📄 জাদু
অভিধানে سحر (জাদু) শব্দের অর্থ গুপ্ত বিষয় ও অদৃশ্য বস্তু ভোরের প্রথম অংশকে سحر বলা হয় এইজন্য যে, তখনো দিনের আলো পরিপূর্ণ প্রকাশ পায় না এবং কিছুটা অন্ধকার তখনো অবশিষ্ট থাকে। ইলম বা জ্ঞানের পরিভাষায় سحر (জাদু) বলা হয় এমন বিচিত্র ও বিস্ময়কর ব্যাপারকে, যার অস্তিত্বে আগমনের কারণ দৃষ্টির অগোচর থেকে যায় এবং বাহ্য দৃষ্টিতে অনুভূত হয় না।
اعلم أن لفظ السحر في عرف الشرع مختص بكل أمر يخفى سببه ويتخيل غير حقيقته ويجري مجرى التمويه والخداع.
শ থাকে যে, শরিয়তের পরিভাষায় (سحر জাদু) শব্দটি এমনসব এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যার কার্যকারণ গোপনীয় থাকে এবং বাস্তবের এত দৃশ্য দৃষ্ট হয় (দৃষ্টিবিভ্রম ঘটে)। তা মূলত বিভ্রম ও প্রবঞ্চনার ।।⁵⁶
। কিছুটা বাস্তবতা আছে না-কি তা কেবলই দৃষ্টিবিভ্রম, বাস্তবতা 5 কিছুই নেই-এ-ব্যাপারে আহলে সুন্নত ওয়ালা জামায়াতের গায়ে কেরাম এই মত পোষণ করেন যে, জাদু সত্যই একটি বাস্তব র এবং ক্ষতিকর কার্যে ক্রিয়াশীল। আল্লাহ তাআলা তাঁর পূর্ণ যত ও মুসলেহতের প্রেক্ষিতে জাদুতে এমন ক্ষতিকর ক্রিয়াশীলতা দিয়েছেন, যেমন হলাহল বিষ ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থের মধ্যে ছেন। এমন নয়, জাদু আল্লাহর কুদরতের মুখাপেক্ষী না হয়ে, বিল্লাহ নিজেই ক্রিয়া করতে সক্ষম। কেননা, এমন বিশ্বাস তো কুফরি।
ত ইমাম আবু হানিফা রহ., 'আহকামুল কুরআন'-এর সংকলক আবু রাযি আল-জাস্সাস রহ., আবু জাফর আসফারাইনি শাফি রহ., মা ইবনে হাযম জাহেরি আন্দালুসি রহ. এবং মু'তাযিলাগণ বলেন, (জাদু)-র মূল ব্যাপার হাত-সাফাই, দৃষ্টিবিভ্রম, কল্পনার প্রবঞ্চনা আর কিছুই নয়। নিঃসন্দেহে তা একটি বাতিল ব্যাপার ও অমূলক ।। যেমন: ইমাম আবু বকর রাযি বলেন-
ومتى أطلق فهو اسم لكل أمر مموه باطل لا حقيقة له ولا ثبات.
'যখন (সাদ) জাদু) শব্দটিকে সাধারণভাবে (বিশেষণহীন) ব্যবহার করা হয় তখন তা কেবল এমনসব বিষয়ের নাম যা বিভ্রম ও বাতিল; এর কোনো বাস্তবতাও নেই, স্থায়িত্বও নেই।"⁵⁷
আর হাফেয ইমাদুদ্দিন বিন কাসির বলেন-
وقد ذكر الوزير أبو المظفر يحيى بن محمد بن هبيرة رحمه الله في كتابه " الاشراف على مذاهب الاشراف ، بابا في السحر فقال: أجمعوا على أن السحر له حقيقة إلا أبا حنيفة فإنه قال: لا حقيقة له عنده.
'ওয়াযির আবুল মুযাফ্ফর ইয়াহ্ইয়া বিন মুহাম্মদ বিন হুবায়রাহ তাঁর রচিত গ্রন্থ 'আল-ইশরাফ আলা মাযাহিবিল আশরাফ'-এ (সাদ) জাদু) সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, উলামায়ে কেরাম এ-বিষয়ে ঐকমত্যে পৌছেছেন যে, (সাদ) জাদু)-এর (কিছু-না-কিছু) বাস্তবতা আছে; কিন্তু ইমাম আবু হানিফা রহ. তাঁদের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন যে, তাঁর কাছে জাদুর কোনো বাস্তবতা নেই। ⁵⁸
وقال أبو عبد الله القرطبي وعندنا أن السحر حق وله حقيقة يخلق الله عنده ما يشاء خلافا للمعتزلة وأبي إسحق الاسفرايني من الشافعية حيث قالوا: إنه تمويه وتخييل.
'আবু আবদুল্লাহ কুরতুবি বলেন, আমাদের কাছে (সাদ) জাদু)-র সত্যতা আছে এবং তার বাস্তবতাও আছে (তা বাস্তব বিষয়)। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করে দেন। কিন্তু মু'তাযিলা সম্প্রদায় এবং ইমাম শাফির মতাদর্শের আলেমগণের মধ্যে আবু ইসহাক আসফারাইয়ানি উল্লিখিত বক্তব্যের বিপরীত মত পোষণ করেন। তাঁরা বলেন, জাদু প্রবঞ্চনা ও দৃষ্টিবিভ্রমের নাম।"⁵⁹
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন-
أبي جعفر واختلف في السحر فقيل هو تخييل فقط ولا حقيقة له وهذا اختيار حزم الظاهري الاسترباذي من الشافعية وأبي بكر الرازي من الحنفية وابن الجمهور وعليه عامة وطائفة قال النووي والصحيح أنه له حقيقة وبه قطع العلماء.
'সেহের' (জাদু) সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এটা শুধু দৃষ্টিবিভ্রমের নাম, এর কোনো সত্যতা বা বাস্তবতা নেই। শাফি মতাবলম্বী আবু জাফর ইসতারবাযি, হানাফি মতাবলম্বী আবু বকর আর-রাযি, ইবনে হাযম জাহেরি আন্দালুসি এবং একটি ছোট জামাত এই ধারণা পোষণ করেন। আর ইমাম আবু যাকারিয়া নববি বলেন, বিশুদ্ধ মত এই যে, সমস্ত বাস্তব বিষয়ের মতো সেহের (জাদু)-রও একটি বাস্তবতা আছে। অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম চূড়ান্তভাবে এ-মতেই বিশ্বাসী এবং সাধারণ আলেমগণেরও অভিমতও এটাই। '⁶⁰
যেসকল উলামায়ে কেরাম সেহের (জাদু)-র সত্যতা ও বাস্তবতা মানেন, তাঁদের মধ্যেও আবার এ-বিষয়ে মতভেদ দেখা যায় যে, আল্লাহ তাআলা কি জাদুর মধ্যে এমন ক্রিয়াশীলতা দান করেছেন যে তা কোনো বস্তুর সত্তা ও মূলকেও পরিবর্তন করে দিতে পারে, না-কি তা অন্যান্য ক্ষতিকর বস্তুর মতো শুধু ক্ষতিকর। এটা সম্ভব নয় যে, জাদুর ক্রিয়ায় মানুষ ঘোড়ায় রূপান্তরিত হয়ে যায়, অথবা গাধা মানুষ হয়ে যায়। একটি ক্ষুদ্র দলের ধারণা, জাদুর মধ্যে মূল ও সত্তাকেও পরিবর্তন করে দেয়ার শক্তি ও ক্রিয়াশীলতা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মত, সেহের (জাদু)-র মধ্যে আদৌ এ-ধরনের ক্রিয়াশীলতা প্রদান করা হয়। নি এবং سحر (জাদু)-র দ্বারা মূল সত্তার পরিবর্তন ঘটে না। বরং যখন দেখা যায় পরিবর্তন ঘটেছে, সেটা আসলে দৃষ্টিবিভ্রম এবং বিভ্রম-শক্তির কলা-কৌশল ছাড়া কিছু নয়। হাফেয ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করে বলেছেন-
لكن محل النراع هل يقع بالسحر انقلاب عين أو لا فمن قال أنه تخييل فقط منع ذلك ومن قال أن له حقيقة اختلفوا هل له تأثير فقط بحيث يغير المزاج فيكون نوعا من الامراض أو ينتهي إلى الاحالة بحيث يصير الجاد حيوانا مثلا وعكسه فالذي عليه الجمهور هو الأول وذهبت طائفة قليلة إلى الثاني.
'এখানে মতভেদের ক্ষেত্র এই বিষয়টি যে, سحر (জাদু) দ্বারা কোনো বস্তুর মূল সত্তার পরিবর্তন সাধিত হয় কি, না হয় না। যাঁরা বলেন, سحر (জাদু) কেবল দৃষ্টিবিভ্রমের নাম তারা তো সত্তার পরিবর্তন অস্বীকার করেন। আর যাঁরা বলেন, سحر (জাদু)-এর বাস্তবতা বা সত্যতা বলতে কিছু একটা আছে, তাঁরা এ-ব্যাপারে বিভিন্ন মত পোষণ করেন: জাদুর ক্রিয়া এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ যে, তা স্বভাবের মধ্যে রোগ-ব্যাধির মাধ্যমে যে-ধরনের পরিবর্তন ঘটে তেমন পরিবর্তন ঘটায়। ফলে জাদুও একটি ব্যাধি বলে গণ্য হয়। বরং জাদু তার চেয়েও শক্তিশালী যে, তা কোনো বস্তুর মূল সত্তাকেই পরিবর্তন করে দিতে পারে। যেমন: নিষ্প্রাণ পদার্থকে প্রাণীতে রূপান্তর করতে পারে অথবা তার বিপরীতও ঘটাতে পারে (প্রাণীকে নিষ্প্রাণ বস্তুতে পরিণত করতে পারে)। জমহুর উলামায়ে কেরামের মত প্রথমটি (সত্তার পরিবর্তন না ঘটা) আর দ্বিতীয়টি (সত্তার পরিবর্তন ঘটা) ক্ষুদ্র একটি জামাতের মত।'
এসব আলোচনার পর হাফেয ইবনে হাজার আসকালানি রহ. ফেরআউনের জাদুকরদের জাদু প্রদর্শন-যা তারা উৎসবের দিন মুসা আ.-এর মোকাবিলায় করেছিলো-প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা করে বলেন, সকল উলামায়ে কেরাম এ-ব্যাপারে একমত যে, তা কেবল দর্শকদের দৃষ্টিবিভ্রম এবং ধোঁকা ও প্রতারণায় সীমাবদ্ধ ছিলো। আবু বকর রাযি আল-জাস্সাস রহ. এবং ইবনে হাজার আসকালানি রহ. দুজনেই এই বিবরণ দিচ্ছেন যে, ফেরআউনের জাদুকরদের লাঠি ও চামড়ার রশিসমূহের মূল সত্তার পরিবর্তন ঘটে নি এবং সেগুলো সত্যিকারের সাপে রূপান্তরিত হয় নি। মূলত, সেগুলোর ভেতর পারদ পুরে দেয়া হয়েছিলো। আর যে-জমিনের ওপর জাদুর প্রদর্শনী হয়েছিলো, তার নিম্নদেশ খনন করে তার অভ্যন্তরে আগুন প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছিলো। ফলে, নির্দিষ্ট সময়ে নিচের আগুনের উত্তাপে পারদে গতির সঞ্চার হয় এবং লাঠি ও রশিগুলো সাপের মতো দৌড়াতে শুরু করে।
ইমাম ফখরুদ্দিন আর-রাযি তাঁর তাফসিরগ্রন্থ 'মাফাতিহুল গাইব'-এ سحر (জাদু) সম্পর্কে আলোচনা করে তার আভিধানিক অর্থের প্রেক্ষিতে এমন সব বিষয়কেও سحر (জাদু)-র প্রকারসমূহের মধ্যে গণ্য করেছেন যা সাধারণ দৃষ্টিতে বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক মনে করা হয়। যেমন: মেসমেরিজম⁶¹ (mesmerism), হিপনোটিজম (hypnotism), তাবিজ, আশ্চর্যজনক চিত্রমালা, বিজ্ঞানের আবিষ্কারসমূহ এবং দুনিয়ার নানাবিধ বিস্ময়ক ব্যাপারসমূহ, এমনকি বক্তার চিত্তাকর্ষক বক্তৃতাকেও তিনি জাদুর ব্যাপক অর্থের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। একটি হাদিসে এসেছে-
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ الْبَيَانِ لَسِحْرًا রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, "নিঃসন্দেহে কোনো কোনো বক্তৃতা জাদুতুল্য (ক্রিয়াশীল)। "⁶²
সুতরাং, এ-কথা পরিষ্কারভাবে জেনে রাখা আবশ্যক যে, যে-জাদু ধর্ম ও চারিত্রিক বিচারে নিন্দনীয় এবং পথভ্রষ্টতা ও কুফরি হিসেবে বিবেচিত হয়, সেই জাদুর সঙ্গে উপরিউক্ত প্রকারসমূহের কোনোই সম্পর্ক নেই।
টিকাঃ
⁵⁶ আত-তাফসিরুল কাবির মাফাতিহুল গাইব, ফখরুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হুসাইন আর-রাযি আশ-শাফি রহ. (১১৫০-১২১০ খ্রিস্টাব্দ), প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৫০।
⁵⁷ আহকামুল কুরআন, আবু বকর আহমদ বিন আলি আর-রাযি আল-জাস্সাস আল- হানাফি রহ. (৯১৭-৯৮০ খ্রিস্টাব্দ), প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮।
⁵⁸ তাফসিরুল কুরআনির আযিম, ইমাদুদ্দিন আবুল ফিদা ইসমাইল বিন কাসির আল- কুরাশি (তাফসিরে ইবনে কাসির), প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৭।
⁵⁹ প্রাগুক্ত।
⁶⁰ ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি, শিহাবুদ্দিন আবুল ফযল আহমদ বিন আলি বিন হাজার আল-আসকালানি রহ. (১৪৭২-১৪৪৮ খ্রিস্টাব্দ), দশম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮২।
⁶¹ কারো চিত্ত ও মনোযোগকে কোনো বিষয়ের প্রতি এমনভাবে কেন্দ্রীভূত করা যে সে ভিন্ন কিছু চিন্তা করতে সক্ষম থাকে না।
⁶² সহিহ বুখারি: হাদিস ৫১৪৬।
📄 জাদু এবং ধর্ম
ইসলাম ধর্মের ফেকাহ শাস্ত্রবিদগণ سحر (জাদু) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, যেসব জাদুক্রিয়ায় শয়তান, অপবিত্র আত্মা এবং গায়রুল্লাহর সাহায্য নেয়া হয়, সেগুলোকে প্রয়োজন পূরণকারী সাব্যস্ত করে তন্ত্র-মন্ত্রের সাহায্যে বশীভূত করে কার্য হাসিল করা হয়, তবে শিরকেরই সমার্থক। যারা এই কাজ করে তারা কাফের। আর যেসব জাদুক্রিয়ায় এগুলো (শয়তান, অপবিত্র আত্মা, গায়রুল্লাহ) ব্যতীত অন্য পন্থা অবলম্বন করা হয় এবং যার দ্বারা মানুষের ক্ষতি সাধন করা হয়, তা হারাম এবং যারা এই কাজ করে তারা ফাসেক (সত্যত্যাগী ও পাপাচারী)। কুরআন মাজিদে হযরত সুলাইমান আ.-এর ঘটনায় উল্লেখ করা হয়েছে-
وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ
'এবং সুলাইমান কুফরি করে নি; কিন্তু শয়তানরাই কুফরি করেছিলো। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিতো।' [সুরা বাকারা: আয়াত ১০২]
আর হাদিস শরিফে এসেছে-
رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اجْتَنِبُوا الْمُوبِقَاتِ الشَّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “তোমরা ধ্বংসকারী বস্তুগুলো থেকে দূরে থাকো-আল্লাহর সঙ্গে শরিক সাব্যস্ত করা এবং জাদু থেকে।"⁶³
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানি রহ. (সাহার) (জাদু)-র হাদিসটির ওপর আলোচনা করে বলেছেন-
قال النووي عمل السحر حرام وهو من الكبائر بالاجماع وقد عده النبي صلى الله عليه وسلم من السبع الموبقات ومنه ما يكون كفرا ومنه ما لا يكون كفرا بل معصية كبيرة فإن كان فيه قول أو فعل يقتضي الكفر فهو كفر وإلا فلا وأما تعلمه وتعليمه فحرام فإن كان فيه ما يقتضي الكفر كفر.
'ইমাম আবু যাকারিয়া নববি বলেন, سحر (জাদু)-এর কর্ম করা হারাম।
উলামায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে তা কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাদুকে সাতটি ধ্বংসকারী বস্তুর মধ্যে গণ্য করেছেন। জাদুর কোনো কোনো প্রকার সরাসরি কুফর। কোনো কোনো প্রকার কুফর না হলেও ভয়ঙ্কর নাফরমানি ও পাপের কাজ। সুতরাং سحر (জাদু)-এর কোনো কর্ম বা মন্ত্র যদি কুফরিমূলক হয়, তবে তা কুফরি; অন্যথায় কুফরি নয়। সারকথা এই যে, سحر (জাদু) শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম; আর তার মধ্যে কুফরিকে আবশ্যক করে এমন বিষয় যদি থাকে তবে তা অবশ্যই ফুকরি। '⁶⁵
টিকাঃ
⁶³ সহিহ বুখারি: হাদিস ৫৭৬৪।
⁶⁵ ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি, শিহাবুদ্দিন আবুল ফযল আহমদ বিন আলি বিন হাজার আল-আসকালানি রহ., দশম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৩।