📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


ইতোপূর্বে আমরা এ আলোচনা করেছি যে, হযরত মুসা ও হারুন আ.-এর মৃত্যুর পর যেসকল ব্যক্তি প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের নাম কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করা হয় নি। হযরত ইউশা আ.-এর কথা দুটি স্থানে এসেছে। তবে এক স্থানে তাকে স্মরণ করা হয়েছে এত শব্দে অর্থাৎ মুসার সঙ্গী বলে। আর অপর স্থান অর্থাৎ সুরা মায়েদায় হযরত উইশা আ. ও কালেব ইবনে ইউহান্না-এর আলোচনা হয়েছে رجلان [দুই ব্যক্তি] শব্দে। আর হযরত হিযকিল আ.-এর কথা উঠে এসেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মতে শুধু একটি ঘটনায়। অন্যথায় আয়াতে কারিমায় কোনো বিশেষণের সঙ্গে যুক্ত অবস্থাতেও তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায় না। হযরত মুসা ও হারুন আলাইহিমাস সালামের পরবর্তী নবী-রাসুলদের মধ্যে কুরআনুল কারিমে প্রথম যাঁর নামের স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়, তিনি হলেন হযরত ইলয়াস আ.। যিনি ছিলেন হযরত হিযকিল আ.-এর স্থলাভিষিক্ত। বনি ইসরাইলের মধ্যে তিনি 'ইলইয়া' নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন।

📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 নাম

📄 নাম


কুরআনুল কারিমে তাঁর নাম বলা হয়েছে, ইলয়াস। ইউহান্নার ইঞ্জিলে তাঁকে 'ইলইয়াহ' নবী বলা হয়েছে। কিছু কিছু রেওয়ায়েতে এসেছে যে, ইলয়াস ও ইদরিস একজন নবীরই ভিন্ন দুটি নাম। কিন্তু এটি সঠিক নয়। কারণ, প্রথমত সেই রেওয়ায়েতেগুলো সম্পর্কে মুহাদ্দিসিনে কেরামের আপত্তি রয়েছে। তারা সেগুলোকে প্রমাণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন।১

দ্বিতীয়ত, কুরআনুল কারিমের আলোচনার পদ্ধতি থেকেও রেওয়ায়েতগুলোর প্রত্যাখ্যান পাওয়া যায়। এভাবে যে, কুরআনুল কারিম সুরা আনআম ও সুরা আস-সাফফাতে হযরত ইলয়াস আ.-এর যে গুণাবলি ও বৃত্তান্ত প্রদান করেছে, সেগুলোর কোথাও এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় না যে, তাঁকে ইদরিসও বলা হয়। সুরা আম্বিয়ার যে আয়াতে হযরত ইদরিস আ.-এর আলোচনা এসেছে, সেখানেও এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না, যার দ্বারা এই দুই নবীর গুণাবলি ও বৃত্তান্তের সামঞ্জস্যের প্রমাণ উপস্থিত। কাজেই এই ভিন্ন দুই বৃত্তান্তকে অভিন্ন এক ব্যক্তির বৃত্তান্ত মনে করার সুযোগ নেই।

এছাড়াও ঐতিহাসিকদের কাছ থেকে এই দুই মহান নবীর যে বংশপরিক্রমা পাওয়া যায়, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার ভিত্তিতে তাদের দুজনের মধ্যে কয়েক শতাব্দীর দূরত্ব পরিলক্ষিত হয়। কাজেই এই দুটি নাম যদি একই নবীর হতো তাহলে কুরআনুল কারিম অবশ্যই এদিকে ইশারা করতো এবং ঐতিহাসিকগণ অবশ্যই কোনো-না-কোনো দলিলের আলোকে এই দুজনের বংশপরিক্রমার অভিন্নতা প্রমাণিত করতেন।

সঠিক তথ্য হলো, হযরত ইদরিস আ. হলেন হযরত নুহ ও হযরত ইবরাহিম আলাইহিমুস সালামের মধ্যবর্তী যুগের নবী। আর হযরত ইলয়াস আ. হলেন ইসরাইলি নবী। যিনি হযরত মুসা আ.-এর পর প্রেরিত হয়েছিলেন। হযরত তাবারি রহ. বলেন, তিনি হলেন হযরত আল-ইয়াসাআ আ.-এর চাচাতো ভাই। হযরত হিযকিল আ.-এর পর তিনি নবুয়ত লাভ করেছিলেন।

টিকাঃ
১. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১/২৩৭-২৩৯

📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 বংশপরম্পরা

📄 বংশপরম্পরা


অধিকাংশ ঐতিহাসিক এ বিষয়ে একমত যে, হযরত ইলয়াস আ. ছিলেন হযরত হারুন আ.-এর বংশধর। তাঁর বংশপরিক্রমা হলো, ইলয়াস বিন ইয়াসিন বিন ফাতহাস বিন ইয়াযার বিন হারুন অথবা ইলয়াস বিন আযার বিন ইয়াযার বিন হারুন আ.।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00