📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 শাহাদাতের স্থল

📄 শাহাদাতের স্থল


হযরত ইয়াহইয়া আ.-কে কোন স্থান শহীদ করা হয়? ইতিহাস ও জীবনচরিত লেখকগণের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একটি অভিমত হলো, বাইতুল মুকাদ্দাসের ভেতর হায়কাল ও কুরবানীর স্থলের মধ্যবর্তী স্থানে হয়েছে। এখানে ৭০ হাজার নবীকে শহীদ করা হয়েছিলো। শামার বিন আতিয়‍্যাহ থেকে সুফয়ান সাওরি রহ. উল্লিখিত অভিমত নকল করেছেন।
হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে আবু ওবায়দাহ কাসিম বিন সাল্লাম নকল করেছেন যে, তাকে দামেশকে শহীদ করা হয়েছিলো। সেখানেই বুখতেনাস্সারের ঘটনাও সংঘটিত হয়েছিলো। ইবনে কাসির রহ. বলেন, এ অভিমত সহিহ হওয়ার জন্য আত্মা ও হাসান রহ.-এর সেই অভিমত স্বীকার করতে হবে, যেখানে তারা বলেছেন, বখতে নসর ঈসা আ.-এর সমকালীন ছিলো। **
ইতোপূর্বে আমরা প্রমাণিত করেছি যে, নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ ঐতিহাসিক সাক্ষ্যের আলোকে উল্লিখিত অভিমত ভুল। কেননা, হযরত ঈসা আ.-এর কয়েক শতাব্দী পূর্বে বখতে নসর অতিক্রান্ত হয়েছে। ব্যাপারটি খোদ ইবনে কাসির রহ. বাইতুল মুকাদ্দাসের ধ্বংসযজ্ঞ ও হযরত উযায়ের আ.-এর ঘটনায় স্বীকারও করেছেন। দ্বিতীয়ত যদি ওই অভিমত মেনে নেয়া হয়, তাহলে তার সঙ্গে সঙ্গে একথাগুলোও মেনে নিতে হবে যে, প্রথমত হযরত ঈসা আ. সর্বশেষ ইসরাইলি নবী নন। দ্বিতীয়ত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর মধ্যে কোনো 'ওহির সাময়িক বিরতি'-এর সময়ও অতিবাহিত হয় নি। এ সময় আরমিয়াহ, হিযকিল, উযায়ের ও দানিয়াল আ. প্রমুখ ইসরাইলি নবী, যারা সর্বসম্মতিক্রমে বখতে নরস ও তৎপরবর্তীকালে 'বাবেল' নগরীতে বন্দী ছিলেন, তাদের প্রত্যেকে হযরত ঈসা আ.-এর পর আগমন করেছেন। অথচ এ দুটি দাবি তাওরাত, ঐতিহাসিক সাক্ষ্য ও ইসলামি রেওয়ায়েতের সামষ্টিক বর্ণনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কাজেই তা ভুল ও প্রত্যাখ্যাত।
অবশ্য এতুটুক তথ্য-হযরত ইয়াহইয়া আ.-কে বাইতুল মুকাদ্দাসে নয়, বরং দামেশকে শহীদ করা হয়েছিলো- ইবনে আসাকিরের সেই রেওয়ায়েতের মাধ্যমেও সমর্থন পায় যা তিনি ওয়ালিদ বিন মুসলিমের সনদে নকল করেছেন যে, যায়দ বিন ওয়াকেদ বলেন, দামেশকে যখন সাকাসিকার স্তম্ভের নিচে একটি মসজিদ পুনর্নির্মাণ করা হয় তখন আমি নিজের চোখে দেখেছি যে, পূর্বদিকে মেহরাবের কাছে একটি পিলার খোদাই করার সময় হযরত ইয়াহইয়া আ.-এর মাথা মুবারক বেরিয়ে আসে। গোটা চেহারা এমনকি চুলগুলো পর্যন্ত সতেজ দেখাচ্ছিলো। রক্তগুলো এতটাই টাটকা দেখাচ্ছিলো যে, মনে হয় তিনি সদ্য শহীদ হয়েছেন।⁵⁵ কিন্তু এখানে একটি প্রশ্ন অবশ্যই সৃষ্টি হয় যে, তিনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, এটি হযরত ইয়াহইয়া আ.-এরই মুবারক মাথা। এটি অন্যকোনো নবী বা মহান ব্যক্তিরও তো হতে পারে।
মোটকথা, হযরত ইয়াহইয়া আ.-কে ঠিক কোথায় শহীদ করা হয়েছিলো? এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর মতো সাক্ষ্য পাওয়া যায় না। তবে এতটুকু তথ্য সর্বমহল স্বীকৃত যে, ইহুদিরা তাঁকে শহীদ করেছিলো। যখন হযরত ঈসা আ. তাঁর শহীদ হওয়ার সংবাদ পান তখন তিনি প্রকাশ্যে দীনের দাওয়াত শুরু করেন।
পবিত্র কুরআন একাধিক স্থানে ইহুদিদের খুনে মানসিকতা, রক্তলোলুপতা ও বাতিলমুখী মনোবৃত্তির বিবরণ প্রদানকালে এ কথা বলেছে যে, তারা তাদের নবী-রাসুলদেরকে হত্যা করা থেকেও নিবৃত্ত হয় নি। সুরা আলে ইমরানে ইরশাদ হয়েছে- إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٌّ وَيَقْتُلُونَ الَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرُهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ()
'নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করে, অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করে এবং যারা ইনসাফের আদেশকারীদেরকেও হত্যা করে আপনি তাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সুসংবাদ জানিয়ে দিন।' [সুরা আলে ইমরান: আয়াত ২০]
ইবনে আবি হাতেম অবিচ্ছিন্ন সূত্রে হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বনি ইসরাইল একদিনে ৪৩ নবী ও এমন ১৭০ জন মহৎ লোককে শহীদ করেছিলো, যাঁরা তাদেরকে সৎকাজের আদেশ করতেন। ৫৬

টিকাঃ
৫০. তারিখে ইবনে কাসির: ২/৫৫
**. তারিখে ইবনে কাসির: ২/৫৫
৫৫. তারিখে ইবনে কাসির: ২/৫৫
৫৬. তাফসিরে ইবনে কাসির: ১/২৫৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00