঘটার সময় বর্ণিত জনপদের অধিবাসীরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলো। তাদের মধ্যে একটি দল নাফরমান এবং বাহানা ও কৌশল অবলম্বনকারীদের হেদায়েতের পথে অটল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো। সুতরাং এই ঘটনা যদি হযরত দাউদ আ.-এর যুগে ঘটে থাকতো, তবে এই কথা (একটি দলের হেদায়েতের পথ প্রদর্শন) ধারণা থেকে দূরে থাকতো এবং কুরআনের বর্ণনাভঙ্গি থেকেও দূরে থাকতো। কেননা, কুরআন মাজিদ এ-ক্ষেত্রে মানুষের একটি বিরাট দলের ওপর আল্লাহর আযাব, অর্থাৎ, মানুষকে পশুতে রূপান্তরিত করে দেয়ার শাস্তির কথা উল্লেখ করছে এবং এই প্রসঙ্গে ওই যুগের নবীর কথা মোটেই উল্লেখ করছে না। কুরআন এ-কথাও বলছে না, অবাধ্যাচরণকারী সম্প্রদায় এবং তাদের নবীর সঙ্গে কেমন ঘটনা ঘটেছিলো। তা ছাড়া প্রাচীন কালের উলামায়ে কেরাম থেকেও এমন কোনো রেওয়ায়েত নেই যা থেকে বুঝা যায় যে, উল্লিখিত ঘটনাটি হযরত দাউদ আ.-এর যুগে ঘটেছিলো। এর পক্ষে ইতিহাসও কোনো উপাদান সরবরাহ করছে না। এ-কারণে উপরে বর্ণিত উচ্চ মর্যাদাশালী মুফাস্সিরগণও এই ঘটনা সম্পর্কিত চারটি স্থানের মধ্যে কোনো একটি স্থানের তাফসিরেও এ-কথা উল্লেখ করেন নি যে, এই ঘটনা হযরত দাউদ আ.-এর যুগে সংঘটিত হয়েছিলো। জানি না, হযরত শাহ আবদুল কাদির সাহেব রহ. তাঁর এই বক্তব্য কোথা থেকে গ্রহণ করেছেন যে, উল্লিখিত ঘটনাটি হযরত দাউদ আ.-এর যুগে ঘটেছিলো। সম্ভবত তিনি সুরা মায়েদার নিম্নবর্ণিত আয়াত থেকে এমন অনুমান করে থাকবেন-
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (سورة المائدة)
"বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিলো তারা দাউদ ও মারইয়াম তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিলো-তা এইজন্য যে, তারা ছিলো অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী।" [সুরা মায়িদা: আয়াত ৭৮)
কিন্তু এই আয়াত থেকে প্রমাণ করা শুদ্ধ নয়। তা এ-কারণে যে, প্রথমত, এই আয়াত বনি ইসরাইলের সাধারণ পথভ্রষ্টতার কথা আলোচনা করা হয়েছে। নির্দিষ্টভাবে শনিবারের ঘটনা আলোচিত হয় নি। দ্বিতীয়ত, এ-আয়াতে কেবল হযরত দাউদ আ.-এর কথাই উল্লেখ করা হয় নি; বরং হযরত ঈসা তনয় মারইয়াম আ.-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লামা ইবনে কাসির এই আয়াতের তাফসিরে লিখেছেন-
يخبر تعالى أنه لعن الكافرين من بني إسرائيل من دهر طويل فيما أنزله على داود - عليه السلام - وعلى لسان عيسى ابن مريم بسبب عصيانهم الله واعتدائهم على خلقه قال العوفي عن ابن عباس لعنوا في التوراة والانجيل وفي نبيه الزبور وفي الفرقان ثم بين حالهم فيما كانوا يعتمدونه في زمانهم.
"আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি এক দীর্ঘকাল পর হযরত দাউদ আ.-এর প্রতি যা নাযিল হয়েছিলো তাতে (যাবুরে) বনি ইসরাইলি কাফেরদের লানত করেছিলেন এবং হযরত ঈসা তনয় মারইয়াম আ.-এর জবান দিয়ে তাদেরকে অভিসম্পাত করেছিলেন। আল্লাহ তাআলার অবাধ্যাচরণ এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাদের অনাচারের ফলে তারা লানতের উপযুক্ত ছিলো। (যাতে তাদের অবস্থা দেখে অন্য লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে।) আওফি বলেন, হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, (তিনি উল্লিখিত আয়াতের তাফসিরে বলেন,) বনি ইসরাইলিদেরকে তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও ফুরকানে (কুরআনে) অভিসম্পাৎ করা হয়েছে। এরপর, তারা তাদের যার ওপর নির্ভরশীল ছিলো তাতে তাদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে।"৪৭
মোটকথা, কুরআন মাজিদে বর্ণনাশৈলী এবং উচ্চ মর্যাদাশীল মুফাস্সিরগণের বিশদ ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আসহাবে সাবতের এই ঘটনা হযরত মুসা আ. ও হযরত দাউদ আ. মধ্যবর্তীকালে এমন কোনো সময়ে ঘটেছিলো যখন 'আইলাহ' নামক জনপদে কোনো নবী বিদ্যমান ছিলেন না। সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বারণ করার কর্তব্য ওই জনপদের উলামায়ে হকের ওপরই ন্যস্ত ছিলো। সুতরাং কুরআন মাজিদ কেবল তাদের কথাই উল্লেখ করেছে; কোনো রাসুল বা নবীর কথা উল্লেখ করে নি।
টিকাঃ
৪৭. তাফসিরে ইবনে কাসির: প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড।
📄 বদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. এবং ইকরামা রাহ.-এর মধ্যে কথোপকথন
ইকরামাহ বিন আবদুল্লাহ আল-বারবারিয়্যু রা. ছিলেন হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা.-এর উত্তম শাগরেদ, তীক্ষ্ণধী, বুদ্ধিমান ও উচ্চ মর্যাদাবান তাবেয়ি। তিনি বর্ণনা করেন-
جنت ابن عباس يوما وهو يبكي، وإذا المصحف في حجره، فأعظمت أن أدنو ثم لم أزل على ذلك حتى تقدمت فجلست فقلت ما يبكيك يا أبا عباس جعلني الله فداك؟ قال: فقال: هؤلاء الورقات. قال: وإذا هو في سورة الأعراف، قال: هل تعرف أيلة قلت: نعم. قال: فإنه كان بها حي من يهود سيقت الحيتان إليهم يوم السبت، ثم غاصت لا يقدرون عليها حتى يغوصوا بعد كد ومؤنة شديدة ... فكانوا كذلك برهة من الدهر، ثم إن الشيطان أوحى إليهم فقال: إنما نهيتم عن أكلها يوم السبت، فخذوها فيه، وكلوها في غيره من الأيام।
'একদিন আমি হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা.-এর কাছে উপস্থিত হয়ে দেখলাম তিনি কাঁদছেন এবং কুরআন মাজিদ তাঁর কোলের ওপর (খোলা অবস্থায়) রয়েছে। আমি তাঁর মহান মর্যাদার প্রতি লক্ষ করে কিছুক্ষণ তাঁর নিকটবর্তী হলাম না। কিন্তু এই অবস্থায় যখন বেশ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলো, তখন (আমি আর দূরে সরে থাকতে পারলাম না,) তাঁর কাছে এগিয়ে গেলাম এবং পাশে বসলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে আবু আব্বাস, কোন্ বিষয় আপনাকে এভাবে কাঁদাচ্ছে? (আপনি কেনো এভাবে রোদন করছেন?) ইকরামাহ রা. বলেন, তখন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. বললেন, এই পাতাগুলোই আমার রোদনের কারণ। ইকরামাহ বলেন, আমি দেখলাম, সেগুলো সুরা আ'রাফের পাতা। আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. আমাকে বললেন, তুমি কি আইলাহ নামক জনপদ চেনো? আমি বললাম, চিনি। তিনি তখন বললেন, এই জনপদে ইহুদিদের একটি বসতি ছিলো। সাগরের মাছগুলো শনিবারে তাদের কাছে ভেসে থাকতো। কিন্তু তারপর (শনিবারের পর) মাছগুলো পানির গভীরে চলে যেতো; তারা সেগুলোকে ধরতে বা শিকার করতে পারতো না। অনেক চেষ্টা ও পরিশ্রমের পর দু-একটি ধরতে পারতো। ... একটি সময় পর্যন্ত তারা এভাবেই থাকলো। অতঃপর শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিলো; শয়তান তাদের বললো: শনিবারে তোমাদের কেবল মাছ খেতে নিষেধ করা হয়েছে (মাছ ধরতে তো নিষেধ করা হয় নি)। সুতরাং, শনিবারে তোমরা মাছ শিকার করো এবং অন্য দিনগুলোতে খাও। ৬৪
আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. বলেন, যখন এই বাহানা ও অপকৌশল ব্যাপক হয়ে পড়লো, সত্যপন্থীরা তাদেরকে উপদেশ দিয়ে বললেন, শনিবারে মাছ ধরা, শিকার করা এবং মাছ খাওয়া সবই নিষিদ্ধ। সুতরাং তোমরা এই বাহানা অবলম্বন ত্যাগ করো। অন্যথায় আল্লাহ তাআলার শাস্তি তোমাদের ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু নাফরমানরা তাঁদের কথায় কর্ণপাত করলো না। ফলে উপদেশ প্রদানকারী দলের মধ্য থেকে পরের সপ্তাহে একটি দল পৃথক হয়ে গেলো। তারা সপরিবারে তাদের থেকে দূরে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করলো। আর একটি দল শনিবার সম্পর্কিত নির্দেশ অমান্য করাতে গর্হিত মনে করলো ঠিক, কিন্তু তারা নাফরমানদের সঙ্গে সম্পর্ক বর্জন করলো না। ফলে দক্ষিণপন্থীরা (সম্পর্ক বর্জনকারীরা) যখন নাফরমান লোকদেরকে ধমক দিলো এবং আল্লাহ তাআলার শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করলো, তখন বামপন্থীরা (যারা সম্পর্ক বর্জন করে নি) বলতে লাগলো-
لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا
'আল্লাহ যাদেরকে (তাদের দুর্ভাগ্যের কারণে) ধ্বংস করবেন অথবা কঠোর শাস্তি দেবেন, তোমরা তাদেরকে সদুপদেশ দাও কেনো?'
তাদের জবাবে দক্ষিণপন্থীরা বললো-
مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
'তোমাদের প্রতিপালকের কাছে (কিয়ামতের দিন) দায়িত্ব-মুক্তির জন্য (যে, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি) এবং যাতে তারা (তাদের নাফরমানি) সাবধান হয়ে যায়, এইজন্য।'
অবশেষে সদুপদেশ প্রদানকারী দল একদিন বিরোধী নাফরমান দলকে বললো, হয় তোমরা এই গর্হিত কাজ থেকে ফিরে আসো, অন্যথায় আগামীকাল তোমাদের ওপর অবশ্যই আল্লাহর আযাব নাযিল হবে।
এরপর আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. অবাধ্য লোকদের ওপর আযাব নাযিল হওয়ার বিস্তারিত বিবরণ বর্ণনা করে বলেন, এই ঘটনায় আল্লাহ তাআলা দুই দলের পরিণামের কথা উল্লেখ করেছেন : এক. বিরুদ্ধ আচরণকারী ও অবাধ্য লোকদের পরিণাম, যাদেরকে ধ্বংস রূপান্তরিত করে দেয়া হয়েছে এবং দুই. সৎকাজের আদেশ প্রদানকারী ও অসৎ কাজ থেকে নিবৃত্তকারী লোকদের পরিণতি, যারা ওই শাস্তি থেকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু তিনি তৃতীয় দলটি অর্থাৎ, নীরবতা অবলম্বনকারী বামপন্থীদের পরিণাম সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেন নি। তিনি বলেন, আমার মনে তৃতীয় দল সম্পর্কে এমন এমন চিন্তা-ভাবনার উদয় হয় যা আমি ভাষায় প্রকাশ করা পছন্দ করি না। (অর্থাৎ, যেহেতু তারা 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বারণ করা'-এর কর্তব্য থেকে বিরত থেকেছে, যদিও তারা আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন ও অবাধ্যাচরণ করে নি-এ-কারণে তারাও আবার কোনো শাস্তির উপযুক্ত সাব্যস্ত না হয়ে পড়ে এবং নাফরমান লোকদের দলভুক্ত করে নেয়া না হয়।)
হযরত ইকারাম রা. বলেন, আমি আরজ করলাম, আমি আপনার জন্য কুরবান হয়ে যাই, আপনি এ-ব্যাপারে এত উদ্বিগ্ন হবেন না। নিঃসন্দেহে এই তৃতীয় দলও মুক্তিপ্রাপ্ত ও সুরক্ষিত দলেরই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেননা, কুরআন মাজিদ তাদের সম্পর্কে বলেছে যে, তারা উপদেশ প্রদানকারী দলকে এ-কথা বলেছে, 'তোমরা কেনো এমন দলকে উপদেশ প্রদান করছো যাদেরকে আল্লাহ তাআলা অচিরেই ধ্বংস করে দেবেন বা কঠিন শাস্তির মধ্যে নিপতিত করবেন।' সুতরাং, কুরআন তাদের সম্পর্কে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করছে যে, তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় নি। অন্যথায় তাদের উল্লেখ করা হতো ধ্বংসপ্রাপ্ত লোকদের সঙ্গে; মুক্তিপ্রাপ্ত ও সুরক্ষিত মানুষদের সঙ্গে তাদের উল্লেখ করা হতো না। তা ছাড়া এই দলটি যারা গর্হিত কর্মকাণ্ড করছিলো তাদের কার্যকলাপে নিরাশ হয়েই এসব কথা বলতো। সুতরাং তারা শাস্তির উপযুক্ত ছিলো না। হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. আমার এসব কথা শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং আয়াতগুলোর এমন তাফসির করার জন্য আমাকে পুরস্কৃত করলেন।
টিকাঃ
৬৪. তাফসিরে ইবনে কাসির, সুরা আ'রাফ, আয়াত ১৬৫। মনে হয়, বাহানাবাজদের বাহানাগুলোর মধ্যে এটিও একটি বাহানা। —লেখক
📄 বিকৃত সম্প্রদায়গুলোর পার্থিব পরিণাম
যেসব সম্প্রদায়কে আল্লাহ তাআলার আযাবের মাধ্যমে রূপান্তরিত করে দেয়া হয় তাদেরকে জীবিত রাখা হয় না; বরং তিনদিনের মধ্যেই তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। যাতে তাদের বংশধারার সৃষ্টি না হয় এবং পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব স্বয়ং তাদের জন্যও এক দীর্ঘকাল পর্যন্ত লাঞ্ছনা ও অপদস্থতার কারণ না হয়। সহিহ হাদিসসমূহে এ-বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ سَأَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْقِرَدَةِ وَالْخَنَازِيرِ أَهِيَ مِنْ نَسْلِ الْيَهُودِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَلْعَنْ قَوْمًا قَطُّ فَمَسَحَهُمْ فَكَانَ لَهُمْ نَسْلٌ حِينَ يُهْلِكُهُمْ وَلَكِنْ هَذَا خَلْقَ كَانَ فَلَمَّا غَضِبَ اللَّهُ عَلَى الْيَهُودِ مَسَحَهُمْ فَجَعَلَهُمْ مِثْلَهُمْ .
হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বানর ও শূকর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, সেগুলো কি (বিকৃতিগ্রস্ত) ইহুদিদের বংশধর? জবাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়কে অভিসম্পাৎ করে তাদেরক বিকৃত করে দেন, তাদের বংশধর আর বৃদ্ধি পায় না। আর এসব জন্তু-জানোয়ার আল্লাহর পৃথক সৃষ্টি। তাই যখন আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের ওপর গযব নাযিল করলেন, তাদেরকে বিকৃত করলেন এবং বানর ও শূকরের মতো বানিয়ে দিলেন।”৬৫
আর একটি রেওয়ায়েতে নিম্নলিখিত বাক্যগুলো রয়েছে-
عن ابن مسعود قال: سئل رسول الله - صلى الله عليه وسلم - عن القردة والخنازير أهي مما مسخ الله فقال " إن الله لم يهلك قوما أو قال لم يمسخ قوما فيجعل لهم نسلا ولا عقبا وإن القردة والخنازير كانت قبل ذلك. "
হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বানর ও শূকর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো-সেগুলো কি আল্লাহ যাদেরকে বিকৃত করে দিয়েছিলেন তাদের বংশধর? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "আল্লাহ তাআলা যখন কোনো জাতিকে ধ্বংস করেন অথবা তিনি বলেছেন যখন কোনো জাতিকে বিকৃত করেন তখন তাদের বংশধরও রাখেন এবং তাদের অবশিষ্টাংশও রাখেন না। আর বানর ও শূকর তার (বিকৃতির শাস্তির) আগে থেকেই ছিলো।"৬৬
আর একটি রেওয়ায়েতে এসেছে-
عن ابن عباس: فمسخهم الله قردة بمعصيتهم، يقول: إذ لا يحيون في الأرض إلا ثلاثة أيام، قال: ولم يعش مسخ قط فوق ثلاثة أيام، ولم يأكل ولم يشرب ولم ينسل.
হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আল্লাহ তাআলা তাদের অবাধ্যাচরণের জন্য তাদেরকে বানরে রূপান্তরিত করে দিলেন।” তিনি বলেন, "এরপর তারা এই পৃথিবীতে মাত্র তিনদিন বেঁচে ছিলো।” তিনি বলেন, "বিকৃতির শাস্তি কখনো তিনদিনের বেশি স্থায়ী হয় নি। এই দিনতিন তারা খায় নি, পান করে নি এবং সন্তানও জন্ম দেয় নি। "৬৭
টিকাঃ
৬৫. মুসনাদে আহমদ: হাদিস ৩৭৪৭; মুসনাদে আবু দাউদ তায়ালিসি, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৬।
৬৬. তাফসিরে ইবনে কাসির, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪২, সুরা মায়িদা।
৬৭. তাফসিরে ইবনে কাসির, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮৯, সুরা বাকারা।
📄 উপদেশসমূহ
এক.
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر 'সৎকাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে বারণ করা' একটি মহান কর্তব্য। নবী ও রাসুলগণকে (আলাইহিমুস সালাম) প্রেরণের মহান উদ্দেশ্যও এই মহান কর্তব্যকে পূরণ করা। যখন কোনো জাতি বা উম্মতের মধ্যে নবী বা রাসুল বিদ্যমান থাকেন না, তখন ওই উম্মতের আলেমদের ওপর এই কর্তব্যটি সম্পন্ন করা ওয়াজিব। কুরআন মাজিদ ও সহিহ হাদিসসমূহ উম্মতে মারহুমাকে এই কর্তব্য পালনের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে; কর্তব্য পালনকারীর জন্য সওয়াব ও প্রতিদানের সুসংবাদ প্রদান করেছে এবং কর্তব্য পরিত্যাগকারীকে শাস্তি ও আযাবের উপযুক্ত সাব্যস্ত করেছে।
কুরআন মাজিদ ঘোষণা করছে-
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ
“তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে; তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অসৎকাজে নিষেধ করো।” [সুরা আলে ইমরান: আয়াত ১১০]
সুরা মায়িদায় বলা হয়েছে-
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (( كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ (سورة المائدة)
"বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিলো তারা দাউদ ও মারইয়াম তনয় কর্তৃক (যাবুর ও ইঞ্জিলে) অভিশপ্ত হয়েছিলো-তা এইজন্য যে, তারা ছিলো অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী। তারা যেসব গর্হিত কাজ করতো তা থেকে একে অন্যকে বারণ করতো না। তারা যা করতো তা কতোই না নিকৃষ্ট!” [সুরা মায়িদা: আয়াত ৭৮-৭৯]
হাদিসে এসেছে-
عدي بن عميرة - يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلٌ لَا يُعَذِّبُ الْعَامَّةَ بِعَمَلِ الْخَاصَّةِ حَتَّى يَرَوْا الْمُنْكَرَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ وَهُمْ قَادِرُونَ عَلَى أَنْ يُنْكِرُوهُ فَلَا يُنْكَرُوهُ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلكَ عَذْبَ اللَّهُ الْخَاصَّةَ وَالْعَامَّةِ.
আদি বিন উমায়রাহ রা. বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, "আল্লাহ বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির পাপের কারণে সাধারণ লোকদের শাস্তি দেন না। তবে যারা চোখের সামনে খারাপ কাজ হতে দেখে এবং খারাপ কাজে বারণ করার ক্ষমতা বা শক্তি থাকা সত্ত্বেও বারণ করে না-তারা যখন এটা করে (অর্থাৎ বারণ করা থেকে বিরত থাকে), আল্লাহ বিশেষ ও সাধারণ সবাইকে শাস্তি দেন।"৬৮
অন্য একটি হাদিসে এসেছে-
قَالَ أَبُو سَعِيدِ الْخُدْرِيُّ سَمِعْتُ رَسُولَ الله - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ « مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلكَ أَضْعَفُ الإِيمَان.
হযরত আবু সাঈদ খুদরি রা. বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, "তোমাদের কেউ যদি কাউকে খারাপ কাজ করতে দেখে, সে তাকে হাত দ্বারা বাধা প্রদান করবে; যদি সে হাত দিয়ে বারণ করার ক্ষমতা না রাখে তবে মুখ দিয়ে তাকে বারণ করবে; আর যদি মুখ দিয়েও বারণ করার ক্ষমতা না রাখে তবে অন্তর দিয়ে তা মন্দ জানবে-এটাই ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর।"৬৯
হযরত আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত এই হাদিস এদিকেও মনোযোগ আকর্ষণ করছে যে, মুসলমানদের মধ্যে এতটুকু শক্তি ও শাসকসুলভ ক্ষমতা অবশ্যই থাকা দরকার যে, তারা যদি কাউকে কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত দেখতে পায় তবে যেনো সেই শক্তি ও ক্ষমতাবলে তাকে বারণ করতে পারে। তবে যদি মুসলমানেরা তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতির ফলে সেই শক্তি ও ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তবে এতটুকু ঈমানি শক্তি থাকা জরুরি যে, তারা জবানের মাধ্যমে ওই মন্দ কাজের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে থাকবে। যদি তারা এই স্তরের শক্তি থেকেও বঞ্চিত হয়ে পড়ে, তবে এটা ছাড়া ঈমানের আর কোনো স্তর নেই যে, মন্দ কাজটিকে তারা অন্তত মন্দ মনে করবে এবং সেটার প্রতি কোনো ধরনের সম্মতি প্রকাশ করবে না। এ-কারণে এই হাদিসের শব্দমালা থেকে কারোর এই সন্দেহ হওয়া উচিত নয় যে, যদি কোনো ব্যক্তি প্রথম বা দ্বিতীয় স্তরের শক্তি না থাকে, তবে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ের যে-শক্তিই তার আছে সে অনুযায়ী আমল করলে কেনো তাকে দুর্বল বা দুর্বলতম ঈমানদার বলা হবে।
দুই.
মানুষের বিভিন্ন প্রকারের পথভ্রষ্টতার মধ্যে অনেক বড় পথভ্রষ্টতা এটাও যে, তারা আল্লাহর আদেশ পালন থেকে অব্যাহতি লাভের জন্য বাহানা ও অজুহাত অন্বেষণ করে হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল সাব্যস্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। বড় ধরনের পথভ্রষ্টতা এ-কারণে যে, এভাবে তারা শরিয়তের আদেশ ও নিষেধসমূহকে পরিবর্তিত ও বিকৃত করার পাপে লিপ্ত হয়। কুরআন মাজিদ ও তাওরাত পাঠ করে জানা যায়, ইহুদিরা এই পথভ্রষ্টতায়ও সবার চেয়ে অগ্রগামী ছিলো এবং এমন গর্হিত কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত দুঃসাহসী ছিলো। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন মাজিদের বর্ণিত এই ঘটনার আলোকে রহমতপ্রাপ্ত উম্মতকে কঠোরতার সঙ্গে তাকিদ করেছেন যে, তারা যেনো এমন পাপাচার ও পথভ্রষ্টতার প্রতি কখনো পা না বাড়ায় এবং নিজেদের আমলের বলয়কে তা থেকে রক্ষা করে।
হাদিসে এসেছে-
عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : لا ترتكبوا ما ارتكبت اليهود فتستحلوا محارم الله بأدنى الحيل
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "ইহুদিরা যেসব পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিলো তোমরা তেমন পাপাচারে লিপ্ত হয়ো না; তারা সামান্য অজুহাতে আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তুগুলোকে বৈধ করে নিয়েছিলো।"৭০
কিন্তু আফসোস! আমরাও বর্তমানে এমন পথভ্রষ্টতাকেও আপন করে নিয়েছি। ইহুদিদের মতো আমরাও আল্লাহ তাআলার ফরযকৃত হুকুম-আহকাম থেকে অব্যাহতি লাভের জন্য এ-ধরনের বাহানা ও অজুহাত উদ্ভাবন করে নিয়েছি। যেমন: ধনবান ও পুঁজিপতি হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলার وَآتُوا الزَّكَاةَ 'তোমরা যাকাত আদায় করো' নির্দেশের মাধ্যমে যে-যাকাত আদায় ফরয হয়েছে তা থেকে অব্যাহতি লাভের জন্য এই হিলা বা অপকৌশল উদ্ভাবন করে নেয়া হচ্ছে যে, মূলধন পূর্ণ এক বছর মালিকের অধিকারে রাখা হয় না, যেনো মূলধনের যাকাত ফরয হওয়ার জন্য তার ক্ষেত্রে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়ার শর্তটি পূর্ণ না হতে পারে। যেমন: ছয়মাস পর নিজের মূলধন স্ত্রীর মালিকানায় হস্তান্তর করে দিলো এবং সবসময়ের জন্য এই ব্যবস্থা চালু রাখলো। এভাবে সে وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ 'যারা সোনা ও রুপা কুক্ষিগত করে রাখে'-এর মজা লোটে।৭১
أعاذنا الله من ذالك
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই ধরনের হিলা ও অপকৌশল থেকে রক্ষা করুন।
অবশ্য রহমতপ্রাপ্ত উম্মতের ফহিকগণ 'হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করা'র উদ্দেশ্যে নয়, বরং উম্মতকে জটিলতা ও কষ্ট থেকে মুক্তিদানের জন্য যথার্থ গবেষণা ও ইজতিহাদের মাধ্যমে যে-কতগুলো সহজ পন্থা নির্ধারণ করেছেন, যা বাস্তবিক পক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশ ও নিষেধাবলির উদ্দেশ্য বিনষ্ট হতে দেয় না, তা উপরিউক্ত শাস্তি র ক্ষেত্র নয়। কিন্তু এসব মাসআলার জন্য 'কিতাবুল হিয়াল' বা 'কৌশল অধ্যায়' শব্দটি ব্যবহার করা সঠিক নয়; এই মাসআলাগুলোর শিরোনাম বরং 'কিতাবুত তাসহিল' বা 'সহজীকরণ অধ্যায়' হওয়া উচিত।
তিন.
কুরআন মাজিদ অধ্যয়ন করলে এটা সহজেই জানা যেতে পারে যে, আল্লাহ তাআলার হেকমত এটাই চায় যে, 'আমলের প্রতিফল আমল-জাতীয়' হোক। উপরিউক্ত ঘটনাতে এটাই দেখতে পাওয়া যায়। কেননা, আসহাবে সান্তের বাহানা ও অপকৌশলের দ্বারা শনিবারের বিধানকে বিকৃত ও পরিবর্তিত করে দিয়েছিলো। ফলে 'আকৃতির বিকৃতি' দ্বারাই তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাফেয ইমাদুদ্দিন বিন কাসির রহ. এই সত্যকে নিম্নলিখিত ভাষায় ব্যক্ত করেছেন-
فَلَمَّا فَعَلُوا ذَلِكَ مَسَخَهُمُ اللَّهُ إِلَى صُورَةِ الْقِرَدَةِ وَهِيَ أَشْبَهُ شَيْءٍ بِالْاَنَاسِي فِي الشَّكْلِ الظَّاهِرِ وَلَيْسَ بِإِنْسَانٍ حَقِيقَةً، فَكَذَلِكَ أَعْمَالُ هَؤُلَاءِ وَحِيَلَتُهُمْ لَمَّا كَانَتْ مُشَابِهَةً لِلْحَقِّ فِي الظَّاهِرِ وَمُخَالِفَةً لَهُ فِي الْبَاطِنِ كَانَ جَزَاؤُهُمْ مِنْ جِنْسِ عَمَلِهِمْ.
“ইহুদিরা যখন ওই কাজ করলো, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বানরের আকৃতিতে রূপান্তরিত করে দিলেন। বাহ্যিক আকৃতির ক্ষেত্রে বানর মানুষের সঙ্গে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ, যদিও বাস্তবে তা মানুষ নয়। এভাবে ইহুদিদের কর্মকাণ্ড, বাহানা ও কৌশল বাহ্যিক দিক থেকে সত্যের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে; কিন্তু প্রকৃত অর্থে সত্যের বিপরীত। ফলে তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের অনুরূপ শাস্তি দেয়া হয়েছে।”৭২
৪. ফরয আমল আদায়ের সময় এ-কথার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা উচিত নয় যে, যাঁর উদ্দেশে এই ফরয আমল আদায় করা হচ্ছে তিনি তা কবুল করছেন না-কি কবুল করছেন না। কেননা, ফরয আদায় করার সৌভাগ্য এটাই কম কি যে, ফরয আদায়কারী ব্যক্তি সবসময় সওয়াব, প্রতিদান এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের সম্মানে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত হচ্ছেন।
ذلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (سورة الجمعة)
‘তা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।’ [সুরা জুমআ: আয়াত ৪]
টিকাঃ
৬৮. তাফসিরে ইবনে কাসির, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬২, সুরা মায়িদা; মুসনাদে আহমদ: হাদিস ১৭৭২০।
৬৯. সহিহু মুসলিম: হাদিস ১৮৬; মুসনাদে আহমদ: হাদিস ১১১৫০।
৭০. তাফসিরে ইবনে কাসির, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯৩, সুরা বাকারা।
৭১. সুরা তওবা: আয়াত ৩৪।
৭২. তাফসিরে ইবনে কাসির, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮৮, সুরা বাকারা।