📄 লোহিত সাগর পার হওয়ার পর বনি ইসরাইলের প্রথম দাবি
তাওরাতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, বনি ইসরাইলিরা যখন নিরাপত্তার সঙ্গে সমুদ্র পার হয়ে গেলো এবং তারা নিজের চোখে ফেরআউন ও তার বাহিনীকে নিমজ্জিত হতে এবং তারপর তাদের লাশগুলোকে তীরের ওপর ভাসতে দেখলো, স্বভাবতই তারা সীমাহীন আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করলো। আর নারীরা বিশেষ করে দফ⁸⁹ বাজিয়ে আনন্দ-সংগীত গাইলো এবং উচ্ছ্বাস ও উল্লাসের প্রমাণ দিলো। এসবকিছু হয়ে যাওয়ার পর হযরত মুসা আ. কওমকে একত্র করে বললেন, আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, তুমি তোমার কওমকে বলো, “আমিই (আল্লাহই) সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে এই মহাবিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সুতরাং, তোমরা আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো এবং একমাত্র আমারই ইবাদত করো।”
হযরত মুসা আ. তখন তাঁর কওমকে সঙ্গে নিয়ে শুর প্রান্তর থেকে সিন বা সাইনার পথ ধরলেন। সাইনার দেবমন্দিরসমূহে মূর্তিপূজকেরা তখন মূর্তিপূজায় রত ছিলো। বনি ইসরাইল মূর্তিপূজার দৃশ্য দেখে বলতে লাগলো, আমাদের জন্যও এমন উপাস্য (প্রতিমা) গড়ে দাও। তাহলে আমরা এদের মতো সেই উপাস্যের পূজা করবো। হযরত মুসা আ. তাঁর কওমের মুখে এই শিরকি গর্হিত দাবি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি বনি ইসরাইলকে খুব ধমক দিলেন, লজ্জা দিলেন, তিরস্কার করলেন। তাদের বললেন, হে দুর্ভাগার দল, এক আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে মূর্তিপূজার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছো এবং আল্লাহ তাআলার সব নেয়ামতকে ভুলে বসেছো, যা তোমরা নিজেদের চোখে দেখেছো?
টিকাঃ
⁸⁹ করতাল বা ঢোল জাতীয় বাদ্যযন্ত্র।
📄 জাতিগত হীনতা প্রকাশ
পৃথিবীর ইতিহাসে আমাদের সামনে এমন একটি জাতির চিত্র ফুটে উঠছে যারা প্রায় সাড়ে চারশো বছর মিসরের অত্যাচারী ও উৎপীড়ক বাদশাহ ও মিসরীয় জাতির হাতে দাস ও নির্যাতিতের জীবনযাপন করে এসেছে। তারা এক শক্তিশালী ও প্রবলতর সম্প্রদায়ের কাছে কঠিন থেকে কঠিনতর দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা ও অত্যাচারের শিকার হয়ে এসেছে। এমনি সময়ে সেই জীবন্ত জাতির মধ্য থেকে বজ্রধ্বনি ও সূর্যকিরণের মতো এক মনোনীত ব্যক্তি তাদের সামনে আসেন। তাঁর সত্যের আওয়াজ ও পথপ্রদর্শনের ঘোষণায় বাতিল ও অত্যাচারী শাসকবৃন্দ কেঁপে ওঠে এবং কুফরি ও জুলুমের প্রাসাদে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। তিনি পৃথিবীর একটি সংহত ও সঙ্ঘবদ্ধ শক্তির মোকাবিলায় এই ঘোষণা প্রচার করেন যে, আমি এক আল্লাহ তাআলার প্রেরিত রাসুল এবং দূত। তোমাদেরকে হেদায়েতের অনুসরণ এবং নিপীড়িত গোষ্ঠীর স্বাধীনতার বাণী শোনাতে এসেছি। ফেরআউনি শক্তি তাদের যাবতীয় বস্তুগত কারণ ও উপকরণের সঙ্গে তাঁর মোকাবিলা করে। কিন্তু প্রত্যেক বারেই তাদের পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়। অবশেষে সত্যের সাফল্য ও মিথ্যার ধ্বংসের এমন বিস্ময়কর চিত্র সামনে এসে উপস্থিত হয় যে, বস্তুগত শক্তি লোহিত সাগরে নিমজ্জিত হয়ে যায়। আর দাস ও অত্যাচারিত জাতি এবং পার্থিব উপকরণ ও উপায়সমূহ থেকে বঞ্চিত গোষ্ঠীকে স্বাধীনতার সংগীত গাইতে দেখা যায়।
এরাই হলো বিস্ময়কর ও অভিনব স্বভাব ও প্রকৃতির ছাঁচে ঢালাই করা জাতি 'বনি ইসরাইল'। তারা সত্য-মিথ্যার এসব লড়াইকে প্রত্যক্ষ দর্শন করার পর এবং সত্যের সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মুক্তিলাভের কৃতজ্ঞতা হিসেবে হযরত মুসা আ.-এর সর্বপ্রথম এই দাবি জানাচ্ছে যে, আমাদেরকে এমন উপাস্যই (মূর্তিই) বানিয়ে দাও, যাদেরকে এসব পূজারীরা দেবমন্দিরে বসে পূজা করছে।
সত্য কথা এই যে, বনি ইসরাইল যদিও নবীগণের বংশধর ছিলো এবং তখনও তাদের মধ্যে তার চিহ্ন ও লক্ষণসমূহ একটি সীমা পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিলো, যা তারা তাদের পূর্বপুরুষগণ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছিলো। তারপরও কয়েক শতাব্দীব্যাপী মিসরীয় মূর্তিপূজকদের মধ্যে বসবাস করা এবং তাদের শাসকসুলভ ক্ষমতার অধীন দাস ও গোলাম থাকার কারণে তাদের মধ্যে মূর্তিপূজার আবেগ যথেষ্ট পরিমাণই প্রবেশ করেছিলো। আজ মূর্তিপূজকদের দেখে সেই আবেগই তাদের মধ্যে উথলে উঠলো এবং তারা মুসা আ.-এর কাছে এমন গর্হিত দাবি করে বসলো।
এই ঘটনা কুরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে এভাবে-
وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهَا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ () إِنْ هَؤُلَاءِ مُتَبِّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ () قَالَ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِيكُمْ إِلَهَا وَهُوَ فَضْلَكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ (سورة الأعراف)
'আর আমি বনি ইসরাইলকে সমুদ্র পার করিয়ে দিই; তারপর তারা প্রতিমাপূজায় রত এক জাতির কাছে উপস্থিত হয়। (তা দেখে) তারা (বনি ইসরাইলিরা) বললো, "হে মুসা, তাদের দেবতার (প্রতিমাসমূহের) মতো আমাদের জন্যও একটি দেবতা গড়ে দাও।" সে বললো, "তোমরা তো এক মূর্খ সম্প্রদায়। এইসব লোক যাতে লিপ্ত রয়েছে তা তো বিধ্বস্ত হবে এবং তারা যা করছে সেটাও অমূলক।" সে আরও বললো, "আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য কি আমি অন্য ইলাহ খুঁজবো অথচ তিনি তোমাদেরকে বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন?"' [সুরা আ'রাফ : আয়াত ১৩৮-১৪০]
📄 বনি ইসরাইলের অন্যান্য দাবি এবং স্পষ্ট নিদর্শনসমূহের প্রকাশ
বনি ইসরাইল লোহিত সাগর অতিক্রম করে প্রথমে যে-ভূখণ্ডে পা রাখলো তা ছিলো তা ছিলো আরব দেশ। তা লোহিত সাগরের পূর্ব অংশে অবস্থিত। তা বিস্তীর্ণ মরুময় স্থান, পানি ও তৃণলতাহীন প্রান্তর থেকে শুরু হয়েছে। তাওরাতের ভাষায় তা শুর বা সিন প্রান্তর অথবা সাইনা উপত্যকা (তীহ) নামে বিখ্যাত। তুর পর্বত পর্যন্ত তার সীমা বিস্তৃত। এটি গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চল। যত দূর যাওয়া যায় পানি বা তৃণলতার নাম-গন্ধও পর্যন্ত নেই। এই অবস্থা দেখে বনি ইসরাইলিরা ঘাবড়ে গেলো এবং হযরত মুসা আ.-এর কাছে ফরিয়াদ করতে লাগলো, আমরা পানি কোথা থেকে পান করবো? আমরা তো পিপাসায় কাতর হয়ে ছটফট করে মারা যাবো। এখানে তো পান করার জন্য একফোঁটা পানিও নেই। তখন মুসা আ. আল্লাহ তাআলার দরবারে আরজি জানালেন। আল্লাহ তাআলা ওহির মাধ্যমে তাঁকে নির্দেশ দিলেন, তুমি তোমার লাঠি দিয়ে মাটিতে আঘাত করো। হযরত মুসা আ. আল্লাহর নির্দেশ পালন করামাত্র সঙ্গে সঙ্গে বারোটি ঝরনা উৎসারিত হলো এবং বনি ইসরাইলের বারোটি গোত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো। পনির দিক থেকে বনি ইসরাইল নিশ্চিত হয়ে গেলো। তারপর তারা বলতে লাগলো, পানির ব্যবস্থা তো হয়েই গেলো; কিন্তু জীবন ধারণের জন্য এটাই তো যথেষ্ট নয়। আমাদের ক্ষুধা পেয়েছে, কোথা থেকে খাবো এখন? এখানে তো কোনো উপায়ই দেখা যাচ্ছে না। হযরত মুসা আ. পুনরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে আরজি পেশ করলেন। আল্লাহ তাআলা বললেন, হে মুসা, তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর করা হলো, অস্থির হয়ো না। আমি অদৃশ্য জগৎ থেকে সবকিছুর ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
এরপর ব্যবস্থা এই হলো যে, রাত শেষ হওয়ার ভোরবেলা বনি ইসরাইলিরা দেখতে পেলো, মাটিতে ও গাছের পাতায় পাতায় আকাশ থেকে শিশিরের আকারে সাদা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বরফের টুকরোর মতো কোনো বস্তু বর্ষিত হয়ে পড়ে আছে। তারা স্বাদ গ্রহণ করে দেখলো তা অত্যন্ত মিষ্ট হালুয়ার মতো। এটা ছিলো মান্না। দিনের বেলায় প্রবল বায়ু প্রবাহিত হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই দলে দলে বটের পাখি এসে মাটির ওপর নামলো এবং চারদিকে ছড়িয়ে গেলো। বনি ইসরাইলিরা অতি সহজে হাত দিয়ে পাখিদের ধরলো এবং ভেজে ভেজে খেতে লাগলো। এটা ছিলো সালওয়া। এইভাবে কোনো ধরনের কষ্ট ও পরিশ্রম ছাড়াই প্রতিদিন তাদের জন্য এই দুই প্রকারের নেয়ামত জুটে গেলো। কিন্তু আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আ.-এর মারফতে বনি ইসরাইলকে সতর্ক করে দিলেন যে, তারা যেনো মান্না ও সালওয়াকে নিজেদের প্রয়োজনীয় পরিমাণ ব্যবহার করে এবং পরের দিনের জন্য যেনো সংগ্রহ করে না রাখে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এই নেয়ামত প্রতিদিনই সরবরাহ করতে থাকবেন।⁹⁰
প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয় বস্তু সংগ্রহ করা থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে এখন বনি ইসরাইল তৃতীয় দাবি জানালো। তারা এবার দাবি করলো, গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপে এবং ছায়াধারী বৃক্ষ ও ঘরবাড়ির শান্তি ও বিশ্রাম গ্রহণের অভাবে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। এমন না হয় যে, সূর্যের এই প্রখর উত্তাপ ও তীব্র কিরণ আমাদের জীবনেরই অবসান ঘটিয়ে দেয়। হযরত মুসা আ. তাদেরকে সান্ত্বনা দিলেন এবং আল্লাহর দরবারে আরজি পেশ করলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহ, আপনি যখন এদের ওপর বড় বড় নেয়ামত, অনুগ্রহ ও দানের বারি বর্ষণ করলেন, তখন এই কঠিন কষ্ট থেকেও তাদের মুক্তি দিন। হযরত মুসা আ.-এর পার্থনা মঞ্জুর করা হলো। আকাশে সারি সারি মেঘমালা এসে বনি ইসরাইলের মাথার ওপর ছায়া দিয়ে দাঁড়ালো। তারা যখন যে-দিকেই যেতো, মেঘের এই শামিয়ানা তাদের মাথার ওপর সবসময় ছায়া দিয়ে থাকতো।
আল্লামা ইসমাইল আস-সুদ্দির এব বর্ণনায় উপরিউক্ত আল্লাহ তাআলার তিনটি নিদর্শনের আলোচনা একই স্থানে এইভাবে করা হয়েছে যে, খন হযরত মুসা আ. বনি ইসরাইলকে নিয়ে তীহ ময়দানে পৌঁছলেন, এন বনি ইসরাইলিরা বলতে লাগলো, অনন্ত-অসীম এই প্রান্তরে কি মাদের হাশর হবে? খাবো কোথা থেকে, পান করবো কোথা থেকে াং ছায়াই বা পাবো কোথা থেকে? তখন আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য যা ও সালওয়া নাযিল করলেন এবং পানি পান করার জন্য বারোটি না উৎসারিত করলেন। আর ছায়ার জন্য মেঘমালা এসে মাথার ওপর বা প্রদান করতে লাগলো।
বিষয়গুলো কুরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে এভাবে-
وَإِذِ اسْتَسْقَى مُوسَى لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانْفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَشْرَبَهُمْ كُلُوا وَاشْرَبُوا مِنْ رِزْقِ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ (سورة البقرة)
রণ (সেই ঘটনার কথা) করো, যখন মুসা তার সম্প্রদায়ের জন্য পানি র্ধনা করলো, আমি বললাম, "তুমি লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করো। মি দেখবে যে, পানি তোমার সামনে উপস্থিত। মুসা আ. আল্লাহর দেশ পালন করলেন।) ফলে তা থেকে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত না। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পান-স্থান চিনে নিলো। (তখন মাদেরকে বলা হয়েছিলো, এই পানি ও তৃণলতাহীন প্রান্তরে মাদের জন্য জীবন-যাপনের সমস্ত বস্তুরই ব্যবস্থা হয়ে গেছে।) লাম, "আল্লাহ-প্রদত্ত জীবিকা থেকে তোমরা পানাহার করো এবং তকারীরূপে পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে বেড়িও না।” (অর্থাৎ, নযাপনের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য ঝগড়া-কলহ করো না বা দিকে চ লুটতরাজ করে বেড়িয়ো না।) [সুরা বাকারা: আয়াত ৬০]
وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْغَمَامَ وَأَنْزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَا وَ مَا ظَلَمُونَا وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ (سورة البقرة)
(যখন তোমরা সাইনা প্রান্তরের পানি ও তৃণলতাহীন ভূমিতে সূর্যের উত্তাপে এবং খাদ্যের অভাবে ধ্বংসোম্মুখ হয়ে পড়েছিলে, তখন) মেঘ দ্বারা তোমাদের ওপর ছায়া বিস্তার করলাম এবং তোমাদের (খাদ্যরূপে) মান্না ও সালওয়া প্রেরণ করলাম। বলেছিলাম, মাদেরকে ভালো যা দান করেছি তা থেকে আহার করো।” (গভীর চিন্তা করে দেখো) তারা আমার প্রতি কোনো জুলুম করে নি; বরং তারা তাদের প্রতিই জুলুম করেছে। [সুরা বাকারা: আয়াত ৫৭]
وَمِنْ قَوْمِ مُوسَى أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ ( ) وَقَطَّعْنَاهُمُ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أَسْبَاطًا أُمَمًا وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى إِذِ اسْتَسْقَاهُ قَوْمُهُ أَنِ اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْحَجَرَ فَالْبَجَسَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنَا قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَشْرَبَهُمْ وَظَلَّلْنَا عَلَيْهِمُ الْغَمَامَ وَأَنْزَلْنَا عَلَيْهِمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ (سورة الأعراف)
'মুসার সম্প্রদায়ের মধ্যে (অবশ্যই) এমন দল রয়েছে যারা অন্যকে ন্যায়পথে পথ দেখায় এবং ন্যায়ভাবেই বিচার করে। তাদেরকে আমি বারোটি গোত্রে বিভক্ত করেছি। মুসার সম্প্রদায় যখন তার কাছে পানি প্রার্থনা করলো, তখন তার প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম, "তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করো"; ফলে তা থেকে বারোটি প্রস্রবণ উৎসারিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানস্থান চিনে নিলো। এবং মেঘ দ্বারা তাদের ওপর ছায়া বিস্তার করেছিলাম, তাদের কাছে (খাবারের জন্য) মান্না ও সালওয়া পাঠিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, "ভালো যা তোমাদেরকে দিয়েছি তা থেকে আহার করো।" (আর তোমরা ঝগড়া-কলহে লিপ্ত হয়ো না।) তারা (নাফরমানি করে) আমার প্রতি কোনো জুলুম করে নি; কিন্তু তারা নিজেদের প্রতিই জুলুম করছিলো। [সুরা আ'রাফ: আয়াত ১৫৯-১৬০]
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ قَدْ أَنْجَيْنَاكُمْ مِنْ عَدُوِّكُمْ وَوَاعَدْنَاكُمْ جَانِبَ الطُّورِ الْأَيْمَنَ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى ( كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَلَا تَطْغَوْا فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي وَمَنْ يَحْلِلْ عَلَيْهِ غَضَبِي فَقَدْ هَوَى () وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وَآمَنَ وعمل صالحًا ثُمَّ اهْتَدَى (سورة طه)
"হে বনি ইসরাইল, আমি তো তোমাদেরকে শত্রু থেকে উদ্ধার করেছিলাম, আমি তোমাদেরকে (বরকত প্রাপ্তি ও সফলকাম হওয়ার এবং তাওরাত প্রদানের) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তুর পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে এবং (সাইনা প্রান্তরে) তোমাদের কাছে মান্না ও সালওয়া প্রেরণ করেছিলাম। তোমাদেরকে যা দান করেছি তা থেকে ভালো বস্তু আহার করো এবং এ-বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করো না, (এবং এ-ব্যাপারে সতর্ক থাকো যে, নাফরমানি) করলে তোমাদের ওপর আমার ক্রোধ অবধারিত এবং যার ওপর আমার ক্রোধ অবধারিত সে তো ধ্বংস হয়ে যায়। এবং আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে।' [সুরা তোয়া-হা: ৮০-৮২)
আবদুল ওয়াহহাব নাজ্জার মিসরি তাঁর 'কাসাসুল আম্বিয়া' গ্রন্থে লিখেছেন, "বনি ইসরাইলের ঘটনাবলির মধ্যে পানির যে-ঝরনাগুলোর আলোচনা করা হয়েছে, লোহিত সাগরের পুব দিকে মরুপ্রান্তরে উৎসারিত হয়েছিলো। সেগুলো সুয়েজ থেকে বেশি দূরে নয় এবং আজো সেগুলো 'মুসার ঝরনা' নামে বিখ্যাত। ঝরনাগুলো বর্তমানে অনেকটাই শুকিয়ে গেছে এবং কোনো কোনোটার চিহ্নও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো সেসব ঝরনার ওপর খেজুরের বাগান দেখা যাচ্ছে।"
কুরআন মাজিদে বর্ণিত ঘটনাবলি থেকে মনে হয়, লাঠি দিয়ে আঘাত করে পানি প্রাপ্তির ঘটনা শুধু একবারই ঘটে নি; বরং তীহ ময়দানে বিভিন্ন জায়গায় কয়েকবার ঘটেছিলো।
যাইহোক। হযরত মুসা আ.-এর বরকতে বনি ইসরাইলিদের ওপর আল্লাহ তাআলার দয়া ও অনুগ্রহের বারিবর্ষণ অবিরাম অব্যাহত ছিলো।
আর কয়েক শতাব্দীর দাসত্বের ফলে তাদের মানসিক নীচতা ও চারিত্রিক দুর্বলতা এবং সাহসিকতা ও বীরত্বের বিলুপ্তি তাদের ওপর এক স্বতন্ত্র নৈরাশ্য ও হতাশা বিস্তার করেছিলো। আল্লাহ তাআলার এসব নিদর্শন একটি বিশেষ সীমা পর্যন্ত তাদের সাহসকে দৃঢ় ও তাদের হৃদয়কে শক্তিশালী করে দিয়েছিলো। কিন্তু বিচিত্র স্বভাবের জাতির ওপর তারও যথেষ্ট ক্রিয়া হলো না এবং তারা তাদের বিচিত্র স্বভাবের এক নতুন পরিচয় উপস্থাপন করলো। একদিন তারা সবাই একত্র হয়ে বললো, হে মুসা, আমরা প্রতিদিন একই ধরনের খাদ্য খেতে খেতে এখন বিরক্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের এই মান্না ও সালওয়ার প্রয়োজন নেই। তুমি তোমার রবের কাছে দোয়া করো, যেনো তিনি ভূমি থেকে আমাদের জন্য শাক-সবজি, ক্ষীরা, কাঁকুড়, গম, রসুন, মসুর ও পেঁয়াজ ইত্যাদি দ্রব্য উৎপন্ন করে দেন, যাতে আমরা পেট ভরে খেতে পারি।
হযরত মুসা আ. তাদের এই ধরনের আচরণে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন। তাদের বললেন, তোমরাও কেমন আশ্চর্য ধরনের নির্বোধ! একটি উত্তম খাদ্য ত্যাগ করে সাধারণ ও নিম্নমানের বস্তুর প্রার্থী হচ্ছো? এভাবে তোমরা আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের নিমকহারামি করছো, তার অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছো, তাঁর নেয়ামতকে অস্বীকার করছো? আচ্ছা, যদি বাস্তবিকই তোমরা এসব নেয়ামত অপছন্দ করে থাকো, আর যেসব বস্তুর নাম তোমরা উল্লেখ করলে সেগুলোর জন্যই যদি তোমরা বাড়াবাড়ি করো, তবে তা মুজেযা বা নিদর্শনের মতো আল্লাহ তাআলার দরবার থেকে তলব করার প্রয়োজন নেই। যাও, তোমরা কোনো এক জনপদের দিকে চলে যাও। ওখানে সব জায়গাতেই তোমরা এসব বস্তু প্রচুর পরিমাণে পাবে।
ঘটনার এই অংশটুকু কুরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে এভাবে-
وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ تَصْبِرَ عَلَى طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجُ لَنَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ مِنْ بَعْلِهَا وَقِتَانِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَى بالذي هُوَ خَيْرٌ اهْبِطُوا مِصْرًا فَإِنْ لَكُمْ مَا سَأَلْتُمْ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذُّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِنَ الله ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (سورة البقرة)
'যখন তোমরা বলেছিলে, "হে মুসা, আমরা একই রকম খাদ্যে কখনো ধৈর্য ধারণ করবো না। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, তিনি যেনো ভূমিজাত দ্রব্য-শাক-সবজি, কাঁকুড়, গম (বা রসুন) মসুর ও পেঁয়াজ আমাদের জন্য উৎপন্ন করেন।" মুসা বললো, "তোমরা কি উৎকৃষ্টতর বস্তুকে নিকৃষ্টতর বস্তুর সঙ্গে বদল করতে চাও? তবে কোনো নগরে অবতরণ করো। তোমরা যা চাও তা ওখানে আছে।" তারা লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্যগ্রস্ত হলো এবং তারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হলো। তা এইজন্য যে, তারা আল্লাহর আয়াতকে⁹¹ অস্বীকার করতো এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করতো। অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন করার জন্যই তাদের এই পরিণতি হয়েছিলো।' [সুরা বাকারা : আয়াত ৬১]
টিকাঃ
⁹⁰ তাফসিরুল কুরআনির আযিম, ইমাদুদ্দিন বিন কাসির রহ., প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৫-৯৬।
⁹¹ আল্লাহর আহকাম অথবা মুসা আ.-এর মুজেযাগুলোকে অস্বীকার করতো।
📄 তুর পাহাড়ের ওপর ইতিকাফ
হযরত মুসা আ.-এর সঙ্গে আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুতি ছিলো যে, বনি ইসরাইলিরা যখন মিসরীয় শাসনের দাসত্ব থেকে স্বাধীন হয়ে যাবে তখন তাঁকে শরিয়ত প্রদান করা হবে। এখন সেই সময় এসে পড়েছে। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছে। সুতরাং হযরত মুসা আ. আল্লাহ তাআলার ওহির ইঙ্গিতে তুর পাহাড়ে গিয়ে উপনীত হলেন এবং ওখানে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করার জন্য ইতিকাফ করলেন। এই ইতিকাফের মেয়াদ ছিলো তিরিশ দিন বা একমাস। পরে তিনি আরো দশ দিন বাড়িয়ে চল্লিশ দিন পূর্ণ করেন।
তাফসিরে রুহুল মাআনিতে এ-বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে—
وأخرج الديلمي عن ابن عباس يرفعه فَلَمَّا أَتَى رَبَّهُ أَرَادَ أَنْ يُكَلِّمَهُ فِي ثَلَاثِينَ وَقَدْ صَامَهُنَّ : لَيْلَهُنَّ وَنَهَارَهُنَّ ، كَرِهَ أَنْ يُكَلِّمَ رَبَّهُ وَيَخْرُجَ مِنْ فَمِهِ رِيحَ فَمِ الصَّائِمِ ، فَتَنَاوَلَ مُوسَى شَيْئًا مِنْ نَبَاتِ الْأَرْضِ فَمَضَغَهُ ، فَقَالَ لَهُ رَبُّهُ حِينَ أَتَاهُ : أَفَطَرْتَ ؟ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالَّذِي كَانَ ، قَالَ : رَبِّ كَرِهْتُ أَنْ أُكَلِّمَكَ إِلَّا وَفَمِي طَيّبُ الرِّيحِ ، قَالَ : أَوَمَا عَلِمْتَ يَا مُوسَى أَنْ رِيحَ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدِي مِنْ ريحِ الْمِسْكِ ؟ ارْجِعْ حَتَّى تَصُومَ عَشْرًا ، ثُمَّ ائْتِنِي ، فَفَعَلَ مُوسَى مَا أُمِرَ بِهِ
"দাইলামি হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং এটি মারফু বলেছেন: হযরত মুসা আ. যখন তাঁর প্রতিপালকের কাছে এলেন, তিরিশ দিনব্যাপী তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন। তিনি এই তিরিশ দিন অনবরত রোযা রেখেছেন। ফলে মুসা আ. অনুভব করলেন যে, তাঁর মুখ থেকে রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধের মতো দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। তাই এ-অবস্থায় তিনি রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে কথা বলতে অপছন্দ করলেন। মুসা আ. জমিনের গাছ থেকে একটি অংশ নিলেন এবং তা দিয়ে দাঁত মর্দন করলেন। তিনি তাঁর রবের কাছে যাওয়ার পর তাঁর রব তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি রোযা ভেঙে দিয়েছো? যা হয়েছে সে-সম্পর্কে আল্লাহপাক অবহিতই ছিলেন। মুসা আ. বললেন, হে আমার রব, আমার মুখ সুগন্ধময় না করে আপনার সঙ্গে কথা বলতে অপছন্দ করেছি। আল্লাহ বললেন, হে মুসা, তুমি কি জানো না রোযাদারের মুখের গন্ধ আমার কাছে মেসকের ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম? তুমি ফিরে যাও এবং আরো দশ দিন রোযা রাখো। তারপর আমার কাছে এসো। মুসা আ. যে-বিষয়ে আদিষ্ট হলেন, তখন তা-ই করলেন। এভাবে চল্লিশ দিন পূর্ণ হলো।"⁹²
কিন্তু কুরআন মাজিদে শুধু এতটুকু উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সময়সীমা প্রথমে তিরিশ দিন ছিলো। এরপর দশ দিন বাড়িয়ে চল্লিশ দিন করা হলো। কিন্তু তার কারণ বর্ণনা করা হয় নি।
ঘটনার এই অংশটুকু কুরআন মাজিদে বর্ণিত হয়েছে এভাবে—
وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثَلَاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَاهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِيقَاتُ رَبِّهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً (سورة الأعراف)
'স্মরণ করো, মুসার জন্য আমি তিরিশ রাত নির্ধারিত করি (অর্থাৎ, পূর্ণ একমাস তুর পাহাড়ে ইতিকাফে থেকে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করতে থাকো। তারপর তোমাকে শরিয়ত প্রদান করা হবে। মুসা আ. এই মুদ্দত শেষ করলেন) এবং আরো দশ দ্বারা তা পূর্ণ করি। এইভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাতে পূর্ণ হয়।' [সুরা আ'রাফ: আয়াত ১৪২]
হযরত মুসা আ. যখন তুর পাহাড়ের ওপর প্রতিশ্রুত ইতিকাফের মুদ্দত পালন করতে গেলেন তখন তার সহোদর বড়ভাই হারুন আ.-কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে গেলেন এ-ব্যাপারে যে, তিনি বনি ইসরাইলকে সত্যপথের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখবেন এবং প্রতিটি ব্যাপারে তাদের দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।
১-বিষয়টি কুরআন মাজিদ বর্ণনা করছে এভাবে—
وَقَالَ مُوسَى لِأَخِيهِ هَارُونَ اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِي (سورة الأعراف)
এবং মুসা তার ভাই হারুনকে বললো, "আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, সংশোধন এবং বপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করবে না।" [সুরা আ'রাফ: আয়াত ১৪২]
টিকাঃ
⁹² রুহুল মাআনি ফি তাফসিরিল কুরআনিল আযিম ওয়াস সাবয়িল মাসানি, আবুস সানা শিহাবুদ্দিন মাহমুদ আল-আলুসি, সুরা আ'রাফ, আয়াত ১৪২। কিন্তু হাদিসের বর্ণনাকারীদের নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেছেন তাদের কাছে দাইলামি নির্ভরযোগ্য নন।—গ্রন্থকার।
⁹³ আত্মিক পরিশুদ্ধির জন্য সুফিয়ানে কেরামের চিল্লা পালন করার নিয়ম খুব সম্ভব এই ঘটনা থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে। অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত, কোনো কাজে আল্লাহ পক্ষ থেকে দৃঢ়তা লাভের জন্য সাধারণত এই চিল্লা পালন করা কল্যাণকর।
⁹⁴ হযরত মুসা আ.-কে তাওরাত প্রাপ্তির জন্য প্রথমে তিরিশ দিন, আরও পরে দশ দিন বৃদ্ধি করে মোট চল্লিশ দিন সিয়ামসহ ইতিকাফের মতো একই স্থানে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় থাকতে হয়েছিলো।