📄 প্রথম স্থান
কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে— دَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ () فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ وَكُلًّا آتَيْنَا حُكْمًا وَعِلْمًا
'আর স্মরণ করো দাউদ ও সুলাইমানকে যখন তারা একটি শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে বিচার করছিলো; তাতে রাত্রিকালে কিছু লোকের মেষ ঢুকে পড়েছিলো। তাদের বিচার আমার সম্মুখে ছিলো। অতঃপর আমি সুলাইমানকে সে ফয়সালা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং আমি উভয়কে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দিয়েছিলাম।' [সুরা আম্বিয়া: আয়াত ৭৮-৭৯]
উল্লিখিত আয়াতের তাফসিরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুফাসসির হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবাস রা.-এর বরাতে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, একবার হযরত দাউদ আ.-এর খেদমতে দু-জন ব্যক্তি একটি মামলা নিয়ে হাজির হলো। বাদীপক্ষ তার আরজিতে এ কথা শুনালো যে, বিবাদীর বকরির পাল তার সমস্ত ক্ষেত বরবাদ করে ফেলেছে এবং সব শস্য নষ্ট করে ফেলেছে। হযরত দাউদ আ. তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে এ রায় প্রদান করলেন যে, বাদীর ক্ষেতের ক্ষতির পরিমাণ বিবাদীর পশুপালের মূল্যের কাছাকাছি। তাই জরিমানা হিসেবে গোটা বকরির পাল বাদীকে দিয়ে দেয়া হবে।
হযরত সুলাইমান আ.-এর বয়স তখন এগারো বছর। তিনি তাঁর পিতার কাছেই বসে ছিলেন। তিনি বললেন, যদিও আপনার এ রায় সঠিক কিন্তু এর থেকেও উত্তম পদ্ধতি এ হতে পারে যে, বিবাদীর গোটা পাল বাদীর হাতে অর্পণ করা হবে। সে তার দুধ ও পশম থেকে উপকার ভোগ করতে থাকবে। আর বিবাদীকে বলা হবে যে, সে এ সময়ের ভেতর বাদীর ক্ষেতে ফসল বুনবে। যখন ক্ষেতের উৎপাদিত ফসল পূর্বের অবস্থায় রূপান্তরিত হবে তখন ওই ক্ষেত বাদীকে ফিরিয়ে দেবে এবং সে নিজ পশুপাল নিয়ে ফিরে যাবে। হযরত দাউদ আ. পুত্রের এ ফয়সালায় খুবই প্রীত হলেন।
কুরআনুল কারিমও এ দিকে ইশারা করেছে যে, এই মামলায় হযরত সুলাইমান আ.-এর ফয়সালা ছিলো অধিক সঙ্গত। এই বিশেষ ঘটনায় হযরত দাউদের বিবেচনার ওপর হযরত সুলাইমানের বিবেচনা ছিলো অগ্রগামী।১ ফিকহি পরিভাষায় হযরত দাউদের ফয়সালাকে বলা হবে 'কিয়াসি' আর হযরত সুলাইমানের ফয়সালাকে বলা হবে 'ইসতিহসানি'। কিন্তু এ ধরনের আংশিক শ্রেষ্ঠত্বের অর্থ এ নয় যে, সামগ্রিক শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে হযরত সুলাইমান আ. তার পিতা হযরত দাউদ আ.-কে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। কেননা, মহান আল্লাহ সামগ্রিক শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে হযরত দাউদ আ.-কে যে মর্যাদা প্রদান করেছিলেন, তা হযরত সুলাইমান আ.-এর অংশে আসে নি।
টিকাঃ
১. তাফসিরে ইবনে কাসির, সুরা আম্বিয়া
📄 দ্বিতীয় স্থান
তাওরাত ও ইসরাইলি রেওয়ায়েতের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তা হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের পূতঃপবিত্র সত্তা ও গুণাবলির দিকে এমন কিছু হাস্যকর ও অনর্থক ঘটনা ও গল্প-কাহিনি জুড়ে দেয় যে, যেগুলো পড়লে এসকল মহান ব্যক্তিত্বকে নবী-রাসুল বিশ্বাস করা তো পরের কথা, চরিত্রবান ব্যক্তি বলে স্বীকার করতেও কষ্ট হয়।