📄 হযরত লূত আ. এবং সত্যের দাওয়াত
এসব অবস্থায় হযরত লুত আ. তাদেরকে তাদের এই নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার জন্য তিরস্কার করলেন এবং সম্মান পবিত্রতার জীবনযাপন করার জন্য উৎসাহ প্রদান করলেন। সুন্দর সম্বোধন ও কথাবার্তা এবং নম্রতার সঙ্গে যত উপায়ে তাদের বোঝানো সম্ভব ছিলো, সব উপায়েই তাদের বোঝালেন। তাদেরকে উপদেশ ও নসিহত প্রদান করলেন। অতীতকালের সম্প্রদায়গুলোর বিভিন্ন অসৎ ও অপকর্মের পরিণাম উল্লেখ করে তাদের সামনে শিক্ষামূলক দৃষ্টান্ত পেশ করলেন। কিন্তু হতভাগ্যদের ওপর কোনো ক্রিয়াই হলো না। বরং তার হিতে বিপরীত হলো এবং তারা বলতে লাগলো-
وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوهُمْ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ (سورة الأعراف)
'জবাবে তার সম্প্রদায় শুধু বললো, "এদেরকে (হযরত লুত আ. ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং অনুসারীদেরকে) তোমাদের জনপদ থেকে বহিষ্কৃত করো, এরা তো এমন লোক যারা অতি পবিত্র হতে চায়। (নিঃসন্দেহে তারা খুবই পবিত্র লোক।" [সুরা আ'রাফ: আয়াত ৮২]
"এরা নিঃসন্দেহে খুবই পবিত্র লোক" বাক্যটি হযরত লুত আ.-এর পরিবারকে লক্ষ করে তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা বিদ্রূপাত্মকভাবেই বলেছে। তারা যেনো হযরত লুত আ.-এর খান্দানের উদ্দেশে রহস্য ও উপহাস করতো যে তারা অতি পবিত্রতার দাবিদার। আমাদের বসতিতে এমন লোকদের কী কাজ? অথবা দয়াবান উপদেশ প্রদানকারীর মুরব্বিসুলভ উপদেশে ক্রোধান্বিত হয়ে বলতো, যদি আমরা অপবিত্র ও নির্লজ্জ হই আর তারা পবিত্র হয়ে থাকে, তবে আমাদের বসতির সঙ্গে তাদের কী সম্পর্ক? তাদেরকে এখান থেকে বের করে দাও।
হযরত লুত আ. আর একবার তাদেরকে ভরা জনসমাবেশে নসিহত করে বললেন, তোমাদের এতটুকু অনুভূতিও নেই যে তোমরা বুঝতে পারো পুরুষদের সঙ্গে নির্লজ্জতার সম্পর্ক, রাহাজানি, লুটতরাজ এবং এ-জাতীয় চারিত্রিক অশ্লীল ও অপকর্মগুলো অত্যন্ত খারাপ কাজ। তোমরা জনবহুল মজলিসে এসব কাজ করছো। অপকর্মগুলোর করার পর লজ্জিত হওয়ার পরিবর্তে তোমরা সেগুলোর আলোচনা শুনিয়ে থাকো। যেনো সেগুলো আদর্শমূলক দেখাবার মতো কাজ, যা তোমরা সম্পন্ন করেছো। কুরআন মাজিদ তা ব্যক্ত করেছে এভাবে-
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ وَتَقْطَعُونَ السَّبِيلَ وَتَأْتُونَ فِي نَادِيكُمُ الْمُنْكَرَ (سورة العنكبوت)
"তোমরাই তো পুরুষে উপগত হচ্ছো (তাদের সঙ্গে কুকর্ম করছো), তোমরাই তো রাহাজানি করে থাকো এবং তোমরাই তো নিজেদের বৈঠকে (ও পরিবারবর্গের বর্গের সামনে) প্রকাশে ঘৃণ্য কর্ম করে থাকো।" [সুরা আনকাবুত: আয়াত ২৯]