📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 পবিত্র কুরআনে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম-এর আলোচনা

📄 পবিত্র কুরআনে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম-এর আলোচনা


পবিত্র কুরআনে হযরত আইয়ুব আ.-এর আলোচনা চারটি সুরায় এসেছে: সুরা নিসা, আনআম, আম্বিয়া ও সাদ। সুরা নিসা ও আনআমে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের তালিকায় শুধু তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهُرُونَ وَسُلَيْمَنَ 'আর স্মরণ করুন ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলাইমানকে।' [সুরা নিসা]
وَ مِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُدَ وَ سُلَيْمَنَ وَ أَيُّوبَ وَيُوْسُفَ وَ مُوسَى وَهُرُونَ 'এবং তার বংশধরদের মধ্য হতে দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মুসা ও হারুনকে।' [সুরা আনআম]
আর সুরা আম্বিয়া ও সাদে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। সেখানে শুধু এতটুকু বলা হয়েছে যে, জীবনে তাকে খুবই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিলো। চরম দুঃসময়ে তাঁর ওপর বিপদের জগদ্দল পাথর চেপে বসেছিলো। কিন্তু এমন চরম প্রতিকূল অবস্থাতেও তাঁর মুখে ছিলো কৃতজ্ঞতার শব্দ; তিনি কখনো অভিযোগ-অনুযোগ করেন নি। অবশেষে মহান আল্লাহ তাঁকে নিজ রহমতের চাদরতলে ঢেকে নেন। বিপদের কুজ্জটিকা দূর করে দয়া ও অনুগ্রহের আঁচল ভরে দেন। এ কারণে সঙ্গত মনে হচ্ছে যে, পবিত্র কুরআনে তাঁর সম্পর্কিত যেসব ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, তা উপস্থাপন করার পূর্বে হযরত আইয়ুব আ.-এর ব্যক্তিত্বের ওপর ইতিহাসের আলোকে আলোচনা করে ফেলি। যাতে যে মহান ব্যক্তিত্বের ধৈর্য ও সংযমের অকুণ্ঠ প্রশংসায় পবিত্র কুরআন সবাক হয়ে উঠেছে; ওই মহান ব্যক্তির সঠিক পরিচিতি যেনো আমরা ভালোভাবে জানতে পারি। পবিত্র কুরআনের ভাষায় যাঁর মহান জীবন ছিলো বরকত ও উত্তম চরিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রবাদ প্রতীম দর্পণ।

📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 ইহুদি ও খ্রিস্টান পন্ডিতদের চোখে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম

📄 ইহুদি ও খ্রিস্টান পন্ডিতদের চোখে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম


হযরত আইয়ুব আ.-এর ব্যাপারে গবেষণাপ্রসূত সঠিক সিদ্ধান্ত জানানোর পর আরো একটি বিষয় স্পষ্ট করা সমীচীন মনে করছি। তা হলো, হযরত আইয়ুব আ.-এর ব্যাপারে ইহুদি ও খ্রিস্টান পণ্ডিতদের মধ্যে ভীষণ মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এটি কাল্পনিক নাম। আইয়ুব কোনো ব্যক্তির নাম নয়। যেমন, রাব্বি হাম্মানি দিয, মিকাইলস, স্টিয়ান এই মত পোষণ করেন এবং বলেন, এই ব্যক্তি সম্পর্কে যতগুলো ঘটনা পাওয়া যায়, তার সবগুলোই বানোয়াট ও কাল্পনিক। তাদের মতে, সিফরে আইয়ুব সহিফাটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে প্রাচীন কিন্তু সেটি আদ্যোপান্ত কাল্পনিক। পক্ষান্তরে কান্ট ও ইন্টেল প্রমুখর বলেন, হযরত আইয়ুব বাস্তবেই একজন ব্যক্তির নাম। তার দিকে সম্বন্ধিত সহিফাটিকে কাল্পনিক ও বানোয়াট বলাটা ভুল।¹
তাঁর ব্যক্তিসত্তাকে স্বীকার করা সত্ত্বেও তাঁর সময়কাল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাঁদের মধ্যে প্রচণ্ড মতানৈক্য রয়েছে। আরব ঐতিহাসিকদের মধ্যেও বিষয়টি বিতর্কিত। নিম্নের তালিকায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হলো:
ক্র. নাম অভিমত
১. বুসতানি হযরত ইবরাহিম আ. থেকে একশো বছর পূর্বে
২. ইবনে আসাকির হযরত ইবরাহিম আ.-এর কাছাকাছি সময়
৩. কান্ট হযরত ইয়াকুব আ.-এর সমসাময়িক
৪. ইন্টেল হযরত মুসা আ.-এর সমসাময়িক
৫. তবারি হযরত শুয়াইব আ. পরবর্তী যুগ
৬. হযরত সুলাইমান আ.-এর সমসাময়িক
৭. ইবনে খায়সামা হযরত সুলাইমান আ. পরবর্তী যুগ
৮. ইবনে ইসহাক ইসরাইলি, তবে সময়কাল অনির্ধারিত
৯. বুখতেনাস্সারের সমসাময়িক
১০. বনি ইসরাইলের কাযিদের সমসাময়িক
১১. ইরানসম্রাট আর্দেশির-এর সমসাময়িক
মোটকথা, হযরত আইয়ুব আ.-এর ব্যক্তিত্বকে যখন ইতিহাসের আলোকে আলোচনা করা হয়, তখন নিশ্চিতভাবে যেসব তথ্য স্পষ্ট হয়-
১. হযরত আইয়ুব আ. একজন আরব। বিভিন্ন মত্যে অনৈক্য থাকলেও এ বিষয়ে সবাই একমত যে, তিনি আরব বংশোদ্ভূত।
২. তাওরাতের অংশগুলোর মধ্যে সিফরে আইয়ুব সবচেয়ে প্রাচীন সহিফা। তা আরবি থেকে ইবরানি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
৩. হযরত আইয়ুব আ. ছিলেন বনি আদওয়াম বংশোদ্ভূত।
৪. তাঁর সময়কাল হযরত ইয়াকুব আ. ও হযরত মুসা আ.-এর মধ্যবর্তী যুগ।

টিকাঃ
১. কাসাসুল আম্বিয়া লিন নাজ্জার ৪১৫-৪১৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00