📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 লোহা হলো কোমল

📄 লোহা হলো কোমল


এত বিশাল ও প্রকাণ্ড রাজত্বের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও হযরত দাউদ আ. রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এক রত্তিও গ্রহণ করতেন না। তিনি নিজের জন্য বা পরিবারের ভরণ-পোষণের ভার সরকারি খাজানার ওপর ফেলতেন না, বরং নিজ হাতে হালাল রুজি কামাই করতেন। এটাই ছিলো তাঁর জীবিকা। তাইতো হযরত দাউদ আ.-এর প্রশংসায় একটি বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ما أكل أحد طعاما قط خيرا من أن يأكل من عمل يده وان نبي الله داؤد عليه السلام كان يأكل من عمل یده - بخاري، كتاب التجارة

'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, একজন ব্যক্তির জন্য সর্বোত্তম রিযিক হলো, তার হাতের উপার্জিত রিযিক। নিশ্চয়ই আল্লাহর মহান নবী দাউদ আ. নিজ হাতে জীবিকা উপার্জন করতেন।' [বুখারি শরিফ, কিতাবুত তিজারাহ]

শায়খ বদরুদ্দিন আইনি রহ. বলেন, হযরত দাউদ আ. দোয়া করতেন, হে আল্লাহ, এমন কোনো উপায় বাতলে দিন, যেনো আমার জন্য হাতের কামাই সহজ হয়ে যায়। কেননা, আমি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর আমার জীবিকার বোঝা ফেলতে চাই না। আসলে হযরত দাউদ আ.-এর এই চেতনা ছিলো নবীসুলভ বৈশিষ্টাবলির একটি, যার কথা কুরআনুল কারিম মহান নবীদের হেদায়েত ও পথপ্রদর্শন প্রসঙ্গে আলোচনা করেছে। প্রত্যেক নবী-ই যখন তাঁর উম্মতকে আল্লাহর পয়গাম শুনাতেন, তখন এ কথাও বলতেন-

وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ 'আর আমি তোমাদের থেকে এ খেদমতের কোনো বিনিময় চাই না; আমার বিনিময় তো আল্লাহর জিম্মায়।”

হাফেয ইবনে হাজার রহ. বলেন, বুখারি শরিফের এ হাদিসের ব্যাখ্যা হলো, যদিও ইসলামের খলিফার জন্য বাইতুল মাল থেকে প্রয়োজন অনুপাতে ভাতা নেওয়া জায়েয আছে কিন্তু উত্তম এটাই যে, তার ওপর গলগ্রহ হবে না। এ কারণেই হযরত সিদ্দিকে আকবর রা. খেলাফতকালে ভাতা হিসেবে যা গ্রহণ করেছিলেন, তার সমুদয় অর্থ ইন্তিকালের সময় ফেরত দিয়েছিলেন। অন্যান্য ইসলামি খেদমতের ওপর বিনিময় গ্রহণ করারও একই বিধান।

হযরত দাউদ আ.-এর মনের একান্ত বাসনাকে মহান আল্লাহ গ্রহণ করেছিলেন যে, তার হাতে লোহা ও ইস্পাতকে মোমের মতো নরম বানিয়ে দিয়েছিলেন। যখন তিনি লোহা বা ইস্পাত দিয়ে বর্ম বানাতেন তখন শক্ত পরিশ্রম বা কর্মকারের যন্ত্র ছাড়াই যেভাবে ইচ্ছে গড়ে নিতে পারতেন। লোহা তাঁর হাতে মোমের মতো যেমন ইচ্ছে আকার ধারণ করতো।

কুরআনুল কারিম বিষয়টিকে সুরা আম্বিয়া ও সুরা সাবায় এভাবে উপস্থাপন করেছে-

وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيدَ () أَنِ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ وَقَدِرْ فِي السَّرْدِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

'আর আমি তার (দাউদের) জন্য লোহাকে নরম করেছিলাম এবং তাকে বলেছিলাম, প্রশস্ত বর্ম তৈরি করো, কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত করো এবং সৎকর্ম সম্পাদন করো। তোমরা যা কিছু করো, আমি তা দেখি।' [সূরা সাবা: ১০-১১]

وَعَلَّمْنَاهُ صَنْعَةَ لَبُوسٍ لَكُمْ لِتُحْصِنَكُمْ مِنْ بَأْسِكُمْ فَهَلْ أَنتُمْ شَاكِرُونَ

'আমি তাঁকে তোমাদের জন্য বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা যুদ্ধে তোমাদেরকে রক্ষা করে। অতএব তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে?' [সুরা আম্বিয়া] তাওরাত ও 'লোহা ব্যবহারের ইতিহাস' থেকে জানা যায় যে, দাউদ আ.- এর পূর্বে লৌহশিল্প এতটুকু উন্নতি করেছিলো যে, ইস্পাত গলিয়ে বিভিন্ন টুকরো বানানো হতো। সেগুলোকে সংযুক্ত করে বর্ম তৈরি করা হতো। কিন্তু সেই বর্ম এতটাই ভারী হতো যে, খুব শক্তিশালী মানুষ ছাড়া অন্য কারো পক্ষে তা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতো। আর তা পরিধান করার পর যুদ্ধের ময়দানে দ্রুত পদক্ষেপে চলাচল করা যেতো না।

হযরত দাউদ আ.-ই হলেন প্রথম ব্যক্তি যাঁকে মহান আল্লাহ এ বৈশিষ্ট্য দান করেছিলেন যে, তিনি ওহির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে এমন বর্ম আবিষ্কার করতে সক্ষম হন যা হতো খুবই পাতলা। সেগুলো ছিলো ছোট ছোট শেকলের আংটা দিয়ে নির্মিত। হালকা ও নরম হওয়ার কারণে তা পরিধান করে একজন সৈনিক যুদ্ধের ময়দানে খুব সহজেই চলাচল করতে পারতো। শত্রু থেকে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেও সেই বর্ম কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিলো।

সাইয়িদ মাহমুদ আলুসি রহ. রুহুল মাআনিতে হযরত কাতাদাহ রহ. থেকে এ ধরনের রেওয়ায়েত নকল করেছেন।

টিকাঃ
'. উমদাতুল কারি: ৭/৪২০
°. ফাতহুল বারি: ৪/২৪৩

📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 পাখিদের সঙ্গে কথা বলা

📄 পাখিদের সঙ্গে কথা বলা


হযরত দাউদ আ. ও তাঁর পুত্র হযরত সুলাইমান আ.-কে মহান আল্লাহ এ মহাসম্মান প্রদান করেছিলেন যে, তারা দু'জনই পাখিদের ভাষা জানতেন। যেভাবে একজন মানুষ অন্য মানুষের কথাবার্তা বুঝতে পারে, তদ্রূপ তাঁরাও পাখিদের কথাবার্তা বুঝতে পারতেন।

পাখিদের কথাবার্তা কী এবং হযরত দাউদ ও সুলাইমান আলাইহিমাস সালাম পাখিদের ভাষা সম্পর্কে কী ধরনের জ্ঞান রাখতেন, এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হযরত সুলাইমান আ.-এর জীবনীতে উল্লেখ করবো। তবে এতটুকু কথা নিশ্চিত প্রমাণিত যে, বর্তমান যুগের প্রাণীবিদগণ অনুমান ও ধারণানির্ভর জ্ঞান প্রয়োগ করে যে শাস্ত্র আবিষ্কার করেছেন, বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে প্রাণিবিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা মনে করা হয়, তাঁদের জ্ঞান ছিলো তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। যা ছিলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর একটি বিশেষ দান।

📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 যাবুর তেলাওয়াত

📄 যাবুর তেলাওয়াত


পূর্বেই আলোচিত হয়েছে যে, যখন হযরত দাউদ আ. ঘোড়ার ওপর জিন লাগাতে শুরু করে তা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ যাবুর তেলাওয়াত করে ফেলতেন। এটি ছিলো হযরত দাউদ আ.-এর জিহার দ্রুত স্পন্দনের মুজিযার সঙ্গে সম্পর্কিত। যেনো মহান আল্লাহ হযরত দাউদ আ.-এর জন্য সময়কে উল্লিখিত মেয়াদের ভেতর এমনভাবে প্রবিষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, সাধারণ সময়ে যা হতো কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার। অথবা তিনি তাঁকে দ্রুত শব্দ উচ্চারণের এমন শক্তি দান করেছিলেন যে, যে কথা বলতে অন্যদের কয়েক ঘণ্টা লাগতো, তা হযরত দাউদ আ. বুখারির বর্ণিত হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী মাত্র কয়েক মুহূর্তেই বলতে সক্ষম ছিলেন।

আর এ কথা আজো স্বীকৃত যে, দ্রুত স্পন্দনের জন্য কোনো সীমারেখা নির্দিষ্ট করা যায় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00