📄 ইন্তিকাল
সিফরে আইয়ুবে হযরত আইয়ুব আ.-এর ইন্তিকাল সম্পর্কে এই তথ্য পাওয়া যায় যে, তিনি একশো চল্লিশ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। এ বর্ণনার ভিত্তিতে তাঁর পূর্ণ জীবনকাল হয় দুইশো দশ বছর। কারণ হলো, অসুস্থ হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিলো সত্তর বছর। আর সুস্থ হওয়ার পর তিনি একশো চল্লিশ বছর জীবিত ছিলেন। ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, তিনি তিরানব্বই বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। ইবনে জারির রহ. বলেন, তিনি সত্তর বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।
তাঁর কবর সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি যেখানে ইন্তিকাল করেছিলেন, সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। নাজ্জার বলেন, বর্তমানে শামের 'নাওয়া' নামক স্থানে একটি কবর রয়েছে, যাকে হযরত আইয়ুব আ.-এর কবর বলা হয়। এটি 'জাবালুল জাওলান'-এর সন্নিকটে অবস্থিত। আল্লাহই ভালো জানেন।
📄 শিক্ষা ও উপদেশ
হযরত আইয়ুব আ.-এর ঘটনা ও তাঁর ধৈর্য ধারণ সম্পর্কে মহান আল্লাহ যে প্রশংসা করেছেন, এর থেকে আমরা নিম্নোক্ত শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করতে পারি :
১. আল্লাহর প্রিয় ও নৈকট্যশীল বান্দাদের ওপর যখন কোনো বিপদাপদ নেমে আসে, তখন তার দুটি কারণ থাকতে পারে। একটি হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চান। যেমনটি ঘটেছিলো হযরত আইয়ুব আ.-এর ক্ষেত্রে। দ্বিতীয়টি হলো, আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাকে সতর্ক করতে চান। যাতে সে বুঝতে পারে যে, তার থেকে এমন কোনো বিচ্যুতি ঘটে গেছে, যা আল্লাহর পছন্দ হয় নি। এই সতর্কবাণীর পর সেই বান্দা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। ফলে আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা পূর্বের চেয়েও বাড়িয়ে দেন।
২. সবর বা ধৈর্য ধারণ করা হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। যে ব্যক্তি বিপদে ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদান দান করেন। যেমনটি হযরত আইয়ুব আ.-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে।
৩. আল্লাহর কাছে দোয়া করার সময় আদব রক্ষা করা উচিত। যেমনটি হযরত আইয়ুব আ. করেছেন। তিনি সরাসরি বলেন নি যে, হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থতা দান করুন। বরং তিনি বলেছেন, أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ [আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান]। এর মাধ্যমে তিনি নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করেছেন।
৪. আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখা উচিত। যেমনটি হযরত আইয়ুব আ. রেখেছেন। তিনি জানতেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে পরীক্ষা করছেন এবং তিনি অবশ্যই তাঁকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন।
৫. আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। যখন আল্লাহ তাআলা হযরত আইয়ুব আ.-কে সুস্থতা দান করলেন এবং তাঁর যা কিছু ধ্বংস হয়েছিলো, তার দ্বিগুণ দান করলেন, তখন তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নেয়ামত বৃদ্ধি পায়। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
'আর স্মরণ করুন, যখন আপনার প্রভু আপনাকে সতর্ক করলেন যে, আপনি যদি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন, তাহলে আমি আপনার জন্য (আমার নেয়ামত) বাড়িয়ে দেবো।'
وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ () الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ () أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ ()
'আর আপনি সুসংবাদ জানিয়ে দিন ধৈর্যশীলদের, যাদের ওপর কোনো বিপদ নেমে এলে তারা বলে, আমরা তো আল্লাহ্-ই জন্য এবং তাঁর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তারা ওইসব লোক, যাদের ওপর তাদের প্রতিপালকের দয়া ও রহমত রয়েছে এবং তারা-ই সরল পথপ্রাপ্ত।' [সুরা বাকারা।