📄 কালদানি সম্প্রদায়ের দিকে হিজরত
যাইহোক। হযরত ইবরাহিম আ. তাঁর পিতা আযার ও সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরের নিকটবর্তী এক জনপদে চলে গেলেন। এই জনপদের অধিবাসীরা কালদানি সম্প্রদায় নামে বিখ্যাত ছিলো। এখানে তিনি কিছুকাল অবস্থান করলেন। হযরত সারা রা. এবং হযরত লুত আ. তাঁর সঙ্গে ছিলেন। কিছুকাল পরে এখান থেকে খারান বা হারানের দিকে যাত্রা করলেন। ওখানে গিয়ে হানিফি দীনের দাওয়াত দেয়া শুরু করলেন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে ইবরাহিম আ. বার বার আল্লাহর দরবারে নিজের পিতা আযারের ক্ষমাপ্রাপ্তির জন্য প্রার্থনা করতেন এবং তার হেদায়েত লাভের জন্য দোয়া করতেন। তা এইজন্য করতেন যে, তিনি অত্যন্ত দয়ালু, কোমল-হৃদয় ও সহনশীল ছিলেন। এ-কারণেই আযারের পক্ষ থেকে সব ধরনের শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও তিনি আযারকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, "যদিও আমি আপনাকে ছেড়ে যাচ্ছি এবং আফসোস যে, আপনি আল্লাহর হেদায়েতের প্রতি লক্ষ করলেন না, তারপরও আমি সবসময় আল্লাহর দরবারে আপনার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করতে থাকবো। অবশেষে আল্লাহর ওহি হযরত ইবরাহিম আ.-কে জানিয়ে দিলো যে, আযার ঈমান আনবে না এবং সে ওইসব লোকের মধ্যে অন্যতম যারা নিজেদের উত্তম যোগ্যতাকে নষ্ট করে এমন নাফরমান হয়ে পড়েছে যাদের সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেছেন-
خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ 'আল্লাহ তাদের হৃদয় ও কর্ণ মোহর করে দিয়েছেন, ২২ তাদের চক্ষুর ওপর আবরণ রয়েছে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। [সুরা বাকারা: আয়াত ৭।
হযরত ইবরাহিম আ. এ-কথা জানতে পেরে আযারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কহীনতা পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করে দিলেন এবং বললেন, আমার পিতা সম্পর্কে আমি যে-কল্পিত আশা পোষণ করছিলাম তার অবসান ঘটেছে। সুতরাং এখন তার মাগফেরাতের দোয়া অব্যাহত রাখা বৃথা। কুরআন মাজিদ ঘটনাটিকে ব্যক্ত করেছে এভাবে-
وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَنْ مَوْعِدَة وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهُ حَلِيمٌ (سورة التوبة) 'ইবরাহিম তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলো, তাকে এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো বলে; (তিনি মাগফেরাত কামনার ব্যাপারে তাঁর পিতাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।) এরপর যখন ইহা তার কাছে (ওহির মাধ্যমে) স্পষ্ট হলো যে, সে আল্লাহর শত্রু (অর্থাৎ পরিণামেও সে কাফেরই থাকবে) তখন ইবরাহিম তার সম্পর্ক ছিন্ন করলো। (সম্পর্কহীনতার ঘোষণা করে দিলেন।) ইবরাহিম তো কোমল-হৃদয়, সহনশীল। [সুরা তাওবা: আয়াত ১১৪]
টিকাঃ
২২. কাফেররা কুরআন কর্তৃক নির্দেশিত পথ ত্যাগ করে নিজেদেরকে অসত্যের পথে পরিচালিত করায় তাদের অন্তর সৎ-উপদেশ গ্রহণে অযোগ্য, কান হিতোপদেশ শোনায় অসমর্থ এবং চোখ সৎপথ দেখায় বাধাপ্রাপ্ত। একে রূপক অর্থে মোহর করে দেয়া ও দৃষ্টিশক্তির ওপর আবরণ বলা হয়েছে। মোহর করে দেয়ার শাব্দিক অর্থ 'সিল করে বন্ধ করে দেয়া'।
📄 ফিলিস্তিনের দিকে হিজরত
অতঃপর ইবরাহিম আ. এভাবে দীন প্রচার করতে করতে ফিলিস্তিনে গিয়ে পৌঁছলেন। এই সফরেও তাঁর সঙ্গী ছিলেন হযরত সারা রা., হযরত লুত আ. এবং লুত আ.-এর স্ত্রী। সুরা আনকাবুতে উল্লেখ করা হয়েছে-
فَآمَنَ لَهُ لُوطٌ وَقَالَ إِنِّي مُهَاجِرٌ إِلَى رَبِّي إِنَّهُ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (سورة العنكبوت) 'লুত তার (হযরত ইবরাহিম আ.-এর) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো। ইবরাহিম বললো, আমি আমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করছি। তিনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' [সুরা আনকাবুত: আয়াত ২৬]
হাদিসে এসেছে, উসমান বিন আফফান রা. যখন তাঁর পবিত্র স্ত্রী রুকাইয়া বিনতে রাসুলুল্লাহ সা.-কে সঙ্গে নিয়ে আবিসিনিয়ার (বর্তমান ইথিওপিয়া) হিজরত করে গিয়েছিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সা. বলেছিলেন, ‘নিঃসন্দেহে লুত আ.-এর পরে উসমানই সর্বপ্রথম মুহাজির যিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হিজরত করেছেন।’
হযরত ইবরাহিম আ. ফিলিস্তিনের পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করলেন। সেকালে এই অঞ্চলটি কিনআনিদের অধীন ছিলো। তার কিছুকাল পরে ইরাইহিম আ. শাকিমে (নাবলুস) চলে গেলেন। এখানে কিছুকাল অবস্থান করলেন। এখানেও তিনি বেশিদিন না থেকে ক্রমাগ্রত পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকলেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত মিসরে গিয়ে পৌঁছলেন।
📄 মিসরে হিজরত এবং হযরত হাজেরা রা.
নাবলুস থেকে হিজরত করে যখন তাঁরা মিসরে পৌঁছলেন, তখন সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম শরিফের রেওয়ায়েত অনুযায়ী জালিম রাজার সেই ঘটনাটি ঘটলো যা ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর তাওরাতে এই ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে এভাবে:
"এরপর ইবরাহিম যখন মিসরে পৌঁছলেন, মিসরবাসীরা দেখলো তাঁর সঙ্গে যে-স্ত্রীলোকটি আছেন তিনি অত্যন্ত সুন্দরী। ফেরআউনের (মিসরের রাজার উপধি) আমিরগণ তাঁকে দেখলো এবং ফেরআউনের কাছে তাঁর রূপের খুব প্রশংসা করলো এবং তাঁকে ফেরআউনের গৃহে নিয়ে গেলো। ফেরআউন এর বিনিময়ে ইবরাহিমের প্রতি অনুগ্রহ করলো। তাঁকে ভেড়া, বকরি, গাভী, বলদ, গাধা-গাধী, দাস-দাসী, বাঁদি ও উট প্রদান করলো। এরপর আল্লাহ তাআলা ফেরআউন ও তার সম্প্রদায়কে ইবরাহিমের স্ত্রী সারার কারণে ভীষণ মার মারলেন। তখন ফেরআউন ইবরাহিমকে ডেকে পাঠিয়ে বললো, তুমি আমার সঙ্গে এটা কী করলে? তুমি কেনো বললে না, এই মেয়েলোকটি আমার স্ত্রী? তুমি কেনো বললে, সে আমার বোন? এমনকি আমি তাকে আমার স্ত্রী করে নেবার জন্য গ্রহণ করলাম? দেখো, এই যে তোমার স্ত্রী উপস্থিত। একে নিয়ে চলে যাও। আর ফেরআউন ইবরাহিম সম্পর্কে লোকদের আদেশ করলো, তখন তারা তাঁকে, তাঁর স্ত্রীকে এবং তাঁর সঙ্গে যা-কিছু ছিলো সবকিছুসহ রওয়ানা করিয়ে দিলো।” ২৩
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের রেওয়ায়েত এবং তাওরাতের বর্ণিত রেওয়ায়েতটির মধ্যে পার্থক্য এই যে, সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত সারা রা.-এর বদদোয়ার ফলে অত্যাচারী রাজা ফেরআউন তার পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়াকে শয়তানের (জিনের) প্রভাব মনে করে সারা থেকে নিজের প্রাণ বাঁচালো আর হযরত হাজেরাকে তাঁর হাতে ন্যস্ত করে দিয়ে ইবরাহিম আ.-কে সাথিবৃন্দ ও মালসামানাসহ মিসর থেকে চলে যাওয়ার অনুমতি দিলো। ইবনে হাজার আসকালানির ফতহুল বারি কিতাবে এ-কথা রয়েছে যে, মিসরবাসীরা জিন জাতির সম্মানে বিশ্বাসী ছিলো। সুতরাং এখানে শয়তান বলতে জিনই উদ্দেশ্য।
আর তাওরাতের রেওয়ায়েতটি বলছে, ফেরআউন সারা রা.-এর ঘটনাটিকে তাঁর কারামত মনে করে ইবরাহিম আ.-কে এইভাবে তিরস্কার করলো যে, তিনি প্রথমেই কেনো ফেরআউনকে বললেন না যে সারা তাঁর বোন নন, বরং স্ত্রী। এরপর তাঁকে অনেক পুরস্কার, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে মিসর থেকে বিদায় দিয়ে দিলো।
যাইহোক। বুখারি ও মুসলিম শরিফের রেওয়ায়েতই হোক আর তাওরাতের রেওয়ায়েতই হোক, উভয় রেওয়ায়েতই মর্মার্থের দিক থেকে খুব কাছাকাছি এবং দুটির মধ্যে মৌলিকভাবে কোনো পার্থক্য নেই।
অবশ্য এসব রেওয়ায়েত থেকে যেসব কথা নিশ্চিতভাবে বুঝা যায় তা হলো, হযরত ইবরাহিম আ. তাঁর স্ত্রী সারা রা. এবং ভ্রাতুষ্পুত্র লুত আ.-সহ মিসর গিয়েছিলেন। সেই সময় মিসরের রাজত্ব এমন এক বংশের লোকদের হাতে ছিলো যারা 'সামি' সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতো। এভাবে হযরত ইবরাহিম আ.-এর সঙ্গে তাদের বংশগত সংশ্লিষ্টতা ছিলো। মিসরে পৌঁছার পর ইবরাহিম আ. ও ফেরআউনের মধ্যে অবশ্যই এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিলো, যার মাধ্যমে সে নিশ্চিতভাবে বুঝে ফেলেছিলো যে ইবরাহিম আ. ও তার বংশ আল্লাহর প্রিয় ও মনোনীত বংশ। এটা দেখে ফেরআউন ইবরাহিম আ. ও তাঁর স্ত্রীকে খুব সম্মান করেছিলো। তাঁদের নানা প্রকারে ধন-দৌলত ও উপঢৌকনসামগ্রী প্রদান করেছিলো। ফেরআউন শুধু এতটুকুকেই যথেষ্ট মনে করে নি; বরং নিজের প্রাচীন বংশগত সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তার কন্যা হাজেরাকেও ইবরাহিম আ.-এর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলো, যিনি তৎকালীন প্রথা অনুসারে স্বামীর প্রথমা স্ত্রীর খাদেমা সাব্যস্ত হলেন। এই ঐতিহাসিক অনুমান ও ধারণার প্রধান সাক্ষ্য ইহুদিদের কাছেও বিদ্যমান।
ইহুদিদের নির্ভরযোগ্য ইতিহাসগ্রন্থ 'সিফরুল ইয়াশা'য় উল্লেখ করা হয়েছে যে, হযরত ইবরাহিম আ.-এর কালে মিসরের বাদশা তাঁর স্বদেশী লোক ছিলো। ২৪
আর এইভাবে ইহুদিদের গ্রহণযোগ্য রেওয়ায়েতগুলোর মাধ্যমে এ-বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, হযরত হাজেরা রা. মিসরের বাদশা ফেরআউনের কন্যা ছিলেন। তিনি দাসী বা বাঁদি ছিলেন না। তাওরাতের একজন নির্ভরযোগ্য মুফাস্স্সির রাব্বি শিলুমিলু ইসহাক তাওরাতের আবির্ভাব অধ্যায়: পরিচ্ছেদ ১৬, আয়াত ১-এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন, যখন সে (রাকইউ শাহে মিসর / মিসরের বাদশা) সারার কারামত দেখলো, "বললো, আমার কন্যা এর ঘরে বাঁদি হয়ে থাকা অন্য ঘরে রাণী হয়ে থাকার চেয়ে উত্তম।"২৫
এই তাফসির এবং তাওরাতের আয়াত একত্র করলে এই সত্যটি সুন্দরভাবে স্পষ্ট হয়ে পড়ে যে, তাওরাতে হযরত হাজেরা শুধু এ-কারণে বাঁদি বলা হয়েছে যে, মিসরের বাদশা তাঁকে ইবরাহিম আ. ও সারা রা.-এর হাতে ন্যস্ত করে দেয়ার সময় বলেছিলো, "সে হযরত সারার খেদমতগার হয়ে থাকবে।" এর অর্থ এই ছিলো না যে তিনি বাঁদি ছিলেন।২৬ কেননা, রাব্বি শিলুমিলু বর্ণনা করেছেন, হযরত হাজেরা মিসরের বাদশা ফেরআউনের কন্যা ছিলেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে সহিহ বুখারি শরিফে জালিম বাদশা সম্পর্কিত যে-হাদিসটি উদ্ধৃত হয়েছে তাতেও এই বাক্যটির উল্লেখ আছে এবং তা রাব্বি শিলুমিলুর তাফসিরের সমর্থন করছে।
فَأَخْدَمَهَا هَاجَرَ
'আর হাজেরাকে হযরত সারার হাতে ন্যস্ত করে দিলেন, যেনো তিনি তাঁর খেদমতগার থাকেন। ২৭
সুতরাং বনি ইসরাইলের এই বিদ্রূপ সত্য ও শুদ্ধ নয়-বনি-ইসমাইল আমদের চেয়ে নীচ ও হীন এই কারণে যে, তারা বাঁদির বংশধর এবং আমরা হযরত ইবরাহিম আ.-এর স্ত্রী সারার বংশধর। তাদের এই উক্তি প্রকৃত ঘটনা ও ইতিহাস-বিরোধী। আর তাওরাতের অন্যান্য বিষয়বস্তুতে যেমন পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা হয়েছে, তেমনি এ-বিষয়টিতেও পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ত্যাগ করে কেবল 'বাঁদি' শব্দটি অবশিষ্ট রাখা হয়েছে।
হাজেরা মূলত হিব্রু ভাষার শব্দ 'হাগার'। হাগার শব্দের অর্থ অপরিচিত ও অনাত্মীয়। যেহেতু তার জন্মভূতি ছিলো মিসর, তাই এই নামটি চালু হয়ে গেছে। কিন্তু ওই নীতি অনুসারে ধারণা ও অনুমানের নিকটবর্তী হলো, হাগার শব্দের অর্থ 'পৃথক' বা 'বিচ্ছিন্ন'। আরবিতে হাজের শব্দের অর্থই তা-ই। ইনি যেহেতু নিজ জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বা হিজরত করে হযরত ইবরাহিম আ.-এর জীবনসঙ্গিনী এবং হযরত সারা খেদমতগার হয়েছিলেন, সেই সামঞ্জস্যে হাজেরা নামে অভিহিত হয়েছিলেন।
টিকাঃ
২৩. আবির্ভাব অধ্যায়: অনুচ্ছেদ ১২, আয়াত ১৪-২০।
২৪. আরদুল কুরআন: দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১।
২৫. আরদুল কুরআন: দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১।
২৬. বারাহিনে বাহেরা ফি হুররিয়াতি হাজেরা, মাওলানা গোলাম রসুল চিড়িয়াকুটি।
২৭. সহিহুল বুখারি: হাদিস ৩৩৫৮।
২৮. আরদুল কুরআন: দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০।