📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 ইসরাইলি বর্ণনা

📄 ইসরাইলি বর্ণনা


বিলকিস, সাবার সম্রাজ্ঞী ও হযরত সুলাইমান আ.-এর উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশদ বিবরণ ছাড়াও আরো কিছু বিস্ময়কর ও বিরল কথাবার্তা সিরাতের বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়। যা আদ্যোপান্ত ইসরাইলি বর্ণনা ও ইহুদিদের উদ্ভট সাহিত্য হতে সংগৃহীত। সেগুলো সম্পর্কে ইবনে কাসির রহ. তাঁর তাফসিরে যে মন্তব্য করেছেন, তার সারনির্যাস নিম্নে তুলে ধরা হন্ত্রে
'এ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস রা. থেকে একটি বিস্ময়কর রেওয়ায়েত বর্ণিত রয়েছে। যা ইবনুস সায়িবের উদ্ধৃতিতে আবু বকর ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন। রেওয়ায়েতটি সম্পর্কে ইবনে আবি শায়বা বলেছেন, এটি খুবই চিত্তাকর্ষক ঘটনা। কিন্তু আমি বলবো, ইবনে আবি শায়বার ওই মন্তব্য করা ঠিক হয় নি। উল্লিখিত রেওয়ায়েতটি নিঃসন্দেহে পরিত্যাজ্য। এটি বর্ণনা করার সময় অবশ্যই আতা ইবনে সায়িব ভুল করে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর দিকে সনদের সূত্র যুক্ত করেছেন। যুক্তিও এ কথা বলে যে, এ জাতীয় বর্ণনা প্রকৃতপক্ষে আহলে কিতাবদের সাহিত্য থেকে সংগৃহীত।
ঘটনার বিবরণের প্রকৃতিই বলে দেয় যে, এটি কা'ব আহবার ও ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বনি ইসরাইলের যেসব ঘটনা তাদের গ্রন্থাবলি থেকে নকল করে এই উম্মতকে শুনাতেন, তার অনুরূপ। মহান আল্লাহ তাদের সঙ্গে ক্ষমার আচরণ করুন। কেননা, তাদের কেচ্ছা-কাহিনিতে অবাক করা, বিরল ও পরিত্যাজ্য কথা বার্তা রয়েছে। সেখানে রয়েছে সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ।
তার পূর্ণ বিকৃত, আধা বিকৃত ও স্বল্প বিকৃত, সবধরনের ঘটনাই নকল করতেন। অথচ মহান আল্লাহ আমাদেরকে এ ধরনের অবান্তর ও অনর্থক প্যাঁচাল থেকে সন্দেহাতীতভাবে অমুখাপেক্ষী ও পরোয়াহীন করেছেন। আমাদেরকে এমন ইলম (কুরআন) দান করেছেন, যা ঘটনার সত্যতা, সদিচ্ছার উপকারিতা, অর্থের স্পষ্টতা ও ভাষার-অলঙ্কারের সাহিত্যমান উত্তীর্ণতার বিচারে অনেক উন্নত ও বলিষ্ঠ।'¹
কাসাসুল কুরআনে বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণকালে বারংবার বলা হচ্ছে যে, অমুক রেওয়ায়েত সহিহ আর অমুক বর্ণনাটি ইসরাইলি। এখানে ইসরাইলি বলতে কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট করা দরকার।
বনি ইসরাইলের রেওয়ায়েতগুলোর সিংহভাগ উৎস হলো তাওরাত। ইবরানি ভাষায় 'তাওরাত' শব্দের অর্থ 'শরিয়ত'। এ কারণে সেটির সাধারণ প্রয়োগ 'সিফরে তাকউন' (জন্মবৃত্তান্ত), 'সিফরে খুরুজ', 'সিফরে আহবার', 'সিফরে আদদ', 'সিফরে ইসতিসনা'-এর ওপর হয়ে থাকে।
তাওরাতের বাইরে দ্বিতীয় উৎস হলো, 'নবিইম'। এটি ইবরানি ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী 'নবী' শব্দের বহুবচন। ইবরানি ভাষায় একবচনের শেষে য ও ם যোগ করে বহুবচন সৃষ্টি হয়। এটি হলো, বনি ইসরাইলের বিভিন্ন নবীদের নসিহত, শোকগাথা, বনি ইসরাইলের কথাসাহিত্য ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের ভাণ্ডার। তার মধ্যে 'সিফরে ইউশা', 'সিফরুল কুযাত', 'সিফরে স্যামুয়েল', 'সিফরে আইয়‍্যাম' ও 'সিফরে মুলুক' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আজকাল 'নবিইম'-কে তাওরাতেরই অংশ মনে করা হয়।
তৃতীয় উৎস হলো, 'তুরকুম'। আরবি ভাষায় 'অনুবাদ'-কে বলা হয়। ইহুদি পণ্ডিতগণ তাওরাত ও নবিঈমের আরামি ভাষায় তাফসির করেছেন। এটি সম্পর্কে তাদের দাবি হলো, তারা এই তাফসির বিভিন্ন নবীদের কাছ থেকে শুনেছেন। চতুর্থ উৎস হলো, 'মাদরাশ'। ইসলামে হাদিসের যে মর্যাদা, ইহুদিদের সমাজে 'মাদরাশ'-এরও একই মর্যাদা। পঞ্চম উৎস হলো, তালমুদ। এটি হলো বনি ইসরাইলের ফিকাহ।
এগুলো ছাড়াও আরো কিছু ঘটনা ও কাহিনি রয়েছে, যেগুলো তাদের সমাজে বক্ষ থেকে বক্ষে স্মৃতিশক্তির মাধ্যমে ধর্মীয় পুঁথি হিসেবে বর্ণিত হয়ে আসছে। ইহুদি সাহিত্যের উল্লিখিত সবগুলো প্রকারকে এক নামে 'ইসরাইলিয়্যাত' বলা হয়ে থাকে। যেসকল ইহুদি পণ্ডিত পরবর্তীকালে মুসলমান হয়ে ছিলেন; তাদের মাধ্যমে ইসরাইলিয়্যাতের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ মুসলমানদের মধ্যে চর্চিত হয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এ কারণে মুহাককিক উলামায়ে কেরام সর্বযুগেই সেগুলো সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং সেগুলো থেকে ইসলামি রেওয়ায়েতকে পবিত্র রাখার কাজ করে গেছেন। এক্ষেত্রে তারা কেবল সেসব বর্ণনাকেই ছাড় দিয়েছেন, যেগুলোর ভাষ্যের সমর্থনে পবিত্র কুরআন অথবা সহিহ হাদিসের সাক্ষ্য পাওয়া যায়।

টিকাঃ
*. তারিখে ইবনে কাসির: ২/২৪
১. তাফসিরে ইবনে কাসির: ৩/৩৬৫.৩৬৬

বিলকিস, সাবার সম্রাজ্ঞী ও হযরত সুলাইমান আ.-এর উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশদ বিবরণ ছাড়াও আরো কিছু বিস্ময়কর ও বিরল কথাবার্তা সিরাতের বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়। যা আদ্যোপান্ত ইসরাইলি বর্ণনা ও ইহুদিদের উদ্ভট সাহিত্য হতে সংগৃহীত। সেগুলো সম্পর্কে ইবনে কাসির রহ. তাঁর তাফসিরে যে মন্তব্য করেছেন, তার সারনির্যাস নিম্নে তুলে ধরা হন্ত্রে
'এ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস রা. থেকে একটি বিস্ময়কর রেওয়ায়েত বর্ণিত রয়েছে। যা ইবনুস সায়িবের উদ্ধৃতিতে আবু বকর ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন। রেওয়ায়েতটি সম্পর্কে ইবনে আবি শায়বা বলেছেন, এটি খুবই চিত্তাকর্ষক ঘটনা। কিন্তু আমি বলবো, ইবনে আবি শায়বার ওই মন্তব্য করা ঠিক হয় নি। উল্লিখিত রেওয়ায়েতটি নিঃসন্দেহে পরিত্যাজ্য। এটি বর্ণনা করার সময় অবশ্যই আতা ইবনে সায়িব ভুল করে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর দিকে সনদের সূত্র যুক্ত করেছেন। যুক্তিও এ কথা বলে যে, এ জাতীয় বর্ণনা প্রকৃতপক্ষে আহলে কিতাবদের সাহিত্য থেকে সংগৃহীত।
ঘটনার বিবরণের প্রকৃতিই বলে দেয় যে, এটি কা'ব আহবার ও ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ বনি ইসরাইলের যেসব ঘটনা তাদের গ্রন্থাবলি থেকে নকল করে এই উম্মতকে শুনাতেন, তার অনুরূপ। মহান আল্লাহ তাদের সঙ্গে ক্ষমার আচরণ করুন। কেননা, তাদের কেচ্ছা-কাহিনিতে অবাক করা, বিরল ও পরিত্যাজ্য কথা বার্তা রয়েছে। সেখানে রয়েছে সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ।
তার পূর্ণ বিকৃত, আধা বিকৃত ও স্বল্প বিকৃত, সবধরনের ঘটনাই নকল করতেন। অথচ মহান আল্লাহ আমাদেরকে এ ধরনের অবান্তর ও অনর্থক প্যাঁচাল থেকে সন্দেহাতীতভাবে অমুখাপেক্ষী ও পরোয়াহীন করেছেন। আমাদেরকে এমন ইলম (কুরআন) দান করেছেন, যা ঘটনার সত্যতা, সদিচ্ছার উপকারিতা, অর্থের স্পষ্টতা ও ভাষার-অলঙ্কারের সাহিত্যমান উত্তীর্ণতার বিচারে অনেক উন্নত ও বলিষ্ঠ।'¹
কাসাসুল কুরআনে বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণকালে বারংবার বলা হচ্ছে যে, অমুক রেওয়ায়েত সহিহ আর অমুক বর্ণনাটি ইসরাইলি। এখানে ইসরাইলি বলতে কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট করা দরকার।
বনি ইসরাইলের রেওয়ায়েতগুলোর সিংহভাগ উৎস হলো তাওরাত। ইবরানি ভাষায় 'তাওরাত' শব্দের অর্থ 'শরিয়ত'। এ কারণে সেটির সাধারণ প্রয়োগ 'সিফরে তাকউন' (জন্মবৃত্তান্ত), 'সিফরে খুরুজ', 'সিফরে আহবার', 'সিফরে আদদ', 'সিফরে ইসতিসনা'-এর ওপর হয়ে থাকে।
তাওরাতের বাইরে দ্বিতীয় উৎস হলো, 'নবিইম'। এটি ইবরানি ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী 'নবী' শব্দের বহুবচন। ইবরানি ভাষায় একবচনের শেষে য ও ם যোগ করে বহুবচন সৃষ্টি হয়। এটি হলো, বনি ইসরাইলের বিভিন্ন নবীদের নসিহত, শোকগাথা, বনি ইসরাইলের কথাসাহিত্য ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের ভাণ্ডার। তার মধ্যে 'সিফরে ইউশা', 'সিফরুল কুযাত', 'সিফরে স্যামুয়েল', 'সিফরে আইয়‍্যাম' ও 'সিফরে মুলুক' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আজকাল 'নবিইম'-কে তাওরাতেরই অংশ মনে করা হয়।
তৃতীয় উৎস হলো, 'তুরকুম'। আরবি ভাষায় 'অনুবাদ'-কে বলা হয়। ইহুদি পণ্ডিতগণ তাওরাত ও নবিঈমের আরামি ভাষায় তাফসির করেছেন। এটি সম্পর্কে তাদের দাবি হলো, তারা এই তাফসির বিভিন্ন নবীদের কাছ থেকে শুনেছেন। চতুর্থ উৎস হলো, 'মাদরাশ'। ইসলামে হাদিসের যে মর্যাদা, ইহুদিদের সমাজে 'মাদরাশ'-এরও একই মর্যাদা। পঞ্চম উৎস হলো, তালমুদ। এটি হলো বনি ইসরাইলের ফিকাহ।
এগুলো ছাড়াও আরো কিছু ঘটনা ও কাহিনি রয়েছে, যেগুলো তাদের সমাজে বক্ষ থেকে বক্ষে স্মৃতিশক্তির মাধ্যমে ধর্মীয় পুঁথি হিসেবে বর্ণিত হয়ে আসছে। ইহুদি সাহিত্যের উল্লিখিত সবগুলো প্রকারকে এক নামে 'ইসরাইলিয়্যাত' বলা হয়ে থাকে। যেসকল ইহুদি পণ্ডিত পরবর্তীকালে মুসলমান হয়ে ছিলেন; তাদের মাধ্যমে ইসরাইলিয়্যাতের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ মুসলমানদের মধ্যে চর্চিত হয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এ কারণে মুহাককিক উলামায়ে কেরام সর্বযুগেই সেগুলো সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং সেগুলো থেকে ইসলামি রেওয়ায়েতকে পবিত্র রাখার কাজ করে গেছেন। এক্ষেত্রে তারা কেবল সেসব বর্ণনাকেই ছাড় দিয়েছেন, যেগুলোর ভাষ্যের সমর্থনে পবিত্র কুরআন অথবা সহিহ হাদিসের সাক্ষ্য পাওয়া যায়।

টিকাঃ
*. তারিখে ইবনে কাসির: ২/২৪
১. তাফসিরে ইবনে কাসির: ৩/৩৬৫.৩৬৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00