📄 শিক্ষা ও উপদেশ
১। হযরত ইউশা আ. ও বনি ইসরাইলের উল্লিখিত ঘটনাপ্রবাহ থেকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উপলব্ধ হয় তা হলো, একজন মানুষের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব হলো, যখন সে কোনো বিপদ বা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে বা সাফল্যের সঙ্গে অভীষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হবে, তখন সে যেনো আত্মম্ভরিতা ও দর্পের জালে ফেঁসে এ কথা না বুঝে বসে যে, এটি আমার ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও প্রতিভার ফসল। বরং এ সময় তার দায়িত্ব হলো, সে মহান আল্লাহর শোকরগুজার হয়ে থাকবে, নিজের অক্ষমতার স্বীকারোক্তি জানিয়ে তাঁরই সামনে বিনীত হয়ে মাথা নত করবে, যাতে সে আগামীতেও সেই মহান সত্তার করুণার আঁচলে বাঁধা থাকে এবং দুনিয়ার মতো আখেরাতেও সফলতা লাভ করে চিরধন্য হতে সক্ষম হয়।
২। চরম থেকে চরমতর হতাশাজনক অবস্থাতেও কোনো ব্যক্তির জন্য মহান আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হওয়া যাবে না। কেননা, একজন ব্যক্তি যদি নিপীড়িতও হয়, অত্যাচারের যাঁতাকলে প্রতিনিয়ত পিষ্টও হয়, তারপরও সে মহান আল্লাহর দয়া ও করুণা থেকে বঞ্চিত নয়। তবে সূক্ষ্ম ও দূরদর্শী কর্মকৌশল ও কল্যাণকামনার প্রেক্ষিতে সেটি আসতে অবশ্যই বিলম্ব হয়ে থাকে।
৩। যে-জাতির ওপর আল্লাহর দয়া, করুণা, অনুগ্রহ ও পুরস্কার অবারিত হয়ে বর্ষিত হতে থাকে যদি তারা কৃতজ্ঞ ও অনুগত না হয়ে অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেয়, তাহলে সেই জাতির লোকদেরকে অতিদ্রুত মহান সত্তার কঠিন শাস্তি ও চরম জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হয়। কেননা, তারা এতকিছু দেখার পর এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা লাভ করার পরও অবাধ্যতার শিকার হয়েছে। যা নিঃসন্দেহে চরম অন্যায় ও কঠিন দণ্ডনীয় অপরাধ।