📘 কাসাসুল কুরআন > 📄 সুস্থতত্ত্ব

📄 সুস্থতত্ত্ব


ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ আর-রাযি রহ. বলেন, হযরত ইউসুফ আ. আল্লাহ তাআলার সত্য পয়গাম্বর এবং নিষ্পাপ নবী ছিলেন। সুতরাং তিনি সব ধরনের মলিনতা থেকে পবিত্র ছিলেন। তাঁর পবিত্র জীবনের একটি একটি মুহূর্তকেও কোনো প্রকারের অপবিত্রতা স্পর্শ করতে পারে নি। আল্লাহ তাআলার অদ্ভুত মহিমা লক্ষ করুন, ইউসুফ আ.-এর ঘটনার সঙ্গে যতগুলো মানুষ জড়িত তাদের সবার মুখ থেকে হযরত ইউসুফ আ.-এর সত্তার পবিত্রতা ও নির্দোষিতা স্বীকার করিয়ে নিলেন। প্রবাদ আছে— الفضل ما شهدت به الأعداء ‘উত্তম বিষয় তা-ই যা শত্রুর মুখে প্রকাশ পায়।’
আচ্ছা, হযরত ইউসুফ আ.-এর ঘটনার সঙ্গে জড়িত লোক কারা? তাঁরা হলেন, আযিযে মিসর, আযিযে মিসরের স্ত্রী, শহরের নিমন্ত্রিত রমণীগণ, আযিযে মিসরের স্ত্রীর আত্মীয়—এই কয়জন মানুষই কোনো-না-কোনোভাবে অনুসন্ধান ও তদন্তসাপেক্ষে বিষয়টির সঙ্গে জড়িত। এঁদের মধ্যে প্রথমে দৃষ্টিপথে পড়ে যান আযিযে মিসরের স্ত্রীর আত্মীয়। তিনি জ্ঞানবিজ্ঞের মতো জামা ছিন্ন হওয়ার বিষয়টির মীমাংসা দিয়ে হযরত ইউসুফ আ.-এর পবিত্রতা প্রকাশ করেন এবং স্ত্রীলোকটিকে অপরাধী সাব্যস্ত করেন। তারপর প্রকৃত অবস্থা প্রকাশিত হওয়ার পর আযিযও স্বীকার করেন যে, ইউসুফ নিষ্পাপ, নির্দোষ ও পবিত্র। তা ছাড়া তিনি يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا 'ইউসুফ, তুমি বিষয়টি ক্ষমা করো বা উপেক্ষা করো' বলে ওজরও পেশ করেন এবং নিজের সম্মান রক্ষা করার জন্য এখানেই ব্যাপারটি সমাপ্ত করার আবেদন জানান। তৃতীয় সারিতে আছেন শহরের নিমন্ত্রিত রমণীগণ। বাদশাহ যখন জনাকীর্ণ
দরবারে হযরত ইউসুফের ব্যাপারে তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাঁরা নির্দ্বিধায় বলে উঠলেন—
حَاشَ لِلَّهِ مَا عَلِمْنَا عَلَيْهِ مِنْ سُوءٍ
'অদ্ভুত আল্লাহর মাহাত্ম্য, আমরা তার মধ্যে কোনো দোষ দেখি নি। (আল্লাহ না করুন, আমরা ইউসুফ থেকে কোনো অসৎ প্রবৃত্তি দেখি নি।)' (সুরা ইউসুফ: আয়াত ৫১)
এভাবে আল্লাহপাক হযরত ইউসুফ আ.-এর পবিত্রতার ওপর সীলমোহর মেরে দিলেন। এইসব সাক্ষ্য-প্রমাণ হযরত ইউসুফ আ.-এর আত্মীয় স্বজন ও পক্ষসমর্থক লোকদের মাধ্যমে ছিলো না; বরং অপরিচিত আযিযে মিসরের স্ত্রীর গোত্র ও বংশের লোকদের দ্বারাই সম্পন্ন হয়েছিলো। তারপরও এ-ধারণা বা সন্দেহের উদ্রেক হতে পারতো যে, এ-ঘটনায় ইউসুফ আ.-এর অবশ্যই কিছু-না-কিছু দোষ-ত্রুটি থাকা বিচিত্র নয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলার বিরাট দয়া ও অনুগ্রহ ছিলো এই যে, তিনি নিজের পবিত্র বান্দার পবিত্রতা ঘোষণা এবং সে-সম্পর্কে খারাপ ধারণার নাম পর্যন্ত মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে জনাকীর্ণ সমাবেশের সামনে স্বয়ং অপরাধীর দ্বারা অপরাধ স্বীকার করিয়ে দিলেন। তাঁরই মুখে হযরত ইউসুফের সততা ও পবিত্রতার সাক্ষ্য প্রদান করিয়ে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করে দিলেন। বাদশাহর দরবারে আযিযে মিসরের স্ত্রী এ-কথা বলতে বাধ্য হলেন যে—
الْآنَ حَصْحَصَ الْحَقُّ أَنَا رَا وَدْتُهُ عَنْ نَفْسِهِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ
'এখন সত্য প্রকাশিত হলো, আমিই তাকে (তার নিজের ব্যাপারে) ফুসলিয়েছিলাম, (এবং কোনো সন্দেহ নেই যে,) সে তো সত্যবাদী।' (সুরা ইউসুফ: আয়াত ৫১)
ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (سورة الجمعة)
'তা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করে থাকেন এবং আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।' [সুরা জুমআ: আয়াত ৪।

ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ আর-রাযি রহ. বলেন, হযরত ইউসুফ আ. আল্লাহ তাআলার সত্য পয়গাম্বর এবং নিষ্পাপ নবী ছিলেন। সুতরাং তিনি সব ধরনের মলিনতা থেকে পবিত্র ছিলেন। তাঁর পবিত্র জীবনের একটি একটি মুহূর্তকেও কোনো প্রকারের অপবিত্রতা স্পর্শ করতে পারে নি। আল্লাহ তাআলার অদ্ভুত মহিমা লক্ষ করুন, ইউসুফ আ.-এর ঘটনার সঙ্গে যতগুলো মানুষ জড়িত তাদের সবার মুখ থেকে হযরত ইউসুফ আ.-এর সত্তার পবিত্রতা ও নির্দোষিতা স্বীকার করিয়ে নিলেন। প্রবাদ আছে— الفضل ما شهدت به الأعداء ‘উত্তম বিষয় তা-ই যা শত্রুর মুখে প্রকাশ পায়।’
আচ্ছা, হযরত ইউসুফ আ.-এর ঘটনার সঙ্গে জড়িত লোক কারা? তাঁরা হলেন, আযিযে মিসর, আযিযে মিসরের স্ত্রী, শহরের নিমন্ত্রিত রমণীগণ, আযিযে মিসরের স্ত্রীর আত্মীয়—এই কয়জন মানুষই কোনো-না-কোনোভাবে অনুসন্ধান ও তদন্তসাপেক্ষে বিষয়টির সঙ্গে জড়িত। এঁদের মধ্যে প্রথমে দৃষ্টিপথে পড়ে যান আযিযে মিসরের স্ত্রীর আত্মীয়। তিনি জ্ঞানবিজ্ঞের মতো জামা ছিন্ন হওয়ার বিষয়টির মীমাংসা দিয়ে হযরত ইউসুফ আ.-এর পবিত্রতা প্রকাশ করেন এবং স্ত্রীলোকটিকে অপরাধী সাব্যস্ত করেন। তারপর প্রকৃত অবস্থা প্রকাশিত হওয়ার পর আযিযও স্বীকার করেন যে, ইউসুফ নিষ্পাপ, নির্দোষ ও পবিত্র। তা ছাড়া তিনি يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا 'ইউসুফ, তুমি বিষয়টি ক্ষমা করো বা উপেক্ষা করো' বলে ওজরও পেশ করেন এবং নিজের সম্মান রক্ষা করার জন্য এখানেই ব্যাপারটি সমাপ্ত করার আবেদন জানান। তৃতীয় সারিতে আছেন শহরের নিমন্ত্রিত রমণীগণ। বাদশাহ যখন জনাকীর্ণ
দরবারে হযরত ইউসুফের ব্যাপারে তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাঁরা নির্দ্বিধায় বলে উঠলেন—
حَاشَ لِلَّهِ مَا عَلِمْنَا عَلَيْهِ مِنْ سُوءٍ
'অদ্ভুত আল্লাহর মাহাত্ম্য, আমরা তার মধ্যে কোনো দোষ দেখি নি। (আল্লাহ না করুন, আমরা ইউসুফ থেকে কোনো অসৎ প্রবৃত্তি দেখি নি।)' (সুরা ইউসুফ: আয়াত ৫১)
এভাবে আল্লাহপাক হযরত ইউসুফ আ.-এর পবিত্রতার ওপর সীলমোহর মেরে দিলেন। এইসব সাক্ষ্য-প্রমাণ হযরত ইউসুফ আ.-এর আত্মীয় স্বজন ও পক্ষসমর্থক লোকদের মাধ্যমে ছিলো না; বরং অপরিচিত আযিযে মিসরের স্ত্রীর গোত্র ও বংশের লোকদের দ্বারাই সম্পন্ন হয়েছিলো। তারপরও এ-ধারণা বা সন্দেহের উদ্রেক হতে পারতো যে, এ-ঘটনায় ইউসুফ আ.-এর অবশ্যই কিছু-না-কিছু দোষ-ত্রুটি থাকা বিচিত্র নয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলার বিরাট দয়া ও অনুগ্রহ ছিলো এই যে, তিনি নিজের পবিত্র বান্দার পবিত্রতা ঘোষণা এবং সে-সম্পর্কে খারাপ ধারণার নাম পর্যন্ত মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে জনাকীর্ণ সমাবেশের সামনে স্বয়ং অপরাধীর দ্বারা অপরাধ স্বীকার করিয়ে দিলেন। তাঁরই মুখে হযরত ইউসুফের সততা ও পবিত্রতার সাক্ষ্য প্রদান করিয়ে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করে দিলেন। বাদশাহর দরবারে আযিযে মিসরের স্ত্রী এ-কথা বলতে বাধ্য হলেন যে—
الْآنَ حَصْحَصَ الْحَقُّ أَنَا رَا وَدْتُهُ عَنْ نَفْسِهِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ
'এখন সত্য প্রকাশিত হলো, আমিই তাকে (তার নিজের ব্যাপারে) ফুসলিয়েছিলাম, (এবং কোনো সন্দেহ নেই যে,) সে তো সত্যবাদী।' (সুরা ইউসুফ: আয়াত ৫১)
ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (سورة الجمعة)
'তা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করে থাকেন এবং আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।' [সুরা জুমআ: আয়াত ৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00