📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 নাম, বংশ ও নবুয়ত লাভ

📄 নাম, বংশ ও নবুয়ত লাভ


তাওরাতের তথ্যমতে, তিনি ছিলেন প্রখ্যাত জ্যোতিষী বুযির পুত্র। তাঁর নাম, হিযকি-ইল।১ ইবরানি ভাষায় 'ইল' একটি বড়ত্ববোধক শব্দ। আর 'হিযকি' শব্দের অর্থ শক্তি ও বল। এ কারণে আরবি ভাষায় সংযুক্ত নামের অর্থ করা হয়, আল্লাহর শক্তি। কথিত আছে যে, হযরত হিযকিল আ.-এর পিতা তার শৈশবেই ইন্তিকাল করেছিলেন। পরবর্তীকালে যখন তাঁর নবুয়ত লাভের সময় অত্যাসন্ন, তখন হযরত হিযকিল আ.-এর মাতাও বয়োবৃদ্ধ হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েন। এ কারণে ইসরাইলিদের মধ্যে তিনি 'ইবনুল 'আজুয' উপনামে প্রসিদ্ধ ছিলেন।*

হযরত হিযকিল আ. দীর্ঘকাল বনি ইসরাইলের মধ্যে তাবলিগে দীন ও তাদের ইহকালীন ও পরকালীন পথপ্রদর্শনের মহান কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

**কুরআনুল কারিমে হযরত হিযকিল আ.-এর আলোচনা**

কুরআনুল কারিমের কোথাও হযরত হিযকিল আ.-এর নামের উল্লেখ নেই। তবে সুরা বাকারায় উল্লেখিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহান বুযুর্গানে দীন থেকে যেসব বর্ণনা পাওয়া যায়, তার থেকে অনুমিত হয় যে, ওই ঘটনা হযরত হিযকিল আ.-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

তাফসিরের বিভিন্ন কিতাবে হযরত আবদুল্লাহ বিন আবাস রা.-সহ অন্য সাহাবায়ে কেরাম থেকে এ কথা বর্ণিত রয়েছে যে, যখন বনি ইসরাইলের অনেক বড় একটি দলের উদ্দেশে তাদের বাদশাহ বা তাদের নবী হযরত হিযকিল আ. এ নির্দেশ প্রদান করেন যে, অমুক শত্রুর সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত হয়ে যাও এবং আল্লাহর পতাকা উড্ডীন রাখার দায়িত্ব পালন করো তখন তারা প্রাণের ভয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তারা মনে করেছিলো যে, আমরা জিহাদ থেকে পালানোর মাধ্যমে মৃত্যু থেকে বেঁচে গেছি। তারা অনেক দূরের একটি উপত্যকায় আত্মগোপন করে।

তখন হয়তো হযরত হিযকিল আ. তাদের এই পলায়নকে আল্লাহর নির্দেশের অবাধ্যতা এবং তাকদিরের অমোচনীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অবিশ্বাস প্রদর্শন মনে করে অসন্তুষ্ট হয়ে তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন অথবা খোদ আল্লাহর কাছে তাদের এই কর্মকাণ্ড অসন্তুষ্টির কারণ হয়, ফলে গযব নেমে আসে। যাইহোক, সেই গযবের ফলে তাদের সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হয়। একসঙ্গে সবাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এক সপ্তাহ পর যখন হযরত হিযকিল আ. তাদের পাশ দিয়ে গমন করেন তখন তিনি তাদের এ অবস্থা দেখে আফসোস প্রকাশ করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন যে, হে উভয় জাহানের প্রতিপালক, আপনি ওদেরকে মৃত্যুর আযাব থেকে মুক্তি দান করুন, যাতে তাদের জীবন তাদের নিজেদের জন্য এবং অন্যদের জন্যও চরম শিক্ষা ও উপদেশের উপলক্ষ হয়। নবীর দোয়া গৃহীত হয়। তারা নতুন জীবন লাভ করে। এভাবে তাদের নবজীবন হয় সকলের জন্য উপদেশ ও শিক্ষার জীবন্ত উপকরণ।

তাফসিরে ইবনে কাসিরে এসেছে যে, সেই ইসরাইলি জনগোষ্ঠীটি ছিলো 'দাদরাওয়ান' অঞ্চলের বাসিন্দা। এটি ভূমধ্যসাগর থেকে কয়েক ক্রোশ দূরবর্তী একটি প্রসিদ্ধ জনপদ। ওই লোকগুলো ওখান থেকে পালিয়ে 'উনাইহ' উপত্যকায় আত্মগোপন করেছিলো। সেখানেই তাদের ওপর মৃত্যুর বিভীষিকা নেমে এসেছিলো।

কুরআনুল কারিমে সেই ঘটনা এভাবে বিবৃত হয়েছে—

أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ خَرَجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَهُمْ أُلُوفٌ حَذَرَ الْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ اللَّهُ مُوتُوا ثُمَّ أَحْيَاهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ ()

'তুমি কি তাদেরকে দেখো নি যারা মৃত্যুভয়ে হাজারে হাজারে তাদের আবাসভূমি পরিত্যাগ করেছিলো, অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে বলেছিলেন, 'তোমাদের মৃত্যু হোক'। তারপর আল্লাহ তাদেরকে জীবিত করেছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল; কিন্তু অধিকাংশ লোক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।' [সুরা বাকারা: আয়াত ২৪৩]

টিকাঃ
১. হিযকি এল শব্দটি বনি ইসরাইলের সমাজে একজন জ্যোতিষী, প্রাজ্ঞ জ্ঞানী ও পরিপূর্ণতার অধিকারী আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের অর্থে ব্যবহৃত হতো।
* যার অর্থ, বয়োবৃদ্ধের সন্তান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00