📄 তাফসির বিষয়ক কয়েকটি বিশ্লেষণ
উল্লিখিত আয়াতসমূহ সম্পর্কে আমরা যে তাফসির পেশ করেছি এবং তাতে হযরত আইয়ুব আ.-এর যে ঘটনা বর্ণনা করেছি, তার ওপর দুটি দিক থেকে আপত্তি উঠতে পারে। একটি হলো, আমাদের বর্ণনায় এটি উল্লেখ করা হয় নি যে, হযরত আইয়ুব আ.-এর ওপর যে বিপদাপদ চেপে বসেছিলো, তা ছিলো মূলত তাঁর অসুস্থতা। সেই অসুস্থতার ধরন কী ছিলো? মুফাসসিরদের মধ্য হতে কেউ কেউ যে এ কথা বলেন, তাঁর গোটা দেহে এমন এক রোগ বাসা বেধেছিলো যার ফলে তাঁর শরীর পঁচে গিয়েছিলো এবং তাতে পোকা জন্মে গিয়েছিলো। অবস্থা এমন হয়েছিলো যে, মানুষ তাঁর কাছে ঘেঁষতেও পারতো না। তাঁর স্ত্রী ছাড়া সবাই তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো। এই বর্ণনার বাস্তবতা কী?
দ্বিতীয় আপত্তিটি হলো, সুরা সাদে হযরত আইয়ুব আ.-এর ঘটনা বর্ণনা করার সময় এ কথা বলা হয়েছে যে, তিনি মহান আল্লাহর কাছে এ দোয়া করেছিলেন, أَنِّي مَسَّنِيَ الشَّيْطَانُ بِنُصْبٍ وَعَذَابٍ [শয়তান আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্ট পৌঁচিয়েছে]। এর থেকে বুঝে আসে যে, হযরত আইয়ুব আ.-এর ওপর যে বিপদাপদ চেপে বসেছিলো, তা শয়তানের প্রভাবে হয়েছিলো। এর বাস্তবতা কী?
প্রথম আপত্তির উত্তর হলো, পবিত্র কুরআন হযরত আইয়ুব আ.-এর ওপর নেমে আসা বিপদাপদ সম্পর্কে إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ [যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহ্বান করে বলেছিলেন, আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি] শব্দে ব্যক্ত করেছে। যেখানে ضُرٌّ শব্দটি অসুস্থতা, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, সন্তান-সন্ততির মৃত্যু ইত্যাদি সবকিছুকেই শামিল করে। কাজেই পবিত্র কুরআনের ভাষ্য থেকে এ কথা নির্দিষ্ট হয় না যে, তাঁর ওপর নেমে আসা বিপদটি ছিলো মূলত তাঁর অসুস্থতা। বরং তা ছিলো সাধারণ বিপদাপদ। যদিও ঐতিহাসিকগণ বলেন, তাঁর ওপর নেমে আসা বিপদটি ছিলো মূলত অসুস্থতা। তাঁরা বিভিন্নভাবে তার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। যার একটি হলো, তাঁর অসুস্থতার কারণে তাঁর গোটা দেহে পোকা জন্মে গিয়েছিলো। সেই রেওয়ায়েত সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য হলো, এটি একটি ইসরাইলি রেওয়ায়েত। এ ধরনের রেওয়ায়েতকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে না। এর বিপরীতে বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে যে, আল্লাহ তাআলা যখন কোনো নবী প্রেরণ করেন, তখন তিনি তাকে শারীরিক ও বংশীয়ভাবে সবধরনের দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখেন। এ কারণে নবী-রাসুলগণ এমন কোনো রোগে আক্রান্ত হতে পারেন না, যা দেখে মানুষ ঘৃণা করবে। এমন হলে তো নবুয়তের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। কেননা, মানুষ তো তখন তাঁর কাছে ঘেঁষবেই না।
কাজেই আমাদের কাছে প্রণিধানযোগ্য অভিমত হলো, হযরত আইয়ুব আ. কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন; কিন্তু তা এমন ছিলো না যে, মানুষ তাঁর কাছে ঘেঁষতে পারতো না, তাঁর দেহে পোকা জন্মে গিয়েছিলো ইত্যাদি। আর তাঁর ওপর নেমে আসা সেই বিপদ ও অসুস্থতার সময়কাল ছিলো আঠারো বছর। এটিও ইসরাইলি রেওয়ায়েত। এর কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ নেই।
দ্বিতীয় আপত্তির উত্তর হলো, পবিত্র কুরআনে শয়তানকে যে হযরত আইয়ুব আ.-এর কষ্টের কারণ অভিহিত করা হয়েছে তার দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এক্ষেত্রে দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে। একটি হলো, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, শয়তানের কুমন্ত্রণা। যেমনটি বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে, উসমান রা. নবীজিকে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, শয়তান আমার ও আমার নামাযের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং আমাকে সন্দেহে ফেলে দেয়। তখন নবীজি বলেন, 'এটি এক শয়তানের নাম; যার নাম হলো, খাযাব। কাজেই যখন এমনটি হবে, তখন আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবে আর বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে।' উসমান রা. বলেন, আমি এমনটি করার পর আল্লাহ তাআলা আমার থেকে সেই কুমন্ত্রণা দূর করে দেন।¹
এ কারণে হযরত আইয়ুব আ.-এর দোয়ার অর্থ হবে, হে আল্লাহ, শয়তান আমাকে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে যে, আপনার ওপর থেকে সবরের দৃষ্টি সরিয়ে নিই। এর বিপরীতে আল্লাহর কাছে অভিযোগ পেশ করি। এই কুমন্ত্রণা আমাকে কষ্ট ও যন্ত্রণায় ফেলে দিয়েছে।
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হলো, যদিও সবকিছুর মূল कर्ता আল্লাহ তাআলা, কিন্তু বাহ্যিক কার্যকারণ হিসেবে শয়তান মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে থাকে। কাজেই হযরত আইয়ুব আ. যদিও জানতেন যে, তাঁর ওপর নেমে আসা এই বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে এসেছে, কিন্তু বাহ্যিক কারণ হিসেবে এর সম্পর্ক শয়তানের সঙ্গেও রয়েছে, এ কারণে তিনি আদব রক্ষা করে সরাসরি আল্লাহর দিকে কষ্টের সম্বন্ধ স্থাপন করেন নি, বরং শয়তানের দিকে করেছেন। যেমনটি আমরা দেখতে পাই হযরত ইবরাহিম আ.-এর ঘটনায়। সেখানে তিনি বলেছেন, وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ [যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে সুস্থতা দান করেন]। এখানে তিনি অসুস্থতাকে নিজের দিকে সম্বন্ধ করেছেন আর সুস্থতাকে আল্লাহর দিকে। অথচ উভয়টির মূল कर्ता আল্লাহ তাআলা।
পবিত্র কুরআনের এই বাক্য وَخُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا فَاضْرِبْ بِهِ وَلَا تَحْنَثْ [তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণশলা নাও, তদ্বারা আঘাত করো এবং শপথ ভঙ্গ করো না] সম্পর্কে মুফাসসিরগণ বলেন, অসুস্থতাকালে তাঁর স্ত্রী খুবই সেবা-যত্ন করেছিলেন। কিন্তু একবার কোনো কারণে তিনি তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে শপথ করেন যে, সুস্থ হলে তিনি তাঁকে একশো বেত্রাঘাত করবেন। যখন তিনি সুস্থ হলেন তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বললেন, একটি ঝাড়ুতে একশো শলাকা একত্র করে তা দিয়ে একবার আঘাত করো। তাহলে শপথও পূর্ণ হবে আর তোমার স্ত্রীও কষ্ট পাবে না।
টিকাঃ
১. রুহুল মা'আনি, সুরা আম্বিয়া
📄 সিফরে আইয়ুব
আমরা ইতোপূর্বে আলোচনা করেছি যে, হযরত আইয়ুব আ.-এর পবিত্র জীবন সম্পর্কে বর্তমানে সবচেয়ে প্রাচীন যে গ্রন্থ পাওয়া যায়, তা হলো সিফরে আইয়ুব। সেখানে তাঁর ওপর নেমে আসা বিপদাপদ, অসুস্থতা ও কষ্টের বিশদ বিবরণ রয়েছে। তার সারসংক্ষেপ হলো-
আউদ অঞ্চলে আইয়ুব নামে একজন সৎ লোক ছিলেন। তিনি আল্লাহকে ভয় করতেন আর মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকতেন। তাঁর সাত ছেলে ও তিন মেয়ে ছিলো। তাঁর সাত হাজার ভেড়া-বকরি, তিন হাজার উট, পাঁচশো জোড়া বলদ ও পাঁচশো গাধা ছিলো। তাঁর অনেক দাস-দাসীও ছিলো। পূর্ব দেশের লোকদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় মানুষ। তাঁর ছেলেমেয়েরা পালাক্রমে নিজ নিজ গৃহে ভোজের আয়োজন করতো। সেখানে তারা তাদের তিন বোনকেও দাওয়াত করতো। যখন ভোজ শেষ হতো, তখন আইয়ুব তাদেরকে ডেকে পবিত্র করতেন। সকালে উঠে তাদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা কুরবানি করতেন। কারণ হলো, আইয়ুব মনে করতেন, হয়তো আমার ছেলেমেয়েরা কোনো ভুল করে ফেলেছে এবং মনে মনে খোদাকে গালি দিয়ে ফেলেছে। আইয়ুব সবসময় এমনটি করতেন।
একদিন খোদার পুত্ররা খোদার সামনে উপস্থিত হলো। তাদের সঙ্গে শয়তানও এলো। খোদা শয়তানকে বললেন, তুই কোত্থেকে এলি? শয়তান খোদার কাছে আরজ করলো, আমি জমিনে ঘুরে ঘুরে আর টহল দিয়ে এলাম। খোদা শয়তানকে বললেন, তুই কি আমার বান্দা আইয়ুবের ওপর দৃষ্টি দিয়েছিস? কেননা, পৃথিবীতে তার মতো কামেল ও সৎ লোক আর কেউ নেই। সে খোদাকে ভয় করে আর মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকে। শয়তান উত্তরে বললো, আইয়ুব কি খোদাকে এমনিতেই ভয় করে? আপনি কি তার, তার ঘরের ও তার সবকিছুর চারদিকে বেড়া দেন নি? আপনি তার হাতের কাজে বরকত দিয়েছেন। তার পশু-পাখি জমিনে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আপনি যদি আপনার হাত বাড়িয়ে তার সবকিছুকে স্পর্শ করেন, তাহলে সে আপনার মুখের ওপর আপনাকে গালি দেবে। তখন খোদা শয়তানকে বললেন, দেখ, তার যা কিছু আছে, সবকিছুই তোর হাতে। কিন্তু তার ওপর হাত বাড়াবি না। তখন শয়তান খোদার কাছ থেকে চলে গেলো।
এরপর শয়তান একে একে তাঁর সব সন্তান-সন্ততি ও সহায়-সম্পদ ধ্বংস করে দিলো। কিন্তু আইয়ুব ধৈর্য হারালেন না। তিনি বললেন, আমি আমার মায়ের পেট থেকে উলঙ্গ এসেছি আর উলঙ্গই ফিরে যাবো। খোদাওয়ান্দ দিয়েছেন আর খোদাওয়ান্দই নিয়েছেন। খোদাওয়ান্দের নাম মুবারক হোক। আইয়ুব কোনো গুনাহ করলেন না। খোদার ওপর কোনো অভিযোগও করলেন না।
এরপর শয়তান তাঁর দেহে এমন রোগ সৃষ্টি করলো যে, তাঁর গোটা দেহ চুলকাতে চুলকাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেলো। কিন্তু তিনি তখনও ধৈর্য হারালেন না। তখন তাঁর স্ত্রী বললেন, আপনি কি এখনও আপনার সততার ওপর অটল থাকবেন? খোদাকে গালি দিন আর মরে যান। তিনি তাকে বললেন, তুই একজন নির্বোধের মতো কথা বলছিস। আমরা কি খোদার কাছ থেকে শুধু সুখই গ্রহণ করবো, দুঃখ গ্রহণ করবো না? আইয়ুব এ অবস্থাতেও কোনো গুনাহ করলেন না।
অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুস্থতা দান করলেন। তাঁর যা কিছু ধ্বংস হয়েছিলো, তার দ্বিগুণ দান করলেন। তাঁর সাত ছেলে ও তিন মেয়ে হলো। তাদের মতো সুন্দরী নারী গোটা দেশে আর কেউ ছিলো না। এরপর আইয়ুব একশো চল্লিশ বছর জীবিত ছিলেন। তিনি তাঁর সন্তানদের ও তাদের সন্তানদের দেখতে পেয়েছিলেন। আইয়ুব বৃদ্ধ হয়ে ও দীর্ঘ জীবন লাভ করে ইন্তিকাল করেন।
উল্লিখিত বিবরণের কোনো কোনো অংশে এমন কথা রয়েছে, যা একজন নবীর মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যেমন, খোদার পুত্র, শয়তানের সঙ্গে খোদার কথোপকথন, হযরত আইয়ুবের স্ত্রীর পক্ষ থেকে খোদাকে গালি দেয়ার পরামর্শ ইত্যাদি। এ কারণে আমরা সেই অংশগুলো সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, সিফরে আইয়ুবের মূল ঘটনা সামনে নিয়ে আসা। যাতে পবিত্র কুরআন ও তার মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়।
📄 ইন্তিকাল
সিফরে আইয়ুবে হযরত আইয়ুব আ.-এর ইন্তিকাল সম্পর্কে এই তথ্য পাওয়া যায় যে, তিনি একশো চল্লিশ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। এ বর্ণনার ভিত্তিতে তাঁর পূর্ণ জীবনকাল হয় দুইশো দশ বছর। কারণ হলো, অসুস্থ হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিলো সত্তর বছর। আর সুস্থ হওয়ার পর তিনি একশো চল্লিশ বছর জীবিত ছিলেন। ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, তিনি তিরানব্বই বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। ইবনে জারির রহ. বলেন, তিনি সত্তর বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।
তাঁর কবর সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি যেখানে ইন্তিকাল করেছিলেন, সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। নাজ্জার বলেন, বর্তমানে শামের 'নাওয়া' নামক স্থানে একটি কবর রয়েছে, যাকে হযরত আইয়ুব আ.-এর কবর বলা হয়। এটি 'জাবালুল জাওলান'-এর সন্নিকটে অবস্থিত। আল্লাহই ভালো জানেন।
📄 শিক্ষা ও উপদেশ
হযরত আইয়ুব আ.-এর ঘটনা ও তাঁর ধৈর্য ধারণ সম্পর্কে মহান আল্লাহ যে প্রশংসা করেছেন, এর থেকে আমরা নিম্নোক্ত শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করতে পারি :
১. আল্লাহর প্রিয় ও নৈকট্যশীল বান্দাদের ওপর যখন কোনো বিপদাপদ নেমে আসে, তখন তার দুটি কারণ থাকতে পারে। একটি হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চান। যেমনটি ঘটেছিলো হযরত আইয়ুব আ.-এর ক্ষেত্রে। দ্বিতীয়টি হলো, আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাকে সতর্ক করতে চান। যাতে সে বুঝতে পারে যে, তার থেকে এমন কোনো বিচ্যুতি ঘটে গেছে, যা আল্লাহর পছন্দ হয় নি। এই সতর্কবাণীর পর সেই বান্দা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। ফলে আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা পূর্বের চেয়েও বাড়িয়ে দেন।
২. সবর বা ধৈর্য ধারণ করা হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। যে ব্যক্তি বিপদে ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদান দান করেন। যেমনটি হযরত আইয়ুব আ.-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে।
৩. আল্লাহর কাছে দোয়া করার সময় আদব রক্ষা করা উচিত। যেমনটি হযরত আইয়ুব আ. করেছেন। তিনি সরাসরি বলেন নি যে, হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থতা দান করুন। বরং তিনি বলেছেন, أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ [আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান]। এর মাধ্যমে তিনি নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করেছেন।
৪. আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখা উচিত। যেমনটি হযরত আইয়ুব আ. রেখেছেন। তিনি জানতেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে পরীক্ষা করছেন এবং তিনি অবশ্যই তাঁকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন।
৫. আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। যখন আল্লাহ তাআলা হযরত আইয়ুব আ.-কে সুস্থতা দান করলেন এবং তাঁর যা কিছু ধ্বংস হয়েছিলো, তার দ্বিগুণ দান করলেন, তখন তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নেয়ামত বৃদ্ধি পায়। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
'আর স্মরণ করুন, যখন আপনার প্রভু আপনাকে সতর্ক করলেন যে, আপনি যদি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন, তাহলে আমি আপনার জন্য (আমার নেয়ামত) বাড়িয়ে দেবো।'
وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ () الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ () أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ ()
'আর আপনি সুসংবাদ জানিয়ে দিন ধৈর্যশীলদের, যাদের ওপর কোনো বিপদ নেমে এলে তারা বলে, আমরা তো আল্লাহ্-ই জন্য এবং তাঁর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তারা ওইসব লোক, যাদের ওপর তাদের প্রতিপালকের দয়া ও রহমত রয়েছে এবং তারা-ই সরল পথপ্রাপ্ত।' [সুরা বাকারা।