📄 তপ্ত নবীর প্রতারণা
হযরত ইউনুস আ.-এর ঘটনা থেকে পাঞ্জাবের ভণ্ড নবী মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি একটি অন্যায্য ফায়দা লুটার ফন্দি করেছে। তা হলো, যখন কাদিয়ানি তার কতিপয় বিরুদ্ধবাদীকে এ চ্যালেঞ্জ করেছিলো যে, যদি তারা এভাবে বিরোধিতা করে যায় তাহলে আল্লাহর ফয়সালা হয়ে গেছে যে, অমুক সময়ের ভেতর তাদের ওপর আল্লাহর আযাব নেমে আসবে। কিন্তু পরিণতিতে দেখা গেলো যে, তাদের বিরোধিতার মাত্রা উপর্যপুরি বেড়েই চলেছে। তা সত্ত্বেও তাদের ওপর আযাবের লেশমাত্র নেমে আসে নি। তখন কাদিয়ানি ব্যর্থতার অপমান থেকে রক্ষা পেতে এ কথা চালিয়ে দিয়েছিলো যে, যেহেতু বিরুদ্ধবাদীরা মনে মনে ভয় পেয়ে গেছে; এজন্য তাদের ওপর থেকে আযাব স্থগিত করা হয়েছে। যেভাবে হযরত ইউনুস আ.-এর জাতি থেকে আযাব সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো।
এটি যে একটি কূটকৌশল তা পবিত্র কুরআনের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। কারণ হলো, হযরত ইউনুস আ.-এর জাতি আযাব নেমে আসার পূর্বেই প্রকাশ্যে ঈমান গ্রহণ করেছিলো। তারা হযরত ইউনুস আ.-কে সত্য নবী স্বীকার করে তাঁর অনুসন্ধানে মেনে পড়েছিলো। তিনি ফিরে আসতেই তাঁর আনুগত্যকেই নিজেদের দীন স্বীকার করেছিলো। এর বিপরীতে কাদিয়ানীর বিরোধিতাকারীরা শুধু তার বিরোধিতাকেই অব্যাহত রাখে নি; উপরন্তু কাদিয়ানি মিশনের বিরুদ্ধে তাদের চেষ্টা ও প্রয়াসের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিলো। কাজেই নিজের মিথ্যে দাবির সপক্ষে হযরত ইউনুস আ.-এর ঘটনা দিয়ে কাদিয়ানির দলিল দেওয়া এবং তার আড়ালে নিজের মিথ্যাচার ও কারচুপি লুকানো একটি নিষ্ফল প্রয়াস ও অবান্তর যুক্তি বৈ কিছু নয়। যদি তর্কের খাতিরে মেনে নিই যে, কাদিয়ানির বিরোধীরা মনে মনে ভয় পেয়ে গিয়েছিলো, তাহলে প্রশ্ন হলো, একজন ব্যক্তি যদি মনে মনে কাউকে সত্য নবী বলে বিশ্বাস করে, কিন্তু নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে তাকে অস্বীকার করে তাহলে কি তাকে তার প্রতি ঈমানদার বলা যায়? যদি তা ঠিক হয়ে থাকে তাহলে যেসকল ইহুদিদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ঘোষণা করেছে, يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ তারা আল্লাহর এই মহান নবীর নবুয়তকে মনে মনে ঠিক ততটা বিশ্বাস করে, যতটা তারা তাদের সন্তানের নিজ ঔরসজাত হওয়াকে বিশ্বাস করে) তাহলে কোন যুক্তিকে সেই ইহুদিদেরকে মুমিন বলা যাবে না?
হযরত ইউনুস আ.-এর সততা ও মির্যা কাদিয়ানির মিথ্যাচারের মাঝখানে এই উজ্জ্বল পার্থক্য কি যথেষ্ট নয় যে, হযরত ইউনুস আ. যখন স্বজাতির কাছে ফিরে আসেন তখন তিনি যে জাতিকে আল্লাহর দুশমন, তাঁর রাসুলের দুশমন, অবাধ্য ও অনাচারী রেখে গিয়েছিলেন, তাদেরকে একনিষ্ঠ মুমিন, একান্ত বাধ্য ও অনুগত এবং তাঁর আগমনের কারণে উল্লসিত পেয়েছিলেন। পক্ষান্তরে কাদিয়ানি দেখতে পেলো যে, তার চ্যালেঞ্জের পর বিরুদ্ধবাদীরা তাদের কথা ও লেখনীতে এবং তাদের আমলি যিন্দেগিতে আগের চেয়ে আরো বিরোধী হয়ে গেছে। উপরন্তু তাদের মধ্য হতে অনেকেই এখনও জীবিত ও বহাল তবিয়তে আছেন। আর খোদ মির্যা কাদিয়ানি এমন রোগে আক্রান্ত হয়ে দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে চলে গেছে, যে রোগটি অনেক জাতির ওপর আযাব আকারে নেমে এসেছিলো। কবির ভাষায়-
ہیں تفاوت ره از کجاست تا بکجا রাস্তার এতটুকু পার্থক্যের কারণে কোথা থেকে কোথা চলে গেছে!
وَأَرْسَلْنَاهُ إِلَى مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ ) فَآمَنُوا 8111 ا فَالْتَقَمَهُ الْحُوْتُ وَهُوَ مُلِيمٌ . فَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ
এখানে আয়াতের ধারাবাহিকতার বিন্যাসের প্রেক্ষিতে একটি প্রশ্ন সৃষ্টি হয় যে, হযরত ইউনুস আ. মাছের ঘটনাটির পূর্বে নবুয়ত লাভ করেছিলেন না-কি তার পর? হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে ইবনে জারির নকল করেন, মাছের ঘটনার পর হযরত ইউনুস আ. নবুয়ত লাভ করেছিলেন। হযরত মুজাহিদ রহ. বলেন, তিনি ঘটনাটি ঘটার পূর্বেই নবুয়ত লাভ করেছিলেন এবং নিনাওয়াবাসীদের মধ্যে দীন প্রচার করতেই গমন করেছিলেন। হযরত বাগাবি রহ. বলেন, হযরত ইউনুস আ. মাছের ঘটনার পূর্বে নিনাওয়াবাসীদের জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। আর মাছের ঘটনার পর তিনি অন্য একটি জাতির উদ্দেশে প্রেরিত হন। পবিত্র কুরআনে এক লাখের অতিরিক্ত বলে দ্বিতীয় যে উম্মতের সংখ্যা বর্ণনা করেছে সেটি নিনাওয়ার জনসংখ্যার মধ্যে গণ্য নয়।
বাগাবির এই কথাটির সনদ নেই। কারণ, হযরত ইউনুস আ. দুটি পৃথক জাতির উদ্দেশে প্রেরিত হয়েছিলেন হয়েছিলেন বলে কোনো ইঙ্গিত পবিত্র কুরআনে নেই। বাকি থাকলো আয়াতের ধারাক্রমের বিন্যাসের ব্যাপারটি; এটি পবিত্র কুরআনের ভাষাগত সাহিত্য ও বাক্যালঙ্কারের ভিত্তিতে ঘটেছে।
কারণ, আলোচিত আয়াতসমূহে সর্বপ্রথম হযরত ইউনুস আ.-এর রিসালত ও নবুয়ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর স্বজাতির প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে দেশ ত্যাগ করে নৌকায় চড়া, প্রবল ঝঞ্ঝাবায়ুর কারণে লটারি হওয়া, পরবর্তীকালে সহি সালামতে মাছের পেট থেকে বেরিয়ে আসা এবং আল্লাহর মেহেরবানির আশ্রিত হয়ে সফলতার সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, তিনি যে জাতির উদ্দেশে প্রেরিত হয়েছিলেন তারা গুটিকয়েক সদস্য বিশিষ্ট ছিলেন না। বরং তারা ছিলেন বিপুল সংখ্যক জনতার বিশাল একটি জনপদ। যারা সর্বশেষ সময়ে ঈমান এনেছিলেন এবং আগম্য আযাব থেকে নিজেদের জীবন রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
কাজেই উল্লিখিত আয়াতসমূহে ঘটনার আগ-পর যেমন ঘটে নি, তেমনি তার আলোচনার ধারাক্রমের বিন্যাসের প্রেক্ষিতে এ কথা আবশ্যক হয় না যে, যিনি তিনি অপর একটি জাতির উদ্দেশেও প্রেরিত হয়েছিলেন, যার কথা إِلَىٰ مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ-এ বলা হয়েছে। যেমনটি বাগাবি দাবি করেছেন।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাছের ঘটনার আগে না পরে নবুয়ত লাভ করেছেন, সেই বিতর্কেরও যবনিকাপাত ঘটে। কাজেই এখন দ্বিমতের সুযোগ নেই। ইবনে কাসির রহ. উল্লিখিত দুই অভিমতের মধ্যে যেভাবে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন সেটাই প্রকৃত বাস্তবতা। অর্থাৎ হযরত ইউনুস আ. মাছের ঘটনার পূর্বে নিনাওয়াবাসীদের প্রতি নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। এরপর যখন তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে চলে যান তখন মাছের ঘটনাটি ঘটে। উল্লিখিত ঘটনার কারণে সতর্ক হয়ে যখন তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে অনুতাপ সহকারে প্রত্যাবর্তন করেন তখন আল্লাহর কাছে সেটি গৃহীতও হয়। তখন তাঁকে নির্দেশ দেয়া হয়, আপনি আপনার স্বজাতির কাছে ফিরে যান। কেননা, তারা এখন ঈমান এনেছে। কাজেই ফিরে গিয়ে তাদের পথপ্রদর্শন করুন।
হযরত ইউনুস আ.-এর ঘটনা থেকে পাঞ্জাবের ভণ্ড নবী মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি একটি অন্যায্য ফায়দা লুটার ফন্দি করেছে। তা হলো, যখন কাদিয়ানি তার কতিপয় বিরুদ্ধবাদীকে এ চ্যালেঞ্জ করেছিলো যে, যদি তারা এভাবে বিরোধিতা করে যায় তাহলে আল্লাহর ফয়সালা হয়ে গেছে যে, অমুক সময়ের ভেতর তাদের ওপর আল্লাহর আযাব নেমে আসবে। কিন্তু পরিণতিতে দেখা গেলো যে, তাদের বিরোধিতার মাত্রা উপর্যপুরি বেড়েই চলেছে। তা সত্ত্বেও তাদের ওপর আযাবের লেশমাত্র নেমে আসে নি। তখন কাদিয়ানি ব্যর্থতার অপমান থেকে রক্ষা পেতে এ কথা চালিয়ে দিয়েছিলো যে, যেহেতু বিরুদ্ধবাদীরা মনে মনে ভয় পেয়ে গেছে; এজন্য তাদের ওপর থেকে আযাব স্থগিত করা হয়েছে। যেভাবে হযরত ইউনুস আ.-এর জাতি থেকে আযাব সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো।
এটি যে একটি কূটকৌশল তা পবিত্র কুরআনের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। কারণ হলো, হযরত ইউনুস আ.-এর জাতি আযাব নেমে আসার পূর্বেই প্রকাশ্যে ঈমান গ্রহণ করেছিলো। তারা হযরত ইউনুস আ.-কে সত্য নবী স্বীকার করে তাঁর অনুসন্ধানে মেনে পড়েছিলো। তিনি ফিরে আসতেই তাঁর আনুগত্যকেই নিজেদের দীন স্বীকার করেছিলো। এর বিপরীতে কাদিয়ানীর বিরোধিতাকারীরা শুধু তার বিরোধিতাকেই অব্যাহত রাখে নি; উপরন্তু কাদিয়ানি মিশনের বিরুদ্ধে তাদের চেষ্টা ও প্রয়াসের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিলো। কাজেই নিজের মিথ্যে দাবির সপক্ষে হযরত ইউনুস আ.-এর ঘটনা দিয়ে কাদিয়ানির দলিল দেওয়া এবং তার আড়ালে নিজের মিথ্যাচার ও কারচুপি লুকানো একটি নিষ্ফল প্রয়াস ও অবান্তর যুক্তি বৈ কিছু নয়। যদি তর্কের খাতিরে মেনে নিই যে, কাদিয়ানির বিরোধীরা মনে মনে ভয় পেয়ে গিয়েছিলো, তাহলে প্রশ্ন হলো, একজন ব্যক্তি যদি মনে মনে কাউকে সত্য নবী বলে বিশ্বাস করে, কিন্তু নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে তাকে অস্বীকার করে তাহলে কি তাকে তার প্রতি ঈমানদার বলা যায়? যদি তা ঠিক হয়ে থাকে তাহলে যেসকল ইহুদিদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ঘোষণা করেছে, يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ তারা আল্লাহর এই মহান নবীর নবুয়তকে মনে মনে ঠিক ততটা বিশ্বাস করে, যতটা তারা তাদের সন্তানের নিজ ঔরসজাত হওয়াকে বিশ্বাস করে) তাহলে কোন যুক্তিকে সেই ইহুদিদেরকে মুমিন বলা যাবে না?
হযরত ইউনুস আ.-এর সততা ও মির্যা কাদিয়ানির মিথ্যাচারের মাঝখানে এই উজ্জ্বল পার্থক্য কি যথেষ্ট নয় যে, হযরত ইউনুস আ. যখন স্বজাতির কাছে ফিরে আসেন তখন তিনি যে জাতিকে আল্লাহর দুশমন, তাঁর রাসুলের দুশমন, অবাধ্য ও অনাচারী রেখে গিয়েছিলেন, তাদেরকে একনিষ্ঠ মুমিন, একান্ত বাধ্য ও অনুগত এবং তাঁর আগমনের কারণে উল্লসিত পেয়েছিলেন। পক্ষান্তরে কাদিয়ানি দেখতে পেলো যে, তার চ্যালেঞ্জের পর বিরুদ্ধবাদীরা তাদের কথা ও লেখনীতে এবং তাদের আমলি যিন্দেগিতে আগের চেয়ে আরো বিরোধী হয়ে গেছে। উপরন্তু তাদের মধ্য হতে অনেকেই এখনও জীবিত ও বহাল তবিয়তে আছেন। আর খোদ মির্যা কাদিয়ানি এমন রোগে আক্রান্ত হয়ে দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে চলে গেছে, যে রোগটি অনেক জাতির ওপর আযাব আকারে নেমে এসেছিলো। কবির ভাষায়-
ہیں تفاوت ره از کجاست تا بکجا রাস্তার এতটুকু পার্থক্যের কারণে কোথা থেকে কোথা চলে গেছে!
وَأَرْسَلْنَاهُ إِلَى مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ ) فَآمَنُوا 8111 ا فَالْتَقَمَهُ الْحُوْتُ وَهُوَ مُلِيمٌ . فَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ
এখানে আয়াতের ধারাবাহিকতার বিন্যাসের প্রেক্ষিতে একটি প্রশ্ন সৃষ্টি হয় যে, হযরত ইউনুস আ. মাছের ঘটনাটির পূর্বে নবুয়ত লাভ করেছিলেন না-কি তার পর? হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে ইবনে জারির নকল করেন, মাছের ঘটনার পর হযরত ইউনুস আ. নবুয়ত লাভ করেছিলেন। হযরত মুজাহিদ রহ. বলেন, তিনি ঘটনাটি ঘটার পূর্বেই নবুয়ত লাভ করেছিলেন এবং নিনাওয়াবাসীদের মধ্যে দীন প্রচার করতেই গমন করেছিলেন। হযরত বাগাবি রহ. বলেন, হযরত ইউনুস আ. মাছের ঘটনার পূর্বে নিনাওয়াবাসীদের জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। আর মাছের ঘটনার পর তিনি অন্য একটি জাতির উদ্দেশে প্রেরিত হন। পবিত্র কুরআনে এক লাখের অতিরিক্ত বলে দ্বিতীয় যে উম্মতের সংখ্যা বর্ণনা করেছে সেটি নিনাওয়ার জনসংখ্যার মধ্যে গণ্য নয়।
বাগাবির এই কথাটির সনদ নেই। কারণ, হযরত ইউনুস আ. দুটি পৃথক জাতির উদ্দেশে প্রেরিত হয়েছিলেন হয়েছিলেন বলে কোনো ইঙ্গিত পবিত্র কুরআনে নেই। বাকি থাকলো আয়াতের ধারাক্রমের বিন্যাসের ব্যাপারটি; এটি পবিত্র কুরআনের ভাষাগত সাহিত্য ও বাক্যালঙ্কারের ভিত্তিতে ঘটেছে।
কারণ, আলোচিত আয়াতসমূহে সর্বপ্রথম হযরত ইউনুস আ.-এর রিসালত ও নবুয়ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর স্বজাতির প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে দেশ ত্যাগ করে নৌকায় চড়া, প্রবল ঝঞ্ঝাবায়ুর কারণে লটারি হওয়া, পরবর্তীকালে সহি সালামতে মাছের পেট থেকে বেরিয়ে আসা এবং আল্লাহর মেহেরবানির আশ্রিত হয়ে সফলতার সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, তিনি যে জাতির উদ্দেশে প্রেরিত হয়েছিলেন তারা গুটিকয়েক সদস্য বিশিষ্ট ছিলেন না। বরং তারা ছিলেন বিপুল সংখ্যক জনতার বিশাল একটি জনপদ। যারা সর্বশেষ সময়ে ঈমান এনেছিলেন এবং আগম্য আযাব থেকে নিজেদের জীবন রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
কাজেই উল্লিখিত আয়াতসমূহে ঘটনার আগ-পর যেমন ঘটে নি, তেমনি তার আলোচনার ধারাক্রমের বিন্যাসের প্রেক্ষিতে এ কথা আবশ্যক হয় না যে, যিনি তিনি অপর একটি জাতির উদ্দেশেও প্রেরিত হয়েছিলেন, যার কথা إِلَىٰ مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ-এ বলা হয়েছে। যেমনটি বাগাবি দাবি করেছেন।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাছের ঘটনার আগে না পরে নবুয়ত লাভ করেছেন, সেই বিতর্কেরও যবনিকাপাত ঘটে। কাজেই এখন দ্বিমতের সুযোগ নেই। ইবনে কাসির রহ. উল্লিখিত দুই অভিমতের মধ্যে যেভাবে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন সেটাই প্রকৃত বাস্তবতা। অর্থাৎ হযরত ইউনুস আ. মাছের ঘটনার পূর্বে নিনাওয়াবাসীদের প্রতি নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। এরপর যখন তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে চলে যান তখন মাছের ঘটনাটি ঘটে। উল্লিখিত ঘটনার কারণে সতর্ক হয়ে যখন তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে অনুতাপ সহকারে প্রত্যাবর্তন করেন তখন আল্লাহর কাছে সেটি গৃহীতও হয়। তখন তাঁকে নির্দেশ দেয়া হয়, আপনি আপনার স্বজাতির কাছে ফিরে যান। কেননা, তারা এখন ঈমান এনেছে। কাজেই ফিরে গিয়ে তাদের পথপ্রদর্শন করুন।
হযরত ইউনুস আ.-এর ঘটনা থেকে পাঞ্জাবের ভণ্ড নবী মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি একটি অন্যায্য ফায়দা লুটার ফন্দি করেছে। তা হলো, যখন কাদিয়ানি তার কতিপয় বিরুদ্ধবাদীকে এ চ্যালেঞ্জ করেছিলো যে, যদি তারা এভাবে বিরোধিতা করে যায় তাহলে আল্লাহর ফয়সালা হয়ে গেছে যে, অমুক সময়ের ভেতর তাদের ওপর আল্লাহর আযাব নেমে আসবে। কিন্তু পরিণতিতে দেখা গেলো যে, তাদের বিরোধিতার মাত্রা উপর্যপুরি বেড়েই চলেছে। তা সত্ত্বেও তাদের ওপর আযাবের লেশমাত্র নেমে আসে নি। তখন কাদিয়ানি ব্যর্থতার অপমান থেকে রক্ষা পেতে এ কথা চালিয়ে দিয়েছিলো যে, যেহেতু বিরুদ্ধবাদীরা মনে মনে ভয় পেয়ে গেছে; এজন্য তাদের ওপর থেকে আযাব স্থগিত করা হয়েছে। যেভাবে হযরত ইউনুস আ.-এর জাতি থেকে আযাব সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো।
এটি যে একটি কূটকৌশল তা পবিত্র কুরআনের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। কারণ হলো, হযরত ইউনুস আ.-এর জাতি আযাব নেমে আসার পূর্বেই প্রকাশ্যে ঈমান গ্রহণ করেছিলো। তারা হযরত ইউনুস আ.-কে সত্য নবী স্বীকার করে তাঁর অনুসন্ধানে মেনে পড়েছিলো। তিনি ফিরে আসতেই তাঁর আনুগত্যকেই নিজেদের দীন স্বীকার করেছিলো। এর বিপরীতে কাদিয়ানীর বিরোধিতাকারীরা শুধু তার বিরোধিতাকেই অব্যাহত রাখে নি; উপরন্তু কাদিয়ানি মিশনের বিরুদ্ধে তাদের চেষ্টা ও প্রয়াসের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিলো। কাজেই নিজের মিথ্যে দাবির সপক্ষে হযরত ইউনুস আ.-এর ঘটনা দিয়ে কাদিয়ানির দলিল দেওয়া এবং তার আড়ালে নিজের মিথ্যাচার ও কারচুপি লুকানো একটি নিষ্ফল প্রয়াস ও অবান্তর যুক্তি বৈ কিছু নয়। যদি তর্কের খাতিরে মেনে নিই যে, কাদিয়ানির বিরোধীরা মনে মনে ভয় পেয়ে গিয়েছিলো, তাহলে প্রশ্ন হলো, একজন ব্যক্তি যদি মনে মনে কাউকে সত্য নবী বলে বিশ্বাস করে, কিন্তু নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে তাকে অস্বীকার করে তাহলে কি তাকে তার প্রতি ঈমানদার বলা যায়? যদি তা ঠিক হয়ে থাকে তাহলে যেসকল ইহুদিদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ঘোষণা করেছে, يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ তারা আল্লাহর এই মহান নবীর নবুয়তকে মনে মনে ঠিক ততটা বিশ্বাস করে, যতটা তারা তাদের সন্তানের নিজ ঔরসজাত হওয়াকে বিশ্বাস করে) তাহলে কোন যুক্তিকে সেই ইহুদিদেরকে মুমিন বলা যাবে না?
হযরত ইউনুস আ.-এর সততা ও মির্যা কাদিয়ানির মিথ্যাচারের মাঝখানে এই উজ্জ্বল পার্থক্য কি যথেষ্ট নয় যে, হযরত ইউনুস আ. যখন স্বজাতির কাছে ফিরে আসেন তখন তিনি যে জাতিকে আল্লাহর দুশমন, তাঁর রাসুলের দুশমন, অবাধ্য ও অনাচারী রেখে গিয়েছিলেন, তাদেরকে একনিষ্ঠ মুমিন, একান্ত বাধ্য ও অনুগত এবং তাঁর আগমনের কারণে উল্লসিত পেয়েছিলেন। পক্ষান্তরে কাদিয়ানি দেখতে পেলো যে, তার চ্যালেঞ্জের পর বিরুদ্ধবাদীরা তাদের কথা ও লেখনীতে এবং তাদের আমলি যিন্দেগিতে আগের চেয়ে আরো বিরোধী হয়ে গেছে। উপরন্তু তাদের মধ্য হতে অনেকেই এখনও জীবিত ও বহাল তবিয়তে আছেন। আর খোদ মির্যা কাদিয়ানি এমন রোগে আক্রান্ত হয়ে দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে চলে গেছে, যে রোগটি অনেক জাতির ওপর আযাব আকারে নেমে এসেছিলো। কবির ভাষায়-
ہیں تفاوت ره از کجاست تا بکجا রাস্তার এতটুকু পার্থক্যের কারণে কোথা থেকে কোথা চলে গেছে!
وَأَرْسَلْنَاهُ إِلَى مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ ) فَآمَنُوا 8111 ا فَالْتَقَمَهُ الْحُوْتُ وَهُوَ مُلِيمٌ . فَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ
এখানে আয়াতের ধারাবাহিকতার বিন্যাসের প্রেক্ষিতে একটি প্রশ্ন সৃষ্টি হয় যে, হযরত ইউনুস আ. মাছের ঘটনাটির পূর্বে নবুয়ত লাভ করেছিলেন না-কি তার পর? হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে ইবনে জারির নকল করেন, মাছের ঘটনার পর হযরত ইউনুস আ. নবুয়ত লাভ করেছিলেন। হযরত মুজাহিদ রহ. বলেন, তিনি ঘটনাটি ঘটার পূর্বেই নবুয়ত লাভ করেছিলেন এবং নিনাওয়াবাসীদের মধ্যে দীন প্রচার করতেই গমন করেছিলেন। হযরত বাগাবি রহ. বলেন, হযরত ইউনুস আ. মাছের ঘটনার পূর্বে নিনাওয়াবাসীদের জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। আর মাছের ঘটনার পর তিনি অন্য একটি জাতির উদ্দেশে প্রেরিত হন। পবিত্র কুরআনে এক লাখের অতিরিক্ত বলে দ্বিতীয় যে উম্মতের সংখ্যা বর্ণনা করেছে সেটি নিনাওয়ার জনসংখ্যার মধ্যে গণ্য নয়।
বাগাবির এই কথাটির সনদ নেই। কারণ, হযরত ইউনুস আ. দুটি পৃথক জাতির উদ্দেশে প্রেরিত হয়েছিলেন হয়েছিলেন বলে কোনো ইঙ্গিত পবিত্র কুরআনে নেই। বাকি থাকলো আয়াতের ধারাক্রমের বিন্যাসের ব্যাপারটি; এটি পবিত্র কুরআনের ভাষাগত সাহিত্য ও বাক্যালঙ্কারের ভিত্তিতে ঘটেছে।
কারণ, আলোচিত আয়াতসমূহে সর্বপ্রথম হযরত ইউনুস আ.-এর রিসালত ও নবুয়ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর স্বজাতির প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে দেশ ত্যাগ করে নৌকায় চড়া, প্রবল ঝঞ্ঝাবায়ুর কারণে লটারি হওয়া, পরবর্তীকালে সহি সালামতে মাছের পেট থেকে বেরিয়ে আসা এবং আল্লাহর মেহেরবানির আশ্রিত হয়ে সফলতার সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, তিনি যে জাতির উদ্দেশে প্রেরিত হয়েছিলেন তারা গুটিকয়েক সদস্য বিশিষ্ট ছিলেন না। বরং তারা ছিলেন বিপুল সংখ্যক জনতার বিশাল একটি জনপদ। যারা সর্বশেষ সময়ে ঈমান এনেছিলেন এবং আগম্য আযাব থেকে নিজেদের জীবন রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
কাজেই উল্লিখিত আয়াতসমূহে ঘটনার আগ-পর যেমন ঘটে নি, তেমনি তার আলোচনার ধারাক্রমের বিন্যাসের প্রেক্ষিতে এ কথা আবশ্যক হয় না যে, যিনি তিনি অপর একটি জাতির উদ্দেশেও প্রেরিত হয়েছিলেন, যার কথা إِلَىٰ مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ-এ বলা হয়েছে। যেমনটি বাগাবি দাবি করেছেন।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাছের ঘটনার আগে না পরে নবুয়ত লাভ করেছেন, সেই বিতর্কেরও যবনিকাপাত ঘটে। কাজেই এখন দ্বিমতের সুযোগ নেই। ইবনে কাসির রহ. উল্লিখিত দুই অভিমতের মধ্যে যেভাবে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন সেটাই প্রকৃত বাস্তবতা। অর্থাৎ হযরত ইউনুস আ. মাছের ঘটনার পূর্বে নিনাওয়াবাসীদের প্রতি নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। এরপর যখন তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে চলে যান তখন মাছের ঘটনাটি ঘটে। উল্লিখিত ঘটনার কারণে সতর্ক হয়ে যখন তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে অনুতাপ সহকারে প্রত্যাবর্তন করেন তখন আল্লাহর কাছে সেটি গৃহীতও হয়। তখন তাঁকে নির্দেশ দেয়া হয়, আপনি আপনার স্বজাতির কাছে ফিরে যান। কেননা, তারা এখন ঈমান এনেছে। কাজেই ফিরে গিয়ে তাদের পথপ্রদর্শন করুন।
📄 ইউনুছ নবীর সহিফা
ইউনাহ সহিফায় উল্লিখিত অভিমতসমূহের বাইরে ভিন্ন একটি কথা পাওয়া যায়। তা হলো, মহান আল্লাহ হযরত ইউনুস আ.-কে নিনাওয়াবাসীর হেদায়েতের জন্য আদিষ্ট করেছিলেন। কিন্তু তিনি 'তিরসিস' এলাকায় পালিয়ে যান। আর সেই সফরেই মাছের ঘটনাটি ঘটে। ফলে তিনি সতর্ক হয়ে যান। এরপর তাকে নির্দেশ দেয়া হয়, নিনাওয়া ফিরে গিয়ে আপনার দায়িত্ব পালন করুন। হযরত ইউনুস আ. সেখানে ফিরে দীন প্রচার করেন।
তারা স্বজাতি এবারও যখন দাওয়াত কবুল করতে অস্বীকৃতি জানায় তখন তিনি তাদের ভীতি প্রদর্শন করে বলেন, আগামী চল্লিশ দিনের মধ্যে তোমাদের ওপর আল্লাহর আযাব নামছে। আর তিনি দূরবর্তী একটি জঙ্গলে চলে যান। তখন তার স্বজাতি তৎক্ষণাৎ তাঁর প্রতি ঈমান আনলো। এসময় রাজা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সবাই চটের কাপড় পরিধান করলো। মানবশিশু ও পশুশাবকগুলোকে তাদের মায়েদের থেকে পৃথক করে ফেললো। এমতবস্থায় উম্মুক্ত প্রান্তরে বেরিয়ে প্রবল কান্না ও হাহাকারের সঙ্গে তওবা-ইসতিগফার করতে লাগলো। লোকজন নানা প্রান্তে হযরত ইউনুস আ.-কে সন্ধান করতে লাগলো। অন্যদিকে হযরত ইউনুস আ. যখন জানতে পারলেন যে, চল্লিশ দিন অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও আযাব আসেনি তখন মহান আল্লাহর প্রতি অভিমান করে দূরে বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহ তাআলার কাছে আবেদন করলেন, আমি এ খেয়ালেই নিনাওয়া আসতে চাইনি এবং তিরসিস চলে গিয়েছিলাম। কেননা, আমি জানতাম, আপনি অনেক দয়ালু ও আযাবের ব্যাপারে মন্থর আপনি দয়াপ্রবণ ও করুণাময়ী। এখন আমাকে মিথ্যাবাদী হতে হয়েছে। আমাকে মৃত্যু দান করুন। কেননা, আমার বেঁচে থাকার চেয়ে এখন মৃত্যুই শ্রেয়। এখানে একটি ঝুপড়ি তৈরি করে বসবাস করতে লাগলেন। মহান আল্লাহ তাঁকে ছায়া দিতে একটি অরণ্ডের লতা-গুল্মবিশিষ্ট গাছ উৎপন্ন করে দিলেন। গাছটি দেখে হযরত ইউনুস আ. খুবই খুশি হন।
কিন্তু সূর্য যখন মধ্যাকাশ পেরিয়ে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, তখন তার শেকড় পোকায় কেটে ফেললো। ফলে সেটি শুকিয়ে যায়। হযরত ইউনুস আ. এতে খুবই ব্যথিত হন। তখন মহান আল্লাহ বলেন, ইউনুস, তুমি একটি সামান্য অরণ্ডের গাছ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এতটা দুঃখ-ভারাক্রান্ত হয়ে গেলে। তাহলে আমি কেনো এত বিশাল নগরীর ওপর দয়াপ্রবণ হবো না, যার জনসংখ্যা এক লাখ বিশ হাজার?
তাওরাতসমগ্রে এ গ্রন্থটি 'ইউনাহ নবীর পুস্তিকা' নামে অভিহিত। এতে ছোট ছোট চারটি অধ্যায় রয়েছে। সেখানে উল্লিখিত ঘটনাটি বর্ণনা করা হয়েছে।
পুস্তিকাটির সূচনা এভাবে হয়েছে- 'আর খোদাবন্দের বাণী ইউনাহ বিন আমতার কাছে পৌঁছুলো। খোদাওয়ান্দ বললেন, ওঠো আর ওই বিশাল নগরী নিনাওয়া-এ গমন করো। সেখানকার আল্লাহ-বিরোধীদের মধ্যে তাঁর বাণী প্রচার করো। কেননা, দুষ্টতায় তারা বড় বেশি বেড়ে গেছে।'
সেই ইউনাহ পুস্তিকার সমাপ্তি হয়েছে এভাবে- 'আর খোদাওয়ান্দ ইউনাহকে বললেন, তুমি কি ওই অরণ্ডের গাছটি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এতটা ব্যথিত হয়েছো? তিনি বললেন, আমি এতটা দুঃখ পেয়েছি যে, আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে। তখন আল্লাহ বললেন, ওই অরণ্ডের গাছটির প্রতি তোমার এ পরিমাণ দয়া হলো, যার জন্য তোমাকে কোনো সম্মান ব্যয় করতে হয় নি। তুমি সেটিকে উৎপন্নও করো নি। একরাতে সে নিজ থেকেই উৎপন্ন হয়েছে এবং একরাতেই শুকিয়ে গেছে। তাহলে নিনাওয়ার মতো এত বিশাল একটি নগরী, যেখানে এক লাখ বিশ হাজারেরও অধিক মানুষ বসবাস করে, যারা নিজেদের ডান-বাম হাতের তফাত করতে জানে না, এবং যেখানে প্রচুর পরিমাণ গবাদি পশু রয়েছে; তাদের ওপর দয়া করা কি আমার কর্তব্যে পড়ে না?
উল্লিখিত পুস্তিকার ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনেকাংশে মিলে যায়। তবে বিবরণের যেখানে যেখানে পার্থক্য রয়েছে, সেখানে পবিত্র কুরআনের বর্ণনাই সঠিক বলে প্রতিপন্ন হবে। কেননা, পবিত্র কুরআনের সংবাদ ওহির মতো বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত। পক্ষান্তরে উল্লিখিত পুস্তিকাটি একটি বিকৃত সংকলনগ্রন্থের অংশ মাত্র। এটি খোদ হযরত ইউনুস আ.-এর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সংকলিত হয় নি, বরং এটি অন্য কারো রচনা: যেখানে হযরত ইউনুস আ.-এর ঘটনাবলি সংকলন করা হয়েছে।
৫। হযরত ইউনুস আ. নিনাওয়াবাসীদেরকে যে আযাবের ভয় দেখিয়েছিলেন, তার মেয়াদকাল নিয়ে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে। অর্থাৎ তিন, সাত ও চল্লিশ। ইবনে কাসির 'তিন' দিনের মেয়াদকে প্রাধান্য দিয়েছেন। শাহ আবদুল কাদির চল্লিশ দিনের মেয়াদকালকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইউনাহ পুস্তিকায় চল্লিশ দিনের কথাই বলা হয়েছে।
৬। আলোচনার শুরুতেই জানিয়েছি যে, পবিত্র কুরআনের যে সুরাগুলোতে হযরত ইউনুস আ.-এর আলোচনা এসেছে, সেগুলোর মধ্যে সুরা আম্বিয়া ও সুরা আল-কলমে তাঁর নামের পরিবর্তে বিশেষণের মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সুরা আম্বিয়ায় তাঁকে ذو النون [যুননুন] বলা হয়েছে। কারণ হলো, প্রাচীন আরবিতে মাছকে نون [নুন] বলা হয়। আর সুরা আল কলমের মাঝে صاحب الحوت [সাহেবুল হুত] বিশেষণে স্মরণ করা হয়েছে। حوتও মাছের-ই আরেক নাম। যেহেতু তাঁর জীবনে মাছ সংশ্লিষ্ট অনেক বড় ঘটনা ঘটেছে; এজন্য তাঁকে মাছওয়ালা বলা হয়েছে।
ইউনাহ সহিফায় উল্লিখিত অভিমতসমূহের বাইরে ভিন্ন একটি কথা পাওয়া যায়। তা হলো, মহান আল্লাহ হযরত ইউনুস আ.-কে নিনাওয়াবাসীর হেদায়েতের জন্য আদিষ্ট করেছিলেন। কিন্তু তিনি 'তিরসিস' এলাকায় পালিয়ে যান। আর সেই সফরেই মাছের ঘটনাটি ঘটে। ফলে তিনি সতর্ক হয়ে যান। এরপর তাকে নির্দেশ দেয়া হয়, নিনাওয়া ফিরে গিয়ে আপনার দায়িত্ব পালন করুন। হযরত ইউনুস আ. সেখানে ফিরে দীন প্রচার করেন।
তারা স্বজাতি এবারও যখন দাওয়াত কবুল করতে অস্বীকৃতি জানায় তখন তিনি তাদের ভীতি প্রদর্শন করে বলেন, আগামী চল্লিশ দিনের মধ্যে তোমাদের ওপর আল্লাহর আযাব নামছে। আর তিনি দূরবর্তী একটি জঙ্গলে চলে যান। তখন তার স্বজাতি তৎক্ষণাৎ তাঁর প্রতি ঈমান আনলো। এসময় রাজা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সবাই চটের কাপড় পরিধান করলো। মানবশিশু ও পশুশাবকগুলোকে তাদের মায়েদের থেকে পৃথক করে ফেললো। এমতবস্থায় উম্মুক্ত প্রান্তরে বেরিয়ে প্রবল কান্না ও হাহাকারের সঙ্গে তওবা-ইসতিগফার করতে লাগলো। লোকজন নানা প্রান্তে হযরত ইউনুস আ.-কে সন্ধান করতে লাগলো। অন্যদিকে হযরত ইউনুস আ. যখন জানতে পারলেন যে, চল্লিশ দিন অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও আযাব আসেনি তখন মহান আল্লাহর প্রতি অভিমান করে দূরে বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহ তাআলার কাছে আবেদন করলেন, আমি এ খেয়ালেই নিনাওয়া আসতে চাইনি এবং তিরসিস চলে গিয়েছিলাম। কেননা, আমি জানতাম, আপনি অনেক দয়ালু ও আযাবের ব্যাপারে মন্থর আপনি দয়াপ্রবণ ও করুণাময়ী। এখন আমাকে মিথ্যাবাদী হতে হয়েছে। আমাকে মৃত্যু দান করুন। কেননা, আমার বেঁচে থাকার চেয়ে এখন মৃত্যুই শ্রেয়। এখানে একটি ঝুপড়ি তৈরি করে বসবাস করতে লাগলেন। মহান আল্লাহ তাঁকে ছায়া দিতে একটি অরণ্ডের লতা-গুল্মবিশিষ্ট গাছ উৎপন্ন করে দিলেন। গাছটি দেখে হযরত ইউনুস আ. খুবই খুশি হন।
কিন্তু সূর্য যখন মধ্যাকাশ পেরিয়ে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, তখন তার শেকড় পোকায় কেটে ফেললো। ফলে সেটি শুকিয়ে যায়। হযরত ইউনুস আ. এতে খুবই ব্যথিত হন। তখন মহান আল্লাহ বলেন, ইউনুস, তুমি একটি সামান্য অরণ্ডের গাছ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এতটা দুঃখ-ভারাক্রান্ত হয়ে গেলে। তাহলে আমি কেনো এত বিশাল নগরীর ওপর দয়াপ্রবণ হবো না, যার জনসংখ্যা এক লাখ বিশ হাজার?
তাওরাতসমগ্রে এ গ্রন্থটি 'ইউনাহ নবীর পুস্তিকা' নামে অভিহিত। এতে ছোট ছোট চারটি অধ্যায় রয়েছে। সেখানে উল্লিখিত ঘটনাটি বর্ণনা করা হয়েছে।
পুস্তিকাটির সূচনা এভাবে হয়েছে- 'আর খোদাবন্দের বাণী ইউনাহ বিন আমতার কাছে পৌঁছুলো। খোদাওয়ান্দ বললেন, ওঠো আর ওই বিশাল নগরী নিনাওয়া-এ গমন করো। সেখানকার আল্লাহ-বিরোধীদের মধ্যে তাঁর বাণী প্রচার করো। কেননা, দুষ্টতায় তারা বড় বেশি বেড়ে গেছে।'
সেই ইউনাহ পুস্তিকার সমাপ্তি হয়েছে এভাবে- 'আর খোদাওয়ান্দ ইউনাহকে বললেন, তুমি কি ওই অরণ্ডের গাছটি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এতটা ব্যথিত হয়েছো? তিনি বললেন, আমি এতটা দুঃখ পেয়েছি যে, আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে। তখন আল্লাহ বললেন, ওই অরণ্ডের গাছটির প্রতি তোমার এ পরিমাণ দয়া হলো, যার জন্য তোমাকে কোনো সম্মান ব্যয় করতে হয় নি। তুমি সেটিকে উৎপন্নও করো নি। একরাতে সে নিজ থেকেই উৎপন্ন হয়েছে এবং একরাতেই শুকিয়ে গেছে। তাহলে নিনাওয়ার মতো এত বিশাল একটি নগরী, যেখানে এক লাখ বিশ হাজারেরও অধিক মানুষ বসবাস করে, যারা নিজেদের ডান-বাম হাতের তফাত করতে জানে না, এবং যেখানে প্রচুর পরিমাণ গবাদি পশু রয়েছে; তাদের ওপর দয়া করা কি আমার কর্তব্যে পড়ে না?
উল্লিখিত পুস্তিকার ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনেকাংশে মিলে যায়। তবে বিবরণের যেখানে যেখানে পার্থক্য রয়েছে, সেখানে পবিত্র কুরআনের বর্ণনাই সঠিক বলে প্রতিপন্ন হবে। কেননা, পবিত্র কুরআনের সংবাদ ওহির মতো বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত। পক্ষান্তরে উল্লিখিত পুস্তিকাটি একটি বিকৃত সংকলনগ্রন্থের অংশ মাত্র। এটি খোদ হযরত ইউনুস আ.-এর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সংকলিত হয় নি, বরং এটি অন্য কারো রচনা: যেখানে হযরত ইউনুস আ.-এর ঘটনাবলি সংকলন করা হয়েছে।
৫। হযরত ইউনুস আ. নিনাওয়াবাসীদেরকে যে আযাবের ভয় দেখিয়েছিলেন, তার মেয়াদকাল নিয়ে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে। অর্থাৎ তিন, সাত ও চল্লিশ। ইবনে কাসির 'তিন' দিনের মেয়াদকে প্রাধান্য দিয়েছেন। শাহ আবদুল কাদির চল্লিশ দিনের মেয়াদকালকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইউনাহ পুস্তিকায় চল্লিশ দিনের কথাই বলা হয়েছে।
৬। আলোচনার শুরুতেই জানিয়েছি যে, পবিত্র কুরআনের যে সুরাগুলোতে হযরত ইউনুস আ.-এর আলোচনা এসেছে, সেগুলোর মধ্যে সুরা আম্বিয়া ও সুরা আল-কলমে তাঁর নামের পরিবর্তে বিশেষণের মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সুরা আম্বিয়ায় তাঁকে ذو النون [যুননুন] বলা হয়েছে। কারণ হলো, প্রাচীন আরবিতে মাছকে نون [নুন] বলা হয়। আর সুরা আল কলমের মাঝে صاحب الحوت [সাহেবুল হুত] বিশেষণে স্মরণ করা হয়েছে। حوتও মাছের-ই আরেক নাম। যেহেতু তাঁর জীবনে মাছ সংশ্লিষ্ট অনেক বড় ঘটনা ঘটেছে; এজন্য তাঁকে মাছওয়ালা বলা হয়েছে।
ইউনাহ সহিফায় উল্লিখিত অভিমতসমূহের বাইরে ভিন্ন একটি কথা পাওয়া যায়। তা হলো, মহান আল্লাহ হযরত ইউনুস আ.-কে নিনাওয়াবাসীর হেদায়েতের জন্য আদিষ্ট করেছিলেন। কিন্তু তিনি 'তিরসিস' এলাকায় পালিয়ে যান। আর সেই সফরেই মাছের ঘটনাটি ঘটে। ফলে তিনি সতর্ক হয়ে যান। এরপর তাকে নির্দেশ দেয়া হয়, নিনাওয়া ফিরে গিয়ে আপনার দায়িত্ব পালন করুন। হযরত ইউনুস আ. সেখানে ফিরে দীন প্রচার করেন।
তারা স্বজাতি এবারও যখন দাওয়াত কবুল করতে অস্বীকৃতি জানায় তখন তিনি তাদের ভীতি প্রদর্শন করে বলেন, আগামী চল্লিশ দিনের মধ্যে তোমাদের ওপর আল্লাহর আযাব নামছে। আর তিনি দূরবর্তী একটি জঙ্গলে চলে যান। তখন তার স্বজাতি তৎক্ষণাৎ তাঁর প্রতি ঈমান আনলো। এসময় রাজা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সবাই চটের কাপড় পরিধান করলো। মানবশিশু ও পশুশাবকগুলোকে তাদের মায়েদের থেকে পৃথক করে ফেললো। এমতবস্থায় উম্মুক্ত প্রান্তরে বেরিয়ে প্রবল কান্না ও হাহাকারের সঙ্গে তওবা-ইসতিগফার করতে লাগলো। লোকজন নানা প্রান্তে হযরত ইউনুস আ.-কে সন্ধান করতে লাগলো। অন্যদিকে হযরত ইউনুস আ. যখন জানতে পারলেন যে, চল্লিশ দিন অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও আযাব আসেনি তখন মহান আল্লাহর প্রতি অভিমান করে দূরে বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহ তাআলার কাছে আবেদন করলেন, আমি এ খেয়ালেই নিনাওয়া আসতে চাইনি এবং তিরসিস চলে গিয়েছিলাম। কেননা, আমি জানতাম, আপনি অনেক দয়ালু ও আযাবের ব্যাপারে মন্থর আপনি দয়াপ্রবণ ও করুণাময়ী। এখন আমাকে মিথ্যাবাদী হতে হয়েছে। আমাকে মৃত্যু দান করুন। কেননা, আমার বেঁচে থাকার চেয়ে এখন মৃত্যুই শ্রেয়। এখানে একটি ঝুপড়ি তৈরি করে বসবাস করতে লাগলেন। মহান আল্লাহ তাঁকে ছায়া দিতে একটি অরণ্ডের লতা-গুল্মবিশিষ্ট গাছ উৎপন্ন করে দিলেন। গাছটি দেখে হযরত ইউনুস আ. খুবই খুশি হন।
কিন্তু সূর্য যখন মধ্যাকাশ পেরিয়ে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, তখন তার শেকড় পোকায় কেটে ফেললো। ফলে সেটি শুকিয়ে যায়। হযরত ইউনুস আ. এতে খুবই ব্যথিত হন। তখন মহান আল্লাহ বলেন, ইউনুস, তুমি একটি সামান্য অরণ্ডের গাছ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এতটা দুঃখ-ভারাক্রান্ত হয়ে গেলে। তাহলে আমি কেনো এত বিশাল নগরীর ওপর দয়াপ্রবণ হবো না, যার জনসংখ্যা এক লাখ বিশ হাজার?
তাওরাতসমগ্রে এ গ্রন্থটি 'ইউনাহ নবীর পুস্তিকা' নামে অভিহিত। এতে ছোট ছোট চারটি অধ্যায় রয়েছে। সেখানে উল্লিখিত ঘটনাটি বর্ণনা করা হয়েছে।
পুস্তিকাটির সূচনা এভাবে হয়েছে- 'আর খোদাবন্দের বাণী ইউনাহ বিন আমতার কাছে পৌঁছুলো। খোদাওয়ান্দ বললেন, ওঠো আর ওই বিশাল নগরী নিনাওয়া-এ গমন করো। সেখানকার আল্লাহ-বিরোধীদের মধ্যে তাঁর বাণী প্রচার করো। কেননা, দুষ্টতায় তারা বড় বেশি বেড়ে গেছে।'
সেই ইউনাহ পুস্তিকার সমাপ্তি হয়েছে এভাবে- 'আর খোদাওয়ান্দ ইউনাহকে বললেন, তুমি কি ওই অরণ্ডের গাছটি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এতটা ব্যথিত হয়েছো? তিনি বললেন, আমি এতটা দুঃখ পেয়েছি যে, আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে। তখন আল্লাহ বললেন, ওই অরণ্ডের গাছটির প্রতি তোমার এ পরিমাণ দয়া হলো, যার জন্য তোমাকে কোনো সম্মান ব্যয় করতে হয় নি। তুমি সেটিকে উৎপন্নও করো নি। একরাতে সে নিজ থেকেই উৎপন্ন হয়েছে এবং একরাতেই শুকিয়ে গেছে। তাহলে নিনাওয়ার মতো এত বিশাল একটি নগরী, যেখানে এক লাখ বিশ হাজারেরও অধিক মানুষ বসবাস করে, যারা নিজেদের ডান-বাম হাতের তফাত করতে জানে না, এবং যেখানে প্রচুর পরিমাণ গবাদি পশু রয়েছে; তাদের ওপর দয়া করা কি আমার কর্তব্যে পড়ে না?
উল্লিখিত পুস্তিকার ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনেকাংশে মিলে যায়। তবে বিবরণের যেখানে যেখানে পার্থক্য রয়েছে, সেখানে পবিত্র কুরআনের বর্ণনাই সঠিক বলে প্রতিপন্ন হবে। কেননা, পবিত্র কুরআনের সংবাদ ওহির মতো বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত। পক্ষান্তরে উল্লিখিত পুস্তিকাটি একটি বিকৃত সংকলনগ্রন্থের অংশ মাত্র। এটি খোদ হযরত ইউনুস আ.-এর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সংকলিত হয় নি, বরং এটি অন্য কারো রচনা: যেখানে হযরত ইউনুস আ.-এর ঘটনাবলি সংকলন করা হয়েছে।
৫। হযরত ইউনুস আ. নিনাওয়াবাসীদেরকে যে আযাবের ভয় দেখিয়েছিলেন, তার মেয়াদকাল নিয়ে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে। অর্থাৎ তিন, সাত ও চল্লিশ। ইবনে কাসির 'তিন' দিনের মেয়াদকে প্রাধান্য দিয়েছেন। শাহ আবদুল কাদির চল্লিশ দিনের মেয়াদকালকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইউনাহ পুস্তিকায় চল্লিশ দিনের কথাই বলা হয়েছে।
৬। আলোচনার শুরুতেই জানিয়েছি যে, পবিত্র কুরআনের যে সুরাগুলোতে হযরত ইউনুস আ.-এর আলোচনা এসেছে, সেগুলোর মধ্যে সুরা আম্বিয়া ও সুরা আল-কলমে তাঁর নামের পরিবর্তে বিশেষণের মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সুরা আম্বিয়ায় তাঁকে ذو النون [যুননুন] বলা হয়েছে। কারণ হলো, প্রাচীন আরবিতে মাছকে نون [নুন] বলা হয়। আর সুরা আল কলমের মাঝে صاحب الحوت [সাহেবুল হুত] বিশেষণে স্মরণ করা হয়েছে। حوتও মাছের-ই আরেক নাম। যেহেতু তাঁর জীবনে মাছ সংশ্লিষ্ট অনেক বড় ঘটনা ঘটেছে; এজন্য তাঁকে মাছওয়ালা বলা হয়েছে।
📄 ইন্তিকাল
হযরত শাহ আবদুল কাদির রহ. বলেন, হযরত ইউনুস আ.-কে যে নগরীতে প্রেরণ করা হয়েছিলো, সেখানেই তিনি ইন্তিকাল করেছিলেন। অর্থাৎ নিনাওয়া নগরীতে। সেখানে তাকে সমাহিতও করা হয়।
আবদুল ওয়াহহাব নাজ্জার বলেন, ফিলিস্তিনে 'খলিল' নামে একটি প্রসিদ্ধ নগরী রয়েছে। তার কাছাকাছি একটি জনপদ 'হুলহুল' নামে পরিচিত। সেখানকার একটি কবরকে হযরত ইউনুস আ.-এর কবর বলা হয়ে থাকে। তার কাছাকাছি আবেকটি কবর রয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে যে, এটি হযরত ইউনুসের জনক মাত্তার সমাধি।
আমাদের অভিমত হলো, হযরত শাহ সাহেবের কথাই সঠিক। কারণ হলো, হযরত ইউনুস আ. সম্পর্কে আমরা যেসব ঘটনা পেয়েছি, তার সবকটি এ বিষয়ে একমত যে, হযরত ইউনুস দ্বিতীয়বার সেই নিনাওয়া নগরীতেই ফিরে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর জাতির মধ্যে জীবন অতিক্রান্ত করেছিলেন। কাজেই যথাসম্ভব সত্য এটাই যে, তাঁর ইন্তিকাল নিনাওয়া নগরীতেই হয়েছিলো। তিনি সেখানেই সমাহিত হয়ে থাকবেন, যা নিনাওয়া নগরী ধ্বংস হওয়ার পর অজ্ঞাত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে হয়তো সুধারণার ভিত্তিতে হুলহুল নগরীর দুটি অজ্ঞাত সমাধিকে হযরত ইউনুস আ. ও তাঁর জনকের নামে রটিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানেও দেখা যায় যে, আল্লাহর কিছু কিছু প্রসিদ্ধ বুযুর্গদের একজনেরই একাধিক কবর পাওয়া যায়। আর প্রায়শই দেখা যায় যে, নিজেদের দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল করার জন্য অপরিচিত কোনো বুযুর্গের নামে বিভিন্ন কবরের নামকরণ করে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।
হযরত শাহ আবদুল কাদির রহ. বলেন, হযরত ইউনুস আ.-কে যে নগরীতে প্রেরণ করা হয়েছিলো, সেখানেই তিনি ইন্তিকাল করেছিলেন। অর্থাৎ নিনাওয়া নগরীতে। সেখানে তাকে সমাহিতও করা হয়।
আবদুল ওয়াহহাব নাজ্জার বলেন, ফিলিস্তিনে 'খলিল' নামে একটি প্রসিদ্ধ নগরী রয়েছে। তার কাছাকাছি একটি জনপদ 'হুলহুল' নামে পরিচিত। সেখানকার একটি কবরকে হযরত ইউনুস আ.-এর কবর বলা হয়ে থাকে। তার কাছাকাছি আবেকটি কবর রয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে যে, এটি হযরত ইউনুসের জনক মাত্তার সমাধি।
আমাদের অভিমত হলো, হযরত শাহ সাহেবের কথাই সঠিক। কারণ হলো, হযরত ইউনুস আ. সম্পর্কে আমরা যেসব ঘটনা পেয়েছি, তার সবকটি এ বিষয়ে একমত যে, হযরত ইউনুস দ্বিতীয়বার সেই নিনাওয়া নগরীতেই ফিরে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর জাতির মধ্যে জীবন অতিক্রান্ত করেছিলেন। কাজেই যথাসম্ভব সত্য এটাই যে, তাঁর ইন্তিকাল নিনাওয়া নগরীতেই হয়েছিলো। তিনি সেখানেই সমাহিত হয়ে থাকবেন, যা নিনাওয়া নগরী ধ্বংস হওয়ার পর অজ্ঞাত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে হয়তো সুধারণার ভিত্তিতে হুলহুল নগরীর দুটি অজ্ঞাত সমাধিকে হযরত ইউনুস আ. ও তাঁর জনকের নামে রটিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানেও দেখা যায় যে, আল্লাহর কিছু কিছু প্রসিদ্ধ বুযুর্গদের একজনেরই একাধিক কবর পাওয়া যায়। আর প্রায়শই দেখা যায় যে, নিজেদের দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল করার জন্য অপরিচিত কোনো বুযুর্গের নামে বিভিন্ন কবরের নামকরণ করে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।
হযরত শাহ আবদুল কাদির রহ. বলেন, হযরত ইউনুস আ.-কে যে নগরীতে প্রেরণ করা হয়েছিলো, সেখানেই তিনি ইন্তিকাল করেছিলেন। অর্থাৎ নিনাওয়া নগরীতে। সেখানে তাকে সমাহিতও করা হয়।
আবদুল ওয়াহহাব নাজ্জার বলেন, ফিলিস্তিনে 'খলিল' নামে একটি প্রসিদ্ধ নগরী রয়েছে। তার কাছাকাছি একটি জনপদ 'হুলহুল' নামে পরিচিত। সেখানকার একটি কবরকে হযরত ইউনুস আ.-এর কবর বলা হয়ে থাকে। তার কাছাকাছি আবেকটি কবর রয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে যে, এটি হযরত ইউনুসের জনক মাত্তার সমাধি।
আমাদের অভিমত হলো, হযরত শাহ সাহেবের কথাই সঠিক। কারণ হলো, হযরত ইউনুস আ. সম্পর্কে আমরা যেসব ঘটনা পেয়েছি, তার সবকটি এ বিষয়ে একমত যে, হযরত ইউনুস দ্বিতীয়বার সেই নিনাওয়া নগরীতেই ফিরে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর জাতির মধ্যে জীবন অতিক্রান্ত করেছিলেন। কাজেই যথাসম্ভব সত্য এটাই যে, তাঁর ইন্তিকাল নিনাওয়া নগরীতেই হয়েছিলো। তিনি সেখানেই সমাহিত হয়ে থাকবেন, যা নিনাওয়া নগরী ধ্বংস হওয়ার পর অজ্ঞাত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে হয়তো সুধারণার ভিত্তিতে হুলহুল নগরীর দুটি অজ্ঞাত সমাধিকে হযরত ইউনুস আ. ও তাঁর জনকের নামে রটিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানেও দেখা যায় যে, আল্লাহর কিছু কিছু প্রসিদ্ধ বুযুর্গদের একজনেরই একাধিক কবর পাওয়া যায়। আর প্রায়শই দেখা যায় যে, নিজেদের দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল করার জন্য অপরিচিত কোনো বুযুর্গের নামে বিভিন্ন কবরের নামকরণ করে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।