📄 জাদু এবং ধর্ম
ইসলাম ধর্মের ফেকাহ শাস্ত্রবিদগণ سحر (জাদু) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, যেসব জাদুক্রিয়ায় শয়তান, অপবিত্র আত্মা এবং গায়রুল্লাহর সাহায্য নেয়া হয়, সেগুলোকে প্রয়োজন পূরণকারী সাব্যস্ত করে তন্ত্র-মন্ত্রের সাহায্যে বশীভূত করে কার্য হাসিল করা হয়, তবে শিরকেরই সমার্থক। যারা এই কাজ করে তারা কাফের। আর যেসব জাদুক্রিয়ায় এগুলো (শয়তান, অপবিত্র আত্মা, গায়রুল্লাহ) ব্যতীত অন্য পন্থা অবলম্বন করা হয় এবং যার দ্বারা মানুষের ক্ষতি সাধন করা হয়, তা হারাম এবং যারা এই কাজ করে তারা ফাসেক (সত্যত্যাগী ও পাপাচারী)। কুরআন মাজিদে হযরত সুলাইমান আ.-এর ঘটনায় উল্লেখ করা হয়েছে-
وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ
'এবং সুলাইমান কুফরি করে নি; কিন্তু শয়তানরাই কুফরি করেছিলো। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিতো।' [সুরা বাকারা: আয়াত ১০২]
আর হাদিস শরিফে এসেছে-
رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اجْتَنِبُوا الْمُوبِقَاتِ الشَّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “তোমরা ধ্বংসকারী বস্তুগুলো থেকে দূরে থাকো-আল্লাহর সঙ্গে শরিক সাব্যস্ত করা এবং জাদু থেকে।"⁶³
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানি রহ. (সাহার) (জাদু)-র হাদিসটির ওপর আলোচনা করে বলেছেন-
قال النووي عمل السحر حرام وهو من الكبائر بالاجماع وقد عده النبي صلى الله عليه وسلم من السبع الموبقات ومنه ما يكون كفرا ومنه ما لا يكون كفرا بل معصية كبيرة فإن كان فيه قول أو فعل يقتضي الكفر فهو كفر وإلا فلا وأما تعلمه وتعليمه فحرام فإن كان فيه ما يقتضي الكفر كفر.
'ইমাম আবু যাকারিয়া নববি বলেন, سحر (জাদু)-এর কর্ম করা হারাম।
উলামায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে তা কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাদুকে সাতটি ধ্বংসকারী বস্তুর মধ্যে গণ্য করেছেন। জাদুর কোনো কোনো প্রকার সরাসরি কুফর। কোনো কোনো প্রকার কুফর না হলেও ভয়ঙ্কর নাফরমানি ও পাপের কাজ। সুতরাং سحر (জাদু)-এর কোনো কর্ম বা মন্ত্র যদি কুফরিমূলক হয়, তবে তা কুফরি; অন্যথায় কুফরি নয়। সারকথা এই যে, سحر (জাদু) শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম; আর তার মধ্যে কুফরিকে আবশ্যক করে এমন বিষয় যদি থাকে তবে তা অবশ্যই ফুকরি। '⁶⁵
টিকাঃ
⁶³ সহিহ বুখারি: হাদিস ৫৭৬৪।
⁶⁵ ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি, শিহাবুদ্দিন আবুল ফযল আহমদ বিন আলি বিন হাজার আল-আসকালানি রহ., দশম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৩।