📄 নবুওয়তপ্রাপ্তি
কুরআন মাজিদ হযরত ইবরাহিম আ.-এর জ্ঞান-চক্ষু উন্মীলনকারী হেদায়েত ও সৎপথ প্রাপ্তির বিষয় এভাবে বর্ণনা করছে-
وَلَقَدْ آتَيْنَا إِبْرَاهِيمَ رُشْدَهُ مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا بِهِ عَالَمِينَ () إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ () قَالُوا وَجَدْنَا آبَاءَنَا لَهَا عَابِدِينَ () قَالَ لَقَدْ كُنتُمْ أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ () قَالُوا أَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ أَمْ أَنْتَ مِنَ اللَّاعِبِينَ () قَالَ بَلْ رَبُّكُمْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الَّذِي فَطَرَهُنَّ وَأَنَا عَلَى ذَلِكُمْ مِنَ الشاهدين (سورة الأنبياء)
'আমি তো এর পূর্বে (প্রথম থেকেই) ইবরাহিমকে (হেদায়েত ও) সৎপথের জ্ঞান দান করেছিলাম এবং আমি তার (কার্যকলাপ) সম্পর্কে ছিলাম সম্যক অবগত। যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বললো, "এই মূর্তিগুলো কী যার পূজায় তোমরা লিপ্ত রয়েছো!" তারা বললো, "আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি।” সে বললো, "তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষগণও রয়েছে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।” তারা বললো, "তুমি কি আমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছো না তুমি কৌতুক করছো?" (এমনি এমনি বিদ্রূপকারীদের মতো কথা বলছো?) সে বললো, "না, (এসব মূর্তি তোমাদের প্রতিপালক নয়, বরং) তোমাদের প্রতিপালক তো আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর পরিচালক, তিনি সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন এবং এ-বিষয়ে আমি অন্যতম সাক্ষী।"" [সুরা আম্বিয়া: আয়াত ৫১-৫৬]
যখন এই মর্যাদাশালী ব্যক্তিত্বের ওপর আল্লাহপাকের অবারিত অনুগ্রহ ও দানের স্রোত অবিরাম ধারায় দ্রুতগতিতে প্রবাহিত হচ্ছিলো, তখন এর ফল এই দাঁড়ালো যে, তিনি আম্বিয়ায়ে কেরামের সারিতে বিশিষ্ট স্থান লাভ করলেন এবং তাঁর দাওয়াত ও তাবলিগের উৎসস্থল ও কেন্দ্রটি 'হানিফি ধর্ম' নামে অভিহিত হলো।
যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর সম্প্রদায় মূর্তিপূজা, নক্ষত্রপূজা এবং বিভিন্ন জড় পদার্থের পূজায় এমনভাবে নিরত রয়েছে যে আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরত এবং তাঁর একত্ব ও অমুখাপেক্ষিতার কল্পনাও তাদের অন্তরে অবশিষ্ট নেই এবং তাদের কাছে আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাসের চেয়ে অধিক বিস্ময়কর ও আজগুবি বিষয় আর কিছুই নেই। এমন সময় হযরত ইবরাহিম আ. অত্যন্ত সাহসের কোমর বাঁধলেন এবং এক আল্লাহর ওপর ভরসা করে সম্প্রদায়ের সামনে সত্যের বাণী উপস্থিত করলেন। তিনি ঘোষণা করলেন:
'হে আমার সম্প্রদায়, এ আমি কী দেখছি? তোমরা নিজেদের হাতে নির্মিত মূর্তিসমূহের পূজায় লিপ্ত রয়েছে। তোমরা কি এমনই অজ্ঞতার নিদ্রায় বিভোর রয়েছে যে সেসব নিষ্প্রাণ কাঠকে নিজেদের যন্ত্রপাতির সাহায্যে কেটে-চেঁছে মূর্তি প্রস্তুত করছো এবং তা যদি তোমাদের পছন্দ অনুযায়ী গঠিত না হয় তবে তা ভেঙে অন্য একটি তৈরি করছো। তৈরি করার পর কাঠের ওই মূর্তিগুলোকেই পূজা করতে থাকো এবং উপকার ও ক্ষতি সাধনের মালিক মনে করতে থাকো। তোমরা এসব অনর্থক কাজ থেকে বিরত হও। আল্লাহর একত্ববাদের স্তুতি গাও এবং একমাত্র সেই প্রকৃত মালিকের সামনে বিনয়ের সঙ্গে মস্তক অবনত করো, যিনি আমার ও তোমাদের এবং গোটা বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও মালিক।'
কিন্তু কওম তাঁর আহ্বানের প্রতি সামান্যও কর্ণপাত করলো না। আর যেহেতু তারা সত্য শ্রবণকারী কান ও সত্য দর্শনকারী চোখ থেকে বঞ্চিত ছিলো, ফলে তারা এমন উচ্চ মর্যাদাশীল নবীর সত্যের দাওয়াত নিয়ে উপহাস করতে লাগলো এবং অধিক নাফরমানি ও অবাধ্যতা করতে শুরু করলো।