📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 সাবার সম্রাজ্ঞীর ইসলামগ্রহণ

📄 সাবার সম্রাজ্ঞীর ইসলামগ্রহণ


হযরত সুলাইমান আ. ও সাবার সম্রাজ্ঞীর ঘটনা এখানে এসে শেষ হয়েছে যে, হযরত সুলাইমান আ.-এর নবীসুলভ সম্মান ও প্রতিপত্তি দেখে সাবার সম্রাজ্ঞী ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি স্বীকারোক্তি দেন- أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ 'আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।'
এই ঘটনায় এটাই ছিলো হযরত সুলাইমান আ.-এর একমাত্র লক্ষ্য, যার প্রকাশ তিনি করেছিলেন তাঁর প্রথম চিঠিতেই। যদিও সম্রাজ্ঞী তখন তাঁর উদ্দেশ্যের কথা বুঝতে সক্ষম হন নি।
সাধারণ মুফাসসিরগণ একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করেছেন, তা হলো, যদিও তাঁর উদ্দেশ্য পূরণের জন্য হযরত সুলাইমান আ. কর্তৃক সম্রাজ্ঞীকে নিজের দরবারে ডেকে পাঠানোর ব্যাপারটি যথাযথ, কিন্তু এভাবে সিংহাসন উঠিয়ে আনা, স্বচ্ছ স্ফটিকের প্রাসাদের সামনে সম্রাজ্ঞীকে বিব্রত করার সঙ্গে তাঁর উদ্দেশ্যের কী সম্পর্ক? মুফাসসিরগণ নিজেরাই ওই প্রশ্নের এ উত্তর দিয়েছেন যে, এর দ্বারা সাবার সম্রাজ্ঞীর ওপর একটি প্রভাব ফেলতে চেয়েছেন। তা হলো, সম্রাজ্ঞীর মনে যেনো এ বিশ্বাস সৃষ্টি হয় যে, হযরত সুলাইমান আ. তাকে ডেকে পাঠানোর পেছনে কোনো পার্থিব লোভ-লালসা কিংবা সম্পদ ও ঐশ্বর্যে সংযোজনের অভিপ্রায় ছিলো না। বরং তাঁর উদ্দেশ্য ছিলো এর চেয়ে আরো অনেক ঊর্ধ্বের। দ্বিতীয়ত, তিনি চেয়েছেন যেনো সম্রাজ্ঞী এ কথা বুঝতে সমর্থ হন যে, এই দুটি ঘটনা ছিলো রাজসিক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিসুলভ শক্তিমত্তার প্রকাশের চেয়ে আরো অনেক ঊর্ধ্বে উঠে হযরত সুলাইমান আ.-এর নবীসুলভ সততার নিদর্শন। এ কারণেই মুফাসসিরগণ সাবার সম্রাজ্ঞীর এই মন্তব্য وَكُنَّا مُسْلِمِينَ-এ ইসলাম শব্দের অর্থ নিয়েছেন, ঈমান। অর্থাৎ সত্যিকার অর্থেই সাবার সম্রাজ্ঞী ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
যদিও মুফাসসিরগণের প্রজ্ঞাদীপ্ত অভিমতকে আমরা সঠিক বলে স্বীকার করি, কিন্তু তাদের সেই দলিলের ওপর একটি প্রশ্ন ওঠে। তা হলো, যদি এ কথা সঠিক হয় যে, সম্রাজ্ঞী وَكُنَّا مُسْلِمِينَ বলে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাহলে এর পরের আয়াতের এই দুটি বাক্যের কী অর্থ হবে-
وَصَدَّهَا مَا كَانَتْ تَعْبُدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنَّهَا كَانَتْ مِنْ قَوْمٍ كَافِرِينَ 'আল্লাহর পরিবর্তে সে যার উপাসনা করতো, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিলো। নিশ্চয়ই সে কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলো।' অর্থাৎ স্ফটিকের রাজপ্রাসাদের ঘটনায় প্রভাবিত হয়ে রানি এ কথা বলেছিলেন-
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 'হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।'
এই দুটি বাক্য থেকে মনে হয় যে, وَكُنا مُسْلِمِينَ বলার সময় তিনি মুসলমান হন নি। বরং এর পরের দ্বিতীয় ঘটনা থেকে প্রভাবিত হয়ে পুনরায় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ দুটি বিষয়েরই প্রকাশ ঘটেছিলো হযরত সুলাইমান আ.-এর শাহি দরবারে। হযরত মুজাহিদ, সাঈদ ও ইবনে জারির রহ. এই আপত্তি মেনে নিয়ে আলোচিত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা এভাবে দিয়েছেন যে, وَ أُوْتِيْنَا الْعِلْمَ থেকে مِنْ قَوْمٍ كَفِرِينَ পর্যন্ত পুরোটাই হযরত সুলাইমান আ.-এর মন্তব্য। কাজেই উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যা হলো, হযরত সুলাইমান আ. বলেছেন, সাবার সম্রাজ্ঞীর এখানে আসার আগ থেকেই আমি জানতাম যে, সম্রাজ্ঞী কাফের সমাজের সদস্য আর আমরা মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। সে যেহেতু সূর্য দেবতার উপাসনা করে, এ কারণে সূর্যপূজা তাকে গায়রুল্লাহর উপাসনায় অভ্যস্ত বানিয়ে একক আল্লাহর ইবাদত থেকে বিমুখ করে রেখেছে।
ইবনে কাসির রহ. হযরত মুজাহিদ রহ.-এর তাফসির নকল করে লিখেছেন, উল্লিখিত অভিমতটিই প্রাধান্য পাবে। কারণ হলো, সাবার সম্রাজ্ঞী তখন পর্যন্ত মুসলমান হন নি। বরং পবিত্র কুরআনের অভিব্যক্তি অনুসারে তিনি صَرْحٌ مُمَرَّدٌ مِّنْ فَوَارِيرَ এর ঘটনার পরেই ঈমান এনেছিলেন। কাজেই وَكُنَّا مُسْلِمِينَ তার মন্তব্য নয়।
কিন্তু উল্লিখিত তাফসিরে একটি বেশ বড় সমস্যা রয়েছে। তা হলো, তখন ضَمِير এর مرجع নিরূপণের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও জটিলতা দেখা দেয়। অর্থাৎ যখন قَالَتْ كَانَّهُ هُوَ বাক্যে ভর্তি শব্দের বক্তা হচ্ছেন, সাবার সম্রাজ্ঞী। আর এরপর কোথাও হযরত সুলাইমানের উল্লেখ নেই, তখন তার পরের বাক্য أوتِينَا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ-কে- যা আগের বাক্যের সঙ্গে মিলিত হয়ে এসেছে - কীভাবে হযরত সুলাইমানের মন্তব্য বলা ঠিক হয়? যদি এ কথা বলা হয় যে, উল্লিখিত দুই বাক্যের মাঝে قال سليمان বা قال শব্দ উহ্য রয়েছে, তাহলে সেটি হবে প্রমাণহীন দাবি মাত্র। কাজেই আমাদের বক্তব্য হলো, যদি ضَمِير এর مرجع নিরূপণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করেই সঠিক তাফসির করা যায়, তাহলে বিনা কারণে এ জাতীয় উহ্য মানার কী প্রয়োজন? আলোচিত আয়াতসমূহের এমন ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে হবে, যেখানে ওই দুটি সমস্যা বাকি থাকবে না এবং উল্লিখিত দুটি ঘটনার প্রত্যেকটির প্রজ্ঞাদীপ্ত কারণ ও কর্মকৌশল সূর্যের আলোর মতো পরিষ্কার ফুটে উঠবে। যা হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. থেকে হযরত মাওলানা সাইয়িদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.-এর উদ্ধৃতিতে বর্ণিত রয়েছে। হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. বলেন,
হযরত সুলাইমান আ. হুদহুদের মাধ্যমে যে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তাতে এ কথা লেখা ছিলো, وَأَتُوْنِى مُسْلِمِينَ । যেখানে তিনি সাবার সম্রাজ্ঞীকে পরিষ্কার ভাষায় ইসলামের দাওয়াত জানিয়েছিলেন। কিন্তু সাবার সম্রাজ্ঞী যেহেতু তাওহিদের বাস্তবতা ও দীনে ইসলামের সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন, এ কারণে তিনি হযরত সুলাইমান আ.-এর উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হন নি। কারণ, তিনি যখন চিঠিতে أَلَّا تَعْلُوْا عَلَى এর পর وَأَتُوْنِى مُسْلِمِينَ পড়েছিলেন তখন তিনি অন্যান্য রাজাদের চিঠি-পত্রের প্রতি লক্ষ্য রেখে মনে করেছিলেন, রাজা সুলাইমান তাঁর পরাক্রমশালী শক্তির জোরে আমাকে ও আমার সম্রাজ্যকে তার অনুগত ও আজ্ঞাবহ করতে চাচ্ছে। এ কারণে রানি তখন তার পারিষদদের সঙ্গে শলা-পরামর্শের পর ভেতরের খোঁজ-খবর জানার জন্য সেই পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যার কথা কুরআন উল্লেখ করেছে। যখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে, প্রকৃতপক্ষে রাজা সুলাইমানের রাজসিক শক্তি ও পরাক্রমশালী ক্ষমতা অন্য যেকোনো বাদশাহর চেয়ে অনেক বেশি, তখন রানি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন যে, সুলাইমানের সঙ্গে লড়তে চাই সমীচীন হবে না। তার আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকারেই আমাদের কল্যাণ। এ কারণে তিনি শামদেশের উদ্দেশে রওয়ানা হন। হযরত সুলাইমান আ. যখন সংবাদ পেলেন যে, সাবার সম্রাজ্ঞী তাঁর খেদমতে হাজির হওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেছে তখন ভাবলেন, এমন কোনো সূক্ষ্ম পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার, যার দ্বারা সাবার সম্রাজ্ঞী নিজ থেকেই এ স্বীকারোক্তি প্রদান করতে বাধ্য হবে যে, সূর্যপূজা নিঃসন্দেহে ভ্রষ্টতামূলক। কাজেই একক আল্লাহর ইবাদত করাটাই হবে একমাত্র সহজ ও সরল পথ।
সাবা জাতির ধর্ম ছিলো সূর্যপূজা। তারা এ দর্শনের প্রবক্তা ছিলো যে, গোটা জগতের কল্যাণ-অকল্যাণের শক্তি ও ক্ষমতা নক্ষত্রপুঞ্জের হাতে। আর যেহেতু সূর্য হলো সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং তার প্রভাব গোটা জগতের ওপর, এ কারণে একমাত্র সূর্যই উপাসনার যোগ্য। হযরত সুলাইমান আ. এ কারণে সম্রাজ্ঞীকে জানাতে চেয়েছিলেন যে, জগতের ছোট-বড় সবকিছুর ওপর একমাত্র একজনেরই কর্তৃত্ব। আর তিনি হলেন, মহান আল্লাহ। সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র ও তারকারাজি; এসবই হলো তাঁর সৃষ্টি। এগুলো হলো তাঁর কুদরতের নিদর্শন। কাজেই একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় নির্বুদ্ধিতা হলো, মূলস্রষ্টার উপাসনা ছেড়ে তাঁর কুদরতের নিদর্শনের সামনে মাথা নত করা। কেননা, এই নিদর্শনগুলো মূলসত্তার অস্তিত্বের ঘোষক। এগুলো নিজেই মহান উপাস্যের জন্য দলিল। এগুলো নিজেই পরিবর্তনশীল। এগুলোতে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, অস্তিত্ব, বিনাশ; সবকিছুই হতে পারে। পক্ষান্তরে স্রষ্টার সত্তা এসবের উর্ধ্বে। এ কথা ভেবে তিনি সাবার সম্রাজ্ঞীর সিংহাসন ইয়ামান থেকে উঠিয়ে আনতে বললেন। যাতে তিনি তার নিকট একটি উদাহরণ দিয়ে তাকে বলতে পারেন এবং তার কাছে এই বিষয় স্পষ্ট করতে পারেন যে, দেখো, এটি হলো আমার দাবির দলিল। এটি তোমার রাজসিংহাসন। চিন্তা করে দেখো, এটি তোমার রাজত্ব ও ক্ষমতার প্রকাশস্থল। এজন্যই এটিকে 'রাজসিংহাসন' বলা হয়। কিন্তু যখনই তুমি তোমার দেশের বাইরে চলে এলে, তখন তোমার রাজত্বের প্রকাশস্থলও মৌলিকত্বশূন্য হয়ে গেছে। গতকাল যেটি ছিলো তোমার ক্ষমতার প্রকাশ; আজ সেটি হয়ে গেছে আমার দরবারের সৌন্দর্য। আবার এখানেও তার অবয়ব ও কাঠামোর পরিবর্তন তোমাকে তার অস্থায়িত্বের শিক্ষা দিচ্ছে। হযরত সুলাইমান আ.-এর ইচ্ছের সমর্থন হয় এ থেকে যে, তিনি সম্রাজ্ঞীর সিংহাসন তার দরবারে উঠিয়ে এনে তা পরিবর্তন করার নির্দেশ দেয়ার সময় বলেছিলেন-
نَنْظُرْ أَتَهْتَدِي أَمْ تَكُونُ مِنَ الَّذِينَ لَا يَهْتَدُونَ
'দেখবো সে সঠিক বুঝতে পারে, না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের দিশা নেই?' এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে 'হেদায়েত' দ্বারা খাস ইসলামে হেদায়েত উদ্দেশ্য। প্রতিটি বিষয়ের মূল বাস্তবতার খোঁজ পাওয়াটা এখানে উদ্দেশ্য নয়।
উল্লিখিত বর্ণনাশৈলীর আলোকে হযরত সুলাইমান আ. সাবার সম্রাজ্ঞীর ওপর এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি শুধু রাজকীয় ক্ষমতা ও কর্তাসুলভ শক্তিমত্তার কারণে নয়, বরং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় মহান আল্লাহর সেই শক্তি কাজ করছে, যা অপরাপর যে কোনো রাজা-বাদশাহর পরাক্রমশালী ক্ষমতা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে নবীসুলভ সম্মান ও প্রতিপত্তির সঙ্গে 'ঐশী নিদর্শন'-এর নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দাওয়াত ও তাবলিগের উল্লিখিত বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সাবা সমাজের লোকেরা যে সূর্যের পূজা করে থাকে, তা মৌলিকভাবে স্থায়ীকে ছেড়ে অস্থায়ীর, কুদরতকে ছেড়ে কুদরতের প্রকাশস্থলের, অমুখাপেক্ষীকে ছেড়ে মুখাপেক্ষীর, স্রষ্টাকে ছেড়ে সৃষ্টির উপাসনা। যা নিতান্তই বিভ্রান্তি ও গুমরাহির পথ। সিরাতে মুসতাকিম হলো, মূলসত্তা একক আল্লাহকেই তাবৎ উপকারিতা, কল্যাণ ও ক্ষতি, অকল্যাণের মালিক বিশ্বাস করতে হবে। শুধু তারই উপাসনা করতে হবে।
কিন্তু সাবা জাতি যেহেতু কয়েক শতাব্দী ধরে গায়রুল্লাহর উপাসনায় বিশ্বাসী ছিলো। এ কারণে সাবার সম্রাজ্ঞী উল্লিখিত সূক্ষ্ম দলিল বুঝতে ব্যর্থ হন। তার বিচার-বুদ্ধি বাস্তবতার গভীরে পৌঁছুতে পারে নি। যার কারণে 'সিংহাসন'-এর পূর্ণ ঘটনা থেকে তিনি এ ফল বের করেন যে, সুলাইমান আ. এই বিস্ময়কর পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁর শক্তি ও প্রতাপের প্রদর্শনী করে আমাকে তার অনুগত ও আজ্ঞাবহ হওয়ার জন্য প্রভাবিত করতে চেয়েছেন। সেই ভাবনা থেকেই সাবার সম্রাজ্ঞী এ উত্তর দিয়েছেন যে, 'আপনি যদি এই বিস্ময়কর প্রদর্শনী নাও করতেন, তারপরও আমি পূর্ব থেকেই আপনার ক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছি। আমরা আপনার অনুগত ও আজ্ঞাবহ হয়ে গেছি।
সম্রাজ্ঞীর উত্তর উদ্ধৃত করার পর মহান আল্লাহ মাঝখানে তার কয়েক শতাব্দীর গুমরাহি এবং বিষয়টির মূল বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণও জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিয়মিত সূর্যপূজা করাটাই তাকে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে। যার কারণে সে এখনও কাফের হয়ে আছে।
নিম্নের আয়াতসমূহে উল্লিখিত দুটি বিষয়ই কোনো ধরনের ব্যাখ্যা ব্যতিরেকে পরিষ্কার ও স্বচ্ছভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- قَالَتْ كَأَنَّهُ هُوَ وَأُوتِينَا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ () وَصَدَّهَا مَا كَانَتْ تَعْبُدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنَّهَا كَانَتْ مِنْ قَوْمٍ كَافِرِينَ )) 'বললো, মনে হয় এটা সেটাই। আমরা পূর্বেই সমস্ত অবগত হয়েছি এবং আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি। আল্লাহর পরিবর্তে সে যার উপাসনা করতো, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিলো। নিশ্চয়ই সে কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলো।'
তখন হযরত সুলাইমান আ. দ্বিতীয় প্রদর্শনী করলেন। তাঁর উদ্দেশ্য বুঝানোর ক্ষেত্রে পূর্বটির চেয়ে অধিক স্পষ্ট ও উজ্জ্বল। আর তা হলো স্ফটিকের রাজপ্রাসাদ। সম্রাজ্ঞী যখন মনে করলেন, সামনে দিয়ে পরিষ্কার স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হচ্ছে আর তাই তিনি তার কাপড় তুলে পানিতে অবতরণের ইচ্ছে করলেন, তখন তাকে বলা হলো, যাকে আপনি পানি মনে করছেন, এটি মূলত কাঁচের প্রতিবিম্ব। পানি নয়। সম্রাজ্ঞীর কাছে তখন সত্য উন্মোচিত হলো। তার মন ভাবনায় পড়ে গেলো যে, হযরত সুলাইমান এই প্রদর্শনীসমূহ দ্বারা কী চাচ্ছেন? তখন তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত মেধা সত্য বুঝতে সক্ষম হলো যে, যেভাবে আমি এই ভুল করেছি যে, একটি বস্তুর প্রতিবিম্বকে মূলবস্তু মনে করে তার সঙ্গে মূল বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আচরণ করতে চেয়েছি, ঠিক অনুরূপ আমি ও আমার জাতি এই গোমরাহিতে নিমগ্ন ছিলাম যে, সূর্যকে উপাসনার যোগ্য মনে করে তাকে পূজা করে গেছি। অথচ বাস্তবে এটি মূল সত্তা এক আল্লাহর কুদরতের প্রকাশস্থলসমূহের একটি। কাজেই তার থেকে বড় জালিম কে আর হতে পারে, যে মূল সত্তাকে ছেড়ে তার প্রকাশস্থলের উপাসনা করতে যায়। তখন তিনি বুঝতে সক্ষম হলেন যে, হযরত সুলাইমানের রাজকীয় চিঠিতে مُسْلِمِينَ وَأَتُوْنِي রয়েছে, তার ব্যাখ্যা কী? সম্রাজ্ঞীর মনে ওই ভাবনার উদয় হতেই তিনি চিৎকার করে বললেন-
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 'হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।'
শায়খুল হিন্দ রহ.-এর তাফসিরের ফলে আয়াতসমূহের অভ্যন্তরীণ অন্ত্যমিল ও সেগুলোর ضمیر সমূহের مرجع নিরূপণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও জটিলতা সৃষ্টি হয় না। তা ছাড়া কোনো কিছুকে উহ্য মানার প্রয়োজনও পড়ে না। উপরন্তু ঘটনাদুটির কারণ ও কর্মকৌশল এবং হযরত সুলাইমান আ.-এর নবীসুলভ দাওয়াত ও ইরশাদ, তাঁর শক্তিমত্তা ও প্রতিপত্তির প্রদর্শনীর যৌক্তিকতা ও সৌন্দর্য সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।
সাবার সম্রাজ্ঞীর প্রথম কথা وَكُنَّا مُسْلِمِينَ -এ আমরা ইসলাম শব্দের অর্থ বলেছি, আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার। এর নজির সুরা হুজুরাতের সেই আয়াত, যা মদীনার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঈমান দাবি করার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছিলো-
قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا 'গ্রাম্য লোকেরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আপনি বলে দিন, তোমরা ঈমান তো আনো নি, তবে এ কথা বলো, আমরা বশ্যতা স্বীকার করে অনুগত হয়ে গেছি।'
وَكُنَّا مُسْلِمِينَ বাক্যে ইসলাম শব্দের অর্থ আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করা আর وَاَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَنَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ বাক্যে ইসলাম শব্দের অর্থ দীনে ইসলাম গ্রহণ করএ দুটির অর্থের মধ্যে কী পার্থক্য তা খোদ পবিত্র কুরআনের ওই আয়াতসমূহ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রথম বাক্যে সাবার সম্রাজ্ঞী এমন কোনো বিবরণ পেশ করেন নি, যার থেকে শিরক থেকে মুখ ফিরিয়ে তাওহিদের আশ্রিত হওয়ার উল্লেখ মেলে। এ কারণেই মহান আল্লাহ তার ওই বাক্যের পরেও এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন যে, এত দিনের সূর্যপূজা এখন পর্যন্ত তাকে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে। যার কারণে এখনও সে কাফের রয়ে গেছে। কিন্তু শেষ বাক্যে যখন সম্রাজ্ঞী স্পষ্টভাবে স্বীকার করলেন যে, এখন তার ইসলাম আক্ষরিক অর্থে নয়, বরং দীনে ইসলামের পারিভাষিক ইসলামই সে গ্রহণ করেছে। সেই আনুগত্য সুলাইমানের জন্য নয়; বরং সুলাইমানের সাহচর্যে 'উভয় জাহানের রব'-এর জন্য নিবেদিত।
সম্ভবত উল্লিখিত পার্থক্যের দিকে তাকিয়েই প্রথম বাক্যে সাবার সম্রাজ্ঞী নিজের সঙ্গে সঙ্গে তার রাজত্বের সকল পারিষদ ও জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করে বহুবচন শব্দে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। কেননা, হযরত সুলাইমানের রাজকীয় প্রতিপত্তির আনুগত্যের বিষয়টি সম্রাজ্ঞী ও তার রাজসভার সদস্যদের মধ্যকার পরামর্শ শেষে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত ছিলো। পক্ষান্তরে তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়টি তার একান্তই নিজস্ব বিশ্বাসের ওপর নির্মিত ছিলো। এ কারণে তিনি তা প্রকাশ করার সময় একবচন শব্দে ব্যক্ত করেছেন। যদিও সেই যুগের সাধারণ নীতি অনুসারে রাজার ধর্ম স্বয়ংক্রিয়ভাবে জনগণের জনপ্রিয় ধর্ম হয়ে যায়। সম্ভবত পরবর্তীকালে তার জাতিও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিয়েছিলো।
মোটকথা, উল্লিখিত তাফসির খুবই সূক্ষ্ম তথ্যসম্বলিত এবং সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রণিধানযোগ্য।

হযরত সুলাইমান আ. ও সাবার সম্রাজ্ঞীর ঘটনা এখানে এসে শেষ হয়েছে যে, হযরত সুলাইমান আ.-এর নবীসুলভ সম্মান ও প্রতিপত্তি দেখে সাবার সম্রাজ্ঞী ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি স্বীকারোক্তি দেন- أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ 'আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।'
এই ঘটনায় এটাই ছিলো হযরত সুলাইমান আ.-এর একমাত্র লক্ষ্য, যার প্রকাশ তিনি করেছিলেন তাঁর প্রথম চিঠিতেই। যদিও সম্রাজ্ঞী তখন তাঁর উদ্দেশ্যের কথা বুঝতে সক্ষম হন নি।
সাধারণ মুফাসসিরগণ একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করেছেন, তা হলো, যদিও তাঁর উদ্দেশ্য পূরণের জন্য হযরত সুলাইমান আ. কর্তৃক সম্রাজ্ঞীকে নিজের দরবারে ডেকে পাঠানোর ব্যাপারটি যথাযথ, কিন্তু এভাবে সিংহাসন উঠিয়ে আনা, স্বচ্ছ স্ফটিকের প্রাসাদের সামনে সম্রাজ্ঞীকে বিব্রত করার সঙ্গে তাঁর উদ্দেশ্যের কী সম্পর্ক? মুফাসসিরগণ নিজেরাই ওই প্রশ্নের এ উত্তর দিয়েছেন যে, এর দ্বারা সাবার সম্রাজ্ঞীর ওপর একটি প্রভাব ফেলতে চেয়েছেন। তা হলো, সম্রাজ্ঞীর মনে যেনো এ বিশ্বাস সৃষ্টি হয় যে, হযরত সুলাইমান আ. তাকে ডেকে পাঠানোর পেছনে কোনো পার্থিব লোভ-লালসা কিংবা সম্পদ ও ঐশ্বর্যে সংযোজনের অভিপ্রায় ছিলো না। বরং তাঁর উদ্দেশ্য ছিলো এর চেয়ে আরো অনেক ঊর্ধ্বের। দ্বিতীয়ত, তিনি চেয়েছেন যেনো সম্রাজ্ঞী এ কথা বুঝতে সমর্থ হন যে, এই দুটি ঘটনা ছিলো রাজসিক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিসুলভ শক্তিমত্তার প্রকাশের চেয়ে আরো অনেক ঊর্ধ্বে উঠে হযরত সুলাইমান আ.-এর নবীসুলভ সততার নিদর্শন। এ কারণেই মুফাসসিরগণ সাবার সম্রাজ্ঞীর এই মন্তব্য وَكُنَّا مُسْلِمِينَ-এ ইসলাম শব্দের অর্থ নিয়েছেন, ঈমান। অর্থাৎ সত্যিকার অর্থেই সাবার সম্রাজ্ঞী ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
যদিও মুফাসসিরগণের প্রজ্ঞাদীপ্ত অভিমতকে আমরা সঠিক বলে স্বীকার করি, কিন্তু তাদের সেই দলিলের ওপর একটি প্রশ্ন ওঠে। তা হলো, যদি এ কথা সঠিক হয় যে, সম্রাজ্ঞী وَكُنَّا مُسْلِمِينَ বলে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাহলে এর পরের আয়াতের এই দুটি বাক্যের কী অর্থ হবে-
وَصَدَّهَا مَا كَانَتْ تَعْبُدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنَّهَا كَانَتْ مِنْ قَوْمٍ كَافِرِينَ 'আল্লাহর পরিবর্তে সে যার উপাসনা করতো, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিলো। নিশ্চয়ই সে কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলো।' অর্থাৎ স্ফটিকের রাজপ্রাসাদের ঘটনায় প্রভাবিত হয়ে রানি এ কথা বলেছিলেন-
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 'হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।'
এই দুটি বাক্য থেকে মনে হয় যে, وَكُنا مُسْلِمِينَ বলার সময় তিনি মুসলমান হন নি। বরং এর পরের দ্বিতীয় ঘটনা থেকে প্রভাবিত হয়ে পুনরায় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ দুটি বিষয়েরই প্রকাশ ঘটেছিলো হযরত সুলাইমান আ.-এর শাহি দরবারে। হযরত মুজাহিদ, সাঈদ ও ইবনে জারির রহ. এই আপত্তি মেনে নিয়ে আলোচিত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা এভাবে দিয়েছেন যে, وَ أُوْتِيْنَا الْعِلْمَ থেকে مِنْ قَوْمٍ كَفِرِينَ পর্যন্ত পুরোটাই হযরত সুলাইমান আ.-এর মন্তব্য। কাজেই উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যা হলো, হযরত সুলাইমান আ. বলেছেন, সাবার সম্রাজ্ঞীর এখানে আসার আগ থেকেই আমি জানতাম যে, সম্রাজ্ঞী কাফের সমাজের সদস্য আর আমরা মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। সে যেহেতু সূর্য দেবতার উপাসনা করে, এ কারণে সূর্যপূজা তাকে গায়রুল্লাহর উপাসনায় অভ্যস্ত বানিয়ে একক আল্লাহর ইবাদত থেকে বিমুখ করে রেখেছে।
ইবনে কাসির রহ. হযরত মুজাহিদ রহ.-এর তাফসির নকল করে লিখেছেন, উল্লিখিত অভিমতটিই প্রাধান্য পাবে। কারণ হলো, সাবার সম্রাজ্ঞী তখন পর্যন্ত মুসলমান হন নি। বরং পবিত্র কুরআনের অভিব্যক্তি অনুসারে তিনি صَرْحٌ مُمَرَّدٌ مِّنْ فَوَارِيرَ এর ঘটনার পরেই ঈমান এনেছিলেন। কাজেই وَكُنَّا مُسْلِمِينَ তার মন্তব্য নয়।
কিন্তু উল্লিখিত তাফসিরে একটি বেশ বড় সমস্যা রয়েছে। তা হলো, তখন ضَمِير এর مرجع নিরূপণের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও জটিলতা দেখা দেয়। অর্থাৎ যখন قَالَتْ كَانَّهُ هُوَ বাক্যে ভর্তি শব্দের বক্তা হচ্ছেন, সাবার সম্রাজ্ঞী। আর এরপর কোথাও হযরত সুলাইমানের উল্লেখ নেই, তখন তার পরের বাক্য أوتِينَا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ-কে- যা আগের বাক্যের সঙ্গে মিলিত হয়ে এসেছে - কীভাবে হযরত সুলাইমানের মন্তব্য বলা ঠিক হয়? যদি এ কথা বলা হয় যে, উল্লিখিত দুই বাক্যের মাঝে قال سليمان বা قال শব্দ উহ্য রয়েছে, তাহলে সেটি হবে প্রমাণহীন দাবি মাত্র। কাজেই আমাদের বক্তব্য হলো, যদি ضَمِير এর مرجع নিরূপণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করেই সঠিক তাফসির করা যায়, তাহলে বিনা কারণে এ জাতীয় উহ্য মানার কী প্রয়োজন? আলোচিত আয়াতসমূহের এমন ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে হবে, যেখানে ওই দুটি সমস্যা বাকি থাকবে না এবং উল্লিখিত দুটি ঘটনার প্রত্যেকটির প্রজ্ঞাদীপ্ত কারণ ও কর্মকৌশল সূর্যের আলোর মতো পরিষ্কার ফুটে উঠবে। যা হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. থেকে হযরত মাওলানা সাইয়িদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.-এর উদ্ধৃতিতে বর্ণিত রয়েছে। হযরত শায়খুল হিন্দ রহ. বলেন,
হযরত সুলাইমান আ. হুদহুদের মাধ্যমে যে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তাতে এ কথা লেখা ছিলো, وَأَتُوْنِى مُسْلِمِينَ । যেখানে তিনি সাবার সম্রাজ্ঞীকে পরিষ্কার ভাষায় ইসলামের দাওয়াত জানিয়েছিলেন। কিন্তু সাবার সম্রাজ্ঞী যেহেতু তাওহিদের বাস্তবতা ও দীনে ইসলামের সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন, এ কারণে তিনি হযরত সুলাইমান আ.-এর উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হন নি। কারণ, তিনি যখন চিঠিতে أَلَّا تَعْلُوْا عَلَى এর পর وَأَتُوْنِى مُسْلِمِينَ পড়েছিলেন তখন তিনি অন্যান্য রাজাদের চিঠি-পত্রের প্রতি লক্ষ্য রেখে মনে করেছিলেন, রাজা সুলাইমান তাঁর পরাক্রমশালী শক্তির জোরে আমাকে ও আমার সম্রাজ্যকে তার অনুগত ও আজ্ঞাবহ করতে চাচ্ছে। এ কারণে রানি তখন তার পারিষদদের সঙ্গে শলা-পরামর্শের পর ভেতরের খোঁজ-খবর জানার জন্য সেই পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যার কথা কুরআন উল্লেখ করেছে। যখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে, প্রকৃতপক্ষে রাজা সুলাইমানের রাজসিক শক্তি ও পরাক্রমশালী ক্ষমতা অন্য যেকোনো বাদশাহর চেয়ে অনেক বেশি, তখন রানি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন যে, সুলাইমানের সঙ্গে লড়তে চাই সমীচীন হবে না। তার আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকারেই আমাদের কল্যাণ। এ কারণে তিনি শামদেশের উদ্দেশে রওয়ানা হন। হযরত সুলাইমান আ. যখন সংবাদ পেলেন যে, সাবার সম্রাজ্ঞী তাঁর খেদমতে হাজির হওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেছে তখন ভাবলেন, এমন কোনো সূক্ষ্ম পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার, যার দ্বারা সাবার সম্রাজ্ঞী নিজ থেকেই এ স্বীকারোক্তি প্রদান করতে বাধ্য হবে যে, সূর্যপূজা নিঃসন্দেহে ভ্রষ্টতামূলক। কাজেই একক আল্লাহর ইবাদত করাটাই হবে একমাত্র সহজ ও সরল পথ।
সাবা জাতির ধর্ম ছিলো সূর্যপূজা। তারা এ দর্শনের প্রবক্তা ছিলো যে, গোটা জগতের কল্যাণ-অকল্যাণের শক্তি ও ক্ষমতা নক্ষত্রপুঞ্জের হাতে। আর যেহেতু সূর্য হলো সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং তার প্রভাব গোটা জগতের ওপর, এ কারণে একমাত্র সূর্যই উপাসনার যোগ্য। হযরত সুলাইমান আ. এ কারণে সম্রাজ্ঞীকে জানাতে চেয়েছিলেন যে, জগতের ছোট-বড় সবকিছুর ওপর একমাত্র একজনেরই কর্তৃত্ব। আর তিনি হলেন, মহান আল্লাহ। সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র ও তারকারাজি; এসবই হলো তাঁর সৃষ্টি। এগুলো হলো তাঁর কুদরতের নিদর্শন। কাজেই একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় নির্বুদ্ধিতা হলো, মূলস্রষ্টার উপাসনা ছেড়ে তাঁর কুদরতের নিদর্শনের সামনে মাথা নত করা। কেননা, এই নিদর্শনগুলো মূলসত্তার অস্তিত্বের ঘোষক। এগুলো নিজেই মহান উপাস্যের জন্য দলিল। এগুলো নিজেই পরিবর্তনশীল। এগুলোতে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, অস্তিত্ব, বিনাশ; সবকিছুই হতে পারে। পক্ষান্তরে স্রষ্টার সত্তা এসবের উর্ধ্বে। এ কথা ভেবে তিনি সাবার সম্রাজ্ঞীর সিংহাসন ইয়ামান থেকে উঠিয়ে আনতে বললেন। যাতে তিনি তার নিকট একটি উদাহরণ দিয়ে তাকে বলতে পারেন এবং তার কাছে এই বিষয় স্পষ্ট করতে পারেন যে, দেখো, এটি হলো আমার দাবির দলিল। এটি তোমার রাজসিংহাসন। চিন্তা করে দেখো, এটি তোমার রাজত্ব ও ক্ষমতার প্রকাশস্থল। এজন্যই এটিকে 'রাজসিংহাসন' বলা হয়। কিন্তু যখনই তুমি তোমার দেশের বাইরে চলে এলে, তখন তোমার রাজত্বের প্রকাশস্থলও মৌলিকত্বশূন্য হয়ে গেছে। গতকাল যেটি ছিলো তোমার ক্ষমতার প্রকাশ; আজ সেটি হয়ে গেছে আমার দরবারের সৌন্দর্য। আবার এখানেও তার অবয়ব ও কাঠামোর পরিবর্তন তোমাকে তার অস্থায়িত্বের শিক্ষা দিচ্ছে। হযরত সুলাইমান আ.-এর ইচ্ছের সমর্থন হয় এ থেকে যে, তিনি সম্রাজ্ঞীর সিংহাসন তার দরবারে উঠিয়ে এনে তা পরিবর্তন করার নির্দেশ দেয়ার সময় বলেছিলেন-
نَنْظُرْ أَتَهْتَدِي أَمْ تَكُونُ مِنَ الَّذِينَ لَا يَهْتَدُونَ
'দেখবো সে সঠিক বুঝতে পারে, না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের দিশা নেই?' এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে 'হেদায়েত' দ্বারা খাস ইসলামে হেদায়েত উদ্দেশ্য। প্রতিটি বিষয়ের মূল বাস্তবতার খোঁজ পাওয়াটা এখানে উদ্দেশ্য নয়।
উল্লিখিত বর্ণনাশৈলীর আলোকে হযরত সুলাইমান আ. সাবার সম্রাজ্ঞীর ওপর এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি শুধু রাজকীয় ক্ষমতা ও কর্তাসুলভ শক্তিমত্তার কারণে নয়, বরং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় মহান আল্লাহর সেই শক্তি কাজ করছে, যা অপরাপর যে কোনো রাজা-বাদশাহর পরাক্রমশালী ক্ষমতা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে নবীসুলভ সম্মান ও প্রতিপত্তির সঙ্গে 'ঐশী নিদর্শন'-এর নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দাওয়াত ও তাবলিগের উল্লিখিত বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সাবা সমাজের লোকেরা যে সূর্যের পূজা করে থাকে, তা মৌলিকভাবে স্থায়ীকে ছেড়ে অস্থায়ীর, কুদরতকে ছেড়ে কুদরতের প্রকাশস্থলের, অমুখাপেক্ষীকে ছেড়ে মুখাপেক্ষীর, স্রষ্টাকে ছেড়ে সৃষ্টির উপাসনা। যা নিতান্তই বিভ্রান্তি ও গুমরাহির পথ। সিরাতে মুসতাকিম হলো, মূলসত্তা একক আল্লাহকেই তাবৎ উপকারিতা, কল্যাণ ও ক্ষতি, অকল্যাণের মালিক বিশ্বাস করতে হবে। শুধু তারই উপাসনা করতে হবে।
কিন্তু সাবা জাতি যেহেতু কয়েক শতাব্দী ধরে গায়রুল্লাহর উপাসনায় বিশ্বাসী ছিলো। এ কারণে সাবার সম্রাজ্ঞী উল্লিখিত সূক্ষ্ম দলিল বুঝতে ব্যর্থ হন। তার বিচার-বুদ্ধি বাস্তবতার গভীরে পৌঁছুতে পারে নি। যার কারণে 'সিংহাসন'-এর পূর্ণ ঘটনা থেকে তিনি এ ফল বের করেন যে, সুলাইমান আ. এই বিস্ময়কর পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁর শক্তি ও প্রতাপের প্রদর্শনী করে আমাকে তার অনুগত ও আজ্ঞাবহ হওয়ার জন্য প্রভাবিত করতে চেয়েছেন। সেই ভাবনা থেকেই সাবার সম্রাজ্ঞী এ উত্তর দিয়েছেন যে, 'আপনি যদি এই বিস্ময়কর প্রদর্শনী নাও করতেন, তারপরও আমি পূর্ব থেকেই আপনার ক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছি। আমরা আপনার অনুগত ও আজ্ঞাবহ হয়ে গেছি।
সম্রাজ্ঞীর উত্তর উদ্ধৃত করার পর মহান আল্লাহ মাঝখানে তার কয়েক শতাব্দীর গুমরাহি এবং বিষয়টির মূল বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণও জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিয়মিত সূর্যপূজা করাটাই তাকে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে। যার কারণে সে এখনও কাফের হয়ে আছে।
নিম্নের আয়াতসমূহে উল্লিখিত দুটি বিষয়ই কোনো ধরনের ব্যাখ্যা ব্যতিরেকে পরিষ্কার ও স্বচ্ছভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- قَالَتْ كَأَنَّهُ هُوَ وَأُوتِينَا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ () وَصَدَّهَا مَا كَانَتْ تَعْبُدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنَّهَا كَانَتْ مِنْ قَوْمٍ كَافِرِينَ )) 'বললো, মনে হয় এটা সেটাই। আমরা পূর্বেই সমস্ত অবগত হয়েছি এবং আমরা আজ্ঞাবহও হয়ে গেছি। আল্লাহর পরিবর্তে সে যার উপাসনা করতো, সেই তাকে ঈমান থেকে নিবৃত্ত করেছিলো। নিশ্চয়ই সে কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলো।'
তখন হযরত সুলাইমান আ. দ্বিতীয় প্রদর্শনী করলেন। তাঁর উদ্দেশ্য বুঝানোর ক্ষেত্রে পূর্বটির চেয়ে অধিক স্পষ্ট ও উজ্জ্বল। আর তা হলো স্ফটিকের রাজপ্রাসাদ। সম্রাজ্ঞী যখন মনে করলেন, সামনে দিয়ে পরিষ্কার স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হচ্ছে আর তাই তিনি তার কাপড় তুলে পানিতে অবতরণের ইচ্ছে করলেন, তখন তাকে বলা হলো, যাকে আপনি পানি মনে করছেন, এটি মূলত কাঁচের প্রতিবিম্ব। পানি নয়। সম্রাজ্ঞীর কাছে তখন সত্য উন্মোচিত হলো। তার মন ভাবনায় পড়ে গেলো যে, হযরত সুলাইমান এই প্রদর্শনীসমূহ দ্বারা কী চাচ্ছেন? তখন তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত মেধা সত্য বুঝতে সক্ষম হলো যে, যেভাবে আমি এই ভুল করেছি যে, একটি বস্তুর প্রতিবিম্বকে মূলবস্তু মনে করে তার সঙ্গে মূল বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আচরণ করতে চেয়েছি, ঠিক অনুরূপ আমি ও আমার জাতি এই গোমরাহিতে নিমগ্ন ছিলাম যে, সূর্যকে উপাসনার যোগ্য মনে করে তাকে পূজা করে গেছি। অথচ বাস্তবে এটি মূল সত্তা এক আল্লাহর কুদরতের প্রকাশস্থলসমূহের একটি। কাজেই তার থেকে বড় জালিম কে আর হতে পারে, যে মূল সত্তাকে ছেড়ে তার প্রকাশস্থলের উপাসনা করতে যায়। তখন তিনি বুঝতে সক্ষম হলেন যে, হযরত সুলাইমানের রাজকীয় চিঠিতে مُسْلِمِينَ وَأَتُوْنِي রয়েছে, তার ব্যাখ্যা কী? সম্রাজ্ঞীর মনে ওই ভাবনার উদয় হতেই তিনি চিৎকার করে বললেন-
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 'হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।'
শায়খুল হিন্দ রহ.-এর তাফসিরের ফলে আয়াতসমূহের অভ্যন্তরীণ অন্ত্যমিল ও সেগুলোর ضمیر সমূহের مرجع নিরূপণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও জটিলতা সৃষ্টি হয় না। তা ছাড়া কোনো কিছুকে উহ্য মানার প্রয়োজনও পড়ে না। উপরন্তু ঘটনাদুটির কারণ ও কর্মকৌশল এবং হযরত সুলাইমান আ.-এর নবীসুলভ দাওয়াত ও ইরশাদ, তাঁর শক্তিমত্তা ও প্রতিপত্তির প্রদর্শনীর যৌক্তিকতা ও সৌন্দর্য সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।
সাবার সম্রাজ্ঞীর প্রথম কথা وَكُنَّا مُسْلِمِينَ -এ আমরা ইসলাম শব্দের অর্থ বলেছি, আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার। এর নজির সুরা হুজুরাতের সেই আয়াত, যা মদীনার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঈমান দাবি করার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছিলো-
قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا 'গ্রাম্য লোকেরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আপনি বলে দিন, তোমরা ঈমান তো আনো নি, তবে এ কথা বলো, আমরা বশ্যতা স্বীকার করে অনুগত হয়ে গেছি।'
وَكُنَّا مُسْلِمِينَ বাক্যে ইসলাম শব্দের অর্থ আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করা আর وَاَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَنَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ বাক্যে ইসলাম শব্দের অর্থ দীনে ইসলাম গ্রহণ করএ দুটির অর্থের মধ্যে কী পার্থক্য তা খোদ পবিত্র কুরআনের ওই আয়াতসমূহ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রথম বাক্যে সাবার সম্রাজ্ঞী এমন কোনো বিবরণ পেশ করেন নি, যার থেকে শিরক থেকে মুখ ফিরিয়ে তাওহিদের আশ্রিত হওয়ার উল্লেখ মেলে। এ কারণেই মহান আল্লাহ তার ওই বাক্যের পরেও এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন যে, এত দিনের সূর্যপূজা এখন পর্যন্ত তাকে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে। যার কারণে এখনও সে কাফের রয়ে গেছে। কিন্তু শেষ বাক্যে যখন সম্রাজ্ঞী স্পষ্টভাবে স্বীকার করলেন যে, এখন তার ইসলাম আক্ষরিক অর্থে নয়, বরং দীনে ইসলামের পারিভাষিক ইসলামই সে গ্রহণ করেছে। সেই আনুগত্য সুলাইমানের জন্য নয়; বরং সুলাইমানের সাহচর্যে 'উভয় জাহানের রব'-এর জন্য নিবেদিত।
সম্ভবত উল্লিখিত পার্থক্যের দিকে তাকিয়েই প্রথম বাক্যে সাবার সম্রাজ্ঞী নিজের সঙ্গে সঙ্গে তার রাজত্বের সকল পারিষদ ও জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করে বহুবচন শব্দে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। কেননা, হযরত সুলাইমানের রাজকীয় প্রতিপত্তির আনুগত্যের বিষয়টি সম্রাজ্ঞী ও তার রাজসভার সদস্যদের মধ্যকার পরামর্শ শেষে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত ছিলো। পক্ষান্তরে তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়টি তার একান্তই নিজস্ব বিশ্বাসের ওপর নির্মিত ছিলো। এ কারণে তিনি তা প্রকাশ করার সময় একবচন শব্দে ব্যক্ত করেছেন। যদিও সেই যুগের সাধারণ নীতি অনুসারে রাজার ধর্ম স্বয়ংক্রিয়ভাবে জনগণের জনপ্রিয় ধর্ম হয়ে যায়। সম্ভবত পরবর্তীকালে তার জাতিও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিয়েছিলো।
মোটকথা, উল্লিখিত তাফসির খুবই সূক্ষ্ম তথ্যসম্বলিত এবং সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রণিধানযোগ্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00