📘 কাসাসুল কুরআন 📄 শিক্ষা ও উপদেশ

📄 শিক্ষা ও উপদেশ


যদি শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের মানসিকতা নিয়ে হযরত ইউনুস আ.-এর জীবনী অধ্যয়ন করা হলে নিম্নের বাস্তবতাগুলো দৃষ্টির সম্মুখে ফুটে উঠবে—
১। মানবসম্প্রদায়ের হেদায়েতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর 'চিরন্তন নীতি' হলো, যখন কোনো জাতি তাদের নবীর দাওয়াত থেকে অব্যাহতভাবে মুখ ফিরিয়ে রাখে; অত্যাচার, অনাচার ও অবিচারকে নিজেদের প্রতীক বানিয়ে ফেলে আর আল্লাহর নবী তাদের ওপর আযাব নেমে আসার সংবাদ প্রদান করেন, তখন সেই জাতির সামনে মাত্র দুটি পথ খোলা থাকে। হয়তো তারা আযাব আসার পূর্বেই ঈমান নিয়ে আসে, ফলে আযাব থেকে বেঁচে যায়, আর না হয় ঈমান না আনার কারণে আযাবে নিপতিত হয়। যদি নবীর আযাবের সংবাদ দেয়ার পর আযাব নেমে আসার পূর্বে তারা ঈমান না আনে, তাহলে সেই আযাব থেকে তাদের রক্ষা পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। হযরত নুহ, সালেহ, লুত আলাইহিমুস সালামের জাতিসহ আদ, সামুদ প্রভৃতি পূর্ববর্তী জাতি-গোষ্ঠীর বিশাল সভ্যতা, অতি উন্নত কৃষ্টি, অত্যাচারী শক্তি ও প্রতাপের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলার আযাবে মুহূর্তেই পৃথিবীর বুক থেকে তাদের ধ্বংস এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সুদীর্ঘ ইতিহাস এই সত্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
২। বিগত দিনে যত উম্মত অতিবাহিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে হযরত ইউনুস আ.-এর জাতি ভিন্ন একটি উদাহরণ দাঁড় করিয়েছে। তারা আযাব নেমে আসার পূর্বেই ঈমান এনেছে এবং তারা আল্লাহর সত্য অনুসারী ও অনুগত হওয়ার মাধ্যমে আযাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে। কতই না ভালো হতো, যদি তাদের পরবর্তীকালে আগমনকারী বিভিন্ন জাতি ও প্রজন্ম হযরত ইউনুসের জাতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে এভাবে আল্লাহর আযাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সমর্থ হতো। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, তেমনটি ঘটে নি।
৩। পৃথিবীর অন্য সকল বিশেষ মানুষসহ সাধারণ মানুষদের সঙ্গে মহান আল্লাহ যে আচরণ করে থাকেন, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের সঙ্গে তাঁর আচরণ হয় এর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এবং সেটাই হওয়া উচিত। কারণ হলো, তারা সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলা ও কথা শোনার ক্ষমতা রাখেন। কাজেই আল্লাহর বিধান পালন করার যে দায়িত্ব তাঁদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে তা অন্য কারো ওপর ন্যস্ত নয়। যার কারণে তাঁদের কর্তব্য হলো, তাঁরা যে কাজ-ই করবেন তা অবশ্যই আল্লাহর ওহির আলোকে হতে হবে। বিশেষ করে, দীনের প্রচার ও হকের পয়গাম সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়ে আসমানি ওহির ইলমে ইয়াকিনের সঙ্গেই তাঁদের বন্ধন থাকতে হবে। যার কারণে যখন তারা কোনো কাজে দ্রুততার আশ্রয় নিয়ে ফেলেন অথবা ওহির অপেক্ষা না করে কোনো কথা বা কাজের পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন, তখন - বিষয়টি যত ক্ষুদ্রই হোক না কেনো- তাঁদেরকে মহান আল্লাহ কঠিনভাবে পাকড়াও করে থাকেন। এসময় অবস্থাচিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য আল্লাহ তাআলা এমন অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন যে, শ্রবণকারী মনে করবে, বাস্তবেই তারা বুঝি বিশাল কোনো অন্যায় করে ফেলেছেন। তবে যাই ঘটুক, সবসময়ের মতো এমন নিদারুণ মুহূর্তেও মহান আল্লাহর সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত থাকে।
আর তারাও তৎক্ষণাৎ সতর্ক হয়ে নিজের অনুতাপ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য দু-হাত তুলে ধরেন। তওবা ও ইসতিগফারের আশ্রয়ে নিজেকে সমর্পণ করেন। ফলে অতি দ্রুত তারা মহান আল্লাহর কাছে মকবুল হয়ে যান। যা তাঁদের সম্মান ও মর্যাদাকে পূর্বাপেক্ষা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
পবিত্র কুরআনের বাচনভঙ্গি ও উপস্থাপনাশৈলীর ক্ষেত্রে উল্লিখিত মৌলিক তথ্যটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না। যদি কেউ উল্লিখিত বিষয়টি না জানে তাহলে সে এ জাতীয় স্থানে মারাত্মক সংশয়ে পড়ে যাবে। সে দেখবে, একদিকে মহান আল্লাহ একজনকে নবী ও রাসুল বলে প্রশংসার অঞ্জলি ঢেলে দিচ্ছেন আর অন্যদিকে কথাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তিনি বুঝি চরম কোনো অন্যায় করে ফেলেছেন। যার কারণে প্রথমে সে অবশ্যই হয়রান ও কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে যাবে। এরপর হয়তো সে বক্রপথে নেমে পড়বে অথবা ওয়াসওয়াসার অন্ধকার প্রান্তরে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াবে। কাজেই আবশ্যক হলো, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম সম্পর্কিত ঘটনাবলি ও সংবাদের ক্ষেত্রে উল্লিখিত মৌলিক তথ্যটি সবসময় দৃষ্টির সম্মুখে রাখতে হবে, যেনো সিরাতুল মুসতাকিম থেকে পা ফসকে না যায়।
৪. ইসলামের শিক্ষা হলো, আল্লাহর সকল সত্য নবী -তিনি যে ধর্মের-ই হোন না কেনো- তাঁর ওপর তেমনই ঈমান রাখতে হবে, যেভাবে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ঈমান রাখতে হয়। আমাদের নবী সকল নবী-রাসুলের সর্দার এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, এই বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও তাঁর এমনভাবে প্রশংসা করা যাবে না যার দ্বারা অন্য নবীকে হেয় ও নীচ করতে হয়। এটা কঠিনভাবে নিষিদ্ধ।

যদি শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের মানসিকতা নিয়ে হযরত ইউনুস আ.-এর জীবনী অধ্যয়ন করা হলে নিম্নের বাস্তবতাগুলো দৃষ্টির সম্মুখে ফুটে উঠবে—
১। মানবসম্প্রদায়ের হেদায়েতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর 'চিরন্তন নীতি' হলো, যখন কোনো জাতি তাদের নবীর দাওয়াত থেকে অব্যাহতভাবে মুখ ফিরিয়ে রাখে; অত্যাচার, অনাচার ও অবিচারকে নিজেদের প্রতীক বানিয়ে ফেলে আর আল্লাহর নবী তাদের ওপর আযাব নেমে আসার সংবাদ প্রদান করেন, তখন সেই জাতির সামনে মাত্র দুটি পথ খোলা থাকে। হয়তো তারা আযাব আসার পূর্বেই ঈমান নিয়ে আসে, ফলে আযাব থেকে বেঁচে যায়, আর না হয় ঈমান না আনার কারণে আযাবে নিপতিত হয়। যদি নবীর আযাবের সংবাদ দেয়ার পর আযাব নেমে আসার পূর্বে তারা ঈমান না আনে, তাহলে সেই আযাব থেকে তাদের রক্ষা পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। হযরত নুহ, সালেহ, লুত আলাইহিমুস সালামের জাতিসহ আদ, সামুদ প্রভৃতি পূর্ববর্তী জাতি-গোষ্ঠীর বিশাল সভ্যতা, অতি উন্নত কৃষ্টি, অত্যাচারী শক্তি ও প্রতাপের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলার আযাবে মুহূর্তেই পৃথিবীর বুক থেকে তাদের ধ্বংস এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সুদীর্ঘ ইতিহাস এই সত্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
২। বিগত দিনে যত উম্মত অতিবাহিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে হযরত ইউনুস আ.-এর জাতি ভিন্ন একটি উদাহরণ দাঁড় করিয়েছে। তারা আযাব নেমে আসার পূর্বেই ঈমান এনেছে এবং তারা আল্লাহর সত্য অনুসারী ও অনুগত হওয়ার মাধ্যমে আযাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে। কতই না ভালো হতো, যদি তাদের পরবর্তীকালে আগমনকারী বিভিন্ন জাতি ও প্রজন্ম হযরত ইউনুসের জাতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে এভাবে আল্লাহর আযাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সমর্থ হতো। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, তেমনটি ঘটে নি।
৩। পৃথিবীর অন্য সকল বিশেষ মানুষসহ সাধারণ মানুষদের সঙ্গে মহান আল্লাহ যে আচরণ করে থাকেন, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের সঙ্গে তাঁর আচরণ হয় এর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এবং সেটাই হওয়া উচিত। কারণ হলো, তারা সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলা ও কথা শোনার ক্ষমতা রাখেন। কাজেই আল্লাহর বিধান পালন করার যে দায়িত্ব তাঁদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে তা অন্য কারো ওপর ন্যস্ত নয়। যার কারণে তাঁদের কর্তব্য হলো, তাঁরা যে কাজ-ই করবেন তা অবশ্যই আল্লাহর ওহির আলোকে হতে হবে। বিশেষ করে, দীনের প্রচার ও হকের পয়গাম সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়ে আসমানি ওহির ইলমে ইয়াকিনের সঙ্গেই তাঁদের বন্ধন থাকতে হবে। যার কারণে যখন তারা কোনো কাজে দ্রুততার আশ্রয় নিয়ে ফেলেন অথবা ওহির অপেক্ষা না করে কোনো কথা বা কাজের পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন, তখন - বিষয়টি যত ক্ষুদ্রই হোক না কেনো- তাঁদেরকে মহান আল্লাহ কঠিনভাবে পাকড়াও করে থাকেন। এসময় অবস্থাচিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য আল্লাহ তাআলা এমন অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন যে, শ্রবণকারী মনে করবে, বাস্তবেই তারা বুঝি বিশাল কোনো অন্যায় করে ফেলেছেন। তবে যাই ঘটুক, সবসময়ের মতো এমন নিদারুণ মুহূর্তেও মহান আল্লাহর সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত থাকে।
আর তারাও তৎক্ষণাৎ সতর্ক হয়ে নিজের অনুতাপ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য দু-হাত তুলে ধরেন। তওবা ও ইসতিগফারের আশ্রয়ে নিজেকে সমর্পণ করেন। ফলে অতি দ্রুত তারা মহান আল্লাহর কাছে মকবুল হয়ে যান। যা তাঁদের সম্মান ও মর্যাদাকে পূর্বাপেক্ষা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
পবিত্র কুরআনের বাচনভঙ্গি ও উপস্থাপনাশৈলীর ক্ষেত্রে উল্লিখিত মৌলিক তথ্যটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না। যদি কেউ উল্লিখিত বিষয়টি না জানে তাহলে সে এ জাতীয় স্থানে মারাত্মক সংশয়ে পড়ে যাবে। সে দেখবে, একদিকে মহান আল্লাহ একজনকে নবী ও রাসুল বলে প্রশংসার অঞ্জলি ঢেলে দিচ্ছেন আর অন্যদিকে কথাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তিনি বুঝি চরম কোনো অন্যায় করে ফেলেছেন। যার কারণে প্রথমে সে অবশ্যই হয়রান ও কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে যাবে। এরপর হয়তো সে বক্রপথে নেমে পড়বে অথবা ওয়াসওয়াসার অন্ধকার প্রান্তরে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াবে। কাজেই আবশ্যক হলো, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম সম্পর্কিত ঘটনাবলি ও সংবাদের ক্ষেত্রে উল্লিখিত মৌলিক তথ্যটি সবসময় দৃষ্টির সম্মুখে রাখতে হবে, যেনো সিরাতুল মুসতাকিম থেকে পা ফসকে না যায়।
৪. ইসলামের শিক্ষা হলো, আল্লাহর সকল সত্য নবী -তিনি যে ধর্মের-ই হোন না কেনো- তাঁর ওপর তেমনই ঈমান রাখতে হবে, যেভাবে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ঈমান রাখতে হয়। আমাদের নবী সকল নবী-রাসুলের সর্দার এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, এই বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও তাঁর এমনভাবে প্রশংসা করা যাবে না যার দ্বারা অন্য নবীকে হেয় ও নীচ করতে হয়। এটা কঠিনভাবে নিষিদ্ধ।

যদি শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের মানসিকতা নিয়ে হযরত ইউনুস আ.-এর জীবনী অধ্যয়ন করা হলে নিম্নের বাস্তবতাগুলো দৃষ্টির সম্মুখে ফুটে উঠবে—
১। মানবসম্প্রদায়ের হেদায়েতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর 'চিরন্তন নীতি' হলো, যখন কোনো জাতি তাদের নবীর দাওয়াত থেকে অব্যাহতভাবে মুখ ফিরিয়ে রাখে; অত্যাচার, অনাচার ও অবিচারকে নিজেদের প্রতীক বানিয়ে ফেলে আর আল্লাহর নবী তাদের ওপর আযাব নেমে আসার সংবাদ প্রদান করেন, তখন সেই জাতির সামনে মাত্র দুটি পথ খোলা থাকে। হয়তো তারা আযাব আসার পূর্বেই ঈমান নিয়ে আসে, ফলে আযাব থেকে বেঁচে যায়, আর না হয় ঈমান না আনার কারণে আযাবে নিপতিত হয়। যদি নবীর আযাবের সংবাদ দেয়ার পর আযাব নেমে আসার পূর্বে তারা ঈমান না আনে, তাহলে সেই আযাব থেকে তাদের রক্ষা পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। হযরত নুহ, সালেহ, লুত আলাইহিমুস সালামের জাতিসহ আদ, সামুদ প্রভৃতি পূর্ববর্তী জাতি-গোষ্ঠীর বিশাল সভ্যতা, অতি উন্নত কৃষ্টি, অত্যাচারী শক্তি ও প্রতাপের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলার আযাবে মুহূর্তেই পৃথিবীর বুক থেকে তাদের ধ্বংস এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সুদীর্ঘ ইতিহাস এই সত্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
২। বিগত দিনে যত উম্মত অতিবাহিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে হযরত ইউনুস আ.-এর জাতি ভিন্ন একটি উদাহরণ দাঁড় করিয়েছে। তারা আযাব নেমে আসার পূর্বেই ঈমান এনেছে এবং তারা আল্লাহর সত্য অনুসারী ও অনুগত হওয়ার মাধ্যমে আযাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে। কতই না ভালো হতো, যদি তাদের পরবর্তীকালে আগমনকারী বিভিন্ন জাতি ও প্রজন্ম হযরত ইউনুসের জাতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে এভাবে আল্লাহর আযাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সমর্থ হতো। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, তেমনটি ঘটে নি।
৩। পৃথিবীর অন্য সকল বিশেষ মানুষসহ সাধারণ মানুষদের সঙ্গে মহান আল্লাহ যে আচরণ করে থাকেন, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের সঙ্গে তাঁর আচরণ হয় এর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এবং সেটাই হওয়া উচিত। কারণ হলো, তারা সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলা ও কথা শোনার ক্ষমতা রাখেন। কাজেই আল্লাহর বিধান পালন করার যে দায়িত্ব তাঁদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে তা অন্য কারো ওপর ন্যস্ত নয়। যার কারণে তাঁদের কর্তব্য হলো, তাঁরা যে কাজ-ই করবেন তা অবশ্যই আল্লাহর ওহির আলোকে হতে হবে। বিশেষ করে, দীনের প্রচার ও হকের পয়গাম সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়ে আসমানি ওহির ইলমে ইয়াকিনের সঙ্গেই তাঁদের বন্ধন থাকতে হবে। যার কারণে যখন তারা কোনো কাজে দ্রুততার আশ্রয় নিয়ে ফেলেন অথবা ওহির অপেক্ষা না করে কোনো কথা বা কাজের পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন, তখন - বিষয়টি যত ক্ষুদ্রই হোক না কেনো- তাঁদেরকে মহান আল্লাহ কঠিনভাবে পাকড়াও করে থাকেন। এসময় অবস্থাচিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য আল্লাহ তাআলা এমন অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন যে, শ্রবণকারী মনে করবে, বাস্তবেই তারা বুঝি বিশাল কোনো অন্যায় করে ফেলেছেন। তবে যাই ঘটুক, সবসময়ের মতো এমন নিদারুণ মুহূর্তেও মহান আল্লাহর সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত থাকে।
আর তারাও তৎক্ষণাৎ সতর্ক হয়ে নিজের অনুতাপ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য দু-হাত তুলে ধরেন। তওবা ও ইসতিগফারের আশ্রয়ে নিজেকে সমর্পণ করেন। ফলে অতি দ্রুত তারা মহান আল্লাহর কাছে মকবুল হয়ে যান। যা তাঁদের সম্মান ও মর্যাদাকে পূর্বাপেক্ষা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
পবিত্র কুরআনের বাচনভঙ্গি ও উপস্থাপনাশৈলীর ক্ষেত্রে উল্লিখিত মৌলিক তথ্যটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না। যদি কেউ উল্লিখিত বিষয়টি না জানে তাহলে সে এ জাতীয় স্থানে মারাত্মক সংশয়ে পড়ে যাবে। সে দেখবে, একদিকে মহান আল্লাহ একজনকে নবী ও রাসুল বলে প্রশংসার অঞ্জলি ঢেলে দিচ্ছেন আর অন্যদিকে কথাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তিনি বুঝি চরম কোনো অন্যায় করে ফেলেছেন। যার কারণে প্রথমে সে অবশ্যই হয়রান ও কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে যাবে। এরপর হয়তো সে বক্রপথে নেমে পড়বে অথবা ওয়াসওয়াসার অন্ধকার প্রান্তরে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াবে। কাজেই আবশ্যক হলো, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম সম্পর্কিত ঘটনাবলি ও সংবাদের ক্ষেত্রে উল্লিখিত মৌলিক তথ্যটি সবসময় দৃষ্টির সম্মুখে রাখতে হবে, যেনো সিরাতুল মুসতাকিম থেকে পা ফসকে না যায়।
৪. ইসলামের শিক্ষা হলো, আল্লাহর সকল সত্য নবী -তিনি যে ধর্মের-ই হোন না কেনো- তাঁর ওপর তেমনই ঈমান রাখতে হবে, যেভাবে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ঈমান রাখতে হয়। আমাদের নবী সকল নবী-রাসুলের সর্দার এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, এই বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও তাঁর এমনভাবে প্রশংসা করা যাবে না যার দ্বারা অন্য নবীকে হেয় ও নীচ করতে হয়। এটা কঠিনভাবে নিষিদ্ধ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px