📄 তামার ঝরনা
হযরত সুলাইমানের শখ ছিলো বিশালাকারের প্রাসাদ এবং ইস্পাতদৃঢ় মজবুত কেল্লা তৈরি করা। নির্মিতব্য স্থাপনা যেনো মজবুত হয়, তার প্রতি তিনি সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। এ জন্য আবশ্যক ছিলো, চুনামাটির মিশ্রণ ব্যবহার না করে ধাতুর মিশ্রণ ব্যবহার করা। কিন্তু এত প্রচুর মিশ্রণ কোথায় পাওয়া যাবে? হযরত সুলাইমান আ. সমস্যাটি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা হযরত সুলাইমান আ.-এর এ সমস্যার সমাধান করে দেন এভাবে যে, তাকে গলিত তামার ঝরনা দান করেন।
মুফাসসিরদের মধ্য হতে কারো কারো অভিমত হলো, আল্লাহ তাআলা হযরত সুলাইমান আ.-কে তামা গলানোর শক্তি দান করেছিলেন। এটিও তাঁর একটি মুজেযা ছিলো। এর পূর্বে অন্য কেউ তামা গলাতে জানতো না।
নাজ্জার বলেন, আল্লাহ তাআলা হযরত সুলাইমান আ.-কে এ নেয়ামত দান করেছিলেন যে, পৃথিবীর যেখানে যেখানে দাহ্য পদার্থের কারণে তামার খনি পানির মতো প্রবাহিত হতো সেই ঝরনাগুলোর খোঁজ হযরত সুলাইমান আ.-কে জানিয়ে দিয়েছিলেন। মাটির বুক চিরে এভাবে খনিজ পদার্থের উৎস আবিষ্কার করার কাজটি ইতোপূর্বে আর কেউ করে নি।¹
হযরত কাতাদাহ রহ.-এর উদ্ধৃতিতে ইবনে কাসির রহ. নকল করেছেন যে, গলিত তামার এ ঝরনাগুলো ছিলো ইয়ামানে। যেগুলোকে মহান আল্লাহ হযরত সুলাইমান আ.-এর জন্য উদ্ঘাটিত করে দিয়েছিলেন।²
পবিত্র কুরআন উল্লিখিত বিষয়গুলোর কোনো বিস্তারিত বিবরণ দেয় নি। কাজেই উল্লিখিত দুটি ব্যাখ্যারই ওই আয়াতগুলোর প্রতিপাদ্য হওয়ার সমান সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাঠকবর্গ যে কোনো একটির দিকে নিজস্ব অভিরুচির ভিত্তিতে প্রণিধান দিতে পারেন।
তাওরাতে হযরত সুলাইমান আ.-এর এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় নি।
টিকাঃ
১. কাসাসুল আম্বিয়া, আরবি : ৩৯৩
২. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ২/২৮