📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 নাম

📄 নাম


কুরআনুল কারিমে তাঁর নাম বলা হয়েছে, ইলয়াস। ইউহান্নার ইঞ্জিলে তাঁকে 'ইলইয়াহ' নবী বলা হয়েছে। কিছু কিছু রেওয়ায়েতে এসেছে যে, ইলয়াস ও ইদরিস একজন নবীরই ভিন্ন দুটি নাম। কিন্তু এটি সঠিক নয়। কারণ, প্রথমত সেই রেওয়ায়েতেগুলো সম্পর্কে মুহাদ্দিসিনে কেরামের আপত্তি রয়েছে। তারা সেগুলোকে প্রমাণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন।১

দ্বিতীয়ত, কুরআনুল কারিমের আলোচনার পদ্ধতি থেকেও রেওয়ায়েতগুলোর প্রত্যাখ্যান পাওয়া যায়। এভাবে যে, কুরআনুল কারিম সুরা আনআম ও সুরা আস-সাফফাতে হযরত ইলয়াস আ.-এর যে গুণাবলি ও বৃত্তান্ত প্রদান করেছে, সেগুলোর কোথাও এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় না যে, তাঁকে ইদরিসও বলা হয়। সুরা আম্বিয়ার যে আয়াতে হযরত ইদরিস আ.-এর আলোচনা এসেছে, সেখানেও এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না, যার দ্বারা এই দুই নবীর গুণাবলি ও বৃত্তান্তের সামঞ্জস্যের প্রমাণ উপস্থিত। কাজেই এই ভিন্ন দুই বৃত্তান্তকে অভিন্ন এক ব্যক্তির বৃত্তান্ত মনে করার সুযোগ নেই।

এছাড়াও ঐতিহাসিকদের কাছ থেকে এই দুই মহান নবীর যে বংশপরিক্রমা পাওয়া যায়, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার ভিত্তিতে তাদের দুজনের মধ্যে কয়েক শতাব্দীর দূরত্ব পরিলক্ষিত হয়। কাজেই এই দুটি নাম যদি একই নবীর হতো তাহলে কুরআনুল কারিম অবশ্যই এদিকে ইশারা করতো এবং ঐতিহাসিকগণ অবশ্যই কোনো-না-কোনো দলিলের আলোকে এই দুজনের বংশপরিক্রমার অভিন্নতা প্রমাণিত করতেন।

সঠিক তথ্য হলো, হযরত ইদরিস আ. হলেন হযরত নুহ ও হযরত ইবরাহিম আলাইহিমুস সালামের মধ্যবর্তী যুগের নবী। আর হযরত ইলয়াস আ. হলেন ইসরাইলি নবী। যিনি হযরত মুসা আ.-এর পর প্রেরিত হয়েছিলেন। হযরত তাবারি রহ. বলেন, তিনি হলেন হযরত আল-ইয়াসাআ আ.-এর চাচাতো ভাই। হযরত হিযকিল আ.-এর পর তিনি নবুয়ত লাভ করেছিলেন।

টিকাঃ
১. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১/২৩৭-২৩৯

📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 বংশপরম্পরা

📄 বংশপরম্পরা


অধিকাংশ ঐতিহাসিক এ বিষয়ে একমত যে, হযরত ইলয়াস আ. ছিলেন হযরত হারুন আ.-এর বংশধর। তাঁর বংশপরিক্রমা হলো, ইলয়াস বিন ইয়াসিন বিন ফাতহাস বিন ইয়াযার বিন হারুন অথবা ইলয়াস বিন আযার বিন ইয়াযার বিন হারুন আ.।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00