📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 বংশ পরিচিতি

📄 বংশ পরিচিতি


হযরত সুলাইমান আ. হযরত দাউদ আ.-এর পুত্র। এজন্য তাঁর বংশপরম্পরা ইয়াহুদার সূত্রে হযরত ইয়াকুব আ. [ইসরাইল] পর্যন্ত পৌঁছে।
তাঁর মাতার নাম জানা যায় নি। তাওরাতে এসেছে, (بنت سبع) বিনতে সাবা। তাও এভাবে যে, প্রথমে তিনি ছিলেন আওরিয়‍্যাহ-এর স্ত্রী। পরবর্তীতে তিনি দাউদ আ.-এর স্ত্রী হন এবং তার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন হযরত সুলাইমান আ.। কিন্তু ইতোপূর্বে আমরা এই কাহিনির অসারতা স্পষ্ট করেছি। সুতরাং, হযরত সুলাইমান আ.-এর মায়ের নাম ঐতিহাসিক দিক থেকেও শুদ্ধ নয়।
ইবনে মাজাহ শরিফের একটি হাদিসে শুধু এতটুকু বর্ণিত আছে যে, সুলাইমান আ.-এর জননী একবার তাঁকে এ নসিহত করেন যে, বৎস, রাতভর ঘুমাবে না। কারণ রাতের অধিকাংশ অংশ ঘুমিয়ে কাটালে তা মানুষকে কিয়ামতের দিন নেক কাজের ভিখারি বানিয়ে দেবে।
পবিত্র কুরআনও শুধু এতটুকু জানিয়েছে যে, তিনি হযরত ইয়াকুব আ.-এর মাধ্যমে হযরত ইবরাহিম আ.-এর বংশধর। ইরশাদ হয়েছে- وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ كُلًّا هَدَيْنَا وَنُوحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ 'আর আমি তাকে দান করেছি ইসহাক ও ইয়াকুবকে, তাদের দু-জনকে আমি হেদায়েত দান করেছি এবং ইতোপূর্বে হেদায়েত দান করেছি নুহকে, এবং তার বংশধরদের মধ্য হতে দাউদ, সুলাইমানকে।' [সুরা আনআম]

📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 তাওরাতে সাবার সম্রাজ্ঞীর আলোচনা

📄 তাওরাতে সাবার সম্রাজ্ঞীর আলোচনা


তাওরাতেও সাবার সম্রাজ্ঞী ও হযরত সুলাইমানের সাক্ষাতের উল্লেখ পাওয়া যায়। সালাতিন অধ্যায়ে রয়েছে-
'আর যখন খোদাওয়ান্দের নাম সম্পর্কে সুলাইমানের খ্যাতি সাবার সম্রাজ্ঞীর কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি জটিল কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে সুলাইমানকে পরীক্ষা করার জন্য তার কাছে আগমন করলেন। বিরাট শোভাযাত্রা ও উষ্ট্রের পাল নিয়ে, যাতে সুগন্ধি দ্রব্যাদি বোঝাই করা ছিলো। এবং বহু স্বর্ণ ও মহামূল্যবান মণি-মুক্তা সঙ্গে নিয়ে জেরুজালেমে পৌছলেন। তিনি সুলাইমানের দরবারে এসে তার মনের বিষয়গুলো সহিত তার সঙ্গে আলাপ করলেন। সুলাইমান তার সকল প্রশ্নের উত্তর দিলেন। সম্রাজ্ঞীর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না, এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে সুলাইমান অজ্ঞাত ছিলেন না। সাবার সম্রাজ্ঞী সুলাইমানের সমস্ত জ্ঞান, প্রজ্ঞার বিবরণ এবং সেই শীষমহলটি যা তিনি সম্রাজ্ঞীর জন্য নির্মাণ করেছিলেন এবং দস্তরখানের নেয়ামতসমূহকে এবং তার পারিষদবৃন্দের আসনসমূহকে এবং তার উপস্থিত সেবক, চাকর, নওকরবৃন্দ ও তাদের পোশাক, আর সুরা পরিবেশনকারীদেরকে, আর সেই সিঁড়িটিকে যার দ্বারা তিনি খোদাওয়ান্দের দরবারে গমন করতেন- দেখলেন, তখন সে বিস্মিত হয়ে পড়লেন। তিনি সুলাইমানকে বললেন, আপনার শ্রেষ্ঠত্ব ও বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আমি আমার রাজ্যে অবস্থানকালে যা অবগত হয়েছিলাম, সেগুলো আজ সত্য বলে প্রতিভাত হলো। আপনার যে সংবাদ লোকমুখে শুনেছি, তা প্রকৃত অবস্থার অর্ধেকও নয়। কেননা, আপনার প্রজ্ঞা, আভিজাত্য, আড়ম্বর ও জাঁকজমক -যা দেখতে পাচ্ছি- তা আমার শ্রুত সংবাদের চেয়ে বহগুণ অধিক। আপনার জনবলের সবাই সজ্জন। আপনার বিশেষ লোক, যারা আপনার পারিষদ, তারাও অত্যন্ত সজ্জন। খোদাওয়ান্দ আপনার কথা শ্রবণ করেন। আপনার খোদা মোবারক! যিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট, যিনি আপনাকে ইসরাইলের রাজসিংহাসনে বসিয়েছেন। কেননা, খোদাওয়ান্দ ইসরাইলিদেরকে সবসময়ই ভালোবাসেন।'*
তাওরাতের আলোচনার কোথাও যদিও সম্রাজ্ঞীর মুসলমান হওয়ার উল্লেখ নেই, কিন্তু শেষোক্ত বাক্য থেকে প্রকাশ পায় যে, তিনি ইসরাইলিদের খোদার ওপর ঈমান এনেছিলেন। এ কারনেই তিনি তার কথা উল্লেখ করছেন শ্রদ্ধার সঙ্গে।
কিন্তু কুরআন ও তাওরাতের আলোচনায় সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তা হলো, পবিত্র কুরআনের আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট হয় যে, হযরত সুলাইমান আ. সাবার সম্রাজ্ঞীর সঙ্গে যে আচরণ করেছে, সেখানে একজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নবীর বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজে দীনের প্রতি দাওয়াত প্রদানকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর বিপরীতে তাওরাতের আলোচনা থেকে হযরত সুলাইমানের প্রখর মেধা ও রাজকীয় কর্তৃত্ব ছাড়া অন্যকোনো কিছু প্রতিভাত হয় না। মূলত এটি হচ্ছে হযরত সুলাইমানের প্রতি বনি ইসরাইলের ভুল বিশ্বাসের পরিণতি। তারা তাঁর সম্পর্কে এই ভুল বিশ্বাস আবিষ্কার করে নিয়েছে যে, তিনি একজন রাজামাত্র। এর বাইরে তারা তাঁকে নবী বলে স্বীকার করে না।
আর পবিত্র কুরআন যেভাবে আকিদা ও আমলের সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববর্তী উম্মতসমূহ ও তাদের নবী-রাসুল সম্পকির্ত ঘটনাবলির ক্ষেত্রে বনি ইসরাইলের বিকার-বিকৃতি ও তাদের ভ্রান্ত ও অনর্থক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রগুলোকে সংস্কার ও পরিশোধিত করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় এখানেও হযরত সুলাইমান আ. সম্পর্কিত সঠিক বাস্তবতার উদ্‌ঘাটন করেছে এবং তাদের ভুলগুলোকে চিহ্নিত করে দিয়েছে, যা তাদের বর্তমান গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান।

টিকাঃ
* অধ্যায়: ২০, আয়াত: ১-১০

তাওরাতেও সাবার সম্রাজ্ঞী ও হযরত সুলাইমানের সাক্ষাতের উল্লেখ পাওয়া যায়। সালাতিন অধ্যায়ে রয়েছে-
'আর যখন খোদাওয়ান্দের নাম সম্পর্কে সুলাইমানের খ্যাতি সাবার সম্রাজ্ঞীর কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি জটিল কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে সুলাইমানকে পরীক্ষা করার জন্য তার কাছে আগমন করলেন। বিরাট শোভাযাত্রা ও উষ্ট্রের পাল নিয়ে, যাতে সুগন্ধি দ্রব্যাদি বোঝাই করা ছিলো। এবং বহু স্বর্ণ ও মহামূল্যবান মণি-মুক্তা সঙ্গে নিয়ে জেরুজালেমে পৌছলেন। তিনি সুলাইমানের দরবারে এসে তার মনের বিষয়গুলো সহিত তার সঙ্গে আলাপ করলেন। সুলাইমান তার সকল প্রশ্নের উত্তর দিলেন। সম্রাজ্ঞীর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না, এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে সুলাইমান অজ্ঞাত ছিলেন না। সাবার সম্রাজ্ঞী সুলাইমানের সমস্ত জ্ঞান, প্রজ্ঞার বিবরণ এবং সেই শীষমহলটি যা তিনি সম্রাজ্ঞীর জন্য নির্মাণ করেছিলেন এবং দস্তরখানের নেয়ামতসমূহকে এবং তার পারিষদবৃন্দের আসনসমূহকে এবং তার উপস্থিত সেবক, চাকর, নওকরবৃন্দ ও তাদের পোশাক, আর সুরা পরিবেশনকারীদেরকে, আর সেই সিঁড়িটিকে যার দ্বারা তিনি খোদাওয়ান্দের দরবারে গমন করতেন- দেখলেন, তখন সে বিস্মিত হয়ে পড়লেন। তিনি সুলাইমানকে বললেন, আপনার শ্রেষ্ঠত্ব ও বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আমি আমার রাজ্যে অবস্থানকালে যা অবগত হয়েছিলাম, সেগুলো আজ সত্য বলে প্রতিভাত হলো। আপনার যে সংবাদ লোকমুখে শুনেছি, তা প্রকৃত অবস্থার অর্ধেকও নয়। কেননা, আপনার প্রজ্ঞা, আভিজাত্য, আড়ম্বর ও জাঁকজমক -যা দেখতে পাচ্ছি- তা আমার শ্রুত সংবাদের চেয়ে বহগুণ অধিক। আপনার জনবলের সবাই সজ্জন। আপনার বিশেষ লোক, যারা আপনার পারিষদ, তারাও অত্যন্ত সজ্জন। খোদাওয়ান্দ আপনার কথা শ্রবণ করেন। আপনার খোদা মোবারক! যিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট, যিনি আপনাকে ইসরাইলের রাজসিংহাসনে বসিয়েছেন। কেননা, খোদাওয়ান্দ ইসরাইলিদেরকে সবসময়ই ভালোবাসেন।'*
তাওরাতের আলোচনার কোথাও যদিও সম্রাজ্ঞীর মুসলমান হওয়ার উল্লেখ নেই, কিন্তু শেষোক্ত বাক্য থেকে প্রকাশ পায় যে, তিনি ইসরাইলিদের খোদার ওপর ঈমান এনেছিলেন। এ কারনেই তিনি তার কথা উল্লেখ করছেন শ্রদ্ধার সঙ্গে।
কিন্তু কুরআন ও তাওরাতের আলোচনায় সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তা হলো, পবিত্র কুরআনের আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট হয় যে, হযরত সুলাইমান আ. সাবার সম্রাজ্ঞীর সঙ্গে যে আচরণ করেছে, সেখানে একজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নবীর বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজে দীনের প্রতি দাওয়াত প্রদানকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর বিপরীতে তাওরাতের আলোচনা থেকে হযরত সুলাইমানের প্রখর মেধা ও রাজকীয় কর্তৃত্ব ছাড়া অন্যকোনো কিছু প্রতিভাত হয় না। মূলত এটি হচ্ছে হযরত সুলাইমানের প্রতি বনি ইসরাইলের ভুল বিশ্বাসের পরিণতি। তারা তাঁর সম্পর্কে এই ভুল বিশ্বাস আবিষ্কার করে নিয়েছে যে, তিনি একজন রাজামাত্র। এর বাইরে তারা তাঁকে নবী বলে স্বীকার করে না।
আর পবিত্র কুরআন যেভাবে আকিদা ও আমলের সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববর্তী উম্মতসমূহ ও তাদের নবী-রাসুল সম্পকির্ত ঘটনাবলির ক্ষেত্রে বনি ইসরাইলের বিকার-বিকৃতি ও তাদের ভ্রান্ত ও অনর্থক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রগুলোকে সংস্কার ও পরিশোধিত করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় এখানেও হযরত সুলাইমান আ. সম্পর্কিত সঠিক বাস্তবতার উদ্‌ঘাটন করেছে এবং তাদের ভুলগুলোকে চিহ্নিত করে দিয়েছে, যা তাদের বর্তমান গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান।

টিকাঃ
* অধ্যায়: ২০, আয়াত: ১-১০

📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 হযরত সুলাইমানের চিঠির বিস্ময়কর ক্ষমতা

📄 হযরত সুলাইমানের চিঠির বিস্ময়কর ক্ষমতা


সাহিত্য বিশেষজ্ঞগণ বলেন, হযরত সুলাইমান আ. সাবার সম্রাজ্ঞীকে ইসলামের আহ্বান জানিয়ে যে পত্রটি পাঠিয়েছিলেন, সেটি পৃথিবীর অদ্যাবধি পর্যন্ত প্রেরিত সকল চিঠির মধ্যে সেরা। আজ পর্যন্ত এটির কোনো নজির পাওয়া যায় নি। কেবল সুধারণার বশবর্তী হয়ে এ দাবি করা হয় নি; বরং এর পেছনে দলিলও রয়েছে। তা হলো, এতটা গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে এত সংক্ষিপ্ত অথচ উদ্দেশ্য পূরণের ক্ষেত্রে খুবই স্পষ্ট, সাহিত্য-অলঙ্কারের ক্ষেত্রে খুবই উচ্চমান সম্পন্ন, বর্ণনাভঙ্গি ও বাচনশৈলীর বিচারে অত্যন্ত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও সুমিষ্ট, যথেষ্ট ব্যক্তিত্বপূর্ণ ও গাম্ভীর্যময়, মোটকথা, সামষ্টিক গুণাবলিসমৃদ্ধ এমন আরেকটি চিঠি ইতিহাসের দ্বিতীয় কোনো মহান ব্যক্তির জীবনচরিতে খুঁজে পাওয়া যায় না।
চিঠির বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র সমস্যা সৃষ্টি না করে নেহায়েত সংক্ষিপ্তাকারে আল্লাহ তাআলার প্রভুত্ব, স্রষ্টাত্ব ও আধিপত্যের প্রকাশ, নবীসুলভ সত্যবার্তার ঘোষণা, রাজকীয় ক্ষমতা ও রাজসিক প্রতিপত্তির প্রদর্শনী এবং নিজের ব্যক্তিত্বের পরিচয় ইত্যাকার অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কতোটা পারঙ্গমতার সঙ্গে ব্যক্ত করা যায়; তার একমাত্র উদাহরণ এই চিঠি। যেনো এখানে বিন্দুতে গোটা সিন্ধুকে ভরে দেয়া হয়েছে।
চিঠির বিষয়বস্তু পড়ে দেখুন আর এরপর উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যাবলির সঙ্গে তুলনা করে দেখুন, আপনিও স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে, শব্দ ও অর্থের মেলবন্ধনে এই চিঠি একটি জীবন্ত মুজেযা ছাড়া অন্য কিছু নয়।
إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ () أَلَّا تَعْلُوا عَلَيَّ وَأَتُونِي مُسْلِمِينَ
'সেই পত্রটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং তা এই : অসীম দাতা, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু; আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।'

সাহিত্য বিশেষজ্ঞগণ বলেন, হযরত সুলাইমান আ. সাবার সম্রাজ্ঞীকে ইসলামের আহ্বান জানিয়ে যে পত্রটি পাঠিয়েছিলেন, সেটি পৃথিবীর অদ্যাবধি পর্যন্ত প্রেরিত সকল চিঠির মধ্যে সেরা। আজ পর্যন্ত এটির কোনো নজির পাওয়া যায় নি। কেবল সুধারণার বশবর্তী হয়ে এ দাবি করা হয় নি; বরং এর পেছনে দলিলও রয়েছে। তা হলো, এতটা গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে এত সংক্ষিপ্ত অথচ উদ্দেশ্য পূরণের ক্ষেত্রে খুবই স্পষ্ট, সাহিত্য-অলঙ্কারের ক্ষেত্রে খুবই উচ্চমান সম্পন্ন, বর্ণনাভঙ্গি ও বাচনশৈলীর বিচারে অত্যন্ত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও সুমিষ্ট, যথেষ্ট ব্যক্তিত্বপূর্ণ ও গাম্ভীর্যময়, মোটকথা, সামষ্টিক গুণাবলিসমৃদ্ধ এমন আরেকটি চিঠি ইতিহাসের দ্বিতীয় কোনো মহান ব্যক্তির জীবনচরিতে খুঁজে পাওয়া যায় না।
চিঠির বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র সমস্যা সৃষ্টি না করে নেহায়েত সংক্ষিপ্তাকারে আল্লাহ তাআলার প্রভুত্ব, স্রষ্টাত্ব ও আধিপত্যের প্রকাশ, নবীসুলভ সত্যবার্তার ঘোষণা, রাজকীয় ক্ষমতা ও রাজসিক প্রতিপত্তির প্রদর্শনী এবং নিজের ব্যক্তিত্বের পরিচয় ইত্যাকার অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কতোটা পারঙ্গমতার সঙ্গে ব্যক্ত করা যায়; তার একমাত্র উদাহরণ এই চিঠি। যেনো এখানে বিন্দুতে গোটা সিন্ধুকে ভরে দেয়া হয়েছে।
চিঠির বিষয়বস্তু পড়ে দেখুন আর এরপর উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যাবলির সঙ্গে তুলনা করে দেখুন, আপনিও স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে, শব্দ ও অর্থের মেলবন্ধনে এই চিঠি একটি জীবন্ত মুজেযা ছাড়া অন্য কিছু নয়।
إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ () أَلَّا تَعْلُوا عَلَيَّ وَأَتُونِي مُسْلِمِينَ
'সেই পত্রটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং তা এই : অসীম দাতা, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু; আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন করো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00