📄 বংশপরিচয়
হযরত ইয়াকুব আ. হযরত ইসহাক আ.-এর পুত্র এবং হযরত ইবরাহিম আ.-এর পৌত্র আর ইবরাহিম আ.-এ ভাই বতুইলের দৌহিত্র। তাঁর মায়ের নাম ছিলো রাফকাহ বা রাবকাহ। তিনি তাঁর মায়ের অত্যন্ত স্নেহের পাত্র ছিলেন। আর তাঁর সহোদর ভাই ইসু হযরত ইসহাক আ.- এর অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন। তাওরাতে বর্ণিত তাঁদের দুই ভাইয়ের পারস্পরিক মনোমালিন্যের ঘটনা ইতোপূর্বে উদ্ধৃত করা হয়েছে। হযরত ইয়াকুব আ. যখন তাঁর মায়ের ইঙ্গিতে 'ফাদ্দান আরামে' চলে গেলেন। ওখানে তাঁরা মামা লাবান তাঁর থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিলেন যে, তিনি দশ বছর ওখানে থেকে বকরি চরাবেন। তাহলে লাবান সেই সময়সীমাকে মোহর সাব্যস্ত করে নিজের কন্যার সঙ্গে তাঁর বিয়ে করিয়ে দেবেন। হযরত ইয়াকুব আ. সেই সময়সীমা পূর্ণ করলেন। তখন লাবান তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা লায়িয়ার সঙ্গে হযরত ইয়াকুবের বিয়ে দিতে চাইলেন। কিন্ত হযরত ইয়াকুব আ. তাঁর হৃদয়ের আকর্ষণ তাঁরা মামার ছোট কন্যা রাহিলের প্রতি প্রকাশ করলেন। লাবান ওজর পেশ করলেন যে, এখানকার প্রথা অনুসারে বড় কন্যার বিবাহের পূর্বে ছোট কন্যার বিয়ে হতে পারে না। সুতরাং তুমি এই সম্বন্ধই মঞ্জুর করো। আর এখানে আরো দশ বছর অবস্থান করে আমার খেদমত করতে থাকো। তাহলে রাহিলকেও তোমার সঙ্গে বিয়ে দেয়া যাবে। (সেকালে দুই সহোদর বোনকে একসঙ্গে বিবাহের মধ্যে একত্র করা শরিয়তে নিষিদ্ধ ছিলো না।)
ইয়াকুব আ. সেই দশ বছর সময়সীমাও মামা খেদমতে কাটালেন এবং রাহিলকেও বিয়ে করলেন। তা ছাড়া লায়িয়ার খাদেমা যুলফা এবং রাহিলের খাদেমা বাহলাও ইয়াকুব আ.-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেলো। চার স্ত্রীর গর্ভ থেকেই তাঁর সন্তান জন্মগ্রহণ করলো। বিনইয়ামিন ব্যতীত তাঁর অন্যান্য সব সন্তানই মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ইয়াকুব আ. জন্মভূমিতে ফিরে আসার পর বিনইয়ামিন এখানে জন্মগ্রহণ করেন। মামা লাবান ইয়াকবুল আ.-কে বিশ বছর নিজের কাছে রাখার পর অনেক ধন-সম্পদ ও সাজ-সরঞ্জাম এবং গৃহপালিত পশুর পাল প্রদান করে বিদায় করলেন। ইয়াকুব আ. পুনরায় তাঁর পিতা-মাতার দারুল হিজরত ফিলিস্তিনে এসে অবস্থান করতে শুরু করলেন।
হযরত ইয়াকুব আ. ফাদ্দান আরামে চলে যাওয়ার পর তাঁর ভাই ইসু অসন্তুষ্ট হয়ে পিতৃব্য ইসমাইল আ.-এর কাছে মক্কায় এসে অবস্থান করতে থাকেন। অবশেষে ইসমাইল আ.-এর কন্যাকে বিয়ে করে কাছাকাছিই বসবাস করতে শুরু করেন। ইনি ইতিহাসে আদওয়াম নামে প্রসিদ্ধ। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের দুই ভাইয়ের মধ্যকার মনোমালিন্যও দূর হয়ে যায় এবং উভয়ের মধ্যে পুনরায় ভালোবাসার সম্পর্ক দৃঢ় হয়ে ওঠে। তাঁরা দুজনেই একে অন্যের কাছে উপহার-উপঢৌকন পাঠানোর ধারা প্রচলিত রাখেন।
এসব ঘটনা তাওরাতের বর্ণিত কাহিনি। কুরআন মাজিদ এসব বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে নীরব। শুধু এতটুকু উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইয়াকুব আ. একজন উচ্চ মর্যাদাশীল নবী, ধৈর্য ও দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী এবং হযরত ইউসুফ আ.-এর পিতা। আর এ-প্রসঙ্গেই নাম উল্লেখ করা ব্যতীত হযরত ইউসুফ আ.-এর অপর ভাইদেরও উল্লেখ করা হয়েছে।